আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেনের চাপের সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রা বাজারের গতিপ্রকৃতিও বদলাচ্ছে প্রতিদিন। আমদানি–রপ্তানি, প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক পরিশোধ ব্যবস্থার জন্য বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার এখন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচকে পরিণত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ ইউএস ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। ইউরোপীয় ইউরোর দর ১৪২ টাকা ৪০ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য ১৬৪ টাকা ১৮ পয়সা।
এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ডলার লেনদেন হচ্ছে ৮২ টাকা ৭৩ পয়সায়, কানাডিয়ান ডলার ৮৮ টাকা ৬ পয়সা এবং সিঙ্গাপুর ডলার ৯৪ টাকা ৯৫ পয়সায়। জাপানি ইয়েনের বিনিময় হার নির্ধারিত হয়েছে ৭৬ পয়সা এবং সুইডিশ ক্রোনা ১৩ টাকা ২৫ পয়সা।
এশীয় মুদ্রাগুলোর মধ্যে চীনা ইউয়ান রেনমিনবি আজ লেনদেন হচ্ছে ১৭ টাকা ৫৪ পয়সায়। ভারতীয় রুপির দর ১ টাকা ৩৫ পয়সা এবং শ্রীলঙ্কান রুপির মূল্য ২ টাকা ৫২ পয়সা।
মধ্যপ্রাচ্যের মুদ্রাগুলোর মধ্যে সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার ৩২ টাকা ৬৭ পয়সা, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ৩০ টাকা ২১ পয়সা এবং কুয়েতি দিনারের মূল্য সবচেয়ে বেশি—৩৯৮ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার এই বিনিময় হার আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয় ও প্রবাসী রেমিট্যান্সে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ফলে প্রতিদিনের মুদ্রা দর ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির গতিপথ বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
স্বামী এমপি প্রার্থী, স্ত্রী নির্বাচন পর্যবেক্ষক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমুহূর্তে ব্যতিক্রমী ও আলোচনার জন্ম দেওয়া একটি ঘটনা সামনে এসেছে। একদিকে স্বামী সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করছেন, অন্যদিকে স্ত্রী নিবন্ধিত হয়েছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে। স্বামী নির্বাচনী এলাকায় ভোটের প্রচারে ব্যস্ত থাকবেন, আর স্ত্রী পর্যবেক্ষণ করবেন পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া—এমন ঘটনাই এখন আলোচনায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী নাসরীন ফাতেমা আউয়াল নিবন্ধন নিয়েছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে।
নির্বাচনের আর ঠিক এক মাস বাকি। এরই মধ্যে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো জোটগতভাবে প্রচারণা শুরু করেছে। বিএনপি ও জামায়াত নির্বাচনে জয়ী হতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনও নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে ৮১টি সংস্থাকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এসব নিবন্ধিত সংস্থার তালিকায় রয়েছে নাসরীন ফাতেমা আউয়ালের নাম।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে ৩৩টি সংস্থা। এর মধ্যে সর্বশেষ নিবন্ধন পাওয়া সংস্থাগুলোর একটি হলো উইমেন এন্টারপ্রিনিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। এই সংস্থার চেয়ারপার্সন নাসরীন ফাতেমা আউয়াল। সংস্থাটির কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে ঢাকার বীর উত্তম সি আর দত্ত রোডের অ্যাংকর টাওয়ার উল্লেখ করা হয়েছে।
আব্দুল আউয়াল মিন্টু মূলত ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর চারদলীয় জোট সরকার গঠনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান, জেনারেল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক এবং মাল্টিমোড গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে তার স্ত্রী নাসরীন ফাতেমা আউয়াল নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে উইমেনস এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, এমপি প্রার্থীর স্ত্রী নির্বাচন পর্যবেক্ষক হলে আইনগত কোনো বাধা নেই। তবে বিষয়টি তার জানা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এনপিবি নিউজকে তিনি বলেন,
“নির্বাচন পর্যবেক্ষক হতে যে শর্তগুলো পূরণ করতে হয়, সেগুলো পূরণ করেই নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এমপি প্রার্থীর স্ত্রী পর্যবেক্ষক হতে আইনগত কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কে কোথায় নির্বাচন করছেন বা তার স্ত্রী কেন পর্যবেক্ষক হয়েছেন—তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই ভালো বলতে পারবেন।”
তবে নির্বাচন কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টিকে স্বার্থের সংঘাত হিসেবে দেখা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এনপিবি নিউজকে বলেন,
“নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতামতের ওপর ভিত্তি করেই নির্বাচনের মান ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারিত হয়। কোনো প্রার্থীর নিকটাত্মীয় যদি পর্যবেক্ষক হন এবং সেই প্রার্থী পরাজিত হন, তখন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বিরূপ মন্তব্য এলে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উইমেন এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়ালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
এদিকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক হওয়ার সুবিধা ও বাস্তবতা নিয়ে এক কলামে বর্তমান নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাখাওয়াত হোসেন লিখেছেন, বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলনামূলক নতুন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচন থেকেই মূলত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শুরু হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, ফেমা, ব্রতী, অধিকার, জানিপপ ও ডেমক্রেসিওয়াচের মতো সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এসব সংস্থা এশিয়া ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে এবং এনডিআই ও আইআরআইয়ের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় কাজ করেছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল।
তবে ২০০৮ সালের পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি কমে আসে। কারণ হিসেবে প্রাক্-নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে নেতিবাচক মূল্যায়নের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। আগামী নির্বাচনেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলগুলোর অংশগ্রহণ নির্ভর করবে নির্বাচন-পূর্ব পরিবেশ মূল্যায়নের ওপর।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমিরের জরুরি নির্দেশনা
দেশ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল সময় পার করছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও প্রজ্ঞা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল আচরণ করার এই বিশেষ আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন যে, অনেক ত্যাগ, তিতিক্ষা ও কোরবানির বিনিময়ে মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে দেশ ও সংগঠন আজ এই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। বর্তমান সময়কে তিনি জাতীয় জীবনের জন্য এক ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক’ হিসেবে অভিহিত করেন। এই সন্ধিক্ষণে আবেগের বশবর্তী না হয়ে প্রতিটি পদক্ষেপে প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়ার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
জামায়াত আমির তাঁর পোস্টে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই সময়ে কারও প্রতি কোনো ধরনের বিরূপ আচরণ বা প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড করা যাবে না। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংগঠনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করা। কোনো উস্কানিতে পা না দিয়ে বা শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে যেন কেউ সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক করে দেন।
এমন এক সময়ে ডা. শফিকুর রহমানের এই দিকনির্দেশনামূলক পোস্টটি এলো, যখন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং আসন ভাগাভাগি নিয়ে জোটের ভেতরে ও বাইরে নানা আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমিরের এই আহ্বান মূলত দলীয় কর্মীদের সংযত রাখা এবং যেকোনো উস্কানি মোকাবিলা করে শান্তিপূর্ণভাবে পরবর্তী ধাপগুলো অতিক্রম করার একটি কৌশলগত বার্তা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জামায়াতের প্রতিটি স্তরের কর্মী এই নাজুক সময়ে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর দেশ ও জাতির সেবায় সর্বদা নিয়োজিত: সেনাবাহিনী প্রধান
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বলেছেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দেশ ও জাতির সেবায় সর্বদা নিয়োজিত। আমাদের প্রধান লক্ষ্য সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়ানো।
বুধবার দুপুরে আশুলিয়ায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ‘বিএনসিসি’ অধিদপ্তরের ট্রেনিং একাডেমিতে বার্ষিক কেন্দ্রীয় ক্যাম্পিং-২০২৫/২৬ এর সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা রক্ষা ও দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে বিএনসিসি ক্যাডেটরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। একই সাথে তিনি সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে বিএনসিসি ক্যাডেটদের অগ্রণী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এই সংস্থার সকল সদস্যকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার উজ জামান কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এসময় বিভিন্ন কৃতি বিএনসিসি সদস্যদের পুরষ্কার তুলে দেন সেনা প্রধান। পরে প্যারেড গ্রাউন্ডে মনোজ্ঞ ডিসপ্লে পরিবেশন করে বিএনসিসি ক্যাডেটরা।
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর সামরিক সচিব, ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিএনসিসি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিরতি কাটিয়ে আবারও এক হচ্ছেন রাজ-মিম
সরকারি অনুদানে নির্মিত আলভী আহমেদের ‘জীবন অপেরা’ সিনেমার মধ্য দিয়ে আবারও বড় পর্দায় জুটি বাধছেন শরীফুল রাজ ও বিদ্যা সিনহা মিম। এর আগে রায়হান রাফির ব্যবসাসফল ছবি ‘পরাণ’-এ অভিনয় করে এই জুটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে একই নির্মাতার ‘দামাল’ সিনেমাতেও দ্বিতীয়বারের মতো জুটি বাধেন তারা। কিন্তু এরপর আর কোনো সিনেমায় একসঙ্গে দেখা যায়নি দুজনকে।
মাঝে কবছর বিরতির পর এই জুটির আবারও রুপালি পর্দায় ফেরা প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র সমালোচকদের একাংশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় উঠে আসছে একটি বিষয়- শরীফুল রাজের জীবনে এখন আর নেই পরীমনি। অনেকের মতে, রাজের ব্যক্তিগত জীবনে সেই অধ্যায় শেষ হওয়ার প্রেক্ষিতেই নিজের অবস্থান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিম।
এর আগে রাজ-মিম জুটির প্রথম দুই ছবি মুক্তির পর তাদের রসায়ন চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। ‘পরাণ’ মুক্তির পর পর্দার বাইরেও রাজ ও মিমের বন্ধুত্ব নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। ‘দামাল’ সিনেমার স্বত্ব সিয়াম আহমেদের সঙ্গে যৌথভাবে কেনার পর সেই সম্পর্ক ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
তখন রাজের সাবেক স্ত্রী চিত্রনায়িকা পরীমনি তখন প্রকাশ্যে দাবি করেন, রাজ ও মিমের ঘনিষ্ঠতা তার সংসারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিমকে নিয়ে কটূক্তির ঘটনাও ঘটে।
এ পরিস্থিতিতে সংসারে অশান্তি না চাওয়ায় এবং বিতর্ক এড়াতেই রাজের সঙ্গে আর সিনেমা না করার সিদ্ধান্ত নেন মিম। দুই সিনেমার পর সেখানেই থেমে যায় জনপ্রিয় এই জুটির পথচলা। পরবর্তী সময়ে রাজ ও পরীমনির সম্পর্কও টেকেনি। ২০২১ সালের অক্টোবরে প্রেম করে বিয়ে করা এই দম্পতির বিচ্ছেদ কার্যকর হয় ২০২৩ সালের শেষ দিকে।
চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, রাজের জীবনে পরীমনির অধ্যায় শেষ হওয়ায় পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও নতুন বাস্তবতার কারণেই আবারও একসঙ্গে সিনেমায় কাজ করতে যাচ্ছেন পর্দার আলোচিত এই জুটি।
‘জীবন অপেরা’র নির্মাতা আলভী আহমেদ নিশ্চিত করেছেন, রাজ ও মিম- দুজনের সঙ্গেই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং ঈদুল ফিতরের পর ছবির শুটিং শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
মাত্র ৫ মিনিটে লিভার ও কিডনির স্বাস্থ্য রক্ষা করুন এই সহজ ঘরোয়া উপায়ে!
লিভার ও কিডনি আমাদের দেহের প্রাকৃতিক ডিটক্স মেশিন। প্রতিদিন তারা টক্সিন বের করে, পুষ্টি প্রক্রিয়াজাত করে এবং শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে। তবে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, প্রক্রিয়াজাত খাবার, পানিশূন্যতা ও অনিয়মিত জীবনযাপন এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর কার্যক্ষমতাকে ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়। ভালো খবর হলো, প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিট সময় ব্যয় করেই এই অঙ্গগুলোকে সুস্থ রাখা সম্ভব।
পেট ম্যাসাজ করুন, রক্তসঞ্চালন ও ডিটক্স প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে। ডান পাশে লিভারের অংশে হাত রেখে দুই মিনিট হালকা বৃত্তাকার ম্যাসাজ করুন। এরপর কিডনি অঞ্চলে ধীরে ধীরে হাত নিয়ে হালকা চাপ দিয়ে ম্যাসাজ করুন। ধীরে নিঃশ্বাস নিতে করতে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। এটি রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে।
হালকা গরম পানিতে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে গার্গল করুন। হলুদে থাকা কারকিউমিন উপাদান প্রদাহ কমায়, লিভার রক্ষা করে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।
লিভারের ওপর ক্যাস্টর অয়েল প্যাক দিন। একটি তুলো বা নরম কাপড়ে ঠান্ডা প্রেসড ক্যাস্টর অয়েল ভিজিয়ে ডান পাশে পেটের ওপর রাখুন। তার ওপর গরম তোয়ালে বা হিটিং প্যাড দিন। পাঁচ মিনিটেই এটি লিভারের পিত্ত প্রবাহ বাড়ায়, প্রদাহ কমায় এবং সেল রিজেনারেশন সহায়ক।
অ্যাকুপ্রেশার পয়েন্টে হালকা চাপ দিন। পায়ের বড় আঙুল ও পাশের আঙুলের মধ্যে LV3 পয়েন্টে চাপ দিয়ে লিভারের শক্তি প্রবাহ সচল করুন। KD1 পয়েন্টে পায়ের তলার নিচের দিকে চাপ দিয়ে কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়ান ও ক্লান্তি কমান।
মৌরি চিবিয়ে খাওয়াও লিভার ও কিডনি ডিটক্সে কার্যকর। অর্ধ চা চামচ মৌরি চিবিয়ে খেলে লিভারের পিত্ত নিঃসরণ বৃদ্ধি পায় এবং কিডনির মাধ্যমে টক্সিন বের হয়। আরও ভালো ফলের জন্য রাতে মৌরি পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করতে পারেন।
শরীরকে সুস্থ রাখতে বড় সিদ্ধান্তের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিট নিয়মিত এই ছোট ছোট ঘরোয়া অভ্যাসগুলো অনুসরণ করলে লিভার ও কিডনিকে সুস্থ রাখা সম্ভব এবং বড় অসুস্থতা প্রতিরোধ করা যায়।
শীতে হিটার ছাড়াও ঘর উষ্ণ রাখা সম্ভব, জানুন কীভাবে
শীত বাড়লে বাড়ির বয়স্কদের জন্য ঘর গরম রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। যদিও অনেকেই বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করেন, তবে হিটার ব্যবহার না করে ও ঘর উষ্ণ রাখা সম্ভব। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খরচ বা স্বাস্থ্যজনিত কারণে হিটার ব্যবহার করতে অনিচ্ছুক পরিবারগুলোর জন্য কিছু সহজ কৌশল রয়েছে।
ঘর উষ্ণ রাখার পাঁচটি কার্যকর কৌশল:
রোদের ব্যবহার: সকালে সূর্যের আলো সরাসরি ঘরে ঢুকলে দেয়াল ও মেঝে ধীরে ধীরে গরম হয়। দুপুরে রোদের তেজ কমলে জানালা ও পর্দা বন্ধ রাখলে উষ্ণতা ঘরে ধরে থাকে।
ঘরে ছোট ফাঁক বন্ধ করা: দরজা ও জানালার নিচে ছোট ফাঁক থাকলে ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করে। পুরোনো তোয়ালে বা মোটা কাপড় দিয়ে ফাঁকগুলো বন্ধ করলে ঘরের তাপমাত্রা ধরে রাখা যায়।
গালিচা ব্যবহার: খালি মেঝে থেকে ঠান্ডা উঠে আসে। কার্পেট, মোটা গালিচা বা পাটের দড়ি দিয়ে তৈরি মাদুর বিছিয়ে রাখলে পায়ের তলায় ঠান্ডা কম লাগে এবং ঘর উষ্ণ থাকে।
রান্নাঘর উষ্ণ রাখা: রান্নার সময় গ্যাসের আগুন ও গরম পানি থেকে তাপ সৃষ্টি হয়। রান্নাঘরের দরজা খোলা রাখলে উষ্ণতা ঘরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। হেঁশেলের জানালা বন্ধ রাখলে তাপ বাইরে বের হয় না।
বিছানা উষ্ণ রাখা: মোটা কম্বল ও স্তরযুক্ত চাদর ব্যবহার করলে বিছানা গরম থাকে। ভেতরের উষ্ণতা বাইরে চলে যায় না এবং বাইরের ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করতে পারে না।
এমএস রডের দাম বাড়ছে
বিশ্ববাজারে লোহার স্ক্র্যাপের (কাঁচামাল) দাম নতুন করে বাড়তে শুরু করায় বাংলাদেশে মাইল্ড স্টিল (এমএস) রডের দাম বাড়তে শুরু করেছে। কাঁচামাল আমদানিতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় রি-রোলিং মিলগুলো দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে, যা আবাসন নির্মাতা ও ঠিকাদারদের মধ্যে নির্মাণ ব্যয় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
উদ্যোক্তারা জানান, গত এক সপ্তাহে আমদানিকৃত স্ক্র্যাপের দাম টনপ্রতি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ডলার বেড়েছে। এর মাধ্যমে গত এক বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার যে দীর্ঘ প্রবণতা ছিল, তাতে পরিবর্তন এলো। আমদানিতে অতিরিক্ত এই ব্যয় এখন স্থানীয় বাজারেও প্রভাব ফেলছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশকিছু ছোট ও মাঝারি মিল ইতোমধ্যে রডের দাম টনপ্রতি ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে।
জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারদর পর্যালোচনাকারী সংস্থা আর্গাস-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালীন মন্দার সময় তুরস্কে হেভি মেল্টিং স্টিল (এইচএমএস) ১/২ (৮০:২০) স্ক্র্যাপের দাম টনপ্রতি প্রায় ৩৩৬ ডলারে নেমে এসেছিল। তবে ডিসেম্বরের শুরুতে তা আবার ৩৬০-৩৭০ ডলারের ঘরে পৌঁছেছে। সমুদ্রপথে স্ক্র্যাপ আমদানিতে তুরস্ক বিশ্বের বৃহত্তম দেশ হওয়ায় তারাই মূলত বিশ্ববাজারের দামের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্কের নতুন করে কেনাকাটা শুরু করা এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় শীতকালীন সরবরাহ বিঘিœত হওয়ার কারণে বাজারে স্ক্র্যাপের সংকট তৈরি হয়েছে। এতে দাম বেড়ে গেছে। করোনাকালে বিশ্বব্যাপী স্ক্র্যাপের সংকটের সময় বাংলাদেশে প্রিমিয়াম গ্রেডের রডের দাম টনপ্রতি সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
যে হারে মহার্ঘ ভাতা পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা
নতুন পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়লেও বেতন কাঠামো ঘোষণার অপেক্ষায় থাকাকালীন সময়েও সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, যা চলমান মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দেওয়ার ভরসা হয়ে উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্ট করেছে, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই বহাল থাকবে।
আর্থিক সংকট ও ঘনিয়ে আসা জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে স্কেল ঘোষণার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও এ উদ্দেশ্যে গঠিত পে কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। বরং কমিশনকে কাজ চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করা যায়। সরকারের মেয়াদে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা সম্ভব না হলেও কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে, যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সময়ের স্বল্পতা ও ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির কারণে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নতুন পে স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পে কমিশনকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে এবং সেখানে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সময় উপযোগী একটি বেতন কাঠামো প্রণয়নই সরকারের লক্ষ্য, তবে নির্বাচন প্রস্তুতির কারণে সময় পাওয়া গেলে তবেই তা ঘোষণা করা সম্ভব হবে। বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে নতুন সরকারের ওপর।
পে কমিশনের প্রতিবেদনে শুধু বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব নয়, বরং লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, আবাসন ও শিক্ষা ব্যয়কে প্রধান সূচক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই পূর্ণাঙ্গ কাঠামোই ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বেতন নির্ধারণের মূল রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এই সুপারিশের ভিত্তিতে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গঠিত হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগেই প্রায় সমাপ্ত হবে।
ঢাবি শিক্ষক লাঞ্ছিত সংস্কারের নমুনা এটাই কি?
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এক ইউপি সদস্যের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। একসময় আওয়ামী লীগের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত ওই জনপ্রতিনিধিকে এখন জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড সভাপতির দায়িত্বে দেখা যাচ্ছে। তিনি উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান।
স্থানীয়রা জানান, শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিয়মিত অংশ নিতেন দলীয় সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচিতে। তবে দলীয় কমিটিতে, ২০১৯ সালের ১০ মার্চ অনুমোদিত খাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ৩১ নম্বর সদস্য ছিলেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে তাকে সরাসরি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এ ব্যাপারে বর্তমান জামায়েত ইসলামী নেতা ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, আমি আগে মেম্বার ছিলাম, এখনো আছি। সে হিসেবে হয়তো আমাকে আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে নাম দিয়ে রাখা হয়েছে। যখন যে সরকার থাকে, আমাদেরকে সাধারণত তার সাথেই থাকতে হয়। কে কখন নাম বসিয়েছে, এ বিষয়ে আমি জানি না।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা। অনেকের অভিযোগ, অতীতের কর্মকাণ্ড ও বিতর্ক এড়াতেই তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। এতে ইউনিয়নজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
কসবা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির পীরজাদা শিবলী নোমানী জানান, মিজান মেম্বার যে আওয়ামী লীগের সদস্য—এ বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম না। আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। যদি এলাকাবাসীর কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদর্শের রাজনীতির পরিবর্তে সুবিধাবাদী অবস্থান পরিবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে আস্থার সংকট তৈরি করছে। এখন দেখার বিষয়, এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলো কী সিদ্ধান্ত নেয়।


