টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত জেলার ১০টি থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারের গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শাহজাহান মিয়া, সুজন আহমদ, এস কে আলম, সাব্বির হোসেন তালুকদার, মঞ্জু মিয়া, সেলিম রেজা, আব্দুল্লাহ, সোহেল আমির, রকিবুল ইসলাম, সাগর মিয়া, খোকন, মোস্তফা কামাল, ফেরদৌস আলম এবং লিমন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিরা টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর, বাসাইল, মির্জাপুর, সখীপুর, কালিহাতী, ঘাটাইল, মধুপুর, গোপালপুর এবং ভুঞাপুর থানার বিভিন্ন মামলার এজাহারনামীয় ও সন্দিগ্ধ আসামি। মামলাগুলোতে সংঘবদ্ধ সহিংসতা, হামলা, মারধর, গুরুতর আহত, হত্যাচেষ্টা, ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি, বিস্ফোরক দ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধ বিভিন্ন উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশের বিশেষ অভিযানে টাঙ্গাইলে ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জন গ্রেফতার
যেদিন আওয়ামী লীগের মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া
সবাইকে কাঁদিয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। জাতীয়তাবাদের আদর্শের এই মহীয়সী নারী দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে গণতন্ত্র ও দেশ গঠনে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। তার মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু ছবি নতুন করে ভেসে বেড়াচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো আওয়ামী লীগের মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে বিএনপির আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান।
ছবিটি যুক্ত করে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, এই ছবির ইতিহাস নিশ্চয়ই সবাই ভুলে গেছেন।
এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান আরও লিখেছেন, এরশাদের স্বৈরশাসনকালে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন সরকারি হিসেবে ৯ জন, বেসরকারি হিসেবে ২৪ জন আর আওয়ামী লীগের ওয়েব পেজের হিসেবে ৮০ জন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই হামলাকে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই চালানো হয়েছিলো বলে বর্ণনা করা হয়।
তিনি লিখেছেন, এই হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় শহীদ মিনারে আওয়ামী লীগ ও তৎকালীন ৮ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ২৬ জানুয়ারি একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিলো। রহস্যজনকভাবে সেই সমাবেশে শেখ হাসিনা যোগ দেন নাই, কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই সমাবেশে যোগ দেন। তিনি স্বৈরাচারী এরশাদ কর্তৃক শেখ হাসিনার গাড়িবহরে পুলিশের গুলি এবং গণহত্যার প্রতিবাদে ওই সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলেরও নেতৃত্বও দিয়েছিলেন।
সবশেষে বিএনপির আইসিটি বিষয়ক এই সম্পাদক লিখেছেন, এটি সেই মিছিলের ছবি।
মায়ের কোনো ব্যবহার-কথায় কেউ আঘাত পেলে আমি ক্ষমা প্রার্থী: তারেক রহমান
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার ঠিক আগে সমবেত লাখো মানুষের উদ্দেশে আবেগঘন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়েছেন তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত জানাজা অনুষ্ঠানে তিনি দেশবাসীর কাছে তাঁর মায়ের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।
বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, “আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় পুত্র তারেক রহমান। আজ অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি।”
মায়ের পক্ষ থেকে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, “তিনি (খালেদা জিয়া) দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যদি তাঁর কোনো ব্যবহারে বা কথায় কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তবে আমি তাঁর সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা তাঁকে ক্ষমা করে দেবেন।”
লেনদেনের বিষয়ে দায়বদ্ধতা প্রকাশ করে তারেক রহমান আরও বলেন, “তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় যদি কারো কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, তবে দয়া করে আমাকে জানাবেন। আমি তাঁর সন্তান হিসেবে সেই ঋণ পরিশোধ করে দেব।”
সবশেষে কান্নজড়িত কণ্ঠে তিনি দেশবাসীর কাছে বিশেষ আরজি জানিয়ে বলেন, “আপনারা আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন, মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন।”
তারেক রহমানের এই বক্তব্যের সময় উপস্থিত জনসমুদ্রে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। এই বক্তব্যের পরপরই জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আব্দুল মালেকের ইমামতিতে জানাজা শুরু হয়।
ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা দেখলো বাংলাদেশ!
আপসহীন নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় রাঙিয়ে দিল লাখো মানুষের ভালোবাসা। আজ বুধবার বাদ জোহর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জুড়ে অনুষ্ঠিত তাঁর জানাজা পরিণত হয়েছিল এক বিশাল জনসমুদ্রে। যে দেশের মানুষের অধিকারের জন্য তিনি আজীবন লড়াই করেছেন, সেই মানুষেরাই আজ প্রিয় নেত্রীকে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় জানাতে সমবেত হয়েছিলেন।
দুপুর হওয়ার আগেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ছাড়িয়ে জনস্রোত বিজয় সরণি, ফার্মগেট, শাহবাগ ও কারওয়ান বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। যতদূর চোখ যায়, শুধু মানুষের মাথা আর শোকার্ত মুখ। অসুস্থ শরীর নিয়ে কেউ স্ক্র্যাচে ভর দিয়ে, আবার কেউ দেশের দূর-দূরান্ত থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন তাঁদের প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখতে। জানাজাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল শোকের মাতম; অনেককেই অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে।
গত কয়েকদিনের হাড়কাঁপানো শীত কাটিয়ে আজ যেন প্রকৃতিও এই নেত্রীকে বিদায় জানাতে শান্ত রূপ ধারণ করেছে। কনকনে ঠান্ডার বদলে নগরীতে আজ ছিল মিষ্টি রোদের আনাগোনা, যা দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।
স্মরণকালের রেকর্ড মানুষের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হল খালেদা জিয়ার জানাজা
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এতে অংশগ্রহণ করেছেন স্মরণকালের সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ। দুপুর ২টায় শুরু হওয়া জানাজা শেষ হয় বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে। জানাজার ইমামতি করেছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা। এছাড়া বন্ধুপ্রতিম বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন।
জানাজার আগে ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ মানিক মিয়া এভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। জনস্রোত আশেপাশের বিজয় সরণি, খামারবাড়ি মোড়, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, শেরে বাংলা নগর, কলেজগেট, আসাদগেট ও শাহবাগসহ শহরের অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের ছাদ, ওভার ব্রিজসহ যেখানে যেখানে সুযোগ পেয়েছেন, সেখানে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকেন। অনেকেই চাপ ও ভিড়ের কারণে জানাজায় সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি।
জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে গুলশান কার্যালয়ে তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে গুলশানের কার্যালয়ে পৌঁছেছেন তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু পর তিনি গুলশানে অবস্থিত চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান। খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দলের করণীয়, জানাজার সময়সূচি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠক শেষ হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনসহ আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি সম্পর্কে দলীয়ভাবে ঘোষণা আসবে বলেও জানা গেছে।
এর আগে, ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর ৬টায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বিএনপি দলের পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক নির্যাতনের মুখে পড়েন। তিনি কারাবরণ করেন এবং সে সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হলেও তাকে গুলশানের ভাড়া বাসভবন ‘ফিরোজা’য় কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তার শরীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি জটিলতাসহ একাধিক জটিল রোগ দেখা দেয়।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হওয়া গণআন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। এর পরদিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তিনি লন্ডনে যান। সেখানে ১১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৬ মে দেশে ফেরেন। যদিও তার স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি হয়েছিল, তবে বয়সজনিত দুর্বলতা ও দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা তাকে ক্রমেই দুর্বল করে তোলে।
সবশেষ গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক মাসের বেশি সময় সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি ইন্তেকাল করেন।
খালেদা জিয়ার অবদান, ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে
জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশের রাজনীতির আপোষহীন এক প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুসংবাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশমাতৃকার প্রতিটি প্রান্তে।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরেও বিষাদের ছোঁয়া। দলীয় নেতা-কর্মীদের চোখে জল, কণ্ঠে কেবলই প্রিয় নেত্রীকে হারানোর ব্যথা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেগম জিয়া ছিলেন দৃঢ়চেতা, সাহসী ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, ভোটাধিকারের সংগ্রাম কিংবা স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইবাংলাদেশের রাজনীতির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে রয়েছে তাঁর দৃপ্ত পদচিহ্ন। ইতিহাসের পাতায় তাঁর অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এমনটাই বলছেন তাঁর দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।
মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছালাম খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন রাজপথের লড়াকু নেত্রী। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন আদর্শিক অভিভাবককে হারালাম। তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা ছিলেন, চিরকাল থাকবেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম রাজু স্মরণ করেন নেত্রীর সংগ্রামী জীবনকে, তিনি কারাবরণ করেছেন, জীবন বাজি রেখে রাজনীতি করেছেন, কিন্তু কোনোদিন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তাঁর মতো নেত্রীর অভাব অপূরণীয়।
যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা মাহামুদুল হাসান বাপ্পী জানান, বেগম খালেদা জিয়া শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, ছিলেন মমতাময়ী অভিভাবকের মতো। দলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে তিনি পরিবারের সদস্যের মতো আগলে রাখতেন। তাঁর ত্যাগ, আদর্শ ও দেশপ্রেম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শিক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
নেত্রীর মৃত্যুতে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দোয়া মাহফিল, শোকসভা ও কোরআনখানি। সর্বত্রই বইছে শোকধারা। গ্রামের প্রবীণ, তরুণ-তরুণী, নারী সবাই বলছেন, তিনি ছিলেন আমাদের আস্থা আর ভরসার জায়গা।
জাতি হারালো এক আপোষহীন দেশপ্রেমিক নেত্রীকে। যিনি গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে আজীবন আপসহীন ছিলেন। তাঁর নাম জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়ের সঙ্গে।
যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন বেগম খালেদা জিয়ার নাম উচ্চারিত হবে শ্রদ্ধা, সংগ্রাম ও সাহসিকতার বাতিঘর হয়ে। তাঁর প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
প্রোটিনের ভাণ্ডার ডিম! কিন্তু কারা ভুলেও খাবেন না? জেনে নিন সতর্কতা
সুস্থ শরীর গঠনে প্রোটিনের গুরুত্ব অপরিসীম। সেই তালিকায় ডিমকে ধরা হয় অন্যতম সেরা ও সহজলভ্য প্রোটিন উৎস হিসেবে। ডিমে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিনের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, ডি, বি-১২, আয়রন ও নানা প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। তাই অনেকেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম রাখেন—সকালের নাস্তা থেকে রাতের খাবার পর্যন্ত।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম যতই পুষ্টিকর হোক না কেন, কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা বা রোগে এটি খাওয়া উল্টো ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ডিম খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। তাহলে জেনে নেওয়া যাক—কোন কোন সমস্যায় ডিম খাওয়া উচিত নয়।
🔹 হজমজনিত সমস্যা থাকলে
মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ডিম তুলনামূলকভাবে ধীরে হজম হয়। যাঁদের আগে থেকেই বদহজম, গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা পরিপাকজনিত সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ডিম খাওয়ার পর পেটব্যথা, বমি ভাব, বমি বা মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। তাই হজমের সমস্যা থাকলে ডিম এড়িয়ে চলাই ভালো।
🔹 উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে
যাঁদের শরীরে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা বেশি, তাঁদের ডিম খাওয়ার বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে শুধুমাত্র ডিমের সাদা অংশ খাওয়া যেতে পারে।
🔹 হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে
হার্টের সমস্যা বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত ডিম খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ডিমের কুসুম নিয়মিত খেলে ধমনীতে চর্বি জমার আশঙ্কা বাড়ে, যা রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডিম না খাওয়াই শ্রেয়।
🔹 ডায়রিয়া বা পেট খারাপ হলে
ডায়রিয়া বা তীব্র পেট খারাপের সময় ডিম খেলে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে হজমে চাপ পড়ে এবং শরীর আরও দুর্বল হয়ে যায়। এই অবস্থায় ডিম সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।
🔹 ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে
একসঙ্গে একাধিক ডিম খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু অতিরিক্ত ডিম খাওয়ার ফলে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর ফলে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
ডিম নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর খাবার। তবে সবার শরীরের চাহিদা ও শারীরিক অবস্থা এক নয়। কারও জন্য এটি উপকারী হলেও, কারও জন্য হতে পারে ক্ষতিকর। তাই নিয়মিত ডিম খাওয়ার আগে নিজের শারীরিক সমস্যা, চলমান রোগ ও হজমক্ষমতার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলেই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, বুধবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার আগামী বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর ও ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারাদেশে সাধারণ ছুটি থাকবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
আপনি কি ডিপ্রেশনের শিকার? এই উপসর্গগুলোকে কখনো উপেক্ষা করবেন না
বর্তমান ব্যস্ত ও প্রতিযোগিতামূলক জীবনে মানসিক চাপ যেন নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এই চাপ ধীরে ধীরে কখন যে ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় রূপ নেয়, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ডিপ্রেশনে ভুগছেন, অথচ বড় একটি অংশ চিকিৎসার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সময়মতো লক্ষণ চিনতে পারলে এই মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
১. দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ থাকা
কয়েক ঘণ্টা বা একদিন মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু টানা দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে মন খারাপ, হতাশা বা শূন্যতা অনুভব করলে তা ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে।
২. আগ্রহ ও আনন্দ হারিয়ে ফেলা
যে কাজগুলো একসময় আনন্দ দিত—গান শোনা, বই পড়া, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো—সেগুলোতে আর আগ্রহ না থাকলে সতর্ক হওয়া জরুরি। এটি ডিপ্রেশনের অন্যতম প্রধান উপসর্গ।
৩. ঘুমের সমস্যা
ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় অতিরিক্ত ঘুমান বা একেবারেই ঘুমাতে পারেন না। মাঝরাতে ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়া বা ভোরে ঘুম ভেঙে যাওয়াও লক্ষণ হতে পারে।
৪. ক্ষুধা ও ওজনের পরিবর্তন
খাবারে অনীহা বা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়াও ডিপ্রেশনের ইঙ্গিত দেয়।
৫. সারাক্ষণ ক্লান্তি ও শক্তিহীনতা
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি সব সময় ক্লান্ত লাগে, শরীরে শক্তি না থাকে এবং ছোট কাজও কষ্টকর মনে হয়—তাহলে তা মানসিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
৬. নিজেকে মূল্যহীন মনে হওয়া
বারবার নিজেকে দোষারোপ করা, অপরাধবোধে ভোগা বা মনে হওয়া—‘আমি কিছুই পারি না’, ‘আমি বোঝা’—এই ভাবনাগুলো ডিপ্রেশনের গুরুতর লক্ষণ।
৭. মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা
ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হলে মনোযোগ কমে যায়, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয় এবং ছোট সিদ্ধান্ত নিতেও অসুবিধা দেখা দেয়।
৮. মৃত্যু বা আত্মহত্যার চিন্তা
সবচেয়ে ভয়ংকর লক্ষণ হলো—মৃত্যু নিয়ে বারবার চিন্তা করা বা আত্মহত্যার কথা ভাবা। এমন চিন্তা মাথায় এলে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া জরুরি।
কী করবেন?
ডিপ্রেশন কোনো দুর্বলতা নয়, এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য মানসিক রোগ। পরিবারের সঙ্গে কথা বলা, বিশ্বস্ত বন্ধুর সহায়তা নেওয়া এবং প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের শরণাপন্ন হওয়াই সুস্থতার প্রথম ধাপ।
মনে রাখবেন: সময়মতো চিকিৎসা নিলে ডিপ্রেশন থেকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব।


