Home Blog Page 23

সরকারকে জামায়াত জোট ৬ দফা না মানলে এক দফা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ

০

গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী হুবহু সংবিধান সংস্কার না করলে ছয় দফা দাবি এক দফায় পরিণত হবে বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গতকাল শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চের পথসভাগুলোতে এসব কথা বলেছেন তারা।

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে প্রথম পথসভার পর গতকাল সকাল ৯টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে লংমার্চ। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা হয়। নেতাকর্মীর ভিড়ে তা জনসভায় রূপ নেয়। রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছে লংমার্চ। সেখানে সমাবেশের মাধ্যমের কর্মসূচির ইতি টানা হয়।

লংমার্চের বহরে হাজারখানেক গাড়ি থাকবে বলে জানানো হয়েছিল। কুমিল্লার মেঘনা-গোমতী সেতুতে ছয় শতাধিক গাড়ি পার হয়েছে টোল দিয়ে। তবে গাড়ির প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি। কারণ, ১১ দলের নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীদের তাদের গাড়ি নিয়ে কুমিল্লায় সেতু পার হওয়ার আগে ফেরত আসে। আবার কুমিল্লার নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে যুক্ত হয় সেতু পার হওয়ার পর।

প্রকৃত সংখ্যা জানাতে পারেনি জামায়াতও। জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবিতে তেল পুড়িয়ে লংমার্চের সমালোচনা করছেন বিএনপির মন্ত্রী, নেতা, সমর্থকরা। তবে তা নাকচ করেছে জামায়াত-এনসিপির জোট। ১১ দলের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেন, এগুলো অযৌক্তিক বিরোধিতা। ২০১১ ও ১২ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে লংমার্চ হয়েছিল। তখনও তো জ্বালানি খরচ হয়েছিল।

গণভোটের ফল অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গ্যাস-বিদ্যুৎ-সার সংকট নিরসন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে গতকাল চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করেছে জামায়াত। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর রুটে লংমার্চ করবে ১১ দল। পরের মাসে খুলনা ও সিলেটের পথে লংমার্চ হবে ছয় দফা দাবিতে। ১৪ নভেম্বর ঢাকায় হবে মহাসমাবেশ।
‘আঙুল বাঁকাতে বাধ্য করবেন না’
লালদীঘি ময়দানে জনসভায় জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমরা কাউকে বিদায় দিতে চাই না। কিন্তু কেউ নিজ থেকেই যদি বিদায় নিতে চায়, তাহলে আমরা কি তাকে সুরা পড়ে ফুঁ দিয়ে পানি খাওয়াব?’

এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এবারের লংমার্চ সরকারকে সতর্ক করার জন্য। কিন্তু বাকিগুলো এ রকম হবে না। এখন পর্যন্ত আঙুল সোজা। কিন্তু আঙুল বাঁকাতে বাধ্য করবেন না।’

গণরায় মেনে না নিয়ে সরকার মানুষের সঙ্গে গাদ্দারি করছে বলে অভিযোগ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা থামব না। বাংলাদেশে পরিবর্তন আসবেই। লড়াইয়ে জনগণ বিজয়ী হবে। ফ্যাসিবাদীরা হেরে যাবে।’

অলি আহমদ বলেন, ‘অতীতে অনেক সরকার এসেছে। কিন্তু কখনও ছয় মাস পর কাউকে বলতে শুনিনি– সরকার টিকবে না। প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, ১১ দলের পক্ষ থেকে আপনার ভয় নেই। আপনার সমস্যা আপনার আশেপাশের লোকজন।’

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধী দল সহযোগিতা না করলে তারেক রহমান সরকার চালাতে পারবেন না– বিষটা মেনে নেন। মানুষ বিকল্প খুঁজছে। এই লংমার্চে দেখা গেছে, বিকল্প কারা। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। নতুন করেও কাউকে ফ্যাসিস্ট হতে দেব না।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম, দেশে আর গুম-খুন হবে না। কিন্তু দেখলাম, আমাদের বন্ধুরা ক্ষমতায় বসে সব ভুলে গেছেন।’

মতিঝিলে হাজারো নেতাকর্মীর জমায়েত 
শনিবার ভোর থেকেই শাপলা চত্বরে জমায়েত হতে শুরু করেন ১১ দলের নেতাকর্মীরা। তবে তাদের অধিকাংশ ছিলেন জামায়াতের নেতাকর্মী। এর বাইরে এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীদের কিছু উপস্থিতি ছিল। অন্যান্য দলের নেতারা মঞ্চে থাকলেও তাদের কর্মীদের সমাগম-মিছিল দেখা যায়নি।

মতিঝিলে হাজার হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে পথসভা রূপ নেয় জনসভায়। সেখানে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সরকারের উদ্দেশে বলেন, পরিষ্কার বলে দিচ্ছি– জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।

বিদ্যুৎ বিলের ক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীকে গালাগাল করায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার সিফাত আবদুল্লাহর মুক্তি দাবি করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ নেই; অথচ ভূতুড়ে বিল আছে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না। অতিষ্ঠ বিরক্ত হয়ে সিফাত নামে একজন তরুণ কী বলেছিল, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় গিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে। তাকে ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দিন। মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদি ওলটপালট করে দিয়েছিল।

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে চাইছে, তাদের রুখতে লংমার্চ। এতে বাধা দিলে ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে।

অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, বিরোধী দল প্রথম রাউন্ডের কর্মসূচি শেষ করেছে; দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হয়েছে। এখনই সতর্ক না হলে অন্যরা যেভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, একই পরিণতি হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, লংমার্চের বার্তা এখন না বুঝলে তাদের জন্যও সেই পরিণাম অপেক্ষা করছে, যা প্রত্যেক স্বৈরশাসকের ক্ষেত্রে হয়েছে।

পথে পথে ভিড়, পথসভা
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে পথে রাস্তার দুই পাশে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে লংমার্চের গাড়িবহরকে স্বাগত জানান জামায়াতের নেতাকর্মীরা। ছিল এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফতের নেতাকর্মীদেরও উপস্থিতি। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে সমবেতদের ছিল আগ্রহ।

যানজট এড়াতে লংমার্চের গাড়ি এক সারিতে চলে মহাসড়কে। ছাদখোলা গাড়ি থেকে হাত নাড়িয়ে সমবেত নেতাকর্মী ও পথচারীদের অভিবাদন জানান জামায়াত আমিরসহ জোটের অন্য নেতারা। তাদের দেখতে ভিড় করা মানুষে নানা জায়গায় সড়ক বন্ধ হয়। পথসভার এলাকাগুলোতে সড়ক বন্ধ হওয়ায় যানজট হয়।

সন্ধ্যার আগে মিরসরাইয়ে পথসভা করে ১১ দল। এতে শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সরকার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস দিতে ব্যর্থ। কৃষক সার পায় না। উচ্চ মূল্যে কিনতে হচ্ছে। সব জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সরকার আছে সব জায়গায় দলীয়করণে। বিএনপি সরকার অকার্যকর, অদক্ষ।

এক দফার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা এখনও সরকারের বিরুদ্ধে না। কিন্তু ছয় দফা পূরণ না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার পতনের এক দফা ঘোষণা দেব।

এই পথসভায় আরও বক্তৃতা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ। এর আগে ফেনীর মহিপালে পথসভায় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রথম দিন থেকেই বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।

অন্য পথসভার মতো ফেনীতে জামায়াত আমির সমবেতদের কাছে জানতে চান, ওই এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি হয় কিনা? সমবেতরা বলেন, ‘হ্যাঁ হয়।’ বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এখানেও এই অবস্থা?

নামে পথসভা হলেও মহিপালে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে তা জনসভায় রূপ নেয়। বক্তৃতা করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জোটের দলগুলোর জ্যেষ্ঠ নেতারা।

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, এই চোখ রাঙানি কোথায় ছিল সাড়ে ১৫ বছর? সরকারের অনুগ্রহে অনুমতি না পেলে রাস্তায় ১০ জন মানুষ নিয়ে নামার সাহস আপনারা করেননি। এখন চোখ রাঙান– এগুলো ভয় করি না। সব পর্যায়ে বেপরোয়া, নির্লজ্জ-বেহায়া দলীয়করণ করবেন, আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে?

কুমিল্লায় দুই পথসভা 
প্রথমে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এবং পরে চৌদ্দগ্রামে পথসভা করে ১১ দল। পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে শফিকুর রহমান বলেন, লংমার্চের পর ঢাকায় সমাবেশ হবে। আপনারা চিড়ামুড়ি নিয়ে ঢাকার সমাবেশে আসবেন। জুলাই সনদের দাবি আদায় করব। আমরা আশাবাদী, আস্থাশীল। জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব। দুর্নীতিমুক্ত ও ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে যত দাবি আছে, তা আমরা আদায় করব ইনশাআল্লাহ।

এই পথসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো সংসদে সব মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়ে তাঁর কোনো খবর নেই। তাঁর দলেরই জ্যেষ্ঠ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘বাংলাদেশ মাদকে সয়লাব। আর সবচেয়ে বড় চালান আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির পাশ দিয়ে।’ তিনি তাঁর নিজের বাড়ির মাদকের চালান বন্ধ করতে পারেন না, তিনি আবার সব মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন।

কুমিল্লা বিভাগের দাবিকে সমর্থন করে জামায়াত আমির বলেছেন, এত বছর ধরে আন্দোলন হলেও বিভাগ করা হচ্ছে না। কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী? সরকারকে পরিষ্কার বলছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর ধানাইপানাই করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ দিন। নোয়াখালী বিভাগও দিন। সবদিক থেকে উত্তম হলে কুমিল্লার বিমানবন্দর চালু করুন।

অলি আহমদ বলেন, ছয় দফা না মানলে ডিসেম্বর মধ্যে এই সরকারের পতন হবে। ২০২২ সালে বলেছিলাম, শেখ হাসিনাকে এক কাপড়ে দেশ ত্যাগ করতে হবে। তা-ই হয়েছে।

মামুনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। শেখ হাসিনা মেগা প্রকল্পের নামে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি করে গিয়েছেন। এ সরকার কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে। মানুষ এখন সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, ১২শ টাকার বিদ্যুৎ বিল চার হাজার টাকা হয়ে গেছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী বিদ্যুৎ দিতে না পেরে আইসিইউতে চলে গেছেন।

পদুয়ার পর চৌদ্দগ্রামে পথসভা করে ১১ দল। জামায়াতের নায়েবে আমির এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের লংমার্চকে স্বাগত জানান তাঁর নির্বাচনী এলাকায়। ঢাকার পর প্রথম সভায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ১১ দলের নেতারা বলেন, সরকার প্রতারণা করছে।

লংমার্চে ১১ দলের শরিক বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম প্রমুখ অংশ নেন। বিভিন্ন পথসভায় বক্তৃতা করেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, রেজাউল করিম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহসহ ১১ দলের এমপিরা লংমার্চে অংশ নেন।

(এ প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা।)

তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল দুই কোম্পানির নথিতে মিল, ভাড়াও বেশি বর্তমান দুই এফএসআরইউর তুলনায় দৈনিক ভাড়া ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি

০

দেশে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনে দরপত্র ছাড়াই চীনা কোম্পানি সিএনইইর প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। তবে টার্মিনালটির দৈনিক তিন লাখ ৪২ হাজার ডলার ভাড়া নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান দুই এফএসআরইউর তুলনায় এটা ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি।

গত ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ব্যবস্থায় সিএনইইর প্রস্তাবটি প্রক্রিয়াকরণের অনুমোদন দেয়। একই প্রকল্পে এর আগে এনএস এনার্জি নেভিগেশন যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তার সঙ্গে সিএনইইর (চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড) প্রস্তাবের তথ্য, ভাষা ও উপস্থাপনায় অস্বাভাবিক মিল পাওয়া গেছে। এমনকি সিএনইইর নথিতে থাকা একটি মানচিত্রে এনএস এনার্জি নেভিগেশনের নামও রয়ে গেছে।

জ্বালানি বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, এনএস এনার্জি নেভিগেশনের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজন সংসদ সদস্যের এক আত্মীয় জড়িত। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

দুই কোম্পানির প্রস্তাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এনএস এনার্জি নেভিগেশন গত ১২ মে তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। এর প্রায় এক মাস পর ১৯ জুন একই প্রকল্পে সিএনইই প্রস্তাব জমা দেয়। দুই প্রস্তাবেই কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোম এলাকায় টার্মিনাল স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।

শুধু প্রকল্পের স্থান নয়, দুই প্রস্তাবের কারিগরি কাঠামোতেও মিল আছে। উভয় নথিতে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার ঘনমিটার সংরক্ষণ ক্ষমতার এফএসআরইউ, বেস হিসেবে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সর্বোচ্চ ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুনঃগ্যাসীকরণের সক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। মহেশখালী আরএলএনজি টাই-ইন পয়েন্ট থেকে চার থেকে ছয় কিলোমিটার অফশোরে টার্মিনাল স্থাপন, ১৮ থেকে ২০ মিটার পানির গভীরতা এবং চার থেকে ছয় কিলোমিটার সাবসি পাইপলাইনের কথাও দুই নথিতে রয়েছে।

জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সংযোগের পরিকল্পনাও একই। দুই প্রস্তাবেই বিদ্যমান মহেশখালী-আনোয়ারা ৪২ ইঞ্চি পাইপলাইনের সঙ্গে সংযোগের কথা বলা হয়েছে। টার্মিনালের সুবিধা হিসেবে দ্রুত বাস্তবায়ন, কম মূলধন ব্যয়, পরীক্ষিত এফএসআরইউ প্রযুক্তি, কম ভূমি অধিগ্রহণ ও পরিবেশগত প্রভাব এবং জ্বালানি সরবরাহের উৎস বহুমুখীকরণের বিষয়গুলোও প্রায় একই ভাষা ও কাঠামোয় উপস্থাপন করা হয়েছে।

বাণিজ্যিক কাঠামোতেও মিল রয়েছে। উভয় কোম্পানি ২০ বছর মেয়াদি বিল্ড-ওন-অপারেট (বিওও) পদ্ধতিকে অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হিসেবে দেখিয়েছে। বিকল্প হিসেবে বিল্ড-ওন-অপারেট-ট্রান্সফার (বিওওটি) মডেলের কথা বলা হলেও এফএসআরইউ হস্তান্তরের খরচের কারণে সেটিকে বেশি ব্যয়বহুল বলা হয়েছে। টার্মিনাল ইউজ অ্যাগ্রিমেন্ট (টিইউএ) ও ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (আইএ) করার কাঠামোও একই রকমের।

বাস্তবায়ন সময়সূচির ক্ষেত্রেও একই তথ্য রয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে চুক্তি হলে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য দুই প্রস্তাবেই রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের শীতকালকে কাজে লাগিয়ে অফশোর ও সাবসি কাজ শুরুর যুক্তিও একইভাবে দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্ব বণ্টনেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য মিল। কোম্পানির দায়িত্ব হিসেবে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন, ভূভৌত ও ভূপ্রকৌশল জরিপ, মুরিং বিশ্লেষণ, প্রকল্পের অর্থায়ন এবং টার্মিনাল নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। সরকারের দায়িত্ব হিসেবে অনুমোদন ও লাইসেন্স, এফএসআরইউ নোঙরের জন্য প্রয়োজনীয় পানির গভীরতা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য দেওয়ার বিষয় রাখা হয়েছে।

কোম্পানির নাম, তারিখ, স্বাক্ষরকারী, প্রচ্ছদ এবং নিজস্ব কোম্পানি পরিচিতির পরিশিষ্ট বাদ দিলে মূল প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশে একই ভাষা, তথ্য ও কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে কারিগরি স্পেসিফিকেশন, প্রকল্পের সুবিধা, বাণিজ্যিক কাঠামো, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও দায়িত্ব বণ্টনের মতো অংশে এই মিল দেখা গেছে।

চীনা কোম্পানির ভাড়া বেশি
এদিকে ভাড়ার হিসাবেও বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ১৫ বছরের জন্য প্রতিদিন তিন লাখ ৪২ হাজার ডলার চেয়েছে সিএনইই। ২০২৫ সালে সরকারের করা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে এ ধরনের টার্মিনালের দৈনিক ভাড়ার বেঞ্চমার্ক ধরা হয়েছিল দুই লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৩ ডলার। অর্থাৎ, সিএনইইর প্রস্তাবিত ভাড়া ওই বেঞ্চমার্কের চেয়ে প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশে বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ চালু রয়েছে। একটি সামিট গ্রুপের এবং অন্যটি এক্সিলারেট এনার্জির। এক্সিলারেটের টার্মিনালের দৈনিক ভাড়া প্রায় দুই লাখ ৫৪ হাজার ডলার এবং সামিটের দুই লাখ ৪৯ হাজার ১১৫ ডলার। ফলে সিএনইইর প্রস্তাবিত ভাড়া এসব টার্মিনালের তুলনায় প্রায় ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি।

এর আগে তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপনে সামিট গ্রুপের সঙ্গে সরকারের চুক্তি হয়েছিল। ২০২৪ সালের মার্চে করা ওই চুক্তিতে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতার টার্মিনালের জন্য সামিট প্রতিদিন তিন লাখ ডলার ভাড়া চেয়েছিল। পরে চুক্তিটি বাতিল করে সরকার। বিষয়টি নিয়ে সামিট আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে।

সিএনইইর প্রস্তাবিত ভাড়া সামিটের ওই প্রস্তাবের চেয়েও প্রতিদিন ৪২ হাজার ডলার বেশি। ১৫ বছরে এই অতিরিক্ত ভাড়ার পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি ডলার। এক ডলার ১২২ টাকা হিসাবে তা প্রায় দুই হাজার ৮০৬ কোটি টাকা।

উচ্চ ভাড়ার কারণ হিসেবে সিএনইই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, এফএসআরইউ নির্মাণের উপকরণের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে এ ধরনের টার্মিনালের চাহিদা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছে।

এ বিষয়ে জানতে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের মোবাইলে ফোন দিলে তিনি ধরেননি। জ্বালানি সচিব জিয়াউল হক এবং পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের মোবাইলে ফোন দিলেও তারা ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম সমকালকে বলেন, আগের টার্মিনালগুলোর তুলনায় নতুন এফএসআরইউর ভাড়া এত বেশি হওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া এ ধরনের বড় চুক্তির আগে দর ও ব্যয়ের কাঠামো আরও ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে ভাড়া নিয়ে পুনরায় আলোচনা করা প্রয়োজন।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের ডিভাইসে অ্যাড ট্র্যাকার বন্ধ, আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ অবস্থান শনাক্তে ঝুঁকি

০

মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত সেনাদের ডিভাইসে বিজ্ঞাপন ট্র্যাকার বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাহিনীর অবস্থান শনাক্তে বিজ্ঞাপনের তথ্য ব্যবহারের আশঙ্কার পর সামরিক কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নেয়। সেনাসদস্যদের ফোন ও কম্পিউটার থেকে মোবাইল অ্যাডভারটাইজিং আইডি বা অ্যাড ট্র্যাকার সুবিধা পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন সিনেটর রন ওয়াইডেনের প্রকাশ করা বিভিন্ন বাহিনীর চিঠি এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সিনেটর রন ওয়াইডেনকে দেওয়া চিঠিতে মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা দুই মাস আগেই সব কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের অ্যাড ট্র্যাকার বন্ধ করে দিয়েছে। স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডও তাদের উইন্ডোজ ডিভাইসে সুবিধাটি অতি সম্প্রতি বন্ধ করেছে। অন্যদিকে, সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের উইন্ডোজ কম্পিউটারে ২০২১ সালের আগেই এই সুবিধা বন্ধ করা হয়। আর অ্যান্ড্রেয়েড ও অ্যাপল ডিভাইসে গত ফেব্রুয়ারি থেকে ডিফল্ট হিসেবে ট্র্যাকারগুলো ডিজেবল রাখা হচ্ছে।

স্মার্টফোন ও কম্পিউটারে থাকা এই বিজ্ঞাপন ট্র্যাকারগুলোর কাজ হলো ডিভাইসের সুনির্দিষ্ট লোকেশন ও ব্যবহারকারীর কার্যকলাপ শনাক্ত করা। ডেটা ব্রোকার বা তথ্য কেনাবেচা করা বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এসব ট্র্যাকার থেকে ব্যবহারকারীর সুনির্দিষ্ট অবস্থান-সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে এবং পরে তা বিক্রি করে।

কেবল প্রযুক্তিগত পরিবর্তনই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা সেনাদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্মার্টফোন ব্যবহারের ওপরও নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। ইন্টারনেটে পোস্ট করা বিভিন্ন ভিডিও ব্যবহার করে ইরান মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারে– এমন আশঙ্কায় সেনাসদস্যদের ফোন জমা নেওয়ার সিদ্ধান্তও বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, কেবল ট্র্যাকার বন্ধ করেই পুরো ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব নয়। নেটওয়ার্ক ডেটা বা কারিগরি কৌশল ব্যবহার করে অন্য উপায়েও স্মার্টফোনের অবস্থান শনাক্ত করার সুযোগ থেকে যায়।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে যুদ্ধ বলতে নারাজ ভ্যান্স 
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে যুদ্ধ বলতে নারাজ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার এই সংঘাত কবে নাগাদ শেষ হতে পারে, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স এ কথা বলেন। সংঘাত বন্ধের সময়সীমা নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, কবে নাগাদ এই সংঘাত শেষ হবে তা ইরানিদের ওপর নির্ভর করছে। তারা ঠিক কবে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধ করবে? আমি মনে করি বাস্তবতা হলো, এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই।’ ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে যে কোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। ভ্যান্স বলেন, মূল সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে। এখন আমাদের মনোযোগ হলো, ইরান যেন বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে। আমি একে যুদ্ধ বলব না। এই মুহূর্তে কোনো সরাসরি গুলি বিনিময় চলছে না।

তেহরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ নয়
ইরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন নিষেধাজ্ঞা অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের এই অভিযানে যোগ দিয়েছে। তবে ইইউ ওয়াশিংটনের এই অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও এতে সরাসরি অংশ নেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তারা নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেনি বা মার্কিন নীতি অনুসরণ করার নীতিগত সিদ্ধান্তও নেয়নি।

হরমুজে সরঞ্জাম মোতায়েনের প্রস্তুতি দক্ষিণ কোরিয়ার 
হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সহায়তার জন্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। সরকারি ও সামরিক সূত্রের বরাতে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের জন্য আইনসভার অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার।

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে শিগগিরই হামলার হুমকি ট্রাম্পের

০

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে খুব শিগগির হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-এমন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ‘ছোটখাটো বিষয়’ হিসেবেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিরতি দিয়ে দিয়ে ইরানে হামলা চালাচ্ছে।

চলমান সংঘাতকে যুদ্ধ বলা যায় কি না, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি এটিকে ‘সামরিক সংঘাত’ বলতে পছন্দ করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকেই এটিকে যুদ্ধ বলেন না। আমিও এটিকে সামরিক সংঘাত বলি। কারণ, এটি আমাদের জন্য ছোটখাটো বিষয়। এটি বড় কোনো ব্যাপার নয়।’

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানে হামলার আগে কয়েক দিন সেখানে বড় ধরনের কোনো লড়াই হয়নি। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ‘বিরতি দিয়ে দিয়ে হামলা’ চালাচ্ছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর হামলা চালাচ্ছে। তার দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের সুরক্ষায় থাকা ইরানের রাডার, উড়োজাহাজ ও অন্যান্য সামরিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাইন অপসারণকারী জাহাজ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালির মাইনও সরানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগির পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি।’ তিনি দাবি করেন, পিকঅ্যাক্সসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে কারা চলাফেরা করছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য রয়েছে।

আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিকঅ্যাক্স ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা। পাহাড়ের শত শত মিটার পুরু গ্রানাইট স্তরের নিচে সেখানে দুটি টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা থাকতে পারে। তবে ইরানের দাবি, স্থাপনাটি উন্নত সেন্ট্রিফিউজ তৈরি ও সংযোজনের কাজে ব্যবহৃত হয়।

গভীর ভূগর্ভে অবস্থানের কারণে স্থাপনাটি ধ্বংস করা কঠিন বলে মনে করা হয়। এ কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রেখেছে। তার ভাষ্য, এর ফলে ইসরায়েলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য আরও নিরাপদ হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। আমরা সেটিই করেছি। ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’

চলমান সংঘাত কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা দেননি ট্রাম্প। তবে তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জন করেছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয়টি অর্জন করেছি-ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের আরও দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এখনই ইরান থেকে সরে গেলেও দেশটির অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে তেহরানের প্রায় ২৫ বছর সময় লাগবে।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চান? খাদ্যতালিকায় যোগ করুন ৫খাবার

০

সাধারণ খাদ্যাভ্যাস অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্বপূর্ণ রাখে। দৈনন্দিন কিছু খাবার হজমতন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফার্মেন্টেড খাবার থেকে শুরু করে ফাইবারযুক্ত ডাল, নির্দিষ্ট কিছু ফল অন্ত্র-বান্ধব খাদ্যতালিকায় উপকারী সংযোজন হতে পারে।

ভারতীয় গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য পাঁচটি খাবারের কথা জানিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছে দই, ফার্মেন্টেড খাবার, হালকা কাঁচা কলা, পেঁপে এবং ফাইবারযুক্ত ডাল। এসব খাবারের প্রত্যেকটিই অন্ত্রকে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে সহায়তা করে।

দই এবং অন্যান্য ফার্মেন্টেড দুগ্ধজাত খাবার

ডা. শেঠির প্রথম পছন্দ হলো দই এবং বাটারমিল্ক। তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রাকৃতিকভাবে গাঁজানো এই খাবারগুলিতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে যা অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের বৈচিত্র্য বাড়াতে সাহায্য করে। এই গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের মতে, এসব খাবার বুকজ্বালা এবং পেট ফাঁপার মতো হজম সংক্রান্ত সমস্যা কমাতেও সাহায্য করতে পারে।

অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের জন্য ফার্মেন্টেড 
টক দই, পান্তা ভাত, অতিরিক্ত তেল-মসলা ছাড়া ঘরোয়া আচার  ভালো ব্যাকটেরিয়ার উৎস। এছাড়া কিমচি ও সর্কআউট বাঁধাকপি বা অন্যান্য সবজি গাঁজন করে তৈরি এই খাবারগুলোতে প্রচুর মাইক্রোবিয়াল বৈচিত্র্য থাকে।

ডা. শেঠি বলেন, ফার্মেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়া শ্বেতসারকে আংশিকভাবে ভেঙে দেয়, যা নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের সহজলভ্যতা বাড়ায় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যকর মাইক্রোবায়োমকে সহায়তা করে।

হালকা কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ থাকে
অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ডা. শেঠির খাদ্যতালিকায় হালকা কাঁচা কলা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। পুরোপুরি পাকা নয়-এমন কলাগুলোতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ থাকে, যা কোলনের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন , এই প্রক্রিয়াটি বিউটিরেটের মতো শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করতে সাহায্য করে, যা কোলনের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পেঁপে হজমে সহায়তা করতে পারে

পেঁপেতে প্যাপেইন নামক একটি এনজাইম রয়েছে, যা প্রোটিন হজমের সাথে জড়িত। ডা.শেঠি বলেন, প্যাপেইন প্রোটিন হজমে এবং মলত্যাগকে সহজ করতে সাহায্য করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন,পেঁপে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও সাহায্য করতে পারে।

আঁশযুক্ত শিম জাতীয় খাবার 
আঁশযুক্ত শিম জাতীয় খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। যার মধ্যে রয়েছে ছোলা, মসুর ডাল এবং শিম। ডা.শেঠির মতে, এই খাবারগুলো প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে এবং শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য যোগায়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো আবার অন্ত্রের সুরক্ষা প্রাচীরের কার্যকারিতাকে সহায়তা করে।

‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর ২৫০০তম অনুষ্ঠান উদযাপন

০

সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর ২,৫০০তম পর্বে পদার্পণ উপলক্ষে চ্যানেল আই ভবনে গত বৃহস্পতিবার এক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের পাশাপাশি ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও কলাকুশলীরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতায় ২৫০০তম অনুষ্ঠানে পৌঁছানোকে ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন বক্তারা। তাদের মতে, দর্শকের আগ্রহ, আস্থা ও ভালোবাসাই অনুষ্ঠানটির দীর্ঘ পথচলার প্রধান শক্তি।

সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে আলোচনা, বিশ্লেষণ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের সামনে তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরছে ‘টু দ্য পয়েন্ট’। সময়ের সঙ্গে বিষয়বস্তু ও গণমাধ্যমের ধরনে পরিবর্তন এলেও প্রাসঙ্গিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দর্শকের কাছে তা উপস্থাপনের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে অনুষ্ঠানটি।

‘ইউসিবি টু দ্য পয়েন্ট’-এর ২,৫০০তম অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ, আজিজুল বারি হেলাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল হক, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, দৈনিক ওয়াদা’র সম্পাদক ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম, সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ ও মোশাররফ হোসেন ভুইয়া, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ইকবাল হোসেন তাপস, এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার, ড. জাহেদুল বারী ও মনিরা পারভিন, ইউসিবি পিএলসি’র চিফ কমিউনিকেশন অফিসার জিসান কিংশুক হক, লে. ক. (অব.) শরিফ উদ্দিন, মেজর খোশরোজ সামাদ, দৈনিক যায়যায়দিন-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সজিব ওনাসিস এবং সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদ।ইমপ্রেস টেলিফিল্ম চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, হৃদয়ে বাংলাদেশকে ধারণ করে চ্যানেল আইয়ের সকল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশই প্রথম।

দীপ্তি চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে চ্যানেল আই সংবাদের চিফ এক্সিকিউটিভ এডিটর জাহিদ নেওয়াজ খান, ইউসিবি টু দ্য পয়েন্ট-এর প্রযোজক ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজু আলীম, জয়েন্ট অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর তারিকুল ইসলাম মাসুম, বিশেষ প্রতিনিধি রিজভী নেওয়াজ এবং উপস্থাপক তুহিনুর সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

২,৫০০তম অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আয়োজনে বক্তারা বলেন, একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানকে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিতভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ‘টু দ্য পয়েন্ট’ সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২,৫০০তম অনুষ্ঠানে পৌঁছেছে। এর পেছনে রয়েছে অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরলস পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং দর্শকের ধারাবাহিক সহযোগিতা।

তারা আরও বলেন, ২,৫০০টি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা শুধু একটি সংখ্যাগত অর্জন নয়; এটি দর্শকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের একটি আস্থার সম্পর্কের প্রতিফলন। দর্শকের প্রত্যাশা ও সময়ের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েই ‘টু দ্য পয়েন্ট’ ভবিষ্যতের পথচলা অব্যাহত রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর দীর্ঘ পথচলার বিভিন্ন দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করা হয়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন সময়ে যুক্ত থাকা উপস্থাপক, সাংবাদিক, আলোচক, গবেষক, বিশ্লেষক ও কলাকুশলীদের অবদানের কথা স্মরণ করেন সবাই।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান সময়ে টেলিভিশনের পাশাপাশি ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের তথ্য গ্রহণের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফলে দর্শকের চাহিদা ও তথ্য গ্রহণের ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আরও তথ্যসমৃদ্ধ, প্রাসঙ্গিক ও বিশ্লেষণধর্মীভাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ ও সময়োপযোগী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। দর্শকের আস্থা ও ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনেও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা জানান তারা।

রাউজানে যুবক খুন থানায় মামলা, পাঁচ দুর্বৃত্তকে শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ

০

চট্টগ্রামের রাউজানে গত বৃহস্পতিবার রাতে আবদুল করিম নামে যুবককে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে তাঁর স্ত্রী বিলকিস আক্তার বাদী হয়ে রাউজান থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। এদিকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে, দুটি মোটরসাইকেলে পাঁচ দুর্বৃত্ত এসে এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।

এদিকে করিম হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা পর বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত রায়হান ফেসবুকে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
আবদুল করিমের (৩৫) বাড়ি উপজেলার হারপাড়া গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, করিমের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১০টি মামলা রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী, পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) বেলায়েত হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুটি মোটরসাইকেলে পাঁচ দুর্বৃত্ত এসে কেরানীহাট বাজারের সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা করিমকে প্রথমে চাপাতি দিয়ে কোপায়। পরে দুজন আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুড়ে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, করিমের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলাসহ ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকের ১০টি মামলা রয়েছে।  করিম নিজেকে ‘যুবদল কর্মী’ পরিচয় দিতেন, এমন তথ্য নাকচ করেছেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাজাহান সাহিল।

রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক তথ্য পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এ উপজেলায় এ নিয়ে খুন হয়েছেন ৩৪ জন। এর মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী খুন হয়েছেন ২৪ জন।

ফেসবুকে রায়হানের গুলি ছোড়ার ভিডিও
রাউজানে গত বৃহস্পতিবার রাতে আবদুল করিম হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের স্টোরিতে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন মো. রায়হান। রায়হান বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। সাজ্জাদ হোসেনের দলের আরেক সদস্য ডেভিড ইমনকে গত ২৯ জুলাই যশোর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভিডিওতে দেখা যায়, রায়হান একটি নাইন এমএম পিস্তল হাতে নিয়ে পরপর তিনটি গুলি ছুড়ছেন। তবে ভিডিওটি কখন ও কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে তুরস্কের ব্যাংকসহ ৩ প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

০

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে তুরস্কের একটি বিনিয়োগ ব্যাংক ও এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে ইস্তাম্বুলভিত্তিক গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসি আনোনিম সিরকেতি, গোল্ডেন গ্লোবাল পোর্টফোলিও ইয়োনেতিমি আনোনিম সিরকেতি এবং গোল্ডেন গ্লোবাল ভার্লিক কিরালামা আনোনিম সিরকেতি।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ, চীন ও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কুদস ফোর্সের মধ্যে বাণিজ্য সহজতর করতে এসব প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রেখেছে। ইরানের তেল বিক্রির অর্থ চীন থেকে তুরস্কে স্থানান্তর এবং পরে তা নগদ ও স্বর্ণে রূপান্তরের সুযোগ করে দিতে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করেছে বলেও অভিযোগ করেছে ট্রেজারি বিভাগ।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (ওএফএসি) তিন প্রতিষ্ঠানকে ‘স্পেশালি ডেজিগনেটেড ন্যাশনালস’ (এসডিএন) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে তারা মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে লেনদেন গুটিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে ট্রেজারি বিভাগ একটি সাধারণ লাইসেন্সও জারি করেছে।

ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরান ও দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সঙ্গে বাণিজ্যে সহায়তা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই পদক্ষেপ একটি স্পষ্ট বার্তা। তিনি জানান, ইরানের আর্থিক যোগাযোগের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্ট দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরানের অপরিশোধিত তেলের চালান চীনে পৌঁছাতে পারছে না। এতে বেইজিংয়ের ওপর চাপ বাড়ছে এবং যুদ্ধ চালানোর জন্য তেহরানের প্রয়োজনীয় আয় কমছে।

তিনি আরও বলেন, প্রণালীর ভেতরে আটকা থাকা জাহাজগুলোতে অপরিশোধিত তেল জমে থাকায় নতুন করে মজুদ গড়ে তোলা যাচ্ছে না। ইরানের রপ্তানি ব্যবস্থার ‘জীবনরেখা’ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বেসেন্ট ‘আমেরিকাস ভয়েস নিউজ’-কে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে আরও একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।

তুরস্কের ৩৫তম বৃহত্তম ব্যাংক গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং এবং কমপ্লায়েন্সের সব শর্ত মেনে চলেছে। ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিবে।

ব্যাংকটির দাবি, ওএফএসি নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহক ছিল না এবং তাদের সঙ্গে ব্যাংকটির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো লেনদেনও ছিল না। ‘দ্যব্যাংকস ডট ইইউ’ ডেটাবেস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসির মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ বিলিয়ন তুর্কি লিরা বা ৫১৬ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

‘ফাউন্ডেশন ফর দ্য ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস’-এর নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মিয়াদ মালেকি বলেন, তুর্কি ব্যাংকটি আকারে ছোট হলেও বর্তমান অভিযানের আওতায় কোনো ন্যাটো সদস্য দেশের ব্যাংক হিসেবে এটিই প্রথম নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরীয় পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অর্থ স্থানান্তরের পরবর্তী স্বাভাবিক গন্তব্য হতে পারে তুরস্ক। এ কারণে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সেখানে নজর রাখছে।

মালেকি আরও বলেন, যেসব বিদেশি ব্যাংক গোল্ডেন গ্লোবালের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তারাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো পরোক্ষ প্রভাব তৈরি করা, প্রায় ৫০ কোটি ডলারের ওই ব্যাংকটি একা বড় বিষয় নয়।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ইরানের ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চীন থেকে তুরস্কে তেল বিক্রির অর্থ স্থানান্তরে গোল্ডেন গ্লোবালকে ব্যবহার করা হয়েছিল। তুরস্কে পৌঁছানোর পর মানি এক্সচেঞ্জারদের মাধ্যমে ওই অর্থ নগদ ও স্বর্ণে রূপান্তর করা সম্ভব হতো বলেও অভিযোগ করেছে তারা।

ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ, গোল্ডেন গ্লোবাল জেনেশুনে ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। এর ফলে কুদস ফোর্স ও তাদের সহযোগী বিভিন্ন পক্ষ নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ পায়। এসব সহযোগীর মধ্যে ২০২২ সালে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা তুর্কি ব্যবসায়ী সিটকি আয়ান ও তাঁর কোম্পানিগুলোও রয়েছে।

বেসেন্ট, যিনি গত মাসে বিশ্বজুড়ে ইরানের আর্থিক যোগাযোগের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক আক্রমণ’ চালানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন, বলেছেন ওয়াশিংটন তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে চাপ সৃষ্টি করছে।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মিসরীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক মিসর’-এর শাখাগুলোর ওপর ‘প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট’-এর আওতায় বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নেয়। ইরানের সঙ্গে লেনদেনের কারণে ব্যাংকটির মার্কিন ডলার লেনদেনে এই কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এতে ব্যাংক মিসরের প্রধান কার্যালয় বা অন্য দেশের শাখাগুলো প্রভাবিত হবে না এবং পদক্ষেপটি কার্যকর হতে ৩০ দিন সময় লাগবে।

নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও ‘অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজারস’-এর ম্যানেজিং প্রিন্সিপাল ব্রেট এরিকসন এই পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর ফলে তেহরানের পক্ষ থেকে পাল্টা ব্যবস্থা বা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ আসতে পারে।

এরিকসন বলেন, গোল্ডেন গ্লোবালের ওপর নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর চাপ সামান্য বাড়াবে। তবে ইরানকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং যুদ্ধের ফলাফল বদলে দেওয়া—দুটি ভিন্ন বিষয়।

তিনি আরও বলেন, এই চাপ যদি যুদ্ধের অর্থনৈতিক গতিপথ অর্থবহভাবে পরিবর্তন করতে না পারে, তাহলে ওয়াশিংটন ইরানকে এমন পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্ররোচিত করতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য আরও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সাত বছরের চাকরিজীবন শেষে বাড়ি ফিরছিলেন আলিফ, সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

০

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আলিফ আহমেদ চন্দন (২৪) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে দাম্মাম থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে একটি লরির সঙ্গে তাদের বহনকারী প্রাইভেট কারের সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই আলিফসহ সাতজন নিহত হন। সাত বছরের চাকরি জীবনের অবসান ঘটিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আলিফ।

আলিফ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌর এলাকার মরুরা গ্রামের আব্দুল হাইয়ের একমাত্র ছেলে। কৈশোরেই পরিবারের হাল ধরতে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। প্রবাসজীবনে একবার দেশে এসে বিয়ে করেছিলেন। এরপর আবার ফিরে যান সৌদি আরবে।

গত বৃহস্পতিবার দাম্মামে কর্মস্থল থেকে আলিফসহ বিভিন্ন এলাকার সাতজন একটি প্রাইভেট কারে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। পথে একটি লরির সঙ্গে তাদের গাড়ির সংঘর্ষ হয়। এতে আলিফসহ গাড়িতে থাকা সাতজনই ঘটনাস্থলে মারা যান।

সৌদি আরবপ্রবাসী আলিফের মামা ওমর ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আলিফের মরদেহ সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারিবারিকভাবে চেষ্টা চলছে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বলেন, শুক্রবার রাতে তিনি দুর্ঘটনার খবর জানতে পেরেছেন। তিনি আলিফের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং সরকারি পর্যায়ে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহফুজ-উল আদিব বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনার বিষয়ে তার দপ্তরে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য আসেনি।

আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

০

সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রতিবেশীরা জানিয়েছে ওই কক্ষের দরজা-জানালা সব সময় বন্ধ থাকত। নিহত নারী ও পুরুষ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। গতকাল রাতে কক্ষটি থেকে পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা খুলে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কয়েক দিন আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। এ কারণে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক দলের সদস্যরা গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, কক্ষ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত দুজন স্বামী-স্ত্রী। তাদের পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল হোসেন বলেন, কয়েক দিন আগেই তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। এটি হত্যাকাণ্ড, নাকি অন্য কোনো কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।