Home Blog Page 231

নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে চায় বিএনপি: মির্জা ফখরুল

০

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে চায় বিএনপি।

সোমাবর (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে যে বিষয়গুলোতে সমস্যা মনে হয়েছে, তা আমরা রোববার (১৮ জানুয়ারি) তাদের কাছে তুলে ধরেছি। আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচন কমিশন যোগ্যতার সঙ্গে এই নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।

দলীয় কিছু প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে যখন বাছাই হয়, তখন কিছু সমস্যা থাকে। এটা নতুন কোনো ব্যাপার না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে বিএনপি কাজ করে যাবে।

এর আগে বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে তার সামাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিএনপি।

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল কার্যকরের তারিখ জানা গেল

০

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকেই আংশিকভাবে কার্যকর হতে পারে। আর পূর্ণাঙ্গভাবে এই বেতন স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১ জানুয়ারি নতুন বেতন কাঠামো সংক্রান্ত প্রতিবেদন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে জমা দেবে বেতন কমিশন। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্দেশ্যে একটি বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়। ২১ সদস্যের এই কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশমালা জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় বাবদ অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে।

কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে।

সুপারিশকৃত কাঠামোতে নিচের দিকের গ্রেডগুলোর বেতন ও ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থাকলেও সেটি দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধাপে বর্তমানে বেতন ৭৮ হাজার টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার সুপারিশ করেছে বেতন কমিশন।

খালি পেটে কুসুম গরম পানি খাচ্ছেন? চমকপ্রদ উপকারিতা নিয়ে যা বলছেন চিকিৎসকরা

০

দিনের শুরুটা যেমন হয়, শরীরও অনেক সময় তেমনভাবেই সাড়া দেয়। ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করা বহুদিনের পরিচিত অভ্যাস হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে খালি পেটে কুসুম গরম পানির কথা। কেন সাধারণ পানির বদলে কুসুম গরম পানি? চিকিৎসকদের মতে, এই ছোট অভ্যাসের মধ্যেই লুকিয়ে আছে শরীর ও মনের জন্য বড় পরিবর্তনের চাবিকাঠি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কুসুম গরম পানি পান শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় বরং সঠিকভাবে গ্রহণ করলে এটি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে তোলে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন–এ প্রকাশিত একাধিক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত কুসুম গরম পানি হজমশক্তি বাড়াতে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে এবং সামগ্রিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
হজমশক্তি বাড়ায়, কমায় অতিরিক্ত মেদ
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, সকালে খালি পেটে কুসুম গরম পানি পান করলে শরীরের মেটাবলিজম সক্রিয় হয়। ফলে খাবার দ্রুত ও সহজে হজম হয় এবং অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমতে শুরু করে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য এই অভ্যাস হতে পারে একটি সহজ সহায়ক পথ।
কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে গ্যাস, প্রাকৃতিক সমাধান
কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অম্বলের সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য কুসুম গরম পানি অনেক সময় প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে। সকালে খালি পেটে এই পানি অন্ত্রকে নরম ও সক্রিয় করে তোলে, ফলে মলত্যাগ স্বাভাবিক হয় এবং পেটের অস্বস্তি কমে আসে।
রক্ত সঞ্চালন ও ব্যথা উপশমে সহায়ক
নিয়মিত কুসুম গরম পানি পান রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন ও পুষ্টির সরবরাহ বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস শরীরের ব্যথা, জয়েন্টের অস্বস্তি কিংবা মাসিকের সময় পেট ও কোমরের ব্যথা কমাতেও আরাম দিতে পারে।
সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে স্বস্তি
ঠান্ডাজনিত সমস্যা, নাক বন্ধ থাকা বা বুক ভারী লাগার সময় কুসুম গরম পানি শ্বাসনালীর জমে থাকা শ্লেষ্মা পাতলা করতে সহায়তা করে। এতে শ্বাস নিতে স্বস্তি আসে এবং সর্দি-কাশির অস্বস্তি কিছুটা হলেও কমে।
টক্সিন বের করে শরীর পরিষ্কার করে
চিকিৎসকদের ভাষ্য, কুসুম গরম পানি শরীরের ভেতরে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদান বা টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। ঘাম ও প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর প্রাকৃতিকভাবে ডিটক্স প্রক্রিয়ায় যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ত্বক, চুল ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব
এই অভ্যাসের প্রভাব ত্বকেও দেখা যায়। নিয়মিত কুসুম গরম পানি পান করলে ত্বক ভেতর থেকে হাইড্রেটেড থাকে, রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ত্বকের কোষে পুষ্টি পৌঁছাতে সুবিধা হয়। ফলে ত্বক তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল থাকে, বয়সের ছাপ বা নিস্তেজভাব দেরিতে দেখা দেয়। অনেকের ক্ষেত্রে মানসিক চাপ, অনিদ্রা কিংবা ব্রণের সমস্যাও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
কতটা ও কখন পান করবেন
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সকালে ঘুম থেকে উঠে অথবা বিকেলের দিকে অন্তত এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। দিনে এক থেকে দুই গ্লাস কুসুম গরম পানি নিয়মিত পান করলে শরীর ও মনের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়। তবে যাদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে বা বিশেষ কোনো শারীরিক জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
একটি ছোট অভ্যাস, কিন্তু নিয়মিত চর্চায় এর প্রভাব হতে পারে বিস্ময়কর। খালি পেটে কুসুম গরম পানি হয়তো এখান থেকেই শুরু হতে পারে আপনার সুস্থতার নতুন অধ্যায়।

ইসলামী ব্যাংকের আমানত বেড়ে এক লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা

০

ইসলামী ব্যাংকের উপশাখাসমূহের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এক বছরেই উপশাখাসমূহের আমানত বেড়েছে ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা। প্রবাসীদের আস্থা ও ভালোবাসায় রেমিটেন্স আহরণে ইসলামী ব্যাংক ১৮ বছর ধরে শীর্ষে রয়েছে।

গত এক বছরে এ ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৭৬,০০০ কোটি টাকা। আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান গ্রাহকসংখ্য ৩ কোটি; যা গত এক বছরে বেড়েছে ৫০ লাখ। ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে ৪০০টি শাখা, ২৭১টি উপশাখা, ২৭৮৮টি এজেন্ট আউটলেট ও৩০৪০টি এটিএম/সিআরএম বুথের সর্ববৃহৎ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা প্রদান করছে।
শনিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির উপশাখা ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলনে এসব তথ্য জানোনো হয়। ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ওমর ফারুক খান সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেব বক্তব্য দেন এডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আলতাফ হুসাইন ও ড. এম কামাল উদ্দীন জসীম। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মাহবুব আলম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. রফিকুল ইসলামও কে এম মুনিরুল আলম আল-মামুন। সম্মেলনে প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও২৭১টি উপশাখার ইনচার্জগণ অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ওমর ফারুক খান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংকের অবদান অবিস্মরণীয়। জুলাই বিপ্লবের পর পরিবর্তিত ব্যাংকিং পরিস্থিতিতে আমাদের গ্রাহকদের মাঝে আস্থা ফিরে এসেছে। ২০২৫ সালে নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে ইসলামী ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে বেশি ডিপোজিট সংগ্রহ করেছে এবং সর্বোচ্চ রেমিটেন্স আহরণ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

রুপালি পর্দা থেকে বাস্তব জীবনের সফল জুটি

০

এক সময়ের টিভি পর্দার আলোচিত জুটি বিপাশা হায়াত ও তৌকীর আহমেদ–এর জনপ্রিয়তা আজও কমেনি। এই দম্পতি, যারা বাস্তব জীবনেও একসঙ্গে পথচলা করছেন, সম্প্রতি নিজেদের বিয়ের আগের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে একটি পডকাস্টে কথা বলেছেন।

১৯৯৯ সালে বিয়ে করা এই দম্পতির সম্পর্কের শুরু থেকেই ছিল এক ধরনের অসাধারণ বোঝাপড়া। অভিনয় জীবনে একসঙ্গে কাজ করার পর নিজেদের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে তারা একসঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন। শুরু থেকেই দুজনের জীবনে একে অপরের সঙ্গে দেখা প্রতিটি স্বপ্ন ছিল একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার।

পডকাস্টে তৌকীর আহমেদ এককভাবে উপস্থিত থাকলেও, এক সময় চমকপ্রদভাবে বিপাশা হায়াতও যুক্ত হন। তখন এই দুই তারকার মধ্যে একে অপরকে নিয়ে স্বপ্নের কথা উঠে আসে।

বিপাশা বলেন, তৌকীর আহমেদের সঙ্গে আমার পথচলা শুরু থেকেই আমরা দুজন অনেক স্বপ্ন দেখতাম। একসঙ্গে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঘোরা, প্রাচীন নিদর্শন দেখা, বহু গান শোনা—এসব ছিল আমাদের স্বপ্নের অংশ। আমাদের ইচ্ছা ছিল একসঙ্গে সিনেমা দেখা, ভাবনা শেয়ার করা, অনেক বই পড়া। সব মিলিয়ে আমরা চেয়েছিলাম একটি স্বপ্নময় জীবন। বিয়ের পরের বাস্তবতা কেমন ছিল—এমন প্রশ্নে বিপাশা বলেন, আমাদের প্রত্যাশার সেই স্বপ্নময় জীবনই এখন আমরা যাপন করছি।

দীর্ঘদিন ধরে এই দম্পতি তাদের সন্তানদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। অভিনয়ে বিপাশা হায়াতকে এখন আর তেমন দেখা যায় না, তবে তৌকীর আহমেদ চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

পাগলবেশে রাস্তায় ঘুরছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী! চিনতে পারছেন কে?

০

প্রথম নজরে দেখলে যে কাউকেই ভুল হবে। উস্কোখুস্কো চুল, পরনে নোংরা পোশাক, মুখে অদ্ভুত কালচে মেকআপ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এই নারীকে দেখে অনেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন ভেবে পাশ কাটিয়ে যাবেন। কিন্তু ভিডিওটি একটু ভালো করে দেখলেই চমক। কারণ, এই ‘ভবঘুরে নারী’র চরিত্রে যিনি ধরা দিয়েছেন, তিনি ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয় আলোচনা। ভিডিওতে হঠাৎ করেই হাজির হন জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান। সেখানেই ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয় রহস্য এই অচেনা, অদ্ভুত লুকের নারী আসলে কেয়া পায়েলই।
অভিনয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও কেয়া পায়েল যে চরিত্রে চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারেন, সেটিই আবারও প্রমাণ করলেন তিনি। ভবঘুরে বা মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর চরিত্রে তার এই রূপান্তর ইতোমধ্যেই নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, কেয়া পায়েল উচ্চস্বরে অভিযোগ করছেন কেউ নাকি তাকে বল ছুড়ে মেরেছে, তিনি বিচার চান। এমন সময় মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে পৌঁছান জোভান। তাকে দেখেই কেয়া হঠাৎ তেড়ে যান এবং অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। ভিডিওটি শেয়ার করে মজার ছলে জোভান লেখেন, ‘ছেমরি পাগল নাকি?? আমারে কয় খাইয়া লাইবো!’
ভিডিও প্রকাশের পরপরই দর্শক ও ভক্তদের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, প্রথম দেখায় কেয়া পায়েলকে চিনতেই পারেননি। কেউ লিখেছেন, ‘বাপরে বাপ, কী ভয়ংকর অভিনয়!’ আবার কেউ প্রশংসা করেছেন মেকআপ ও চরিত্রের বাস্তবতায়, ‘একদম পারফেক্ট লুক।’
জানা গেছে, এই ভাইরাল ভিডিওটি মূলত একটি নতুন নাটকের শুটিংয়ের দৃশ্য। যদিও নাটকটির নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। নাটকটিতে কেয়া পায়েলের সহশিল্পী হিসেবে থাকছেন ফারহান আহমেদ জোভান। এর আগেও এই জুটি একাধিক নাটকে একসঙ্গে কাজ করে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, কেয়া পায়েলের এই ‘পাগলবেশ’ শুধু চমক নয়, বরং তার অভিনয় সাহস ও চরিত্রে ডুবে যাওয়ার ক্ষমতার আরেকটি শক্ত প্রমাণ হিসেবেই দেখছেন দর্শকরা।

যথেষ্ট সংস্কার হয়েছে: আইন উপদেষ্টা

০

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, কিছু মানুষের কাছে সংস্কার নিয়ে নেতিবাচক কথা উদ্দীপকের মতো। বাড়তি ভিউ পাওয়া যায়। কোনো সংস্কার হয় নাই, এটা ঠিক নয়। যথেষ্ট হয়েছে। এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি। তবে পুলিশ সংস্কার যেভাবে করতে চেয়েছি, সেভাবে হয়নি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, আমরা সবার সঙ্গে এত কনসাল্টেশন করেছি, ৭২ এর সংবিধান প্রণয়নের সময়ও করা হয়।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র ১০ বছর জয় বাংলা আর বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বললে বিচারক হতে পারবেন না। উচ্চ আদালতেও কিছু সংস্কারের প্রয়োজন, সেটা উচ্চ আদালত থেকেই হবে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যা যা আইন করা দরকার, সবই আমরা করেছি। এর ধারাবাহিকতায় রুল অব ল প্রতিষ্ঠায় আরও ৫/১০ বছর লাগবে। আমরা সংস্কারের পথে এগিয়েছি। নির্বাচিত সরকার এ ধারা ধরে রাখলে জনগণ সংস্কারের সুফল পাবে।

শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ ও সহনশীল নেতৃত্ব গড়ার আহ্বান

০

শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ, সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সহনশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন ও সহনশীলতার অভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সংকট থেকে উত্তরণে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামীর প্রশাসক, শিক্ষক, চিকিৎসক ও নীতিনির্ধারক তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির (বিইউ) তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাপ্রাঙ্গণ কনভেনশন হলে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট ৫,৯০৩ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৫,২২৪ জন স্নাতক এবং ৬৭৯ জন স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দেশকে নতুনভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে। তবে শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অন্যান্য নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এ নির্বাচনে তরুণদের শুধু সরকার গঠন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি ও কাঠামো নির্ধারণেও ভূমিকা রাখতে হবে। গণঅভ্যুত্থানে প্রকাশিত সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকার গণভোটে হ্যাঁ–না ভোটের উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্কার না হলে পুরোনো ব্যবস্থা ফিরে আসতে পারে—এ কারণে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাছ, ডিম, দুধ ও মাংস মানুষের পুষ্টির প্রধান উৎস হলেও এখনও সবাই তা নিয়মিত পাচ্ছে না। ঘাটতি পূরণের নামে মাংস আমদানি দেশের প্রান্তিক খামারিদের ক্ষতিগ্রস্ত করে; তাই সরকার দেশীয় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি উৎপাদন বাড়াতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ ও নদী–নালা, খাল–বিল ভরাটের ফলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অতিরিক্ত ও অবৈধ আহরণের কারণে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের তুলনায় সমুদ্রে মাছের পরিমাণ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হ্রাস পেয়েছে।

উপদেষ্টা তরুণদের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধূমপান হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকসহ নানা অসংক্রামক রোগের প্রধান কারণ। আইন প্রয়োগের অপেক্ষা না করে আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজেকে ও সমাজকে রক্ষা করতে হবে।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুরু হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। ডিগ্রি প্রার্থীদের উপস্থাপন করেন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নূরুর রহমান খান, ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম এবং কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানে কনভোকেশন মার্শাল ছিলেন আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষক আনিকা হাবিব।

সমাবর্তন বক্তার বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজ বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছে দেশের প্রত্যাশা অনেক। বাবা-মা, শিক্ষক এবং পুরো দেশ তাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি বলেন, শিক্ষিত ও আলোকিত মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব হলো ভালো ও মন্দের পার্থক্য আরও গভীরভাবে ও দক্ষতার সঙ্গে অনুধাবন করা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠলে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাজপথে নেমে আসে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কাজী জামিল আজহারের অনুপস্থিতিতে তাঁর বক্তব্য পড়ে শোনান ট্রাস্টিজ সদস্য ডা. সাগুপ্তা মাহমুদ। তিনি বলেন, সমাবর্তন শিক্ষাজীবনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং জীবনের এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে উত্তরণের মুহূর্ত। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি দায়িত্বেরও সূচনা। গ্রাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এটি কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে অর্জিত একাডেমিক সাফল্যের উদযাপন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আজ শিক্ষার্থীরা কেবল একটি ডিগ্রি নয়, ভবিষ্যতে দেশ গড়ার দায়িত্বও গ্রহণ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আজকের গ্রাজুয়েটরা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে এর মর্যাদা সমুন্নত রাখবে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নে উৎকর্ষতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার সাজেদ-উল-ইসলাম। তিনি সমাবর্তন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পেছনে অভিভাবকদের নীরব সমর্থনের প্রশংসা করেন।

সমাবর্তনে আরও উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সেক্রেটারি ইঞ্জি. এম. এ. গোলাম দস্তগীর, সদস্য কাজী মোজাহার আলী, ইঞ্জি. মশিহ্ উর রহমান, ডা. ওয়াহিউদ্দিন মাহমুদ, ইঞ্জি. মুশফিকুর রহমান, স্থপতি ইকবাল হাবিব, অ্যাডভোকেট শারমীন আহমেদ মজুমদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মাহবুবুল হক, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যগণ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

সমাবর্তনে স্নাতক পর্যায়ে চ্যান্সেলর’স গোল্ড মেডেল লাভ করেন খলিলুর রহমান। কাজী আজহার আলী গোল্ড মেডেল পান নুসরাত কবির বৃষ্টি। ভাইস-চ্যান্সেলর’স গোল্ড মেডেল পান শায়েকা লাওলাক, তাজিবা আফরিন ও তানিয়া আক্তার।

একাডেমিক ফলাফলের ভিত্তিতে ডিন’স অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে রয়েছেন মৌমিতা ভৌমিক সুপ্তি, মোসা. জান্নাতি খাতুন, মো. তারিকুল ইসলাম, প্রিনন মাহদী, মো. মাহমুদ চৌধুরী, দেবারতি ভট্টাচার্য, রাজিয়া খাতুন তুন্না, মরহুম মিতু ফকির, লামিয়া চৌধুরী ও উম্মে হাবিবা শারমিন। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পান মো. শাহিনুজ্জামান, জান্নাতুল ইসলাম ও নিশাত কাদের। অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করেন চ্যান্সেলর’স গোল্ড মেডেলপ্রাপ্ত খলিলুর রহমান।

সমাবর্তনের মূল আয়োজন শেষে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে শিক্ষার্থীরা নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে আনন্দ উদযাপন করে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ইঁদুর আখ্যায়িত করে ধানের শীষের পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট কাটার ঘোষণা বিএনপি নেতার

০

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ৯ নম্বর মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম মিন্টু বলেছেন, ‘যে ইউনিয়নের সভাপতি হতে পারে, সে ২৮-২৯ হাজার ভোট কাটারও ক্ষমতা রাখে, যে ব্যক্তি চেয়ারে বসতে পারে, সে তার যোগ্যতাই চেয়ারে আসে। আমরা মজিদপুরে ধানের শীষে ১০০ থেকে ১০০ পাশ করামু, ইনশাআল্লাহ।’
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার দুধঘাটা সরকার বাজারে মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের সামনে মরহুমা খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের প্রস্তুতি সভায় দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। প্রায় ৩ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে এসব কথা বলতে শোনা যায় তাকে।
মিন্টু বলেন, ‘অগোচোরে বলে চেয়ারে বইয়া যে মজিদপুর ইউনিয়নে যে সভাপতি হইছে ১০০ ভোট দেওয়ার ক্ষমতা নাই, যে বেডায় সভাপতি হইতে পারে হেই বেডায় ২৮-২৯ হাজার ভোট কাটার শক্তিও রাখে। যে বেডায় চেয়ারে বইতারে তার যোগ্যতাই চেয়ার আসে। আমি চাই এ ধানের শীষ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়ার না, এই ধানের শীষ হলো খালেদা জিয়ার এবং তারেক জিয়ার, এই ধানের শীষ আমরা মজিদপুর ইউনিয়নে ১০০ থেকে ১০০ পাশ করমু, আপনারা নিশ্চিত থকেন ইনশাআল্লাহ।’
ভিডিওতে মিন্টু আরও বলেন, ‘ইঁদুর যদি এখন বাইরে মাঠে দেখবেন, ২০/২২ তারিখের পর থেকে দেখবেন ইঁদুর কই যায়। আপনারা নিশ্চিত থাকেন এই ইঁদুর মাঠে নামতে পারবে না, মাঠে নামতে পারলেতো আওয়ামী লীগই নামতে পারে। আরে আমরা স্বতন্ত্র কিয়ের মাঠে নামলে মানে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ যদি এখনো নামতারে তইলে আমরা বাইত ঘুমাই কেনতে। তারা বাইত ঘুমানের টাইমও নাই, নামার টাইমও নাই, আমি ক্লিয়ার বলতে চাই এখনো সাবধান আমরা ধানের শীষ লইয়া মাঠে আছি, যদি আমগো লগে প্রমাণ করতে হয় ২২ তারিখের পরে আমার মজিদপুর ইউনিয়নে জবাব দেওয়ার শক্তি রাখি।’
আরও বলেন, ‘আমরা যে ধানের শীষ লইয়া বাইরছি, আমরা ধানের শীষ আনমু ইনশাআল্লাহ, দোয়া করবেন। আমরা কোনো স্বতন্ত্র না, আওয়ামী লীগ না, বাটপারি না। আমি মজিদপুর ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে ইন্টেক ক্লিয়ারভাবে বলতে চাই যেতো রংয়ের যেতো মুস্তানই আসে সামনে আইলে সব শেষ।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আক্তার বেপারী, মো. আশরাফুল আলম, ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জসিম, উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হেলাল ভূঁইয়া, মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইদুল ইসলাম সরকার বিজয় ও সাধারণ সম্পাদক তন্ময় হাসান কাজলসহ অনেকেই। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

টিসিবি স্মার্ট কার্ডে পণ্যপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা: সরিষাবাড়ীতে খুশি সাড়ে ১২ হাজার পরিবার

০

সারাদেশব্যাপী স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। পূর্বে টিসিবির পণ্য বিতরণে ডিলার ও কিছু অসাধু ব্যক্তির তৎপরতায় অনেক উপকারভোগীর পণ্য না পাওয়ার অভিযোগ থাকলেও ২০২৫ সাল থেকে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিতরণ শুরু হওয়ায় তেমন কোনো অভিযোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ডিলার ও সচেতন মহল। এতে একদিকে যেমন বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরেছে, অন্যদিকে উপকারভোগীরা পেয়েছেন পণ্যপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা। ফলে সঠিকভাবে পণ্য পেয়ে খুশি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ১২ হাজার ৪১৯টি পরিবার।

জানা যায়, টিসিবির পণ্য বিতরণ কার্যক্রম ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে হাতে লেখা ফ্যামিলি কার্ড থেকে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডে স্থানান্তরের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে নতুন স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিতরণ শুরু হয়। বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৫০–৫৫ লাখ পরিবার এ সুবিধার আওতায় রয়েছে, যা আগের প্রায় এক কোটি কার্ডধারীর তুলনায় কম। এর ফলে হাতে লেখা ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মধ্যে প্রায় ৪৩ লাখ কার্ডধারী এই সুবিধা থেকে বাদ পড়ে যান এবং বর্তমানে শুধুমাত্র স্মার্ট কার্ডধারীরাই পণ্য পাচ্ছেন।

সরিষাবাড়ী উপজেলায় পূর্বে ২৮ হাজার ৬০৩ জন উপকারভোগী এ সুবিধার আওতায় থাকলেও স্মার্ট কার্ড কার্যক্রম চালু হওয়ার পর সিংহভাগ উপকারভোগী বাদ পড়ে যান। বর্তমানে উপজেলায় ১২ হাজার ৪১৯ জন উপকারভোগী স্মার্ট কার্ডের আওতায় থাকলেও এখনো ১৬ হাজার ১৮৪ জন উপকারভোগী এর আওতার বাইরে রয়ে গেছেন। এ অবস্থায় সকল প্রকৃত উপকারভোগীকে দ্রুত স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে উপকারভোগীরা জানান, আগে হাতে লেখা কার্ডে কখনো পণ্য পাওয়া যেত, কখনো পাওয়া যেত না—অনেক সময় অন্য কেউ তাদের পণ্য তুলে নিত। বর্তমানে সে সমস্যা আর নেই। কার্ডধারী ছাড়া অন্য কেউ পণ্য তুলতে পারে না। কোনো উপকারভোগী যদি কোনো মাসে পণ্য তুলতে না পারেন, তবে তিনি পরবর্তী মাসে তা তুলতে পারেন—অন্য কেউ তা আত্মসাৎ করতে পারে না।

এ বিষয়ে ডিলার মো. রেদোয়ান আহম্মেদ সুমন, খাইরুল ইসলাম পরান, মঞ্জুরুল হাসান মিন্টু, সেলিম রেজা মিলন ও আল আমিন মিলু জানান, স্মার্ট কার্ড উপকারভোগীদের পণ্যপ্রাপ্তির শতভাগ নিশ্চয়তা নিশ্চিত করেছে। স্মার্ট কার্ড ছাড়া কেউ পণ্য তুলতে পারে না। ডিজিটাল সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করে ভেরিফিকেশনের পর পণ্য বিক্রয় সম্পন্ন হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে বিক্রয় হিসাব অনুযায়ী তালিকা প্রস্তুত হয়।

তারা আরও জানান, কোনো মাসে যদি ১০ জন উপকারভোগী কোনো কারণে পণ্য উত্তোলন করতে না পারেন, তবে ওই ১০ জনের পণ্য উত্তোলন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী মাসে নতুন বরাদ্দ আসে না। ফলে কোনো কার্ডধারীর পণ্য সংশ্লিষ্ট ডিলার বা অন্য কারও আত্মসাৎ করার কোনো সুযোগ নেই।