Home Blog Page 241

স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ

০

রাজধানীর আজিমপুরের এক তরুণী স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভরণপোষণ না দেওয়া, গোপনে তোলা ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং ইতোমধ্যে কিছু ছবি প্রকাশের অভিযোগ এনে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

ভুক্তভোগী জানান, ২০২২ সালে তিনি কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ রকি হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের পর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার শুরু করলেও কিছুদিন পর থেকেই স্বামীর আচরণে অস্থিরতা দেখা দেয়। তার অভিযোগ, রকি দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন, নিয়মিত ভরণপোষণ দেন না এবং নিজের ইচ্ছামতো যোগাযোগ করেন।

সোনিয়ার দাবি, স্বামী কখনও তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেন, আবার কখনও অস্বীকার করেন। কাবিননামার কপি চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরই মধ্যে রকির মায়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট তিন লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগটি হলো—দাম্পত্য জীবনের একান্ত মুহূর্তের কিছু ছবি গোপনে ধারণ করে তা প্রকাশের হুমকি দেওয়া। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার অজ্ঞাতে ধারণ করা কিছু ব্যক্তিগত ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে এবং আরও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে এসব ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সোনিয়া আক্তার খুশি বলেন, “বিবাহিত স্ত্রী হিসেবে বিশ্বাস করে সংসার করেছি। এখন আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করা হচ্ছে। আমি এই প্রতারণার প্রতিবাদ জানাই এবং ন্যায়বিচার চাই।”

আইনজীবীদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বিশেষ করে গোপনে ব্যক্তিগত ছবি ধারণ ও প্রচার, ব্ল্যাকমেইল এবং আর্থিক প্রতারণা—এসবের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরি কত?

০

টানা দুই দফায় মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবশেষ সমন্বয় অনুযায়ী, ভরিতে এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। এর ফলে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারা দেশে নতুন এই দর কার্যকর হবে বলে বাজুসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি শেষবার স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় এক লাফে ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকায় বিক্রি হবে। ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকায়, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকায়।

উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত মোট ২৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ১৬ বার দাম বাড়ানো হলেও ৯ বার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা

০

বয়স ২০-২৫ বছরের মধ্যে অনেক তরুণের মাথার সামনের চুল পাতলা হয়ে পড়ছে।

একসময় মনে করা হতো টাক পড়া কেবল বয়স বৃদ্ধির লক্ষণ, কিন্তু আধুনিক জীবনের চাপ, অনিয়মিত ঘুম ও পুষ্টির ঘাটতি অনেক তরুণকেই এই সমস্যায় ফেলছে।

চুল পড়ার প্রধান কারণ

১. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: টেস্টোস্টেরন হরমোন যখন ‘ডাই-হাইড্রোটেস্টোস্টেরন’-এ রূপান্তরিত হয়, তখন চুলের ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২. মানসিক চাপ ও অনিদ্রা: পড়াশোনা বা কাজের চাপ ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ তৈরি করে, যার ফলে হঠাৎ চুল পড়তে পারে।

৩. পুষ্টির অভাব ও দূষণ: প্রোটিন, বায়োটিন বা আয়রনের অভাব এবং ধুলাবালি, শক্ত পানি চুল দুর্বল করে।

চুল পড়া রোধের উপায়

১. শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার নির্বাচন: সালফেট ও প্যারাবেনমুক্ত মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। ধোয়ার পর ক্যাস্টর অয়েল বা নারকেল তেল দিয়ে হালকা মাসাজ করুন।

২. পুষ্টিকর খাবার: ডিম, মাছ, বাদাম, পালং শাক, সোয়াবিন প্রতিদিন খান। বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার চুলের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।

৩. ডার্মারোলার ব্যবহার: ঘরে মাথার ত্বকে সূক্ষ্ম ছিদ্র তৈরি করে কোলাজেন বাড়ায় এবং হেয়ার সিরাম বা ওষুধের শোষণ বৃদ্ধি করে।

৪. প্রাকৃতিক ডিএইচটি ব্লকার খাবার: কুমড়োর বীজ, গ্রিন টি, আমলকী নিয়মিত খান। হরমোনজনিত চুল পড়া কমে।

৫. ধূমপান পরিহার ও পর্যাপ্ত ঘুম: ধূমপান চুলের ফলিকলে রক্ত প্রবাহ কমায়। দিনে ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি চুল ক্রমশ পাতলা হয়ে টাক পড়া শুরু হয় বা চুল টান দিলে সহজেই উঠে যায়, তাহলে দেরি না করে ত্বক বিশেষজ্ঞ বা ট্রাইকোলজিস্টের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে মিনোক্সিডিল বা পিআরপি থেরাপি করা হতে পারে।

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত

০

অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১০০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। শুক্রবার জিম্বাবুয়ের হারারেতে বৈভব সুর্যবংশীর রেকর্ড ৮০ বলে ১৭৫ রানের সৌজন্যে ৯ উইকেটে ৪১১ রানের বিশাল স্কোর গড়ে ভারত। জবাবে ৪০.২ ওভারে ৩১১ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। যুবাদের ১৬তম বিশ্বকাপে ভারতের এটি রেকর্ড ষষ্ঠ শিরোপা।

ইনিংসের অর্ধেক সময় ব্যাট করে সেঞ্চুরির পর সুযোগ ছিল ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার। কিন্তু ৮০ বল খরচায় ১৫টি চার ও ১৫টি ছক্কায় থেমেছেন ১৭৫ রানে। আর তাতেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে দেড়শ’ রান ছোঁয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি। শুক্রবার জিম্বাবুয়ের হারারে ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এই কীর্তি গড়েন তিনি।

শুধু তাই নয়, বিহারের ১৪ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান ব্যাটার গড়েছেন ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম শতকের রেকর্ডও। এর আগে ২০২২ সালে উগান্ডার বিপক্ষে ৬৯ বলে শতক করেছিলেন রাজ অঙ্গদ বাওয়া। সূর্যবংশীই প্রথম ভারতীয় ব্যাটার, যিনি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে মাত্র ৫৫ বলে শতক করলেন, এই সংস্করণে ৫২ বলেও শতক আছে তার। এছাড়া বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বোচ্চ রানের মালিকও এই বাঁহাতি ব্যাটার। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল রাজ বাওয়ার, উগান্ডার বিপক্ষে ১৬২ রানের ইনিংসটি খেলেছিলেন তিনি।

পুরো টুর্নামেন্টে সূর্যবংশীর ব্যাট ছিল আরও ভয়ংকর। তিনি আসরে মোট ৩০টি ছক্কা হাঁকিয়ে ভেঙেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের আগের রেকর্ড (১৮ ছক্কা)। এক আসরে সর্বোচ্চ ছক্কার নতুন মানদ- এখন তার নামেই। সব মিলিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের দ্রুততম শতকের তালিকায় সূর্যবংশী উঠে এসেছেন দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষে আছেন অস্ট্রেলিয়ার উইল মালাইজুক। মাত্র ৫১ বলে শতক করেছিলেন তিনি। সূর্যবংশীর নিচে রয়েছেন পাকিস্তানের কাসিম আকরাম ও ইংল্যান্ডের বেন মায়েস।

ফাইনালে টস জিতে ব্যাট করতে নামে ভারত। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ২০ রান। দ্বিতীয় উইকেটে নামেন দলনেতা আয়ুস মাত্রে। তাকে নিয়েই নিজের ব্যাটিং আগ্রাসন বৈভব সূর্যবংশী। তার বড় স্কোরে ভর করে ৯ উইকেটে ৪১১ রানের পুঁজি পায় ভারত।

এপস্টেইন ফাইলে নিজের নাম ছয় হাজারেরও বেশিবার! মুখ খুললেন ট্রাম্প

০

পৈশাচিক আচরণ আর বিকৃত মানসিকতার প্রতীক হয়ে ওঠা জেফ্রি এবস্টেইনের নাম আবারো বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। যৌনপাচার ও কিশোরী নির্যাতনের ভয়ঙ্কর অভিযোগে অভিযুক্ত এই কুখ্যাত ধনকুবেরের মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নতুন নথি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

তদন্ত নথিতে ট্রাম্প ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব সম্প্রতি এবস্টেইন সংক্রান্ত তদন্ত নথির বড় একটি অংশ প্রকাশ্যে আসতেই বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব নথিতে কারা কারা তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং কারা তার নেটওয়ার্কের আশেপাশে ছিলেন, তা নিয়ে আবারো প্রশ্ন উঠছে। এই নথিতে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যে, দেশকে এখন সামনে এগিয়ে যেতে হবে। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেছেন, প্রকাশিত নথিতে তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর কিছুই নেই। এসব বাদ দিয়ে অন্য কাজে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের পাল্টা দাবি ও ইমেইল রহস্য তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের এই দাবি পুরোপুরি নির্ভুল নয়। প্রকাশিত নথিতে ট্রাম্পের নাম ৬,০০০ এরও বেশি বার এসেছে। যদিও ৯০-এর দশকের পর তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল বলে ট্রাম্প দাবি করেছেন, কিন্তু ২০১১ সালে এবস্টেইনের লেখা একটি ইমেইল নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ওই ইমেইলে এবস্টেইন লিখেছিলেন যে, “ট্রাম্পের বিষয়টি এখনো জনসম্মুখে আসেনি।”

বিপাকে বিল গেটস ও ইলন মাস্ক শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই নন, এই নথির কারণে বিপাকে পড়েছেন বিশ্বের প্রভাবশালী অনেক ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিত্ব। বিল গেটস এবং ইলন মাস্কের মতো ধনকুবেরদের এই নথিতে তাঁদের নামের উপস্থিতির বিষয়ে ব্যাখ্যাও দিতে হয়েছে।

গোপনীয়তা নিয়ে বিতর্ক এদিকে নথি প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছু গোপনীয়তা রক্ষার ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। কিছু জায়গায় ভুক্তভোগীদের পরিচয় সঠিকভাবে গোপন না থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবস্টেইন কেলেঙ্কারি শুধু একজন ব্যক্তির অপরাধ নয়, বরং ক্ষমতা, অর্থ আর অন্ধকার জগতের ভয়াবহ বাস্তবতা তুলে ধরেছে। নতুন নথিগুলো এই বিতর্ককে আরও গভীর করে তুলেছে।

ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে আর বিভক্ত করতে দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির

০

শনিবার বেলা ১১টার দিকে হবিগঞ্জে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন যে, ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে আর কোনোভাবেই বিভক্ত করতে দেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামী দিনে মেধার ভিত্তিতেই প্রত্যেকে তার যোগ্য স্থান ও কাজ খুঁজে পাবে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বৈষম্য বিলোপ ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি ফুলের বাগানের মতো যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে একসঙ্গে বসবাস করছে। ইসলাম ধর্মে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি পছন্দ করা হয় না। প্রতিটি ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের আচার-অনুষ্ঠান পালন করবে এবং কেউ এতে বাধা দিলে তা সহ্য করা হবে না। তিনি আরও জানান, নির্বাচিত হলে স্থানীয় চ-বাগানকে আধুনিকায়ন করে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা হবে।

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রাজনীতিকে পেশা নয় বরং কর্তব্য হিসেবে নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একদল মানুষ ভিক্ষুকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেয়। দেশে এই চাঁদাবাজি চিরতরে বন্ধ করা হবে। সন্ত্রাস ও দুর্নীতির জন্য পূর্বের ক্ষমতাধরদের দায়ী করে তিনি বলেন, অসৎ রাজনীতির কারণেই দেশে বৈষম্য টিকে আছে।

জবাবদিহিতা ও জনসেবার নতুন নজির জামায়াত আমির এক অনন্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, নির্বাচিত হলে তাঁরা বছরে একবার জনগণের কাছে নিজেদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেবেন। এছাড়া নারীদের অবমাননাকারীদের ১৮ কোটি মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এমপিদের সুযোগ-সুবিধা বর্জন দলের সংসদ সদস্যদের বিলাসিতা ত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন:

জামায়াতের এমপিরা বিনা ট্যাক্সের (শুল্কমুক্ত) গাড়ি সুবিধা গ্রহণ করবেন না।
স্বল্পমূল্যে দেওয়া সরকারি ফ্ল্যাটও কেউ নেবেন না।
প্রয়োজনে রিকশায় চড়বেন, তবুও জনগণের অর্থের অপচয় করবেন না।
যাঁদের সামর্থ্য আছে, তাঁরা বাজারমূল্যে গাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনবেন।

বিএনপির জনসভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম আল্লামা আব্দুল হামিদ

০

ঢাকা-৬ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় কওমি আলেম ও খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ (মধুপুরের পীর সাহেব)। শনিবার এক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি এই সমর্থন জানান।

জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে মধুপুরের পীর সাহেব ইশরাক হোসেনের বাবা, ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ইশরাক তাঁর অত্যন্ত আদরের এবং ভালো ছেলে। মূলত বাবার সাথে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ও ইশরাকের প্রতি স্নেহের কারণেই তিনি এই জনসভায় উপস্থিত হয়েছেন। ইশরাক বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে আল্লামা আব্দুল হামিদ দেশের ধর্মীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ আলেম-ওলামা, পীর-মুর্শিদ ও মুসলমানদের দেশ। এ সময় তিনি রাজনীতির মাঠে দায়িত্বরত বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ নসিহত প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসছে—এমন বিশ্বাস অনেকের মনেই রয়েছে, তবে ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ জনগণের ওপর যেন কোনো ধরনের জুলুম বা অত্যাচার না হয়, সে বিষয়ে এখনই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

মধুপুরের পীরের এই প্রকাশ্য সমর্থন ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রে জড়াচ্ছে গৃহকর্মীরা! উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য

০

রাজধানীর কর্মব্যস্ত জীবনে গৃহকর্মী এখন অপরিহার্য হলেও এই সুযোগে বাসাবাড়িতে বাড়ছে নৃশংস অপরাধের ঘটনা। নিরীহ বেশভূষায় কাজে ঢুকে এক শ্রেণির গৃহকর্মী চুরি ও ডাকাতি থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়ংকর অপরাধ ঘটাচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত অন্তত পাঁচটি বড় অপরাধের ঘটনায় গৃহকর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গৃহকর্মীর ছদ্মবেশে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করছে যেখানে অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির দারোয়ান বা কেয়ারটেকারদের যোগসাজশ পাওয়া যাচ্ছে।

বিগত বছরগুলোতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ড এবং ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীন খুনের ঘটনায় গৃহকর্মীদের জড়িত থাকার বিষয়টি দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। এছাড়া ইস্কাটন ও পল্লবী এলাকায় খাবারের সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে গৃহকর্তাদের অজ্ঞান করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সির জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও অলংকার চুরির নেপথ্যেও ছিল বিশ্বস্ত গৃহকর্মীরা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে কোনো ধরনের পরিচয়পত্র বা স্থায়ী ঠিকানা যাচাই ছাড়াই এসব অপরাধীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

গৃহকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আদালতের স্পষ্ট ছয় দফা নির্দেশনা এবং পুলিশের কঠোর সতর্কতা থাকলেও বাস্তবে নগরবাসীদের মধ্যে সচেতনতা খুবই কম। আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে কোনো নতুন কর্মীকে নিয়োগের পর প্রথম ৯০ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে এবং তাঁর ছবি ও জীবনবৃত্তান্ত থানায় জমা দিতে হবে। এছাড়া বাসাবাড়ির প্রবেশপথে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও নিবন্ধিত এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের কথা বলা হলেও এর প্রয়োগ নেই বললেই চলে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কর্মকর্তারা বারবার পরামর্শ দিচ্ছেন যে নিয়োগের আগে কর্মীর নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তা অবশ্যই যাচাই করতে হবে। পরিচিত কারো সুপারিশ বা পূর্ববর্তী কাজের সঠিক রেফারেন্স নেওয়া নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নির্ধারিত ফরম পূরণ করে নিকটস্থ থানায় জমা দেওয়াকে আইনি বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুরক্ষার প্রধান উপায় হিসেবে দেখছে প্রশাসন।

একটি দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে

০

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লক্ষ্মীপুরে সেই দলের নেতাদের দ্বারা ভোটের সিল তৈরির ঘটনা তারই প্রমাণ। পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাচ্ছি, ধর্মীয় অনুভূতিকে অপব্যাবহার করে এবং জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক বোরখা এবং নিকাব প্রস্তুত করা হয়েছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, লক্ষ্মীপুরে ভোটে ব্যবহারের অবৈধ ছয়টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক গ্রেফতার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন যে, জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার নির্দেশেই এসব সিল তৈরি করা হয়েছে। এমনকি তার হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া অর্ডারের তথ্য, জব্দকৃত আলামত ও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রমাণও প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

নির্বাচন কমিশনকে জোরালো আহ্বান জানিয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নারী কক্ষে অবশ্যই পর্যাপ্তসংখ্যক নারী পোলিং অফিসার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী মুখমণ্ডল খুলে ভোটার শনাক্তকরণ কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে যে, ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা হজের ছবি তোলার সময় যেভাবে মুখ খোলা রাখা বাধ্যতামূলক। একইভাবে ভোটগ্রহণের সময় নারী পোলিং কর্তৃপক্ষের সামনে মুখ খুলে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভোটের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নারী কক্ষে যথাসম্ভব নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।

তিনি বলেন, এর আগেও আমরা দেখেছি- ওই রাজনৈতিক দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করেছে। এসব ঘটনার কারণে জাল ভোটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি অতিরিক্ত ব্যালট ছাপানোর প্রস্তুতির তথ্যও আমরা পেয়েছি। আমরা দেখলাম, রাজধানীর পুরাতন ঢাকার সূত্রাপুরে সেই দলেরই এক নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ক্রিকেট খেলার ১৫২টি স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাহলে কি তারা নির্বাচনের সময় দেশব্যাপী সহিংসতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে? এমনই যদি হয়, তবে এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছি।

পর্যবেক্ষকের নামে কিছু প্রতিষ্ঠানের একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে

মাহদী আমিন বলেন, আরেকটি গুরুতর বিষয় আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে যে, আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগে নানাবিধ অসংগতি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) নামক একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে সর্বাধিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে। মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষকের মধ্যে একাই পাশার রয়েছে ১০ হাজার ৫৫৯ জন। যদিও বাস্তবে হবিগঞ্জের একটি গ্রামের বাসার একটি কক্ষই এই সংস্থার তথাকথিত কার্যালয় এবং লোকবল বলতে একজনই, যা ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। ইতঃপূর্বে আমরা নির্বাচন কমিশনে অবহিত করেছি যে, পর্যবেক্ষকের নামে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আমরা মনে করি, এসব বিষয় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে অন্তরায়। অতএব একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি।

ক্ষমতায় গেলে এ দেশকে পুনর্গঠন করা হবে: তারেক রহমান

০

জনগণের সমর্থন নিয়েই সরকার গঠন করতে চাই বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গত ১৬ বছর স্বৈরাচার শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখেছে। ক্ষমতায় গেলে এ দেশকে পুনর্গঠন করা হবে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির নির্বাচনে জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে বেলা পৌনে ১২টায় সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভার মঞ্চে ওঠেন তিনি। মাঠ প্রাঙ্গণে আসতেই হাজার হাজার নেতা-কর্মী করতালি দিয়ে তাদের নেতাকে অভিবাদন জানায়। তারেক রহমান হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে পা রাখলেন তারেক রহমান।