Home Blog Page 242

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারেক রহমানের কঠোর হুঁশিয়ারি

০

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। অতীতেও বিএনপি নিজের দলের কেউ অন্যায় করলে ছাড় দেয়নি বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে এবং এক্ষেত্রে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

নির্বাচনী রণকৌশল হিসেবে তিনি সমর্থকদের প্রতি এক বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে এবং ফজরের নামাজ শেষে সরাসরি ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়াতে হবে। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, বিগত ১৫ বছর জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং এখনো নতুন কোনো ষড়যন্ত্র হতে পারে, তাই ধানের শীষে ভোট দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

চট্টগ্রামের স্থানীয় সমস্যা সমাধানেও তিনি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন। নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করতে আবারও ‘খাল কাটা কর্মসূচি’ শুরু করার ঘোষণা দেন তিনি এবং জনতাকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আরও বেশি ইপিজেড স্থাপন এবং বন্দর নগরীকে প্রকৃত অর্থে একটি বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

মস্তিষ্কের ৩টি সহজ হ্যাক যা আপনার জীবনকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে

০

আমাদের ব্যস্ত জীবন ও চাপের মধ্যে নিজের লক্ষ্য অর্জন করা অনেক সময় কঠিন মনে হয়। যখন এই লক্ষ্যগুলো জীবনের মান উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তখন এগুলো পূরণে বাধা আত্মসম্মানকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। মস্তিষ্ক এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে; এটি কখনও সহায়ক হয়, আবার কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে স্নায়ুবিজ্ঞান থেকে প্রাপ্ত কিছু জ্ঞানের সাহায্যে মস্তিষ্কের শক্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করে জীবন ও লক্ষ্যকে সমর্থন করা সম্ভব।
১. মস্তিষ্ককে নিজের পক্ষে কাজ করতে শেখানো
মস্তিষ্ক স্থির কোনো অঙ্গ নয়। এটি অত্যন্ত অভিযোজনযোগ্য ও নমনীয়। এই ক্ষমতাকে বলা হয় নিউরোপ্লাস্টিসিটি। নিউরোপ্লাস্টিসিটি হলো মস্তিষ্কের সেই ক্ষমতা যার মাধ্যমে এটি নিজেকে পুনর্বিন্যস্ত করতে পারে, নতুন স্নায়বিক সংযোগ গড়ে তুলতে পারে এবং অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার প্রভাবে তার গঠন ও কার্যকারিতা পরিবর্তন করতে পারে।
মস্তিষ্ক জীবনের সবসময় বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম। এটি নতুন সংযোগ তৈরি করতে পারে, বিদ্যমানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারে এবং প্রয়োজনে পুনঃসংযোজন করতে পারে। অর্থাৎ, নিজের লক্ষ্য সমর্থন করতে মস্তিষ্ককে আমরা রূপ দিতে পারি।
এর জন্য পুনরাবৃত্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। যত বেশি কোনো আচরণ বা মানসিক কর্মকাণ্ড পুনরাবৃত্তি করা হবে, সেই আচরণের সঙ্গে যুক্ত স্নায়বিক সংযোগ তত শক্তিশালী হবে। এটি হলো সিন্যাপটিক প্লাস্টিসিটি। লক্ষ্যভিত্তিক আচরণ ও চিন্তার ধারা ধারাবাহিকভাবে চর্চা করলে মস্তিষ্কে এই পথগুলো আরও কার্যকর ও স্বয়ংক্রিয় হয়ে ওঠে।
নতুন অভ্যাস গড়ার জন্য টিনি হ্যাবিটস মেথড অনুসরণ করা যেতে পারে, যেখানে মূল তিনটি উপাদান হলো ট্রিগার, মোটিভেশন এবং প্রয়োজনীয় আচরণ। যেমন, দাঁত ব্রাশ করার পর ১৫ মিনিটের হাঁটাহাঁটি শুরু করা। ছোট ছোট অভ্যাসকে পুনরাবৃত্তি করে একটি রুটিন তৈরি করা যায় যা লক্ষ্য অর্জনের পথে সহায়ক হয়।
২. বৃদ্ধির মানসিকতা (Growth Mindset) গড়ে তোলা
মানসিকতা চিন্তা, অনুভূতি এবং আচরণকে প্রভাবিত করে। বৃদ্ধির মানসিকতা হলো বিশ্বাস যে দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তা পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে উন্নত করা যায়। এটি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ, ব্যর্থতার মুখে অধ্যবসায় এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও শিখতে সাহায্য করে।
গবেষণা দেখিয়েছে, বৃদ্ধির মানসিকতা থাকা মানুষ চ্যালেঞ্জ নিতে বেশি সচেষ্ট এবং বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম। ব্যর্থতাকে তারা শেখার সুযোগ হিসেবে দেখে। এটি অর্জনের জন্য সীমাবদ্ধ বিশ্বাস চিহ্নিত করা এবং তা পরিবর্তনের চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন অভ্যাস, ইতিবাচক কন্টেন্ট দেখা বা নতুন জায়গায় যাওয়া মস্তিষ্ককে নতুন তথ্য গ্রহণের জন্য উদ্দীপিত করে, যা ডোপামিনের মুক্তির মাধ্যমে আরও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
৩. মানসিক শান্তি রক্ষা করা
মস্তিষ্কের সক্ষমতা সরাসরি মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী চাপ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং লক্ষ্য পূরণে বাধা সৃষ্টি করে। কোর্টিসল হরমোনের উচ্চ মাত্রা স্মৃতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মনোসংযোগকে প্রভাবিত করে।
সুস্থ জীবনধারা, ব্যালান্সড ডায়েট, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্কের জন্য অপরিহার্য। দৈনন্দিন অভ্যাসের মাধ্যমে যেমন ব্যায়াম, ধ্যান, কৃতজ্ঞতা চর্চা ও হবি মেনে চলা মস্তিষ্ককে সহায়ক করে।
নিউরোপ্লাস্টিসিটি, বৃদ্ধির মানসিকতা এবং মানসিক সুস্থতার উপর নজর রেখে মস্তিষ্কের ক্ষমতা সর্বাধিক ব্যবহার করা সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিক চর্চা এবং মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালী বোঝার মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন করা অনেক সহজ হয়ে যায়। মস্তিষ্ককে নিজের সবচেয়ে শক্তিশালী সহায়ক বানিয়ে লক্ষ্য অর্জনে ব্যবহার করা সম্ভব।

লক্ষ্মীপুরে নিখোঁজ ছাত্রলীগ কর্মীর মরদেহ উদ্ধার

০

লক্ষ্মীপুরে নিখোঁজ থাকার ছয় দিন পর ফজলে রাব্বি (২২) নামে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার চন্দ্রপবাহ বাগ গ্রামের শেখের বাড়ি এলাকার এক প্রবাসীর বাড়ির ট্যাংকি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত ফজলে রাব্বি সদর উপজেলার পূর্ব আলাদাদপুর গ্রামের সৈয়দ মিয়া পাটওয়ারী বাড়ির বাসিন্দা বেল্লাল হোসেনের ছেলে। তিনি চন্দ্রগঞ্জ কফিল উদ্দিন কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জানুয়ারি রাতে রাব্বি চন্দ্রগঞ্জ এলাকা থেকে উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী বাজারের উদ্দেশে বের হন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে পরদিন তার বাবা বেল্লাল হোসেন চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

শনিবার বিকেলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি চন্দ্রপবাহ বাগ গ্রামের শেখের বাড়ি এলাকায় একটি ট্যাংকির ওপর একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ করেন। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্ত করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ রেজাউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, এটি হত্যা না অন্য কোনো কারণে মৃত্যু, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

মোবাইল ফোন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন জয়া!

০

অভিনেত্রী জয়া আহসানের জনপ্রিয়তা গত কয়েক বছর ধরেই সীমানা পেরিয়ে ওপার বাংলায় পৌঁছে গেছে।  দুই ইন্ডাস্ট্রির সিনেমাতেই সমানতালে কাজ করছেন তিনি। সম্প্রতি এই অভিনেত্রী মোবাইল ফোনের ব্যবহার সম্পর্কে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন।

তিনি জানান, মানুষের প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোন। তাই সম্ভব হলে এবং প্রয়োজন না থাকলে ফোন হাতে না নেওয়ার অভ্যাস করা উচিত। এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে জয়া এসব কথা জানান।

অভিনেত্রী বলেন, ‘শুটিং সেটে আমি পারতপক্ষে ফোন ব্যবহার করি না। আমরা যখন বাসা থেকে বের হই তখন ফোন দেখি। আশপাশের গাছ, মানুষ, ট্রাফিক, কে কিভাবে চলছে, রিকশাওয়ালা কিভাবে রিকশা চালাচ্ছেন, কী করে ঘাম মুছছেন এগুলো আমরা কিন্তু দেখি না। মানে আমাদের দেখতে দেয় না ফোনটা। এসব যদি আমি নাই দেখি, যদি প্রকৃতির সঙ্গে, সমাজের সঙ্গে কানেক্টেড না থাকি তাহলে আমি কী করে অভিনয় করব?’

তার মতে, প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জয়া আরও বলেন, ‘শিল্পী যখন অন্য কাউকে স্পর্শ করে, সেই সংস্পর্শের মাধ্যমে অনুভূতি পৌঁছায়। চোখে জল আসে, হৃদয়ে অনুভূতি জাগে। ঘ্রাণ, শোনা, দেখা— সবই আমাদের আশপাশের পরিবেশ থেকে শেখা হয়।

সকালবেলায় পাখির কিচিরমিচির, ভোরের হাওয়া- সবই মানুষকে এক ধরনের থেরাপি দেয়। মোবাইল ফোন এই সংযোগে সবচেয়ে বড় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। তাই মাঝে মাঝে ফোন ব্যবহার না করা উচিত।’

দীঘির গায়ে জুস পড়া নিয়ে হুলস্থুল: চাকরি হারালেন কি সেই ওয়েটার?

০

ঢাকাই সিনেমার নায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দীঘি সম্প্রতি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ‘কাচ্চি ডাইন’-এর শাখা উদ্বোধন করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত এক পরিস্থিতির শিকার হন। সময়ের আলোচিত এ অভিনেত্রীকে নিয়ে সেই ঘটনার জের ধরে ওই রেস্তোরাঁর এক ওয়েটারের চাকরি হারানোর গুঞ্জন ওঠেছে।

সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রার্থনা ফারদিন দীঘি যখন রেস্তোরাঁটিতে খাবার খাচ্ছিলেন, তখন একজন ওয়েটার পানীয় পরিবেশন করতে আসেন। এ সময় তিনটি জুসের গ্লাসের মধ্যে একটি হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে দীঘির গায়ের ওপর পড়ে যায়। আকস্মিক এ ঘটনায় দীঘি কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়লেও পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নেন তিনি।

এ সময় ওই ওয়েটারকে অত্যন্ত ভীত ও দুঃখ প্রকাশ করতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে রেস্তোরাঁর অন্য কর্মীরা এসে দীঘির পোশাক ও হাত পরিষ্কার করে দেন। এ ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের একটি বড় অংশ দাবি করে বলেছেন, দীঘির গায়ে জুস ফেলার দায়ে সেই ওয়েটারকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এক নেটিজেন জানিয়েছেন, একজন আমন্ত্রিত তারকার সঙ্গে এমন অপেশাদার আচরণ রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ সহজভাবে নেয়নি। মালিকপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়েই তাকে ছাঁটাই করেছে।

এ বিষয়ে একটি গণমাধ্যম বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁটিতে যোগাযোগ করা হলে সেখানকার দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা প্রসঙ্গটি এড়িয়ে ফোনটি কেটে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার আর কোনো সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নকথা বলছে ‘কাচ্চি ডাইন’-এর প্রধান কার্যালয়।

প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং বিভাগের কর্মকর্তা সৈয়দ তানভীর নীল এ গুঞ্জন নাকচ করে দিয়ে বলেন, চাকরিচ্যুতির দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সংশ্লিষ্ট কর্মী আমাদের সঙ্গেই আছেন এবং নিয়মিত কাজ করছেন। এটি একটি দুর্ঘটনা ছিল, যা অনিচ্ছাকৃত।

তিনি বলেন, ভুলবশত হওয়া এমন ঘটনায় কারও চাকরি যেতে পারে না। অফিশিয়ালি কিছুটা জবাবদিহি করতে হলেও এর বেশি কিছু হয়নি। আমরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য অভিনেত্রীর কাছেও দুঃখ প্রকাশ করেছি।

এ বিষয়ে দীঘির অবস্থান জানতে তার ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে রেস্তোরাঁর সংশ্লিষ্ট শাখার কর্তৃপক্ষের নীরবতা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দাবির জেরে এ গুঞ্জন নিয়ে খানিকটা ধোঁয়াশাই থেকে যায়।

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা অসাধু ব্যবসায়ীদের

০

জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ করার পরই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে পবিত্র শবে-বরাত ও রমজান মাস সামনে। এ অবস্থায় রোজায় বেশি ব্যবহার হয় এমন সব নিত্য ও ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলার চেষ্টা করছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বেড়ে গেছে তাই নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে। অথচ জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনটি একটি সুপারিশ মাত্র। এটি কবেনাগাদ বাস্তবায়ন হবে কিংবা আদৌ শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব কি না সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেছেন। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এটি এখনই বাস্তবায়ন নয়। নির্বাচিত সরকার এসে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিবেন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জাতীয় বেতন কমিশন বাস্তবায়ন হলে দ্রব্যমূল্য বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। এছাড়া বেসরকারিখাতে বাড়তি চাপ তৈরি হবে। ফলে জাতীয় বেতন কমিশনের এই সুপারিশ বাস্তবায়নের আগে বাজার পরিস্থিতি আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। তাদের মতে, শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো এবং বেসরকারিখাতকে উপেক্ষিত করা হলে অর্থনীতিতে আরও গভীর সংকট তৈরি করতে পারে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে আরও অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায় গুনতে হবে। এর প্রভাব পড়বে কোটি কোটি বেসরকারিখাতের চাকরিজীবীদের ওপর।
নভেম্বর ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও এখন আবার তা দুই অঙ্কের ঘর ছুঁইছুঁই করছে। এ অবস্থায় শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো হলে বাজার পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক থাকবে এই ধরনের পলিসি এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এর আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করলে বেসরকারিখাতে যে বাড়তি চাপ তৈরি হয় তা থেকে আজও সাধারণ মানুষ বের হতে পারেনি। প্রতিবছর এখনো ১০ শতাংশ হারে বেতন বাড়ছে সরকারি চাকুরেদের। বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সবজি ও পেঁয়াজ ছাড়া এখন বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম বেশি। ডিম ও মুরগির দাম কমলেও তা সাময়িক। এ দুটি পণ্যের দাম দ্রুত পরিবর্তন হয়ে থাকে। চাহিদা বাড়লেও হু হু করে বেড়ে যায় ডিম ও মুরগির দাম।
এ ছাড়া চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আটা, চিনি, মসলা জাতীয় পণ্য এবং গরু ও খাসির মাংসের দাম বেশি। ভরা মৌসুমেও কমেনি চালের দাম। রমজান মাস সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল ও ছোলার দাম ইতোমধ্যে বেড়ে গেছে। এসব পণ্যের বিপুল পরিমাণ আমদানি হলেও বেতন বৃদ্ধির সুপারিশের খবরেই দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে রীতিমতো কথা কাটাকাটি হচ্ছে। বেতন যে এখনো বাড়েনি এটাই বিশ্বাস করছে না সাধারণ খুচরা ব্যবসায়ীরা।  রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এক সপ্তাহ আগেও সোনালি মুরগির দাম ছিল ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি। শুক্রবার ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা যায়। ব্রয়লার মুরগির দাম আগের মতো ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও গত সপ্তাহের মতো ১১০-১২০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে। সরু নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল ৭৫-৮০, মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চাল ৬০-৬৮ এবং মোটা জাতের স্বর্ণা ও চায়না ইরি ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শবে-বরাত সামনে রেখে বেশিরভাগ ডাল জাতীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি চাকরিতে এভাবে ঢালাও বেতন বৃদ্ধি অর্থনীতিতে প্রচণ্ড নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই বেতন বৃদ্ধি বেসরকারি খাতে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করবে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি খাতেও বেতন বৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি হবে। এই পে স্কেল বাজারে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি করবে। গবেষণায়, দেখা গেছে, প্রতিবার পে স্কেল ঘোষণার পর তিন দফায় বাজারে দাম বৃদ্ধি পায়। প্রথম ধাপে বাড়ে যখন পে স্কেল ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে বাড়ে যখন এটা কার্যকর করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। আর তৃতীয় ধাপে বাড়ে যখন নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন পাওয়া শুরু হয়। অর্থনৈতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিবার পে স্কেলের সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে শতকরা ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এবারের পে স্কেলের কারণে জিনিসপত্রের দাম দ্বিগুণের বেশি হবে। এমনিতেই নিম্নআয়ের মানুষ থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ বাজারে গিয়ে আর্তনাদ করেন। জিনিসপত্রের দাম এখনই অস্বাভাবিক, বেশিরভাগ মানুষেরই নাগালের বাইরে। এর ওপর এই সিদ্ধান্ত বাজার পরিস্থিতি ভয়াবহ করে তুলবে। সরকার গত দেড় বছরে মুদ্রাস্ফীতি সামাল দিতে পারেনি। দেশে এখন মুদ্রাস্ফীতি ৮ শতাংশের বেশি। নতুন পে-স্কেল চালু হলে মুদ্রাস্ফীতি ২০ থেকে পঁচিশ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

০

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে লেনদেনের জন্য মুদ্রা বিনিময়ও ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব পাচ্ছে। ব্যবসা–বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দেশের নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের জানা জরুরি মুদ্রা বিনিময় হার।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিম্নরূপ:
ইউএস ডলার (USD) – ১২২ টাকা ৩১ পয়সা
ইউরো (EUR) – ১৪৩ টাকা ৫৮ পয়সা
ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP) – ১৬৫ টাকা ৪৩ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD) – ৮৩ টাকা ৯৫ পয়সা
জাপানি ইয়েন (JPY) – ৭৭ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার (CAD) – ৮৯ টাকা ১১ পয়সা
সুইডিশ ক্রোনা (SEK) – ১৩ টাকা ৬৭ পয়সা
সিঙ্গাপুর ডলার (SGD) – ৯৫ টাকা ৭৬ পয়সা
চীনা ইউয়ান রেনমিনবি (CNY) – ১৭ টাকা ৫৪ পয়সা
ভারতীয় রুপি (INR) – ১ টাকা ৩৩ পয়সা
শ্রীলঙ্কান রুপি (LKR) – ২ টাকা ৫৩ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR) – ৩০ টাকা ৫৪ পয়সা
সৌদি রিয়াল (SAR) – ৩২ টাকা ৬২ পয়সা
কাতারি রিয়াল (QAR) – ৩৩ টাকা ৫৫ পয়সা
কুয়েতি দিনার (KWD) – ৩৯৯ টাকা ১৮ পয়সা
দ্রষ্টব্য: মুদ্রার বিনিময় হার বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী যে কোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে।
(সূত্র: গুগল)

আমাদের সন্তানেরা আধিপত্যবাদকে লালকার্ড দেখিয়েছে, এই কার্ড সবুজ ও হলুদ হবে না

০

আজ ২৪ জানুয়ারি শনিবার দুপুরে বগুড়ার শেরপুরে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে, বগুড়া জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

আমীরে জামায়াত বলেন, “আপনারা যদি আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়ে আমাদের সঙ্গে নেন, তাহলে আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে আপনাদের আমানতের হেফাজত করব ইনশাআল্লাহ।”

তিনি বলেন, “আমরা কথা দিচ্ছি, আল্লাহ যদি সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে জনগণের একটি টাকার ওপরেও আমরা হাত বসাব না। আমরা কথা দিচ্ছি, আল্লাহ যদি আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে চাঁদাবাজদের অস্তিত্ব বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলে সহ্য করব না। দুর্নীতিকে মাটির নিচে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করব।”

চাঁদাবাজদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ভয় পেয়ো না চাঁদাবাজ। আমরা তোমাদের হাতেও সম্মানের রুজির কাজ তুলে দেব, ইনশাআল্লাহ। তোমরাও গর্বের সাথে বাংলাদেশে বসবাস করবে। লোভের বশবর্তী হয়ে হয়তো খারাপ করেছো, তোমরা তওবা করে ভালোভাবে চলবে।”

তিনি বলেন, বিচার আর টাকার বিনিময়ে বিক্রি হবে না। ন্যায়বিচার সকলের জন্য নিশ্চিত করা হবে। আদালত পেশা, ধর্ম, বর্ণ দেখবে না—আদালত দেখবে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কি না। যদি ক্ষতিগ্রস্ত হন, আদালত অবশ্যই তাঁর পক্ষে রায় দেবে। আদালত বিচার করার ক্ষেত্রে দেখবে না তিনি প্রেসিডেন্ট বা মন্ত্রী কি না, বরং দেখবে তিনি অপরাধ করেছেন কি না।

সাংবাদিকদের সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, “আপনারা আমাদের দিকে খাড়া দৃষ্টি রাখুন। আপনারা ‘ওয়াচডগ’ হিসেবে অত্যন্ত তীর্যকভাবে দেখবেন। তবে সাদাকে সাদা বলবেন, কালোকে কালো বলবেন। সাদার গায়ে কোনো কালো প্রলেপ লাগাবেন না। কোনো কালোকে গ্রহণ করবেন না। তাহলে দেশ ভালো চলবে এবং আপনাদের অবদানের জন্য দেশবাসী কৃতজ্ঞ থাকবে। আমরা মিডিয়াকে সেই জায়গায় দেখতে চাচ্ছি।”

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা দেশকে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্মানের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মায়েরা সম্মানের ও মর্যাদার সাথে নিরাপদে ঘরে থাকবেন ও বাইরে চলাচল করবেন। একইভাবে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কর্মক্ষেত্রে তাঁরা মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে কাজ করবেন। সকল পেশায় তাঁদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হবে, ইনশাআল্লাহ।”

দলের ঘোষিত নীতিমালার বিষয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র। ষাট বছরের ঊর্ধ্বে সকল মানুষের চিকিৎসার ভার নেবে রাষ্ট্র; তবে যাঁদের স্বচ্ছলতার কারণে রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবেন—রাষ্ট্র তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। এ ছাড়া অন্য বয়সী যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা রাষ্ট্রের সাথে অংশীদারত্বে থাকবেন।

তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা যুবক-যুবতীদের বলছি, আমরা তোমাদের কোনো বেকার ভাতা দেব না। তোমাদের বেকার বানিয়ে রাখতে চাই না। তোমাদের দুই হাতকে দেশ গড়ার কারিগর বানাতে চাই। তোমাদের কাছে মর্যাদার কাজ তুলে দিতে চাই। দেশে কিংবা বিদেশে তোমরা মর্যাদার সাথে অবদান রাখবে। আমরা তোমাদের শিক্ষা দিয়ে সেইভাবেই গড়ে তুলব। শিক্ষা শেষে কাজ তোমাদের হাতে চলে আসবে, ইনশাআল্লাহ। বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে ঘুরতে হবে না, সে দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। যার জন্য যে শিক্ষা প্রযোজ্য, যার মেধা যেখানে প্রযোজ্য, তার মেধা বিকাশে রাষ্ট্র হবে সেখানে সঙ্গী। সেই মর্যাদার বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাচ্ছি।”

চাঁদাবাজ, দখলবাজ, মামলাবাজদের বিরুদ্ধে জনগণকে ভূমিকা রাখার এবং গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান আমীরে জামায়াত।

পররাষ্ট্র নীতির বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সব দেশের সাথে বন্ধুত্ব চাই। কেউ আমাদের প্রভু হয়ে আসুক তা আমরা চাই না। বাংলাদেশের মানুষ ভাঙবে, কিন্তু মচকাবে না। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না। আমাদের সন্তানেরা আধিপত্যবাদকে লালকার্ড দেখিয়েছে। এই কার্ড সবুজ ও হলুদও হবে না। এইটা লালকার্ড হিসেবেই থাকবে।”

শেরপুর-ধুনট আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী মাওলানা দবিবুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন আমীরে জামায়াত।

বিশ বছর পর আজ চট্টগ্রাম যাচ্ছেন তারেক রহমান

০

দীর্ঘ বিশ বছর পর শনিবার রাতে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীকাল রবিবার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে তিনি জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। ইতিমধ্যেই পলোগ্রাউন্ড এলাকায় মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। শহরজুড়ে তোরণ ও ব্যানারে সেজেছে স্বাগত স্বরূপ।
শেষবার চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন তিনি ২০০৫ সালে, তখন চার দলীয় জোট সরকারের আমলে। সেসময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজা বলেন, “তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন এক উৎসবমুখর পরিস্থিতি তৈরি করবে। সমগ্র নগরবাসী উচ্ছ্বাসের সঙ্গে নেতাকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত।”
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. এরশাদ উল্লাহ বলেন, “অতীতে বিএনপির সভা-সমাবেশে লাখো মানুষ সমবেত হয়েছে, শত বাধা সত্ত্বেও। এবার তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে শুধু পলোগ্রাউন্ড নয়, রাজপথও জনস্রোতে মুখরিত হবে বলে আমরা আশা করছি।”
শহরের নেতারা জানিয়েছেন, এই সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামবাসী সর্বোচ্চ উৎসাহের সঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের অফিস এবং বিভিন্ন এলাকায় পতাকা, ব্যানার ও মঞ্চ সাজানো হয়েছে, যেন শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড নির্ধারণ করবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট

০

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশে ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাক্ষাতে উভয় পক্ষ আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমোদিত ব্যাপক শ্রম আইন, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন।

অধ্যাপক ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান পররাষ্ট্রনীতি উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে- আসিয়ান সদস্যপদ লাভে বাংলাদেশের পরিকল্পনা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবনের প্রচেষ্টা।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরাও নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পর্যবেক্ষক পাঠাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, এটি হবে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন। ভবিষ্যতে ভালো নির্বাচনের মানদণ্ড স্থাপন করবে। আসুন, আমরা আশাবাদী থাকি।

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যেই জয়ী হোক না কেন, তার সঙ্গে কাজ করতে তিনি আগ্রহী। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং গত ১৮ মাসে অধ্যাপক ড. ইউনূসের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত নতুনভাবে প্রণীত শ্রম আইনের প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঢাকা-ওয়াশিংটন আলোচনার অন্যতম মূল স্তম্ভ।

অধ্যাপক ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাসের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং চলমান বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে আরও শুল্ক কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা কক্সবাজারের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ক্যাম্পে বসবাসরত এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমকে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা করেন।

দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ান সদস্যপদ অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে আঞ্চলিক জোটটির সঙ্গে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য আবেদন করেছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৮ মাসে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ ও অর্থনীতিকে কাছাকাছি আনতে সার্ক পুনরুজ্জীবনের জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে পরবর্তী সরকার এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

সাক্ষাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ভিসা নিষেধাজ্ঞা, যা বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর আরোপ করা হয়েছে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস