Home Blog Page 215

শীতকালে সাইনাসের সমস্যা? এই ৫ নিয়ম মেনে চললেই আর ভোগান্তি নেই

শীতের মরসুমে ঠান্ডা বাতাস, কম আর্দ্রতা ও ধুলোবালি সাইনাসের সমস্যাকে তীব্র করতে পারে। অনেকের জন্য এটা শুধু নাক বন্ধ থাকা নয়, কখনও কখনও তীব্র মাথাব্যথা, ঘনাপূর্ণ সাইনাস এবং শ্বাসকষ্টের কারণও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে সাইনাসের সমস্যা রুখতে কিছু সাধারণ কিন্তু কার্যকর নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীর প্রায়শই ডিহাইড্রেটেড হয়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে নাকের ভিতরের শ্লেষ্মা পাতলা থাকে এবং সাইনাস স্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার থাকে। প্রতিদিন অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত।

২. গরম সেঁক বা স্টিম থেরাপি
গরম পানি দিয়ে সেঁক বা স্টিম নেওয়া সাইনাসের চাপ কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে সকালে বা ঘুমের আগে ৫–১০ মিনিট স্টিম নেওয়া অনেকটা রিলিফ দিতে পারে।

৩. নিয়মিত নাক পরিষ্কার করুন
সাইনাসে ধুলো, অ্যালার্জেন বা ব্যাকটেরিয়ার জমে যাওয়া সমস্যা বাড়াতে পারে। নাসাল স্প্রে বা সল্ট ওয়াটার নেটি ব্যবহার করে নাক পরিষ্কার রাখা উচিত।

৪. ঘর বাতাস আর্দ্র রাখুন
শীতকালে ঘরের বাতাস অনেক সময় শুকনো হয়, যা সাইনাসের সমস্যা বাড়ায়। হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে বাতাসের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং নাক, গলা আর সাইনাস সুস্থ থাকে।

৫. ঠান্ডা ও ধুলোবালি এড়িয়ে চলুন
শীতকালে বাইরে বের হওয়ার সময় মুখে মাস্ক ব্যবহার করুন এবং ধুলোবালি, ধোঁয়া বা তীব্র ঠান্ডা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। এতে সাইনাসের ইনফেকশন ও শ্বাসকষ্ট কমবে।

বিশেষ পরামর্শ
যদি সাইনাসের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়, জ্বালা বা তীব্র মাথাব্যথা দেখা দেয়, অবশ্যই ENT (কান-নাক-গলা) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

শীতকালে সঠিক যত্ন এবং নিয়মিত সচেতনতা বজায় রাখলেই সাইনাসের সমস্যা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।

শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে বাড়তে পারে যেসব গুরুতর সমস্যা

শরীর সুস্থ রাখতে সব ধরনের ভিটামিনের উপস্থিতি জরুরি। বিশেষত ভিটামিন ডি হাড় মজবুত রাখার পাশাপাশি শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভিটামিনের অভাব শুধু হাড়কেই দুর্বল করে না, বরং বিভিন্ন গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।

ভিটামিন ডি-এর অভাবের লক্ষণ ও ঝুঁকি

ক্ষত নিরাময়ে বিলম্ব: ভিটামিন ডি শরীরে ক্ষত দ্রুত সারাতে সাহায্য করে। এর অভাবে ক্ষত নিরাময়ে সময় বেশি লাগে। দীর্ঘদিন ক্ষত না শুকানো ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব: গবেষণা বলছে, ভিটামিন ডি কম থাকলে বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

অপ্রচুর এনার্জি ও ক্লান্তি: ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে শরীরে শক্তি কম থাকে। কম পরিশ্রম করেও ক্লান্ত বোধ করা সাধারণ।

হাড় ও পিঠের সমস্যা: তরুণ ও বয়স্ক উভয়ই ভিটামিন ডি-এর অভাবে ব্যাক পেইন, হাড়ে ব্যথা বা হাড় ক্ষয় সমস্যায় ভোগেন। ভিটামিন ডি ক্যালশিয়াম শোষণে সহায়তা করে, যা হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় অপরিহার্য।

চুল ঝরার সমস্যা: ভিটামিন ডি চুলের স্বাস্থ্যেও গুরুত্বপূর্ণ। ঘাটতির কারণে অতিরিক্ত চুল ঝরা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করান, শরীরে ভিটামিন ডি-এর পর্যাপ্ত মাত্রা বজায় রাখতে নিয়মিত সূর্যালোক গ্রহণ, সমন্বিত খাদ্যাভ্যাস ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ জরুরি।

আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন বাজারদর, নতুন বছরের শুরুতেই বাড়লো দাম

দেশের স্বর্ণবাজারে নতুন বছরের শুরুতেই আবারও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। টানা কয়েক দফা কমানোর পর সোমবার (৫ জানুয়ারি)  থেকে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। ফলে গয়না ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের নজর এখন নতুন নির্ধারিত দরের দিকে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার (৫ জানুয়ারি)  থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
নতুন দরে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। ফলে প্রতি ভরি ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হবে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ভরিতে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩২৩ টাকা।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত হবে। তবে গহনার নকশা ও মান অনুযায়ী মজুরির অঙ্কে ভিন্নতা থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে দফায় দফায় স্বর্ণের দাম বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে দেশের বাজারে ভালো মানের স্বর্ণের দাম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ভরিতে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকায় পৌঁছায়। পরে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা তিন দফা দাম কমানো হলেও নতুন বছরের শুরুতেই আবারও মূল্য বাড়ানো হলো।
চলতি বছরে এটি স্বর্ণের দামের দ্বিতীয় সমন্বয়। এর মধ্যে একবার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং একবার কমানো হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ে এবং ২৯ বার কমে।
অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপা বিক্রি হচ্ছে ভরিতে ৫ হাজার ৩০৭ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের দাম ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ভরিতে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা ও স্থানীয় কাঁচামালের দামের পরিবর্তনের প্রভাবেই দেশের স্বর্ণবাজারে এ ধরনের ঘনঘন মূল্য সমন্বয় হচ্ছে। আগামী দিনে দামের গতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির ওপর।

বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা ও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব প্রতিফলিত হয়ে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হারে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী আজকের প্রধান মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিম্নরূপ-
মার্কিন ডলার (USD) : ১২২.৩৫ টাকা

ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP) : ১৬৪.৮৯ টাকা

ইউরো (EUR) : ১৪৩.৮৪ টাকা

সৌদি রিয়াল (SAR) : ৩২.৬২ টাকা

সংযুক্ত আরব আমিরাত দিরহাম (AED) : ৩৩.৩১ টাকা

কাতারি রিয়াল (QAR) : ৩৩.৬১ টাকা

কুয়েতি দিনার (KWD) : ৩৯৭.৬৬ টাকা

বাহারাইন দিনার (BHD) : ৩২৫.৪০ টাকা

ওমানি রিয়াল (OMR) : ৩১৭.৮৮ টাকা

মালয়েশিয়ান রিংগিত (MYR) : ৩০.১৫ টাকা

সিঙ্গাপুর ডলার (SGD) : ৯৫.২৫ টাকা

ব্রুনাই ডলার (BND) : ৯৫.২৫ টাকা

কানাডিয়ান ডলার (CAD) : ৮৯.২১ টাকা

অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD) : ৮১.৯৪ টাকা

চীনা রেনমিনবি (CNY) : ১৭.৪৭ টাকা

জাপানি ইয়েন (JPY) : ০.৭৯ টাকা

দক্ষিণ কোরিয়ান ওন (KRW) : ০.০৮ টাকা

ইরাকি দিনার (IQD) : ০.০৯ টাকা

লিবিয়ান দিনার (LYD) : ২২.৫৭ টাকা

দক্ষিণ আফ্রিকান র‌্যান্ড (ZAR) : ৭.৩৯ টাকা

তুরস্কি লিরা (TRY) : ২.৮৪ টাকা

মালদ্বীপিয়ান রুফিয়া (MVR) : ৭.৯১ টাকা

ভারতীয় রুপি (INR) : ১.৩৫ টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই হারের তথ্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের জন্য নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার ও দেশের অর্থনীতির ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই হারে পরিবর্তন হতে পারে।

বরিশাল-২ আসনে সর্বাধিক নয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বরিশাল-২ (উজিরপুর ও বানারীপাড়া) আসনে সর্বাধিক নয়জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া বরিশাল-১ (গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া) আসনে পাঁচজন। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ ও মুলাদী) আসনে আটজন। বরিশাল-৪ (হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে পাঁচজন। বরিশাল-৫ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে আটজন এবং বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে ছয়জন প্রার্থীসহ ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন কাগজপত্রে অসংগতির কারণে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ৪ জানুয়ারি রাতে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বরিশাল জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন।

সূত্রমতে, বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বরিশাল-১ (গৗেরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত হাফেজ মাওলানা মো. কামরুল ইসলাম খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাসেল সরদার মেহেদী ও জাতীয় পার্টির ছেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত আব্দুল মান্নান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নেছার উদ্দীন, জাতীয় পার্টির (জেপি) আব্দুল হক, জাতীয় পার্টির এমএ জলিল, খেলাফত মজলিসের মুন্সি মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের মো. তারিকুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ এবং এনপিপির সাহেব আলী।

বরিশল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে বিএনপি মনোনীত অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, এবি পাটির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভূইয়া (ফুয়াদ), কারাগারে থাকা জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু, মো. ইকবাল হোসেন, ফকরুল আহসান, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, বাসদের মো. আজমুল হাসান জিহাদ, গণঅধিকার পরিষদের ইয়ামিন এইচএম ফারদিন।

এ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর তার মনোনয়নপত্র জমা দেননি। দলীয় সিদ্ধান্ত ও আমীরে জামায়াতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত মো. রাজিব আহসান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মো. আব্দুল জব্বার, বাংলাদেশ জাসদের আব্দুস সালাম খোকন, ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ এছাহাক মো. আবুল খায়ের এবং মুক্তি জোটের আব্দুল জলিল।

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে  বিএনপি মনোনীত অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, বাসদের মনিষা চক্রবর্তী, জাতীয় পার্টির আখতার রহমান, এনপিপির আব্দুল হান্নান সিকদার, এবি পার্টির মো. তারিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. সাইদুর রহমান।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত মো. আবুল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, জামায়াতে ইসলামীর মো. মাহমুদুন্নবী, বাংলাদেশ মুসলীম লীগের আব্দুল কুদ্দুস, গণ অধিকার পরিষদের মো. সালাউদ্দীন মিঞা এবং স্বতন্ত্র মো. কামরুল ইসলাম।

সূত্রমতে, এর আগে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের প্রাথমিক বাছাইয়ে স্থগিত হওয়া বরিশাল-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বরিশাল-৩ আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু ও প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস, বরিশাল-৫ আসনে বাসদ মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তীর মনোনয়নপত্র রবিবার বৈধ বলে ঘোষনা করা হয়।

বৈধ ঘোষনার পর  বরিশাল-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বলেন-অন্য আসনের কথা বলতে পারি না আমার আসনে প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব শুরু করেছে। আমার মনোনয়ন বাদ দেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছি। আমি সংশয়ে রয়েছি ভোটের মাঠে প্রশাসন কেমন আচরণ করবে। কারন আমার কাছে মনে হচ্ছে প্রশাসন এখনই এক প্রার্থীর দিকে ঝুঁকে পরেছে।

সূত্রে আরও জানা গেছে, রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক চূড়ান্তভাবে বাতিল করা মনোনয়নপত্রের প্রার্থীরা হলেন, বরিশাল-২ আসনে জাসদের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। বরিশাল-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সাত্তার খান। বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তহিদুল ইসলাম এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থী একেএম মাহবুব আলম।

উল্লেখ্য, আজ ৫ থেকে আগামী ৯ জানুয়ারির মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের সিন্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষদিন এবং ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।

প্রশাসনের আচরণ একপাক্ষিক হলে নির্বাচনের প্রয়োজন নেই: হাসনাত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের আচরণ একপাক্ষিক হলে নির্বাচনের কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারাত শেষে আজাদীর যাত্রার প্রাক্কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপি যদি গণতন্ত্র রক্ষা করতে চায় তাহলে প্রশাসনের নগ্ন আচরণের বিরুদ্ধে তাদেরও কথা বলতে হবে।

এ সময় জাতীয় নাগরিক পারটি (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও অভিযোগ করেন, প্রশাসন বিএনপির দিকে হেলে পড়েছে।

দেশে আবারও ফ্যাসিজমের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রশাসনের গোলামীর দিকে হেলে পড়ার পুনরাবৃত্তি জনগণ আর দেখতে চায় না।

প্রশাসনের গোলামীকে প্রশ্রয় না দিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বানও জানান এই এনসিপি নেতা।

এছাড়াও নির্বাচন কমিশনকে জনগনের প্রতি জবাহদিহিমূলক আচরণ প্রদর্শনের অনুরোধ জানান তিনি।

মোহাম্মদপুরে দোকানের শাটার কেটে ৭০ ভরি স্বর্ণ ও ৬০০ ভরি রুপা চুরি

একটি স্বর্ণের দোকান থেকে ৭০ ভরি স্বর্ণ, ৬০০ ভরি রুপা ও নগদ চার লাখ টাকা চুরি হয়েছে।রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঘটনাটি ঘটেছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোর রাতে চন্দ্রিমা বাজারের নিউ রানা জুয়েলার্স নামের দোকানটির শাটার কেটে ও কলাপসিবল গেট ভেঙে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

স্বর্ণের দোকানের মালিক মাসুদ রানা বলেন, গতকাল রাত ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাসায় যাই। এরপর আজ সকাল ১০টায় দোকান খোলার সময় দেখি কেচিগেটের তালা ও শাটারের তালাও ভাঙা। এরপর ভেতরে ঢুকে দেখি আমার স্বর্ণের দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে এবং সিন্দুকসহ সব স্বর্ণ ও রুপা চুরি হয়ে গেছে।

তিনি দাবি করে, তার ৫০ ভরি নিজের স্বর্ণ ও বন্ধকি ২০ ভরি স্বর্ণ রাখা ছিল। ৭০ ভরি স্বর্ণের আনুমানিক দাম ১ কোটি ৫৪ লাখ ও ৬০০ ভরি রুপার মূল্য ২১ লাখ ৬০ হাজার এবং নগদ চার লাখ টাকা নিয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভোর ৩টা ২১ মিনিটের দিকে একদল চোর চক্রের সদস্যরা ভেতরে ঢুকে গ্লাস ভেঙে এবং সিন্দুকসহ বেরিয়ে যায়। তারা বেশ কিছুক্ষণ ভেতরে অপেক্ষা করে এরপর একটি পিকআপে করে সিন্দুকসহ স্বর্ণ ও রুপা নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, চুরির বিষয়টি জানতে পেরেছি। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমাদের পুলিশের একাধিক টিম কার্যক্রম শুরু করেছে।

আইপিএল নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা!

বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে সৃষ্ট তীব্র ক্ষোভের জেরে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-এর সব ধরনের খেলা ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সকল সম্প্রচারমাধ্যম ও টেলিভিশন চ্যানেলকে এই নির্দেশনা দিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার জন্য বিসিসিআই যে নির্দেশনা দিয়েছে, তার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের মানুষকে ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইপিএলের কোনো ম্যাচ বা কার্যক্রম বাংলাদেশে প্রচার করা যাবে না।

এর আগে গত শনিবার রাতে আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁর সেই প্রস্তাবের রেশ ধরে গতকাল রোববার তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছিলেন, জাতীয় মর্যাদার স্বার্থে চুপ করে বসে থাকার উপায় নেই। আইনি ভিত্তি পর্যালোচনা করেই আজ এই চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।

মোস্তাফিজ ইস্যুতে বিসিসিআই-এর অনড় অবস্থানের কারণে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে বিসিবি।

উল্লেখ্য, এবারের আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) হয়ে মাঠ মাতানোর কথা ছিল মোস্তাফিজের। কিন্তু ৩ জানুয়ারি বিসিসিআই-এর বিশেষ নির্দেশে তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের ক্রিকেটীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।

লবঙ্গ খেলে কী হয়?জেনে নিন ৭টি অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্য উপকারিতা!

প্রতিদিনের রান্নায় যে লবঙ্গ আপনি শুধু সুগন্ধ আর স্বাদের জন্য ব্যবহার করেন, সেটিই নীরবে কাজ করে যাচ্ছে আপনার শরীরের ভেতরে। চোখে না পড়লেও এই ক্ষুদ্র মসলার ভেতরে লুকিয়ে আছে শক্তিশালী প্রাকৃতিক ওষুধের গুণ। প্রাচীন চিকিৎসাশাস্ত্র থেকে আধুনিক গবেষণা সবখানেই লবঙ্গের নাম উঠে আসে রোগ প্রতিরোধ, হজম শক্তি বৃদ্ধি ও শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষিত রাখার উপাদান হিসেবে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, নিয়মিত ও পরিমিত ব্যবহারে এই ছোট লবঙ্গই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার বড় ভরসা।

লবঙ্গের সবচেয়ে শক্তিশালী উপাদান ইউজেনল এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ভেতরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। এই স্ট্রেস দীর্ঘদিন জমতে থাকলে হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত অল্প পরিমাণে লবঙ্গ গ্রহণ করলে সেই ঝুঁকি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

হজম সমস্যায় ভুগলে লবঙ্গ হতে পারে সহজ সমাধান। এটি হজম এনজাইমের নিঃসরণ বাড়িয়ে খাবার দ্রুত ভাঙতে সাহায্য করে। বদহজম, গ্যাস, পেট ফাঁপার মতো সমস্যায় খাবারের পর এক বা দুইটি লবঙ্গ চিবিয়ে খাওয়া বা রান্নায় ব্যবহার করলে স্বস্তি মিলতে পারে।
লবঙ্গের প্রদাহ-নাশক গুণ আর্থ্রাইটিস কিংবা সাধারণ জয়েন্টের ব্যথা কমাতেও কার্যকর। নারকেল তেলে লবঙ্গ ভিজিয়ে ব্যথার জায়গায় হালকা মালিশ করলে আরাম পাওয়া যায়। পাশাপাশি এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও ভাইরাস-বিরোধী বৈশিষ্ট্য শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আরও শক্তিশালী করে। লবঙ্গ সাদা রক্তকণিকার কার্যকারিতা বাড়িয়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় রাখে।
মুখ ও দাঁতের যত্নে লবঙ্গের ভূমিকা বহুদিনের পরীক্ষিত। দাঁতের ব্যথা, মাড়ির সংক্রমণ কিংবা মুখের দুর্গন্ধ কমাতে এটি প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। লবঙ্গ বা লবঙ্গের তেল দাঁত ও মাড়িতে লাগালে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়, যা এখনো অনেক জায়গায় ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে জনপ্রিয়।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও লবঙ্গ আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সীমিত পরিমাণে লবঙ্গ উপকারী হতে পারে।
এছাড়া প্রাথমিক ও প্রাণীভিত্তিক গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, লবঙ্গের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ধীর করতে সক্ষম। যদিও মানবদেহে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন, তবু সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
লবঙ্গের স্বাদ ও গুণাগুণ বজায় রাখতে এটি এয়ারটাইট পাত্রে সংরক্ষণ করা উচিত। পুরো লবঙ্গ পিষা লবঙ্গের তুলনায় বেশি দিন তাজা থাকে এবং স্বাস্থ্যগুণও ভালোভাবে ধরে রাখে। ঝোল, স্টু কিংবা মাংসের রান্নায় লবঙ্গ যোগ করলে স্বাদের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য উপকারিতাও বাড়ে।
সব মিলিয়ে লবঙ্গ শুধু রান্নার উপাদান নয়, এটি হজম শক্তি বাড়ায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করে, প্রদাহ কমায় এবং সম্ভাব্যভাবে ক্যান্সার প্রতিরোধেও সহায়তা করতে পারে। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পরিমিতভাবে লবঙ্গ যুক্ত করলে শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ রাখা সম্ভব। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের। গর্ভবতী, স্তন্যদানরত নারী কিংবা যাদের দীর্ঘস্থায়ী রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে লবঙ্গ নিয়মিত ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

যে জুস খেলেই মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় বদলে যাবে চেহারা!

হঠাৎ করে মুখ ফোলা, চোখের নিচে ফোলাভাব বা শরীর ভারী লাগা এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। অনেক সময় মাপলে দেখা যায় ওজন ২–৩ কেজি বেড়ে গেছে, অথচ ডায়েট বা খাবারে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে মূল কারণ ফ্যাট নয়, বরং শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি বা ওয়াটার রিটেনশন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেলারি ও শসার জুস নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। দাবি করা হচ্ছে, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই জুস খেলে মুখের ফোলাভাব কমে, শরীর হালকা লাগে এবং সাময়িকভাবে ওজনও কমতে পারে।

শরীরে পানি জমার কারণ
পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরে পানি জমার প্রধান কারণগুলো হলো:
অতিরিক্ত লবণ বা সোডিয়াম গ্রহণ
পর্যাপ্ত পানি পান না করা
দীর্ঘ সময় বসে থাকা
হরমোনের পরিবর্তন
শরীরের টিস্যুতে জমে থাকা সোডিয়াম অতিরিক্ত পানি ধরে রাখে, যার ফলে মুখ, গাল, পেট ও হাত-পা ফোলা দেখা দেয়।
সেলারি-শসার জুসের কার্যকারিতা
সেলারি কিডনিকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করতে সহায়তা করে। সোডিয়াম বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের অতিরিক্ত পানিও কমে। শসা পটাশিয়ামের কারণে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকে। ফলস্বরূপ, মুখের ফোলাভাব কমে এবং শরীর হালকা অনুভূত হয়।
জুস তৈরি ও খাওয়ার নিয়ম
উপকরণ:
সেলারি ডাঁটা ৪টি
১টি শসা
১টি সবুজ আপেল
অল্প পালং শাক
১টি টুকরো লেবু
সব উপকরণ একসাথে জুস করুন। খালি পেটে দিনে ২ বার পান করুন। টানা ২ দিনেই তাত্ক্ষণিক পার্থক্য দেখা যায়।
বিশেষ সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই জুস স্থায়ীভাবে ওজন কমায় না। এটি কেবল শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে। কিডনি সমস্যা, নিম্ন রক্তচাপ বা ইলেক্ট্রোলাইট সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। দীর্ঘ সময় এই ধরনের ডিটক্স জুস খাওয়া উচিত নয়। মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা অস্বস্তি দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
সেলারি ও শসার জুস সাময়িকভাবে ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে হলে কম লবণযুক্ত খাবার, পর্যাপ্ত পানিপান, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা প্রয়োজন।