Home Blog Page 223

শীতে আদা-লেবুর চা কেন উপকারী?

শীতকালে গরম পানীয়ের প্রতি ঝোঁক স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। দুধ চা ও কফি জনপ্রিয় হলেও অনেকেই এ সময় হালকা ও শরীরবান্ধব ভেষজ পানীয় বেছে নেন। আদা-লেবুর চা তেমনই একটি পানীয়, যা স্বাদে সতেজ ও শরীরের জন্য আরামদায়ক।

সহজ উপাদানে তৈরি এই চা শীতের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সহজেই মানিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিতভাবে আদা-লেবুর চা পান করলে শীতকালে শরীর সুস্থ রাখতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সকালে কিংবা ঠান্ডা সন্ধ্যায়—যে কোনো সময়েই এই পানীয় উপকারী হতে পারে।

শরীর উষ্ণ রাখতে সহায়ক

আদা প্রাকৃতিকভাবে শরীরের তাপমাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা উষ্ণতাবর্ধক উপাদান রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং শরীরে ভেতর থেকে উষ্ণতার অনুভূতি তৈরি করে। গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস মিশলে এই প্রভাব আরও বাড়ে। শীতের সকালে বা সন্ধ্যায় শরীর যখন ভারী বা অলস লাগে, তখন আদা-লেবুর চা আরাম এনে দিতে পারে।

হজম শক্তিশালী করে

শীতকালে খাবার তুলনামূলক ভারী হওয়ায় অনেক সময় হজমে সমস্যা দেখা দেয়। আদা হজমের জন্য পরিচিত একটি ভেষজ। এটি পাকস্থলীর কার্যকারিতা বাড়ায়, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে এবং বমিভাব বা অ্যাসিডিটির ঝুঁকি কমায়। আদার সঙ্গে লেবু যোগ হলে পানীয়টি হালকা থাকে এবং সহজে হজম হয়।

গলার অস্বস্তি কমায়

শীতের ঠান্ডা বাতাসে অনেকেরই গলায় খুসখুস বা অস্বস্তি তৈরি হয়। উষ্ণ আদা-লেবুর চা গলার জন্য প্রশান্তিদায়ক। আদায় থাকা প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক উপাদান গলা ব্যথা, কাশি ও সর্দির উপসর্গ কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি লেবুতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, শীতকালে নিয়মিত ও পরিমিত আদা-লেবুর চা পান শরীরকে উষ্ণ রাখা, হজম ঠিক রাখা এবং মৌসুমি অসুস্থতা থেকে সুরক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

পাল্টে গেছে বাংলাদেশের রাজনীতির হিসাব!

একদিনেই বদলে গেছে বাংলাদেশের রাজনীতির প্রচলিত সব সমীকরণ। ২৫ ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রে ছিল—বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে ফিরবেন কি না। ১২ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও জনমনে ছিল নানা প্রশ্ন—ভোট আদৌ হবে কি না, মব সন্ত্রাস থামবে কি না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে কি না। এখন এসব প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই স্পষ্ট। ১৭ বছর পর দেশে ফিরে লাখো মানুষের সামনে দেওয়া তাঁর বক্তব্য রাজনীতির হিসাবনিকাশ পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে।
নির্বাচন নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে ইতিবাচক ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় নির্বাচন ভণ্ডুল করার কোনো ষড়যন্ত্র আর সফল হবে না—এমনটাই মনে করছেন অনেকে। শুধু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন নয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও তারেক রহমানকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছে। এর ফলে এতদিন ধরে চলে আসা জোটভিত্তিক নির্বাচনি হিসাবও জটিল হয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত ‘ওয়ান ইলেভেন’ সরকারের সময় কারামুক্ত হয়ে দেশ ছাড়েন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেও বিষয়টি ঘিরে ছিল ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে টেলিভিশনের টক শো—সবখানেই চলছিল আলোচনা ও বিতর্ক।
বুধবার মধ্যরাতে লন্ডন থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার মধ্য দিয়ে সব জল্পনার অবসান ঘটে। ১৭ বছর পর তাঁর প্রত্যাবর্তনের সময় দেশে ক্ষমতায় ছিল একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার। ভোটাধিকার প্রয়োগ ও গণতন্ত্রে ফেরার আশায় নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিল দেশের মানুষ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ছিল সীমাহীন উচ্ছ্বাস। ভোটের আগে বিপুল জনসমাগম ঘটিয়ে নজিরবিহীন সংবর্ধনার মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশবাসীর প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা দেন। পাশাপাশি গতকাল ১৯ বছর পর রাজধানীর শেরেবাংলানগরে চন্দ্রিমা উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন তিনি। সেখানেও নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। এসব উপস্থিতি নির্বাচনকে ঘিরে জনমনে বিশেষ বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
মাজার প্রাঙ্গণে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন। জিয়ারত শেষে কিছুক্ষণ নীরবে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে তাঁর চোখে জল দেখা যায়।
অনেকের ধারণা, নির্বাচন নিয়ে যে সংশয় এতদিন ছিল তা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কোনো ষড়যন্ত্রই ঠেকাতে পারবে না। ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে বিশেষ মহলের যে উচ্ছ্বাস ছিল, তাতে ভাটা পড়তে শুরু করেছে।
বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গতকালের প্রধান শিরোনাম ছিল তারেক রহমানের রাজসিক প্রত্যাবর্তন। আলজাজিরাসহ একাধিক গণমাধ্যম তাঁকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছে। রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে শিরোনাম করেছে—‘নির্বাচনের আগে নির্বাসন থেকে ফিরলেন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী’। সংবাদ সংস্থাটি বলেছে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে এবং তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী পদের প্রধানতম প্রতিদ্বন্দ্বী।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির শিরোনাম ছিল—‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে পৌঁছেছেন’। সংস্থাটি জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এই উত্তরসূরি বিপুল জনসমর্থন ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে দেশে ফিরেছেন, যা আসন্ন নির্বাচনের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
অন্যদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাঁকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে শিরোনাম করে জানায়, ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী। বিবিসির মতে, ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রনায়ক।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি সাধারণ স্বদেশ ফেরা নয়; এটি বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রে ফেরার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। বিশ্বের প্রভাবশালী বহু গণমাধ্যম মনে করছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আগামী নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। ১৭ বছরের মামলা, হামলা ও ষড়যন্ত্র পেরিয়ে তাঁর এই রাজসিক প্রত্যাবর্তনকে ‘পরিবর্তনের প্রতীক’ হিসেবে দেখছে বিশ্ব সম্প্রদায়।
বৃহস্পতিবার সংবর্ধনা মঞ্চে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন। তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত বক্তব্যের প্রশংসা করছেন অনেকে। তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও। তাঁদের ভাষায়, ‘তারেক রহমানের আগমন দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা আরও সুসংহত করবে। রাজনীতিতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করবে।’
এদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিএনপি প্রায় ৩০০ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিগগিরই মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সারা দেশে নেতা-কর্মীদের মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে ইসলামী আটদলীয় জোটের পরিসর বাড়তে পারে। জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ আসন সমঝোতায় যুক্ত হতে যাওয়া দলগুলোর সঙ্গে এনসিপি যুক্ত হতে পারে—এমনটাই জানিয়েছেন আট দলের নেতারা। তবে চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য আরও দু-এক দিন অপেক্ষা করতে হবে।
নেতারা জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র উত্তোলনের শেষ দিন পর্যন্ত সমঝোতা না হলে প্রত্যাহারের আগেই দলগুলোর মধ্যে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হবে। সব মিলিয়ে নির্বাচনি অঙ্কে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘তারেক রহমানের দেশে ফেরা দেশের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব রাখবে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে না থাকার কারণে তিনি যে স্বপ্নগুলো দেখেছেন, প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে সেসব স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। বিএনপিকে কেন্দ্র করে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হবে মানুষ। ’ প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনায় দেশবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁর পাশে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।

ভোটার হতে এনআইডি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন তারেক রহমান

ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর সকালে শহীদ ওসমান হাদি ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরে জিয়ারত শেষে তিনি নির্বাচন কমিশন ভবনে যান।

সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের অংশ হিসেবে তারেক রহমান ফিঙ্গারপ্রিন্ট, চোখের আইরিশ স্ক্যান এবং স্বাক্ষর প্রদান করেন। এর আগে তিনি ও তার মেয়ে জায়মা রহমান অনলাইনে ভোটার হওয়ার আবেদন ফর্ম পূরণ করেন।

নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগ জানিয়েছে, আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুত সময়ের মধ্যেই তারেক রহমানের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত হবে। অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে আবেদন করার সাত ঘণ্টার মধ্যেই এনআইডি পাওয়া যেতে পারে। সর্বোচ্চ ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০০৭-২০০৮ সালে দেশে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। ২০০৮ সালে কারামুক্তির পর উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার পর দেশে ফিরতে না পারায় সে সময় ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি তারেক রহমানের। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান দেশে ফিরে ভোটার তালিকায় নাম লেখান। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন ও তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর ক্যান্টনমেন্টের ঠিকানায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হন।

অবসরে গেলেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ

বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর সংবিধান অনুযায়ী বয়সসীমা ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় বিচারিক জীবনের ইতি টানেন তিনি। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এক সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিচার বিভাগের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি।

১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ প্রায় এক বছর সাড়ে চার মাস প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বিচার বিভাগ যখন নানা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন গত বছরের ১০ আগস্ট তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। দেশের উচ্চ আদালতের ইতিহাসে তিনিই প্রথম বিচারক, যিনি হাইকোর্ট থেকে সরাসরি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে একটি উল্লেখযোগ্য নজির স্থাপন করেন।

তার আইনজীবী জীবনের সূচনা ১৯৮৪ সালে জেলা আদালতে। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৬ সালে হাইকোর্ট এবং ২০০২ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। বিচারক হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয় ২০০৩ সালে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে, আর ২০০৫ সালে তিনি স্থায়ী বিচারক পদে উন্নীত হন। দীর্ঘ দুই দশকের বিচারিক জীবনে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেন এবং বিচার বিভাগের কাঠামোগত সংস্কার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের অবসরের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগে এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। তার বিদায়ের পর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। রোববার, ২৮ ডিসেম্বর তিনি নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেবেন। বিদায়ী প্রধান বিচারপতির রেখে যাওয়া সংস্কার উদ্যোগ এবং চলমান চ্যালেঞ্জগুলো নতুন নেতৃত্ব কীভাবে মোকাবিলা করেন, সেদিকেই এখন নজর আইন অঙ্গনের।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে যা বললেন খায়রুল বাসার

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে ফিরে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকার ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ভাষণ দেন তিনি।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ করা গেছে। সেই উচ্ছ্বাসের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে শোবিজ অঙ্গনেও।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক পোস্টে তার ফেরা ও বক্তব্যকে ঘিরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন তারকা। সেই কাতারে আছেন অভিনেতা খায়রুল বাসার।

এবার তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাস খায়রুল বাসার লেখেন, বাংলার শিশিরভেজা ঘাসের স্পর্শে আপনার অন্তর শীতল হোক। আর আপনার নেতৃত্বে এ দেশে শান্তি ফিরুক। আপনি সুস্থ থাকেন, সুন্দর থাকেন এবং বাংলার মানুষের আস্থা হয়ে থাকেন—এই দোয়া রইল।
স্ট্যাটাসে ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে এই অভিনেতা লেখেন, যখন দেশের মানুষ আপনার হাতে দেশের দায়িত্ব তুলে দেবে, সেদিন থেকে আপনার সব ভালো কাজের স্তুতি করতে না পারলেও অসংগতির প্রতি ভরপুর সমালোচনা করব। আশা রাখি আপনি সবসময় সমালোচনাকে ভালোবাসা হিসেবেই এবং সাধারণ মানুষের অস্বস্তি অস্থিরতার প্রকাশ হিসেবে গ্রহণ করবেন।

আজ থেকে শুরু বিপিএলের দ্বাদশ আসর

আজ থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-এর দ্বাদশ আসর। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী পর্ব আয়োজন করা হয়েছে সিলেটে, যেখানে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে সিলেট টাইটানস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। আসরের গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২৩ জানুয়ারি ঢাকায়।
চলতি আসরে বিপিএলের মোট ৩৪টি ম্যাচ হবে তিনটি ভেন্যুতে সিলেট, চট্টগ্রাম এবং ঢাকা। সিলেট পর্ব শেষ হলে টুর্নামেন্ট এগোবে চট্টগ্রামে এবং সেখান থেকে ফাইনাল পর্বের জন্য ঢাকায় ফিরবে।
প্লে-অফ পর্বের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে এলিমিনেটর ও প্রথম কোয়ালিফায়ার, দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার মাঠে গড়াবে ২১ জানুয়ারি এবং মহারণ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২৩ জানুয়ারি। প্রয়োজন অনুযায়ী সব ম্যাচের জন্য রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে।
এবারের বিপিএলে অংশ নিচ্ছে মোট ছয়টি দল ঢাকা ক্যাপিটালস, সিলেট টাইটানস, চট্টগ্রাম রয়্যালস, রংপুর রাইডার্স, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এবং নোয়াখালী এক্সপ্রেস। টুর্নামেন্ট চলাকালীন দর্শকরা উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ ও প্রতিযোগিতামূলক খেলায় চোখ রাখবেন প্রতিটি মুহূর্তে।

বিপিএল ২০২৫–২৬ : ম্যাচ সময়সূচি
তারিখ
ম্যাচ
ভেন্যু
সময়
২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
সিলেট টাইটানস vs রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
সিলেট
বেলা ৩টা
২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
নোয়াখালী এক্সপ্রেস vs চট্টগ্রাম রয়্যালস
সিলেট
সন্ধ্যা ৭:৪৫
২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকা ক্যাপিটালস vs রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
সিলেট
বেলা ১টা
২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
সিলেট টাইটানস vs নোয়াখালী এক্সপ্রেস
সিলেট
সন্ধ্যা ৬টা
২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
রংপুর রাইডার্স vs চট্টগ্রাম রয়্যালস
সিলেট
বেলা ১টা
২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স vs নোয়াখালী এক্সপ্রেস
সিলেট
সন্ধ্যা ৬টা
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
সিলেট টাইটানস vs চট্টগ্রাম রয়্যালস
সিলেট
বেলা ১টা
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকা ক্যাপিটালস vs রংপুর রাইডার্স
সিলেট
সন্ধ্যা ৬টা
১ জানুয়ারি ২০২৬
সিলেট টাইটানস vs ঢাকা ক্যাপিটালস
সিলেট
বেলা ১টা
১ জানুয়ারি ২০২৬
রংপুর রাইডার্স vs রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
সিলেট
সন্ধ্যা ৬টা
২ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকা ক্যাপিটালস vs চট্টগ্রাম রয়্যালস
সিলেট
বেলা ২টা
২ জানুয়ারি ২০২৬
সিলেট টাইটানস vs রংপুর রাইডার্স
সিলেট
সন্ধ্যা ৭টা
৫ জানুয়ারি ২০২৬
রংপুর রাইডার্স vs ঢাকা ক্যাপিটালস
চট্টগ্রাম
বেলা ১টা
৫ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম রয়্যালস vs রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
চট্টগ্রাম
সন্ধ্যা ৬টা
৬ জানুয়ারি ২০২৬
নোয়াখালী এক্সপ্রেস vs সিলেট টাইটানস
চট্টগ্রাম
বেলা ১টা
৬ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম রয়্যালস vs রংপুর রাইডার্স
চট্টগ্রাম
সন্ধ্যা ৬টা
৮ জানুয়ারি ২০২৬
সিলেট টাইটানস vs রংপুর রাইডার্স
চট্টগ্রাম
বেলা ১টা
৮ জানুয়ারি ২০২৬
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স vs ঢাকা ক্যাপিটালস
চট্টগ্রাম
সন্ধ্যা ৬টা
৯ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম রয়্যালস vs নোয়াখালী এক্সপ্রেস
চট্টগ্রাম
বেলা ২টা
৯ জানুয়ারি ২০২৬
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স vs সিলেট টাইটানস
চট্টগ্রাম
সন্ধ্যা ৭টা
১১ জানুয়ারি ২০২৬
রংপুর রাইডার্স vs নোয়াখালী এক্সপ্রেস
চট্টগ্রাম
বেলা ১টা
১১ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম রয়্যালস vs ঢাকা ক্যাপিটালস
চট্টগ্রাম
সন্ধ্যা ৬টা
১২ জানুয়ারি ২০২৬
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স vs রংপুর রাইডার্স
চট্টগ্রাম
বেলা ১টা
১২ জানুয়ারি ২০২৬
নোয়াখালী এক্সপ্রেস vs ঢাকা ক্যাপিটালস
চট্টগ্রাম
সন্ধ্যা ৬টা
১৫ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকা ক্যাপিটালস vs নোয়াখালী এক্সপ্রেস
ঢাকা
বেলা ১টা
১৫ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম রয়্যালস vs সিলেট টাইটানস
ঢাকা
সন্ধ্যা ৬টা
১৬ জানুয়ারি ২০২৬
নোয়াখালী এক্সপ্রেস vs রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
ঢাকা
বেলা ২টা
১৬ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকা ক্যাপিটালস vs সিলেট টাইটানস
ঢাকা
সন্ধ্যা ৭টা
১৭ জানুয়ারি ২০২৬
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স vs চট্টগ্রাম রয়্যালস
ঢাকা
বেলা ১টা
১৭ জানুয়ারি ২০২৬
নোয়াখালী এক্সপ্রেস vs রংপুর রাইডার্স
ঢাকা
সন্ধ্যা ৬টা
১৯ জানুয়ারি ২০২৬
এলিমিনেটর
ঢাকা
বেলা ১টা
১৯ জানুয়ারি ২০২৬
১ম কোয়ালিফায়ার
ঢাকা
সন্ধ্যা ৬টা
২১ জানুয়ারি ২০২৬
২য় কোয়ালিফায়ার
ঢাকা
সন্ধ্যা ৬টা
২৩ জানুয়ারি ২০২৬
ফাইনাল
ঢাকা
সন্ধ্যা ৭টা

ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ছে? নিয়মিত পান করুন এই ৪ স্বাস্থ্যকর পানীয়

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা, শুষ্কতা কিংবা নিস্তেজ ভাব দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রেস, পানিশূন্যতা এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি ত্বকের বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করে তোলে। ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে শুধু স্কিনকেয়ার নয়, খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পুষ্টিবিদদের মতে, দৈনন্দিন কিছু খাবারে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও প্রদাহনাশক উপাদান ত্বকের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে, কোলাজেন ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বককে টানটান রাখে। এসব উপাদান দিয়ে তৈরি কয়েকটি সহজ পানীয় নিয়মিত খেলে বয়সের ছাপ পড়া ধীর হতে পারে।

ডালিম ও পুদিনার পানীয়

ডালিম পলিফেনল ও ভিটামিন সি–তে সমৃদ্ধ, যা ত্বকের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এটি বলিরেখা কমাতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। পুদিনা শরীর ঠান্ডা রাখে, হজম শক্তিশালী করে এবং ডালিমের পুষ্টিগুণ শরীরে ভালোভাবে শোষিত হতে সাহায্য করে।

হলুদ ও আদার পানীয়

হলুদের কারকিউমিন শক্তিশালী প্রদাহনাশক উপাদান হিসেবে পরিচিত। আদায় থাকা জিঞ্জেরোল রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং শরীর উষ্ণ রাখে। এই পানীয়তে সামান্য গোলমরিচ যোগ করলে কারকিউমিনের শোষণ আরও বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রদাহ কমলে অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকিও কমে।

গাজর ও কমলার রস

গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ–তে রূপান্তরিত হয়, যা ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে। কমলার ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় এবং ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। এই রস ত্বককে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত রাখতে কার্যকর।

অ্যালোভেরা ও শসার পানীয়

অ্যালোভেরা জেলে রয়েছে ভিটামিন এ, সি ও ই, যা ত্বকের সুরক্ষা স্তর মেরামতে সহায়ক। শসা শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং ত্বকের ফোলাভাব ও শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে। এই পানীয় ত্বককে ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে বিশেষভাবে উপকারী।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এসব পানীয় নিয়মিত গ্রহণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখলে বয়সের ছাপ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায় যে ৯ খাবার

অনিয়মিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে দেশে হৃদরোগের ঝুঁকি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রাপ্তবয়স্কদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে হার্ট অ্যাটাককে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, অতিরিক্ত ফ্যাট ও কোলেস্টেরল ধমনিতে জমে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতাও এই ঝুঁকিকে আরও তীব্র করে তোলে।

বিশেষ করে অতিরিক্ত লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার হৃদযন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পুষ্টিবিদদের মতে, নিচের ৯টি খাবার নিয়মিত খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে—

১. কোমল পানীয়
১২ আউন্স সোডা পানীয়তে প্রায় ১০ চা-চামচ চিনি থাকে। নিয়মিত কোমল পানীয় পান করলে ওজন বাড়ে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। কৃত্রিম চিনির সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্কও পাওয়া গেছে।

২. সাদা ব্রেড ও অতিরিক্ত লবণ
সাদা ব্রেডে উচ্চ কার্বোহাইড্রেট ও গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকায় রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ে। পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ রক্তনালির ক্ষতি করে ব্লক তৈরি করতে পারে। দিনে সর্বোচ্চ ৫ গ্রাম লবণ গ্রহণের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৩. প্রক্রিয়াজাত মাংস
সসেজ, হট ডগসহ প্রক্রিয়াজাত মাংসে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও লবণের পরিমাণ বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত এসব মাংস খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

৪. ফাস্টফুড
ফাস্টফুডে থাকে অতিরিক্ত ক্যালোরি, চিনি, ফ্যাট ও কোলেস্টেরল—যা হৃদরোগজনিত মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।

৫. পিৎজা
পিৎজায় ব্যবহৃত চিজ, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও লবণের কারণে এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের মাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকে, যা হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

৬. আইসক্রিম
পরিশোধিত চিনি ও ফ্যাটযুক্ত দুধ দিয়ে তৈরি আইসক্রিম অতিরিক্ত ক্যালোরি ও কোলেস্টেরল সরবরাহ করে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।

৭. কলিজা, মগজ ও হাড়ের মজ্জা
এই অংশগুলোতে কোলেস্টেরলের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। হৃদরোগীদের জন্য কলিজা, মগজ কিংবা নেহারি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

৮. মাছের মাথা ও ডিম
মাছের মাথা ও ডিমে এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বেশি, যা রক্তের লিপিড প্রোফাইল বাড়িয়ে দেয়।

৯. চিংড়ি
চিংড়িতে ক্যালরি কম হলেও কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি। সাড়ে তিন আউন্স রান্না করা চিংড়িতে প্রায় ১৮৯ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে, যা হৃদরোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

শেষ কথা
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন জরুরি। সচেতন হলে ও সঠিক খাদ্য নির্বাচন করলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বিনিয়োগকারীদের যে পদক্ষেপে হঠাৎ পাল্টে গেল স্বর্ণের বাজার!

বিনিয়োগকারীদের হঠাৎ মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় বিশ্ব স্বর্ণবাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা দিয়েছে। ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছানোর পরই সোনার দামে এসেছে সামান্য সংশোধন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) লেনদেনের শুরুতে প্রতি আউন্স সোনা ৪ হাজার ৫২৫ দশমিক ১৮ ডলারে উঠে সর্বকালের রেকর্ড গড়ে। তবে এই উচ্চমূল্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার সুযোগে বিনিয়োগকারীরা বড় অংকের লাভ তুলে নিতে শুরু করলে বাজার কিছুটা ঠান্ডা হয়ে আসে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে বর্তমানে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৪৭৯ দশমিক ৩৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি স্বাভাবিক মুনাফা গ্রহণের ফল। কিটকো মেটালসের সিনিয়র বিশ্লেষক জিম উইকফ জানিয়েছেন, রেকর্ড দামের পর এমন সংশোধন অস্বাভাবিক নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দীর্ঘমেয়াদে সোনার চাহিদা শক্তিশালী রাখবে বলেই তিনি মনে করেন। এ ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুদের হার কমানোর পক্ষে দেওয়া বক্তব্যও সোনার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

একই দিনে রুপার বাজারেও ছিল ব্যাপক অস্থিরতা। এক পর্যায়ে আউন্সপ্রতি রুপার দাম সর্বোচ্চ ৭২ দশমিক ৭০ ডলার ছুঁলেও পরে কিছুটা কমে ৭১ দশমিক ৯৪ ডলারে নেমে আসে। চলতি বছরে রুপার দাম বেড়েছে প্রায় ১৪৯ শতাংশ, যেখানে সোনার দাম বেড়েছে ৭০ শতাংশের বেশি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বছরের শেষ দিকে রুপার দাম ৭৫ ডলারের ঘরে পৌঁছাতে পারে। এদিকে প্লাটিনামের দাম ২ হাজার ৩৭৭ ডলারে রেকর্ড গড়ার পর নেমে আসে ২ হাজার ২২০ ডলারে। একই সঙ্গে প্যালাডিয়ামের বাজারেও উল্লেখযোগ্য দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্ববাজারের এই দোলাচলের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারেও। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৮৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮১ হাজার ৭২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৯ টাকায়।

ব্যবসায়ীদের মতে, বিশ্ববাজারে দামের এই অস্থিরতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশের বাজারেও সোনার দাম আরও বাড়তে পারে।

সূচকের উত্থানে পুঁজিবাজারে স্বস্তি: ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ল ১ হাজার ৭ কোটি টাকা

সূচকের ঊর্ধ্বগতির মধ্য দিয়ে চলতি সপ্তাহে লেনদেন শেষ করেছে দেশের পুঁজিবাজার। সপ্তাহ ব্যবধানে এতে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ৭ কোটি টাকা, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ। চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকায়। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এই অঙ্ক ছিল ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা।

চলতি সপ্তাহে ডিএসইর সবকটি সূচকেই উত্থান দেখা গেছে। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৫২ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ০৮ শতাংশ। পাশাপাশি ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসই-৩০ বেড়েছে ২২ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২২ শতাংশ। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস বেড়েছে ৭ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ।
তবে সূচকের এই ইতিবাচক প্রবণতার মাঝেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৩৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৪৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে লেনদেন কমেছে ১১৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

এদিকে দৈনিক গড় লেনদেনও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। চলতি সপ্তাহে প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড় লেনদেন হয়েছে ৩৫৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছিল ৩৮৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৪১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৪৪টির দাম কমেছে এবং ১০১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সূচকের উত্থান বাজারে আস্থার ইঙ্গিত দিলেও লেনদেন কমে যাওয়া বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রতিফলন। আগামী সপ্তাহে লেনদেনের গতি বাড়ে কি না, সেদিকেই এখন নজর বাজার সংশ্লিষ্টদের।