Home Blog Page 227

যেসব সমস্যা দেখতে মাইগ্রেনের মতো হলেও মাইগ্রেন না

০

মাথাব্যথা অনেকের জীবনেই একটি বড় সমস্যা। কারও মাইগ্রেন, কারও সানোসাইটিস, কারও বা স্ট্রেস হেডেক – এগুলো অনেকের জীবনকেই ব্যাহত করে।

কিন্তু শুধু তীব্র ব্যথা মানেই কি মাইগ্রেন? অনেক সময় ব্যথার পেছনে আরও জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা থাকতে পারে, যা মাইগ্রেনের মতো মনে হলেও আসলে আলাদা রোগের লক্ষণ।

মাইগ্রেন হলো একটি নার্ভোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার, যা গুরুতর মাথাব্যথা, বমি-বমি ভাব, আলো ও শব্দ-সংবেদনশীলতা দিয়ে চিহ্নিত হয়। প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে মাথাব্যথায় ভোগে। এর মধ্যে মাইগ্রেন শীর্ষস্থানে থাকে।

যদিও গবেষণা দেখায় মাইগ্রেন নিজে অন্য রোগ কারণে তৈরি করে না, তবে মাইগ্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত বা ভুল বোঝাবুঝি হয়ে এমন কিছু সমস্যা থাকতে পারে যা দেখতে মাইগ্রেনের মতো মনে হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক আর কোন কোন স্বাস্থ্যসমস্যার লক্ষণ মাইগ্রেনের মতো –

যেসব সমস্যা দেখতে মাইগ্রেনের মতো হলেও মাইগ্রেন না

১. স্ট্রোক – হঠাৎ ভয়াবহ মাথাব্যথা
স্ট্রোক, বা মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ ব্লক হওয়া বা রক্তনালী ফেটে যাওয়া মাঝে মাঝে মাইগ্রেনের মতো আকস্মিক ও তীব্র ব্যথা তৈরি করতে পারে। সত্যিকারের স্ট্রোকের ব্যথা সাধারণত হঠাৎ শুরু হয়, এবং মুখ বা হাত নড়াচড়া করতে কষ্ট হয়।

তবে এটি মাইগ্রেনের মতো ধীরে ধীরে শুরু হয় না্ স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মুখের একপাশ বাঁকা হয়ে যাওয়া, কথা বলায় অসুবিধা হওয়া ইত্যাদি লক্ষণও থাকে।

২. হার্ট ডিজিজ এবং মাইগ্রেনের সম্পর্ক
মাইগ্রেন থাকলে হার্ট ডিজিজ বা হৃদরোগের ঝুঁকি কিছুটা বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে যাদের মাইগ্রেনের আগে অরা থাকে। অরা অর্থ চোখের সামনে আলো ঝলমল করা বা দাগ দেখতে পাওয়া। এমন ক্ষেত্রে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা একটু বেড়ে যায়।

৩. খিঁচুনি বা ফোকাসের সমস্যা
কিছু সময় মাইগ্রেনের অরার লক্ষণগুলো খিঁচুনির মতো মনে হয় – অনিয়ন্ত্রিত আচরণ, বিভ্রান্তি, এমনকি কিছুক্ষণের জন্য অচেতন ভাব। গবেষকরা মনে করেন কিছু ধরণের খিঁচুনি ও মাইগ্রেনের মাঝে জিনগত সম্পর্ক থাকতে পারে।

যেসব সমস্যা দেখতে মাইগ্রেনের মতো হলেও মাইগ্রেন না

৪. কান ও শ্রবণ সমস্যা
মাইগ্রেনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিরল একটি পরিস্থিতি হলো হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, যা খুব তাড়াতাড়ি কয়েক দিনের মধ্যে ঘটে। যদিও এটি খুবই বিরল, মাইগ্রেনের রোগীদের মধ্যে এটি তুলনামূলক কিছুটা বেশি দেখা যায়।

৫. মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা
মাইগ্রেন থাকলে অ্যাংজাইটি বা ডিপ্রেশনের মতো মানসিক সমস্যা জটিল হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে মাইগ্রেনের সঙ্গে এই মানসিক দিকগুলোর সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু এরা একে অপরকে সৃষ্টি করে কি না, তা নিয়ে আরও গবেষণা চলছে।

কখন সতর্ক হবেন?
যদি মাথাব্যথা অতি তীব্র ও হঠাৎ শুরু হয়, হাত বা মুখ নড়াচড়া না করে ও কথা এলোমেলো হয় – তাহলে একে কেবল মাইগ্রেন ভাবা ঠিক হবে না। এগুলো স্ট্রোক, খিঁচুনি বা অন্য গুরুতর নিউরোলজিক্যাল সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই মাইগ্রেনের ব্যথায় সাধারণ ব্যথানাশক বা বিশ্রাম কাজ না করলে দ্রুত হেডেক স্পেশালিস্ট বা নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন।

শ্বশুরবাড়ি থেকে পাওয়া উপহারে দিতে হবে কর

০

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) উপহার বা দানের ওপর কর আরোপসংক্রান্ত বিধানে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই সংশোধনের ফলে কোন ক্ষেত্রে উপহার করমুক্ত থাকবে এবং কোন ক্ষেত্রে কর দিতে হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট কয়েকটি পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে উপহার বা দান করলে তা করমুক্ত থাকবে। তবে এসব সম্পর্কের বাইরে কারও কাছ থেকে উপহার পেলে সেটি করের আওতায় পড়বে।

যাদের কাছ থেকে উপহার পেলে কর বসবে না

চার ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উপহার বা দান সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকবে। এ ক্ষেত্রে অর্থ, গয়না, জমি, ফ্ল্যাটসহ স্থাবর ও অস্থাবর সব ধরনের সম্পদই কর ছাড়াই হস্তান্তর করা যাবে। করমুক্ত সম্পর্কগুলো হলো—
১. স্বামী-স্ত্রী
২. মাতা-পিতা
৩. ছেলে-মেয়ে
৪. আপন ভাই-বোন

চলতি অর্থবছর থেকে করমুক্ত দান বা উপহারের তালিকায় আপন ভাই ও বোনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এনবিআর। ফলে সহোদর ভাই-বোনের মধ্যে অর্থ বা সম্পদ লেনদেনে আর কর দিতে হবে না।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনেক সময় ভাই-বোনের ব্যাংক হিসাবে রেমিট্যান্স বা উপহার হিসেবে অর্থ পাঠান। রেমিট্যান্স করমুক্ত হলেও উপহার হিসেবে পাঠানো অর্থ নিয়ে আগে কিছুটা অস্পষ্টতা ছিল। নতুন ব্যাখ্যায় বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, পাঁচ লাখ টাকার বেশি যেকোনো লেনদেন অবশ্যই ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে করতে হবে।

যাদের উপহারে কর দিতে হবে

এনবিআরের তালিকায় শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা করমুক্ত সম্পর্কের মধ্যে নেই। ফলে শ্বশুর-শাশুড়ি, শ্যালক-শ্যালিকা কিংবা শ্বশুরবাড়ির অন্য কোনো সদস্যের কাছ থেকে টাকা, গয়না, জমি বা ফ্ল্যাট উপহার হিসেবে পেলে সেটির ওপর কর দিতে হবে।

মোদ্দাকথা, স্বামী-স্ত্রী, মাতা-পিতা, সন্তান ও আপন ভাই-বোন ছাড়া অন্য যে কারও কাছ থেকে উপহার পেলে তা করযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

এনবিআর জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে শ্বশুরবাড়ি থেকে পাওয়া সম্পদ উপহার হিসেবে কর নথিতে দেখিয়ে অবৈধ অর্থ বৈধ করার অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম ঠেকাতেই করমুক্ত উপহারের পরিধি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

কীভাবে রিটার্নে দেখাবেন

এনবিআর সূত্র অনুযায়ী, করমুক্ত সম্পর্ক ছাড়া অন্য যে কারও কাছ থেকে উপহার পেলে তা সংশ্লিষ্ট করবর্ষের আয়কর রিটার্নে দেখাতে হবে এবং নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে উপহারদাতাকেও তার আয়কর রিটার্নে উপহার দেওয়ার তথ্য উল্লেখ করতে হবে।

স্বর্ণের বাজারে বড় পতন, আজ থেকে নতুন দামে বিক্রি

০

দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর অবশেষে দেশের স্বর্ণবাজারে স্বস্তির খবর এলো। টানা ছয় দফা দাম বাড়ার পর স্বর্ণের মূল্য কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) থেকে সারা দেশে নতুন নির্ধারিত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।
সবশেষ গত ২২ জানুয়ারি রাতে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমানো হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম পড়বে ভরিপ্রতি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৪ হাজার ৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হবে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৩৭ টাকায়।
বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
এর আগে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি স্বর্ণের দামে বড় ধরনের সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৩৩৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকায় উন্নীত করা হয়, যা ছিল দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ মূল্য। সেই দামে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হয়েছিল ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা, যা কার্যকর হয়েছিল ২২ জানুয়ারি থেকে।
চলতি বছরে এ নিয়ে দেশের বাজারে মোট ১১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে ৮ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩ দফা কমানো হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে সারা বছরে স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়েছিল ৯৩ বার, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামেও কমতি এসেছে। ভরিপ্রতি ৫২৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ভরিপ্রতি ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি বছরে এ পর্যন্ত রুপার দাম ৮ দফা সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ দফা বেড়েছে এবং ৩ দফা কমেছে। আর ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় হয়েছিল মোট ১৩ বার এর মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

নির্বাচনের দিন ফজর নামাজ পড়বেন ভোটকেন্দ্রে-তারেক রহমান

০

এবার ও ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে,নির্বাচনের দিন ফজর নামাজ পড়বেন ভোটকেন্দ্রে,ধানের শীষ সরকার গঠন করলে, আমাদের তরুন সমাজে যুব সমাজে বেকার সমস্যা আছে,বেকার সমস্যা একটা বিরাট সমস্যা।বেকারদের জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করবো কর্মসংস্থান এর জন্য।দেশে যেনো একটা ব্যবসা করতে পারে এবং বিদেশে গিয়ে ভালো একটা কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার(২২জানুয়ারী)রাত ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্রাপাড়া খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,ফ্যামেলি কার্ডের ব্যবস্থা করবো,পুরুষের পাশাপাশি মহিলাদের যদি সাপোর্ট থাকে তাহলে একটা ফ্যামিলি খুব ভালোভাবে চলতে পারে,সন্তানদের মানুষ করতে পারে,তাই গৃহিনীদের জন্য এই ব্যবস্থা করে দেবো,তাছাড়া কৃষকদের জন্য কৃষি থাকবে বিনামূল্যে সার,বীজ যেনো কৃষকেরা পায়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া১(নাসিরনগর)আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমএ হান্নান,ব্রাহ্মণবাড়িয়া২(সরাইল আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগর আংশিক)আসনে বিএনপির জোট প্রার্থী আল্লামা জুনায়েদ আল হাবিব,ব্রাহ্মণবাড়িয়া৩(সদর বিজয়নগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব (শ্যামল),ব্রাহ্মণবাড়িয়া৪(কসবা আখাউড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমান,ব্রাহ্মণবাড়িয়া৫(নবীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ মান্নান,ব্রাহ্মণবাড়িয়া৬ আসনে বিএনপি জোট প্রার্থী মোঃ জোনায়েদ সাকীসহ জেলা উপজেলার হাজারও নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণ।

ধামরাইয়ে এনসিপির কার্যালয় ভাঙচুর অভিযোগ, তবে ভাঙচুর নয় বলে দাবি ভবন মালিক ও পুলিশের

০

ঢাকার ধামরাইয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি নির্বাচনি কার্যালয় লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। তবে ভবন মালিক ও পুলিশ তা অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, সেখানে কোনো লুটপাট বা ভাঙচুর হয়নি,অনুমতি ছাড়া নির্মাণাধীন ভবনে রাখা চেয়ার, টেবিল ও ব্যানার ভবন মালিক সরিয়ে রেখেছেন মাত্র। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের কালামপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়। পরে পুলিশ ও ভবন মালিকের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।

এনসিপির দাবি অনুযায়ী, গত ২১ জানুয়ারি কালামপুর বাজার এলাকায় একটি ভবনের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে সেখানে ব্যানার টাঙানো হয় এবং ১৫-২০টি চেয়ার ও কয়েকটি টেবিল দিয়ে কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়। তবে বৃহস্পতিবার এসে নেতাকর্মীরা দেখতে পান, কার্যালয়ের কোনো মালামাল নেই।

এনসিপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ অভিযোগ করেন, তাদের নির্বাচনি কার্যক্রম শুরুর আগেই একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে কার্যালয় ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। গতকাল রাত পর্যন্ত আমাদের অফিসে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। আজ এসে দেখি সব চেয়ার, টেবিল ও ব্যানার নেই, অফিস সম্পূর্ণ খালি।
তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন ভবন মালিক মোঃ শামসুর রহমান। তিনি বলেন,ভবনটি এখনো নির্মাণাধীন। এনসিপিকে কোনো অংশ ভাড়া দেওয়া হয়নি। আমার অনুমতি ছাড়াই এখানে ব্যানার লাগানো হয়েছিল। তাই সেগুলো খুলে রেখে দিয়েছি। চেয়ার-টেবিল এখনো আমার হেফাজতেই আছে। কোনো লুটপাট বা ভাঙচুর হয়নি। তিনি আরও জানান, ভবন ব্যবহারের বিষয়ে এনসিপির কেউ তার সঙ্গে আলোচনা বা অনুমতি নেননি।

এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ধামরাই থানা পুলিশ জানায়, সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আলামত পাওয়া যায়নি।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাজমুল হুদা খান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারি, ভবনের মালিক মালামাল পাশের একটি দোকানে সরিয়ে রেখেছেন।  বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

এখন তিনি জানিয়েছেন, এনসিপিকে কার্যালয় করতে দেওয়ার বিষয়ে তার আপত্তি নেই। দোকান মালিক বুঝতে না পেরে সরিয়ে রাখেন। এখানে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ধর্ষণের অভিযোগে দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

০

জামালপুর শিশু আদালত-১ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আজ বৃহস্পতিবার এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুইজনকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে । সেই সাথে  প্রত্যেককে ৩ লাখ টাকা জরিমানাও করেছে। জরিমানার টাকা ভিকটিম প্রাপ্ত হবেন এই আদেশ দেন বিচারক।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জামালপুর সদর উপজেলার ডেফালী বাড়ী গ্রামের আলাল উদ্দিনের ১৮ বছর বয়সী ছেলে মো. রিফাত হোসেন এবং গোপালপুর দামেশ্বর গ্রামের আব্দুল মান্নান আকন্দ বেলের ২৪ বছর বয়সী ছেলে মো. সাব্বির হোসেন আকন্দ ওরফে সেতু।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মোঃ ফজলুল হক সাংবাদিকদের জানায়, বিগত ২৬ জানুয়ারী ২০১৮ রাতে দশম শ্রেণির ছাত্রী তার বাড়ির কাছে কেন্দুয়া দেওয়ানীপাড়া এলাকার মাদ্রাসা মাঠে বাৎসরিক ইসলামিক সম্মেলন ও ওয়াজ মাহফিল শোনার জন্য ইসলামিক সম্মেলন অনুষ্ঠানে যায়। সেখানে যেয়ে সে ক্ষুধার্তবোধ করায় রাত ১১টার দিকে ভাপা পিঠা খাবার কিনতে সভার বাহিরে রাস্তায় যায়।  সেই সময় মোঃ সাব্বির হোসেন আকন্দ ও মোঃ রিফাত হোসেন তাকে জোর করে কাছের মেশিন ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর ভিকটিমের মা মোছাঃ নাজমা বেগম বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
পরে শিশু আদালত-১ (জেলা ও দায়রা জজ) এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম ৯জন সাক্ষির সাক্ষ গ্রহণ এবং প্রাসঙ্গিক নথিপত্র পরীক্ষা করে তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০(সংশোধনী/০৩) এর ৯(৩) ধারায় সশ্রম কারাদন্ড এবং প্রত্যেককে তিন লক্ষ টাকা জরিমামানার আদেশ দেন। সরকার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন, এ্যাডভোকেট মোঃ ফজলুল হক পি.পি. এবং আসামী পক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নন।

বিড়ি নিয়ে ভাইরাল বক্তব্যে ২ কোটি ভোট বেড়েছে জামায়াতের

০

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত-সমালোচিত বক্তব্যকে নেতিবাচক নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হিসেবে দেখছেন ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ফয়জুল হক। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক এক বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া ভাইরাল আলোচনা জামায়াতের পক্ষে নতুন করে বিপুল ভোটের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম-মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতুকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ফয়জুল হক বলেন, “ফেসবুক ব্যবহারে আমাদের সতর্ক থাকতে হয়। কারণ আমরা যা করি বা বলি, সবই ভাইরাল হয়ে যায়। সেদিন একটি বক্তব্য দিয়েছিলাম যা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে; অথচ ওই বক্তব্যের কারণে জামায়াতের ভোট বেড়েছে ২ কোটি।”

তিনি দাবি করেন, চায়ের দোকান বা সাধারণ মানুষের আড্ডাস্থলে গিয়ে কর্মীদের দাওয়াতি কর্মকাণ্ডের কথা বলতে গিয়ে তাঁর বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আমি বলেছি আমার কর্মীরা চায়ের দোকানে গেলে চা খাওয়া অবস্থায়ও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দেবে। কেউ যদি বিড়ি খেয়েও থাকে, সেখানেও দাওয়াত পৌঁছাবে। এতে সমস্যা কোথায়? বিড়ি খাওয়া মানুষ কি আমাদের ভোট দেবে না? দাড়ি ছাড়া মানুষ কি ভোট দেবে না?”

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের ভুল অভ্যাস পরিবর্তনের সুযোগ আল্লাহই দেন। আল্লাহ চাইলে কাউকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন। জান্নাত-জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষকে সংশোধনের জন্য।

ভাইরাল হওয়াকে নেতিবাচক না দেখে ড. ফয়জুল হক এটিকে রাজনৈতিক ‘ফ্রি মার্কেটিং’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “এতে আমাদের জন্য কোটি টাকার মার্কেটিং হয়ে গেছে। দুই মিনিটের বক্তব্যই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া এক ধরনের উপহার।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাসী সুরে তিনি বলেন, কাঁঠালিয়া ও রাজাপুর ঘুরে মানুষের আগ্রহ দেখে তিনি নিশ্চিত যে ভোটাররা পরিবর্তন চায়। ভোটাররা বলছেন—সব দেখা হয়েছে, এবার ‘দাঁড়িপাল্লা’ দেখতে চাই। বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘরে ফিরবেন না বলে ঘোষণা দেন তিনি।

কোয়ালিফায়ারে দুই কিউই তারকার ঝলক

০

ফাইনালের টিকিট পাওয়ার ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের দুই কিউই তারকা- শেন উইলিয়ামসন (ডানে) ও জিমি নিশাম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলমান আসরে রাজশাহীকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে দলটি। বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করেছে রাজশাহী। দলের হয়ে খেলেছেন কেন উইলিয়ামসন ও জিমি নিশাম। কিউই দুই তারকা ৬৮ রানের জুটি গড়েন।

উইলিয়ামসন ৪৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। অন্যদিকে নিশাম ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৭ রান করেছে সিলেট। ব্যাট হাতে দারুণ শুরু করে রাজশাহীর দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান তামিম। পঞ্চম ওভারে পাকিস্তানি পেসার সালমান ইরশাদের বলে আউট হয়েছেন ফারহান। সাজঘরে ফেরার আগে ২১ বল খরচায় ৪টি চার ও এক ছক্কায় ২৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর ব্যাটিংয়ে নামেন কেইন উইলিয়ামসন। প্রথমবারের মতো বিপিএলে খেলতে এসেছন এই কিইউ তারকা। নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক এদিন সকালে ঢাকায় আসেন। রাজশাহী পাওয়ারপ্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে ৬১ রান।

রান্নার আগে মুরগি ধোয়া কি আসলেই নিরাপদ? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

০

রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে আমরা সাধারণত সবকিছু পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়ার পক্ষপাতী। হাত ধোয়া থেকে শুরু করে ফলমূল বা সবজি—সবকিছুতেই পানির ব্যবহার আমাদের জীবাণুমুক্ত থাকার ভরসা জোগায়।

তবে মুরগির মাংসের ক্ষেত্রে এই চিরচেনা অভ্যাসটি উপকারের চেয়ে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করছেন খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণত আমাদের ধারণা থাকে যে, ধুয়ে নিলে মাংসের উপরিভাগের জীবাণু চলে যায়, কিন্তু বাস্তবতা এর ঠিক উল্টো। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কিম্বারলি বেকারের মতে, কাঁচা মুরগির গায়ে থাকা সালমোনেলা বা ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া পানি দিয়ে ধুলে ধ্বংস হয় না; বরং ধোয়ার সময় পানি ছিটকে সিঙ্ক, কাটিং বোর্ড, ছুরি এবং অন্যান্য বাসনকোসনে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।

সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্যমতে, বাজার থেকে কেনা মুরগির প্রতি ২৫টি প্যাকেটের অন্তত একটিতে ক্ষতিকর সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া থাকার সম্ভাবনা থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মুরগি ধোয়ার পর সিঙ্ক পরিষ্কার করলেও অনেক সময় জীবাণু থেকে যায়, যা পরবর্তীতে অন্য খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে আমাদের অসুস্থ করে তুলতে পারে। তাই সহজ কথায় বলতে গেলে, রান্নার আগে মুরগি ধোয়া মানে পুরো রান্নাঘরে জীবাণু ছড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়া।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুরগি পরিষ্কার করার জন্য পানি ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ আগুনের তাপেই এই জীবাণুগুলো ধ্বংস হয়।

তবে মুরগির চামড়া বা উপরিভাগের বাড়তি আর্দ্রতা দূর করতে চাইলে কিছু নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। রান্নার আগে কিচেন টাওয়েল বা টিস্যুপেপার দিয়ে মুরগির গা আলতো করে মুছে নেওয়া যেতে পারে, যাতে বাইরের ভেজাভাব না থাকে। কাজ শেষে ব্যবহৃত টিস্যুটি দ্রুত ফেলে দিতে হবে এবং অবশ্যই হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

এছাড়া রান্নাঘরে মুরগি নিয়ে কাজ করার সময় কিছু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। মুরগি ধরার আগে ও পরে হাত ধোয়া, প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ড ব্যবহার করা এবং রান্নার পর ব্যবহৃত ছুরি ও বোর্ড ভালোভাবে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, মুরগির মাংসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো সঠিক তাপমাত্রায় এটি রান্না করা। মাংসের ভেতরের তাপমাত্রা অন্তত ১৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট হলে তা জীবাণুমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই রান্নার আগে পানি দিয়ে ধুয়ে ঝুঁকি না বাড়িয়ে বরং সঠিকভাবে সেদ্ধ বা রান্না করাই পরিবারের সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

একটু সচেতনতা আর সঠিক নিয়ম জানলে সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি পরিবারের সবার সুস্থতাও নিশ্চিত করা সম্ভব।

কৃষিপণ্যের দামে অস্থিরতার নেপথ্যে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য: বাংলাদেশ ব্যাংক

০

দেশে চাল, আলু, পেঁয়াজ, ব্রয়লার মুরগি ও ডিম—নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পাঁচ কৃষিপণ্যের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামার প্রধান কারণ হিসেবে মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট, দুর্বল সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও অদক্ষ বাজার ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ভ্যালু চেইন ইফিসিয়েন্সি অব এগ্রিকালচারাল প্রডাক্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ পাঠ করেন গবেষণা দলের প্রধান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের পরিচালক সেলিম আল মামুন।
দুই ধাপে গবেষণা, ১৮ জেলার মাঠতথ্য
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, গবেষণাটি দুই ধাপে পরিচালিত হয়। প্রথম ধাপ ২০২৫ সালের ৫ থেকে ১৬ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় ধাপ ১৫ জুন থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত। এ সময় ১৮টি জেলার ৬১টি উপজেলায় ‘পারপাসিভ র‍্যান্ডম স্যাম্পলিং’ পদ্ধতিতে ৪২৬ জন উত্তরদাতার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। আগস্ট মাসে গবেষণা প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করা হয়।
চালের বাজার মিলারনির্ভর
গবেষণায় দেখা গেছে, বোরো মৌসুমে প্রতি মণ ধান উৎপাদনে কৃষকের গড় খরচ ৮৭২ টাকা হলেও কৃষকরা ধান বিক্রি করেছেন ১ হাজার ১২৫ থেকে ১ হাজার ৪৫০ টাকায়। কৃষক পর্যায়ে কিছু মুনাফা থাকলেও চালের বাজার পুরোপুরি মিলারনির্ভর হয়ে পড়েছে।
কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি চালের দাম ৫০ টাকা হলেও খুচরা পর্যায়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮ দশমিক ৫০ টাকায়। মিলাররা চালের পাশাপাশি তুষ ও কুঁড়া বিক্রি করে প্রতি মণে অতিরিক্ত গড়ে ১০৬ টাকা আয় করছেন, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
আলুর দামে সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিমাগারে
আলুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার পর্যায়ে। কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ ১০ দশমিক ৬৩ টাকা হলেও কৃষক বিক্রি করেন ১৮ দশমিক ৪৪ টাকায়। হিমাগার থেকে বের হওয়ার সময় দাম দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ৮০ টাকা এবং খুচরা বাজারে তা বেড়ে হয় ৪৫ দশমিক ৮০ টাকা।
গবেষণায় বলা হয়, হিমাগার গেট থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত মধ্যস্বত্বভোগীদের উচ্চ মুনাফাই আলুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি কেজিপ্রতি ৬ দশমিক ৭৫ টাকা হিমাগার ভাড়া কমানোর সুযোগ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পেঁয়াজে সংকটের কারণ সংরক্ষণ দুর্বলতা:
পেঁয়াজের দামের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও ওজন হ্রাসের বিষয়টি। কৃষক পর্যায়ে কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ ১৯ দশমিক ২৪ টাকা, বিক্রয়মূল্য ৪৬ দশমিক ৯৪ টাকা এবং খুচরা বাজারে দাম দাঁড়ায় ৮০ দশমিক ৭৫ টাকা।
দীর্ঘ সময় বাড়িতে সংরক্ষণে প্রতি মণ পেঁয়াজে প্রায় ১২ কেজি পর্যন্ত ওজন কমে যায়। ফলে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে সরবরাহ সংকট তৈরি হয় এবং দাম কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১০০ টাকায় ওঠার আশঙ্কা থাকে। তবে গবেষণায় পেঁয়াজের বাজারে কোনো সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকটের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ব্রয়লার মুরগি ও ডিমে খামারিদের চাপ
ব্রয়লার মুরগির ক্ষেত্রে খামারিরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকি নিলেও মুনাফা খুবই সীমিত। কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ ১৬৩ দশমিক ৫৩ টাকা, খামারির বিক্রয়মূল্য ১৭২ দশমিক ১৮ টাকা এবং খুচরা বাজারে দাম ১৯৫ দশমিক ৩৩ টাকা। মোট ব্যয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশই যায় খাবারের পেছনে। জরিপ চলাকালে অনেক খামারি কেজিপ্রতি ১২ টাকা পর্যন্ত লোকসান করেছেন।
ডিম উৎপাদনেও একই চিত্র দেখা গেছে। একটি ডিমের উৎপাদন খরচ ৯ দশমিক ৪৭ টাকা, খামারি বিক্রি করেন ১০ দশমিক ২৬ টাকায় এবং খুচরা বাজারে দাম দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৭৭ টাকা। ডিম উৎপাদনের মোট খরচের প্রায় ৮৫ শতাংশই ফিডের জন্য ব্যয় হয়। অফ-সিজনে ছোট খামারিরা লোকসানে পড়লেও বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে।
বাজার স্থিতিশীল রাখতে যেসব সুপারিশ
কৃষিপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—আলু ও পেঁয়াজের জন্য উন্নত ও বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষকদের জন্য নগদ সহায়তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, পশুখাদ্যের দাম নিয়মিত মনিটরিং এবং ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য কন্ট্রাক্ট ফার্মিং মডেল চালু করা।