Home Blog Page 235

একই গ্রাম থেকে তিনজন সংসদ সদস্য!

০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয়লাভ করেছেন রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের তিন কৃতি সন্তান। তারা তিনজনই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই গহিরা গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক ইতিহাসে একই গ্রাম থেকে একই দলের তিন প্রার্থীর এমন বিজয় বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজয় অর্জনের তালিকায় রয়েছেন চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে তাঁর ভাতিজা হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এছাড়া চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রয়াত জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান। চাচা-ভাতিজা ও একই গ্রামের এই তিন প্রার্থীর যুগপৎ সাফল্য স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইয়ে দিয়েছে।

নির্বাচনী ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-৬ আসনে ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট পেয়ে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী ইলিয়াছ নূরী পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৪৬ ভোট। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-৭ আসনে হুম্মাম কাদের চৌধুরী ১ লাখ ২৪২ ভোট পেয়ে নিজের বিজয় নিশ্চিত করেন। এই আসনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৪৮৫ ভোট।

চট্টগ্রাম-১০ আসনেও ধানের শীষের বিশাল জয় এসেছে। গহিরা গ্রামের সন্তান সাঈদ আল নোমান ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট।

এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত শুক্রবার রাতে জাতীয় সংসদের ২৯৭টি আসনের নবনির্বাচিত সদস্যদের সরকারি গেজেট প্রকাশ করেছে। আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে এবং প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার সারাদেশে একযোগে উৎসবমুখর পরিবেশে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।

তারেক রহমানকে প্রধান উপদেষ্টার জরুরি বার্তা!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করায় বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি এই বিজয়কে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন যে, জনগণের এই স্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনে তারেক রহমান তাঁর প্রজ্ঞা ও জনকল্যাণমুখী চেতনার মাধ্যমে দেশকে একটি স্থিতিশীল এবং উন্নয়নমুখী পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এই প্রসঙ্গে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে আশা প্রকাশ করেন যে, তাঁদের আদর্শ আগামী দিনের পথচলায় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

প্রফেসর ইউনূস বর্তমান সময়কে বাংলাদেশের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার হিসেবে বর্ণনা করেন। অর্থনৈতিক রূপান্তর, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং জলবায়ু সহনশীলতার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুসমন্বিত মেধা ও প্রজ্ঞার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন। তিনি প্রত্যাশা করেন যে, নতুন নেতৃত্বের অধীনে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে এবং দেশে আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।

বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব পালনকালে বিএনপির গঠনমূলক ভূমিকা ও সহযোগিতার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, পরিবর্তনের এই সংবেদনশীল সময়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে তারেক রহমানের ইতিবাচক অবস্থান জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। পরিশেষে, দেশের মানুষের কল্যাণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নবনির্বাচিত নেতৃত্বের সকল উদ্যোগের সফলতা কামনা করেন প্রধান উপদেষ্টা।

এ বিজয় দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের, এ বিজয় বাংলাদেশের: তারেক রহমান

বিএনপিকে নির্বাচনে বিজয়ী করার জন্য দেশের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের। আজ থেকে আমরা স্বাধীন।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি দেশের সব জনগণকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আমরা দেশের গণতন্ত্রের পথ সুগম করেছি।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি— এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে, সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং থাকব।

জামায়াত আমিরকে প্রধান উপদেষ্টার জরুরি বার্তা!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার এক বার্তায় তিনি জামায়াত আমিরের নেতৃত্ব এবং নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও গঠনমূলকভাবে গ্রহণ করার প্রশংসা করেন।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনকালে দলটির পক্ষ থেকে যে গঠনমূলক সমর্থন ও সহযোগিতা পাওয়া গেছে, সেটির জন্যও তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমান সময়কে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মনে করেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, জলবায়ু রক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও অংশগ্রহণমূলক করতে জামায়াতে ইসলামী একটি নীতিনিষ্ঠ বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা আরও প্রত্যাশা করেন যে, জাতীয় সংসদে নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে জামায়াত আমিরের অতীত ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। পরিশেষে তিনি ডা. শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন।

নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার সময়সূচী জানা গেলো!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। আজ শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বঙ্গভবনে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই শপথ বাক্য পাঠ করাবেন এবং এর মাধ্যমে প্রায় দুই যুগ পর দেশে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে।

নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। মিত্রদের আসনসহ তাদের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের প্রার্থীরা ৭৭টি আসনে জয়ী হয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং সংসদ নেতা নির্বাচনের মতো প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর সুবিধাজনক সময়ে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। তবে সরকার চাইলে আগামীকাল বা পরশুর মধ্যেও শপথ আয়োজনের পূর্ণ প্রস্তুতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের রয়েছে।

বিএনপি আগেই ঘোষণা করেছে যে, নিরঙ্কুশ জয়ের পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এই শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। উল্লেখ্য যে, বঙ্গভবনে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

কে পড়াবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ, জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

সংবিধান অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শপথ পড়াবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

নতুন মন্ত্রিসভার শপথের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রস্তুতি আছে বলেও জানিয়েছেন শেখ আব্দুর রশিদ।

এ ছাড়া নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের জন্য কম-বেশি এক হাজার অতিথিকে দাওয়াত দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ফ্রিতে ওয়াজের ঘোষণা দিয়েও ভোটে ভরাডুবি তাহেরীর

০

সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এসএম ফয়সল। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আলোচিত প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। মোমবাতি প্রতীক নিয়ে লড়া তাহেরী পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট।

এর আগে নির্বাচনি প্রচারে ফ্রিতে ওয়াজের ঘোষণা সত্ত্বেও ভোটে ভরাডুবি হলো মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর। বিএনপি প্রার্থী ফয়সলের সঙ্গে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৪৯ ভোটের বিপুল ব্যবধানে পরাজিত হন তাহেরি।

এদিকে তাহেরির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৪৪৬ ভোট। এ আসনে আলোচিত প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট।

অন্য প্রার্থীদের মধ্যে মো. মুজিবুর রহমান (মই) পেয়েছেন ৩২৯ ভোট, মু. রেজাউল মোস্তফা (আপেল) ৪৮৪, মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন (ছড়ি) ৪৮৪, শাহ মো. আল আমিন (হারিকেন) ৫৩৬, মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী (ঘোড়া) ৬৫২ এবং সালেহ আহমদ সাজন (ফুটবল) পেয়েছেন ৬১৯ ভোট।

এ আসনে মোট ভোটার ছিল ৫ লাখ ৫২ হাজার ৭১১ জন। ৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ৯৭টি, যা ৫৬ দশমিক ১০ শতাংশ।

একটি আসনও পেল না জাতীয় পার্টি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় পরিসরে অংশ নিলেও ভরাডুবির মুখে পড়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। দলটি ১৯৬টি আসনে প্রার্থী দিলেও শেষ পর্যন্ত একটিও আসনে জয় তুলতে পারেনি। বিশেষ করে রংপুর-৩ (সদর) আসনে ফলাফল দলটির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে, যেটিকে দীর্ঘদিন ধরে জাপার ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

রংপুর শহরেই দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বাড়ি। সেই সূত্রে এ আসনে জাপার শক্ত ভিত্তি রয়েছে বলে ধারণা করা হতো। কিন্তু এবার সেই আসনেই দলীয় চেয়ারম্যান জিএম কাদের তৃতীয় অবস্থানে নেমে গেছেন।

বেসরকারি ফল অনুযায়ী, রংপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু ৭৪ হাজার ১৭১ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকেন। অন্যদিকে জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের পান ৩৭ হাজার ৯৩৩ ভোট।

জানা গেছে, নির্বাচনের দিন জিএম কাদের নিজে ভোটকেন্দ্রে যাননি। তিনি সারাদিন নগরীর নিউসেনপাড়া এলাকার বাসায় ছিলেন। যদিও দলের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, ভোটের দিন সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি ভোট দেবেন।

এদিকে জাপার মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার গাইবান্ধা-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রাথমিক হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাজেদুর রহমান ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪৫ ভোটে বিজয়ী। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী ৩৭ হাজার ৮৫১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় ও জাপার মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী ৩৩ হাজার ৯২৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে।

জামায়াতের রাজনীতি মানুষ পছন্দ করেনি বলেই বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ জয়

সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়কে জনগণের রাজনীতির জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি মানুষ পছন্দ করেনি দেখেই বিএনপি নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে নির্বাচনের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কখনো জনপ্রিয়তা হারায়নি এবং এই দল সবসময় জনগণের রাজনীতি করেছে।

বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি সম্পর্কে মহাসচিব বলেন, বিএনপি কোনো ক্যাডার বেজ দল না, এটি জনগণের দল। আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন ও দুঃশাসনের কারণেই মূলত জামায়াতের উত্থান হয়েছিল। তবে দেশের মানুষ এখন তাদেরকে প্রত্যাহার করেছে।

নির্বাচন পরবর্তী পরিকল্পনা ও জোটের অঙ্গীকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে আমাদের একটি জাতীয় সরকারের কমিটমেন্ট আছে। আমরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবো।

তিনি আরও জানান, জুলাই সনদে যে বিষয়গুলোতে সই করা হয়েছে, সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে। সেই সঙ্গে বিএনপির ঘোষিত ‘৩১ দফা’ সংস্কার কর্মসূচিও পূরণ করার কথা জানান তিনি।

উত্তরাঞ্চলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সঠিকভাবে রংপুরের জনগণের জন্য কাজ করতে পারলে ভবিষ্যতে আমরা উত্তরাঞ্চলের সব আসনে বিজয়ী হবো।