Home Blog Page 217

অল্প বয়সেই সাদা চুল? জানুন প্রতিরোধের সহজ উপায়

অনেকের ক্ষেত্রে অল্প বয়সেই দু’চারটি সাদা চুল দেখা দিতে শুরু করে। চুলের অকালপক্কতার কারণ মূলত চুলের অযত্ন, খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম এবং মানসিক চাপ। তাই সময়মতো সতর্ক থাকা জরুরি।

খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাসে সতর্কতা:
অতিরিক্ত তেলমশলা, খুব ঝাল বা মশলাদার খাবার, ভাজাভুজি, চা ও কফি অতিরিক্ত খেলে চুলের অকাল পক্কতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এছাড়া বেশি টক স্বাদের খাবার বা প্রচুর আমিষও চুলে প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, অতিরিক্ত চিন্তা এবং মানসিক অবসাদও চুল সাদা হওয়ার কারণ হতে পারে।

চুলের যত্ন:
যারা নিয়মিত বাড়ির বাইরে বের হন, তাদের জন্য শ্যাম্পু করা অপরিহার্য। তবে শ্যাম্পুর আগে মাথার তালু ও চুলের লম্বা অংশে তেল ম্যাসাজ করা উচিত। শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ভালভাবে ধুয়ে ফেলা প্রয়োজন।

কেমিক্যাল ও বংশগত কারণ:
চুলে রঙ করার ফলে থাকা কেমিক্যাল অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে বংশগত কারণে চুল অকাল সাদা হতে পারে।

গরমে চুলের যত্ন:
গরমে ঘাম বা ভেজা চুল না আঁচড়ানোই ভাল। তেলের জন্য নারকেল তেল উপযোগী; হালকা গরম করে স্ক্যাল্প ও চুলে ম্যাসাজ করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন শ্যাম্পু করা উচিত।

সতর্কতা অবলম্বন করলে অল্প বয়সে চুল পাকা বা সাদা হওয়ার সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

বলিউড সুপারস্টার হৃতিক রোশন কি আসলেই বাঙালি!

নতুন বছরের শুরুতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন বলিউড সুপারস্টার হৃতিক রোশন। শনিবার সকালে নিজের বেশ কিছু ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘আমার ভেতরের ২৫ শতাংশ বাঙালি রক্তটাই বুঝি এভাবে প্রকাশ পেয়েছে।’ মুহূর্তেই ভাইরাল হওয়া এই মন্তব্য ভক্তদের মনে কৌতূহল জাগিয়েছে— গ্রিক গড খ্যাত এই নায়কের সঙ্গে বাঙালির যোগসূত্র ঠিক কোথায়?

হৃতিকের এই বাঙালি পরিচয়ের উৎস তাঁর দাদি ইরা রোশন (জন্মনাম ইরা মৈত্র)। সংগীত অনুরাগী ইরা মাত্র ২০ বছর বয়সে কলকাতা ছেড়ে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে কাজ করতে গিয়ে পরিচিত হন সংগীত পরিচালক রোশন লাল নাগরথের সঙ্গে। তাঁদের উত্তরসূরি হিসেবেই রাকেশ ও রাজেশ রোশনের জন্ম। হৃতিকের বাবা রাকেশ রোশন কিছুটা বাংলা জানলেও হৃতিকের সেই সুযোগ হয়নি। তবে ছোটবেলায় দাদির অত্যন্ত আদরের নাতি ছিলেন তিনি। মজার বিষয় হলো, হৃতিকের জনপ্রিয় ডাকনাম ‘ডুগগু’ রেখেছিলেন তাঁর এই বাঙালি দাদিই।

হৃতিক তাঁর দাদিকে ‘ঠামি’ বলে ডাকতেন। রোশন পরিবারের সাংস্কৃতিক আবহে ঠামির হাতের রান্না করা মাছের পদ ছিল হৃতিকের ভীষণ প্রিয়। কলকাতায় এলে আজও তিনি দাদির হাতের সেই মাছ-ভাতের স্বাদ আর আদরের স্মৃতিতে কাতর হন। কাকতালীয়ভাবে হৃতিকের প্রথম স্টেজ পারফরম্যান্সও হয়েছিল এই তিলোত্তমা তলাতেই।

হৃতিকের জন্য জানুয়ারি মাসটি সব সময়ই আলাদা। ১৯৭৪ সালের ১০ জানুয়ারি তাঁর জন্ম, আবার ২০০০ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর প্রথম ছবি ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’ মুক্তি পেয়েছিল। ৫০ পেরিয়েও তাঁর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মাঝে নিজের বাঙালি পরিচয় সামনে আনা ভক্তদের জন্য এক বড় চমক হিসেবেই দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাঙালি ভক্তরা হৃতিকের এই ‘বাঙালি সত্তা’র স্বীকারোক্তিকে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।

আজ থেকে শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৬। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির যৌথ উদ্যোগে সকাল ১০টায় পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, এবারের মেলায় স্টল ও প্যাভিলিয়ন স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে চালু থাকছে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা। অন-স্পট টিকিট কেনার পাশাপাশি অনলাইনে টিকিট কিনে কিউআর কোড স্ক্যান করে মেলায় প্রবেশ করা যাবে।

যাতায়াত ব্যবস্থাতেও রাখা হয়েছে নতুনত্ব। মেলায় আসা-যাওয়ার সুবিধায় বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি কনসেশনাল রেটে পাঠাও সার্ভিস যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, মেলাটি শুরু হওয়ার কথা ছিল গত ১ জানুয়ারি। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচি পরিবর্তন করে ৩ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির উদ্যোগে ১৯৯৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তার লক্ষ্যে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা হতো। করোনা মহামারির কারণে ২০২১ সালে মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে মহামারির বিধিনিষেধের মধ্যেই ২০২২ সালে প্রথমবার পূর্বাচলের বিসিএফইসিতে মেলার আয়োজন করা হয়।

আবারো কমলো স্বর্ণের দাম, আজ থেকে নতুন দামে বিক্রি শুরু

স্বর্ণ বাজারে ফের নেমেছে দামের পালা। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমিয়ে নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা, যা আগের দামের তুলনায় ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কম। নতুন এই দামে আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে স্বর্ণ বিক্রি শুরু হবে।

বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম পড়বে ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৫১ হাজার ৮০৭ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির হেরফের হতে পারে।
এছাড়া স্বর্ণের সঙ্গে রুপার দামও কমেছে। বৃহস্পতিবার রূপার প্রতি ভরি দাম ৫২৪ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ৫৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা রাখা হয়েছে।
মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও স্থানীয় চাহিদা বিবেচনায় এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিনিয়োগকারী ও স্বর্ণপ্রেমীদের জন্য এখন নতুন দামের সঙ্গে বাজার পরিস্থিতি খেয়াল করে লেনদেন করতে হবে।

এখনও পর্যন্ত যেসব হেভিওয়েট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে বেশ কয়েকজন আলোচিত ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত এবং ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নে কোনো অনিয়ম পাননি।

ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হকের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যেও একাধিক মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা দেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। একইভাবে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়। শনিবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান এ সিদ্ধান্ত জানান।

রাজধানীর ঢাকা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেগুনবাগিচায় ঢাকা মহানগরীর আওতাধীন আসনগুলোর যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তারা এই ঘোষণা দেন।

এদিকে, ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে ঢাকার ২০টি আসনে শুরু হওয়া যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে তার মনোনয়নপত্র অনুমোদন পায়।

অন্যদিকে, নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এসব প্রভাবশালী প্রার্থীর নির্বাচনি মাঠে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জোরালো হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

বগুড়া-৬ আসনের পর এবার ঢাকা-১৭ আসন থেকেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এটি বৈধ ঘোষণা করেন। এর আগে সকালেই বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকেও তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হয়েছিল।

তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এবং প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০ পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ নির্ধারিত হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি।

উল্লেখ্য, তারেক রহমান এই নির্বাচনে একই সঙ্গে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ দুই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

তারেক রহমানের একান্ত সচিব ও প্রেস সচিব হলেন যারা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নতুন একান্ত সচিব ও প্রেস সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তারেক রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন এ বি এম আব্দুস সাত্তার। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এ এ এম সালেহ (সালেহ শিবলী)।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে তারেক রহমানের এই সচিবালয় পুনর্গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দাপ্তরিক কাজ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালন করবেন।

এবার খুনি ফয়সালকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন জুমা

শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। তাঁর দাবি, এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর উদ্দেশ্যেই ফয়সাল নামের একজনকে পরিকল্পিতভাবে জামিনে বের করে আনা হয়েছিল।

শনিবার (৩ জানুয়ারি ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে জুমা এই গুরুতর অভিযোগ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন— সরকারের ভেতর থেকে কারা এই আসামির জামিনের জন্য তদবির করেছিল এবং কোন বিচারক এই জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।

জুমা দাবি করেন, ফয়সালকে জেল থেকে বের করাই হয়েছিল এই খুনের মিশনটি সম্পন্ন করার জন্য। তিনি প্রশ্ন করেন, কোন আইনজীবী এবং কার সুপারিশে এই জামিন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছিল।

হত্যাকাণ্ডের চেষ্টায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত কবির সম্পর্কে তিনি বলেন, ফয়সালের সঙ্গে কবিরও প্রথম দিন থেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। কবিরের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (লিড) পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও মামলার অগ্রগতি নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

মামলায় নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে যে দাবি করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই ডাকসু নেত্রী। তাঁর মতে, ঘটনার নেপথ্যের কারিগরদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

জুমা অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা এই জামিনের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের পরিচয় এবং ইনকিলাব টিভিতে ফয়সালের উপস্থিতির পেছনের মাধ্যমগুলো জাতির সামনে উন্মুক্ত করেন।

উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডটি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল পরিকল্পনাকারীদের নিয়ে জনমনে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

হাসিনার আমলে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ছাড়া কে পুলিশে চাকরি পেয়েছে?

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আওয়ামী লীগের আমলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ছাড়া কে পুলিশে চাকরি পেয়েছে? কে এনএসআইতে চাকরি পেয়েছে-খোঁজ নিয়ে দেখুন। আপনাদের অধিকার হরণ করা হয়েছে, সেটি আপনারা তখন বুঝতে পারেননি। এখন অনেক ক্ষেত্রে তাদের হয়েই কথা বলছেন।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী নিতাই গৌর সেবাশ্রম পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কোনো ভবিষ্যৎ আমি দেখি না। মানুষের কাছে তাদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। তারা বিপুলসংখ্যক মানুষকে হত্যা করেছে, গুম করেছে। এখন তাদের নেতাকর্মীরা দেশের বাইরে গিয়ে মিথ্যাচার করছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, জুলাই আন্দোলনে তিন হাজার পুলিশকে হত্যা করা হয়েছে। লাখ লাখ আন্দোলনকারীদের জঙ্গি হিসেবে প্রচার করছে আওয়ামী লীগ। এসব বলে বলে তারা সারা পৃথিবীকে বোঝাতে চাচ্ছে যে এদের মারতে হবে।

প্রেস সচিব বলেন, ১৭ মাস পেরিয়ে গেলেও তারা কোনো অনুতপ্ত হয়নি। এখন যদি এসে বলে- আমরা ভুল করেছিলাম, দুঃখিত-তাহলেও আর সময় নেই। কারণ মনোনয়ন দাখিলের সময় ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।

একটি রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে সরকার নতুন কোনো ফ্যাসিজমের দিকে যাচ্ছে কিনা-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, এখানে ফ্যাসিজমের কিছু নেই। বরং আওয়ামী লীগই দেশে ফ্যাসিজম কায়েম করেছিল। স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে বলে তারা মানুষের অধিকার হরণ করেছে।

এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করে বলেন, একটি রাজনৈতিক দল যদি অস্ত্র হাতে তুলে নেয়, ছোট ছোট শিশু ও তরুণ শিক্ষার্থীদের হত্যা করে, তাহলে পৃথিবীর কোনো সভ্য রাষ্ট্রই তাদের ডেমোক্রেটিক স্পেস দেয় না। একটি রাজনৈতিক দল হওয়ার মূল শর্ত হলো শান্তিপূর্ণ থাকা এবং সহিংসতায় না জড়ানো।

প্রেস সচিব বলেন, অফিসিয়ালি নির্বাচনি ক্যাম্পেইন শুরু না হলেও ইতোমধ্যেই সারা দেশে নির্বাচনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ এখন ভোটের দিনের জন্য অপেক্ষা করছে। তবে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেই, কারণ তারা নিজেরাই নিজেদের অযোগ্য করে তুলেছে।

সকালে নিতাই গৌর সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ বাবাজী মহারাজ চিন্ময় আনন্দ দাস চঞ্চল গোসাইয়ের সঙ্গে আলাপকালে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা নেজারত ডেপুটি কালেক্টর সহকারী কমিশনার আমিনুল ইসলাম, মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আশিকুর রহমান এবং নিতাই গৌর সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক তরুণ ভৌমিক।

হঠাৎ ১ জানুয়ারিতেই এত মানুষের জন্মদিন কেন?

পহেলা জানুয়ারি এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে জন্মদিন উদযাপন করতে দেখা যায়। অনেকেই বন্ধু-স্বজনদের জন্মদিনের শুভেচ্ছায় ভাসিয়ে দেন বছরের প্রথম দিনটিকে। এতে মনে হয়, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক নাগরিকের জন্মদিন যেন ১ জানুয়ারিই। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই বিশাল জনগোষ্ঠীর সবার জন্ম কি সত্যিই বছরের প্রথম দিনে? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো বাস্তবতা?
জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জন্ম তারিখ হিসেবে জানুয়ারির ১ তারিখের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। শিশুদের নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও দীর্ঘদিন ধরে এই প্রবণতা লক্ষ্য করে আসছেন।
শিশু বিশেষজ্ঞ ড. ইশতিয়াক মান্নান জানান, বাস্তবে এমন নয় যে জানুয়ারির ১ তারিখেই অধিকাংশ শিশুর জন্ম হচ্ছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশুর জন্ম হয় বাড়িতে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়। এসব জায়গায় শিক্ষার হার তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক অভিভাবক জন্ম নিবন্ধনের বিষয়ে সচেতন নন।”
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে জন্মের সময় সঠিকভাবে জন্ম নিবন্ধন করা হয় না—হাসপাতাল বা বাড়িতে জন্ম নেওয়া হলেও নিবন্ধনে গাফিলতি থাকে। পরে যখন শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা হয় বা কোনো সার্টিফিকেট পরীক্ষার সময় জন্ম তারিখ প্রয়োজন হয়, তখন অনেক সময় নির্দিষ্ট তথ্যের অভাবে একটি অনুমানভিত্তিক তারিখ বসিয়ে দেওয়া হয়। সহজে মনে রাখার সুবিধার জন্য শিক্ষক বা সংশ্লিষ্টরা একটি “কমন” তারিখ বেছে নেন, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জানুয়ারির ১ তারিখ হয়ে থাকে। এ কারণেই অনেকের জীবনে দেখা যায়, বাস্তব জন্মদিন এক রকম আর কাগজপত্রে আরেক রকম—অর্থাৎ দুইটি জন্মদিন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এই প্রবণতা শুধু বাংলাদেশেই নয়। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশেও একই চিত্র দেখা যায়।
তবে ড. ইশতিয়াক মান্নান বলেন, “অনেকের জন্ম তারিখ কাগজে বানানো হলেও এটাও সত্য যে, বাংলাদেশে বাস্তব অর্থেই জানুয়ারির ১ তারিখে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যাও কম নয়।”