Home Blog Page 243

রাজার জন্য যে বিচার সবার জন্য সে বিচার নিশ্চিত করতে চাই: জামায়াত আমির

০

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে সবখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। রাজার জন্য যে বিচার সবার জন্য সে বিচার নিশ্চিত করতে চাই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

জামায়াতের আমির বলেন, সারাদেশে ইনসাফ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সব বাহিনীর বেতন কাঠামো সময়োপযোগী করা হবে। সমাজের সব স্তরে নারী অধিকার এবং মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি নদীর যেখানে বাঁধ দিলে বাংলাদেশ তার পানির ন্যায্য অধিকার বুঝে পাবে সেখানে বাঁধ দেওয়া হবে।

ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পুরোনো বন্দোবস্তকে লালকার্ড এবং দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে ভোটারদের ভোটের আমানত হিসেবে ন্যায্য অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির আরও বলেন, ন্যায়বিচার যখন কায়েম হবে এই বাংলাদেশে কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজির রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। চাঁদাবাজদের ধরে এনে কাজে নিয়োগ দেওয়া হবে।

জামায়াত আমির বলেন, মানবিক বাংলাদেশের পক্ষে সর্বত্র গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জও তার গর্বিত অংশীদার। বিগত ৫৪ বছর এ দেশের মানুষ শাসন আর অপশাসন দেখে ক্লান্ত। এখন বাংলাদেশের জনগণ পরিবর্তন চায়। পুরোনো রাজনীতির বন্দোবস্ত আর দেখতে চাই না।

যুবকদের  উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা তোমাদের হাতে অপমানের বেকার ভাতা নয়, প্রতিটি হাত দক্ষ করে গড়ে তুলবো। মর্যাদাপূর্ণ কাজ তোমাদের হাতে তুলে দেব। তোমরাই দেশ গড়বা, তৈরি হয়ে যাও। তোমাদের হাতে দেশের ভার তুলে দিতে চাই। বাংলাদেশ নামক উড়োজাহাজের ককপিটে বসবে যুবকরা, আমরা বসবো প্যাসেঞ্জার সিটে। এ দেশ তারা রকেট গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।

নারীদের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনাদের দুটি জিনিস নিশ্চিত করতে চাই- একটি হচ্ছে সমাজের সব স্তরে অধিকার এবং মর্যাদা আরেকটি নিরাপত্তা।

জামায়াতে ইসলামী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আবুজার গিফফারীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ড. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এ সময় ১১ দলীয় জোটের এনসিপি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম এবং জাগপা সহসভাপতি ও দলের মুখপাত্র রাশেদ খান প্রধানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি আসনের জামায়াতের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন এবং আসন্ন নির্বাচনে তাদের জয়ী করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন জামায়াত আমির।

আইসিসির দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন নাসেরের

০

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এখন আর কেবল ২২ গজের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটি রূপ নিয়েছে রাজনীতি আর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে। আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে ছেঁটে ফেলার ঘটনায় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ালেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার নাসের হুসেইন। একইসঙ্গে আইসিসি ও বিসিসিআইয়ের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি।

স্কাই স্পোর্টসের পডকাস্টে মাইকেল আথারটনের অভিযোগ করেন, আইসিসি কাগজে-কলমে নিরপেক্ষ হলেও বাস্তবে তারা ভারতের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। তার মতে, এই বৈষম্যমূলক আচরণই বিশ্ব ক্রিকেটের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

আইসিসিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে নাসের বলেন, ধরা যাক, টুর্নামেন্টের এক মাস আগে ভারত বলল আমাদের সরকার চায় না আমরা কোনো দেশে খেলতে যাই। তখন কি আইসিসি একইভাবে কঠোর অবস্থান নিত? তখন কি বলত, ‘নিয়ম তো নিয়ম, দুর্ভাগ্য, তোমাদের বাদ দেওয়া হল’?

বিশ্বকাপের মতো মঞ্চ থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি নিয়েও বাংলাদেশ নিজেদের আত্মসম্মান বিকিয়ে দেয়নি। এ নিয়ে নাসের বলেন, ‘আমার সত্যিই ভালো লেগেছে যে বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকেছে এবং নিজেদের  ক্রিকেটার ফিজের (মুস্তাফিজ) পাশে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এই সঙ্কট কোত্থেকে শুরু হয়েছে তাও মনে রাখতে হবে। (মুস্তাফিজুর) রহমান কলকাতার হয়ে আইপিএল খেলছে বা সে স্কোয়াডে ছিল এবং ব্যাখ্যাতীতভাবে হুট করে বিসিসিআই বলল, বাংলাদেশ ও ভারতের চলমান পরিস্থিতির কারণে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত থেকেই বিষয়টি এতদূর এলো। পাকিস্তানও বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে, এটাও ইতিবাচক। একসময় তো কাউকে বলতে হবে, রাজনীতি অনেক হলো, এবার কি আমরা আবার শুধু ক্রিকেটে ফিরতে পারি না?’

নাসেরের মতে, ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির কারণেই আইসিসি তাদের প্রতি নমনীয়। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় সমর্থকরা বলতে পারেন, আমাদের টাকা আছে, তাই ক্ষমতা আছে। কিন্তু ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্বও আসে। বারবার বাংলাদেশ বা পাকিস্তানকে কোণঠাসা করলে তাদের ক্রিকেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণেই ভারত-পাকিস্তান বা ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচগুলো এখন একতরফা হয়ে যাচ্ছে।’

এদিকে পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের ডাক দিলেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরছে না ভারত। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ম্যাচ খেলতে নিয়ম মেনেই শ্রীলঙ্কায় যাবে ভারত দল। প্রতিপক্ষ মাঠে না এলেও অনুশীলন ও সংবাদ সম্মেলনের মতো আনুষ্ঠানিকতা সারবে রোহিত শর্মার দল।

দাঁড়িয়ে পানি খাচ্ছেন? যেসব সমস্যা হতে পারে

০

পানি পান করলে শুধু তৃষ্ণাই মেটে না, সেই সঙ্গে শরীরে পানির  মাত্রা বা ভারসাম্যও বজায় থাকে। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ থাকতে দিনে পর্যাপ্ত পানি খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সঠিক পদ্ধতিতে পানি পান না করলে অনেকসময় তা শরীরের জন্য বিপদজনক হতে পারে। অনেকেই খুব তাড়াহুড়োতে দাঁড়িয়ে পানি পান করেন। এতে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন-

প্রতিদিন আমাদের কমপক্ষে দেড় লিটার পানি খাওয়া উচিত। কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকলে একবারে বেশি পানি খাওয়া যায় না , এর ফলে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা যায়। তাই অনেকে শরীরে অস্বস্তিভাব লক্ষ্য করেন।

দাঁড়িয়ে পানি পান করার শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এটা হতে থাকলে আর্থারাইটিসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দাঁড়িয়ে পানি পান করলে শরীরের ভিতরে থাকা ছাঁকনিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। তখন শরীরের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় এবং শরীরে টক্সিনের মাত্রা বাড়তে থাকে।

পানি কিডনিকে সচল রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু দাঁড়িয়ে পানি খেলে সরাসরি কিডনিতে গিয়ে পরিশুদ্ধ না হতে পেরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে । পরে রক্তের সঙ্গে মিশে শরীরের ক্ষতি করে।

অনেকসময় দাঁড়িয়ে পানি পানে বুকের পেশিতে চাপ পড়ে। তখন আমাদের হৃৎপিণ্ডের উপরেও চাপ সৃষ্টি হয় যা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।

দাঁড়িয়ে পানি খাওয়ার ফলে নার্ভের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এর ফলে মানসিক চাপ বা অ্যাংজাইটি বাড়তে শুরু করে।

পানি পানের কিছু সঠিক পদ্ধতি রয়েছে। যেমন-

১. সবসময়ই বসে পানি পান করা উচিত

২. এক ঢোঁকে না খেয়ে ছোট ছোট চুমুকে পানি পান করা স্বাস্থ্যকর।

পানি পানের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি মেনে চলতে পারলে সহজেই সুস্থ থাকা সম্ভব।

কোলেস্টেরল কমাতে উপকারী ভেষজ

০

বর্তমানের অনিয়মিত জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকেরই কোলেস্টেরলের সমস্যা বেড়েছে। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই শরীর সুস্থ রাখতে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। আর এর জন্য কিছু ভেষজ হয়ে উঠতে পারে মহৌষধি। যেমন-

অর্জুন গাছের ছাল
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় বহু প্রাচীন কাল থেকেই অর্জুন গাছের ছালের ব্যবহার হয়ে আসছে। অনেক কঠিন রোগব্যাধি আটকাতে সক্ষম এই ভেষজ। এমনকী হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও অর্জুন গাছের ছাল বেশ কার্যকর।
আমলকী
আমলকী ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর একটি গুণ। আরও নানা পুষ্টিগুণে পাওয়া যায় এই ফল। এই ফল রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর পাশাপাশি শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
হলুদ
প্রতিদিনের রান্নায় হলুদের ব্যবহারেকোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কারণ হলুদে রয়েছে উপকারী উপাদান কারকিউমিন। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। এর ফলে হৃৎপিণ্ডও ভালো থাকে।
গিলয়
এই ভেষজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। এর পাশাপাশি লিভারের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে।
ধনিয়া
রান্নাঘরের সুপরিচিত মসলা হল ধনিয়া। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে।
মেথি
ডায়েটারি ফাইবারে ভরপুর মেথি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে উপকারী। এই বীজের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

৫৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা মহানগর উত্তর কার্যালয় ৫৭ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে মাদক কারবারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভটকারও জব্দ করা হয়। গত মঙ্গল ও বুধবার রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, উত্তরা এবং গাজীপুরের টঙ্গী থেকে ইয়াবাসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএনসি জানায়, ঢাকা মহানগর উত্তর কার্যালয়ের উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল মঙ্গলবার গভীর রাতে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহ হওয়ায় একটি প্রাইভেটকার তল্লাশী করে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় ছয় হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এসময় গাড়ি থেকে মো. রাজু মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার সহযোগী মো. সুমন মিয়াকে উত্তরা থেকে চার হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাজু মোল্লার স্ত্রী সানজিদা আক্তারকে এবং টঙ্গী থেকে ৪৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ জোৎস্না আকতারকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। এই অভিযান চলে গতকাল বুধুবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান সমকালকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই চারজন দীর্ঘদিন মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তারা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবার বড় চালান এনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় খুচরা মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহ করত। তিনি বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলা করেছেন।

বিনোদন অঙ্গনে একুশে পদক পাচ্ছেন ববিতা, আইয়ুব বাচ্চু ও ওয়ারফেজ

০

বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ১টি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৬ সালের একুশে পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এবারের তালিকায় বিনোদন অঙ্গনের দুই কিংবদন্তি—প্রয়াত ব্যান্ডসংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু এবং অভিনয়শিল্পী ফরিদা আক্তার ববিতা—মনোনীত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নাট্যকলায় একুশে পদক পাচ্ছেন ইসলাম উদ্দিন পালাকার। ব্যান্ডসংগীতে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ মনোনীত হয়েছে একুশে পদকের জন্য। নৃত্যকলায় এই সম্মাননা পাচ্ছেন অর্থী আহমেদ।

এ ছাড়া একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, মেরিনা তাবাশ্যুম, সাংবাদিক শফিক রেহমান, অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং তেজশ হালদার যশ।

উল্লেখ্য, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রদত্ত একুশে পদক দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান। সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, শিল্পকলা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতিবছর এই পদক প্রদান করা হয়ে থাকে।

টিআইবির লোকজনের দিব্যদৃষ্টি নেই

০

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) অনেক ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের বাস্তব সংস্কার কার্যক্রম দেখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, টিআইবির লোকজন চোখে সব কিছু দেখতে পায় না। ওদের তো দিব্যদৃষ্টি নেই, ভালো দৃষ্টিও নেই। দেখতে চাইলেও অনেক কিছু তারা দেখতে পারে না। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এই সরকার উন্নয়ন বা সংস্কার যতটা দৃশ্যমান দেখাচ্ছে, বাস্তবে ততটা হয়নি– টিআইবির এমন দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, টিআইবি শুধু আইনকানুনের দিকটাই দেখে। অথচ অনেক প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে, যেগুলো তারা দেখছে না। উপদেষ্টা বলেন, কেউ যদি না দেখার ইচ্ছা করে, তাহলে অনেক কিছুই উপেক্ষা করা যায়। তবে তিনি টিআইবির বদনাম করছেন না। যেগুলো মৌলিক বিষয়, সেগুলোর দিকে নজর দেওয়ার কথা বলছেন।

দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে দেশের অর্থনীতিকে কোন অবস্থায় রেখে যাচ্ছেন– এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তিনি মনে করেন, অর্থনীতি এখন একটি সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। সামনে যে সরকার আসবে, তাদের খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হবে না। বেকারত্ব বেড়ে যাওয়া সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি বড় চ্যালেঞ্জ। ছোট ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো দরকার ছিল, কিন্তু সে জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংক চেষ্টা করেছে, তবে বড় কারখানাগুলোতে শ্রমনির্ভরতা তুলনামূলক কম।
অর্থনৈতিক অবস্থাকে ‘সন্তোষজনক’ বলা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, সন্তোষজনক বলতে তিনি স্থিতিশীল অবস্থার কথা বোঝাচ্ছেন। অর্থনীতি আগের মতো নড়বড়ে অবস্থায় নেই, ভবিষ্যৎ সরকার এটিকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করে জাতীয় বেতন কমিশন যে প্রতিবেদন দিয়েছে তা অত্যন্ত ভালো বলে মন্তব্য করেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করে যাবে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সঙ্গে বেতন কমিশনের দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রেখে যাবে বলে জানান তিনি।
কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তিনি তাঁর পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন এবং এখন আর কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই।  তাঁর স্ত্রীও পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। উপদেষ্টা বলেন, শুধু তিনি নন, অনেকেই পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী সবারই কূটনৈতিক পাসপোর্ট সারেন্ডার করতে হয়।
সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে মরক্কো, সৌদি আরব এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে মোট দুই লাখ ১০ হাজার টন সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব সার কেনায় মোট ব্যয় হবে এক হাজার ৩৭০ কোটি টাকা।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল আলম (এস আলম) ও তাঁর পরিবারের করা মামলার বিরুদ্ধে লড়তে ব্রিটিশ ফার্ম হোয়াইট অ্যান্ড কেইস এলএলপিকে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আইনি লড়াই ও এ সম্পর্কিত কাজে ফার্মটিকে ঘণ্টায় এক হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে।
এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘অর্থ পাচারের ব্যাপারে এস আলমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো দেশের সরকার বা কোম্পানি ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা দিলে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের আইসিএসআইডি আরবিট্রেশন করে। আরবিট্রেশন আমাদের নোটিশ দিয়েছে। আরবিট্রেশনকে জবাব দিতে হবে আমাদের এবং এটা খুব কমপ্লিকেটেড, সহজ তো না।’
গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত আইসিএসআইডিতে এস আলম ও তাঁর পরিবারের আইনজীবীরা সালিশি মামলার আবেদন জমা দেন। আবেদনে বলা হয়, অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকার যে সম্পদ জব্দ, বাজেয়াপ্ত ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, তাতে তাদের শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তির পরিপন্থি। বর্তমানে সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে তারা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন।

তিন বছর কমার পর সঞ্চয়পত্রে বাড়ছে সরকারের ঋণ

০

টানা তিন অর্থবছর সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ কমার পর এবার বাড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা পেয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে গত ডিসেম্বর শেষে সরকারের এ বাবদ ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪১ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। এদিকে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশই থাকছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেজারি বিল, বন্ডে সুদহার অনেক কমেছে। সে তুলনায় সঞ্চয়পত্রে কম কমেছে। যে কারণে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা সঞ্চয়পত্রে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগ কিছুটা বাড়ছে। সঞ্চয়পত্রের মোট বিক্রি থেকে সুদ ও আসল পরিশোধের পর নিট বিক্রির হিসাব হয়। টানা তিন অর্থবছর নিট বিক্রি কমায় ঋণ স্থিতি কমছিল। ২০২২ সালের জুন শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ স্থিতি ছিল তিন লাখ ৬৪ হাজার ১০ কোটি টাকা। সেখান থেকে কমে গত জুন শেষে তিন লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকায় নেমেছিল।
সঞ্চয়পত্রে গত অর্থবছর সরকারের ঋণ কমেছিল ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছর কমে ২১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কমেছিল তিন হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। তার আগের অর্থবছর বেড়েছিল ১৯ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকের তুলনায় উচ্চ সুদসহ বিভিন্ন কারণে একটি সময় বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হতো। সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ কমাতে তখন কয়েক দফায় সুদহার কমানো হয়। ট্রেজারি বিল, বন্ডের সুদ অনেক বাড়লেও সঞ্চয়পত্রে কম ছিল। সব মিলিয়ে গত তিন অর্থবছর ধরে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেছে। এ সময়ে ট্রেজারি বিল, বন্ডে ব্যক্তি বিনিয়োগ কয়েকগুণ বেড়েছে। গত কয়েক মাস ধরে বিল, বন্ডের সুদহার কমে ১০ শতাংশের ঘরে নেমেছে। গত বছরের এ সময়ে যা ১২ থেকে ১৩ শতাংশের কাছাকাছি ছিল।
বাজেট ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছরই সরকার অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণের একটি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে। চলতি অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১৪ হাজার কোটি টাকায় নামানো হয়। এবারে ব্যাংক থেকে সরকার ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। গত ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকার নিয়েছে ৫৯ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছর ৯৯ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকার নিয়েছিল ৭২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা।

দেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচারের প্রভাব ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কার্যক্রম কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা তলানিতে নেমেছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। দুই যুগের বেশি সময়ের মধ্যে যা সর্বনিম্ন। মূলত সরকার পতনের পর থেকে অর্থ পাচার নিয়ে কড়াকড়ি এবং মূল্যস্ফীতি কমানোর ওপর জোর দিয়েছে সরকার। গত ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর বাড়ছে না: পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের মুনাফার ওপর অনেক আগ থেকে ৫ শতাংশে উৎসে কর কাটা
হয়। তবে হঠাৎ করে গত জানুয়ারিতে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে মুনাফা দেয় সরকার। এতে করে সঞ্চয়কারীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এ অবস্থায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত মঙ্গলবার জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশই থাকছে। কোনো ব্যক্তি যদি সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম না করে তাহলে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার হবে ৫ শতাংশ।

সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে: জামায়াত আমির

০

সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, এই বাংলাদেশে যারা মাইনোরিটি অধিকার নিয়ে বেশি হাল্লাচিল্লা করতেন। সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকার আপনাদের পাশে সাঁওতাল পল্লীতে (গাইবান্দার সাহেবগঞ্জ) কি করেছে আপনারা কি দেখেন নাই? তাঁরা কি আমাদের ভাই-বোন না? তাঁরা কি এ দেশের নাগরিক না? আমরা তাঁদেরকে কথা দিচ্ছি, আমরা সবাইকে বুকে ধারণ করে সামনে আগাবো। আমরা সকলের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করব।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে নওগাঁ জেলা জামায়াতেই ইসলামী আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াতের আমির বলেন, কোনো পরিস্থিতি হলেই যারা মুসলমান নন, তাঁরা ভয়ের সংস্কৃতিতে থাকবে কেন? সেই ভয়ের সংস্কৃতিকে আমরা গুড়িয়ে একাকার করে দিতে চাই। সেই পরিবেশ আমরা রাখব না। এদেশ আমাদের সকলের। সবাইকে নিয়েই আমরা চলব।

নারীদের ঘরে ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মায়েদের জন্য ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে সব জায়গায় মর্যাদা আর নিরাপত্তা এই দুইটা জিনিস নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম সাহস করবে না নারী জাতির কারও দিকে চোখ তুলে তাকানোর। সেই পরিবেশ তৈরি করা হবে। এই অবস্থা দেখে অনেকে বেসামাল। ভাই মাঘ মাসে মাথা গরম করবেন চৈত্র মাস সামনে। এখনই যদি মাথা গরম করেন চৈত্র মাসে কি করবেন। মাথা ঠান্ডা রাখেন। মানুষ কি ভাবছে কান পেতে শোনেন। দেশ বাঁচলে আপনিও বাঁচবেন। এই ভোটটা আগামীতে হবে ইনশাআল্লাহ ইনসাফের প্রতীক।’

জামায়াত আমির বলেন, যারা নারীদের হুমকি-ধামকি, গায়ে হাত তোলেন, তাঁদের মনে করিয়ে দিতে চাই, জুলাইয়ের ১৫ তারিখে মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়ার জন্য যেভাবে যুবক ভাইয়েরা গর্জে উঠেছিল। আবার বিস্ফোরিত হবে, গর্জে উঠবে। মায়ের অপমান সহ্য করবে না।

সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের জামায়াত প্রশ্রয় দেবে না উল্লেখ করে জামায়াতে আমির বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার চাঁদাবাজি আমরা করি না। চাঁদাবাজি আমরা কাউকে করতে দেব না। দুর্নীতি আমরা পছন্দ করি না। বগলের নিচে দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেব না। ব্যাংক ডাকাতি আমরা করি না। কোনো ব্যাংক ডাকাতের সঙ্গে আমাদের আপস হবে না। মামলাবাজি আমাদের কাসলত নয়। মামলা বাণিজ্য যারা করেছে তাঁদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’

তিনি বলেন, ৫৪ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তাঁরা নিজেদের পকেট পুরেছেন। ব্যাংক, বীমা লুট করেছে। বড় বড় মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতি করেছে। দুর্নীতির টাকা দেশে রাখতে পারে নাই। সেই টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ক্ষমতায় এলে এই সব চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে নিয়ে আনা হবে।’

উত্তরবঙ্গ কৃষির রাজধানী উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সারা দেশের মধ্যে নওগাঁ জেলায় দশ ভাগের এক ভাগ আম ও ধান উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু এই জেলা তার ন্যায্য পাওনা পাইনি। নওগাঁ শহরের ভেতর দিয়ে চলা প্রধান সড়কটি চারলেন হওয়া দরকার। জামায়াত ক্ষমতায় এলে এই সড়কটি চারলেন করা হবে। এই জেলায় ব্যাপক পরিমাণে ধান ও ফল উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু কৃষকরা তাঁদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় না। উৎপাদিত ফল সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার তৈরি করা হবে। ফল প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি করা হবে। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো সংরক্ষণ করে পর্যটন শিল্পকে আরও বিকশিত করা হবে।’

নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, নওগাঁ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নওগাঁ-৫ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আ স ম সায়েম, নওগাঁ-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম, নওগাঁ-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান, নওগাঁ-৬ আসনের জামায়াতের প্রার্থী খবিরুল ইসলাম, ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির প্রমুখ।

অপপ্রচার-মিথ্যা দিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির শিকড় উপড়ানো যাবে না: রিজভী

০

অপপ্রচার আর মিথ্যা দিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির শিকড় উপড়ে ফেলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার জাতীয় শিল্পকলার চিত্রশালা মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) আয়োজনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার প্রচারণামূলক সঙ্গীত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির শিকড় এত গভীরে যে একটা গাছ বা বটগাছের শিকড় যতদূরে যায়, তার চাইতেও অনেক গভীরে। এই শিকড়কে অপপ্রচার এবং মিথ্যাচার চালিয়ে উপড়ে ফেলা যাবে না। এটাকে নুইয়ে ফেলা যাবে না। এটা একেবারে সোজা মেরুদণ্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন। এই নির্বাচনে আমাদেরকে একটি সংগ্রামের মতো বিজয় ঘটাতে হবে। কারণ চারিদিকে নানা চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার, মিথ্যাচার এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা বট বলে একটা জিনিস তৈরি হয়েছে।

জাসাস নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, এই সমস্ত কুৎসা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমাদের কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, গীতিকার, অভিনয় শিল্পী, সুরকার যারা আছেন- সবাই মিলে আপনাদের সুললিত ধ্বনি এবং আপনাদের অত্যন্ত শক্তিশালী শব্দ-সবগুলোকে ব্যবহার করে এই অপপ্রচারের যে কষাঘাত চলছে, সেটাকে আমরা পরাজিত করবো। আমরা সত্য, ন্যায় এবং ধানের শীষের নিশ্চিত বিজয় ঘটাতে সম্পন্ন হবো।

এসময় জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।