Home Blog Page 25

ঋণের কিস্তি তুলতে এসে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, এনজিওকর্মী আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে রাকিবুল ইসলাম (২৩) নামে এক এনজিওকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আজ সোমবার এ ঘটনা ঘটে।

ভোলাহাট থানার ওসি আব্দুল বারেক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আটক  রাকিবুল ইসলাম পিরোজপুরের সদর উপজেলার শাড়িকতলা ইউনিয়নের কালিটাটি বটতলা (পশ্চিম ডুবুরি তলা) গ্রামের মো. দেলোয়ার তালুকদারের ছেলে। তিনি ভোলাহাটে ‘রিক’ নামের একটি এনজিওতে মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটি নিজ বাড়িতে একা ছিল। ঋণের কিস্তির টাকা তুলতে এসে রাকিবুল ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি স্থানীয় জানতে পেরে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে।

এ বিষয়ে ভোলাহাট থানার ওসি বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা দায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মামলা হলে অভিযুক্ত রাকিবুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

চার প্রতিষ্ঠানের ৮ ভেরিয়েন্টের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

বাংলাদেশ মান অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চার প্রতিষ্ঠানের আট ভেরিয়েন্টের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। পরীক্ষায় এসব পণ্যে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতি এবং নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় পাওয়া গেছে।

আজ সোমবার বিএসটিআই থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিএসটিআই জানিয়েছে, ফ্রেশ গার্ডেন এগ্রো রিসোর্সেসের আমের আচারে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে। কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বেলিসিমো ব্র্যান্ডের আইসক্রিমে টোটাল মিল্ক সলিড নন-ফ্যাটের পরিমাণ বাংলাদেশ মানের চেয়ে বেশি পাওয়া যায়।

এ ছাড়া অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেডের লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন ও অ্যালোভেরা স্কিন লোশন, অলিভ ও লাবণ্য ব্র্যান্ডের ফেসওয়াশ মোরিংগা মাচা, ফোমিং মিল্ক ও তুলসী এবং লাবণ্য ব্র্যান্ডের অ্যালোভেরা ভ্যারিয়েন্টের শ্যাম্পুতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ডেকো ফুডস লিমিটেডের ডেকো ফ্রুট ফান্ডা ব্র্যান্ডের ম্যাংগো ও অরেঞ্জ ভ্যারিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডারে বাংলাদেশ মানের তুলনায় ভিটামিন ‘সি’ কম পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই জানিয়েছে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য পণ্যগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যানপত্র দেওয়া হয়েছে। পণ্যের লাইসেন্স নবায়ন বা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদিত এসব পণ্য দেশের সব পরিবেশক, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা, তা তদারকি করবে বিএসটিআই।

বিএসটিআই জানিয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনগণ যাতে মানসম্মত পণ্য কিনতে পারে, সে বিষয়ে বিএসটিআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মানসম্মত পণ্য পাওয়া জনগণের অধিকার। পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।

কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা বা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগ থাকলে দ্রুত বিএসটিআইকে জানানোর আহ্বানও জানান মহাপরিচালক।

সব ছাপিয়ে নান্দনিক ফুটবলের জয়

বিশ্বকে এক সুতায় বেঁধেছিল বিশ্বকাপ। ঘুচে গিয়েছিল রাত আর দিনের পার্থক্য। মেরু থেকে মরু মেতেছিল ফুটবল উৎসবে। হাসি-কান্নায় চোখের পলকে কেটে গেল ৪০টি দিন। মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে ১১ জুন পর্দা ওঠে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়নদের বরণ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ।

আলোচিত, সমালোচিত, উন্মাদনা– সব দিক থেকেই বর্ণাঢ্য এবারের বিশ্বকাপ। তিন দেশ স্বাগতিক হয় প্রথমবারের মতো। ৪৮ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনও প্রথমবারের মতো। নির্বিঘ্নে টুর্নামেন্ট শেষ করতে পারা সাংগঠনিকভাবে সাফল্যের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ফিফার। তবে খেলাকেন্দ্রিক কিছু সিদ্ধান্ত বিতর্কিত করেছে টুর্নামেন্টকে। রেফারিদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অনুরোধে দেশটির তারকা ফুটবলার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের শাস্তি এক বছর স্থগিত করা, ফিফার নিয়ম ভেঙে মাঠে বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শন করেও আর্জেন্টিনার শাস্তি না পাওয়া ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বিশ্বকাপ ফুটবলের। তবে খেলার মানের দিক থেকে দারুণ একটি বিশ্বকাপ উপভোগ করেছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

এবারের বিশ্বকাপে মাঠের খেলায় চমক ছিল প্রথম থেকে। কেপ ভার্দের খেলা চোখে লেগে থাকার মতো ছিল। নবাগত দলটির নকআউটে উঠে আসা ছিল চমক। গোলরক্ষক ভোজিনহা হৃদয় জেতে নিয়েছেন কোটি কোটি ফুটবলভক্তের। বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেকে বাজিমাত করে স্পেনকে গোলশূন্য রুখে দিয়ে। ভোজিনহা প্রতিরোধের দেয়াল তুলে দিয়েছিলেন ইউরো চ্যাম্পিয়নদের সামনে। কেপ ভার্দে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই ড্র করে। প্রথম বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে ২-২ গোলে ড্র করে রুখে দেয় তারা। সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য রাখে ম্যাচ। ৩ পয়েন্ট নিয়ে এইচ গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় তারা। সেরা ষোলোয় ওঠার ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দেয়। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ১২০ মিনিট খেলতে বাধ্য করে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রথম খেলতে নেমেছিল তারা। প্রথম দেখাতেই ভয় ধরিয়ে দেয় লিওনেল মেসিদের। আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতলেও হৃদয় জিতে নেয় কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপ শেষ করে দেশে ফিরে বীরের সম্মান পান ভোজিনহারা।

আরেক নবাগত কুরাসাও বিশ্বকাপের অভিষেক করে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ইকুয়েডরকে গোলশূন্যভাবে রুখে দেয়। কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক এলয় রুম সেদিন জাদুর গ্লাভস পরে গোলপোস্টে দাঁড়িয়েছিলেন। হাজার চেষ্টা করেও কুরাসাওয়ের জালে বল জড়াতে পারেনি ইকুয়েডর। প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমে পয়েন্ট পাওয়া এক দারুণ সাফল্য তাদের। এশিয়া মহাদেশ থেকে প্রতিযোগিতা করে বিশ্বকাপ খেলা কাতার টুর্নামেন্টের শুরুটা ভালো করেছিল। কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে নাটকীয়ভাবে। ২০২২ সালে স্বাগতিক হিসেবে খেলা কাতারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ এটি।

এই বিশ্বকাপে ফেভারিটের তকমা নিয়ে খেলতে নেমেছিল লাতিন দেশ আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইউরোপের ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি। আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো খেলেছে। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়ে দেশটি। শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ওঠে শেষ আটে। ব্রাজিলকে হারানো হালান্ডের কাছে ছিল স্বপ্নের মতো ছিল। জোড়া গোল করে ম্যাচ জয়ের এ নায়ক খেলা শেষে অনেকটা সময় ঘোরের মধ্যে ছিলেন। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে মহাদেশীয় প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ করে নরওয়ে। এই সাফল্যে দেশে বীরের সম্মান পেয়েছেন হালান্ডরা।

এবারের বিশ্বকাপের বড় দুটি অঘটন হলো শেষ ৩২ থেকে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের বিদায় নেওয়া। টাইব্রেকার ভাগ্যের কাছে হেরেছে তারা। রেফারির ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছে জার্মানি। ম্যাচের অতিরিক্ত সময় হেডে গোল করেছিল দেশটি। ভিএআর পরীক্ষা করে গোলরক্ষককে ফাউল দেখিয়ে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ১২০ মিনিটের খেলা শেষে ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে। পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় চারবারের চ্যাম্পিয়নরা। নেদারল্যান্ডস-মরক্কো ম্যাচটি ১-১-এ সমতা ছিল ১২০ মিনিট। টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে জিতে নেয় মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা মরক্কো উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় কোয়ার্টার ফাইনালে। শেষ চারে উন্নীত হওয়ার ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে তারা। আফ্রিকার মুখ হয়ে ওঠা মরক্কোর বিদায়টা ছিল কষ্টের। ওই ম্যাচজয়ী ফ্রান্সকে মনে করা হচ্ছিল অপ্রতিরোধ্য। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত অপরাজিত থাকা ফ্রান্স সেমিফাইনালে স্পেনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেনি। গতকাল রোববার ভোরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ৬-৪ গোলে হেরে চতুর্থ হয় দিদিয়ের দেশমের দল। শেষ দুই ম্যাচে ফ্রান্সের পারফরম্যান্স অবাক করেছে বিশ্বকাপের সাবেক ফুটবলারদের।

এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচটি ছিল সবচেয়ে আলোচিত। শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসর ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল ৭৮ মিনিট পর্যন্ত। শেষের ১৫ মিনিটে আর্জেন্টিনা তিন গোল করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ভরপুর ছিল ম্যাচটি। মিসরের গোল বাতিল করা, সামান্য ফাউলে মিসরের খেলোয়াড়দের কার্ড দেওয়া, আর্জেন্টিনার বক্সে মিসর অধিনায়ক মোহামেদ সালাহকে ফাউল করলেও ভিএআর দেখার দাবি আমলে না নেওয়া বিতর্কিত করেছে ফিফাকে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হলে রেফারিকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা। ম্যাচটি চলাকালে মিসরের কোচের সঙ্গে লিওনেল মেসির বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ ওঠে। অথচ রেফারি উল্টো কার্ড দেন মিসরের কোচকে। এই বিশ্বকাপে কাকতালীয় একটি ঘটনা ঘটেছে– র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা দলগুলো খেলেছে সেমিফাইনালে। ফাইনাল খেলেছে দুই মহাদেশের বর্তমান দুই চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ২০২৪ সালে আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা আর স্পেন ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়।

২০২৬ বিশ্বকাপকে বলা হচ্ছে গোলকিপারদের বিশ্বকাপ। বেশির ভাগ দলের গোলরক্ষকরা খেলেছেন দারুণ। কেপ ভার্দের ভোজিনহা, স্পেনের উনাই সিমন, মরক্কোর ইয়াসিন বুনোরা সেরা। ভিন্ন ভিন্ন ম্যাচে ভালো করেছেন অনেকে। গোলরক্ষকদের বিশ্বকাপে স্ট্রাইকারের উত্থান ঘটেনি। নরওয়ের আর্লিং হালান্ড প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমে নজর কেড়েছেন। স্পেনের ওয়াইরসাবাল ও ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো।

বিশ্বকাপে রেফারিংয়ের মান নিয়ে সমালোচনা ছিল প্রথম থেকেই। আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দিকে পেছন থেকে বুটের আঘাতে ফাউল করেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। এ ধরনের ফাউলে লাল কার্ড দেওয়ার নিয়ম ফিফার। অথচ কার্ড দেওয়া দূরের কথা, ফাউলও দেননি রেফারি। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছিল বিশ্বজুড়ে। একই রকম ফাউল করায় যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার বালোগানকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। এক নিয়মে এক বিশ্বকাপ হলেও মাঠের খেলায় ব্যক্তিবিশেষে সেটি পাল্টে গেছে। তবে সব ছাপিয়ে সুন্দর ফুটবলের জয় হয়েছে। লাতিন আর ইউরোপের পাসিং ফুটবল দেখে আনন্দ পেয়েছেন সমর্থকরা।

দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ মেসি রূপকথার করুণ সমাপ্তি, খলনায়ক আর্জেন্টিনা

ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের শেষ আলোটুকু ছড়াতে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। একটি অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেবেন- এমন প্রত্যাশা ছিল কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর। কিন্তু নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের পশ্চিম গ্যালারির পেছনে সূর্য যখন হেলে পড়ছিল, তখন ক্রমশই স্পষ্ট হতে থাকে, টুর্নামেন্টজুড়ে মেসির পায়ে যে জাদু ছিল, সেটি হঠাৎ উধাও। স্পেন ধীরে ধীরে যখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিচ্ছিল, তখন কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা যেন সমস্ত আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন।

টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতে যে আর্জেন্টিনা বা যে মেসিকে আমরা দেখেছি, ফাইনালের ম্যাচে সেই দলটির চেহারা সম্পূর্ণ বিপরীত। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দল ছিল এই আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষকে কীভাবে ধূলিসাৎ করা যায়, সেটি তাদের জানা। তার চেয়ে বড় কথা, গোল করার সঠিক সময় নিখুঁতভাবে নির্বাচন করতে তারা সিদ্ধহস্ত। সে অভিজ্ঞতা দিয়েই দুটি ম্যাচে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের কাছে হেরে যাওয়ার মুখ থেকে ফিরে তারা ট্রফি জয়ের দৌড়ে নিজেদের শক্তিশালী করে তোলে।

বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচগুলো বরাবরই নীরস হয়। তবে সেই মানদণ্ডেও এবারের ফাইনালের গতি ও ধরণ হতাশাজনক। প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয়ার্ধে স্প্যানিশ রক্ষণভাগ ধীরে ধীরে ম্যাচের লাগাম টেনে ধরে। তবে অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে তারা কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায়, যা ছিল একেবারেই প্রত্যাশিত।

কিন্তু আর্জেন্টিনা? বিশ্বকাপের প্রায় শতবছরের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে ফাইনাল ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে একটি শটও তারা নিতে পারেনি! এমনকি অতিরিক্ত ৩০ মিনিট পাওয়ার পরও তারা স্পেনের জন্য সামান্যতম হুমকিও তৈরি করতে পারেনি।

আর লিওনেল মেসি? এই ফাইনালের আগ পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলকে দারুণ কিছু দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই সেটি তার স্বাভাবিক ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ। আর, ৩৯ বছর বয়সে এসে মেসির অর্জনের খাতা এতটাই পরিপূর্ণ যে- ব্যক্তিগত, ক্লাব বা জাতীয় দলের হয়ে তার অর্জন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস কারও নেই। রোববার রাতের পরাজয় তার সেই ক্যারিয়ারে সামান্য আঁচড়ও কাটবে না, সেটি ঠিক। তবে ম্যাচটি জিতলে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হতো- সেটি নির্দ্বিধায় বলা যায়।

দিনশেষে এ সত্যটাও স্বীকার করতে হবে, গোটা টুর্নামেন্টে যে মেসি একাই দলকে টেনেছেন, ফাইনালের পুরো ম্যাচে তার উপস্থিতি একেবারে নগন্য। এর বড় কারণ অবশ্যই স্প্যানিশ রক্ষণভাগের মাস্টারক্লাস পারফরম্যান্স। তবে কেবল রক্ষণ দিয়ে তো আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে আটকে রাখা সবসময় সম্ভব নয়। তাই সবদিক থেকে আর্জেন্টিনাকে পরিষ্কার টেক্কা দিয়েছে স্পেন, মেসিকেও নিষ্ক্রিয় করে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

%E0%A7%AA 1784549528

মাঠে মেসির কাছে সময় বরাবরই একটি আপেক্ষিক বিষয়। কারণ প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানাতে তিনি নিজের মতো করে সময়ের গতি যখন-তখন আটকে দিতে পারেন। এই বয়সে এসেও তিনি সময়ের দেয়াল ভেঙে দর্শকদের নিয়ে গেছেন বার্সেলোনায় কাটানো সেই সোনালি দিনগুলোতে। অনেকে মনে করেন, সময় মেসিকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি, বরং তিনি সময়ের পাশাপাশি হেঁটেছেন। কখনও হয়তো দু-এক কদম পিছিয়ে পড়েছেন, কিন্তু আবার তা পুনরুদ্ধার করেছেন।

কিন্তু ফাইনাল ম্যাচটি আমাদের একটি বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। মেসি অধ্যায়ের কী সমাপ্তি ঘটল? তাকে নিয়ে এমন সংশয়ের কথা বলা হয়েছিল ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জেতানোর পর, আবার ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর মেসি যখন ক্ষোভে জাতীয় দল থেকে সাময়িক অবসর নেন, সেই সময়ও।

তখনকার দিনে আলোচনা হতো, বার্সেলোনার হয়ে মেসি যেভাবে খেলেন, আর্জেন্টিনার হয়ে ঠিক সেভাবে খেলতে পারবেন না। এমনকি জীবনের বড় একটি অংশ স্পেনে কাটানোর কারণে তিনি ‘যথেষ্ট আর্জেন্টাইন’ নন বলেও গুঞ্জন ছিল। ঠিক ১০ বছর পর, সেই বিতর্ককে কেবল কৌতুকই মনে হয়েছে।

আর্জেন্টিনার হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেশের মানুষ কীভাবে গ্রহণ করবে, তা সময়ই বলে দেবে। কেননা তাদের প্রত্যাশার পারদ ছিল আকাশচুম্বী। ফাইনাল ম্যাচের আগে অবশ্য প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি, এমনকি মেসি নিজেও দীর্ঘ আলাপে জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে যতটা অর্জন করেছেন তাতেই তৃপ্ত। দুজনের কথার সুর এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছিল, ফাইনালের ফলাফল তাদের সাফল্যগাথাকে কোনোভাবেই ম্লান করতে পারবে না। তবে সেটি ছিল মাঠে নামার আগের কথা।

মেসির মতোই স্কালোনির গৌরবোজ্জ্বল ক্যারিয়ার এই ফাইনালের আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে। আর্জেন্টিনাকে তৃতীয় বিশ্বকাপ এবং টানা দুটি কোপা আমেরিকা ট্রফি উপহার দেওয়া কোচ তিনি। তবু এই ফাইনাল ছিল তার সেই সাম্রাজ্যকে আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ। দুটি সত্য এখানে পাশাপাশি- স্কালোনি নিঃসন্দেহে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে অন্যতম সেরা কোচ, একই সঙ্গে এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বাজে কৌশল ও ফলাফল।

সবকিছুর ঊর্ধ্বে এখন যা স্পষ্ট, তা হলো- গভীর এক হতাশা। আর্জেন্টিনা ও মেসির রূপকথাকে নিখুঁত সমাপ্তি দিতে না পারার কষ্ট। সোনালি সুযোগ কাজে লাগানো তো দূরের কথা, মাঠের পারফরম্যান্সে অযাচিতভাবেই তারা পুরো গল্পের খলনায়ক।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

দেশে ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। তাঁদের মতে, শুধু চিকিৎসাসেবা বাড়িয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) আয়োজিত ‘ডেঙ্গু-জ্বর সচেতনতামূলক সাইন্টিফিক সেমিনার’-এ এসব কথা বলা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনডিএফের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, দেশে ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এ জন্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। তিনি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদানের প্রশংসা করেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এনডিএফের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য মারজিয়া বেগম বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তিনি গুজব ও অপচিকিৎসা থেকে বিরত থেকে বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর-উল আলম (সোহেল)। তিনি ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি, এডিস মশার জীবনচক্র, রোগের লক্ষণ, সতর্ক সংকেত, রোগ নির্ণয়, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং জটিলতা প্রতিরোধ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন বা চিকিৎসা নিতে দেরি করা রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় অংশ নেন বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মাহবুব ইসলাম মজুমদার এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল্লাহ সাঈদ খান।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু এখন আর শুধু মৌসুমি সমস্যা নয়; এটি দেশের জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। তিনি জনগণের পাশে থেকে চিকিৎসকদের সেবামূলক ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

সেমিনারে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষক, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে কোর্ট মার্শালে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার অন্য সহযোগীদের বিচার তখন সামরিক আদালতে হয়েছে। সেখানে কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। তিনি দীর্ঘদিন ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে পলাতক ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে সেনা আইনে বিচার করার জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছি। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচারটা নিশ্চিত করা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার যারা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, একই রায়ে তার বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ থাকলে সেটি জেনারেল কোর্ট মার্শাল দেখবে।’

তার বিরুদ্ধে সিভিল আইনে কোন মামলা করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সিভিল আইনে তাকে অন্তর্ভুক্ত করাটা কতটা আইনসম্মত হবে, পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখা যাবে। এখন নয়। একই ব্যক্তিকে একই অপরাধে দুই ভিন্ন আইনে দুইবার বিচার করা যায় না।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৫ বছর ধরে পলাতক মেজর (অব.) মোজাফফরকে (৭৭) ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় ডিবি। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরণ ও সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ল্যান্ড মাইন খুজে বের করার জন্য আমরা কিছু যন্ত্রপাতি বিজিবিকে সরবরাহ করেছি। সেগুলো দিয়ে বিজিবি কাজ করছে, যাতে ল্যান্ড মাইন দুর্ঘটনা আর না হয়। আর কাঁটা তারের বেড়া বিষয়টি হল– বিভিন্ন কারণে মায়ানমারের সীমান্তটা আমাদের জন্য এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। এটার সঙ্গে অন্য দেশের সীমান্তে কাঁটা তারের বিষয়টা একটু ভিন্ন। আমরা মিয়ানমার সীমান্তে দেখেছি, আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের সবসময় একটা যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, যার মধ্যে আমরা সেন্ডুইস হচ্ছি অনেকটা। তার মধ্যে আরো কিছু বিদ্রোহী গ্রুপ আছে, আরসা, আরএসও সহ বিভিন্ন সংগঠন আছে তাদের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ হয়, যার প্রভাবটা আমাদের এখানেও আসে। যার কারণে মাদক চোরাচালান, অস্থীতিশীল অবস্থা এবং অনেক সময় গোলাগুলির কারণে সীমান্তে আমাদের নাগরিকরাও মৃত্যুবরণ করেছে। সেজন্য আমাদের প্রস্তাব আছে সেসব সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণের জন্য।

তিনি বলেন, আমরা একজনকেও অবৈধভাবে এখানে পুশইন হতে দেইনি। বিজিবি ও জনগণের সহায়তায় আমরা সফলভাবে এখনো পর্যন্ত সেটা ঠেকাতে সক্ষম হয়েছি। কিছু কিছু অবৈধ অনুপ্রবেশ করেছিল, তার সংখ্যা বেশি নয়। সেটা আমরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। কিন্তু কাউকে অবৈধভাবে পুশইন করতে দেই নাই। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডার কারণে তারা হয়তো করতে চেয়েছে। কিন্তু আমরা কথা বলবো কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে। আমরা বলেছি যদি সেখানে এমন কোনো বাংলাদেশি নাগরিক থাকে সেটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দিতে হবে। আমরা সেগুলো যাচাই বাছাই করবো, যদি সত্যতা পাওয়া যায় আমরা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা ফেরত নিয়ে আসবো। এ ছাড়া অন্য কোনো উপায় আমরা কাউকে অনুমোদ করবো না।

স্পেন-আর্জেন্টিনা ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার

ফুটবল বিশ্বের সব অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। শিরোপার মহারণ শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে একটাই প্রশ্ন, কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি?

এই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর খুঁজতে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টা সুপার কম্পিউটার প্রকাশ করেছে নিজেদের পূর্বাভাস। তাদের গাণিতিক বিশ্লেষণে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে স্পেন।

অপ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৪৫.১ শতাংশ। বিপরীতে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ২৯.৪ শতাংশ। এছাড়া ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো কিংবা টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা ২৫.৪ শতাংশ।

অর্থাৎ, কাগজে-কলমে স্পেনকে এগিয়ে রাখলেও ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারের সম্ভাবনা তাই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে ইতিহাস বলছে, দুই দলের লড়াইয়ে কোনো পক্ষই স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ও প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হয়েছে ১৪ বার। এর মধ্যে ৬টি করে ম্যাচ জিতেছে দুই দল, আর ২টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। মুখোমুখি লড়াইয়ের এই ভারসাম্যই ফাইনালের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে ফুটবলে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনা বারবার প্রতিকূল অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে। অন্যদিকে স্পেন খেলেছে ধারাবাহিক, আক্রমণাত্মক ও ছন্দময় ফুটবল। তাই সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাস স্পেনের পক্ষে থাকলেও, বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ৯০ মিনিট, কিংবা প্রয়োজনে ১২০ মিনিটের লড়াই। প্রয়োজনে টাইব্রেকারের নাটকীয়তাও হতে পারে এই মহারণের শেষ অধ্যায়।

বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে গরু জবাই করে ভূরিভোজের আয়োজন

আজ রোববার ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর পর্দা নামছে।   ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় আর্জেন্টিনার ভক্তরা ব্যতিক্রমী আয়োজনে মেতে উঠেছেন। ম্যাচটি রাঙিয়ে তুলতে কোটালীপাড়ার কুশলা ইউনিয়নের পবনাপাড় গ্রামে গরু জবাই করে ভূরিভোজের আয়োজন করেছেন আর্জেন্টিনার সমর্থক গোষ্ঠীর সদস্যরা।

পবনাপাড় গ্রামের কেএম চাঁদ মিয়া পাবলিক লাইব্রেরি অ্যান্ড স্পোর্টিং ক্লাব চত্বরে আজ সকাল থেকেই বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। শত শত সমর্থক একজোট হয়ে প্রিয় দলের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন। এই ক্লাব চত্বরে খেলা উপভোগের জন্য ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে বড় একটি স্বাস্থ্যবান গরু কিনে ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে কোটালীপাড়া উপজেলার ৩ শতাধিক স্পটে আর্জেন্টিনার সমর্থক গোষ্ঠী পৃথক পৃথক ভূরিভোজের আয়োজন করেছে। বিভিন্ন গ্রামের ক্লাবে ক্লাবে ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ দেখার জন্য বড় বড় ডিজিটাল পর্দা (প্রজেক্টর) স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্লাব ও সামাজিক সংগঠন ছাড়াও সাধারণ মানুষের বাড়িতে বাড়িতে চলছে উপাদেয় খাবারের নানা আয়োজন।

আর্জেন্টিনার ভক্ত বরকতউল্লাহ বলেন, আমরা আর্জেন্টিনার সমর্থক গোষ্ঠী গত ২০২২ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ফাইনাল খেলা উপলক্ষেও এমন বড় ভূরিভোজের আয়োজন করেছিলাম। সেই ধারা ও ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে এবারও প্রিয় দলের ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে আমরা ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি। আমরা যারা আর্জেন্টিনার সমর্থক আছি তারা তো বটেই, তা ছাড়া এলাকার এতিম ও অসহায় মানুষের জন্যও আজ রাতে বিশেষ খাবারের আয়োজন করেছি।

উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও আর্জেন্টিনার সমর্থক মান্নান শেখ বলেন, আমরা আর্জেন্টিনার ফাইনাল খেলা উপভোগ উপলক্ষে কান্দি ইউনিয়নের আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা মিলে মোট ১২টি স্থানে প্রায় ৮ হাজার লোকের দুপুরের ও রাতের খাবারের আয়োজন করেছি। আমরা সবাই মিলে বড় পর্দায় ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করব। এখানে দূর-দূরান্ত থেকে যারা খেলা দেখতে আসবে, তাদের সবার জন্যই আপ্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আদালতে বাবার জবানবন্দি শাসন করতে গিয়ে লাঠির আঘাতে মেয়ের মৃত্যু, ভয়ে লাশ গুমের চেষ্টা

মা-মেয়ের ঝগড়া চলছিল। মায়ের ওপর মেয়েকে চড়াও হতে দেখে কাঠের লাঠি দিয়ে মেয়েকে আঘাত করেন বাবা। মেয়ে নড়াচড়া করায় সেই আঘাত মাথায় লাগে। সঙ্গে সঙ্গে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আরফানা হোসেন নির্জনা। কিছু সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। আতংকে মেয়ের লাশ বস্তায় ভরে গুমের চেষ্টা করেন স্বামী-স্ত্রী।

আজ রোববার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নির্জনার বাবা আলীম হোসেন আকাশ এ তথ্য জানান। খুলনা মহানগর হাকিম-১ এর বিচারক মো. আসাদুর জামান জবানবন্দি গ্রহণ করেন। গত শনিবার দুপুরে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা বাজারের একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

এর আগে গত ১০ জুলাই নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। স্বামী-স্ত্রী দু’জনই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

গত ৮ জুলাই রাতে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নির্জনার পরিচয় শনাক্ত হয়। নির্জনা নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা এবং সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে তিনি হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন।

খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (সদর) শফিকুল ইসলাম জানান, অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিয়ে, ডিভোর্স এবং প্রায়ই পরিবারের অমতে বাড়ির বাইরে অবস্থান করায় মেয়ের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন তার বাবা। গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসায় এসব বিষয় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবারও বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শাসন করতে গিয়ে অসাবধানতার বশে লাঠির আঘাতে নির্জনা নিহত হন। ভয়ে এবং আতংকে স্বামী-স্ত্রী মিলে লাশটি গুমের চেষ্টা করেন।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাবা আকাশ অনুতপ্ত। মেয়ের মৃত্যুর পর থেকেই তিনি কান্নাকাটি করছেন। একপর্যায়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হন। মামলার দুই আসামির দু’জনে গ্রেপ্তার ও দায় স্বীকার করায় দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হবে।

ইলেকট্রিক বাস কিনতে ৪শ কোটি টাকা চায় বিআরটিসি

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ১০০টি নতুন ইলেকট্রিক বাস কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব বাস কেনা এবং এর আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইকুইটি হিসেবে বরাদ্দ চেয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিসি শাখা থেকে অর্থ সচিবের কাছে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর আগে বিআরটিসির পক্ষ থেকে এই ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হলে সরকারের ব্যয়সাশ্রয়ী নীতি ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় অর্থ বিভাগ সরাসরি অনুদান না দিয়ে একটি ‘উন্নয়ন প্রকল্প’ হিসেবে গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিল। অর্থ বিভাগের যুক্তি ছিল, ঋণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দায়বদ্ধতা তৈরি হয়।

বিআরটিসি পুনরায় অনুদানের দাবি জানিয়ে যুক্তি দিয়েছে যে বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা ও নিজস্ব তহবিলের সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বোঝা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা তাদের জন্য সম্ভব নয়। জনস্বার্থে পরিচালিত একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঋণের সুদ ও মূলধন পরিশোধের চাপ প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা তৈরি করবে। এ প্রেক্ষাপটে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে ৪০০ কোটি টাকা সরাসরি ‘অনুদান’ বা ‘ইকুইটি’ হিসেবে দেওয়ার জন্য পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছে বিটিআরসি।

চিঠিতে জানানো হয়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি সমন্বিত, দক্ষ ও ‘সবুজ পরিবহন করিডোর’ নির্মাণের লক্ষ্যে বিআরটিসির বহরে ইলেকট্রিক বাস সংযোজন এখন সময়ের দাবি। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয় করা এবং নাগরিকদের জন্য আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

ইলেকট্রিক বাস আমদানিসহ আনুষঙ্গিক খাতের সম্ভাব্য ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা ১০০টি বাসের প্রতিটির সম্ভাব্য দাম দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা হিসেবে মোট ২৪০ কোটি টাকা। বাসের ব্যাটারি চার্জ করার জন্য ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। প্রতিটি স্টেশন নির্মাণে খরচ হবে দুই কোটি টাকা। এ ছাড়া যন্ত্রাংশের জন্য ৩৫ কোটি টাকা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার জন্য ২০ কোটি টাকা, বাসের পরিবহন ও রেজিস্ট্রেশন ব্যয়ের জন্য ২৫ কোটি টাকা এবং বিআরটিসির ডিপোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও মেরামতের জন্য ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

বিআরটিসি জানিয়েছে,  বৈদ্যুতিক বাসগুলো মূলত ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ রুট এবং বিভাগীয় শহরগুলোর আন্তঃনগর রুটে চলাচল করবে। ঢাকার তীব্র বায়ুদূষণ রোধে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিআরটিসির দাবি, প্রাথমিক বিনিয়োগ কিছুটা বেশি মনে হলেও দীর্ঘ মেয়াদে বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনার ব্যয় প্রচলিত ডিজেল বা সিএনজিচালিত বাসের তুলনায় অনেক কম। ফলে এটি দীর্ঘ মেয়াদে রাষ্ট্রীয় সাশ্রয় নিশ্চিত করবে এবং যাত্রীদের যাতায়াতের মান আরও উন্নত হবে। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে সরকারি আর্থিক বিধিবিধান এবং ক্রয় আইন কঠোরভাবে অনুসরণ করেই বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় করা হবে।

এ প্রসঙ্গে সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক সমকালকে বলেন, গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সারাবিশ্বেই এ ধরনের রাষ্ট্রীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার ভর্তুকি বা অনুদান দিয়ে পরিচালনা করে থাকে। কারণ এখানে সরাসরি বাণিজ্যিক মুনাফার চেয়ে সামাজিক কল্যাণ বেশি জড়িত।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক বলেন, অনুদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন জনগণের করের টাকার কোনো অপচয় না হয়। বাস কেনা থেকে শুরু করে অবকাঠামো নির্মাণে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকতে হবে। একই সঙ্গে বিআরটিসিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিতে হবে, যেন ভবিষ্যতে যে কোনো নতুন উদ্যোগ বা বাস কিনতে তাদের বারবার সরকারের কাছে অনুদান না নিতে হয়।