Home Blog Page 24

র‍্যাবের সক্ষমতা বাড়াতে কেনা হচ্ছে আরও ১৬৭টি গাড়ি খরচ ১২০ কোটি টাকা

০

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) বহরে যুক্ত হচ্ছে নতুন ১৬৭টি গাড়ি। এর জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১২০ কোটি টাকা। র‍্যাবের অভিযানের সক্ষমতা বাড়াতে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ থেকে এসব যানবাহন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গাড়ি কেনার জন্য অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগে গত মে মাসে র‍্যাবের জন্য ১৬৩টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

গত ২২ জুলাই র‍্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জাহিদুল করিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ১৬৭টি গাড়ি কেনার বিস্তারিত চাহিদাপত্র পুলিশ সদরদপ্তরে পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২ আগস্ট পুলিশ সদরদপ্তর এসব গাড়ি কেনার সুপারিশসহ প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময় ১৯ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের কাছে এসব গাড়ি কেনার জন্য অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন চায়।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নাম পরিবর্তন করে নতুন নামে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় সরকারি নথিতে এখনও এলিট ফোর্সটির নাম ‘র‍্যাব’ হিসেবেই উল্লেখ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে বর্তমানে নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। গত ৮ জুলাই এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করে। তবে ওই পরিপত্রের আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে তা শিথিলযোগ্য। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, র‍্যাবের কার্যক্রমের সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস দমন ও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্পৃক্ত। তাই বিশেষ বিবেচনায় নতুন গাড়ি কেনার অনুমোদনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
র‍্যাবের বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন, স্পেশাল সেকশন ও মাঠ পর্যায়ের চাহিদা বিবেচনায় ১৬৭টি গাড়ির শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫০টি প্যাট্রল পিকআপ, ৪৪টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস, ৫০টি প্যাট্রল কার, তিনটি ডগ ভ্যান, ১০টি ট্রাক, তিনটি জিপ, দুটি রিকভারি ভেহিকল, একটি মোবাইল ওয়ার্কশপ ভেহিকল এবং চারটি রায়ট ভ্যান।

মে মাসে কেনা হয়েছে ১৬৩ গাড়ি
র‍্যাবের যানবাহন বহর পুনর্গঠনে এটি নতুন কোনো উদ্যোগ নয়। এর আগে গত ৭ মে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে র‍্যাবের জন্য আরও ১৬৩টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা ১২২ কোটি ২৭ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব গাড়ি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) সরবরাহের কথা রয়েছে।

প্রশাসনিক নথিপত্র অনুযায়ী র‍্যাবের জন্য অনুমোদিত যানবাহনের সংখ্যা তিন হাজার ১৪৫টি। এর বিপরীতে প্রকৃত ঘাটতি রয়েছে ৬৬৮টি। এর বাইরে ২৫৬টি গাড়ি অকেজো হিসেবে ঘাোষিত হয়েছে। আরও ৮৯টি গাড়ি অকেজো ঘোষণার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলার কাজে আগুনে পড়ে ভস্ম সাতটি। এ ছাড়া ৯৪৩টি বিভিন্ন ধরনের গাড়ি ১০ বছরের বেশি পুরোনো। এসব গাড়ির গড় মাইলেজ লাখ কিলোমিটার অতিক্রান্ত হয়েছে। যা অভিযানে ব্যবহার করা কষ্টসাধ্য।

২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেক সভায় ‘র‍্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৩৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। পরবর্তী সময় ব্যয় পুনর্মূল্যায়নের পর ২০৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা কমিয়ে প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৮২৭ কোটি ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ ব্যয়ে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদিত হয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

কেনাকাটার প্রস্তাবনায় বলা হয়, র‍্যাব একটি অপারেশনাল ফোর্সেস। এ ফোর্সেসের আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য যানবাহনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কিন্তু বিগত বছরগুলো অর্থ মন্ত্রণালয় যানবাহন ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়ন অবশিষ্ট রয়েছে।

ছয় দফা দাবিতে জামায়াত জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ শুরু

০

গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ‘লং মার্চ’ শুরু করেছে। শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। সোয়া ৮টার পর বিশাল গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়।

লং মার্চে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচির শেষপর্যায়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

মতিঝিলের সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক, এবি পার্টির সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জোটের নেতারা।

জোটের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।

এর আগে ৬ আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে লং মার্চের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা ও ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে লং মার্চ এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে।

ভ্যাকসিন রপ্তানিতে ১৫ বাধা

০

দেশে উৎপাদিত ভ্যাকসিন বিদেশে রপ্তানির পথে বড় বাধা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার ঘাটতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ম্যাচিউরিটি লেভেল-৩ (এমএল-৩) অর্জনে ১৫টি ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ ঘাটতি পূরণে আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে এমএল-৩ অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কর্মপরিকল্পনা তৈরি হবে। প্রস্তুতি শেষ করে ভ্যাকসিন রপ্তানির উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ২০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঔষধ শিল্প সমিতি ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) কর্মকর্তাদের বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দারকে প্রধান করে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর গ্লোবাল বেঞ্চমার্কিং টুল অনুযায়ী, এমএল-৩ অর্জনের জন্য জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওষুধ ও টিকার নিবন্ধন ও বাজারজাত অনুমোদন, উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সিং ও পরিদর্শন, মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষাগার সক্ষমতা, টিকার ব্যাচ ছাড়পত্র নেওয়া, বাজার-পরবর্তী নজরদারি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর সক্ষমতা থাকতে হবে। এর সঙ্গে প্রয়োজন দক্ষ জনবল, মানসম্মত নথি ও কার্যপদ্ধতি, তথ্য ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তে স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা, জরুরি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিতের ব্যবস্থা। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে টিকা উৎপাদন ২০১১ সালে শুরু হলেও এসব ক্ষেত্রে সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে ইনসে্পটা, পপুলার ও হেলথকেয়ার এই তিন কোম্পানি মানব ও পশুচিকিৎসায় ব্যবহৃত ১৫ থেকে ১৬ ধরনের টিকা উৎপাদন করছে। এর মধ্যে ইনসে্পটা সীমিত পরিসরে আফ্রিকার কয়েকটি দেশে টিকা রপ্তানি করছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এমএল-৩ সনদ না থাকায় বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে বড় পরিসরে প্রবেশ করতে পারছে না।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার সমকালকে বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ ডব্লিউএইচওর ম্যাচিউরিটি লেভেল-২ পর্যায়ে রয়েছে। এমএল-৩ অর্জনের জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমাকে  টাস্কফোর্সের প্রধান পৃষ্ঠপোষক করা হয়েছে। এমএল-৩ অর্জনের জন্য কর্মপরিকল্পনা দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রণয়নের কাজ শেষ হবে। এর পর ছয় মাসের মধ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। বাস্তবায়ন শেষে ডব্লিউএইচওকে মূল্যায়নের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।’

২০১৬ সাল থেকে এমএল-৩ অর্জনে কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এটি করতে আইন করা জরুরি ছিল। তিন বছর আগে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন-২০২৩ হলেও এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রস্তুত করতে পারেনি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। পাশাপাশি ডিজিডিএর সংশোধিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন জরুরি হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ হালিমুজ্জামান সমকালকে বলেন, আগামী বছরের মধ্যে দেশে উৎপাদিত ভ্যাকসিন রপ্তানির উপযোগী করতে একটি রোডম্যাপ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। রপ্তানির পথে ১৫টি বড় বাধা রয়েছে। সেগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। আগামী বছর ডব্লিউএইচওর প্রধান মূল্যায়ন হওয়ার কথা। আইন, জনবল, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রস্তুতি চলছে। এমএল-৩ অর্জনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিটি লক্ষ্যের জন্য সময়সীমা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন তৈরির সময়ও ঠিক করা হয়েছে। ঢাকায় ডব্লিউএইচওর কর্মকর্তা এ কাজে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এমএল-৩ অর্জন শুধু নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না। ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আন্তর্জাতিক মান পূরণ করতে হবে। দেশে বর্তমানে তিনটি প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন উৎপাদন করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের এক বা একাধিক কারখানা পরিদর্শন করতে পারে ডব্লিউএইচওর মূল্যায়নকারী দল। আগের পরিদর্শনে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু ঘাটতি চিহ্নিত হয়েছিল।

ডব্লিউএইচওর হিসাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের কাছ থেকে প্রায় ১২ কোটি মার্কিন ডলারের ভ্যাকসিন কিনেছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ ও নতুন টিকা যুক্ত হলে ২০৩০ সালে এই ব্যয় প্রায় ৪০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১৫০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে। ডব্লিউএইচওর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। তবে ভ্যাকসিন রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সক্ষমতা অর্জন জরুরি।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সাবেক মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘ডব্লিউএইচওর ম্যাচুরিটি লেভেল-৩ অর্জনে শুধু গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (জিএমপি) মানলেই হবে না; কারেন্ট গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (সিজিএমপি) অনুযায়ী উৎপাদনব্যবস্থা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কমিয়ে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসব কাজ এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, সক্ষমতা অর্জনে ওষুধের মান নিশ্চিত করতে পরীক্ষার পরিমাণ বেড়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দুই দশক আগে একটি ওষুধে কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করা হলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ২০ ধরনের অমিশ্রণ পরীক্ষা করতে হয়। এসব পরীক্ষার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। বাজারজাতের পরও নমুনা দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ ও নির্দিষ্ট সময় পরপর পরীক্ষা করতে হয় এবং তা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী সমকালকে বলেন, সরকার আন্তর্জাতিক মানের টিকা উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমএল-৩ অর্জনের প্রচেষ্টাও চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা শিগগির ঢাকায় আসবেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জে সরকারিভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ হলে কাজ আরও দ্রুত এগোবে।

পথসভায় তথ্যমন্ত্রী ভোলায় কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি হবে না

০

ভোলায় আর কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। গতকাল বুধবার দুপুরে নিজ নির্বাচনী এলাকা ভোলায় পৌঁছে শহরের নতুন বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ভোলার জন্য বরাদ্দ হওয়া সব কাজ শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে। জিআর ও টিআরের কাজ আপনারাই স্থানীয়ভাবে বুঝে নেবেন। ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সেতু বাস্তবায়নে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। ভোলার সার্বিক উন্নয়নে দলমতনির্বিশেষে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।
আওয়ামী লীগ সরকার ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতির কোমর ভেঙে দিয়েছে উল্লখে করে তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় দায়িত্ব নিয়েছেন। সেখান থেকে আমাদের উঠে আসতে হচ্ছে।

এর আগে সড়কপথে বরিশালের লাহারহাট হয়ে নৌপথে ভোলার খেয়াঘাটে পৌঁছালে মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জেলা প্রশাসক শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব রাইসুল আলম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) জেলা সভাপতি আমিনুল ইসলাম রতন, সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহ প্রমুখ। তিন দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে তিনি ভোলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

ফ্যাটি লিভারের যেসব লক্ষণ অবহেলা করা ঠিক নয়

০

দিন দিন ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সাধারণত লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়ার সমস্যাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। অনেকেই ভাবেন, শুধু অ্যালকোহল পান করলেই এই রোগ হয়। এটা ঠিক নয়। অ্যালকোহল না পান করলেও এটা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং মেটাবলিক সমস্যার কারণেও এই রোগ হতে পারে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষের নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার রয়েছে। অনেক সময় আমরা যে অতিরিক্ত চিনি খাই, লিভারের কোষগুলো তা প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না। তখন লিভার সেই অতিরিক্ত চিনিকে সরাসরি চর্বিতে পরিণত করে। এই চর্বি লিভারের কোষগুলিতে জমতে শুরু করে। ক্রমাগত চর্বি জমলে লিভারের কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে। শুরুতে সমস্যাটা সামান্য মনে হলেও, ক্রমাগত চর্বি জমতে থাকলে লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে।

ফ্যাটি লিভার রোগ সাধারণত দুই ধরনের। অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ এবং নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ। অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানের কারণে অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার হয়। আর অ্যালকোহল ছাড়া অন্য কারণে হলে তাকে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বলা হয়।

বিশেষজ্ঞর মতে, ফ্যাটি লিভারের কিছু কিছু লক্ষণ দেখা দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যেমন- পেটের ডানদিকের উপরের অংশে ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, খিদে কমে যাওয়া, আচমকা ওজন কমা, প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন, ত্বকে চুলকানি, মলের রঙ বদলে যাওয়া এবং চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া। অনেক সময় সঠিক ব্যায়াম, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

দুধ ছাড়াও ক্যালসিয়াম পাবেন যেসব খাবার থেকে

০

মজবুত হাড় ও দাঁতের জন্য ক্যালসিয়াম অপরিহার্য। ক্যালসিয়ামের সবচেয়ে ভালো উৎস দুধ। এছাড়াও রাগি, তিল থেকে শুরু করে টোফু, শাকসবজি, নির্দিষ্ট কিছু মাছ পর্যন্ত, অন্যান্য খাবার প্রাকৃতিকভাবে ক্যালসিয়াম গ্রহণ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। যেমন-

রাগী :  রাগী হলো একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ক্ষুদ্র শস্যদানা যা  ফিঙ্গার মিলেট নামেও পরিচিত। এটি ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ শস্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। রুটি, দোসা,পরিজ বা খিচুড়ি হিসেবে এটি দৈনন্দিন খাবারে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম বাড়ানোর এটি দারুন বিকল্প।

সাদা এবং কালো তিল: স্বাস্থ্যকর চর্বিতে ভরপুর সাদা এবং কালো তিল ক্যালসিয়ামও সরবরাহ করে। এগুলো চাটনি, সালাদ, লাড্ডু বা সবজির উপরে টপিং হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেহেতু তিলে ক্যালোরি বেশি থাকে, তাই এটি পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

টোফু এবং কিছু সয়া-ভিত্তিক পণ্য : যারা দুধ বা দুগন্ধজাত খাবার একদমই খেতে পারেন না তারা খাদ্যতালিকায় টোফু এবং কিছু সয়া-ভিত্তিক পণ্য রাখতে পারেন। তবে, বিভিন্ন পণ্যে ক্যালসিয়ামের মাত্রা ভিন্ন হয়, তাই প্যাকেটজাত সয়া খাবার কেনার সময় পুষ্টি তথ্যের লেবেল দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

শাকসবজি: পাতাকপি, বক চয়, ব্রোকলি এবং বিভিন্ন পাতাযুক্ত শাক খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম যোগ করতে পারে। সরিষা পাতার মতো শাকও পুষ্টিগুণ বাড়াতে পারে। বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি দৈনন্দিন খাবারে অন্তর্ভুক্ত করলে তা আরও পুষ্টিগুণে ভরপুর হয়ে ওঠে।

পালং শাক : ক্যালসিয়াম থাকলেও, এই শাকে তুলনামূলকভাবে উচ্চ মাত্রার অক্সালেটও থাকে। এই যৌগগুলো শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। তাই, দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদা মেটানোর জন্য পালং শাককে একমাত্র সবজি হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

ছোট মাছ : কাটাসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। খাবারে এই ধরনের মাছ অন্তর্ভুক্ত করলে ক্যালসিয়াম গ্রহণ বাড়াতে সাহায্য করে।

বাদাম : অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের সাথে বাদাম ক্যালসিয়ামও সরবরাহ করে। কেউ কেউ কেবল উদ্ভিজ্জ খাবার গ্রহণ করেন, এমন ক্ষেত্রে অবশ্যই উদ্ভিজ্জ উৎসের পরিমাণের দিকটা খেয়াল করতে হবে

পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ, তবে ক্যালসিয়াম শোষণ এবং ব্যবহারে ভিটামিন ডি-ও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত দৈনিক প্রায় ১,০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়, যদিও বয়স এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে এর প্রয়োজনীয়তা বাড়তে পারে।

জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধ ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মামলার রায় আগামী সপ্তাহে

০

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ মামলায় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন মামলাটি রায়ের জন্য রাখা হবে।

এদিকে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত কথিত গণহত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বরের মামলায় ১১ আসামি কারাগারে রয়েছেন। আরও ৩০ জন পলাতক। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরোয়ানা অনুযায়ী তাঁদের নিজ নিজ ঠিকানায় গিয়েও পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এসব আইনি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর মামলার বিচারকাজ শুরু হবে।

শাপলা চত্বরের মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সব মামলাকেই গুরুত্ব দিয়ে বিচারকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে শাপলা চত্বরের গণহত্যার মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত ঘটনাকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ‘রং মেখে অভিনয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। অথচ ওই ঘটনায় ৬১ জন আলেম-ওলামাকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ বিচারকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য নানা ধরনের প্রচারণা চালানো হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ধর্মপ্রাণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল শাপলা চত্বরের হত্যা মামলার বিচার হোক। এ বিষয়ে মানুষের গণদাবিও রয়েছে। আমরা জনগণের এমন দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিচারটি দ্রুততার সঙ্গে শেষ করব।’

ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি : আইরিন খান

০

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান বলেছেন, সমাজে ন্যায়বিচার, সমতা, মানবাধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব। একইসঙ্গে শান্তি বিনির্মাণে নারী নেতৃত্ব এগিয়ে নিতে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘শান্তির সংস্কৃতিবিষয়ক কর্মসূচির উচ্চপর্যায়ের ফোরাম’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় নারী নেতৃত্ব জোরদারে তিনটি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন তিনি।

তিনি শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে নারীর পূর্ণ, সমান ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; কিশোরী ও তরুণ নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে, বিশেষ করে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার ও ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়াতে বিনিয়োগ করা; এবং সংঘাত প্রতিরোধ, মানবিক সহায়তা, কমিউনিটির সহনশীলতা, সামাজিক সংহতি ও শান্তি বিনির্মাণে নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে টেকসই ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আইরিন খান বলেন, নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডা থাকা সত্ত্বেও শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীর প্রতিনিধিত্ব এখনো পর্যাপ্ত নয়। এমনকি তাঁদের জীবন ও ভবিষ্যৎ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও নারীরা প্রায়ই উপেক্ষিত থাকেন। শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে নারী নেতৃত্ব জোরদারে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার।

এ সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়সহ দেশের নাগরিক সমাজে মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে নারী নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

০

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘পুলিশকে দুষ্টের দমনে অত্যন্ত কঠোর এবং শিষ্টের পালনে ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক আচরণ করতে হবে।’ তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা দেন।

এছাড়া অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ও গুজব প্রচারসহ সাইবার অপরাধ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার দমন এবং নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি বিচারবহির্ভূত হত্যা, জনহয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ পুলিশকে নির্দেশনা দেন।

সাক্ষাৎকালে আইজিপি রাষ্ট্রপতিকে পুলিশ বাহিনীর মনোবল দৃঢ় রাখা এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন। পাশাপাশি তিনি দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু

০

সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৪ জন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্ত‌রের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ৮৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯৯ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু ৯৮৬ জনে পৌঁছেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্ত‌রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯৬৪ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৮০ জনের। মোট ১ হাজার ৪৪ জন হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪০৫ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্ত‌রের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৪৮ জনের। এ সময়ের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৫২৭ জনের।