Home Blog Page 24

তরুণদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী করতে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিতে দিনব্যাপী কার্নিভাল

০

তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের (STEM) প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (WUB)-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে WUB STEM Carnival 2026।

গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার উত্তরায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ কার্নিভালে দেশের শতাধিক কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের জ্ঞান, সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পায়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. নুরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার প্রফেসর জাকি ইমাম, ডিন অব একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড রিসার্চ প্রফেসর ড. এ.কিউ.এম. শফিউল আজম এবং ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

কার্নিভালে চারটি প্রধান ইভেন্ট ছিল—Mathematical Olympiad, Science & ICT Olympiad, Quiz Competition এবং Project Showcasing। এইচএসসি, এ লেভেল ও আলিম পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। কার্নিভালে মোট ৩ লাখ টাকা প্রাইজমানি ছিল। বিজয়ীদের নগদ অর্থের পাশাপাশি সনদ ও ক্রেস্ট এবং অংশগ্রহণকারীদের অংশগ্রহণ সনদ প্রদান করা হয়।

কার্নিভালের অন্যতম আকর্ষণ ছিল Project Showcasing। এতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দল রোবোটিক্স, টেকসই উন্নয়ন ও প্রকৌশল নকশাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। দুই থেকে চার সদস্যের দলগুলো তাদের সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ধারণাকে বাস্তব সমাধানে রূপ দেওয়ার সক্ষমতা তুলে ধরে।

সকাল ৯টায় রেজিস্ট্রেশন ও রিসেপশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। দিনব্যাপী বিভিন্ন অলিম্পিয়াড ও কুইজ প্রতিযোগিতা শেষে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান।

কার্নিভালের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক ধারণা বিনিময়, সহপাঠীদের কাছ থেকে শেখা, দলগতভাবে কাজ করা এবং নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা উপস্থাপনের সুযোগ পায়। একই সঙ্গে আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ ও উপস্থাপনা দক্ষতা বিকাশে গুরুত্ব দেয়।

WUB STEM Carnival 2026 তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

স্বেচ্ছাসেবক দলের সমাবেশে রিজভী শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্রে সায় দিচ্ছে গুপ্ত বাহিনী

০

শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্রে দেশের গুপ্ত বাহিনী সায় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, পলাতক ফ্যাসিস্ট ভারতে গিয়ে সেখান থেকে কলকাঠি নেড়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। আর দেশের ভেতরে থাকা গুপ্ত ও সুপ্তরা তালের পাখা দিয়ে বাতাস করছে।

দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস এবং অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এমপি, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আযাদ, সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, কেন্দ্রীয় নেতা ডাক্তার জাহিদ, রফিকুল ইসলাম, নাজমুল হাসান, মাসুম বিল্লাহ, জহির উদ্দিন তুহিন, শেখ ফরিদসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।

বক্তব্যে দেশে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস, নাশকতা ও অগ্নিসংযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট চক্র বিদেশ থেকে ষড়যন্ত্রের জাল বুনে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। কিন্তু এ দেশের জনগণ সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অতন্দ্র প্রহরীর মতো জেগে আছে। এই রাজপথ অন্য কোনো দলের কাছে বিক্রি করা হয়নি বা কেউ কিনে নেয়নি। এই রাজপথ এ দেশের মেহনতি জনগণের। বিএনপি সব সময় অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করেছে।

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও গ্যাসের সংকট চলছে। পৃথিবীর অনেক দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে, কিউবায় ১০-১৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। অথচ বিরোধী দলের কিছু নেতা না বুঝে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ইতোমধ্যে জানিয়েছে যে, বর্তমান সরকারের কার্যকর পদক্ষেপে দেশের অর্থনীতি উন্নতির দিকে মোড় নিচ্ছে। অথচ একটি মহল জনগণের কষ্টকে পুঁজি করে বিলাসিতা ও অতিরিক্ত গাড়িবহর নিয়ে শোডাউন করে অপচয় করছে।

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, যমুনা সেতুর টোলের হিসাব ছিল সাড়ে ৪০০ গাড়ি। আর জামায়াতের আমির বলেছেন, এক হাজার গাড়ি নিয়ে গেছেন। এত গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম বা রংপুরে যাওয়ার কী প্রয়োজন ছিল? যদি ধরেও নিই যে সাড়ে ৪০০ গাড়ি ছিল, তবে এই পরিমাণ জ্বালানি খরচ না করে তা যদি সাশ্রয় করা হতো, তবে দেশের উপকার হতো।

আগামী সংসদ নির্বাচনে জামায়াত সরাসরি নারী প্রার্থী দেবে: মারদিয়া মমতাজ

০

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সরাসরি নারী প্রার্থী দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই অভ্যুত্থান ও নারী অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আধিপত্যবাদবিরোধী নাগরিক সমাজ এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী।

মারদিয়া মমতাজ বলেন, ‘গত নির্বাচনেও আমাদের দলের নারীদের কাছে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা সরাসরি নির্বাচন করতে চান কি না। ৭০ শতাংশ নারী না উত্তর দিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, আমি যে নির্বাচন করব, আমি আমার নিরাপত্তা পাব কি না।’

তিনি বলেন, ‘নারীদের আজ রাস্তায় নামার অবস্থা নেই। আমি দলের বিরুদ্ধে বললে পদ পাব না, বরাদ্দ পাব না।’

ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গে মারদিয়া মমতাজ বলেন, ‘আমি যখন ঢাকা-৮ আসনে দাঁড়াব, তখন আমার অবস্থা ওসমান হাদীর মতো হবে? তখন মনে হয় দাঁড়াব না।’

হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

০

হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবিধান অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের (স্থায়ী) বিচারপতি হিসেবে বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান দেবাশীষ রায় চৌধুরী। তিনি সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র।

লন্ডন থেকে আইনে ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৫ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে কজ শুরু করেন। এরপর ২০০৭ সালে হাইকোর্ট ও ২০১৮ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন দেবাশীষ রায় চৌধুরী। এ নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারকের সংখ্যা দাঁড়াল ১০০ জনে।

হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু

০

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৭০ জন ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জন, সিলেট বিভাগে ১ জন, চট্টগ্রামে ২ জন, খুলনা ১ জন ও রংপুরে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৬ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১৫৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জনে। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১১৩ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৮৫১ জনে।

গত ১৫ মার্চ থেকে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে এক লাখ ৬২ হাজার ৪৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৫৫ হাজার ৬১২ জন।

এরদোগানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যয়

০

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই দেশের শীর্ষ নেতারা।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কাছে ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের মধ্যে এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান।

সহকারী প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা। একই সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা।

তিনি জানান, বৈঠকের আলোচনাকালে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনেরও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই নেতা।

খাবার পরে আবারও খেতে ইচ্ছে করছে? খাদ্যতালিকায় রাখুন ৬ খাবার

০

অতিরিক্ত ওজন কমানো বা আদর্শ ওজন বজায় রাখা—যেটাই আপনার লক্ষ্য হোক না কেন, খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়া একদমই উচিত নয়; কারণ এতে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি প্রবেশ করে, যার অব্যবহৃত অংশ ত্বকের নিচে চর্বি বা মেদ হিসেবে জমা হতে থাকে।

বাজারে ক্ষুধা কমানোর দাবি করা অনেক সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ পাওয়া গেলেও, সেগুলো সেবন খাওয়া সবসময় নিরাপদ নয়। কারণ, এগুলোর অনেকটিতেই এমন সব উপাদান থাকতে পারে যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে এসব উপাদান লিভার ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে এবং নতুন কোনো শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।অতিরিক্ত ওজন কমাতে না পারার মূল কারণ যদি আপনার প্রবল ক্ষুধা বা খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা হয়, তবে এমন সব খাবার বেছে নেওয়া উচিত যা দ্রুত এই আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দেয়। যখনই আপনার এমন কোনো অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগবে তখন কিছু খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। যেমন-

ওটমিল
এক বাটি গরম ওটমিল খেলে চোখের পলকেই খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা দূর হতে পারে। প্রচুর ফাইবার বা আঁশ থাকায়, এটি খাওয়ার পরপরই পেট ভরা বা তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি হয়। এর সাথে আপনার পছন্দের কোনো ফলের কয়েক টুকরো মিশিয়ে নিলে ওটমিলের ক্ষুধা-দমনকারী গুণ আরও বেড়ে যায়।

কাঠবাদাম 
এক মুঠো কাঠবাদাম খাওয়া ক্ষুধা কমানোর একটি ভালো উপায়। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি বা ফ্যাটের কারণে, এটি খাওয়ার পরপরই শরীর তৃপ্তিবোধ করে। কাঠবাদামের  আখরোট, পেস্তা এবং কাজু বাদামের মতো অন্যান্য বাদামও খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমাতে সমানভাবে কার্যকর।

টক দই 
ঘন ও প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায়, সামান্য পরিমাণ টক দই-ই অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ‘ক্রেভিং’ মুহূর্তেই দূর করতে পারে। এক্ষেত্রে গ্রিক দই বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো, কারণ এতে অন্যান্য দইয়ের তুলনায় ক্যালোরি কম থাকে। তবে ফ্লেভারযুক্ত বা বিভিন্ন স্বাদের দই এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ সেগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চিনি মেশানো থাকে।

তিসির বীজ 
খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা দূর করতে চাইলে টক দইয়ের ওপর এক টেবিল চামচ তিসির বীজ ছড়িয়ে নিতে পারেন। এর কারণ হলো, তিসির বীজ শরীরকে ফাইবার, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বা চর্বি সরবরাহ করে—যার প্রতিটিই ক্ষুধা কমানোর জন্য পরিচিত। অন্যান্য বীজও এক্ষেত্রে দারুণ কাজ করে!

আপেল
‘দিনে একটি আপেল খেলে ডাক্তার থেকে দূরে থাকা যায়’—কথাটি সবারই জানা। তবে খুব কম মানুষই জানেন যে, এটি খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও পানি থাকায় আপেল কার্যকরভাবে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ক্ষুধা মেটানো বা ক্ষুধা ভাব দূর করার ক্ষেত্রে নাশপাতিও আপেলের মতোই চমৎকার কাজ করে।

পুদিনা পাতার চা 

বারবার খেতে ইচ্ছে করলৈ এক কাপ পুদিনা পাতার চা তৈরি করে পান করতে পারেন। গরম পানিতে পুদিনা পাতার টি-ব্যাগ বা তাজা পুদিনা পাতা কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রেখে খেতে পারেন। এই ভেষজ পানীয়টি ক্ষুধা কমাতে দারুণ কাজ করে, কারণ এর সুগন্ধ ও স্বাদ—দুটিই তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুধা কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী ভারত: জয়সওয়াল

০

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভারত বিদ্যমান কাঠামোগত ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী ভারত।

গতকাল মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে দ্বিপক্ষীয় মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সঠিক পথে ফিরে আসছে কিনা– এমন প্রশ্নে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নভেম্বরে ভারত সফর করতে পারেন কিনা– এমন খবরের বিষয়ে জয়সওয়াল বলেন, আমার যখন কিছু বলার থাকবে, তখন আমি আপনাদের জানাব।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কোনো বৈঠক করবেন কিনা– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই, এ ধরনের কোনো অগ্রগতি হলে আমি অবশ্যই আপনাদের জানিয়ে রাখব।

এদিন ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকেও আসন্ন বহুপক্ষীয় অনুশীলন ‘তরঙ্গ শক্তি’ নিয়ে একটি ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে। যেখানে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সেই অনুশীলনে তাদের ‘সি-১৩০জে’ বিমান পাঠাচ্ছে। এ অবস্থায় ঢাকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক প্রকৃতপক্ষে আরও উন্নত হচ্ছে কিনা– এমন প্রশ্নে জয়সওয়াল বলেন, আমি আপনাদের যেমনটা বলেছি, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আমাদের সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি কী তা প্রকাশ করেছি।

সিএনএনের বিশ্লেষণ বিশৃঙ্খলা ত্বরান্বিত করছেন ট্রাম্প

০

বিশ্বে এখন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত ৮০ বছরের যে কোনো সময় হলে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ভূমিকা পালন করত। বিস্ময়করভাবে এখন পশ্চিমাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটি বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্ষিক ভাষণ এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশে তার জনপ্রিয়তা কমছে। ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধকে আলোচ্যসূচিতে রেখে জাতিসংঘের বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন ট্রাম্প, যাতে তিনি না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবু ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প তাঁর ভাষণে দাবি করবেন– যুক্তরাষ্ট্র কখনও এত শক্তিশালী বা সম্মানিত ছিল না।

চলতি মাসের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, ‘আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন আমরা বেশি সম্মানিত। আমি বৈঠকে গেলে সবাই দাঁড়িয়ে যায়। আমাদের আগের প্রেসিডেন্টের জন্য তারা দাঁড়াত না; তারা তাঁকে গুরুত্ব দিত না।’

কিন্তু বিশ্বের বড় একটি অংশ তাঁর সঙ্গে একমত নয়। কানাডা ও ইউরোপের মতো একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা এখন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য এক হওয়ার চেষ্টা করছে, যা একসময় কল্পনাও করা যেত না। কারণ, যাকে তারা এতদিন নিরাপত্তার প্রধান রক্ষাকর্তা হিসেবে দেখেছে, সেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে এখন নিজেদের রক্ষা করতে হচ্ছে। ক্রমেই আগ্রাসী হয়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশ্বের আস্থাও কমে যাচ্ছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি নিজেকে ‘মধ্যম শক্তির’ দেশগুলোর এমন এক নেতার ভূমিকায় তুলে ধরছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক যুগের পরবর্তী সময়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত মাসে তিনি বলেন, ‘আমেরিকা বদলে গেছে। ওয়াশিংটন থেকে বয়ে আসা ঝড় আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।’

ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতি এখন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিত্বেরই সম্প্রসারণ হয়ে উঠেছে। বস্তুগত স্বার্থ আদায়ে হুমকি ও শক্তি প্রয়োগের প্রবণতা এতে স্পষ্ট। গত সপ্তাহে ফক্স নিউজে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প ইরানকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার’ কথা ভাবা যায় কিনা, তা নিয়েও মন্তব্য করেন।

২০১৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া প্রথম ভাষণে ট্রাম্প এমন একটি পররাষ্ট্রনীতির ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা পশ্চিমাবিশ্বকে ভিত থেকে নাড়িয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি সব সময় আমেরিকাকে সবার আগে রাখব।’ দ্বিতীয় মেয়াদে এসে তিনি সেই রূপান্তর সম্পূর্ণ করেছেন। ট্রাম্প মিত্রদের আক্রমণ করছেন এবং চীনের নেতা শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মতো কর্তৃত্ববাদী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন।

নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ভেনেজুয়েলার তেল ১০০ বছরের একটি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের মজুত পূরণে ব্যবহৃত হওয়ার কথা রয়েছে। ভেনেজুয়েলায় সাফল্যের এই উচ্ছ্বাস ট্রাম্পকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তিনি ভেবেছিলেন একইভাবে ইরানকেও ধ্বংস করতে পারবেন। এখন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে আটকে পড়েছেন ট্রাম্প। তাঁর কারণে সৃষ্ট চাপের মধ্যে ইউরোপের পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এমন একটি যুদ্ধ; যার কারণে তেল, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ইউরোপে অবিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন সেখানকার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আক্রমণকারী ডানপন্থি জনপ্রিয়তাবাদীদের সমর্থন দিচ্ছে।

আধুনিক ভূ-রাজনীতির আরেকটি নতুন বাস্তবতার শিক্ষাও ট্রাম্প গত বছর পেয়েছেন। চীনের সঙ্গে তাঁর বাণিজ্যযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত থেমে যায়, যখন বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজের রপ্তানি কমিয়ে দেয়। ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে হুমকি এমন এক ভাঙন তৈরি করেছে, যাকে ‘জোটব্যবস্থার ভাঙন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন কার্নি।

পাঁচ মাসে বিপিসির লোকসান ২০ হাজার কোটি টাকা

০

চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে ২০ হাজার কোটি টাকা লোকসান করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়া এর কারণ। গতকাল মঙ্গলবার জ্বালানি ও খনিজসম্পদ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে একথা বলা হয়েছে। চিঠিতে বিপিসির জন্য নতুন করে ভর্তুকির আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকার থেকে নেওয়া বিপিসির সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ আবারও ভর্তুকিতে রূপান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। এর আগেও বেশ কয়েকবার এ প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছিল।
চিঠিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তবে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থে বিশ্ববাজারের সঙ্গে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় না করায় গত মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বিপিসির মোট লোকসান হয়েছে প্রায় ২০ হাজার ৫৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে মার্চে ২ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা, এপ্রিলে ৭ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা, মে মাসে ২ হাজার ৬২১ কোটি টাকা, জুনে ৬ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা এবং জুলাইয়ে ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

চিঠিতে দাবি করা হয়, পরিস্থিতি একই রকম থাকায় বিপিসির লোকসান চলমান রয়েছে। এ লোকসান সমন্বয়ের জন্য গত ১৭ আগস্ট বিপিসি জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে ভর্তুকির আবেদন করেছে। এর আগে ২ জুলাই, ২৮ জুলাই ও ১৩ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিপিসির জন্য ভর্তুকি দেওয়ার অনুরোধ করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ভর্তুকি পাওয়া যায়নি।
জ্বালানি তেলের আমদানি মূল্য ও দেশে সরকার নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের পার্থক্যজনিত লোকসান সমন্বয়ের জন্য বিপিসিকে দেওয়া ২৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা ঋণকে সংস্থাটি ভর্তুকিতে রূপান্তরের প্রস্তাব করেছে বলে জানানো হয় চিঠিতে। এতে বলা হয়, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে এ ঋণ ভর্তুকিতে রূপান্তরের সুপারিশ থাকলেও এতদিন এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। এ অবস্থায় ঋণের দায় থেকে বিপিসিকে অব্যাহতি দিয়ে ডেট সার্ভিস লাইয়াবিলিটিজ (ডিএসএল) বই থেকে তা অবলোপনের (রাইট-অফ) ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিপিসির নথি অনুযায়ী, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও সরকার স্থানীয় বাজারে সে অনুযায়ী দাম সমন্বয় করেনি। ফলে জ্বালানি তেল কম দামে বিক্রির কারণে যে ঘাটতি তৈরি হয়, তা সমন্বয়ের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিপিসিকে ঋণ দেওয়া হয়। পরে এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরাসরি ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা এবং লোকসান সমন্বয়ের জন্য ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে ২২ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ বিপিসির অনুকূলে দেওয়া ২৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা ঋণ ভর্তুকিতে রূপান্তরের জন্য অর্থ বিভাগকে অনুরোধ করে। পরে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এনবিআরের পাওনা বকেয়া ভ্যাট পরিশোধ সাপেক্ষে বিষয়টি নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত দেন। সে অনুযায়ী বিপিসি এনবিআরের মোট ২ হাজার ৬০৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বকেয়া ভ্যাট পাঁচ কিস্তিতে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে পরিশোধ করে। পরে ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল আবারও ২৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা ঋণ ভর্তুকিতে রূপান্তরের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি। চিঠিতে আরও বলা হয়, লোকসান সমন্বয়ের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক ভর্তুকির বিপরীতে দেওয়া ২৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা ঋণ ভর্তুকিতে রূপান্তরের বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। এ অবস্থায় বিপিসি উদ্বৃত্ত তহবিল ও লভ্যাংশ হিসেবে মোট ১৬ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে।
প্রস্তাবের সংযুক্তিতে আরও বলা হয়, ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে থাকায় বিপিসি মুনাফা করতে শুরু করে। এরপর সংস্থাটি সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের কাছে ৩০ হাজার ৮৭৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা দেনা পরিশোধ করেছে। পাশাপাশি পেট্রোবাংলার ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, ভ্যাট কর্তৃপক্ষের ৬০৩ কোটি টাকা এবং রিফাইনারি ইউনিটের জন্য জমি কেনায় ২৩৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারকে লভ্যাংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থের সংস্থান রাখতে হচ্ছে।