Home Blog Page 24

কানাডার ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি হওয়া প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, কানাডা মার্কিন তৈরি গাড়ি, অ্যালকোহল ও দুগ্ধজাত পণ্যের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করছে। নতুন এই শুল্ক আগামী ১৯ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের সেকশন ৩৩৮ ব্যবহার করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রায় এক শতাব্দী আগে প্রণীত এই ধারার মাধ্যমে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবারই প্রথম শুল্ক আরোপ করলেন।

নতুন শুল্কের আওতায় পড়ছে কানাডার বিভিন্ন পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, হকি স্টিক, সুইমিং পুল, আসবাব, মাছ ধরার সরঞ্জাম, বীজ, পোশাক ও উইগসহ নানা ভোগ্যপণ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই শুল্ক প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় আমদানির ওপর প্রযোজ্য হবে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র কানাডা থেকে মোট ৩৮২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল। নতুন শুল্ক সেই আমদানির প্রায় ৫ দশমিক ২ শতাংশের ওপর কার্যকর হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, অন্যান্য অংশীদার দেশের তুলনায় কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প সুরক্ষা ও বাণিজ্য ভারসাম্য আনার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে। তাই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে তার সরকার ইতিমধ্যে বিস্তৃত প্রস্তাব দিয়েছে। তার দাবি, অতীতে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্ক উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ) লঙ্ঘন করেছে।

এক বিবৃতিতে কার্নি বলেন, ‘এই বাণিজ্য বিরোধের কারণে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর ব্যয় বেড়েছে। বাকি থাকা সমস্যাগুলোর সমাধানে পারস্পরিক স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে কানাডা প্রস্তুত।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের সেকশন ৩৩৮ এমনভাবে তৈরি হয়েছিল, যাতে কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের প্রতি বৈষম্যমূলক শুল্কনীতি অনুসরণ করলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করা যায়। তবে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর এতদিন কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এটি ব্যবহার করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বাণিজ্য কর্মকর্তা জন ভেরোনো বলেন, অতীতে কয়েকজন প্রেসিডেন্ট এ ধারা ব্যবহারের কথা বিবেচনা করলেও বাস্তবে কখনো তা প্রয়োগ করা হয়নি। তাঁর মতে, প্রতিশোধমূলক শুল্কের জবাবে আবার এই আইন ব্যবহার করা আইনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন শুল্ক ইউএসএমসিএর আওতায় থাকা ছাড়প্রাপ্ত পণ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে জ্বালানি, পটাশ, মাছ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং আগে থেকেই সেকশন ২৩২-এর আওতায় থাকা কিছু পণ্য এ সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া কানাডার দুগ্ধ খাতের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, মার্কিন গাড়ির ওপর শুল্ক ও কোটা এবং বিভিন্ন প্রদেশে মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রি বন্ধ রাখার বিষয়গুলোও নতুন শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে হোয়াইট হাউস।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত এক বছরে কানাডায় মার্কিন মোটরযান আমদানি ২২ শতাংশ এবং মার্কিন অ্যালকোহলজাত পণ্যের আমদানি ৮১ শতাংশ কমেছে।

তবে সাবেক কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর উপদেষ্টা ডায়মন্ড ইসিঙ্গার বলেন, বিভিন্ন প্রদেশে মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রি পুনরায় চালুর বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা সীমিত। কারণ, এ সিদ্ধান্ত মূলত সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক সরকারের হাতে।

দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৪৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এদিকে ২২ ক্যারেট রুপার দাম ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ৩ হাজার ৭৯০ টাকা, সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৭ টাকা।

অভ্যুত্থানে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে হবে: নাহিদ ইসলাম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ১৭ জুলাই আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়লে দুটি শক্তি পুনর্জাগরণ ঘটায়- মাদ্রা‌সা এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত কয়েক দশক ধরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জুব্বা রক্তাক্ত হয়েছে। এই জুব্বা বিদ্রোহ এবং লড়াইয়ের প্রতীক। সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, মাদ্রা‌সা শিক্ষার্থীদের ত্যাগকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিতে হবে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিএমএ ভবন মিলনায়তনে জুলাইয়ের রক্তাক্ত জুব্বা: মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদান শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন,  জুলাই কেউ বিক্রি করছে না। জুলাই আকাঙ্খার বাংলাদেশ চাইলেই বলা হয়, চেতনার ব্যবসা। জনগণ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার চায়। এটাই জুলাই চেতনা।

অবিলম্বে সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে নাহিদ বলেন, নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হয়নি। বিপ্লবের পরে আকাঙ্ক্ষা এবং আদেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচন এবং গণভোট হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সরকার সংবিধান সংশোধন কমিটির নামে যে প্রহসন করছে সেখান থেকে সরে এসে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। অন্যথায় ওলামায়ে কেরামসহ জুলাইয়ের সকল শক্তি রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রাষ্ট্র চিন্তক ফরহাদ মজহার, চিন্তক মুসা আল হাফিজ, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধের প্রস্তাবে ইসির ‘না’ দ্বৈত নাগরিক ও আইসিটিতে অভিযুক্তরা প্রার্থী হতে পারবেন না

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার  প্রস্তাবে সায় নেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। নির্দলীয় নির্বাচন হওয়ায় তাদের পক্ষে এমন আইন করা সম্ভব নয় বলে মনে করছে সংস্থাটি। তবে জাতীয় সংসদের মতো স্থানীয় সরকারের ভোটেও দ্বৈত নাগরিক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অভিযুক্ত আসামির প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার প্রস্তাব যাচ্ছে সরকারের কাছে। এ ছাড়া ঋণখেলাপির জামিনদার এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও প্রার্থী হতে পারবেন না- এমন বিধান করতে চাইছে ইসি।

পাশাপাশি এক সদস্যের নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দিচ্ছে সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান একজন বিচারপতি ও একজন বিচার বিভাগীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তার (যুগ্ম জজ বা সহকারী জজ) বদলে শুধু উচ্চ আদালতের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালগুলো গঠন করা হবে। দুই সদস্যের হওয়ায় যে কেউ দ্বিমত জানালে সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের তৃতীয় কোনো বেঞ্চে যাওয়ায় আপিল নিষ্পত্তি করতে দীর্ঘ সময় ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়। এমন জটিলতা এড়াতেই এক সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব আনছে ইসি।

এসব আইন ও বিধি সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে আজ মঙ্গলবার কমিশন সভায় বসতে যাচ্ছে ইসি। সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠেয় সভায় একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আচরণবিধিমালার খসড়া অনুমোদনের কথা রয়েছে। স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের (সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ) জন্য আইন ও বিধিমালার সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করে সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। তবে আচরণ বিধিমালা সংশোধন ইসির নিজস্ব এখতিয়ার হওয়ায় এজন্য সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে না।
এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে ইসিকে প্রস্তাব দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইসি প্রণীত খসড়া আচরণবিধিমালার ওপর মতামত দিতে গিয়ে সম্প্রতি ওই প্রস্তাব দেয় দলটি। তাদের প্রস্তাবে ছিল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতাকর্মী নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় যুক্ত করতে হবে।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ সমকালকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হচ্ছে। ফলে কোনো দলের নেতাদের অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার এখতিয়ার ইসির নেই। স্থানীয় সরকারের যেসব পদে নির্বাচন হবে, সেগুলোতে প্রার্থী হতে যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলেই যে কেউ দাঁড়াতে পারবেন। এখানে কে কোন দলের সেটা বিবেচনায় আনবে না ইসি।
তিনি জানান, এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন ও বিধির বেশ কিছু সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এসব প্রস্তাব আজ কমিশন সভায় আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হবে। এরপর সরকারের অনুমোদন পেলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এই ইসি বলেন, এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের আচরণবিধিমালার খসড়াও চূড়ান্ত হয়েছে। এসব বিধিমালাও কমিশন সভায় অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।

চার ক্যাটাগরির ব্যক্তির প্রার্থিতা নিষিদ্ধ 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন করে আইসিটি মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামির প্রার্থী হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এই আইন চালু করতে চায়।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, আইসিটি আইনের ২০সি ধারায় অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান আগে থেকেই রয়েছে। তবে এটি স্থানীয় সরকার আইনে যুক্ত না থাকায় আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। এই কারণে বিধানটি স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রেও চালু করা হবে। ফলে অভিযোগপত্রভুক্ত কেউ স্থানীয় সরকারের মেয়র, চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান কাউন্সিলর বা সদস্য পদে নির্বাচন করতে পারবেন না। তবে ট্রাইব্যুনাল থেকে অব্যাহতি বা খালাস পেলে সেই অযোগ্যতা আর থাকবে না।

ইসির প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুমোদন হলে দ্বৈত নাগরিকরাও প্রার্থী হতে পারবেন না। কমিশন মনে করে, যারা অন্য দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন, তারা জনপ্রতিনিধি হওয়ার উপযুক্ত নন। এ ছাড়া সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকরা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। ওই কারণ দেখিয়ে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তারা যাতে প্রার্থী হতে না পারেন, ওই বিধান যুক্ত করতে সরকারকে সুপারিশ করতে যাচ্ছে ইসি।

এদিকে, ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার পরিচালক এবং ঋণখেলাপির জামিনদারদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাবও রয়েছে ইসির। জাতীয় নির্বাচনে আইনের ফাঁক গলে ঋণখেলাপিদের কেউ কেউ নির্বাচিত হয়ে গেছেন এবং স্থানীয় সরকারে এটা ঠেকাতে এই বিধান কঠোর করার লক্ষ্যেই এমন প্রস্তাব দিচ্ছে ইসি।

এ ছাড়া এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য চাওয়া হয়েছে। ইসি মনে করে, স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিলে যেমন অন্য শিক্ষকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, আবার এসব শিক্ষক জয়ী হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ে। তাই এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে চাকরি ছেড়ে করার পক্ষে তারা।

আরও যেসব প্রস্তাব
ইসির প্রস্তাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে। যাতে স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে যুক্ত করার সুযোগ থাকে। অবশ্য প্রয়োজন না হলে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন না করার পক্ষে ইসি।

স্বতন্ত্র প্রার্থিতার ক্ষেত্রে মোট ভোটারের ১ শতাংশের সমর্থন সূচক স্বাক্ষরের বিধান বাতিল ও জামানতের পরিমাণ বাড়ানোসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ইসির তরফে। এ ছাড়া হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের বিধানও যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

বাড়ছে উজানের পানির চাপ সিলেট-ময়মনসিংহে বন্যার শঙ্কা, ৩ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবারও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার ও আগামীকাল বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগ বাদে দেশের বাকি সাত বিভাগের অনেক জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে উজানে ভারতের মেঘালয় ও আসামে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া গতকাল সোমবার সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

গতকাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তায় বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, মঙ্গলবার সাত বিভাগেই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার থেকে দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। রাজধানীতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নতুন মেঘমালা বৃষ্টিপাত বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

এদিকে রাজধানীতেও আবার জলাবদ্ধতার শঙ্কার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির। তিনি বলেন, সোমবার ঢাকায় ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকার মিরপুর ও কাজীপাড়া এলাকায় প্রায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেই অস্থায়ীভাবে হাঁটুপানি জমে যায়। ফলে আগামী দুদিন বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সোমবার সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ৩০ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বেড়েছে, কুশিয়ারা কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিনে নদী দুটির পানি আবারও বাড়তে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে যেসব এলাকায় বন্যা রয়েছে, সেখানে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, সারিগোয়াইন ও ভুগাই নদীর উজানে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে গতকাল অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই উজানের পানি আগামী কয়েক দিনে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানি আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি গতকাল বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কুশিয়ারা নদীর পানিও মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার প্রায় ৫ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, আগামী দুদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

ছাতক উপজেলায় ইতোমধ্যে সুরমা, চেলা ও পিয়ান নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। উপজেলার ইসলামপুর, জাউয়াবাজার, চরমহল্লা ও উত্তর খুরমা ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অন্তত ২০টি স্থানে সড়ক তলিয়ে ও রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নলছাপড়া বাজার-বালুচড়া উচ্চ বিদ্যালয় সড়কের প্রায় ১০০ ফুট অংশ ধসে গেছে। গজারমারী-খারনৈ সড়কের বিভিন্ন অংশও ভেঙে পড়েছে।
কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, পাহাড়ি ঢলে চেংনী নদীর পাড় ভেঙে প্রায় ৫০ একর কৃষিজমিতে বালু জমেছে। শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে।

কলমাকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রায় ২০০ হেক্টর জমির আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চলতি মৌসুমে ধান উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শেরপুরে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার সকালে ঢলের প্রবল স্রোতে নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু ভেঙে পড়েছে। এতে কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ। এ সময় দুই শিশুসহ তিনজন অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

তিস্তা বিপৎসীমার কাছাকাছি
উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। গতকাল নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির উচ্চতা ছিল ৫২ দশমিক ১০ মিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইসগেট খুলে রাখা হয়েছে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন সুনামগঞ্জ, ছাতক (সুনামগঞ্জ), নালিতাবাড়ী (শেরপুর) ও কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি]

স্বৈরাচার পতনের পর গুপ্ত বাহিনীর আত্মপ্রকাশ: প্রধানমন্ত্রী শরিক নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজ

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  বলেছেন, ‘৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পরে একটি গুপ্ত বাহিনী ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করে। বিগত আন্দোলনে তাদের কোথাও দেখা যায়নি। অনেকে পালিয়ে ছিল। নির্বাচনের পর এই গুপ্ত বাহিনীকে দিশাহারার মতো বক্তব্য রাখতে দেখেছি। এখনও তারা বিভিন্ন রকম বক্তব্য রাখছে।’সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপির শরিক নেতাদের সম্মানে নৈশভোজের আগে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু কোনো বিভেদ নেই।  বিএনপি ও শরিকরা প্রতিটি আন্দোলনে সামনে ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে আছি, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও একসঙ্গে থাকব। আমাদের মধ্যে ডিফরেন্স অব অপিনিয়ন হতে পারে, কিন্তু ভুল বোঝাবুঝির কোনো কারণ আমাদের মধ্যে আছে বলে আমি মনে করি না। ৩১ দফার মাধ্যমে আমরা একটি জায়গায় একত্র হয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য এক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এক। আমাদের মধ্যে ভিন্নতা থাকতে পারে যেমন একটি দফা কীভাবে বাস্তবায়ন করব– এই ব্যাপারে আপনার একটা মত থাকতে পারে, আমার একটি মত থাকতে পারে। এখানে হয়তো কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। আমাদের মধ্যে যেহেতু কোনো বিভেদ নেই, আমাদের ৩১ দফার আলোকে হোক এবং জুলাই সনদের আলোকে হোক আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’
‘গুপ্তদের রাজপথে দেখা যায়নি’

অতীতের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটু পেছনে যাই– আমরা যখন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম। কারও নাম আমি উল্লেখ করতে চাই না– যাদের একটি শব্দ ‘গুপ্ত’ ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষও তাদের চেনে। এদের কিন্তু ওই সময়ে আমরা অনেক খুঁজেছি, তাদের আমরা পাইনি, আমি পাইনি দূরে থেকে। আপনারা কি কেউ পেয়েছিলেন রাজপথে তাদের? তাদের কিন্তু রাজপথে আমরা দেখিনি।

বিভিন্ন সময়ে তাদের দেখেছি, যারা পালিয়ে গেছে এই দেশ থেকে তাদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে আমরা দেখেছি। রাজপথে দেখিনি, শেষের দিকে কিছু কিছু জায়গায় তাদের দেখেছি। কিন্তু ১৭ বছর বিভিন্ন জায়গায় আমরা তাদের দেখিনি। কাজেই দেশের মানুষ আমাদের ওপরই আস্থা রেখেছে যে এরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে– এটি আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”

মানুষের আস্থা ধরে রাখতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখার জন্য আমাদের যে কোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখার জন্য আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব। কারণ জনগণের প্রত্যাশা আমাদের কাছে। জনগণ প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। আসুন, আগে আমরা দায়িত্বটা পালন করি। তারপর আমরা নিজেদের নিয়ে ভাবি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক রাজনৈতিক দল একসঙ্গে বসে আমরা ৩১ দফা উপস্থাপন করেছিলাম। আপনাদের নিশ্চয়ই এটাও স্মরণ আছে যে ৩১ দফা– রাষ্ট্র মেরামতের যে দফাগুলো আমরা উপস্থাপন করেছিলাম, সেটিকে আমরা সংস্কারই বলি। সেটিকে আমরা রাষ্ট্র মেরামতের দফা বলি। তখন বাংলাদেশের অন্য অনেক রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন পর্যায়ে যারা পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি যে সংস্কার নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলেছেন, এই মানুষগুলোকে বা এই রাজনৈতিক দলগুলোকে তখন সংস্কারের ‘স’ বলতে দেখিনি। কিন্তু আজকে আমরা এই প্যান্ডেলের নিচে যারা বসে আছি একত্রে, আমরা কিন্তু তখন স্বৈরাচারের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে রাষ্ট্র সংস্কারের দফাগুলো দিয়েছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, নির্বাচনে জনগণ ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে। এখন এই ৩১ দফা শুধু আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো নয় বরং বাংলাদেশের জনগণের ৩১ দফা হয়ে গেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন ৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিতাড়িত হয়েছিল। স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পরে একটি গুপ্ত বাহিনী আগস্টের ৫ তারিখের পরে ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছিল। আপনাদের পরিষ্কার মনে আছে যে তারা ১২ তারিখের নির্বাচনে এবং নির্বাচনের আগে কি স্বৈরাচারী কায়দায় ডিজিটাল ওয়েতে তারা কীভাবে তাদের কাজগুলো চালিয়েছিল? কীভাবে তারা চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। তবে এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য বাংলাদেশের জনগণ যখনই স্বাধীনভাবে তাদের মতামত দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তারা সব সময় দেশের পক্ষে, জনগণের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে কখনও ভুল করেনি।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক উপদেষ্টার কথা 
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক উপদেষ্টার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমার সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টার সাক্ষাৎ হয়েছিল। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলছিলেন, তারা যে ১৮ মাসের মতন দেশ পরিচালনা করেছেন, এই ১৮ মাস তারা কত অসহায়ের মতো ছিলেন। তিনি (উপদেষ্টা) বলছেন,  সরকারের ৬০ শতাংশের ওপরে সেই গুপ্ত বাহিনীর প্রভাব ছিল।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পরে এই গুপ্ত বাহিনীকে দিশাহারার মতো বক্তব্য রাখতে দেখেছি এবং এখনও তারা বিভিন্ন রকম বক্তব্য রাখছে। আমরা পত্রপত্রিকায় দেখছি, সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখছি। সেই ব্যক্তির (উপদেষ্টার) বক্তব্য হচ্ছে, এরা দিশাহারা হয়ে গেছেন– ১৮ মাস তারা এমনভাবে পুরা জিনিসটাকে ব্যবহার করেছে তাদের পক্ষে। কিন্তু ১২ তারিখে যখন জনগণ তাদের রায় প্রদান করেছে, তারপর থেকে তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।’ ক্ষমতাচ্যুত সরকারের ১৬-১৭ বছরের রেখে যাওয়া বিধ্বস্ত অর্থনীতি, বিধ্বস্ত জ্বালানি বা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার তুলে ধরেন এবং তা মোকাবিলার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শরিকদের নিয়ে একসঙ্গে চলার প্রত্যয় 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এতদিন একসঙ্গে ছিলাম। আমরা একসঙ্গেই থাকব। চলতে গেলে এদিক-ওদিক হতেই পারে। আপনি দেখেন এই ‍ঢাকা শহর এখন পরিষ্কার করতেই সমস্যা। যে দিকে তাকাবেন ময়লা। কেউ একজন বলেছেন, এটা কি ফেয়ারওয়েল ডিনার কিনা? কেন ফেয়ারওয়েল হবে? ফেয়ারওয়েল ডিনার যদি দিতে হয় গুপ্ত-সুপ্তদের বলতে পারি, স্বৈরাচারকে বলতে পারি। কিন্তু আমরা যারা ছিলাম। আমরা ইনশাল্লাহ একসঙ্গে থাকব।’

দুঃখ প্রকাশ 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক দিন বসার সুযোগ হয়নি সেজন্য আজকে এই আয়োজনটি করেছি। আমি জানি, মুরুব্বিরা যা বলেছেন তার সঙ্গে আমি মোটেও দ্বিমত করব না। তাদের মনে এই কষ্ট আছে– সেগুলো আমি জানি। স্বাভাবিক। বয়সে তারা আমার থেকে বড়– আমি ছোট ভাই হিসেবে বড় ভাইদের সব বিষয় মেনে নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি শুধু এতটুকুই অনুরোধ করব, আমাদের সবাইকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ বিভিন্ন সময় মান্না (মাহমুদুর রহমান মান্না) ভাই তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি জনগণের প্রত্যাশাটাকে আগে আমরা অ্যাড্রেস করি।’

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যমুনার অনুষ্ঠানস্থলে এসে প্রধানমন্ত্রী টেবিলে টেবিলে গিয়ে শরিক নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। কুশল বিনিময়ের পর নেতাদের নিয়ে রাতে খাবার টেবিলে বসেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক সাইফুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকতাটা ভালো হয়েছে; কিন্তু আলোচনার প্রশ্ন যদি বলেন, কোনো এজেন্ডা ছিল না। কেউ বক্তৃতা করেছেন, কেউ কেউ সরকারের অংশ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ রকম বলেছেন যে, আমরা অংশীদার হতে চাই ক্ষমতার। কেউ কেউ এ রকম বলেছেন যে, যারা যারা যেভাবে চালাচ্ছেন, সেগুলো আমরা কিছুই জানি না। আমরা অংশ নিতে পারছি না।’

বিরোধী দলের কঠোর আন্দোলন ও ৩১ দফার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং বিএনপির শরিকদের নিয়ে সামনের কর্মসূচির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, ‘এটা আমি সবার পক্ষ থেকে বলতে পারব না। নিজের পক্ষ থেকে বলি যে বিরোধী দল যে কর্মসূচি দিচ্ছে বা দেবে, সেটা দেখব। তাদের প্রধান অভিযোগ যে বিএনপি বা ক্ষমতাসীন যারা আছে তারা সংস্কার করছে না, তারা জুলাই সনদ মানে না এবং তারা এখন একেবারে নতুন একটা পথে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে, সচিবালয় নিয়ে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে, বিচারকদের নিয়োগের বিষয় নিয়ে… বহু ব্যাপারে প্রশ্ন করার মতো আছে। আমাদের যে ঐক্যবদ্ধ সংস্কার প্রস্তাব ছিল, বিএনপির প্রস্তাব বর্তমানে বা তার কার্যকলাপ তার সঙ্গে যায় না। কিন্তু এগুলো এখানে আলোচনা হয়নি। সে আলোচনা করার সুযোগ নেই।’

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে আছি, কিন্তু আমরা এই সরকারের সাফল্য চাই। সরকার যেন তার যোগ্যতা দিয়ে সফলতা অর্জন করে। এটা নয় যে ওনারা ক্রাইসিসে পড়ে আমাদের ডাকলেন আর আমরা তাদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে গেলাম। এ রকম কোনো সভা এটা হয়নি।’

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন অ্যান্ডি বার্নহাম

এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেল যুক্তরাজ্য। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন সদ্য লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়া অ্যান্ডি বার্নহাম। রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর লন্ডনে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে তিনি প্রথমবারের মতো ভাষণও দিয়েছেন।

বার্নহাম ডাউনিং স্ট্রিটে আসার কয়েক মুহূর্ত আগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সামনে বিদায়ী ভাষণ দেন কিয়ার স্টারমার। এ সময় উল্লেখ করেন, তিনি নিজের ওপর থাকা দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভরাডুবি ও অর্থনৈতিক সংকটের যে চাপের মুখে স্টারমার দায়িত্ব ছাড়লেন, একই পরিস্থিতিতে ক্ষমতায় বসলেন বার্নহাম।

ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া ভাষণের সময় নতুন প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনের জন্য একটি ‘সার্কিট-ব্রেকার’ বা আমূল পরিবর্তনের সূচনা করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, আগামীতে তিনি গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলো সামনে নিয়ে আসবেন। এর মধ্যে আছে, গৃহহীনদের জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করা। এটিকে তিনি প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

বার্নহাম বলেন, ‘আমি জানি দেশের মানুষ রাজনীতি নিয়ে বিরক্ত। আমি আপনাদের কথা শুনতে পাচ্ছি। আপনাদের সঙ্গে সৎ থাকতে চাই। এতদিন আমরা যথেষ্ট ভালো কিছু করতে পারিনি। সামনের দিনগুলোতে তা করতে হবে।’

আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আগে বার্নহাম বাকিংহাম প্যালেসে যান। সেখানে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর স্ত্রী মারি-ফ্রান্স ভন হিলের সঙ্গে প্রাসাদ ত্যাগ করেন। এ সময় বাইরে থাকা জনতা করতালি দিয়ে তাদের অভিবাদন জানান।

মিত্রদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক আজ

যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আজ সোমবার বৈঠক করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর এই প্রথম তিনি যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান।

বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, শুভেচ্ছা বিনিময় করতে সব শরিকদের ডাকা হয়েছে এই বৈঠকে। এমনকি নির্বাচনের আগে দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতাদেরও ডাকা হয়েছে। পরস্পরের সঙ্গে হৃদ্যতা বাড়ানোই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। সবার মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে কীভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়, মূলত সে ব্যাপারেই শরিকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

এদিকে বিএনপি ও শরিকদের একাধিক সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে যে অসন্তোষ রয়েছে, বৈঠকে তা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

শরিক দল ও জোটগুলোর একাধিক নেতা মনে করছেন, নির্বাচন ও সরকার গঠনের ৫ মাসে অনেক ক্ষেত্রেই বিএনপির ‘একলা চলো নীতি’ পরিলক্ষিত হয়েছে। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে সরকারি দলের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করা হবে। দেন-দরবারের চেয়ে এই বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তারা। মনোভাব বোঝা গেলে সে অনুযায়ী শরিকদের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের ধারা ঠিক হবে বলেও মনে করেন তারা।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সরকার এবং বিএনপির মনোভাব সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব। শরিকদের সঙ্গে তারা কি সম্পর্ক শেষ করবেন, নাকি নতুন যাত্রা শুরু করবেন– এটা আমাদের জানা জরুরি।

ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ৩১ দফা ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে আমরা বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলব। জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়েও কথা বলব।

বছরের সেরা টেকসই কোম্পানি ইউনিলিভার বাংলাদেশ

এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ ‘মোস্ট সাসটেইনেবল কোম্পানি অব দ্য ইয়ার’ ও ‘মোস্ট সাসটেইনেবল এফএমসিজি কোম্পানি অব দ্য ইয়ার’ বিভাগে বিজয়ী হয়েছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল)। একই সঙ্গে ‘সহযাত্রা: কো-ক্রিয়েটিং ইমপ্যাক্ট’ উদ্যোগের জন্য সাসটেইনেবল পার্টনারশিপস অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনস বিভাগে এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার জিতেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া আরও দুই বিভাগে সম্মানজনক স্বীকৃতিসহ এবারের আয়োজনে মোট পাঁচটি সম্মাননা অর্জন করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ।

ইউবিএল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত শনিবার রাতে ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশ সাসটেইনেবিলিটি সামিটের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজিত এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক কার্যক্রম, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও কার্যকর প্রভাবের মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ভূমিকা রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেয়। তিনটি বিভাগে বিজয়ী হওয়ার পাশাপাশি ইউনিলিভার বাংলাদেশ ‘স্মার্ট কাস্টমার লজিস্টিকস অ্যান্ড ট্রেড’ উদ্যোগের জন্য ইন্ডাস্ট্রি, ইনোভেশন অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিভাগে এবং ‘ইউ-রিফিল ২.০ অ্যান্ড রি-ইঞ্জিনিয়ারিং প্যাকেজিং’ উদ্যোগের জন্য রেসপনসিবল কনজাম্পশন অ্যান্ড প্রডাকশন বিভাগে সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়েছে।

কার্যকর অংশীদিরত্ব ও ব্যবসায়িক উদ্ভাবন এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বশীল উৎপাদন ও ব্যবহারের চর্চা প্রসারে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব প্রচেষ্টার লক্ষ্য বৃহৎ পরিসরে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করা।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের পক্ষে পুরস্কারগুলো গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানটির হিউম্যান রিসোর্স ডিরেক্টর সৈয়দা দুরদানা কবির এবং কাস্টমার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট হেড মো. শাদমান সাদেকীন।

রান্না করেন খিচুড়ি-গোশত, কিন্তু আর্জেন্টিনা হারার পর উদ্ধার হলো মরদেহ

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে প্রিয় দল আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ার পর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সুমন হোসেন (৩০) নামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার ভোরে উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সুমন ওই এলাকার আফজাল হোসেনের একমাত্র ছেলে। তিনি ভ্যান চালাতেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমন আর্জেন্টিনার সমর্থক ছিলেন। রোববার রাতে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল খেলা দেখেন তিনি। প্রিয় দলকে সমর্থন জানিয়ে বন্ধুদের জন্য নিজে খিচুড়ি ও গোশত রান্নার আয়োজনও করেছিলেন। খেলা শেষে ভোর ৪টার দিকে বাড়ি ফিরে নিজের কক্ষে যান তিনি।

সুমনের স্ত্রী জেমি খাতুন জানান, বাড়ি ফেরার পর সুমন কিছুক্ষণ মোবাইল দেখছিলেন। পরে তাকে ঘুমাতে বলে নিজেও ঘুমিয়ে পড়েন। ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উঠে স্বামীকে কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সুমনের বন্ধু রিপন আলী বলেন, ‘সুমন আর্জেন্টিনার খুব বড় ভক্ত ছিল। গত রাতে সে আমাদের জন্য খাওয়ার আয়োজনও করেছিল। আমরা একসঙ্গে খেলা দেখতাম। এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না।’

সুমনের বাবা আফজাল হোসেন বলেন, ‘সুমন খেলা দেখে বাড়িতে ফেরার সময় আমি মাঠে যাচ্ছিলাম। পরে আমার ভাই মাঠে গিয়ে ছেলের মৃত্যুর খবর দেয়। আমার পরিবারে দুটি ছোট বাচ্চা আছে। এখন তাদের কী হবে, সেটাই ভাবছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, ‘সুমন আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে পারেনি। এ কারণে হতাশা থেকে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি।’

ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, ‘সুমন আর্জেন্টিনার বড় ভক্ত ছিলেন বলে শুনেছি। খেলা উপলক্ষে তিনি খাওয়ার আয়োজনও করেছিলেন। হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’