বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রায় এক কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রভাবেই বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন দিনে দিনে বাড়ছে। প্রবাসী আয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেনকে সহজ করতে মুদ্রা বিনিময়ের হারের সঠিক তথ্য জানা ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দুজনের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
আজ বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, বাংলাদেশে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নিম্নরূপ নির্ধারিত হয়েছে:
ইউএস ডলার – ১২২ টাকা ৩১ পয়সা
ইউরোপীয় ইউরো – ১৪২ টাকা ৭৯ পয়সা
ব্রিটিশ পাউন্ড – ১৬৪ টাকা ৬১ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার – ৮২ টাকা ২১ পয়সা
জাপানি ইয়েন – ৭৮ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার – ৮৮ টাকা ২৪ পয়সা
সুইডিশ ক্রোনা – ১৩ টাকা ৩১ পয়সা
সিঙ্গাপুর ডলার – ৯৫ টাকা ৪২ পয়সা
চীনা ইউয়ান রেনমিনবি – ১৭ টাকা ৪৯ পয়সা
ভারতীয় রুপি – ১ টাকা ৩৬ পয়সা
শ্রীলঙ্কান রুপি – ২ টাকা ৫৩ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত – ৩০ টাকা ১১ পয়সা
সৌদি রিয়াল – ৩২ টাকা ৬৩ পয়সা
কুয়েতি দিনার – ৩৯৮ টাকা ১৪ পয়সা
বিনিময় হারের তথ্যের উৎস হিসেবে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা রেট প্ল্যাটফর্মের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। প্রবাসী আয় পাঠানো বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এই তথ্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশি টাকায় আজকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার
সেফটি পিনে কেন ছোট ছিদ্র থাকে? জানলে অবাক হবেন
ঘরের ড্রয়ার খুললেই চোখে পড়ে একটি ছোট্ট জিনিস -সেফটি পিন। শাড়ির ভাঁজ ঠিক রাখা, পোশাক সামলানো বা হঠাৎ ছেঁড়া কাপড় বাঁচাতে এই পিনের জুড়ি নেই। কিন্তু এত পরিচিত এই জিনিসটির দিকে কখনও গভীর করে তাকিয়েছেন? খেয়াল করেছেন, সেফটি পিনে ছোট বিশেষ ছিদ্র থাকে কেন? সাধারণ নকশার আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক চমকপ্রদ বিজ্ঞান।
এই রহস্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন হোলসেল সেফটি পিনস-এর মালিক ও সিইও ল্যারি শোয়ার্টজ। যাঁর ব্যবসার পুরো ভিত্তিই এই সাধারণ অথচ প্রয়োজনীয় জিনিসটি। তাঁর মতে, একটি সেফটি পিনে মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ছিদ্র থাকে। একটি ছিদ্র থাকে উপরের দিকে, যেখানে পিনের ধারালো অংশটি ঢুকে একটি গার্ড বা ক্লিপের ভেতরে আটকে যায়। আরেকটি ছিদ্র থাকে নিচের দিকে, যেখানে ধাতব তার পেঁচিয়ে তৈরি হয় কুণ্ডলী বা স্প্রিং।
এই বুদ্ধিদীপ্ত নকশার জন্ম হয় আরও এক শতাব্দীর বেশি আগে। ১৮৪৯ সালে উদ্ভাবক ওয়াল্টার হান্ট একটি ধাতব তার নিয়ে খেলতে খেলতেই আধুনিক সেফটি পিনের স্প্রিং কাঠামো তৈরি করেন। পরে তিনি এর পেটেন্ট নেন। আজকের দিনে যন্ত্রের সাহায্যে ইস্পাতের তার পেঁচিয়ে তৈরি হয় এই কুণ্ডলী, যা সেফটি পিনের কার্যকারিতার মূল চাবিকাঠি।
হান্ট শেষ পর্যন্ত তাঁর সেফটি পিনের পেটেন্টটি ডব্লিউ. আর. গ্রেস অ্যান্ড কোম্পানির কাছে মাত্র ৪০০ ডলারে বিক্রি করে দেন। অথচ এই নকশা পরবর্তীকালে যে বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্য এনে দেয়, তার তুলনায় সেই মূল্য ছিল নিতান্তই নগণ্য।
পরের বার যখন হাতে একটি সেফটি পিন নেবেন, তখন শুধু প্রয়োজনের কথা নয় এর পেছনের চমৎকার বিজ্ঞান আর ইতিহাসটাও মনে পড়ে যাবে।
শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি অত্যন্ত বিপজ্জনক, রোজ খান এই খাবারগুলি
ভিটামিন বি ১২ আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি লোহিত রক্তকণিকা (রেড ব্লাড সেল) এবং গ্লিয়াল কোষকে সুস্থ রাখে, যা স্নায়ু ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু দেহ নিজেই এটি তৈরি করতে পারে না। তাই ভিটামিন বি ১২-এর অভাব হলে নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ভিটামিন বি ১২-এর অভাবের লক্ষণ
🔹 দুর্বলতা ও অবসাদ
🔹 স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া
🔹 হাত-পায়ে ঝাঁঝ বা অসাড়তা
🔹 মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্ট
🔹 লোহিত রক্তকণিকার কমতি বা অ্যানিমিয়া
ভিটামিন বি ১২ সমৃদ্ধ খাবার
আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় নিচের খাবারগুলো রাখুন:
1. মাছ ও সামুদ্রিক খাবার – স্যামন, টুনা, সার্ডিন।
2. ডিম ও দুধজাত খাবার – দুধ, পনির, ডিমের কুসুম।
3. মাংস – গরু, মুরগি ও ভোঁড়ার মাংস।
4. শস্য ও ফোর্টিফাইড সিরিয়াল – ভিটামিন বি ১২ সমৃদ্ধ শস্য।
5. সাপ্লিমেন্ট – প্রয়োজনে ডাক্তার পরামর্শে ভিটামিন বি ১২ সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার।
ভিটামিন শোষণ বাড়ানোর টিপস
🔹 ভিটামিন সি যুক্ত খাবারের সঙ্গে ভিটামিন বি ১২ খেলে শোষণ বৃদ্ধি পায়। যেমন লেবু, কমলা, স্ট্রবেরি।
🔹 শাক-সবজি প্রধান ভেজানদের ঘাটতির ঝুঁকি বেশি, তাই সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে।
🔹 নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত।
ভিটামিন বি ১২-এর ঘাটতি সহজেই দূর করা সম্ভব যদি আপনি প্রতিদিন সঠিক খাবার খান। এটি শুধু শরীরকে সুস্থ রাখে না, স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতাও উন্নত করে। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য এখনই খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি।
ফুটবল ছাড়লেও মাঠ ছাড়ছেন না মেসি,জানালেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ফুটবলের ঝলমলে অধ্যায় শেষ হলে নিজেকে কোথায় দেখতে চান—এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিয়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। তিনি জানিয়েছেন, কোচ হওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই; এমনকি জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও ভাবছেন না।
এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, কোচ হিসেবে ডাগআউটে দাঁড়ানোর চেয়ে ক্লাবের মালিক বা পরিচালকের ভূমিকায় সিদ্ধান্ত নেওয়াকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ কারণেই দিয়েগো ম্যারাডোনার মতো জাতীয় দলের কোচ হওয়ার পথে হাঁটছেন না মেসি। উল্লেখযোগ্যভাবে, উরুগুয়েতে লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে যৌথভাবে একটি ক্লাব প্রকল্পেও যুক্ত রয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন মেসি। তিনি জানান, বার্সেলোনায় খেলার সময় এক পর্যায়ে থেরাপি নিয়েছিলেন, তবে বর্তমানে সেটির প্রয়োজন অনুভব করেন না। একা সময় কাটাতে তার ভালো লাগে বলেও জানান তিনি। আবার সন্তানদের কোলাহলে ভরা ঘরকেও তিনি আনন্দের উৎস হিসেবেই দেখেন।
সব মিলিয়ে, ফুটবল থেকে সরে গেলেও খেলাটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চান না মেসি—মাঠের নায়ক থেকে ভবিষ্যৎ গড়ার নির্মাতা হয়ে ওঠাই তার লক্ষ্য।
নতুন করে আইপিএলে ডাক পেলেন মোস্তাফিজ! যা জানালো বিসিবি
ক্রিকেটীয় ভাষায় ইনিংস ঘোষণা করলে আর ব্যাটিংয়ে ফেরার সুযোগ থাকে না। বিসিবির এক পরিচালকের মতে, ভারতের পক্ষ থেকে আসা নতুন প্রস্তাবটি গ্রহণ করা মানে অনেকটা ইনিংস ঘোষণার পর পুনরায় ব্যাটিং শুরু করার মতো অসম্ভব এক পরিস্থিতি তৈরি করা। কিন্তু বাংলাদেশ সেই পথে পা বাড়াতে রাজি হয়নি। কারণ বিসিবি ইতোমধ্যেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ফেলেছে।
গত রবিবার সন্ধ্যায় সরকারি নির্দেশনার কথা জানিয়ে বিসিবি নিশ্চিত করে যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দল ভারতে যাবে না। এর কিছু সময় আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। মূলত উগ্রপন্থীদের চাপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে অব্যাহতি দিলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি চরম কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার পর বিসিসিআই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার একটি শেষ চেষ্টা চালিয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পরিচালকের তথ্যমতে, ভারতীয় বোর্ডের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামকে ফোনে একটি প্রস্তাব দেন। সেখানে জানতে চাওয়া হয় যে মুস্তাফিজকে যদি পুনরায় আইপিএলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তবে বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে কি না।
আমি অনুতপ্ত, লজ্জিত সমাজের কাছে ও বউয়ের কাছে : জোভান
ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় এসে অনুতাপ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান। সম্প্রতি একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের প্রেমজীবন নিয়ে দেওয়া মন্তব্যকে ঘিরে সমালোচনার মুখে পড়ে এ ব্যাখ্যা দেন তিনি।
ওই পডকাস্টে জোভান বলেছিলেন, ‘সম্পর্কটা খুব অল্প সময়ের ছিল। কিন্তু শেষ হয়ে যাওয়ার পর মনে হয়েছিল সব কিছু ভেঙে পড়ছে। এমনও হয়েছে—মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে শিশুর মতো কেঁদেছি।’ তার এসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে বুধবার (৮ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জোভান বলেন, ‘রিসেন্টলি একটি সাক্ষাৎকারে আমি কিছু ভুল কথা বলেছি। যে কথাগুলো আমি বলেছি, সেগুলো মন থেকে আসেনি। কথাগুলো স্ক্রিপ্টেড ছিল, সাজানো ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেদিন অনুষ্ঠানে যা বলেছি, সেগুলো আমাকে শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমি একটু বেশিই বলে ফেলেছি। এসব বলা আমার ঠিক হয়নি।’
ভিডিও বার্তায় দুঃখ প্রকাশ করে জোভান বলেন, ‘বেশি বলায় আমি অনুতপ্ত। সমাজ ও আমার বউয়ের কাছে আমি খুবই লজ্জিত। আশা করি, আমার বউ আমাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে।’ এরপর মজার ছলে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘আর তো কিছু বলার নাই, সবই বলেছি।’
ভিডিওতে দেখা যায়, বক্তব্য দেওয়ার সময় জোভানের হাতে একটি চিরকুট ছিল, যেখান থেকে তিনি কথাগুলো পড়ে শোনাচ্ছিলেন। এ সময় তার পাশে স্ত্রী বসা ছিলেন। কথা বলতে গিয়ে ভুলে যাওয়ার মুহূর্তে স্ত্রীসহ জোভান হেসে ওঠেন।
অনেকে ধারণা করছেন, ভিডিওটি মূলত কনটেন্ট তৈরির উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। তবে মজার ছলে হলেও বিষয়টি নেটিজেনদের একাংশ ইতিবাচকভাবে নেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এ ধরনের স্ক্রিপ্টেড ব্যক্তিগত বিষয় তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা ঠিক নয়।
এই ঘটনায় নতুন করে বিনোদন অঙ্গনে স্ক্রিপ্টেড কনটেন্ট ও ব্যক্তিগত জীবনের সীমা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মাওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত দিয়ে শুরু হবে তারেক রহমানের সফর
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত অধ্যায়ের অবসানের পর রাজনীতির মাঠে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে ফেরার পর এই প্রথম রাজধানীর বাইরে সফরে বের হচ্ছেন তিনি। আগামী ১১ জানুয়ারি জন্মভূমি বগুড়ার উদ্দেশে যাত্রার শুরুতেই টাঙ্গাইলে থামবেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন এবং দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন।
বুধবার বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হয়।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ১১ জানুয়ারি সকাল ৯ থেকে ১০টার মধ্যে ঢাকার বাসভবন থেকে সড়কপথে যাত্রা শুরু করবেন তারেক রহমান। দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে তিনি টাঙ্গাইলে পৌঁছাবেন। সেখানে মাওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত শেষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন তিনি।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে দলের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা।
ঢাকার বাইরে তারেক রহমানের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হওয়ায় টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার আগমন উপলক্ষে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর অংশ থেকেই তারেক রহমানকে বরণ করে নেওয়ার আয়োজন শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তার সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশনায়ক তারেক রহমান দেশে ফিরে প্রথম জেলা সফর হিসেবে টাঙ্গাইলে আসছেন। এ সফরকে ঘিরে পুরো টাঙ্গাইলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ইনশাল্লাহ, সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে আমরা প্রস্তুত। টাঙ্গাইলবাসী অধীর আগ্রহে তাঁর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের আগমন এবং দোয়া মাহফিল সফল করতে দলীয়ভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় যা বললেন সালাহউদ্দিন
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় সালাহউদ্দিন আহমদ শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে ব্যাহত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। তবে, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। সব রাজনৈতিক দলই নির্বাচনের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, শেষ পর্যন্ত সফলভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে অন্য রাজনৈতিক দলের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কারো কোনও অভিযোগ থাকলে ইসিকে জানাতে পারেন।
তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, অভ্যুত্থানে শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ সফর করবেন। এ সফরে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই। শহিদদের কবর জিয়ারত করা জাতির প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে অনেক যোগ্যকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া সম্ভব হয়নি। যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে। এরপরও প্রয়োজনে আলাপ আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টায় রাজধানীর বসুন্ধরা মার্কেটের পেছনে তেজতুরী বাজার এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরসহ দুজনকে গুলি করে। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বিআরবি হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন।
পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি নিয়ে নতুন নির্দেশনা
বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্টে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট করতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জাররা সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ফি নিতে পারবেন। এনডোর্সমেন্টের পরিমাণ বেশি হলেও ফি একই থাকবে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জিএফইটি ২০১৮-অনুযায়ী মানি চেঞ্জাররা বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক ভ্রমণ ভাতার আওতায় বিদেশি নোট, কয়েন ও ট্রাভেলার্স চেক বিক্রি করতে পারবেন। যাত্রীর পাসপোর্ট ও বিমান টিকিটে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর দিয়ে এনডোর্সমেন্ট করতে হবে। মানি চেঞ্জাররা অবশ্যই তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে এনডোর্সমেন্ট ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা এ তথ্য স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, গ্রাহকের কাছ থেকে ফি নেওয়ার পর রসিদ দিতে হবে। আদায় করা ফির সঠিক রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে। আগে জারি করা অন্যান্য সার্কুলারের নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।
গ্যাসের সংকট নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি বিভাগের জরুরি পদক্ষেপ!
দেশে চলমান তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি বিভাগ পাঁচটি বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে এলপিজি আমদানি বৃদ্ধি এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে এলপিজি ব্যবসায়ীরা দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন, যার ফলে বেশ কিছু জেলায় সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
বাজারে এলপিজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে জ্বালানি বিভাগ যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো এলপিজি আমদানির এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানানো। এছাড়া আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা এবং উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এলপিজি আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধির অনুমতি পেতে ওমেরা, মেঘনা, যমুনা, ইউনাইটেড ও ডেল্টা এলপিজি কোম্পানির আবেদনের বিষয়ে অনাপত্তি জানিয়ে বিইআরসিকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া আমদানিকৃত গ্যাসের প্রকৃত মজুদ এবং সাপ্লাই চেইনের অবস্থা যাচাই করতে মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিশেষ দল চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের স্টোরেজগুলো পরিদর্শন করবে।
সরকারের এসব উদ্যোগের মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে ঢাকা, গাজীপুর এবং সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে। যদিও দেশের অন্যান্য কিছু জেলায় এখনও সীমিত পরিসরে বিক্রি চলছে।
বিকেলে বিইআরসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্দোলনরত ব্যবসায়ীদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে ধর্মঘট প্রত্যাহার বা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেবেন ব্যবসায়ীরা। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন যে আমদানি প্রক্রিয়া শুরু হলেও সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, আমদানির অনুমোদন এবং শুল্ক কমানোর মতো বিষয়গুলো কার্যকর হলে বাজারে গ্যাসের দামও কিছুটা কমতে পারে। মূলত একটি জাতীয় দৈনিকে এলপিজি আমদানির জটিলতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকার দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে তৎপর হয়েছে।


