Home Blog Page 222

শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ ও সহনশীল নেতৃত্ব গড়ার আহ্বান

শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ, সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সহনশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন ও সহনশীলতার অভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সংকট থেকে উত্তরণে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামীর প্রশাসক, শিক্ষক, চিকিৎসক ও নীতিনির্ধারক তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির (বিইউ) তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাপ্রাঙ্গণ কনভেনশন হলে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট ৫,৯০৩ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৫,২২৪ জন স্নাতক এবং ৬৭৯ জন স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দেশকে নতুনভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে। তবে শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অন্যান্য নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এ নির্বাচনে তরুণদের শুধু সরকার গঠন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি ও কাঠামো নির্ধারণেও ভূমিকা রাখতে হবে। গণঅভ্যুত্থানে প্রকাশিত সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকার গণভোটে হ্যাঁ–না ভোটের উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্কার না হলে পুরোনো ব্যবস্থা ফিরে আসতে পারে—এ কারণে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাছ, ডিম, দুধ ও মাংস মানুষের পুষ্টির প্রধান উৎস হলেও এখনও সবাই তা নিয়মিত পাচ্ছে না। ঘাটতি পূরণের নামে মাংস আমদানি দেশের প্রান্তিক খামারিদের ক্ষতিগ্রস্ত করে; তাই সরকার দেশীয় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি উৎপাদন বাড়াতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ ও নদী–নালা, খাল–বিল ভরাটের ফলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অতিরিক্ত ও অবৈধ আহরণের কারণে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের তুলনায় সমুদ্রে মাছের পরিমাণ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হ্রাস পেয়েছে।

উপদেষ্টা তরুণদের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধূমপান হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকসহ নানা অসংক্রামক রোগের প্রধান কারণ। আইন প্রয়োগের অপেক্ষা না করে আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজেকে ও সমাজকে রক্ষা করতে হবে।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুরু হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। ডিগ্রি প্রার্থীদের উপস্থাপন করেন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নূরুর রহমান খান, ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম এবং কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানে কনভোকেশন মার্শাল ছিলেন আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষক আনিকা হাবিব।

সমাবর্তন বক্তার বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজ বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছে দেশের প্রত্যাশা অনেক। বাবা-মা, শিক্ষক এবং পুরো দেশ তাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি বলেন, শিক্ষিত ও আলোকিত মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব হলো ভালো ও মন্দের পার্থক্য আরও গভীরভাবে ও দক্ষতার সঙ্গে অনুধাবন করা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠলে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাজপথে নেমে আসে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কাজী জামিল আজহারের অনুপস্থিতিতে তাঁর বক্তব্য পড়ে শোনান ট্রাস্টিজ সদস্য ডা. সাগুপ্তা মাহমুদ। তিনি বলেন, সমাবর্তন শিক্ষাজীবনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং জীবনের এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে উত্তরণের মুহূর্ত। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি দায়িত্বেরও সূচনা। গ্রাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এটি কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে অর্জিত একাডেমিক সাফল্যের উদযাপন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আজ শিক্ষার্থীরা কেবল একটি ডিগ্রি নয়, ভবিষ্যতে দেশ গড়ার দায়িত্বও গ্রহণ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আজকের গ্রাজুয়েটরা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে এর মর্যাদা সমুন্নত রাখবে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নে উৎকর্ষতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার সাজেদ-উল-ইসলাম। তিনি সমাবর্তন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পেছনে অভিভাবকদের নীরব সমর্থনের প্রশংসা করেন।

সমাবর্তনে আরও উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সেক্রেটারি ইঞ্জি. এম. এ. গোলাম দস্তগীর, সদস্য কাজী মোজাহার আলী, ইঞ্জি. মশিহ্ উর রহমান, ডা. ওয়াহিউদ্দিন মাহমুদ, ইঞ্জি. মুশফিকুর রহমান, স্থপতি ইকবাল হাবিব, অ্যাডভোকেট শারমীন আহমেদ মজুমদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মাহবুবুল হক, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যগণ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

সমাবর্তনে স্নাতক পর্যায়ে চ্যান্সেলর’স গোল্ড মেডেল লাভ করেন খলিলুর রহমান। কাজী আজহার আলী গোল্ড মেডেল পান নুসরাত কবির বৃষ্টি। ভাইস-চ্যান্সেলর’স গোল্ড মেডেল পান শায়েকা লাওলাক, তাজিবা আফরিন ও তানিয়া আক্তার।

একাডেমিক ফলাফলের ভিত্তিতে ডিন’স অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে রয়েছেন মৌমিতা ভৌমিক সুপ্তি, মোসা. জান্নাতি খাতুন, মো. তারিকুল ইসলাম, প্রিনন মাহদী, মো. মাহমুদ চৌধুরী, দেবারতি ভট্টাচার্য, রাজিয়া খাতুন তুন্না, মরহুম মিতু ফকির, লামিয়া চৌধুরী ও উম্মে হাবিবা শারমিন। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পান মো. শাহিনুজ্জামান, জান্নাতুল ইসলাম ও নিশাত কাদের। অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করেন চ্যান্সেলর’স গোল্ড মেডেলপ্রাপ্ত খলিলুর রহমান।

সমাবর্তনের মূল আয়োজন শেষে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে শিক্ষার্থীরা নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে আনন্দ উদযাপন করে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ইঁদুর আখ্যায়িত করে ধানের শীষের পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট কাটার ঘোষণা বিএনপি নেতার

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ৯ নম্বর মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম মিন্টু বলেছেন, ‘যে ইউনিয়নের সভাপতি হতে পারে, সে ২৮-২৯ হাজার ভোট কাটারও ক্ষমতা রাখে, যে ব্যক্তি চেয়ারে বসতে পারে, সে তার যোগ্যতাই চেয়ারে আসে। আমরা মজিদপুরে ধানের শীষে ১০০ থেকে ১০০ পাশ করামু, ইনশাআল্লাহ।’
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার দুধঘাটা সরকার বাজারে মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের সামনে মরহুমা খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের প্রস্তুতি সভায় দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। প্রায় ৩ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে এসব কথা বলতে শোনা যায় তাকে।
মিন্টু বলেন, ‘অগোচোরে বলে চেয়ারে বইয়া যে মজিদপুর ইউনিয়নে যে সভাপতি হইছে ১০০ ভোট দেওয়ার ক্ষমতা নাই, যে বেডায় সভাপতি হইতে পারে হেই বেডায় ২৮-২৯ হাজার ভোট কাটার শক্তিও রাখে। যে বেডায় চেয়ারে বইতারে তার যোগ্যতাই চেয়ার আসে। আমি চাই এ ধানের শীষ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়ার না, এই ধানের শীষ হলো খালেদা জিয়ার এবং তারেক জিয়ার, এই ধানের শীষ আমরা মজিদপুর ইউনিয়নে ১০০ থেকে ১০০ পাশ করমু, আপনারা নিশ্চিত থকেন ইনশাআল্লাহ।’
ভিডিওতে মিন্টু আরও বলেন, ‘ইঁদুর যদি এখন বাইরে মাঠে দেখবেন, ২০/২২ তারিখের পর থেকে দেখবেন ইঁদুর কই যায়। আপনারা নিশ্চিত থাকেন এই ইঁদুর মাঠে নামতে পারবে না, মাঠে নামতে পারলেতো আওয়ামী লীগই নামতে পারে। আরে আমরা স্বতন্ত্র কিয়ের মাঠে নামলে মানে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ যদি এখনো নামতারে তইলে আমরা বাইত ঘুমাই কেনতে। তারা বাইত ঘুমানের টাইমও নাই, নামার টাইমও নাই, আমি ক্লিয়ার বলতে চাই এখনো সাবধান আমরা ধানের শীষ লইয়া মাঠে আছি, যদি আমগো লগে প্রমাণ করতে হয় ২২ তারিখের পরে আমার মজিদপুর ইউনিয়নে জবাব দেওয়ার শক্তি রাখি।’
আরও বলেন, ‘আমরা যে ধানের শীষ লইয়া বাইরছি, আমরা ধানের শীষ আনমু ইনশাআল্লাহ, দোয়া করবেন। আমরা কোনো স্বতন্ত্র না, আওয়ামী লীগ না, বাটপারি না। আমি মজিদপুর ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে ইন্টেক ক্লিয়ারভাবে বলতে চাই যেতো রংয়ের যেতো মুস্তানই আসে সামনে আইলে সব শেষ।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আক্তার বেপারী, মো. আশরাফুল আলম, ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জসিম, উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হেলাল ভূঁইয়া, মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইদুল ইসলাম সরকার বিজয় ও সাধারণ সম্পাদক তন্ময় হাসান কাজলসহ অনেকেই। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

টিসিবি স্মার্ট কার্ডে পণ্যপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা: সরিষাবাড়ীতে খুশি সাড়ে ১২ হাজার পরিবার

সারাদেশব্যাপী স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। পূর্বে টিসিবির পণ্য বিতরণে ডিলার ও কিছু অসাধু ব্যক্তির তৎপরতায় অনেক উপকারভোগীর পণ্য না পাওয়ার অভিযোগ থাকলেও ২০২৫ সাল থেকে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিতরণ শুরু হওয়ায় তেমন কোনো অভিযোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ডিলার ও সচেতন মহল। এতে একদিকে যেমন বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরেছে, অন্যদিকে উপকারভোগীরা পেয়েছেন পণ্যপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা। ফলে সঠিকভাবে পণ্য পেয়ে খুশি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ১২ হাজার ৪১৯টি পরিবার।

জানা যায়, টিসিবির পণ্য বিতরণ কার্যক্রম ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে হাতে লেখা ফ্যামিলি কার্ড থেকে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডে স্থানান্তরের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে নতুন স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিতরণ শুরু হয়। বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৫০–৫৫ লাখ পরিবার এ সুবিধার আওতায় রয়েছে, যা আগের প্রায় এক কোটি কার্ডধারীর তুলনায় কম। এর ফলে হাতে লেখা ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মধ্যে প্রায় ৪৩ লাখ কার্ডধারী এই সুবিধা থেকে বাদ পড়ে যান এবং বর্তমানে শুধুমাত্র স্মার্ট কার্ডধারীরাই পণ্য পাচ্ছেন।

সরিষাবাড়ী উপজেলায় পূর্বে ২৮ হাজার ৬০৩ জন উপকারভোগী এ সুবিধার আওতায় থাকলেও স্মার্ট কার্ড কার্যক্রম চালু হওয়ার পর সিংহভাগ উপকারভোগী বাদ পড়ে যান। বর্তমানে উপজেলায় ১২ হাজার ৪১৯ জন উপকারভোগী স্মার্ট কার্ডের আওতায় থাকলেও এখনো ১৬ হাজার ১৮৪ জন উপকারভোগী এর আওতার বাইরে রয়ে গেছেন। এ অবস্থায় সকল প্রকৃত উপকারভোগীকে দ্রুত স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে উপকারভোগীরা জানান, আগে হাতে লেখা কার্ডে কখনো পণ্য পাওয়া যেত, কখনো পাওয়া যেত না—অনেক সময় অন্য কেউ তাদের পণ্য তুলে নিত। বর্তমানে সে সমস্যা আর নেই। কার্ডধারী ছাড়া অন্য কেউ পণ্য তুলতে পারে না। কোনো উপকারভোগী যদি কোনো মাসে পণ্য তুলতে না পারেন, তবে তিনি পরবর্তী মাসে তা তুলতে পারেন—অন্য কেউ তা আত্মসাৎ করতে পারে না।

এ বিষয়ে ডিলার মো. রেদোয়ান আহম্মেদ সুমন, খাইরুল ইসলাম পরান, মঞ্জুরুল হাসান মিন্টু, সেলিম রেজা মিলন ও আল আমিন মিলু জানান, স্মার্ট কার্ড উপকারভোগীদের পণ্যপ্রাপ্তির শতভাগ নিশ্চয়তা নিশ্চিত করেছে। স্মার্ট কার্ড ছাড়া কেউ পণ্য তুলতে পারে না। ডিজিটাল সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করে ভেরিফিকেশনের পর পণ্য বিক্রয় সম্পন্ন হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে বিক্রয় হিসাব অনুযায়ী তালিকা প্রস্তুত হয়।

তারা আরও জানান, কোনো মাসে যদি ১০ জন উপকারভোগী কোনো কারণে পণ্য উত্তোলন করতে না পারেন, তবে ওই ১০ জনের পণ্য উত্তোলন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী মাসে নতুন বরাদ্দ আসে না। ফলে কোনো কার্ডধারীর পণ্য সংশ্লিষ্ট ডিলার বা অন্য কারও আত্মসাৎ করার কোনো সুযোগ নেই।

জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছেন তারেক রহমান!

জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়াতে সুদূরপ্রসারী এক পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ খোলা হবে।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন আর ২০২৪-এর ছাত্র-জনতা সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপিই প্রথম মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল। ঠিক একইভাবে চব্বিশের বিপ্লবীদের আত্মত্যাগকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে তাঁর দল অঙ্গীকারবদ্ধ। এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের নয়, বরং অধিকারহারা সাধারণ মানুষের আন্দোলন ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জুলাই গণহত্যায় শহীদ হওয়া ১৪০০-এর বেশি মানুষ এবং আহত ৩০ হাজার যোদ্ধার জন্য দুটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির কথা জানান তারেক রহমান। প্রথমত, রাষ্ট্রীয় খরচে আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং দ্বিতীয়ত, শহীদ পরিবার ও শারীরিক সক্ষমতা হারানো ব্যক্তিদের যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের অধিকার নিশ্চিত করা। তিনি বিশেষভাবে ৫০০ জন যোদ্ধার কথা উল্লেখ করেন যারা অন্ধত্ব বরণ করেছেন এবং তাদের প্রতি রাষ্ট্রের ঋণের কথা মনে করিয়ে দেন।

বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেড় দশকের ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা না যায়, তবে সাধারণ মানুষকে এমন নির্মম শোকগাথা বারবার বয়ে বেড়াতে হবে। তাই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে এবং সব শহীদের রক্তঋণ শোধ করতে আগামী নির্বাচনে গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

আজ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সাক্ষাৎ করবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকটি হবে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যুমনায়।
জামায়াতের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত থাকবেন আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে আরও চার সদস্য। দলের অন্য সদস্যরা হলেন: নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতের শেষ বৈঠক হয়েছিল গত বছরের অক্টোবর মাসে। এই বৈঠকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজকের এই বৈঠককে রাজনৈতিক মহল এবং সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা নজর রাখছেন, কারণ এটি দলের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের দিক নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শীতার্ত মানুষের পাশে চার ব্যান্ড

শীতার্ত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণের তহবিল সংগ্রহে আয়োজন করা হয়েছে একটি বিশেষ চ্যারিটি কনসার্ট। ‘কুয়াশার গান’ শিরোনামের এই আউটডোর কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। কনসার্টটির আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও স্পিরিটস অব জুলাই। এই কনসার্টে পারফর্ম করবে দেশের জনপ্রিয় চারটি ব্যান্ড।
এগুলো হচ্ছে চিরকুট, আভাস, অ্যাশেজ ও কৃষ্ণপক্ষ। এদিন সন্ধ্যা ৬টায় মঞ্চে উঠবে কৃষ্ণপক্ষ। সন্ধ্যা ৭টায় আভাস, রাত ৮টায় চিরকুট এবং রাত সাড়ে ৯টা থেকে অ্যাশেজের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে কনসার্টের সমাপ্তি ঘটবে।
আয়োজকরা জানান, এটি একটি সম্পূর্ণ মানবিক ও দাতব্য আয়োজন, যার মূল উদ্দেশ্য শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কনসার্ট থেকে সংগৃহীত অর্থ শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণে ব্যয় করা হবে।
এর আগেও শীতার্ত মানুষের সহায়তায় সংগীতের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ১১ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘সুরে বোনা সোয়েটার’ শীর্ষক আরেকটি চ্যারিটি কনসার্ট।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি ব্যান্ড সোসাইটি আয়োজিত ওই কনসার্টে আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি নতুন ও পুরোনো কাপড় এবং কম্বল সংগ্রহ করা হয়।

এই ৫টি লক্ষণ জানাবে আপনার শরীরে বাড়ছে ইউরিক অ্যাসিড!

শরীরে ইউরিক অ্যাসিড অতিরিক্ত জমে গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে গেঁটে বাত, জয়েন্টে ব্যথা, কিডনির সমস্যা এমনকি হার্টের রোগের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি নীরবে বাড়তে থাকে, তাই প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেই টের পান না। তবে কিছু প্রাথমিক লক্ষণ রয়েছে, যেগুলি দেখে সতর্ক হওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকেতগুলোকে অবহেলা করলে ভবিষ্যতে গুরুতর রোগের আশঙ্কা থাকে।

প্রথমত, হঠাৎ পায়ের আঙুল বা গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা ও ফোলা দেখা দিলে তা গেঁটে বাতের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। ইউরিক অ্যাসিড জমে জয়েন্টে প্রদাহ ও স্ফীতি তৈরি করে, যার ফলে তীব্র যন্ত্রণা হয়। দ্বিতীয়ত, ঘন ঘন প্রস্রাবের অনুভূতি এবং প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া দেখা দিলে এটি কিডনিতে ইউরিক অ্যাসিড স্ফটিক জমার ইঙ্গিত হতে পারে, যা কিডনির পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়। তৃতীয়ত, ত্বকে চুলকানি বা ফুসকুড়ি দেখা দেওয়াও ইউরিক অ্যাসিডের কারণে হতে পারে। অনেক সময় মানুষ একে সাধারণ অ্যালার্জি মনে করে এড়িয়ে যান, যা বিপজ্জনক হতে পারে। চতুর্থত, সারাদিন ক্লান্তি ও হালকা ব্যথা অনুভব করাও ইউরিক অ্যাসিডের নীরব সংকেত হতে পারে, কারণ এটি কোষে প্রদাহ তৈরি করে শরীরকে দুর্বল করে। পঞ্চমত, রাতে ঘুমের সময় জয়েন্টে টান বা ব্যথা, বিশেষ করে পায়ের অংশে, ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার প্রাথমিক চিহ্ন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে রক্ত পরীক্ষা করে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সঠিক ডায়েট মেনে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং কিছু খাবার এড়িয়ে চলার মাধ্যমে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ঘরোয়া উপায়ে বাড়ান ত্বকের উজ্জ্বলতা

উজ্জ্বল, দাগহীন, কোমল ও মসৃণ ত্বক আমাদের কার না ভালো লাগে? ধুলাবালি, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য আমাদের ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যায়। দৈনন্দিন জীবনে কাজের চাপে অথবা সময়ের অভাবে বেশির ভাগ সময় আমরা পার্লারে যেতে পারিনা তাই আজকে জেনে নেওয়া যাক ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করা যায়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ত্বকের যত্নে বিভিন্ন ঘরোয়া ফেসপ্যাকের কার্যকারিতা-

মধু ও লেবুর ফেসপ্যাক

এক চা চামচ মধুর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বক পরিষ্কার করে ও দাগ হালকা করতে সাহায্য করে।

বেসন ও হলুদের ফেসপ্যাক

দুই চা চামচ বেসনের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ ও প্রয়োজনমতো দুধ বা পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং ব্রণ কমে।

শসা ও অ্যালোভেরা ফেসপ্যাক

শসার রস ও অ্যালোভেরা জেল সমপরিমাণে মিশিয়ে মুখে লাগান। এটি ত্বক ঠান্ডা রাখে এবং শুষ্কতা দূর করে। শসা ও অ্যালোভেরার ফেসপ্যাক ত্বকের পোড়া দাগ কমিয়ে ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল করে।

কলা ও দইয়ের ফেসপ্যাক

পাকা কলা চটকে এক চা চামচ দই মিশিয়ে নিন। ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে ত্বক হয় নরম ও মসৃণ। ত্বক উজ্জ্বলতা বাড়াতে কলা ও দইয়ের ফেসপ্যাক কার্যকর ভূমিকা রাখে।

শীতকালেও সবজির বাজার ঊর্ধ্বমুখী, বাজারে ভোগান্তিতে ক্রেতারা

কয়েক দিন ধরেই চুয়াডাঙ্গায় শীতকালীন সবজির বাজার ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। ক্রেতারা বাধ্য হয়েই বেশি দামে সবজি ক্রয় করছেন।

শনিবার সকালে চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার পাইকারি সবজির বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

প্রায় ২ সপ্তাহ ধরে চুয়াডাঙ্গায় শীতকালীন সবজির বাজার বাড়তি। যার কারণে ক্রেতারা তাদের প্রয়োজনীয় সবজি ক্রয় করতে পারছেন না। বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১শ টাকা, উস্তে ৭০ টাকা, আলু ২২ টাকা, সিম ৩৫ টাকা, ফুলকপি ৩৫ টাকা, পাতাকপি ১৮ টাকা, মুলা ৩৫ টাকা, আদা ১৬০ টাকা, রসুন ৭০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, শসা ১০০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এ সকল সবজি ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

মাংসের বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। শীতকালে মাছ কম আমদানি হওয়ায় বাজারদর কিছুটা বাড়তি। প্রতি কেজি বয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৪০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০টাকা ও খাসির মাংস ১১০০ টাকা দরে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে বাজারে। মাছের আকার ভেদে ১২০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে দেশি মাছ।

চুয়াডাঙ্গা পোষ্ট অফিস পাড়ার আহসান খান জানান, বাজারে সবজির দাম অনেক বেশি। কয়েক দিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচ কেজিতে ৬০ টাকা বেড়েছে। অন্য সবজির গায়ে হাত দেওয়া বেশ কঠিন। তাই অল্প অল্প করে সবজি কিনলাম।

চুয়াডাঙ্গা পলাশপাড়ার হারুন বলেন, এ সময় পাতাকপি-ফুলকপি বাজারে বিক্রি হয়না, কৃষকরা গরু-ছাগল দিয়ে খাওয়ায়। এখন ফুলকপি খুচরা বাজারে ৪০ টাকা কেজি ও পাতাকপি ২৫ টাকা কেজিতে নিতে হচ্ছে। বাজার করতে গিয়ে আমাদের মত অল্প আয়ের মানুষদের অবস্থা নাজেহাল।

চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারের আড়তদার বাতেন মিয়া জানান, বাজারে সবজির চাহিদা থাকলেও আমদানি তুলনামূলক কম। যার কারণে দাম কিছুটা বাড়তি। মাঠে সবজি নেই বললেই চলে। আমদানি বাড়লে বাজার স্বাভাবিক হবে।

দেশে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড!

বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দর বাড়ার প্রভাব দেশের বাজারেও দেখা দিয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ হাজার ৬২৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে। এই নতুন দাম শনিবার (১৭ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে ২২ ক্যারেটের (পিওর গোল্ড) স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম এখন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। যা বুধবার ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা (আগের দিন ২ লাখ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকা), ১৮ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা (আগের দিন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকা), এবং সনাতন পদ্ধতিতে স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা (আগের দিন ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকা)।

বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

পরবর্তী সিদ্ধান্ত না জানানো পর্যন্ত এই দাম সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর থাকবে।