পেটের চর্বি শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি হার্টের জটিলতা, টাইপ–২ ডায়াবেটিস ও ফ্যাটি লিভারের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অনেকেই ভাবেন, জিমে নিয়মিত ঘাম না ঝরালে পেটের মেদ কমানো সম্ভব নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, দৈনন্দিন জীবনধারার কিছু ছোট কিন্তু ধারাবাহিক পরিবর্তনই এই মেদ কমাতে বেশি কার্যকর হতে পারে। খাবারের ধরন, ঘুম, চলাফেরা আর মানসিক চাপ—এই চারটি জায়গায় সচেতন হলেই ২১ দিনের মধ্যে পেটের চর্বিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আনা সম্ভব।
দিনের শুরুটা গরম পানি ও দ্রবণীয় ফাইবার দিয়ে করলে হজম ব্যবস্থা সক্রিয় হয়। সকালে খালি পেটে গরম পানির সঙ্গে চিয়া সিডস, ইসবগুল বা ভেজানো তিসি বীজ খেলে পেট দ্রুত ভরে যায় এবং অকারণে বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমে। দ্রবণীয় ফাইবার হজম ধীর করে, রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং চর্বি শোষণ কমাতে সহায়তা করে। এই অভ্যাসটি দিনের বাকি সময়ের খাদ্যনিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে।
রাতের দেরি করে খাওয়া পেটের মেদের অন্যতম শত্রু। ঘুমানোর ঠিক আগে নাস্তা বা ভারী খাবার শরীরের ফ্যাট বার্নিং প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে হালকা ও পুষ্টিকর ডিনার করলে শরীর রাতে জমে থাকা চর্বি ভাঙতে বেশি সক্ষম হয়। প্রোটিন ও সবজি নির্ভর রাতের খাবার পেটের চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি জমতে বাধা দেয়।
শুধু জিমের ব্যায়ামের ওপর নির্ভর না করে দিনের ভেতর ছোট ছোট চলাফেরা বাড়ানোও খুব কার্যকর। সিঁড়ি ব্যবহার করা, ফোনে কথা বলার সময় হাঁটা, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে মাঝেমধ্যে উঠে নড়াচড়া করা—এই সবকিছু মিলিয়ে শরীর অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ করে। গবেষণায় একে বলা হয় নন–এক্সারসাইজ অ্যাক্টিভিটি থার্মোজেনেসিস, যা বিশেষভাবে পেটের মেদ কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।
রান্নায় সঠিক মশলার ব্যবহারও পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করে। জিরা, হলুদ, দারচিনি বা গোলমরিচের মতো মশলা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় এবং বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখে। সকালে জিরার পানি, রান্নায় হলুদ বা চায়ে অল্প দারচিনি যোগ করলে ধীরে ধীরে কোমরের চারপাশে চর্বি জমার প্রবণতা কমে।
প্রতিটি খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখার অভ্যাস পেটের মেদের বিরুদ্ধে কার্যকর অস্ত্র। ডাল, ডিম, পনির, স্প্রাউটস বা লিন মাংস শরীরকে দীর্ঘ সময় তৃপ্ত রাখে এবং হঠাৎ খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমায়। প্রোটিন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রেখে বিপাকক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে, যার ফলে পেটের চর্বি কমে এবং শরীর থাকে শক্ত ও টোনড।
ঘুমের সময়সূচি ঠিক না থাকলে পেটের মেদ কমানো কঠিন হয়ে পড়ে। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে কর্টিসল ও ইনসুলিন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা সরাসরি কোমরের চর্বি বাড়ায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ওঠার অভ্যাস শরীরকে ফ্যাট বার্নিংয়ের জন্য প্রস্তুত করে এবং পরের দিন খাবারের প্রতি নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়।
মানসিক চাপ পেটের চর্বি বাড়ার একটি নীরব কারণ। অতিরিক্ত স্ট্রেস অনেক সময় অজান্তেই বেশি খাওয়ার দিকে ঠেলে দেয়। দিনে কয়েক মিনিট গভীর শ্বাস নেওয়া, হালকা মেডিটেশন বা কাজের ফাঁকে পছন্দের গান শোনা কর্টিসল হরমোন কমাতে সাহায্য করে। স্ট্রেস কমলে শরীরও মেদের বিরুদ্ধে বেশি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।
এই সাতটি অভ্যাস শুধু পেটের চর্বি কমাতেই নয়, সামগ্রিকভাবে শরীর ও মনের সুস্থতাও বাড়ায়। সবচেয়ে বড় কথা, এগুলো মানতে কোনো কঠোর ডায়েট বা জিমের সদস্যপদ প্রয়োজন নেই। নিয়মিত ছোট ছোট পরিবর্তনই ধীরে ধীরে আপনাকে নিয়ে যাবে আরও সুস্থ, হালকা ও আত্মবিশ্বাসী জীবনের পথে।
পেটের চর্বি একেবারেই কমছে না? জিম ছাড়াই ২১ দিনে মেদ কমাবে এই ৭টি সহজ অভ্যাস
সমবয়সি না বড়, কোন দাম্পত্য বেশিদিন টিকে?
দাম্পত্য জীবনের স্থায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক গবেষক, মনোবিজ্ঞানী ও পরিবার পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা চলছে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—সমবয়সি দম্পতির সম্পর্ক বেশি টেকসই, নাকি বয়সে বড় পার্থক্য থাকা দাম্পত্য?
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বয়সের ব্যবধান কম—বিশেষ করে ০ থেকে ৫ বছরের মধ্যে হলে—দাম্পত্য সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি। সমবয়সি বা কাছাকাছি বয়সের দম্পতিদের মধ্যে চিন্তাভাবনা, জীবনদৃষ্টি ও সামাজিক বাস্তবতা প্রায় একই হওয়ায় পারস্পরিক বোঝাপড়া সহজ হয়।
একই প্রজন্মের মানুষ হওয়ায় এই দম্পতিরা শিক্ষা, কর্মজীবন, সন্তান লালন-পালন এবং সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে একসঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বন্দ্ব কম হয় এবং যোগাযোগের ঘাটতিও তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়।
অন্যদিকে, বয়সে বড় ব্যবধান থাকা দাম্পত্যেও সম্পর্ক টিকে থাকে—তবে তা অনেকাংশে নির্ভর করে পারস্পরিক সম্মান, মানসিক পরিপক্বতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর। গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ বছর বা তার বেশি বয়সের ব্যবধান থাকলে দীর্ঘমেয়াদি দাম্পত্য অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়ে। কারণ এ ধরনের সম্পর্কে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা, জীবনধারার পার্থক্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধ বেশি দেখা যায়।
বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর। এখানে পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশা দাম্পত্য সম্পর্কে বড় ভূমিকা রাখে। বয়সের বড় পার্থক্য থাকলে সামাজিক চাপ, আত্মীয়স্বজনের হস্তক্ষেপ এবং সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের ঘটনাও বেশি হয়, যা সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্য সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ধারণে বয়সই শেষ কথা নয়। পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান, আবেগী বুদ্ধিমত্তা, দ্বন্দ্ব সমাধানের দক্ষতা এবং আর্থিক ও মানসিক নিরাপত্তাই দাম্পত্য টিকে থাকার মূল ভিত্তি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সমবয়সি বা কাছাকাছি বয়সের দাম্পত্য সাধারণত বেশি আনন্দময় হলেও, বয়সের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সচেতনতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে একটি দাম্পত্য সফলভাবে দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকতে পারে আর এই সম্পর্কে থাকে পারসস্পরিক সম্মানবোধ , দায়িত্ববোধ ও স্নেহ।
শিক্ষকরা কৃষি ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাঁদের সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালান। অধিকাংশ শিক্ষক নিজের বাড়িতে অথবা নিজ এলাকায় থেকে শিক্ষকতা করে থাকেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তাঁদের অনেকেই আয় বাড়ানোর জন্য গাভি পালন, গরু মোটাতাজাকরণ, হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্য চাষ, নার্সারি স্থাপন, ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনাসহ বিভিন্ন কর্মকা-ে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখেন। এসব কাজের জন্য এবং সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দিতে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের বিশেষ ঋণ কর্মসূচি আছে।
বর্তমান দেশে পৌনে চার লাখের মতো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আছেন। তাঁরা এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য। কৃষি ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার এই ঋণ পাওয়া যায়। যে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এই ঋণ নিতে পারবেন। এ ঋণ পেতে বেশকিছু যোগ্যতা থাকতে হবে। যেমন-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে হবে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঋণ প্রদানকারী শাখার মাধ্যমে আবেদনকারীর বেতন-ভাতা প্রদেয় হতে হবে। ঋণ আবেদনকারীর বেতন-ভাতা কৃষি ব্যাংকের যে শাখায় জমা হবে, শুধু সে শাখায় ঋণের জন্য আবেদন করা যাবে। অন্য কোনো শাখায় আবেদন করা যাবে না।
যাঁদের চাকরিকাল ন্যূনতম তিন বছর সম্পন্ন হয়েছে, তাঁরা এ কর্মসূচির আওতায় ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে চাকরির মেয়াদ কমপক্ষে পিআরএলসহ তিন বছর থাকতে হবে। শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিচারাধীন কোনো মামলা কিংবা নিষ্পন্নাধীন কোনো বিভাগীয় মামলা, ব্যাখ্যা তলব বা অন্য কোনো প্রশাসনিক কার্যক্রম বিদ্যমান থাকা অবস্থায় ঋণ প্রাপ্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। এই ঋণের ধরন কেমন, তা জানা যাকÑ ১. বেতনের বিপরীতে অগ্রিম; ২. সুদের হার ৯ শতাংশ (সময়ে সময়ে পরিবর্তনযোগ্য); তিন. প্রসেসিং ফি ৫০০ টাকা। ঋণ বিতরণের পরবর্তী মাস থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬০টি মাসিক কিস্তিতে বা চাকরির মেয়াদকাল পর্যন্ত।
আবেদন করতে হলে কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। যেমন- কৃষি ব্যাংকের নির্ধারিত ঋণ আবেদন ফরমে আবেদন করতে হবে। ঋণ আবেদনকারীর সম্প্রতি তোলা ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি। নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি পত্র। জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি। নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ থেকে কারণ দর্শানো, অভিযোগ, শৃঙ্খলাজনিত মামলা প্রক্রিয়াধীন নেই মর্মে অনাপত্তি পত্র গ্রহণ করতে হবে।
ঋণ প্রদানের সুপারিশসহ বেতন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁর বেতন-ভাতার সনদপত্র বা ঋণ গ্রহণের অনাপত্তি পত্র দাখিল করতে হবে। (চাকরির মেয়াদ, বৈতনিক আয়, ঋণ গ্রহণের অনাপত্তি ইত্যাদি উল্লেখসহ)। ঋণের কিস্তি খেলাপি হলে গ্রাহকের বেতন হতে কিস্তি কাটা নিশ্চিত করাসহ চাকরি থেকে অবসরজনিত প্রাপ্য সুবিধা থেকে ঋণ আদায়ের নিশ্চয়তাপত্র বেতন প্রদানকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গ্রহণ করতে হবে।
পুঁজিবাজারে ‘পচা’ শেয়ারের দাপট
টানা দরপতন থেকে বেরিয়ে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে দেশের শেয়ারবাজার। এ পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাচ্ছে পচা বা ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানির শেয়ার। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে দাম বাড়ার শীর্ষ ১০টি স্থানের মধ্যে ৮টিই দখল করেছে ‘জেড’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান। দাম বাড়ার শীর্ষ দশে ভালো বা ‘এ’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আছে দুটি। তবে দম বাড়ার শীর্ষ সাতটি প্রতিষ্ঠানই জেড গ্রুপের। গত সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চাহিদার শীর্ষে ছিল ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।
লোকসানে নিমজ্জিত হওয়ায় ২০১৬ সালের পর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। এই কোম্পানির শেয়ার দাম গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসেই দিনের সর্বোচ্চ পরিমাণ বেড়েছে। এতে এক সপ্তাহেই শেয়ার দাম বেড়েছে ৬২ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩০ পয়সা। দাম বাড়ার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড। এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ৫৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৩ পয়সা।
লোকসানে পতিত হওয়ায় ২০১৭ সালের পর এই কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দেয়নি। স্বাভাবিকভাবেই কোম্পানিটির স্থান হয়েছে পচা জেড গ্রুপে। পরের স্থানা রয়েছে জেড গ্রুপের আর এক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। লোকসানে পতিত হওয়ায় ২০১৮ সালের পর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে পারেনি।
চাঁদাবাজ-দখলবাজদের শেষদিন হবে ১২ ফেব্রুয়ারি: নাহিদ ইসলাম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দখলবাজদের রাজনীতির অবসান ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা–১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমেই এসব অপশক্তির শেষ অধ্যায় রচিত হবে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুলসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। প্রচারণাকালে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি এবং এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা ও সংকটগুলো শোনেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনী মাঠে এখনো সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়নি। একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে। তবে সাধারণ মানুষ আর ভয় পাচ্ছে না। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিনই চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজদের শেষ দিন হবে।
এ সময় তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের জন্য নয়, এটি একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ। জনগণের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবার ভোটকেন্দ্রেই প্রতিফলিত হবে।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বিঘ্নে এবং নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। যাকেই ভোট দেবেন, ভেবেচিন্তে দেবেন। কোনো প্রলোভন, সুবিধা বা মিথ্যা আশ্বাসে প্রভাবিত হবেন না। কারণ এবারের ভোটই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
তিনি আরও বলেন, এমন প্রার্থীকে ভোট দিন, যিনি সত্যিকার অর্থে এলাকার উন্নয়ন ও দেশের পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম। প্রচারণার শেষাংশে নাহিদ ইসলাম ভোটারদের শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছে কিনা, জানালো জেলা প্রশাসন
বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন করা হয়নি বলে জানিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, আবেদনের পরেও মুক্তি দেওয়া হয়নি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি সঠিক নয়।
যশোর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাসের পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা কারাকর্তৃপক্ষ বরাবর কোনো লিখিত আবেদন জমা পড়েনি। বরং সময়ের স্বল্পতা বিবেচনায় পরিবারটি নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তারা জেলগেটেই মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করবে। পরিবারের মৌখিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে মানবিক দিক বিবেচনা করে কারা কর্তৃপক্ষ জেলগেটে মরদেহ দেখার বিশেষ অনুমতি প্রদান করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ফেসবুকে বন্দি সাদ্দামের স্ত্রীর কোনো চিঠি বা কারাগারের ভেতরের ছবি হিসেবে যা প্রচারিত হচ্ছে, তার সাথে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ভুল তথ্যের বিভ্রান্তি এড়াতে এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সাদ্দামের স্ত্রী স্বর্ণালী ও ৯ মাসের শিশু সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়; ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক মামলায় স্বামীর কারাবন্দি থাকা নিয়ে সৃষ্ট মানসিক হতাশা থেকেই এই করুণ ঘটনার সূত্রপাত।
সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকদের জন্য বড় সুখবর!
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বেতন স্কেলের সুপারিশমালা পেশ করেছে বেতন কমিশন। গত বুধবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান এই প্রতিবেদন জমা দেন। এতে বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বেতন কাঠামোতে আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
কমিশনের নতুন এই সুপারিশে বৈষম্য দূর করতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন নিম্ন ও মধ্যম ধাপের কর্মচারীরা। বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পেতে যাচ্ছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে ১৩তম গ্রেডে থাকা শিক্ষকদের ১১,০০০ টাকা মূল বেতন এক লাফে ২৪,০০০ টাকায় উন্নীত হতে পারে, যা শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে একটি বড় পদক্ষেপ।
কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খান জানান, নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি বিবেচনা করে ২ হাজার ৫৫২ জনের সরাসরি মতামত নিয়ে এই সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে। এতে শুধু বেতন বাড়ানোই নয়, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য টিফিন ভাতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই নতুন স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এছাড়াও প্রতিবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য বিশেষ ধাপ তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে এবং সশস্ত্র বাহিনী ও বিচার বিভাগের জন্য আলাদা কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারেক রহমানের কঠোর হুঁশিয়ারি
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। অতীতেও বিএনপি নিজের দলের কেউ অন্যায় করলে ছাড় দেয়নি বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে এবং এক্ষেত্রে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
নির্বাচনী রণকৌশল হিসেবে তিনি সমর্থকদের প্রতি এক বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে এবং ফজরের নামাজ শেষে সরাসরি ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়াতে হবে। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, বিগত ১৫ বছর জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং এখনো নতুন কোনো ষড়যন্ত্র হতে পারে, তাই ধানের শীষে ভোট দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
চট্টগ্রামের স্থানীয় সমস্যা সমাধানেও তিনি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন। নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করতে আবারও ‘খাল কাটা কর্মসূচি’ শুরু করার ঘোষণা দেন তিনি এবং জনতাকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আরও বেশি ইপিজেড স্থাপন এবং বন্দর নগরীকে প্রকৃত অর্থে একটি বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
মস্তিষ্কের ৩টি সহজ হ্যাক যা আপনার জীবনকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে
আমাদের ব্যস্ত জীবন ও চাপের মধ্যে নিজের লক্ষ্য অর্জন করা অনেক সময় কঠিন মনে হয়। যখন এই লক্ষ্যগুলো জীবনের মান উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তখন এগুলো পূরণে বাধা আত্মসম্মানকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। মস্তিষ্ক এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে; এটি কখনও সহায়ক হয়, আবার কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে স্নায়ুবিজ্ঞান থেকে প্রাপ্ত কিছু জ্ঞানের সাহায্যে মস্তিষ্কের শক্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করে জীবন ও লক্ষ্যকে সমর্থন করা সম্ভব।
১. মস্তিষ্ককে নিজের পক্ষে কাজ করতে শেখানো
মস্তিষ্ক স্থির কোনো অঙ্গ নয়। এটি অত্যন্ত অভিযোজনযোগ্য ও নমনীয়। এই ক্ষমতাকে বলা হয় নিউরোপ্লাস্টিসিটি। নিউরোপ্লাস্টিসিটি হলো মস্তিষ্কের সেই ক্ষমতা যার মাধ্যমে এটি নিজেকে পুনর্বিন্যস্ত করতে পারে, নতুন স্নায়বিক সংযোগ গড়ে তুলতে পারে এবং অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার প্রভাবে তার গঠন ও কার্যকারিতা পরিবর্তন করতে পারে।
মস্তিষ্ক জীবনের সবসময় বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম। এটি নতুন সংযোগ তৈরি করতে পারে, বিদ্যমানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারে এবং প্রয়োজনে পুনঃসংযোজন করতে পারে। অর্থাৎ, নিজের লক্ষ্য সমর্থন করতে মস্তিষ্ককে আমরা রূপ দিতে পারি।
এর জন্য পুনরাবৃত্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। যত বেশি কোনো আচরণ বা মানসিক কর্মকাণ্ড পুনরাবৃত্তি করা হবে, সেই আচরণের সঙ্গে যুক্ত স্নায়বিক সংযোগ তত শক্তিশালী হবে। এটি হলো সিন্যাপটিক প্লাস্টিসিটি। লক্ষ্যভিত্তিক আচরণ ও চিন্তার ধারা ধারাবাহিকভাবে চর্চা করলে মস্তিষ্কে এই পথগুলো আরও কার্যকর ও স্বয়ংক্রিয় হয়ে ওঠে।
নতুন অভ্যাস গড়ার জন্য টিনি হ্যাবিটস মেথড অনুসরণ করা যেতে পারে, যেখানে মূল তিনটি উপাদান হলো ট্রিগার, মোটিভেশন এবং প্রয়োজনীয় আচরণ। যেমন, দাঁত ব্রাশ করার পর ১৫ মিনিটের হাঁটাহাঁটি শুরু করা। ছোট ছোট অভ্যাসকে পুনরাবৃত্তি করে একটি রুটিন তৈরি করা যায় যা লক্ষ্য অর্জনের পথে সহায়ক হয়।
২. বৃদ্ধির মানসিকতা (Growth Mindset) গড়ে তোলা
মানসিকতা চিন্তা, অনুভূতি এবং আচরণকে প্রভাবিত করে। বৃদ্ধির মানসিকতা হলো বিশ্বাস যে দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তা পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে উন্নত করা যায়। এটি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ, ব্যর্থতার মুখে অধ্যবসায় এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও শিখতে সাহায্য করে।
গবেষণা দেখিয়েছে, বৃদ্ধির মানসিকতা থাকা মানুষ চ্যালেঞ্জ নিতে বেশি সচেষ্ট এবং বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম। ব্যর্থতাকে তারা শেখার সুযোগ হিসেবে দেখে। এটি অর্জনের জন্য সীমাবদ্ধ বিশ্বাস চিহ্নিত করা এবং তা পরিবর্তনের চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন অভ্যাস, ইতিবাচক কন্টেন্ট দেখা বা নতুন জায়গায় যাওয়া মস্তিষ্ককে নতুন তথ্য গ্রহণের জন্য উদ্দীপিত করে, যা ডোপামিনের মুক্তির মাধ্যমে আরও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
৩. মানসিক শান্তি রক্ষা করা
মস্তিষ্কের সক্ষমতা সরাসরি মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী চাপ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং লক্ষ্য পূরণে বাধা সৃষ্টি করে। কোর্টিসল হরমোনের উচ্চ মাত্রা স্মৃতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মনোসংযোগকে প্রভাবিত করে।
সুস্থ জীবনধারা, ব্যালান্সড ডায়েট, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্কের জন্য অপরিহার্য। দৈনন্দিন অভ্যাসের মাধ্যমে যেমন ব্যায়াম, ধ্যান, কৃতজ্ঞতা চর্চা ও হবি মেনে চলা মস্তিষ্ককে সহায়ক করে।
নিউরোপ্লাস্টিসিটি, বৃদ্ধির মানসিকতা এবং মানসিক সুস্থতার উপর নজর রেখে মস্তিষ্কের ক্ষমতা সর্বাধিক ব্যবহার করা সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিক চর্চা এবং মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালী বোঝার মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন করা অনেক সহজ হয়ে যায়। মস্তিষ্ককে নিজের সবচেয়ে শক্তিশালী সহায়ক বানিয়ে লক্ষ্য অর্জনে ব্যবহার করা সম্ভব।
লক্ষ্মীপুরে নিখোঁজ ছাত্রলীগ কর্মীর মরদেহ উদ্ধার
লক্ষ্মীপুরে নিখোঁজ থাকার ছয় দিন পর ফজলে রাব্বি (২২) নামে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার চন্দ্রপবাহ বাগ গ্রামের শেখের বাড়ি এলাকার এক প্রবাসীর বাড়ির ট্যাংকি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত ফজলে রাব্বি সদর উপজেলার পূর্ব আলাদাদপুর গ্রামের সৈয়দ মিয়া পাটওয়ারী বাড়ির বাসিন্দা বেল্লাল হোসেনের ছেলে। তিনি চন্দ্রগঞ্জ কফিল উদ্দিন কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জানুয়ারি রাতে রাব্বি চন্দ্রগঞ্জ এলাকা থেকে উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী বাজারের উদ্দেশে বের হন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে পরদিন তার বাবা বেল্লাল হোসেন চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
শনিবার বিকেলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি চন্দ্রপবাহ বাগ গ্রামের শেখের বাড়ি এলাকায় একটি ট্যাংকির ওপর একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ করেন। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্ত করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ রেজাউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি হত্যা না অন্য কোনো কারণে মৃত্যু, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।


