Home Blog Page 22

হেলিকপ্টারে মহেশখালীর পথে প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজারের মহেশখালীর উদ্দেশে হেলিকপ্টারে করে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে মহেশখালীর উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীতে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত বাঁশখালী ও হাটহাজারী এলাকায় যাবেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন।’

সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তারেক রহমান।

দুপুর দেড়টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার পেহেলগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেখানে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

বিকেল পৌনে ৪টায় হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে বিরতি নেবেন তারেক রহমান। পরে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে মহেশখালী যাচ্ছেন হেলিকপ্টারে এবং ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে চট্টগ্রামে যাবেন। সব কর্মসূচি শেষ করে রাত সাড়ে ৯টায় হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বিমানে ঢাকায় ফিরবেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো আজ রোববার চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন। এ সময় কক্সবাজার জেলাও সফর করবেন তিনি।

আজ রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে প্রথমে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী যাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সফরসূচি অনুযায়ী, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার। এরপর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তারেক রহমান।

দুপুর দেড়টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার পেহেলগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সেখানে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল পৌনে ৪টায় হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে বিরতি নেবেন তারেক রহমান। এরপর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের কর্মসূচি শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। রাতে রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ সোমবার

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামীকাল সোমবার প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষার্থীরা ফলাফল জানতে পারবেন এসএমএসের মাধ্যমে। পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট এবং কেন্দ্রীয় দুটি ওয়েবসাইট থেকেও ফলাফল জানা যাবে।

গতকাল শনিবার বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান ফল প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল দেখতে পারবেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে eduboardresult.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকেও ফল জানা যাবে।

এসএমএসে ফল জানার পদ্ধতি

মুঠোফোনে যে কোনো সিম ব্যবহার করে এসএমএসের মাধ্যমে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল জানা যাবে। এ জন্য মুঠোফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে প্রথমেSSC লিখতে হবে। এরপর একটি স্পেস দিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, একটি স্পেস দিয়ে পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর এবং এরপর YEAR লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এসএমএসের ফরম্যাট হবে (SSC DHA ROLL YEAR), মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফল জানতে লিখতে হবে (SSC MAD ROLL YEAR) ও আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীদের জন্য ফরম্যাট হবে (SSC TEC ROLL YEAR)। এই তথ্য ১৬১৪০ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে পরীক্ষার ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। প্রকাশিত ফলাফলে কোনো পরীক্ষার্থী সন্তুষ্ট না হলে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবে।

আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন। এই আবেদন কার্যক্রম চলবে আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত। পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে হলে টেলিটক মোবাইল অপারেটরের সংযোগ ব্যবহার করতে হবে।

আবেদনের প্রক্রিয়া : কেবল টেলিটক সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রতি বিষয়ের জন্য নির্ধারিত আবেদন ফি লাগবে ১৫০ টাকা।

পরীক্ষার্থীকে ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে প্রথমে মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করতে হবে RSC <স্পেস> বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর <স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস> বিষয় কোড এবং তা পাঠিয়ে দিতে হবে 16222 নম্বরে। একাধিক বিষয়ের কোড লিখতে হলে কমা (,) দিয়ে আলাদা করতে হবে। যেমন- ১০১,১০২।

টেলিটকের ডিজিটাল সার্ভিসেস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার সালেহ মো. ফজলে রাব্বী বলেন, রিভিউয়ের জন্য শুধুমাত্র টেলিটক মোবাইল নম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদনকারীদের এসএমএস পাঠানোর পর একটি কনফার্মেশন মেসেজ আসবে, তাতে ফি কেটে নেওয়ার তথ্য থাকবে।

টেলিটকের ওয়েবসাইট (www.teletalk.com.bd) এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে আবেদন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকবে।

এ বছর ৯টি সাধারণ বোর্ডসহ মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ছয় লাখ ৬৬০ শিক্ষার্থী ফেল করেছে, যাদের মধ্যে ছাত্র তিন লাখ ২৪ হাজার ৭১৬ জন এবং ছাত্রী দুই লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৪ জন।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫। এবার পাসের হারে শীর্ষ রয়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। এই বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার আগে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে একযোগে এই ফল প্রকাশ করা হয়।

এবার পাসের হারে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। পাসের হার ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ ছাড়া কারিগরিতে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ, মাদ্রাসায় ৬৮ দশমিক ০৯ শতাংশ, সিলেটে ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, ঢাকা বোর্ডে ৬৭ দশমিক ৫১ শতাংশ, দিনাজপুরে ৬৭ দশমিক ০৩ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং বরিশাল বোর্ডে ৫৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ এক হাজার ৫৩৮ জন এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৪ জন। দুই হাজার ২৯১টি কেন্দ্রে ১৮ হাজার ৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী রয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৩ জন এবং ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৩৩ জন ছাত্রী। এই বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ৭২৫টি। প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৬৩টি।

অপরদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন সর্বমোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৮ হাজার ৩৮৫ এবং ছাত্রী ৩৪ হাজার ৯২৮ জন।

২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৬৮ দশমিক ০৯ শতাংশ। এ বোর্ডে সারাদেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৬৬ জন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে এ ফল প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির ফল ঘোষণা করেন।

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তার মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৭১.০৩ শতাংশ এবং ছাত্রদের পাসের হার ৬৫.৮৮ শতাংশ। সেই হিসাবে এবারও পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। এ নিয়ে টানা ১০ বছর এসএসসিতে পাসের হারে এগিয়ে ছাত্রীরা।

এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে সারাদেশে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন এক লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন। সেই হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ব্যাপক হারে কমেছে।

দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে মোজতবা খামেনি, ১৩ সেকেন্ডের ভিডিও প্রকাশ

দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে না আসা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি ১৩ সেকেন্ডের ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ। ভিডিওটি প্রকাশের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বর্তমান অবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে চীনের বার্তাসংস্থা সিনহুয়া ও সিজিটিএন জানিয়েছে, শনিবার মেহের নিউজ তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশ করে। ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বসে কথা বলতে দেখা যায়। তাকে দৃশ্যত সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেছে।

তবে ভিডিওটি কখন বা কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে মেহের নিউজ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে ঘিরে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয়ও জানানো হয়নি।

সিজিটিএনের ফেসবুক পেজেও মেহের নিউজের বরাতে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে মেহের নিউজের ইংরেজি সংস্করণের ওয়েবসাইটে ভিডিওটি নিয়ে কোনো প্রতিবেদন বা ভিডিও পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক মন্তব্যের ঠিক পরপরই ভিডিওটি প্রকাশ পেয়েছে। বুধবার পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, বর্তমানে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করা ‘খুবই কঠিন’। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধের খবরের মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।

তবে একই সঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনির উপস্থিতি ইরানিদের জন্য ‘অনেক বড় শক্তি’।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ওই হামলায় তিনি আহত হয়েছিলেন বলে জানা যায়। একই হামলায় তার বাবা ও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। দেশটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক নাগরিকও হামলায় নিহত হন।

হামলার পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েলের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে মার্চের শুরুতে ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। এরপর থেকে তার প্রকাশ্য অনুপস্থিতি এবং শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়।

এ অবস্থায় নতুন ভিডিওতে তাকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে দেখা যাওয়ায় তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভিডিওটি। তবে ভিডিওটির ধারণের সময় ও স্থান নিশ্চিত না হওয়ায় এর মাধ্যমে মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থান বা সাম্প্রতিক কার্যক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

সিরাজগঞ্জে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১০

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের নলকায় পণ্যবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ‘শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের’ একটি যাত্রীবাহী বাসের চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের নলকা ওভারপাসের নিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের বাসটি নলকা ওভারপাসের নিচ দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় সিরাজগঞ্জ শহর থেকে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রাক ওভারপাসে ওঠার সময় বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের চালকসহ দুজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন অন্তত ১০ যাত্রী।

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহতদের সিরাজগঞ্জ শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. এ টি এম নুরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনায় নিহত দুজনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত ও নিহতদের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

ব্যবসা মন্দা, আশুলিয়ায় ছুটির মধ্যেই ৫৬৫ শ্রমিক ছাঁটাই কারখানার ফটকে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে নোটিশ

সাভারের আশুলিয়ায় ৫ আগস্ট উপলক্ষে ঘোষিত ছুটির মধ্যেই এ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার ৫৬৫ জন শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে ব্যবসায়িক মন্দার কথা।

বৃহস্পতিবার কারখানার প্রধান ফটকে প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগ থেকে স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বিভিন্ন সেকশনের মোট ৫৬৫ শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের কথা জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, আজ শনিবার (৮ আগস্ট) থেকে এসব শ্রমিকের ছাঁটাই কার্যকর হবে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেডে কর্মরত সব শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা কারণে বর্তমানে কারখানায় মারাত্মক ব্যবসায়িক মন্দা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং ও আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়া এবং পর্যাপ্ত কাজের স্বল্পতার কারণে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় কারখানার অস্তিত্ব রক্ষা ও ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত শ্রমিক হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ধারা ২০ অনুযায়ী সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কারখানার মোট ৫৬৫ জন শ্রমিককে ৮ আগস্ট  থেকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

নোটিশে বলা হয়েছে, ছাঁটাই করা শ্রমিকদের চাকরির মেয়াদকাল অনুযায়ী বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ মেনে তাদের যাবতীয় আইনগত পাওনা ও সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ আইনে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি শ্রম আইনের ধারা ২১ অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে কারখানার কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেলে বা পুনরায় নতুন শ্রমিক নিয়োগের প্রয়োজন হলে ছাঁটাই করা এসব শ্রমিককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মূলত পর্যাপ্ত কার্যাদেশ না থাকা ও গ্যাস-সংকটের কারণে সৃষ্ট ব্যবসায়িক মন্দার কারণে কারখানাটি কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

কারখানাটির ছাঁটাইয়ের তালিকায় নাম থাকা সুইং সেকশনের অপারেটর মো. জিয়ারুল হক বলেন, ৫ আগস্ট উপলক্ষে কারখানা ছুটি ঘোষণা করায় টানা তিন দিনের ছুটিতে তিনি গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে তিনি ছাঁটাইয়ের নোটিশ পান।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন সমকালকে জানান, ব্যবসায়িক মন্দা মালিকপক্ষের একটি বাহানা মাত্র। এভাবে ছুটির মধ্যে হঠাৎ করে একযোগে এত শ্রমিক ছাঁটাই করা অমানবিক। তারা অবিলম্বে এই নোটিশ প্রত্যাহার করে ছাঁটাই করা সব শ্রমিককে কাজে পুনর্বহালের দাবি জানান।

যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ১

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে দাবানল নেভানোর কাজে নিয়োজিত একটি হেভি-লিফট হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে দুজন আরোহী ছিলেন। একই সময়ে ওরেগনে দাবানল নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োজিত এক বুলডোজার চালক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

উটাহর রিচফিল্ডের কাছে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। সল্টলেক সিটি থেকে প্রায় ১৬০ মাইল (২৫৮ কিলোমিটার) দক্ষিণে দুর্ঘটনাটি ঘটে। হেলিকপ্টারটি মধ্য উটাহর একটি দাবানল নেভাতে নিয়োজিত সাতটি হেলিকপ্টারের একটি ছিল। গত ২৭ জুলাই বজ্রপাত থেকে ওই আগুনের সূত্রপাত হয়।

বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি ছিল সিকোরস্কি এস-৬৪ ‘স্কাইক্রেন’। অগ্নিনির্বাপণের জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত এই হেলিকপ্টারে পানি বা ফায়ার রিটার্ড্যান্ট বহনের ব্যবস্থা থাকে। দুর্ঘটনার সময় এটি খাড়া ভূ-প্রকৃতির একটি এলাকায় কাজ করছিল। বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারে থাকা দুজনের অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তীব্র আগুনের কারণে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেখানে পৌঁছানোর আশা করছেন কর্মকর্তারা।

দুর্ঘটনার পর দাবানল নেভানোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও পরে তা আবার শুরু করা হয়। হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনায় তদন্ত করবে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ও ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। তবে আশপাশে আগুন জ্বলতে থাকায় তদন্তকারীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে।

এদিকে ওরেগনে ‘রাইটস স্প্রিং’ নামের একটি দাবানল নিয়ন্ত্রণের সময় ৪৭ বছর বয়সী জেসন এনসাইন নামে এক বুলডোজার চালক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, আগুনটি অপ্রত্যাশিতভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তার বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়।

ওরেগনের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে চিলোকুইন শহরের পূর্বে বুধবার ওই দাবানলের সূত্রপাত হয়। ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত আগুনটি প্রায় ১৪ বর্গমাইল বা ৩৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুনের আচরণ অনিয়মিত ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। শুক্রবার দমকলকর্মীদের অনিয়মিত বাতাস, উচ্চ তাপমাত্রা, শুষ্ক ও দাহ্য উদ্ভিদ এবং বৃষ্টিহীন বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। এ কারণে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ সতর্কতা জারি করা হয়।

উটাহতে কানশের কাছে ফিশলেক ন্যাশনাল ফরেস্টের দাবানলও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আগুনটি প্রায় ১৬৫ বর্গমাইল বা ৪২৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়িয়ে ফেলেছে এবং মাত্র ১৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আগুন নেভাতে ৬০০-এর বেশি দমকলকর্মী কাজ করছেন। আগুনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে হয়েছে এবং অন্তত ছয়টি স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।

দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া, তীব্র দাবদাহ, স্বাভাবিকের তুলনায় কম তুষারপাত এবং অনিয়মিত বাতাসের কারণে উটাহসহ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে এবার দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। গত জুনেও কলোরাডোর একটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলে চার দমকলকর্মী নিহত ও একজন আহত হয়েছিলেন।

ভারত-চীনের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেলেন ট্রাম্প

রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার বিধান রেখে একটি বিল পাস করেছে দেশটির সিনেট। রাশিয়ার জ্বালানির অন্যতম বড় ক্রেতা ভারত ও চীনও এই শুল্কের সম্ভাব্য আওতায় রয়েছে।

প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে বিলটির নাম দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন গ্রাহাম। গত ১১ জুলাই তিনি মারা যান।

সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়। সিনেটে গ্রাহামের স্থলাভিষিক্ত হওয়া তার বোন ডারলিন গ্রাহাম বলেন, এই বিল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘সঠিক জায়গায় আঘাত হানবে’।

আগামী ৩১ আগস্ট মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নতুন অধিবেশনে বিলটি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।

বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়া থেকে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা শীর্ষ পাঁচ দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে। বর্তমানে ভারত, চীন, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে।

তবে যেসব দেশ তাদের প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম রাশিয়া থেকে আমদানি করে এবং সেই আমদানি কমাতে সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের জন্য বিলে শিথিলতার বিধান রাখা হয়েছে।

বিলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি প্রকল্পগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া রুশ তেল ও জ্বালানি রাজস্বের ওপর বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কো যেসব পুরোনো ও নতুন পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকার ব্যবহার করছে, সেগুলোকে বর্ধিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বিলে ১৯৯৬ সালের ‘ইরান স্যাংশনস অ্যাক্ট’-এর মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জরিমানা আরোপ করা হয়ে থাকে।

দাম কমেছে স্বর্ণের, আজ থেকেই কার্যকর

দেশের বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।

এদিকে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা।

ছুটির দিনে ক্রয় কমিটির বৈঠক, এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ দশমিক ৫৫ মার্কিন ডলার।

ছুটির দিন আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সভাপতিত্বে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অষ্টম সভা।

সভায় জানানো হয়, জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ভিত্তিতে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ২০২৬ সালের ১১-১২ আগস্ট ডেলিভারির জন্য এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

একটি এলএনজি কার্গোতে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ থাকে। সে হিসাবে এ কার্গোর মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৭ কোটি ২৪ লাখ ৮ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৭২.৪১ মিলিয়ন ডলার)।

এদিকে ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত জিটুজি ভিত্তিতে গানভর ইউএসএ এলএলসি থেকে এলএনজি কেনার দরপ্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বৈঠক থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা দুই হলের নিয়ন্ত্রণে ছাত্রদল, ফেরেনি ছাত্রশিবির

ঢাকার সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার (আলিয়া মাদ্রাসা) আল্লামা কাশগারী (রহ.) হলের মূল ফটকে তালা ঝুলছে। সামনে পুলিশ অবস্থান করছে। তিনতলা আবাসিক হলের কোনো কোনো কক্ষের জানালার কাচ ভাঙা। গত মঙ্গলবার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর বন্ধ রয়েছে মাদ্রাসাটির ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল। তবে ভেতরে কয়েকজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। তাদের অধিকাংশই ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আলিয়া মাদ্রাসার আল্লামা কাশগারী (রহ.) হলে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে। মুফতি আহসান উল্লাহ হলেও একই দৃশ্য। ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হলের পাহারায় রয়েছেন। ছাত্রদলের দাবি, দুটি হলই তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সংঘর্ষে গত মঙ্গলবার রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল মাদ্রাসাটির আল্লামা কাশগারী (রহ.) হল। একপর্যায়ে শিবিরের নেতাকর্মীরা পিছু হটেন। তাদের কেউ এখনও হলে ফিরে আসেননি। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হলে যাওয়া-আসা করতে দেখা গেছে।

ঢাকা আলিয়ায় আবাসিক হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার সকাল থেকেই ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে কয়েকশ নেতাকর্মী হলে ঢোকেন। তবে এর আগেই হল ছাড়েন শিবির কর্মীরা। শিবিরের দখলে থাকা হলের বেশ কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। এ সময় সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হককে বেধড়ক মারধর করা হয়। ছাত্রদলের ১৪ জন ও শিবিরের ১১ জন আহত হন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে দেখা গেছে, হলের বাইরের ফটক খোলা। ফটক থেকে ভেতরে ঢুকতেই হলের মূল ফটক। ওই ফটকে তালা মারা। এর সামনেই বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য বসে আছেন। বাইরে থেকে কেউ ভেতরে ঢুকলে পরিচয় জানতে চাচ্ছেন। বাইরে থেকে বেশ কয়েকটি কক্ষের জানালার কাচ ভাঙা দেখা যায়। প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করলে সেখানে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়। তাদের কেউ কেউ এসেছেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে। কেউ অনার্সের পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিতে এসেছেন।

মাদ্রাসার তৃতীয় বর্ষের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিতে আসা জিহাদ সমকালকে বলেন, ‘গত পরশু দিন সংঘর্ষের সময় হলে ছিলাম না। তাই সবকিছু হলেই ছিল। শনিবার আমার তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা। তাই অ্যাডমিট কার্ড নিতে আসছি। হলের বাইরে থাকি।’

হলের ফটকে দায়িত্বরত চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসান সমকালকে বলেন, কিছু শিক্ষার্থী ভেতরে আগে থেকেই ছিলেন। এ ছাড়া কিছু শিক্ষার্থী হলের ভেতরে ঢুকছেন যারা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস নিতে আসছেন। অনেকের পরীক্ষা আছে। তবে হলের শিক্ষার্থী ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনতলা ভবনের হলটিতে শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য ৭৪টি কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষে ৩১২টি বৈধ সিট আছে। সেখানে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী থাকেন। মঙ্গলবার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের বেশ কিছু কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়। দুই দফায় সংঘর্ষের পর শিবিরের নেতাকর্মীরা হল ত্যাগ করেন।

মূল ফটকের ভেতরে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দেখা যায়। তারা বলেন, ভেতরে কিছু শিক্ষার্থী এখনও রয়েছেন। তাদের অন্য কোথাও থাকার জায়গা নেই। আলী হাসান ওবামা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি কোথাও যাইনি। হলেই থাকছি।’

ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীও হলে অবস্থান করছেন। এ সময় সাদ চৌধুরী নামের ছাত্রদলের এক নেতাকে হলের ভেতরে যেতে দেখা যায়। তারা সেখানে অবস্থান করেন। হলের ‎নিরাপত্তাকর্মী বদিউর রহমান সমকালকে বলেন, ছাত্রদল যারা করে তাদের কিছু লোক নিজেরাই এসে হলের ভেতরে প্রবেশ করছেন।

মাদ্রাসাটির শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি আব্দুল আলীম সমকালকে বলেন, ‘এটা দুই পক্ষের মধ্যে সিট দখলের কোনো সংঘর্ষ ছিল না। যুবদল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পরিকল্পিত হামলা ছিল। দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তাদের লোকজন ধাওয়া খেয়েছে। সেটারই প্রতিফলন ছিল আমাদের ওপর হামলা করা। এতে ১১ জন আহত হন। দুজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’ কক্ষ ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ধাওয়া দিয়েছে, তখন আমরা পাল্টা ধাওয়া দিয়েছি। আমরা হলের ভেতরে যেতে পারিনি, কক্ষ ভাঙচুর করিনি।’

আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদলের বর্তমানে কমিটি নেই। তবে আসন্ন কমিটিতে পদ পেতে অনেকে তৎপর। মাদ্রাসাটির আবাসিক হলের অবস্থা জানতে চাইলে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রত্যাশী সাদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, ‘চব্বিশের ৫ আগস্টের পর বারবার আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমাদের লোকবল কমছিল। তাই আমাদের কিছু করার ছিল না। গত মঙ্গলবার শিবির কর্মীরা যখন বহিরাগতদের নিয়ে এসে ক্যাম্পাসে আমাদের ওপর হামলা করেন। মিডিয়ায় এই দৃশ্য দেখে আমাদের বড় ভাইয়েরা এগিয়ে আসেন। তখন শিবিরকর্মীরা পালিয়ে যান। হল এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। সেদিনের হামলায় আহত ছাত্রদলের অন্তত ১৪ জন এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’