Home Blog Page 228

এবার খুনি ফয়সালকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন জুমা

শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। তাঁর দাবি, এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর উদ্দেশ্যেই ফয়সাল নামের একজনকে পরিকল্পিতভাবে জামিনে বের করে আনা হয়েছিল।

শনিবার (৩ জানুয়ারি ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে জুমা এই গুরুতর অভিযোগ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন— সরকারের ভেতর থেকে কারা এই আসামির জামিনের জন্য তদবির করেছিল এবং কোন বিচারক এই জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।

জুমা দাবি করেন, ফয়সালকে জেল থেকে বের করাই হয়েছিল এই খুনের মিশনটি সম্পন্ন করার জন্য। তিনি প্রশ্ন করেন, কোন আইনজীবী এবং কার সুপারিশে এই জামিন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছিল।

হত্যাকাণ্ডের চেষ্টায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত কবির সম্পর্কে তিনি বলেন, ফয়সালের সঙ্গে কবিরও প্রথম দিন থেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। কবিরের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (লিড) পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও মামলার অগ্রগতি নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

মামলায় নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে যে দাবি করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই ডাকসু নেত্রী। তাঁর মতে, ঘটনার নেপথ্যের কারিগরদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

জুমা অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা এই জামিনের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের পরিচয় এবং ইনকিলাব টিভিতে ফয়সালের উপস্থিতির পেছনের মাধ্যমগুলো জাতির সামনে উন্মুক্ত করেন।

উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডটি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল পরিকল্পনাকারীদের নিয়ে জনমনে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

হাসিনার আমলে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ছাড়া কে পুলিশে চাকরি পেয়েছে?

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আওয়ামী লীগের আমলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ছাড়া কে পুলিশে চাকরি পেয়েছে? কে এনএসআইতে চাকরি পেয়েছে-খোঁজ নিয়ে দেখুন। আপনাদের অধিকার হরণ করা হয়েছে, সেটি আপনারা তখন বুঝতে পারেননি। এখন অনেক ক্ষেত্রে তাদের হয়েই কথা বলছেন।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী নিতাই গৌর সেবাশ্রম পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কোনো ভবিষ্যৎ আমি দেখি না। মানুষের কাছে তাদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। তারা বিপুলসংখ্যক মানুষকে হত্যা করেছে, গুম করেছে। এখন তাদের নেতাকর্মীরা দেশের বাইরে গিয়ে মিথ্যাচার করছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, জুলাই আন্দোলনে তিন হাজার পুলিশকে হত্যা করা হয়েছে। লাখ লাখ আন্দোলনকারীদের জঙ্গি হিসেবে প্রচার করছে আওয়ামী লীগ। এসব বলে বলে তারা সারা পৃথিবীকে বোঝাতে চাচ্ছে যে এদের মারতে হবে।

প্রেস সচিব বলেন, ১৭ মাস পেরিয়ে গেলেও তারা কোনো অনুতপ্ত হয়নি। এখন যদি এসে বলে- আমরা ভুল করেছিলাম, দুঃখিত-তাহলেও আর সময় নেই। কারণ মনোনয়ন দাখিলের সময় ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।

একটি রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে সরকার নতুন কোনো ফ্যাসিজমের দিকে যাচ্ছে কিনা-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, এখানে ফ্যাসিজমের কিছু নেই। বরং আওয়ামী লীগই দেশে ফ্যাসিজম কায়েম করেছিল। স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে বলে তারা মানুষের অধিকার হরণ করেছে।

এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করে বলেন, একটি রাজনৈতিক দল যদি অস্ত্র হাতে তুলে নেয়, ছোট ছোট শিশু ও তরুণ শিক্ষার্থীদের হত্যা করে, তাহলে পৃথিবীর কোনো সভ্য রাষ্ট্রই তাদের ডেমোক্রেটিক স্পেস দেয় না। একটি রাজনৈতিক দল হওয়ার মূল শর্ত হলো শান্তিপূর্ণ থাকা এবং সহিংসতায় না জড়ানো।

প্রেস সচিব বলেন, অফিসিয়ালি নির্বাচনি ক্যাম্পেইন শুরু না হলেও ইতোমধ্যেই সারা দেশে নির্বাচনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ এখন ভোটের দিনের জন্য অপেক্ষা করছে। তবে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেই, কারণ তারা নিজেরাই নিজেদের অযোগ্য করে তুলেছে।

সকালে নিতাই গৌর সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ বাবাজী মহারাজ চিন্ময় আনন্দ দাস চঞ্চল গোসাইয়ের সঙ্গে আলাপকালে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা নেজারত ডেপুটি কালেক্টর সহকারী কমিশনার আমিনুল ইসলাম, মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আশিকুর রহমান এবং নিতাই গৌর সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক তরুণ ভৌমিক।

হঠাৎ ১ জানুয়ারিতেই এত মানুষের জন্মদিন কেন?

পহেলা জানুয়ারি এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে জন্মদিন উদযাপন করতে দেখা যায়। অনেকেই বন্ধু-স্বজনদের জন্মদিনের শুভেচ্ছায় ভাসিয়ে দেন বছরের প্রথম দিনটিকে। এতে মনে হয়, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক নাগরিকের জন্মদিন যেন ১ জানুয়ারিই। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই বিশাল জনগোষ্ঠীর সবার জন্ম কি সত্যিই বছরের প্রথম দিনে? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো বাস্তবতা?
জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জন্ম তারিখ হিসেবে জানুয়ারির ১ তারিখের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। শিশুদের নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও দীর্ঘদিন ধরে এই প্রবণতা লক্ষ্য করে আসছেন।
শিশু বিশেষজ্ঞ ড. ইশতিয়াক মান্নান জানান, বাস্তবে এমন নয় যে জানুয়ারির ১ তারিখেই অধিকাংশ শিশুর জন্ম হচ্ছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশুর জন্ম হয় বাড়িতে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়। এসব জায়গায় শিক্ষার হার তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক অভিভাবক জন্ম নিবন্ধনের বিষয়ে সচেতন নন।”
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে জন্মের সময় সঠিকভাবে জন্ম নিবন্ধন করা হয় না—হাসপাতাল বা বাড়িতে জন্ম নেওয়া হলেও নিবন্ধনে গাফিলতি থাকে। পরে যখন শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা হয় বা কোনো সার্টিফিকেট পরীক্ষার সময় জন্ম তারিখ প্রয়োজন হয়, তখন অনেক সময় নির্দিষ্ট তথ্যের অভাবে একটি অনুমানভিত্তিক তারিখ বসিয়ে দেওয়া হয়। সহজে মনে রাখার সুবিধার জন্য শিক্ষক বা সংশ্লিষ্টরা একটি “কমন” তারিখ বেছে নেন, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জানুয়ারির ১ তারিখ হয়ে থাকে। এ কারণেই অনেকের জীবনে দেখা যায়, বাস্তব জন্মদিন এক রকম আর কাগজপত্রে আরেক রকম—অর্থাৎ দুইটি জন্মদিন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এই প্রবণতা শুধু বাংলাদেশেই নয়। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশেও একই চিত্র দেখা যায়।
তবে ড. ইশতিয়াক মান্নান বলেন, “অনেকের জন্ম তারিখ কাগজে বানানো হলেও এটাও সত্য যে, বাংলাদেশে বাস্তব অর্থেই জানুয়ারির ১ তারিখে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যাও কম নয়।”

এখনই চেক করুন! অবৈধ স্মার্টফোন হলে নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেবে বিটিআরসি

আপনি যে স্মার্টফোনটি ব্যবহার করছেন, সেটি বৈধ কি না—এ বিষয়টি অনেকেই গুরুত্ব দিয়ে ভাবেন না। এমনকি অনেক ব্যবহারকারী এতদিন জানতেনই না যে, তাদের ব্যবহৃত ফোনটি নিবন্ধিত কি না। তবে এখন এই বিষয়টি সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) নেওয়া নতুন উদ্যোগের ফলে অবৈধ বা নিবন্ধনবিহীন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা সমস্যায় পড়তে পারেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে আনঅফিশিয়াল বা নিবন্ধন ছাড়া মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাই এর আগেই নিজের ফোনটি নিবন্ধিত কি না, তা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যেভাবে যাচাই করবেন ফোন বৈধ কি না
ফোনটি নিবন্ধিত কি না তা জানার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে—
ধাপ ১: মোবাইল ফোন থেকে *১৬১৬১# নম্বরে ডায়াল করুন
ধাপ ২: অটোমেটিক অপশন এলে হ্যান্ডসেটের ১৫ ডিজিটের আইএমইআই (IMEI) নম্বর লিখে পাঠান
ধাপ ৩: ফিরতি এসএমএসে ফোনটির বর্তমান নিবন্ধন অবস্থার তথ্য জানানো হবে
ফোন নিবন্ধিত না থাকলে কী করবেন
যদি যাচাইয়ের পর দেখা যায় ফোনটি নিবন্ধিত নয়, তাহলে অনলাইনে সহজেই রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।
ধাপ ১: ফোনের আইএমইআই নম্বর বের করতে ডায়াল করুন *#০৬#
ধাপ ২: এনইআইআর (NEIR) পোর্টালে প্রবেশ করুন
ধাপ ৩: ‘আইএমইআই রেজিস্ট্রেশন’ বা ‘ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন’ অপশন নির্বাচন করুন
ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় তথ্য দিন—আইএমইআই নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর, মোবাইল নম্বর, ডিভাইস কেনার তথ্য (যদি থাকে)
ধাপ ৫: প্রযোজ্য হলে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে আবেদন সাবমিট করুন
যাচাই শেষে ফোনটি বৈধ হিসেবে স্বীকৃত হলে নেটওয়ার্ক সংযোগ স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে।

পর্দায় আগুন ধরানোর আভাস সিয়ামের

নতুন বছরের প্রথম দিনে চোখ মেলেই ভক্ত-দর্শক-সমালোচকদের সতর্ক বার্তা দিলেন নায়ক সিয়াম আহমেদ। বললেন, সিনেমা হলের সিটটা শক্ত করে ধরতে। কারণ, নতুন বছরে পর্দায় আগুন ধরানোর আভাস দিলেন তিনি। শুধু সামনে নয়, নতুন বছরের প্রথম দিনে তিনি ফিরে তাকালেন পেছনের দিকেও। টানলেন ‘জংলি’র গল্প। যে সিনেমা দিয়ে তিনি গত বছর প্রশংসা কুড়িয়েছেন সব ঘরানার দর্শকের কাছে।
সিয়ামের ভাষায়, ঈদে লক্ষ লক্ষ মানুষ পরিবার নিয়ে সিনেমা হলে এসেছেন ‘জংলি’ দেখতে। আপনারা হেসেছেন, কেঁদেছেন, পরম মমতায় আমাকে জড়িয়ে ধরেছেন। সিনেমা হলে লুকিয়ে লুকিয়ে আমি দেখেছি, বাবা তার সন্তানকে আগলে ধরে বসে আছেন। মায়ের চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরছে। বিশ্বাস করুন, আপনাদের সেই ভালোবাসা দেখে আমারও চোখ ভিজে উঠেছে। একজন অভিনেতার জন্য এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে।
গত বছর মুক্তি পাওয়া নিজের অভিনীত চরিত্রগুলোর নাম টেনে সিয়াম বলেন, আপনারা জনি কিংবা জংলিকে যেমন আপন করে নিয়েছেন, তেমনি আরমান মনসুরকে দেখে বিস্মিত হয়েছেন। অল্প সময়ের একটি চরিত্রকে ঘিরে আপনারা পোস্টার, মিম, ভিডিও ম্যাশআপ, এমনকি বিজিএম বানিয়ে পাঠিয়েছেন, এই ভালোবাসা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সিয়াম মনে করেন, অভিনেতা হিসেবে সবসময় নিজেকে চ্যালেঞ্জ করাই তার লক্ষ্য। আরও লক্ষ্য দর্শকদের জন্য ভিন্ন স্বাদের চরিত্র, নতুন গল্প নিয়ে পর্দায় হাজির হওয়া। গত বছরের চরিত্রগুলোর সফলতায় তিনি বুঝেছেন- তার চেষ্টা কিছুটা হলেও সফল। গত বছরের অভিজ্ঞতায় নতুন বছরটাকেও সাজাতে চান সিয়াম আহমেদ।

তার ভাষায়, এই বছরটা শুরু হয়েছিল অনেক আশঙ্কা আর অনিশ্চয়তা নিয়ে। ঠিক সেই সময়েই বিনোদনের কাজটা আরও বেশি জরুরি হয়ে ওঠে- মানুষকে একটু হলেও বাস্তবের চাপ থেকে দূরে নিয়ে যাওয়া, কিছুক্ষণ হাসানো, কাঁদানো কিংবা নতুন একটা জগতে নিয়ে যাওয়া। তাই এবার নতুন চ্যালেঞ্জের পালা। নতুন বছরে আপনাদের জন্য আসছে আরও নতুন কিছু চরিত্র, আরও নতুন গল্প। আমি সিনেমায় অভিনয় করি দর্শকদের জন্যই, দর্শকের ভালো লাগা-মন্দ লাগাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। এমন কিছু চরিত্র, এমন কিছু গল্পই হাতে নিয়েছি যেখানে রাক্ষস আন্ধারে জংলি হয়ে উঠবে।

বিজয়ের মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্সের রেকর্ড

দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি (৩.২৯ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স আসার রেকর্ড ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে ঈদকে কেন্দ্র করে এসেছিল সেটি। এখন পর্যন্ত এটিই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স আসার রেকর্ড। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ডটিও ছিল গত বছরের মে মাসে ২৯৭ কোটি ডলারের রেমিটেন্স। এবার সেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ডটিকে ভেঙে দিয়ে নতুন রেকর্ড তৈরি করল বিজয়ের মাস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্স আসার রেকর্ড গড়ল ডিসেম্বর। সদ্য বিদায়ী মাসটির পুরো সময়ে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার।

দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) যার পরিমাণ প্রায় ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, ডিসেম্বরের পুরো সময়ে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। যা তার আগের মাস নভেম্বরের চেয়ে প্রায় ৩৪ কোটি ডলার বেশি এসেছে আর গত বছরের ডিসেম্বরের চেয়ে ৫৯ কোটি ডলার বেশি এসেছে। গত নভেম্বরের রেমিটেন্স এসেছিল ২৮৯ কোটি ডলার আর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এসেছিল ২৬৪ কোটি ডলার।
এদিকে আলোচিত সময়ে (ডিসেম্বর-২০২৫) রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫৭ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে এক ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২২৯ কোটি৩৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৬৮ লাখ ৯০ হাজার ডলারের রেমিটেন্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিটেন্স এসেছে, জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার।
প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল, যা ছিল ওই অর্থবছরের রেকর্ড।

খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে বিজিএমইএ সভাপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা -২ আসনের দলীয় মনোনীত প্রার্থী এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু ও এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বেলা ১১ টার দিকে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করেন তারা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার সমাধিতে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে দোয়া ও মোনাজাত করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল খান বাবলু, পরিচালক ফয়সাল সামাদ এবং পরিচালক ড. রশিদ আহমদ হোসাইনী।

শোক প্রকাশ করে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের মাতা ও বিএনপি’র চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে বিজিএমইএ’র প্রতিটি সদস্য গভীরভাবে শোকাহত। পোশাক শিল্পসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার রক্ষা ও কল্যাণে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তিনি তার কর্ম ও আদর্শের মধ্য দিয়েই প্রতিটি বাংলাদেশির হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবেন।

এ সময় সমাধিস্থলে কোরআন তেলাওয়াত চলতে দেখা যায়। পাশাপাশি জিয়া উদ্যানের সমাধি কমপ্লেক্স এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাচ্ছেন দলের কর্মী ও গণপূর্ত অধিদফতরের কর্মীরা।এদিন জুমার নামাজের পর বেগম জিয়ার মাগফেরাতের জন্য মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও তার আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল ও সংকটাপন্ন। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।

বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজনে নতুন বছরকে বরণ

নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া বিশ্বব্যাপী একটি উৎসব। সময়ের পরিবর্তন এবং ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে একেক দেশে একেক সময়ে বরণ করা হয় নতুন বছরকে। প্রতি বছরের মতো এবারও ইংরেজি পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে আতশবাজির ঝলকানিতে বর্ণিল উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন বছর বরণের আনন্দ উদ্যাপন করেছে মানুষ।

পৃথিবীর ভৌগোলিক অবস্থান এবং সূর্যের আলো পৌঁছানোর সময়ের হিসাবে বিশ্বের বাকি দেশগুলোর আগেই নতুন বছর ২০২৬ সালকে স্বাগত জানিয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ উপকূলের দেশগুলো। এর মধ্যে সবার আগে নতুন বছরকে বরণ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় কিরিবাতি দ্বীপদেশের কিরিতিমাতি। এরপর নতুন বছরে শান্তি, আশা ও আশীর্বাদের স্বপ্ন নিয়ে ২০২৬ সালকে বরণ করে নিয়েছে টোঙ্গা ও নিউজিল্যান্ড। খবর আলজাজিরার।
কিরিবাতির কিরিতিমাতিতে নতুন বছর শুরু হয় সবার আগে। কিরিবাতির অবস্থান হাওয়াইয়ের দক্ষিণে এবং অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব দিকে। অসংখ্য প্রবাল প্রাচীর নিয়ে গঠিত এই দেশ পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত। কিরিবাতির স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের দেশকে কিরিবাস নামে অভিহিত করেন। দেশটি ১৯৭৯ সালে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সামুদ্রিক রিজার্ভও আছে সেখানে। দেশটিতে বহু প্রবাল প্রাচীর রয়েছে, যার অনেকগুলোতেই বর্তমানে কোনো প্রাণীর বাস নেই। এসব প্রবাল প্রাচীরের বড় একটি অংশ নি¤œাঞ্চলে অবস্থিত এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার কারণে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

কিরিবাতির মোট জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার। ভৌগোলিকভাবে হাওয়াইয়ের প্রায় সরাসরি দক্ষিণে অবস্থান হলেও আন্তর্জাতিক সময়রেখার কারণে কিরিবাতি হাওয়াইয়ের একদিন আগেই নতুন বছর উদ্যাপন করে। তাই প্রতিবছরের মতো এবারও নতুন বছর ২০২৬ সালের প্রথম সূর্যোদয়ের সাক্ষী হয়েছে কিরিবাতির কিরিতিমাতি অঞ্চল। কিরিতিমাতির নির্জন এলাকা থেকে এক পর্যটক জানান, তিনি যে সৈকতে ছিলেন সেখানে কোনো স্যাটেলাইট যোগাযোগ ছিল না, মনুষ্যপ্রাণের কোনো চিহ্নমাত্র ছিল না। ছিল শুধু ধু-ধু অন্ধকার ও অগুনতি কাঁকড়া। এমন একটি প্রাকৃতিক পরিবেশে তার জন্য নতুন বছর উদ্যাপনের এ ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা।
কিরিবাতির পরই নতুন বছরের আগমন ঘটে টোঙ্গা, নিউজিল্যান্ড ও সামোয়া দ্বীপদেশে। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র ও পলিনেশীয় রাজ্য টোঙ্গা। অস্ট্রেলিয়ার পূর্বে এবং নিউজিল্যান্ডের উত্তরে দেশটির অবস্থান। সেখানকার বসিন্দাদের কামনা- নতুন বছর ২০২৬ সাল শান্তি, আশা আর আশীর্বাদে ভরে উঠুক। এদিকে নিউজিল্যান্ডে আতশবাজি, সংগীত আর উৎসবের আলোয় নতুন বছর ২০২৬-কে স্বাগত জানানো হয়েছে। স্থানীয় সময় মধ্যরাতে অকল্যান্ডের আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বর্ণাঢ্য আতশবাজির ঝলক। অকল্যান্ডে স্কাই টাওয়ারে প্রতিবছরের মতো এবারও আতসবাজির প্রদর্শনীর মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়েছে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী রাত ১২টা বাজতেই সবাই উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। শহরের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ।

খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন জাইমা রহমান

সদ্যপ্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন তার নাতনি জাইমা রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটার দিকে জাইমা রহমান পরিবারের প্রায় ২০ সদস্যের সঙ্গে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে পৌঁছে সমাহিত দাদির কবরের সামনে শ্রদ্ধা জানান।

দীর্ঘ সময় তারা মোনাজাতে অংশ নেন এবং দৃষ্টিগোচর ছিলেন স্থির ও শান্তভাবে। কবর জিয়ারত শেষে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে তারা স্থান ত্যাগ করেন। জিয়ারতের সময় জাইমা রহমানের সঙ্গে ছিলেন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান এবং অন্যান্য নিকটাত্মীয়রা।
উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার) সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছিল। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বজনদের সঙ্গে মিলে দাফনের ব্যবস্থা করেন। দাফনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে মরহুমার প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।
এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এবং মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন বিশাল এলাকায় খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক জানাজা সম্পন্ন হয়েছিল, যেখানে সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা শেষ শ্রদ্ধা জানান।

দেশের বাজারে কমেছে সোনার দাম, শুক্রবার থেকে কার্যকর

দেশের বাজারে সোনার দাম এবার তৃতীয় দফায় কমল। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এক হাজার ৪৫৮ টাকা হ্রাস পেয়ে এখন দুই লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে। নতুন এই দর শুক্রবার থেকে সারা দেশে কার্যকর হবে।

বাজুস বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী (পিওর গোল্ড) সোনার দর কমার কারণে সোনার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখার উদ্দেশ্য রয়েছে।

নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন দুই লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৫১ হাজার ৮০৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোনার সঙ্গে রুপার দামও হ্রাস পেয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার এক ভরির দাম এখন পাঁচ হাজার ৫৪০ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা ভরি দাম পাঁচ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম চার হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম তিন হাজার ৩৮৩ টাকা।
বাজুসের এই নতুন মূল্য ঘোষণায় বাজারে সোনার ক্রয়-বিক্রয়ে নতুন প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সোনার দাম কমায় ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি মিলবে, বিশেষত গহনার বাজারে।