Home Blog Page 226

রোজায় কম লাভে পণ্য বিক্রির ঘোষণা কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের

রোজায় লেবু-তেল-চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশকিছু পণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কারওরান বাজারের কিচেন মার্কেটে ইসলামিয়া শান্তি সমিতির আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে দাম কমানোর এ ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা। রমজান মাস উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এ সময় ঢাকা-১২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলনে সম্মতি প্রকাশ করতেই তিনি এসেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতি পিস লেবু ২ টাকা, তেল প্রতি লিটারে ১ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ১ টাকা, ছোলা ২ টাকা, ট্যাং ২০০ গ্রামের প্যাকেটে ৫ টাকা, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৩০ টাকা ও মিনিকেট চালের দাম প্রতি কেজি ১ টাকা কমিয়ে বিক্রির ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা।

এ সময় কারওয়ান বাজার পাকা মার্কেট আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুজন বলেন, আমরা শ্রীমঙ্গল থেকে ১১ থেকে ১২ টাকা পিস লেবু কিনি। সেটা কারওয়ান বাজারে এনে ৫ ক্যাটাগরিতে আলাদা করে বিক্রি হয়। কিছু লেবু ৩-৪ টাকা বিক্রি হয়, আবার ভালো বড় লেবু দাম ১৭ টাকায়ও বিক্রি হয়। আমরা এখন থেকে প্রতি লেবুতে ২ টাকা কমিয়ে দেবো। অর্থাৎ যে লেবুর দাম ১৭ টাকা ছিল, সেটা ১৫ টাকায় বিক্রি হবে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সব তেল বিক্রেতার পক্ষে আখি ইন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমরা ৫ লিটার তেল ৯২০ টাকা বিক্রি করি। গায়ের দাম আরও বেশি, ৯৫০ টাকা। এখন থেকে প্রতি ৫ লিটারে আরও ৫ টাকা ছাড় দেওয়া হবে।

কিচেন মার্কেটের সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, চিনি প্রতি কেজি প্যাকেটের গায়ের দাম ১০৫ টাকা, যা ১০২ টাকায় আমরা কারওয়ান বাজারে বিক্রি করতাম, এখন থেকে ১০১ টাকা বিক্রি করবো।

ছোলার দাম প্রসঙ্গে কুমিল্লা স্টোরের কর্ণধার গোফরান বলেন, এতদিন আমরা ছোলা ৮০ টাকা কিনে ৮৫ টাকা কেজি বিক্রি করেছি, এখন লাভ ২ টাকা কমিয়ে ৮৩ টাকা বিক্রি করবো।

রমজানের প্রয়োজনীয় আরেক পণ্য ট্যাংয়ের দাম নিয়ে একজন ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে ২ কেজি জার ট্যাং ১ হাজার ৯০০ টাকা এমআরপিতে বিক্রি হয়। আমাদের কারওয়ান বাজারে বিক্রি হতো ১ হাজার ৫৮০ টাকা। এখন ১ হাজার ৫৬০ টাকা বিক্রি হবে। ছোট পেপার বক্স ৩৮০ টাকা বিক্রি হবে, যা আগে ৩৮৫ টাকা ছিল।

মাংস ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখন থেকে আমরা ৩০ টাকা কমে ৭৫০ টাকায় প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি করবো।

চাল ব্যবসায়ীরা বলেন, আগে মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ২ টাকা লাভ করতাম, এখন ১ টাকা লাভে বিক্রি করবো। এখন থেকে মিনিকেট চাল ৮১ টাকা থেকে কমিয়ে ৮০ টাকা বিক্রি হবে।

এ সময় সাইফুল আলম মিলন বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ দাম কমিয়েছি। কারও ওপর চাপিয়ে দিতে চাইনি। রমজানের দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা থেকে লাভের আংশ থেকে তারা এ ছাড় দিয়েছেন। আমি ব্যবসায়ীদের কনভিন্স করে দাম কমাবো। তাদের জোর-জবরদস্তি করে পায়ে ঠেলতে চাই না, বুকে ধরে দাম কমাতে চাই।

রাষ্ট্রপতিকে না জানিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেছে অন্তর্বর্তী

অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতির অগোচরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও বর্তমান সরকার তা লঙ্ঘন করেছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক চুক্তি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি উল্লেখ করেন, চুক্তি ছোট হোক বা বড়, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাকে জানানো অপরিহার্য। পূর্ববর্তী সরকারপ্রধানরা সবসময় এই নিয়ম মেনে চললেও বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা সেই বাধ্যবাধকতা মানেননি।

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে তাকে দূরে রাখা হয়েছে এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার কোনো সমন্বয় হয়নি। তিনি বলেন, “উনি যে প্রধান উপদেষ্টা হলেন, সেই প্রক্রিয়ার উৎসই ছিলাম আমি। কিন্তু পরে তিনি একবারের জন্যও আমার কাছে আসেননি বা সমন্বয় করেননি।”

রাষ্ট্রপতি আরও অভিযোগ করেন যে, তাকে অনেকটা ‘গৃহবন্দি’ পরিস্থিতির মতো রাখা হয়েছে। তার দুটি নির্ধারিত বিদেশ সফর আটকে দেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের মতো রাষ্ট্রীয় প্রথাগত অনুষ্ঠানগুলোতেও তাকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

প্রশাসনিক অসহযোগিতার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, এক রাতের মধ্যে বিদেশের সব হাইকমিশন থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যা তিনি সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং প্রত্যাহার এবং জাতীয় দিবসের ক্রোড়পত্রে তার ছবি ও বাণী প্রকাশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতির এই বিস্ফোরক মন্তব্যে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

কেউ পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কেউ পুলিশের কাজে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি পুলিশের কাজে অবৈধভাবে বাধা বা হস্তক্ষেপ করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক হোক কিংবা সামাজিক, কেউ পুলিশের বৈধ কাজে বাধা দিতে পারবে না। পুলিশের কার্যক্রমও দেখা হবে যেন জনভোগান্তি না হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‌‘পুলিশ জনগণের বন্ধু— এ কথা আমরা মুখে বলি। তবে বাস্তবে সেই বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠা করতে আমরা কাজ শুরু করেছি। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে নানা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে পুলিশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পুলিশি ব্যবস্থা ছাড়া সমাজ টিকবে? অতএব আমরা পুলিশকে সংস্কার করতে চাই এবং তাদের মনোবল বৃদ্ধির মাধ্যমেই সেই সংস্কার সম্ভব। আমরা সেই কাজটাই করছি।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ে শুধু পুলিশ নয়, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড়াতে হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তীসময়ে জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে হবে। সেই মোটিভেশনাল ওয়ার্কটা আমরা করছি।

তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবো, তাদের সাহস জোগাবো এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিকনির্দেশনা দেবো। পেছনের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে লক্ষ্য রেখেই এগিয়ে যেতে চাই।

মানসিক চাপ মুক্তি

১। নেচে-গেয়ে মাতিয়ে দিন মনকে।
২। হাঁটতে বের হন
৩। মনে কোন কষ্ট থাকলে বন্ধুর কাছে প্রকাশ করে ফেলুন
৪। শ্বাস নিন গভীরভাবে
৫। তাড়তাড়ি ঘুমাতে যান।
৬। আপনি যে বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণক্ষম সেগুলোতে জোর দিন।
৭। ভালদিনের স্মৃতি রোমন্থন করুন।
৮। আলিঙ্গনে লিপ্ত হন।
৯। জীবনযুদ্ধ মোকাবিলার সহজ সুযোগ ও উপায়গুলো খুঁজুন।
১০। হাসুন। প্রাণ খুলে হাসুন।

স্পিকার পদে আলোচনায় তিনজন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ বসতে যাচ্ছে। ওই অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় এই পদগুলোতে কাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। পাশাপাশি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জন। তবে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সরকারদলীয় চিফ হুইপ পদ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্পিকার পদে বিএনপির প্রবীণ তিন নেতার নাম ঘুরেফিরে আলোচনায় আসছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নাম। নরসিংদী-২ আসন থেকে পাঁচবারের নির্বাচিত এই সংসদ-সদস্যকে ‘ক্লিন ইমেজের’ নেতা হিসেবে দেখা হয়।

এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নামও আলোচনায় রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি তিনি এবার বরিশাল-৩ আসন থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সাংবিধানিক ও নির্বাচনী আইন বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা স্পিকার পদের জন্য তাকে এগিয়ে রাখছে বলে মত রয়েছে।

আরেক সম্ভাব্য নাম সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও অর্থনীতিবিদ ড. এম ওসমান ফারুক। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের এই সংসদ-সদস্য দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেছেন। প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী অভিজ্ঞতার কারণে তাকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ডেপুটি স্পিকার পদে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ভোলা-১ আসনের ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং নোয়াখালী-১ আসনের ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নাম শোনা যাচ্ছে। তিনজনই দলের ভেতরে সক্রিয় ও পরিচিত মুখ। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি, দলীয় প্রধানের বিবেচনাই এখানে প্রধান ভূমিকা রাখবে বলে জানা গেছে।

সরকারদলীয় চিফ হুইপ পদে নোয়াখালী-২ আসনের জয়নুল আবদিন ফারুক ও নোয়াখালী-৩ আসনের বরকত উল্লাহ বুলুর নাম আলোচনায় রয়েছে। জয়নুল আবদিন ফারুক ছয়বারের সংসদ-সদস্য এবং অতীতে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ছিলেন। অন্যদিকে পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ-সদস্য বরকত উল্লাহ বুলুও অতীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অফিস করলেন

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার সকালে (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রথমবারের মতো ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অফিস করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় তাঁর অফিসে পৌঁছেন। এসময় সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তিন বাহিনীর প্রধানগণ স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী প্রধানগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরীকে ‘র‌্যাঙ্ক ব্যাজ’ পরিয়ে দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন– প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি (অব.), সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, প্রতিরক্ষা সচিব মোঃ আশরাফ উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মোঃ মেহেদুল ইসলাম প্রমুখ।

সাকিবকে ফেরাতে সক্রিয় বিসিবি

০

কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে দেশে ফেরাতে সক্রিয় হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে টাইগাররা। আসন্ন সিরিজে তাকে দেখার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর বলেন, ‘সাকিবের সঙ্গে আমার নিয়মিত কথা হয়। সবশেষ যখন আমি আমেরিকায় গিয়েছিলাম সেখানেও কথা হয়েছে। সাকিব বলেছে সে খেলতে চায়। এরপর বোর্ড পরিচালকদের সবার সম্মতিক্রমে আমরা সাকিবকে বাংলাদেশ দলে চেয়েছি।’
সাকিবের বিরুদ্ধে পুরোনো মামলা ও আইনি বিষয় নিয়ে আসিফ বলেন, ‘পরে সাকিবের মামলা বা অন্যান্য যা রয়েছে সেগুলো নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছি। সেগুলো নিয়ে তার আইনজীবী যোগাযোগ করেছে বিসিবির সঙ্গে। আমরা খুব দ্রুততম সময়ে খুব সম্ভবত রবিবার-সোমবারে কেসের ফাইলগুলো পৌঁছে দেব এবং পরবর্তী দায়িত্ব সরকারের। আশা করছি সোমবারের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে সরকারের কাছে পৌঁছে দেব সাকিবের কেসের ফাইলগুলো।’
বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, ‘সাকিব ক্রিকেটার কি না এটা নতুন করে বলার কিছু নেই। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটগুলোতে খেলছে সে, সেখানে কিছু কিছু পারফরম্যান্স অত্যন্ত চমৎকার।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সকাল ১১টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই পক্ষ দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জনশক্তি রপ্তানি এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে।

সৌদি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নতুন সরকারের সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এর আগে সকাল ৯টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে আসেন, যেখানে মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার তাকে স্বাগত জানান।

অচিরেই শুটিংয়ে ফিরছেন না তানিয়া

অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি ডাক্তারদের ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরতে পেরেছেন। ৫দিন আগে প্রায় চার ঘণ্টার সফল অপারেশনে ব্রেন টিউমার অপসারণ করা হয় তার। গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা সকাল আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর চিকিৎসকরা তানিয়াকে পর্যবেক্ষণে রাখেন। এখন তিনি আগের চেয়ে অনেকটা স্থিতিশীল এবং ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগোচ্ছেন।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সফল অস্ত্রোপচারের পর ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে ধীরে ধীরে অভিনেত্রীর শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে এগোতে থাকে।

গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দেন। বর্তমানে বাড়িতে অবস্থান করছেন তানিয়া বৃষ্টি। আরও জানা যায়, বাড়ি ফিরলেও কিছু দিন বিশ্রামে থাকতে হবে তানিয়াকে।

পাশাপাশি মেনে চলতে হবে চিকিৎসকের দেওয়া প্রয়োজনীয় পরামর্শ। অভিনেত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো ধরনের শুটিং বা নতুন কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না। এই সময়ে পেশাগত কোনো প্রয়োজনে তার সঙ্গে যোগাযোগ না করার জন্য নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এবং শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পেলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম শেষে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন এই দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী।

ব্রেন টিউমার অপারেশনের জন্য গেল শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন তানিয়া বৃষ্টি। সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে অসুস্থতার বিষয়টি জানান। ১৫ ফেব্রুয়ারি তার মাথায় চিকিৎসকরা সফল অস্ত্রোপচার করেন।

ছোট পর্দায় নিয়মিত অভিনয় করে দর্শকের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তানিয়া বৃষ্টি। ২০১৫ সালে ‘ঘাসফুল’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন। ২০১৯ সালে ‘গোয়েন্দাগিরি’ সিনেমায় তাকে দেখা যায়। এরপর আর অভিনেত্রীকে বড়পর্দায় দেখা যায়নি। তবে দীর্ঘ বিরতি ভেঙে রায়হান খানের পরিচালনায় ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমার মাধ্যমে আবারও বড় পর্দার অভিনয়ে ফিরছেন তানিয়া বৃষ্টি।

স্যালাইন, ইনজেকশন নিলে কি রোজা নষ্ট হবে?

আত্মসংযম ও তাকওয়া অর্জনের মাস রমজান। সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকার এ সাধনায় কখনও কখনও অসুস্থতা বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। হঠাৎ শারীরিক দুর্বলতা, ডিহাইড্রেশন বা অন্যান্য জটিলতায় চিকিৎসকের পরামর্শে স্যালাইন, ভিটামিন ইনজেকশন কিংবা শিরায় ওষুধ নিতে হতে পারে অনেকের।

এক্ষেত্রে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে এ ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ করলে কি রোজা ভেঙে যাবে? শরিয়তের দৃষ্টিতে এর সঠিক বিধান কী?

রোজা ভঙ্গের মূলনীতি
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, সাধারণত মুখ বা নাক দিয়ে খাদ্য, পানীয় বা পুষ্টিদায়ক কোনো বস্তু পাকস্থলীতে প্রবেশ করলে রোজা ভঙ্গ হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে নতুন নতুন পদ্ধতি চালু হওয়ায় এ বিষয়ে ফিকহবিদদের বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির আলেমদের মতে, রোজা ভঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হলো ইচ্ছাকৃত পানাহার এবং যা কিছু পানাহারের বিকল্প। অর্থাৎ যে কোনো খাদ্য বা পানীয় পেটে প্রবেশ করলে রোজা ভেঙে যায় তা মুখ দিয়ে হোক বা নাকের নল (টিউব) মাধ্যমে হোক। একইভাবে খাদ্যের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত পুষ্টিদায়ক ইনজেকশনও রোজা ভঙ্গকারী। (ফাতওয়াল লাজনা আদ-দায়িমা, ৯/১৭৮)

শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন, রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলোর মধ্যে খাওয়া ও পান করা অন্তর্ভুক্ত খাদ্য বা পানীয় যে ধরনেরই হোক না কেন। তাঁর মতে, যে ইনজেকশন শরীরে পুষ্টি যোগায় বা খাবারের মাধ্যমে যে শক্তি পাওয়া যায় তার বিকল্প হিসেবে কাজ করে, সেগুলোও খাওয়া-পান করার অন্তর্ভুক্ত; তাই এ ধরনের ইনজেকশন রোজা ভঙ্গ করবে। (মাজমুউ ফাতাওয়া ও রাসায়িলিল উছাইমীন, ১৯/২১)

তিনি আরও বলেন, আলেমগণ রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন কেবল সেসব বিষয়কে, যা পানাহারের বিকল্প হিসেবে কাজ করে যেমন পুষ্টিদায়ক ইনজেকশন। তবে যে ইনজেকশন শুধু শরীর চাঙ্গা করা বা রোগ নিরাময়ের জন্য দেওয়া হয় এবং খাদ্য–পানীয়ের বিকল্প নয়, তা রোজা ভঙ্গ করবে না। ইনজেকশন রগে, পেশীতে বা শরীরের অন্য যেকোনো স্থানে দেওয়া হোক যদি তা পানাহারের স্থলাভিষিক্ত না হয়, তাহলে রোজা নষ্ট হবে না। (মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িলিল উছাইমীন, ১৯/১৯৯)।

কিছু কিছু রোগীকে রগ দিয়ে যে স্যালাইন পুশ করা হয় এটি রোজা ভঙ্গ করবে। কেননা এটি খাদ্য দ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত। (কারণ এর মধ্যে লবণ ও তরল রয়েছে), যা পেটে প্রবেশ করবে এবং এর দ্বারা শরীর উপকৃত হবে।

ভিটামিন ইনজেকশন ও রগে পুশ করা ইনজেকশন
যদি এ সব ইনজেকশন শরীরকে চাঙ্গা করার জন্য, ব্যথ্যা দূর করার জন্য, কিংবা লাঘব করার জন্য, জ্বর কমানোর জন্য গ্রহণ করা হয় এবং এটি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন না হয় তাহলে এসব ইনজেকশনের কারণে রোজা ভঙ্গ হবে না। পক্ষান্তরে, যদি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হয় তাহলে এটি রোজা নষ্ট করবে। কারণ এটি খাবার ও পানীয়ের স্থলাভিষিক্ত; তাই এটাকে খাবার ও পানীয়ের হুকুম দেয়া হবে।

ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির মতে, রমজানে রোযাদার ব্যক্তি চিকিৎসার প্রয়োজনে দিনের বেলায় পেশীতে (আইএম) ইনজেকশন নিতে পারেন; এতে রোজা নষ্ট হয় না। তবে খাদ্য বা পুষ্টিদায়ক ইনজেকশন গ্রহণ করা বৈধ নয়, কারণ তা খাবার-দাবারের বিকল্প হিসেবে কাজ করে এবং রোজা ভঙ্গের শামিল। সম্ভব হলে পেশী বা রগে ইনজেকশন রাতের বেলায় নেওয়াই উত্তম। (ফতোয়াসমগ্র, ১০/২৫২)

সাপোজিটরিতে রোযা ভাঙে কী?
সাপোজিটরিতে রোজা ভাঙে না। কারণ এটি চিকিৎসার জন্য গ্রহণ করা হয়। এটি খাবার ও পানীয় এর মধ্যে পড়ে না। শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন, রোযাদার ব্যক্তি অসুস্থ হলে গুহ্যদ্বার দিয়ে প্রবেশকৃত সাপোজিটরি ব্যবহারে কোন গুনাহ্‌ নেই। কেননা এটি পানাহার নয় এবং পানাহারের স্থলাভিষিক্তও নয়। শরিয়ত প্রণেতা আমাদের ওপর শুধু পানাহার করা হারাম করেছেন। অতএব, যা কিছু পানাহারের স্থলাভিষিক্ত সেটাকে পানাহারের হুকুম দেয়া হবে। আর যা কিছু এরকম নয় সেগুলো শব্দগত কিংবা অর্থগতভাবে পানাহারের অধীনে পড়বে না। (ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব)