Home Blog

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে তিনি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই তার প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এর আগে রোববার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন তিনি।

স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই জেলা অনেকটাই অবহেলিত। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। তিনি জানান, এরই মধ্যে জেলায় মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। বেকারত্ব দূর করতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়; বরং আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যাতে বজায় থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে বাইক নিয়ে ঢুকে পড়া যুবককে ঘিরে রহস্য

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় গত শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহরের নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশ করেছিল মুবিন মাঝি (৩০) নামে এক যুবক। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির ঠিক পাশে গিয়ে তাঁকে হাত উঁচিয়ে সালাম দিতে দেখা যায়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক তাঁকে আটক করে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ। মুবিনকে তেজগাঁও থানায় হস্তান্তর করে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

মুবিন মাঝি বরিশালের বাবুগঞ্জের দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের প্রয়াত প্রধান শিক্ষক ইউনুস মাঝির ছেলে। পুলিশ মুবিনকে ছাত্রলীগকর্মী বলে দাবি করলেও স্থানীয়রা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য শিক্ষকতা এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, মুবিন হেলমেট পরিহিত অবস্থায় তাঁর মোটরসাইকেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে গাড়িবহরের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর পতাকাশোভিত গাড়ির ঠিক বাঁ পাশের জানালার কাছে চলে আসেন। এ সময় কালো গ্লাসের জানালার কাছে এসে চলন্ত অবস্থায়ই তাঁকে হাত উঁচিয়ে সালাম দিতে দেখা যায়। তবে তাঁর এই রহস্যজনক আচরণে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে তেজগাঁও থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

মুবিনের চাচা দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক শাহিন মাঝির বলেন, মুবিনের বাবা ইউনুস মাঝি ৬ মাস আগে মারা যান। মুবিন জীবিকার তাগিদে ঢাকায় মোটরসাইকেলের রাইড শেয়ারিং করে। বাড়িতে শুধু মুবিনের মা থাকেন। মুবিন স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় থাকেন। সে কৌতূহলবশত প্রধানমন্ত্রীকে সামনাসামনি দেখতে গিয়েছিল। মুবিনের খারাপ কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

তেজগাঁও থানার ওসি মো. মুনিরুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর থেকে আটক মুবিনের দেহতল্লাশি করে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর আচরণ ছিল রহস্যজনক। বাবুগঞ্জ এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এশিয়ান গেমসের আগে মিরপুরে ক্যাম্প করবে বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে এবার সেরা দল নিয়ে জাপানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। স্বর্ণপদকের লক্ষ্য সামনে রেখে মূল আসরে নামার আগে মিরপুরে প্রায় দুই সপ্তাহের ক্যাম্প করবে লাল-সবুজের দল।

আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ক্যাম্প। চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর জাপানে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টে অংশ নেবে দলটি।

২০১০ সালে প্রথমবার এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে অংশ নিয়েই স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে পরের দুই আসরে সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি তারা। ২০১৪ ও ২০২২ সালে ব্রোঞ্জ পদক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এবার তাই হারানো সাফল্য ফিরে পাওয়ার লক্ষ্য বাংলাদেশের।

সেই লক্ষ্যেই সম্ভাব্য সেরা দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ সময় পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও হাসান মাহমুদ। দুজনই সবশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন ২০২৫ সালে।

বাংলাদেশের মতো ভারতও এশিয়ান গেমসের জন্য শক্তিশালী দল পাঠাচ্ছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের দলেও জাতীয় দলের একাধিক পরিচিত মুখ রয়েছেন, যদিও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কা এখনো দল ঘোষণা করেনি।

র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। ২৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামবে তারা। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন। এই গ্রুপে রয়েছে নেপাল, মালয়েশিয়া ও ওমান।

অনূর্ধ্ব-১৬ বালিকা ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন টাঙ্গাইল, রানার্সআপ রাঙামাটি

আন্তঃবিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৬ বালিকা ফুটবল প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছে টাঙ্গাইল। ফাইনালে রাঙামাটিকে ৫-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় দলটি। রানার্সআপ হয়েছে রাঙামাটি।

রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে শহীদ রিয়া গোপ ক্রীড়া কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই দাপট দেখায় টাঙ্গাইল। প্রথমার্ধেই পাঁচ গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে রাঙামাটি একটি গোল করলেও ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কিছু করতে পারেনি।

বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া তিন দিনের এই প্রতিযোগিতায় দেশের আট বিভাগ থেকে ১৬টি জেলা দল অংশ নেয়। এতে প্রায় ৩০০ কিশোরী ফুটবলার অংশগ্রহণ করে।

ঢাকা বিভাগ থেকে টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ; চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম; ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা; খুলনা বিভাগ থেকে সাতক্ষীরা ও খুলনা; রাজশাহী বিভাগ থেকে জয়পুরহাট ও রাজশাহী; সিলেট বিভাগ থেকে মৌলভীবাজার ও সিলেট; বরিশাল বিভাগ থেকে পিরোজপুর এবং রংপুর বিভাগ থেকে রংপুর জেলা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

ফাইনাল শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ও বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। এ সময় বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন ও সংগঠনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমিনুল হক বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করে সুযোগ করে দিতে হবে। নারী ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, সাম্প্রতিক সাফল্যের বিচারে অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ভালো করছে।

বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, প্রাইম মিনিস্টার্স কাপ ও নতুন কুঁড়ির ধারাবাহিকতায় এই অনূর্ধ্ব-১৬ বালিকা ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের পাশাপাশি মেয়েদের খেলায় পাঠানোর জন্য অভিভাবকদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।

টাঙ্গাইলের সন্তান হিসেবে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা উপহার দেন সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।

ইন্দোনেশিয়ায় ৮ বিমানবন্দর বন্ধ, ভোগান্তিতে ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় আটটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১ হাজার ৫৫৮টি ফ্লাইটের সময়সূচি বিলম্বিত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়।

রোববার সকালে বিমানবন্দরের কাছাকাছি আকাশসীমায় ‘আনাক ক্রাকাতাউ’ আগ্নেয়গিরির ছাই শনাক্ত হওয়ার পর জাকার্তার সুকর্ণ-হাট্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

শুক্রবার গভীর রাতে আগ্নেয়গিরিটিতে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। এরপর থেকে ভূ-কম্পন, লাভা উদগিরণ ও বিকট শব্দ শোনা যায়। রোববার ভোরেও আরও দুবার অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।

পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় সিঙ্গাপুর থেকে আসা-যাওয়া করা ফ্লাইটসহ দোহা, সিডনি ও কুয়ালালামপুরের মতো আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটগুলো বেশি প্রভাবিত হয়েছে।

পরিবহনমন্ত্রী ডুডি পুরওয়াগান্ধি বলেন, আগ্নেয়গিরির ছাই পশ্চিম জাভার দিকে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আরও কয়েকটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফ্লাইট বাতিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে বিমান সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজির তথ্য অনুযায়ী, আগ্নেয়গিরির ছাই পূর্ব দিকে জাভা অঞ্চলে ২০ হাজার ফুট এবং পশ্চিম দিকে সুমাত্রা অঞ্চলে ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী সুন্দা প্রণালীতে অবস্থিত আগ্নেয়গিরিটির সাম্প্রতিক অগ্ন্যুৎপাতের কারণে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।

আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের ঘরে থাকার এবং মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছাইয়ের কারণে চোখ, ত্বক ও শ্বাসতন্ত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদপত্র কম্পাস জানিয়েছে, ছাইয়ের কারণে চোখে জ্বালাপোড়ার অভিযোগে শনিবার কয়েকটি স্কুলের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। চোখে ব্যথার কারণে অনেক জেলেও মাছ ধরতে সমুদ্রে যাননি।

আনাক ক্রাকাতাউয়ের অর্থ ‘ক্রাকাতাউয়ের সন্তান’। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতাউ অগ্ন্যুৎপাতের পর সৃষ্ট বিশাল ক্যালডেরার মধ্যে এটি গড়ে ওঠে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আগ্নেয়গিরিটির একটি অংশ ধসে পড়লে ভয়াবহ সুনামি হয়। এতে ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং জাভা ও সুমাত্রার উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগর ঘিরে থাকা ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। বিশ্বের অধিকাংশ ভূমিকম্প ও সক্রিয় আগ্নেয়গিরির বড় একটি অংশ এই ভূমিকম্পপ্রবণ বলয়ের মধ্যে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে অতিক্রম করে বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রোববারের এ দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রোববার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, প্রাইম এয়ারের ফ্লাইটটি দুপুর ২টার (ইডিটি) ঠিক আগে বিমানবন্দরের আড়াআড়ি রানওয়ে অতিক্রম করে মাটিতে থাকা একাধিক যানবাহনে আঘাত করে।

মায়ামি-ডেড ফায়ার সার্ভিসের প্রধান রে জাডাল্লাহ জানান, বিমানটির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িতে অন্তত দুজন আটকা পড়েছিলেন। দুর্ঘটনার পর পাইলট ও কো-পাইলটও বিমানের ভেতরে আটকা পড়েন। নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেননি কর্মকর্তারা।

মায়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ৬০টিরও বেশি উদ্ধারকারী দল এবং প্রায় ২০০ কর্মী ঘটনাস্থলে সাড়া দেন। বিকেলের শেষভাগেও জরুরি বিভাগের কর্মীরা বিমানটি থেকে জ্বালানি নিঃসরণ বা লিকেজ বন্ধের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

দুর্ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সব ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে রোববার সন্ধ্যার মধ্যে বিমানবন্দরের চারটি রানওয়ের মধ্যে দুটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং পরিষেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে ছেড়ে আসা বিমানটি ৩২ বছরের পুরোনো ছিল। এটি ১৯৯৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

অ্যামাজনের এক মুখপাত্র জানান, কার্গো এয়ারলাইন ২১ এয়ার অ্যামাজনের হয়ে বিমানটি পরিচালনা করছিল। ২১ এয়ার এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

দুর্ঘটনার পর রয়টার্সের তোলা ছবিতে দেখা যায়, বিমানটির সামনের অংশ মাটিতে ঠেকে আছে এবং পেছনের অংশ ওপরের দিকে উঠে আছে। বিমানটির ডান পাশে পোড়া দাগের মতো চিহ্নও দেখা যায়।

ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, রানওয়ে থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটির গতি ছিল ঘণ্টায় ১১২ নট বা ১২৯ মাইল।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্তে চেয়ারওম্যান জেনিফার হোমেনডির নেতৃত্বে একটি দল মায়ামিতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার এ বিষয়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলন করবে সংস্থাটি।

অ্যামাজনের মুখপাত্র কেলি ন্যান্টেল বলেন, কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে কোম্পানিটি এখনো তথ্য সংগ্রহ করছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বোয়িং ও ২১ এয়ার জানিয়েছে, দুর্ঘটনা নিয়ে সরকারি তদন্তে তারা সহযোগিতা করবে।

অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের কোনো বিমান প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কবলে পড়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের হয়ে মায়ামি থেকে হিউস্টনগামী একটি কার্গো বিমান টেক্সাসের ট্রিনিটি বে-তে বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানে থাকা তিনজনই প্রাণ হারান।

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ভিয়েতনামের অর্ধেক

যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম আরও বড় ব্যবধানে এগিয়েছে। ভলিউম ও পোশাকের ইউনিটপ্রতি মূল্য দুই দিক থেকেই এগিয়ে যাচ্ছে ভিয়েতনাম। কয়েক বছর ধরেই ক্রমে এ ব্যবধানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি এখন বাংলাদেশের প্রায় দ্বিগুণ। তৈরি পোশাক দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য। মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশই আসে এ পণ্য থেকে।

চলতি পঞ্জিকা বছরের প্রথম সাত মাস, অর্থাৎ গত জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে সাড়ে ৬ শতাংশ। ভিয়েতনামের কমেছে মাত্র ১ শতাংশ। বাংলাদেশের রপ্তানি কমে ৪৬৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৯৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ, সাত মাসের ব্যবধানে প্রধান বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৩২ কোটি ডলার।

অন্যদিকে জানুয়ারি-জুলাই সময়ে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি কম হয়েছে মাত্র ১১ কোটি ডলার। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৯৩৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে দেশটি। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯৪৬ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনাম। বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

অটেক্সার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীনের অবস্থান তৃতীয় প্রধান রপ্তানিকারক দেশের। গত আলোচ্য সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪৫৬ কোটি ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬৯২ কোটি ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। আলোচ্য সময়ে দেশটির রপ্তানি বেড়েছে ৩ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ২৭৪ কোটি ডলারের পোশাক, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৬৭ কোটি ডলার। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে কম্বোডিয়া। রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে ২৬২ কোটি ডলারের পোশাক, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৩৭ কোটি ডলার।

বছরের প্রথম সাত মাসে সারাবিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে ৯ শতাংশের মতো। মোট চার হাজার ১৮৩ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে দেশটি। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল চার হাজার ৫৮০ কোটি ডলার। অটেক্সার তথ্য উপাত্ত বলছে, সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের দর ইউনিটপ্রতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের পোশাকের দর কমেছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। ভিয়েতনামের পোশাকের কমেছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। চীনা পোশাকের কমেছে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। কেবল মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের পোশাকের ইউনিটপ্রতি দর বেড়েছে ১৪ ও ৬ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে ভারতের অবস্থান ষষ্ঠ। সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৬ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ২৪৫ কোটি ডলারের পোশাক। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৩০ কোটি ডলার।

সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করবেন মা-বাবা

দান করার পর দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন– এমন বিধান রেখে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী পাস হয়েছে। গতকাল রোববার সংসদে ‘১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামন্ডমেন্ট) বিল’ সংসদে পাস হয়। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। বিলের ওপর আনা বিরোধী সদস্যদের জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি করা হয়।

পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, পিতামাতা বা পিতামহ/মাতামহ তাঁর সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা বিপরীতক্রমে) অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তি ভোগের অধিকার থাকবে এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না।

বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই আইনের সঙ্গে শরিয়তের স্পষ্টত কন্ট্রাডিকশন আছে। এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কী কোরআনের মূলনীতি রাখব নাকি বাদ দেব? আমি মনে করি, এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এটি কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতি ও প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই আইন এভাবে উপস্থাপন করায় সমাজে ব্যাপক উচ্ছৃঙ্খলা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এই আইন দ্বারা হকদারের হকও বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।’

আইনটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী উল্লেখ করে জামায়াতের নাজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল, তারা কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করবে না। কিন্তু কোরআন-সুন্নাহ সুস্পষ্ট বিরোধী এই আইন পাস করতে যাচ্ছে। ইসলামিক স্কলারদেরও এই আইনটি নিয়ে ঘোর আপত্তি রয়েছে।

পাবনা-৩ আসনের আলী আছগার এই বিলকে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে আখ্যায়িত করেন।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘সব সন্তান পিতামাতার সঙ্গে এই আচরণ করছেন না। গুটি কয়েক অপরাধীর সঙ্গে আমাদের মূল চিন্তা ও বিশ্বাসে সাংঘর্ষিক আইন আমরা পাস করতে পারি না।’

বাগেরহাট-৪ আসনের আব্দুল আলীম বলেন, এই আইন না করে কোরআনে বিধান রয়েছে এক-তৃতীংয়াশের বেশি কেউ দান করতে পারবে না। সেই বিধানটি আইনে পরিণত করা দরকার। ইসলামিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই আইনে ইসলামিক স্কলারদের মতামত দরকার।

শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ বলে একটি নিয়ম থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, অধিকাংশ সংসদ সদস্য এই আইন পাসের সময় হয় বিরোধিতা করবেন, না হয় চুপ থাকবেন। ইসলামিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি কাঠামো তৈরি হলে তা আমরা মেনে নিতে পারি না।’

ময়মনসিংহ-৬ আসনের কামরুল হাসান বলেন, ‘এই আইন সংশোধন করতে গিয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে হাত দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকারের কথা বলে কৌশলে এই আইন পাস করা হচ্ছে। এই আইন সব ধর্মের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে যে বিধান যুক্ত করা হয়েছে, তাতে আমাদের চরম আপত্তি রয়েছে। এই আইন পর্যালোচনা করা না হলে জনবিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে।’

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের (স্বতন্ত্র) শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘এই আইন দ্রুত পাস করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি। যাতে কোনো কুলাঙ্গার সন্তান দ্বারা কোনো বাবা-মা লাঞ্ছিত না হন।’

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মা-বাবার কথা বিবেচনা করে এই বিল আনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই আইন হেবা বা অন্যভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না। এখানে আমরা মুসলিম ল’কে টাচ করিনি। এই আইনে যে গিফটের (সম্পত্তি হস্তান্তর) কথা বলা হচ্ছে, তা হেবা নয়। এটি হেবার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এই আইনে হেবা বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর বাধাগ্রস্ত হবে না।’

মুসলিম পারিবারিক আইনের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে এই বিলটি এনেছি।’

ইসলামী ব্যাংকিং প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইসলামিক আইনে সুদ নয়, মুনাফা নেওয়া হয়। উনারা মুনাফা নেন কিন্তু লোকসানের ভাগ নেন না। লোকসানের ভাগদান না হলে ইসলামিক এই ব্যাংকিং সিস্টেম অনুমোদিত না, কিন্তু এটা চলছে।

একাধিক মুসলিম দেশের উদাহরণ টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই আইন অগণিত পিতামাতার শেষ নিঃশ্বাস শান্তিতে নিতে সহায়তা করবে। এই আইন সমাজের চাহিদা পূরণ করবে। মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১-এর তুলনায় ইসলামের সঙ্গে অসাংঘর্ষিক।

কমেছে বাংলাদেশি রোগী: ঢাকায় প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে কলকাতার হাসপাতালগুলো

ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে শহরটির বড় হাসপাতালগুলো। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তারা বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি রোগীর জন্য নিজস্ব আবাসন, নিরাপদ হোটেলের সঙ্গে চুক্তি এবং বিশেষ সহায়তা ডেস্ক চালু করা হচ্ছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে হোটেল বুকিংয়ের বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। পাশাপাশি সব ধরনের নিরাপত্তা ছাড়পত্র রয়েছে এমন হোটেলে যাতে রোগীরা ওঠেন, তা নিশ্চিত করতেও সহায়তা করা হবে।

সম্প্রতি কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি অতিথিশালায় অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়। এর পরপরই কম খরচের অনিবন্ধিত হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানে নামে স্থানীয় প্রশাসন। এ ঘটনায় কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন একটি ভ্রমণ নির্দেশিকা জারি করে। এতে বলা হয়, ভারতে আসার আগেই বৈধ ও অগ্নিনির্বাপক ছাড়পত্র থাকা নিরাপদ হোটেলে কক্ষ বুক করতে হবে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য এই পরামর্শ মেনে চলা কঠিন হতে পারে। তাদের অনেকেই চিকিৎসার জন্য সড়কপথে কলকাতায় আসেন এবং কলকাতা ও এর আশপাশে কম খরচে থাকার জায়গা খোঁজেন। ফলে অনেক সময় তারা যথাযথ অনুমোদন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, এমন আবাসনেও উঠে পড়েন।

অতিথিশালা ও হোটেলের সঙ্গে চুক্তি করছে হাসপাতালগুলো
বিপি পোদ্দার হাসপাতালের কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে যাবে। দক্ষিণ কলকাতায় অবস্থিত হাসপাতালটির কাছেই বাংলাদেশিদের জন্য নিজস্ব আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলছে হাসপাতালটি।

বিপি পোদ্দার হাসপাতালের গ্রুপ উপদেষ্টা সুপ্রিয় চক্রবর্তী বলেন, ‘রোগীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই হাসপাতালের পাশেই নির্দিষ্ট আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে। সেখানে পরিকল্পিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।’

উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালও বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। বাংলাদেশি রোগীর জন্য তারা আলিপুর এলাকায় একাধিক গেস্টহাউস ও হোটেলের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

উডল্যান্ডসের প্রধান নির্বাহী ও অ্যাসোসিয়েশন অব হসপিটালস অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি রূপক বড়ুয়া বলেন, ‘নিরাপদ হোটেলে থাকার গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা তাদের সচেতন করতে চাই। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আমাদের হাসপাতালে আসবেন– এমন রোগীদের আলিপুর এলাকার গেস্টহাউস ও হোটেলগুলোর একটি তালিকা পাঠাচ্ছি।’

এর আগে বাংলাদেশি রোগীদের সঙ্গে কথা বলতে প্রতিনিধি দল পাঠানো রুবি জেনারেল হাসপাতাল এবার রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি বিশেষ ডেস্ক চালু করছে। রুবি জেনারেল হাসপাতালের প্রধান মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) সুভাষিস দত্ত বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি এবং হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার জায়গাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছি। ভ্রমণের আগে রোগীরা যাতে কক্ষ বুক করতে পারেন, সে ক্ষেত্রেও আমরা সহায়তা করছি।’

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ শয্যা সংকটে মেঝেতে চিকিৎসা

প্রতিদিন নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমে অবনতির দিকে যাচ্ছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আট মাস পাঁচ দিনে এই জেলার ছয়টি উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৮৪৫ জন। এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এক হাজার ৫১২ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গতকাল শনিবার পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন আরও ৩৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭২ জন। ছাড়পত্র নিয়েছেন ৫৬ জন। গত আগস্ট মাসে মুন্সীগঞ্জের ছয়টি উপজেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮১২ জন। এ ছাড়া চলতি মাসে গতকাল শনিবার পর্যন্ত পাঁচ দিনে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩০ জন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, আগস্ট মাসে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮১২। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ৬৭২, টঙ্গিবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৭, শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯, সিরাজদীখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯, লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ এবং গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৩ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই জেলায় প্রতিদিন বেড়ে চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর চাপে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ২৫০ শয্যার হাসপাতালের নতুন ছয়তলা ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলার বারান্দায় নারী, শিশু ও পুরুষ ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সর্বাধিক। এ ছাড়া একাধিক রোগী মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

একই পরিস্থিতি পাঁচটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও। সেখানেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি। এখনও জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি, ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন রোগীরা।
জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫১২। প্রতিদিন নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় মুন্সীগঞ্জ জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
পরিসংখ্যান বলছে, জুন মাস থেকে মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। গত বছর ১২ মাসে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল এক হাজার ৪১০। আর চলতি বছরে আট মাস পাঁচ দিনে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৮৪৫ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে, দিনের বেলায় এডিস মশার কামড় থেকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরিফুজ্জামান জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৩৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার্ড করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঢাকায় রেফার্ড করা রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে এসব মৃত্যুর তথ্য যুক্ত হচ্ছে না। ফলে জেলার ডেঙ্গু আক্রান্ত
ও মৃত্যুর প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে। জুলাই ও আগস্ট মাসের ন্যায় চলতি সেপ্টেম্বর মাসেও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে রোগীর সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু শনাক্তে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন তিনি। সিভিল সার্জন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা ও অন্যান্য পানির আধার নিয়মিত পরিষ্কার রাখার জন্য জেলার বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।