Home Blog Page 237

ঢাবি শিক্ষক লাঞ্ছিত সংস্কারের নমুনা এটাই কি?

০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এক ইউপি সদস্যের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। একসময় আওয়ামী লীগের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত ওই জনপ্রতিনিধিকে এখন জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড সভাপতির দায়িত্বে দেখা যাচ্ছে। তিনি উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান।

স্থানীয়রা জানান, শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিয়মিত অংশ নিতেন দলীয় সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচিতে। তবে দলীয় কমিটিতে, ২০১৯ সালের ১০ মার্চ অনুমোদিত খাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ৩১ নম্বর সদস্য ছিলেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে তাকে সরাসরি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

এ ব্যাপারে বর্তমান জামায়েত ইসলামী নেতা ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, আমি আগে মেম্বার ছিলাম, এখনো আছি। সে হিসেবে হয়তো আমাকে আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে নাম দিয়ে রাখা হয়েছে। যখন যে সরকার থাকে, আমাদেরকে সাধারণত তার সাথেই থাকতে হয়। কে কখন নাম বসিয়েছে, এ বিষয়ে আমি জানি না।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা। অনেকের অভিযোগ, অতীতের কর্মকাণ্ড ও বিতর্ক এড়াতেই তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। এতে ইউনিয়নজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

কসবা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির পীরজাদা শিবলী নোমানী জানান, মিজান মেম্বার যে আওয়ামী লীগের সদস্য—এ বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম না। আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। যদি এলাকাবাসীর কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদর্শের রাজনীতির পরিবর্তে সুবিধাবাদী অবস্থান পরিবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে আস্থার সংকট তৈরি করছে। এখন দেখার বিষয়, এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলো কী সিদ্ধান্ত নেয়।

মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেহজাবীন

০

হুমকি-ধমকি-ভয় দেখানোর অভিযোগে করা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরী। সোমবার সকালে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আদনান জুলফিকার শুনানি শেষে মামলা থেকে অব্যাহতির এই আদেশ দেন।

মামলার বিষয়ে মেহজাবীন ও আলিসানের জবাব দাখিলের জন্য সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিন ধার্য ছিল। জবাব দাখিলের পর শুনানি শেষে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন আদালত। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার।

জানা যায়, বাদী তার ঠিকানা নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন।  তিনি নিজের ঠিকানায় থানা ‘ফেনী সদর’ আর জেলা ঢাকা দেখিয়েছেন। কিন্তু ঢাকা জেলায় ‘ফেনী সদর’ নামের কোনো থানা নাই। এছাড়া তিনি যে মোবাইল নম্বরটি উল্লেখ করেছেন সেটি ১২ সংখ্যার ভুল মোবাইল নম্বর, যেটি অকার্যকর। একইসঙ্গে বাদী তার আর্জিতে বিবাদির ঠিকানা উল্লেখ করেছেন সেটিও অস্পষ্ট। মামলায় একজন স্বাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার কোনো পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা নেই।

শুনানিতে নিজের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি বাদী, যৌক্তিক কোনো বক্তব্যও আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি।

পরে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

যে ভুল করলে বাতিল হবে পোস্টাল ব্যালট: ভোটারদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা

০

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রবাসী, সরকারি কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও কয়েদিরা এবার প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে নির্বাচন কমিশন সতর্ক করে জানিয়েছে যে, ভোট প্রেরণের ক্ষেত্রে কোনো ভুল হলে পোস্টাল ব্যালট বাতিল হয়ে যাবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যারা পোস্টাল ব্যালট ব্যবহার করবেন, তাদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দেশের ডাক বিভাগের মাধ্যমে ভোট ফেরত পাঠাতে হবে। অন্য কোনো চ্যানেল বা ব্যক্তিগত মাধ্যমে পাঠানো ব্যালট গ্রহণযোগ্য হবে না। প্রত্যেকটি পোস্টাল ব্যালটে ইউনিক কিউআর কোড এবং ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এবার ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে দেশের ভেতরে বসবাসরত ভোটারের সংখ্যা ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন। নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ জানুয়ারি। তবে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হবে ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে।
নির্বাচন কমিশনের এই সতর্কবার্তা ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নির্দেশনা না মানলে ভোট বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকবে, তাই নির্দিষ্ট সময় ও পদ্ধতি অনুসরণ করাই নিরাপদ।

দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা

০

‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা-২০২৬’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রধান অতিথি হিসেবে এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি।

রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে সম্মেলনটি আজ শুরু হয়ে চলবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ মোট ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে।

দেশের উচ্চশিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করা এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর উচ্চশিক্ষা কমিশন নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।

এ ছাড়া অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীন, বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীম উদ্দিন খান।

সম্মেলনে সার্কভুক্ত দেশের ইউজিসি ও উচ্চশিক্ষা কমিশনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা, বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক, কূটনীতিক উপস্থিত থাকবেন।

তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট ৮টি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা, সুশাসন ও গুণগতমান এবং অন্তর্ভুক্তি’ এবং ‘গবেষণা, উদ্ভাবন, স্থায়িত্ব এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক দু’টি সেশন থাকবে।

দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমন্বয়, ডিজিটাল রূপান্তর এবং স্মার্ট লার্নিং ইকোসিস্টেম’, ‘গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা’, উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ পথরেখা : সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং নেটওয়ার্কিং’, ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে অংশীজনদের সংলাপ : সুশীল সমাজের কণ্ঠস্বর’ এবং ‘উপাচার্যদের সাথে সংলাপ: হিট প্রকল্পের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনের শেষ দিনে ‘উচ্চশিক্ষায় জেন্ডার ইস্যু’ নিয়ে আলোচনা শেষে ‘ঢাকা হায়ার এডুকেশন ডিক্লারেশন’ বা ঢাকা ঘোষণার মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটবে।

বিএনপি ও জামায়াতের ভোটের পার্থক্য এখন ১.১ শতাংশ

০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত সামনে আসছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ততটাই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নির্বচানকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপে প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তিÑ বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত মিলেছে। জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৩৪.৭ শতাংশ, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৩.৬ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার। এ নির্বাচনে আনডিসাইডেড (সিদ্ধান্তহীন) ভোটার থাকতে পারে ১৭.০ শতাংশ। অন্য দলগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি) ৭.১, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩.১ এবং অন্যান্য দল ৪.৫ শতাংশ ভোট পাবে।
সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রাক-নির্বাচনী জরিপ প্রকাশ করা হয়। ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দুই হাজার ছাব্বিশ’ শীর্ষক এ জরিপটি প্রকাশ করে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি। জরিপটি পরিচালনায় যৌথভাবে কাজ করেছে প্রজেকশন বিডি, জাগরণ ফাউন্ডেশন ও ন্যারেটিভ।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, মোট ভোটারের প্রায় ছিয়াশি শতাংশ ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী। সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের সম্ভাব্য অবস্থান যুক্ত করলে বিএনপির সমর্থন দাঁড়াতে পারে প্রায় তেতাল্লিশ শতাংশের কাছাকাছি এবং জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন পৌঁছাতে পারে প্রায় একচল্লিশ শতাংশের মতো।
জরিপের পরিসর ও পদ্ধতি ॥ এই জনমত জরিপটি ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এতে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত মোট ২২ হাজার ১৭৪ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশগ্রহণ করেন। শহর-গ্রাম, অঞ্চল ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নিশ্চিত করতে স্তরভিত্তিক নমুনা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় এবং জাতীয় আদম শুমারির তথ্যের আলোকে পরবর্তী ওজন প্রয়োগ করা হয়েছে।
ভোটারদের ভাবনা ও দলভিত্তিক সমর্থনের কারণ ॥ বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, দলটির রাষ্ট্র পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতাই তাদের সমর্থনের প্রধান কারণ। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০ থেকে ৪৪ এবং ৩৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিএনপির সমর্থন তুলনামূলক বেশি। পেশাভিত্তিক হিসাবে কৃষক ও শ্রমজীবী শ্রেণির মধ্যেও দলটির অবস্থান শক্ত।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা দলটির প্রতি আস্থা রাখার পেছনে মূলত কম দুর্নীতির ভাবমূর্তি ও সততার পরিচয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি, বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে। উচ্চশিক্ষিত, বিশেষ করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যেও জামায়াতের সমর্থন অন্য দলগুলোর তুলনায় এগিয়ে। ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণ ও শিক্ষিত ভোটারদের সম্পৃক্ত করায় দলটি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি)কে সমর্থন দেওয়া ভোটারদের একটি বড় অংশ জানিয়েছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে দলটির ভূমিকা তাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের প্রায় ১৭ শতাংশ এখনো ভোটের সিদ্ধান্ত নেননি। এই অংশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার জানিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না। আবার একটি বড় অংশ মতামত দিতেও অনিচ্ছুক ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই শেষ মুহূর্তে নির্বাচনের ফল পাল্টে দিতে পারেন।
সামগ্রিকভাবে জরিপটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ’২৬ সালের নির্বাচন হবে একদিকে অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার রাজনীতি। অন্যদিকে সততা, ন্যায়বিচার ও মূল্যবোধের রাজনীতির মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। ভোটারদের বড় অংশই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফল উপস্থাপন করেন ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসির কর্মকর্তা শফিউল আলম শাহীন। তিনি বলেছেন, জরিপকারী প্রতিষ্ঠান বলছে, মেশিন লার্নিং প্রজেকশন অনুযায়ী সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের ঝোঁক বিবেচনায় নিলে বিএনপির সমর্থন ৪৩.২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ৪০.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। জরিপের ফল অনুযায়ী আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের একটি বিশাল অংশ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহিন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসির চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুল হক, সোয়াশ ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মুশতাক খান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেসের ডিন ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম, ইউনিভার্সিটি অব রেজিনার সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী এ কে এম ফাহিম মাশরুর, গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী এবং সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) আমসা আমিন প্রমুখ।

ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বলেন রোজিনা

০

গণমাধ্যম দুনিয়ায় পডকাস্ট নতুন চমক সৃষ্টি করে চলেছে। রোজই নিত্যনতুন খবর মিলছে। তাতে নতুন সংযোজন হলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী রোজিনা। নতুন বছরে প্রথম বর্ষপূর্তির দিনেই আইজ অন ইউটিউব চ্যানেলে আসছেন সোনালি দিনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রোজিনা। আজ সোমবার প্রথম বর্ষপূর্তির রাত ১০টায় উন্মুক্ত হবে রোজিনাকে নিয়ে তৈরি সেলিব্রিটি পডকাস্ট স্টার ডায়েরির প্রথম পর্ব।

এই বিশেষ পর্বটি উপস্থাপনা করেছেন আর্শিয়া। এই পর্বে একের পর এক সিনেমা থেকে বাদ পড়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বলেছেন রোজিনা। সবাইকে আইজ অন স্টুডিওর ইউটিউব চ্যানেলে এই বিশেষ পর্ব দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে রোজিনা বলেছেন, নিজের জীবনের গল্প বলতে গিয়ে নিজেকে আবার আবিষ্কারের আনন্দ পেলাম। নায়িকা হওয়ার অনুপ্রেরণা বলেছেন তিন কিংবদন্তি অভিনেত্রী কবরী, শাবানা ও ববিতার কথা। অভিনয়ে এসে  এক সময় যাদের সঙ্গে একই কাতারে উঠে এসেছিলেন রোজিনা।
২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আইজ অন স্টুডিও নামের ইউটিউব চ্যানেল। দুই ঈদসহ বছরজুড়ে এই চ্যানেলে রীতিমতো তারকার মেলা বসেছে নানাবিধ শোয়ের মাধ্যমে।
যাত্রার পর থেকে আইজ অন স্টুডিও ইউটিউব চ্যানেলে চমক দেখিয়ে প্রথমবারের মতো সলো পডকাস্টে হাজির হন দেশীয় সিনেমার দুই দিকপাল আলমগীর ও সোহেল রানা। আমি আলমগীর নামের নয় পর্বের পডকাস্ট প্রচার হয়েছে প্রথম বছরের শুরু থেকেই। পডকাস্ট আমি সোহেল রানার প্রচার এখনো চলছে। পাঁচ পর্বে কিংবদন্তি পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর ‘ঝন্টু টকস’ প্রচার হয়েছে এই চ্যানেলে।

জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসও প্রথমবারের মতো পডকাস্টে বসেন পাঁচ পর্বের ‘অপুর পাঁচালী’ শো নিয়ে। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আঁখি আলমগীর ‘আঁখির গল্প’ পডকাস্টের সাত পর্বে জীবনের গল্পের ঝাঁপি খোলেন। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে প্রচার হয়েছে পডকাস্ট উইথ সৈকত সালাহউদ্দিনের সতেরোটি পর্ব। ‘আঁখির গল্প সিজন টু’-এর প্রথম পর্বে আঁখি আলমগীরের অতিথি হয়ে আসেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী।
সেলিব্রেটি পডকাস্ট শো স্টার ডায়েরিতে তারকার মেলা বসেছে প্রথম বছরে। নানা শোতে অতিথি হয়ে এসেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস, বুবলী, তমা মির্জা, বাঁধন, রুনা খান, আঁখি আলমগীর, চঞ্চল চৌধুরী, সিয়াম আহমেদ প্রমুখ। শোগুলো উপস্থাপনা করেন সৈকত সালাহউদ্দিন, সমৃদ্ধি ও আর্শিয়া।
সিনিয়র সাংবাদিক তুষার আদিত্যের উপস্থাপনায় ‘স্ট্রেইট কাট তুষার’ পডকাস্ট শোতে হাজির হন কুসুম সিকদার ও মন্দিরা চক্রবর্তী।

মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেহজাবীন চৌধুরী

০

ঢাকার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সোমবার (১২ জানুয়ারি) মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং তার ভাই আলিশান চৌধুরীকে মামলায় অব্যাহতি দিয়েছেন। পারিবারিক ব্যবসার অংশীদার হিসেবে রাখার প্রলোভন দেখিয়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাত এবং হুমকি-ধামকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতের এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
মেহজাবীনের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের পরিচয়ের ভিত্তিতে বাদী আমিরুল ইসলাম মেহজাবীনের পারিবারিক ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার বিনিময়ে ২৭ লাখ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়া সত্ত্বেও ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় টাকা ফেরত চাওয়ার পর আসামিরা সময়ক্ষেপণ শুরু করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত বছরের ১৬ মার্চ হাতিরঝিলের একটি রেস্টুরেন্টে বৈঠকের জন্য ডেকে নিয়ে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন বাদীকে গালাগালি ও হত্যার হুমকি দেন। পরে বাদী ভাটারা থানায় গেলে পুলিশ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।
এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১০৭/১১৭(৩) ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালতে আসামিরা হাজির না হওয়ায় ১০ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ১৬ নভেম্বর তারা আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মামলার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়ে আসামিরা মুক্তি পান, যা পরবর্তী বিচার প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

নীরবে লিভারের ক্ষতি করছে যে ৩টি খাবার!

০

আমাদের লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা রক্ত ​​পরিশোধন, পিত্ত উৎপাদন এবং পুষ্টি বিপাকসহ অসংখ্য শারীরিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি একটি প্রাথমিক পরিস্রাবণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে, রক্ত ​​থেকে বিষাক্ত পদার্থ এবং বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করে। তবে, কিছু খাবার, যা অন্যথায় ক্ষতিকারক বলে মনে হয় না, লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এবং ফ্যাটি লিভার, সিরোসিস, ফ্যাটি লিভার ডিজিজ, অ্যাকিউট লিভার ফেইলিওর এবং ক্রনিক লিভার ডিজিজের আকারে প্রকাশ পেতে পারে। ভালো খবর হল যে আপনি আপনার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলি খাওয়া এড়িয়ে চলতে পারেন এবং এই সমস্ত অসুস্থতা প্রতিরোধ করতে পারেন। আসুন আপনার লিভারের ক্ষতি করে এমন শীর্ষ ৩টি খাবার দেখে নেওয়া যাক (সূত্র: ডাক্তার.সেঠি)

ফ্রুক্টোজ-ভারী খাবার
ফ্রুক্টোজ হল এক ধরণের চিনি যা প্রাকৃতিকভাবে ফল, মধু এবং উচ্চ-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপের মতো কিছু মিষ্টিতে পাওয়া যায়। যদিও পুরো ফল থেকে অল্প পরিমাণে ফ্রুক্টোজ সাধারণত নিরাপদ, তবে অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ, বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং মিষ্টি পানীয় থেকে, লিভারের ক্ষতি করতে পারে।

আপনি যখন প্রচুর ফ্রুক্টোজ খান, তখন আপনার লিভার এটি ভেঙে ফেলার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে। গ্লুকোজের বিপরীতে, ফ্রুক্টোজ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লিভারে প্রক্রিয়াজাত করা হয়, যেখানে এটি দ্রুত চর্বিতে পরিণত হতে পারে।

এর ফলে লিভারের ভেতরে চর্বি জমা হতে পারে, যাকে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) বলা হয়। সময়ের সাথে সাথে, এই চর্বি জমা প্রদাহ, দাগ এবং এমনকি লিভার ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

উচ্চ ফ্রুক্টোজ গ্রহণ লিভারে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহও বাড়ায়। এটি ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা এবং রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং ইনসুলিন প্রতিরোধের কারণ হতে পারে, যার অর্থ আপনার শরীর ইনসুলিনের প্রতি ভালোভাবে সাড়া দেয় না। এই পরিবর্তনগুলি লিভারের রোগ এবং ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং পানীয়গুলিতে সমস্যাটি বিশেষভাবে গুরুতর যেখানে ফ্রুক্টোজ যুক্ত থাকে, যেমন সোডা, ক্যান্ডি এবং অনেক বেকড পণ্য। এই খাবারগুলি লিভারের নিরাপদে ফ্রুক্টোজ প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতাকে অতিক্রম করতে পারে, যার ফলে লিভারের ক্ষতি হয়।

শিল্প বীজ তেল
শিল্প বীজ তেল হল সূর্যমুখী, কুসুম, তুলা বীজ, সয়াবিন এবং ভুট্টার মতো বীজ থেকে নিষ্কাশিত তেল। এই তেলগুলি অনেক প্রক্রিয়াজাত এবং ভাজা খাবারে সাধারণ। যদিও উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন হওয়ায় এগুলো স্বাস্থ্যকর মনে হতে পারে, তবুও এগুলো আপনার লিভার এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।

এই তেলগুলিতে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড বেশি থাকে, যা অল্প পরিমাণে অপরিহার্য কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে ক্ষতিকারক। ওমেগা-৬ ফ্যাটের বেশি গ্রহণ লিভার সহ শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এই প্রদাহ লিভারের ক্ষতি এবং ফ্যাটি লিভারের মতো রোগে অবদান রাখতে পারে।

তাছাড়া, শিল্পজাত বীজ তেল অস্থির এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রান্নার সময় তাপ, আলো বা রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলে সহজেই জারিত হয়। এই জারণ ট্রান্স ফ্যাট এবং লিপিড পারক্সাইডের মতো ক্ষতিকারক পদার্থ তৈরি করে। ট্রান্স ফ্যাট হৃদরোগ এবং টাইপ 2 ডায়াবেটিসের সাথে যুক্ত, অন্যদিকে লিপিড পারক্সাইড ডিএনএ এবং প্রোটিনের ক্ষতি করে লিভারের কোষগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ভাজার মতো এই তেলগুলিকে বারবার গরম করলে এগুলি আরও বিষাক্ত হয়ে ওঠে এবং লিভারের প্রদাহ এবং ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে যে এই তেলগুলি অন্ত্রে ভালো এবং খারাপ ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, প্রদাহ এবং লিভারের সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা শিল্পজাত বীজ তেলের ব্যবহার সীমিত করার এবং পরিবর্তে জলপাই তেল, নারকেল তেল, চালের কুঁড়া তেল এবং ঘি এর মতো স্বাস্থ্যকর চর্বি বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এই বিকল্পগুলি আরও স্থিতিশীল এবং প্রদাহের সম্ভাবনা কম।

ফলের রস
অনেকে মনে করেন ফলের রস স্বাস্থ্যকর, কিন্তু বেশিরভাগ বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া ফলের রসে চিনি বেশি এবং ফাইবার কম থাকে। ফলের রস তৈরি করলে প্রাকৃতিক ফাইবার সরে যায়, যার বেশিরভাগই চিনি থাকে, বিশেষ করে ফ্রুক্টোজ।

প্রচুর পরিমাণে ফলের রস পান করলে ফ্রুক্টোজ-ভারী প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার মতো একই সমস্যা হতে পারে। লিভারকে সেই সমস্ত চিনি প্রক্রিয়াজাত করতে হয়, যা লিভারের কোষে চর্বি জমা, প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কারণ হতে পারে।

পুরো ফলের বিপরীতে, ফলের রস রক্তে শর্করা এবং ফ্রুক্টোজের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করে, যা লিভারকে অতিরিক্ত চাপ দেয়। এটি ফ্যাটি লিভারের রোগকে আরও খারাপ করতে পারে এবং লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

যারা লিভারের স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বিগ্ন, তাদের জন্য ফলের রস পান করার চেয়ে পুরো ফল খাওয়া ভালো। পুরো ফলে ফাইবার থাকে যা চিনির শোষণকে ধীর করে দেয় এবং লিভারের উপর বোঝা কমায়। পাল্প ছাড়া এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত ফলের রস এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলি চিনিযুক্ত সোডার মতো লিভারের চর্বি এবং প্রদাহে অবদান রাখতে পারে।

দাম বেড়ে সোনার ভরি প্রায় দুই লাখ ২৮ হাজার টাকা

০

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে ভালো মানের সোনার দাম বেড়ে দুই লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায় উঠেছে। সম্প্রতি বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এই দাম আগামীকাল (১১ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে।

প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দুই লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা দাম এক লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা। স্বর্ণের দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৯২৫ টাকা। এ ছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬৩৯ টাকা।

ঘুম থেকে উঠার পর ক্লান্তি লাগে? কারণ ও সমাধান জানালেন চিকিৎসক

০

অনেকেই বলে থাকেন―সকালে ঘুম থেকে উঠার পর শরীর যেন প্রায় ভেঙে পড়ে, ক্লান্তি শুরু হয় এবং দুপুরের আগেই চোখ ঘুমে ভারী হয়ে যায়। কারও কারও আবার মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা অনুভব হয়। দিনের শুরুতেই যদি এ ধরনের অবস্থা হয়, তাহলে দিনটাই যেন প্রায় মাটি! ফলে সারাদিন কাজের প্রতি মনোযোগ ও সক্রিয়তা কমতে থাকে। যা প্রভাব ফেলে ব্যক্তি ও কর্মজীবনে।

দিনের শুরুতে শরীরের এসব সমস্যা হলে শক্তির পরিমাণও কমে যায়। ফলে সব দিকেই সমস্যার শুরু হয়। এ ব্যাপারে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. পাল মনিক্কম। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠার পর ক্লান্তি লাগার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই দায়ী হচ্ছে অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস, ভুল সময় খাওয়া বা রাতে অতিরিক্ত আলো-শব্দের পরিবেশে থাকা।

ডা. পাল মনিক্কম বলেন, মাত্র কয়েকটি ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করলে ঘুমের গুণগত মান বাড়ে এবং সকালে ঘুম ভাঙার সঙ্গে শরীরে স্বাভাবিক সক্রিয়তা ফিরে আসে। এ জন্য জরুরি হচ্ছে ফিক্সড স্লিপ সাইকেল। অর্থাৎ- প্রতিদিন একই সময় ঘুমাতে যাওয়া ও একই সময় ঘুম থেকে উঠা। যা শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম স্থিতিশীল রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমানোর আগে অন্তত এক ঘণ্টা ফোন, টিভি বা স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত। কেননা, নীল আলো মেলাটোনিন কমিয়ে দেয়, এতে ঘুম গভীর হয় না। ঘুমানোর অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে হালকা আলো, বই পড়া বা উষ্ণ পানিতে গোসল করা- এ ধরনের রিল্যাক্সিং রুটিন শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে।

ঘুম ভালো ও গভীর হওয়ার অন্যতম উপাদান হচ্ছে আলো নিয়ন্ত্রণ। আলো যদি বেশি তীব্র হয়, তবে সেই আলো শরীরকে ভুল সংকেত দেয় যে- দিন এখনো শেষ হয়নি। এ কারণে ঘর অন্ধকার রাখার জন্য ব্ল্যাকআউট কারটেইনস খুবই কার্যকর। এসব বাইরের গাড়ির আলো, স্ট্রিটলাইট বা ভোরের সূর্যালোক ঘরের ভেতর প্রবেশ করতে দেয় না। অন্ধকার পরিবেশে মেলাটোনিন নিঃসরণ বাড়ে এবং এতে ঘুমের গভীরতা ও সময় বেশি হয়। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠার পর শরীর ক্লান্তিও লাগে না।

ঘুম নষ্ট হওয়ার অন্য একটি কারণ হচ্ছে রুমের তাপমাত্রা ঠিক না রাখা। ঘুমের সময় শরীর স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হয়। এ কারণে ঘরের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম হলে দ্রুত ঘুম আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা হচ্ছে ১৮ থেকে ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। বেশি গরম ঘুমের ছন্দ ভেঙে দেয় এবং ঘুমের মাঝে বারবার জাগিয়ে তুলে। এ কারণে সকালে ক্লান্তি লাগে।

এছাড়া রাতে তাড়াতাড়ি খাওয়া উচিত। যদি দেরি করে খাবার খাওয়া হয়, তাহলে হজম হওয়ার আগে শুয়ে পড়লে অ্যাসিডিটি, অম্বল বা গ্যাসের সমস্যা তৈরি হয়। এ কারণে ঘুম ভেঙে যেতে পারে বা গভীর হয় না। রাতে যদি আগে খাবার খাওয়া হয়, এতে শরীর হজমের কাজ শেষ করে ঘুমে প্রবেশ করে। আর সকালে হালকা লাগে শরীর। পেট গরম বা ভারী হয় না।

উল্লেখিত অভ্যাসগুলো নিয়মিত পালন করা হলে সকালে ক্লান্তি তো দূর হবেই, সঙ্গে শরীরের শক্তির পরিমাণও বাড়তে থাকবে। ঘুমের মান ভালো হলে মনোযোগ, স্মরণশক্তি, হরমোন ব্যালান্স- সবই উন্নত হয়। তবে হঠাৎ কোনো রুটিন শুরুর আগে নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেয়া উচিত।