Home Blog Page 25

মহাকাশ চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের প্রতিযোগিতা

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পক্ষ থেকে ঠিকাদারদের একটি পারমাণবিক চুল্লি (নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর) তৈরির প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। ওই নির্দেশনা দেওয়া হয় গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে। চুল্লিটি মহাকাশ যাত্রায় টিকে থাকার পাশাপাশি চাঁদের দক্ষিণ মেরু এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই চলতে পারবে।

নাসা ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করতে চাচ্ছে। সংস্থাটির এই তাড়াহুড়োর পেছনে একটি কারণ আছে। চীনের সঙ্গে গোপন চুক্তির ভিত্তিতে ২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে একটি পারমাণবিক চুল্লি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রাশিয়া। আর তাই প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে যেতে নাসা তাদের সময়সূচি এগিয়ে এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন– উভয়ই সবার আগে চাঁদে নিজেদের ঘাঁটি স্থাপন করতে চায়। তাদের লক্ষ্য উপগ্রহটিতে জমে থাকা বরফ বা পানির মতো সম্পদের সন্ধান করা এবং সৌরজগতের আরও গভীরে অভিযান চালানো। এই অভিযানের জন্য চাঁদের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। দুই পরাশক্তির বিশ্বাস, উচ্চাকাঙ্ক্ষাটি পূরণের মূল হাতিয়ার হলো একটি পারমাণবিক চুল্লি।
দেশগুলোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুল্লিগুলো চাঁদে পৌঁছানোর পরই কেবল সেগুলো চালু করা হবে। তবে শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন বিজ্ঞানী এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, কয়েকটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের পরও দেশগুলো মহাকাশ গবেষণায় অনেক বেশি তাড়াহুড়ো করছে।

গত ছয় বছরে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার একাধিক রকেট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ ও বিস্ফোরিত হয়েছে। চুল্লি স্থাপনে কোনো ব্যর্থতার কারণে মারাত্মক পরিণতিসহ চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টসের পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিরাপত্তাবিষয়ক পরিচালক এডউইন লিম্যান বলেন, মহাকাশ প্রতিযোগিতার সঙ্গে যদি পারমাণবিক শক্তি যুক্ত হয়, তবে তা সম্ভাব্য আরও বিপদের দিকে মোড় নিতে পারে।

এদিকে, উপগ্রহটিতে যে কোনো স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। পারমাণবিক চুল্লিগুলো চালানোর জন্য সূর্যের আলো দরকার হয় না। এগুলো আকারেও বেশ ছোট হতে পারে। নাসা ও কুরচাতভ ইনস্টিটিউটের মতে, সঠিকভাবে নকশা করা গেলে এগুলো পরিচালনায় মানুষের হস্তক্ষেপেরও তেমন প্রয়োজন হবে না।

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নাসা ২০২৮ সালের ডিসেম্বরে মঙ্গলগ্রহে একটি মহাকাশযান পাঠাতে চায়, যেটিতে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, এমন ঘটনা আগে ঘটেনি।
এর আগে প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত সময়সূচি কয়েক দফায় পেছানো হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশগুলো তাদের কাজ শেষ করতে পারবে বলে আশা করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া চাঁদের অমসৃণ পৃষ্ঠে ভারী এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ নামাতে সক্ষম ল্যান্ডারও কারও কাছে নেই।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া জানিয়েছে, চাঁদে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তাদের চুল্লিগুলো নিষ্ক্রিয় থাকবে। বিজ্ঞানীদের ভাষায় এটিকে ‘আন-ইরেডিয়েটেড’ বা তেজস্ক্রিয়তামুক্ত বলা হয়। এর ফলে ঝুঁকি অনেকটাই কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে রকেট উৎক্ষেপণের সময়। মহাকাশে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লিওপোল্ড সুমারার বলেন, উৎক্ষেপণের মুহূর্তটিতে প্রচুর ঝুঁকি থাকে। অতীতে রকেট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হওয়ার অনেক ঘটনা ঘটেছে।

বেশির ভাগ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রই (লঞ্চপ্যাড) কোনো না কোনো জলাশয়ের কাছাকাছি অবস্থিত। কোনো চুল্লি পানিতে আছড়ে পড়লে নিউট্রনের গতি কমে যায়। ফলে পরমাণু বিভাজনের শঙ্কা বাড়ে। এটি একটি চুল্লিকে ‘ক্রিটিক্যাল’ পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারে।

পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৯ সালে রাশিয়ায় সম্ভবত এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় চুল্লিচালিত একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যর্থ হয়ে শ্বেত সাগরে (হোয়াইট সি) আছড়ে পড়ে। তবে রাশিয়া এই দাবি অস্বীকার করে বলেছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটি চুল্লিচালিত ছিল না।

নাসা বলেছে, তারা বিপদ এড়াতে সক্ষম এমন নকশা তৈরি করছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি কোম্পানি রোসাটম মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

জনগণ নিরাপদ নয় এমন সরকারের দরকার নেই: বিরোধীদলীয় নেতা

শুধু স্বাস্থ্যখাত নয় দেশে সব প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, যে সরকারের অধীনে জনগণ নিরাপদে ঘুমাতে পারে না, সে সরকারের দরকার নেই।

আজ রোববার রাজধানীর হাতিরঝিলের মধুবাগ মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। জামায়াত আমির বলেছেন, ব্যাংক, বিমা, পুঁজিবাজার মাটির সঙ্গে হামাগুড়ি খাচ্ছে। দিনে-দুপুরে খোদ রাজধানীতেই বিভিন্ন রকম অপকর্ম চলছে- যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য রয়েছেন। রাজধানীর অবস্থা থেকে বুঝা যায় সারা দেশের অবস্থা কী।

বিমানবন্দরে হট্টগোলের মামলায় জামায়াতের সহযোগী সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে তাঁর মুক্তি দাবি করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সেদিন বিমানবন্দরে জামায়াতের ৩৪ এমপি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে। আখতারুজ্জামানকে উত্ত্যক্ত করা হয়েছে।

মেজর আখতার অপরাধী নন, প্রতিবাদ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন জামায়াত আমির। তিনি বলেছেন, আখতারুজ্জামান প্রতিবাদ করেন দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখা প্রবাসীদের জন্য। যাদের ব্যাগ কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করা হয়। তিনি এসবের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তাকে হাতকড়া পরানো হয়েছে। অপমান করার জন্য হেলমেট পড়ানো হয়েছে। তা দেশের ১৮ কোটি মানুষ জানুক।

সরকারকে সতর্ক করে শফিকুর রহমান বলেছেন, মেজর আখতারের গ্রেপ্তারকে প্রবাসীরাও হালকাভাবে নেবে না। সরকারকে সাবধান করে দিচ্ছি। একটি মেডিকেল কেন্দ্র রাতের অন্ধকারে ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হলো, সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন করা হলো, যেখানে জনপ্রতিনিধিরা আড়ালে আবডালে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জনগণের চোখে ধুলো দিতে একজন এমপিকে পদত্যাগ করিয়েছেন, দল থেকে বহিষ্কার করেননি। গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনেননি। জনগণকে বোকা ভাববেন না, আড়াল করতে পারবেন না।

৯ মাসে ডেঙ্গুতে ২৬২ জনের মৃত্যুর জন্য সরকারকে দায়ী করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর আগে হামে মৃত্যুর ঘটনায় সরকার অতীতের সরকারকে দায় দিয়েছে। কিন্তু এ সরকার গত সাত মাসে কি করল? এখনও হাম ও ডেঙ্গুতে মানুষ মরছে। ব্যর্থতা স্বীকার করে নেন। বিশ্বে ডেঙ্গুর টিকা আছে। কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সরকারিভাবে টিকা আনার যদি উদ্যোগ না থাকে, তাহলে বেসরকারিভাবে আনার রাস্তা খুলে দেন। দুর্যোগে জামায়াত বসে থাকার সংগঠন নয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধ সপ্তাহ ঘোষণা করেছি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জামায়াত সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সেলিমউদ্দিন এবং দক্ষিণে আবু সাদিক কায়েম আছেন। গ্রাম পর্যন্ত জামায়াতের সহকর্মীরা জনগণের কাছে পৌঁছে যাবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার চরম ব্যর্থ হয়েছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর জায়গা হয় না। সরকার পারছে না, দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা দাঁড়াবার চেষ্টা করছি।

স্থানীয় এমপি সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, বিএনপি চাঁদাবাজ, দখলবাজ দলে পরিণত হয়েছে।

মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধন কর্মসূচিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তৃতা করেন।

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদ এনসিপির

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এনসিপি। গতকাল রোববার রাতে দলটির পক্ষ থেকে মিডিয়া সেলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাকারী ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাতের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ফেসবুক পোস্টের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান নেন। এ সংবাদ সংগ্রহে গেলে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। হামলায় সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু, ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম আহত হয়েছেন। জাহিদুল ইসলাম মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা এ সময় সাংবাদিকদের ‘পুঁতে ফেলার’ হুমকিও দেয়। এই হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমসহ অন্তত ১০ জন নেতা-কর্মী সরাসরি অংশ নেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্তবুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের এ ধরনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ প্রশাসনও এর দায় এড়াতে পারে না। ক্যাম্পাসগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সংবাদকর্মীদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে মতপ্রকাশের পরিবেশ অবিলম্বে ফিরিয়ে আনতে হবে। ক্যাম্পাসে সব ধরনের সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রাজনীতি শক্ত হাতে প্রতিহত করবে।

আরও ১৯৪ কিশোর আটক সাদা কাগজে সই, নিয়ম না মেনে জিজ্ঞাসাবাদ

০

সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে বের হয়েছিল ১৪ বছরের কিশোর সুমন। রাত ১১টা পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় সন্তানের খোঁজে উদ্বিগ্ন মা তাহের বানু ছুটে যান থানায়। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, কয়েকজন বন্ধুসহ তাঁর ছেলেকে পুলিশ ধরে নিয়ে এসেছে।

কী অপরাধ করেছে, তখনও তা পরিষ্কার ছিল না লক্ষ্মীপুর পৌরসভার এই বাসিন্দার কাছে। সন্তানকে ছাড়িয়ে নিতে তাঁকে শেষ পর্যন্ত সাদা কাগজে সই করতে হয়। আবার অভিভাবকসহ এসব কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের ছবি-ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় সমাজসেবা কর্মকর্তা বা প্রবেশন অফিসার না রাখা এবং ছাড়িয়ে আনতে অভিভাবকদের হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।

সর্বশেষ গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল রোববার পর্যন্ত চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৯৪ জনকে আটক করা হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চাঁদপুরে পাঁচ দফা পর্যন্ত এই অভিযানে তিন হাজার ২৩৪ জনকে আটক করা হয়।

এরই মধ্যে গত শুক্রবার রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানা পুলিশের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম পলাশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রায় ৯ মিনিটের ওই ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, আটক কিশোরদের থানায় অভিভাবকদের পাশে দাঁড় করিয়ে নাম, পরিচয় এবং আটকের ঘটনাস্থল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ সময় ওসিকে বলতে শোনা যায়, ‘কাউকে এক টাকাও দিবেন না, দিলে আল্লার কাছে ঠেকা থাকবেন।’ পাশাপাশি তিনি অভিভাবকদের সামনে দাঁড় করিয়ে নিজের ছেলেদের চুল ছোট করার নির্দেশও দেন।

এভাবে প্রকাশ্যে কিশোরদের ভিডিও ধারণ ও ফেসবুকে প্রকাশ করা কতটা আইনসংগত– এমন প্রশ্নে ওসি সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘অভিভাবকদের ভালো উদ্দেশ্যে তাদের সন্তানদের সামনে কিছু ভালো পরামর্শ দিয়েছি।’

ওসির ফেসবুকে আটক কিশোরদের ভিডিও পোস্ট করা ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান। তিনি সমকালকে বলেন, ‘এ বিষয়ে ওসিকে সতর্ক করে দেওয়া হবে।’

অপরাধ প্রমাণের আগেই কিশোরদের ছবি ও ভিডিও এভাবে ছড়িয়ে দেওয়ায় জনমনে এই অভিযান নিয়ে স্বস্তির পরিবর্তে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নোয়াখালীর সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসার শ্যামল পাল বলেন, যে কোনো অপরাধে শিশু-কিশোর আটক হলে থানা পুলিশ জেলা প্রবেশন অফিসারকে অবহিত করবে এবং তাঁর সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করার বিধান রয়েছে। জেলা পুলিশের গত এক সপ্তাহের অভিযানে আটক কিশোরদের সম্পর্কে সমাজসেবা অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। তবে তাদের সামনে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।

সাদা কাগজে মুচলেকা ও হয়রানির অভিযোগ 

অভিভাবকদের বড় একটি অভিযোগ হলো, আটক কিশোরদের ছাড়িয়ে আনতে গেলে তাদের কাছ থেকে কোনো নির্ধারিত ফরমে নয়, বরং সাদা কাগজে স্বাক্ষর বা মুচলেকা নিয়ে সন্তানদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্মীপুরের এক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘সাদা কাগজে সই করতে দেওয়া হয়েছে। সেখানে কী লেখা ছিল, তা পড়ার সুযোগ বা পরে কাগজের কপি আমাদের দেওয়া হয়নি। সন্তানকে নিয়ে চিন্তায় থাকায় আমরা সই করে তাকে নিয়ে বাড়ি চলে আসি।’

কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার সামনে গত শনিবার দুপুরে ২৩ বছর বয়সী স্বামী রাকিবুল ইসলাম রিফাতকে ছাড়িয়ে নিতে অপেক্ষা করছিলেন স্ত্রী আকলিমা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী পেশায় রাজমিস্ত্রি। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে শহরতলির বালুতোপা এলাকা থেকে পুলিশ রিফাতকে কিশোর গ্যাং সন্দেহে ধরে নিয়ে আসে। তাঁর নামে কোনো মামলা নেই। পুলিশ তাঁকে ছাড়ছে না, দেখা করে পানি ও পাউরুটিও দিতে পারছি না।’

নগরীর নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া আটক ছাত্রের মা বলেন, ‘পুলিশের এ অভিযান চালু থাকুক। তবে নিরপরাধ ছেলেদের আটক করে যেন হয়রানি করা না হয়।’

আটক আরেক কিশোরের বাবা ব্যবসায়ী চান মিয়া বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিবি কার্যালয়ে চেষ্টা তদবির করে ছেলেকে মুক্ত করি। ছেলের কোনো অপরাধ ছিল না।’

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনআরডিএসের নির্বাহী পরিচালক ও সমাজবিজ্ঞানী আবদুল আউয়াল বলেন, আমাদের সমাজে কিশোরদের মাঝে অপরাধে জড়িয়ে পড়া উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। রাষ্ট্রের কিশোর অপরাধীদের সংশোধনের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, কিশোর-কিশোরীরা জন্মগতভাবে অপরাধী হয় না। তারা মূলত সমাজের পরিবেশ, পারিবারিক বিশৃঙ্খলা, দারিদ্র্য, সঙ্গদোষ বা সঠিক নির্দেশনার অভাবে অপরাধের পথ বেছে নেয়। এ জন্য তাদের শুধু অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে, অপরাধের মূল সামাজিক কারণগুলোও চিহ্নিত করতে হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেন, কিশোর ও উঠতি বয়সী তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখা এবং সচেতন করার লক্ষ্যেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের অপ্রয়োজনীয় আড্ডা এবং অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালানো হয়েছে।

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে মোট তিন হাজার ২৩৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে দুই হাজার ৪২ জনকে আটক করা হয়; যাদের এক হাজার ২০৯ জন মুচলেকায় মুক্ত হলেও ৮৩৩ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

লক্ষ্মীপুরে তিন দিনের অভিযানে ২৬৬ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ২১৫ জন মুচলেকায় ছাড়া পান এবং ৫১ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। অন্যদিকে, নোয়াখালীতে গত শনিবার রাতে ১৭০ জনসহ ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে মোট ৮৫১ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া চাঁদপুরের মতলব উত্তরে শনিবার সন্ধ্যার পর পরিচালিত অভিযানে ২১ কিশোরকে আটক করা হয়, যাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় একই অভিযানে ৫১ জনকে আটক করা হয়।

এদিকে, চট্টগ্রামের খুলশীর জালালাবাদে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বিহারী বগাকে নারী ও তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে গ্রেপ্তারের পর গতকাল তাদের কারাগারে পাঠান আদালত। অন্য আসামিরা হলেন– মো. আবদুল হান্নান, মো. মনির হোসেন ওরফে ইমন ও সাবিহা বেগম। এর মধ্যে হান্নান ও ইমনের বিরুদ্ধে পাঁচ থেকে ছয়টি করে মামলা রয়েছে।

বিশ্ব শিশু দিবস আজ একই বয়স, শৈশব দুই রকম

একই বয়সের দুটি শিশু, অথচ শৈশব দুই রকম। একজনের দিন শুরু হয় স্কুলের পোশাক পরে বই-খাতা গুছিয়ে। অন্যজনের দিন কাটে জীবিকার তাগিদে। একজন বেড়ে ওঠে বই, ইন্টারনেট ও পড়ার অনুকূল পরিবেশে। অন্যজন বেড়ে ওঠে অভাব, অপুষ্টি আর অনিরাপদ পরিবেশে। বৈষম্যের দেয়াল আলাদা করে দেয় তাদের বেড়ে ওঠার পথ।

বাংলাদেশে আজ ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিশু দিবস পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর অক্টোবরের প্রথম সোমবার দিবসটি পালন করা হয়। শিশু অধিকার ও সুরক্ষার নানা দিক সামনে রেখে এবারও দিবসটি উদযাপিত হবে। উদযাপনের পাশাপাশি দেশের সব শিশু কি সমান অধিকার ও সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠছে কিনা– সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।

এ বছর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে শিশুদের জীবনযাত্রার একটি বিস্তৃত চিত্র উঠে এসেছে। ৬২ হাজার ৯৮০টি পরিবারের নমুনার মধ্যে ৬১ হাজার ২০৭টি পরিবার থেকে সফলভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

জরিপে ১৭৩টি সূচক অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। শিক্ষায় অগ্রগতি থাকলেও ঝরে পড়ার চিত্রটি উদ্বেগের। প্রাথমিক স্তরে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ৮৫ শতাংশ হলেও নিম্ন মাধ্যমিকে তা ৬০ দশমিক ১ এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ।

উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বয়সসীমায় ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে। আবার ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মাত্র ৫০ দশমিক ২ শতাংশের ভিত্তিগত পাঠদক্ষতা এবং ৩৯ দশমিক ২ শতাংশের ভিত্তিগত সংখ্যাগত দক্ষতা রয়েছে।

একটি বেসরকারি স্কুলে কর্মরত চাকরিজীবী ও অভিভাবক শাহানা জামান নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, বাবা-মা চাকরি করলে সন্তানকে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। স্কুলের পড়া, অনলাইন ক্লাস, খাবার ও নিরাপত্তা– সব সামলাতে বাড়তি সহায়তা দরকার হয়। অনেক পরিবার সেই সুযোগ পায় না। ফলে একই শহরে থেকেও শিশুর সুযোগের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হয়।
শিশুশ্রমও সেই বৈষম্যের বড় উদাহরণ। এমআইসিএস ২০২৫ অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ৯.২ শতাংশ শিশুশ্রমে যুক্ত। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৬.৮ শতাংশ।

কন্যাশিশুর সামনে এখনও বড় বাধা বাল্যবিবাহ। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই হয়েছে। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের ৩৮.৯ শতাংশ বর্তমানে বিবাহিত। যদিও ২০১৯ সালের তুলনায় বাল্যবিবাহের হার কমেছে, পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।

শিশুর নিরাপত্তার চিত্রও স্বস্তিদায়ক নয়। এক থেকে ১৪ বছর বয়সী ৮৫ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু গত এক মাসে শারীরিক শাস্তি বা মানসিক আগ্রাসনসহ সহিংস শৃঙ্খলার অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্মনিবন্ধনের হার ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ।

পুষ্টির ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২৪ শতাংশ খর্বাকৃতির, ১২ দশমিক ৯ শতাংশ দুর্বল ও অতিরিক্ত রোগা এবং ২৩ শতাংশ কম ওজনের। ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের মাত্র ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাদ্য পাচ্ছে।

অভিভাবক এবং জিম ট্রেইনার ফাহমিদা হক বলেন, ‘আমরা দুজনই চাকরি করি। সন্তানের জন্য ভালো খাবার ও ভালো স্কুল নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। শিশুর নিরাপত্তা, মানসিক বিকাশ, সময় দেওয়া এবং সুস্থ পরিবেশও দরকার। কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য এ জায়গাগুলোতে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা আরও প্রয়োজন।’

শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশের প্রশ্নেও উদ্বেগ আছে। উন্নত পানির উৎস ব্যবহার করলেও নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত পানির সুবিধা পাচ্ছে মাত্র ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। পানির উৎসের ৪৭ দশমিক ১ শতাংশে ই. কোলাই দূষণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৩৮.৪ শতাংশের রক্তে উচ্চমাত্রার সিসা পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে এমআইসিএস ২০২৫-এর তথ্য বলছে, বাংলাদেশের শিশুদের জন্য অগ্রগতি যেমন হয়েছে, তেমনি বৈষম্য ও ঝুঁকিও রয়ে গেছে। কোনো শিশু স্কুলে যাচ্ছে, অন্য শিশু শ্রমে যুক্ত; কেউ পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে, কেউ অপুষ্টিতে আছে; কেউ নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠছে, কেউ সহিংসতার শিকার হচ্ছে।

সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, অগ্রগতির পাশাপাশি এখনও পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু, যাদের জন্য প্রয়োজন লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা ও সেবার সুযোগ। শিশুতে শিশুতে পারিবারিক বাস্তবতায় পার্থক্য থাকলেও তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের বিশ্ব শিশু দিবসে শিশুদের অধিকার ও সুযোগের এই বৈষম্য কমানোর বিষয়টিই আলোচনায় রয়েছে।

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ভবন ধ্বংস, নিহত ৫

ইসরায়েলি বিমান হামলায় আগুন লেগে গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার ভোরে নিহতদের মধ্যে এক খ্রিষ্টান মা, মেয়েসহ চারজন নারী রয়েছেন। হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

নিহত বেড়েছে ১১৪ শতাংশ
২০২৬ সালের শুরু থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি দখলদারদের হামলায় ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ফিলিস্তিনের কলোনাইজেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্যান্স কমিশন জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ২০২৫ সালের পুরো বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বা প্রায় ১১৪ শতাংশ বেড়েছে। নিহতের ৭৩ শতাংশই রামাল্লাহ ও আল-বিরেহ এবং নাবলুস প্রদেশের।

কমিশন জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ও তাদের জমি-সম্পত্তির ওপর ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা মোট ২ হাজার ৫১টি হামলা চালিয়েছে। গত মাসে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ধ্বংসযজ্ঞে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৩২০ ফিলিস্তিনি। তাদের মধ্যে ১৬৪ শিশু ও ৬৪ নারী রয়েছেন।

জুনে জাতিসংঘের ১৪ জন বিশেষ প্রতিবেদক সতর্ক করে বলেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি রাষ্ট্রের সমর্থন ও সহযোগিতায় বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাস উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক সরকারি প্রতিবেদনে ফলের দাম বাজারের চেয়ে অনেক কম

কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে আমদানি করা কমলা ও মাল্টার দাম বেশ বেড়েছে। বর্তমানে কেজিপ্রতি ৫০০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ফলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে গতকাল শনিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৈঠকে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে মাল্টার দাম কেজিপ্রতি ২৪০ থেকে ৩২০ টাকা এবং কমলার দাম ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু রাজধানীর বাজারের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে ফলের দামে বড় ধরনের ফারাক রয়েছে। কোন তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন এ দাম নির্ধারণ করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলের দাম কম দেখালেও দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বেশি।

সভায় মাল্টার বর্তমান বাজারদর নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর ও অন্যান্য ব্যয় বিবেচনার পরও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম কীভাবে ৫২০ টাকায় পৌঁছায়, ব্যবসায়ীদের কাছে তার ব্যাখ্যা চান তিনি।

বাজারদরের সঙ্গে বড় ফারাক

কারওয়ান বাজারের খুচরা ফল বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম সমকালকে জানান, গতকাল তিনি কেজিপ্রতি মাল্টা বিক্রি করেছেন ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায়। প্রতিকেজি কমলা বিক্রি করেছেন ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়। জিগাতলার ট্যানারি মোড়ের ফল বিক্রেতা আমিনুল হকও এ দুই ফলের দামের বিষয়ে প্রায় একই রকম তথ্য দেন।

ট্যারিফ কমিশন কেন ফলের দাম এত কম উল্লেখ করেছে জানতে চাইলে কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) নাসির-উদ-দৌলা সমকালকে বলেন, বিষয়টি ভালোভাবে জানতে হবে, প্রয়োজন আছে। তিনি প্রতিবেদনটি যে তৈরি করেছেন, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। কিন্তু ওই কর্মকর্তাকে ফোন ও এসএমএস করলে তিনি সাড়া দেননি।

পাঁচ ফলের  বেশির ভাগই  আমদানি 
সভায় মাল্টা, কমলা, আপেল, আঙুর ও খেজুর– এই পাঁচটি তাজা ফল নিয়ে আলোচনা হয়। কমিশনের উপস্থাপনা অনুযায়ী, দেশে আমদানি করা তাজা ফলের বার্ষিক চাহিদা পাঁচ থেকে ছয় লাখ টন। এর মধ্যে আপেল ও মাল্টার চাহিদা প্রায় ৭৭ শতাংশ। রমজান ও ধর্মীয় উৎসবের কারণে খেজুরের বার্ষিক চাহিদা দাঁড়ায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টনে, যার ৬০ শতাংশই ব্যবহৃত হয় রমজানে।

আপেল, সাধারণ মাল্টা, কমলা, আঙুর ও খেজুর জলবায়ু ও বাণিজ্যিক কারণে বাংলাদেশে অত্যন্ত সীমিত বা নগণ্য পরিমাণে উৎপাদিত হয়। তাই এসব ফলের চাহিদার ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশ আমদানি করে মেটাতে হয়। যদিও পেয়ারা, ড্রাগন ও আমের দেশীয় উৎপাদন পর্যাপ্ত।

মূলত চীন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ব্রাজিল, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব ফল আসে। আমদানির ওপর নির্ভর করায় আমদানি পর্যায়ের শুল্ক-করসহ যে কোনো খরচ ও জটিলতার প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়ে।

শুল্ক-করেই দাম দ্বিগুণ

কমিশনের উপস্থাপনা অনুযায়ী, ফল আমদানিতে বিভিন্ন শুল্ক ও কর মিলিয়ে মোট করভার দাঁড়ায় ৯৬ দশমিক ১০ থেকে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ আমদানি মূল্যের প্রায় সমান বা এর চেয়ে বেশি কর দিতে হয়।

এই করভারের মধ্যে রয়েছে ২৫ আমদানি শুল্ক, ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক অতিরিক্ত শুল্ক। এর সঙ্গে যুক্ত হয় শূন্য থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম কর।

উচ্চমূল্যের তিন কারণ
কমিশনের প্রতিবেদনে উচ্চমূল্য ও বাজার অস্থিতিশীলতার তিনটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথম কারণ, বিলাসদ্রব্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধকরণ। জরুরি পুষ্টি উপাদান হওয়া সত্ত্বেও তাজা ফলকে বিলাসদ্রব্য গণ্য করে উচ্চ কর আরোপ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় কারণ, শুল্কায়নযোগ্য মূল্য। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রকৃত বুকিং দরের চেয়ে বেশি মূল্য ধরে কাস্টমসে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। এতে একই শুল্কহারেও আমদানিকারককে বেশি কর দিতে হয়।

তৃতীয় কারণ, সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধা। আমদানিকারকের সংখ্যা সীমিত, তার ওপর হিমাগার সংকট রয়েছে। এতে সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি দাম
কমিশনের উপস্থাপনায় দক্ষিণ এশিয়ার চার দেশের সঙ্গে ফলের দামের তুলনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের তুলনায় বাংলাদেশে সব ফলের দাম অনেক বেশি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি কেজি আপেলের দাম ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা। যেখানে ভারতে ১৫০ থেকে ২২০, পাকিস্তানে ১১০ থেকে ১৭০ এবং নেপালে ১৬০ থেকে ২৪০ টাকা। শ্রীলঙ্কায় এর দাম ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা।

আঙুরের দাম বাংলাদেশে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, ভারতে ১৩০ থেকে ২০০, পাকিস্তানে ১০০ থেকে ১৬০, নেপালে ১৫০ থেকে ২৩০ এবং শ্রীলঙ্কায় ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকা।

সাধারণ খেজুর বাংলাদেশে ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, ভারতে ১৬০ থেকে ২৬০, পাকিস্তানে ১২০ থেকে ২০০, নেপালে ১৮০ থেকে ২৮০ এবং শ্রীলঙ্কায় ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা। উপস্থাপনায় শুধু শ্রীলঙ্কাতেই দাম বাংলাদেশের চেয়ে বেশি বা কাছাকাছি দেখানো হয়েছে।

সমাধানে তিন প্রস্তাব
পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্যারিফ কমিশন সম্ভাব্য কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা হিসেবে তিনটি প্রস্তাব দিয়েছে। প্রথমত, শুল্ক কাঠামো যৌক্তিকীকরণ। এর আওতায় তাজা ফল ও খেজুরকে জরুরি নিত্যপণ্যে রূপান্তর এবং নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) ও সম্পূরক শুল্ক (এসডি) প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় ইনভয়েস মূল্যে শুল্কায়ন। আন্তর্জাতিক দর অনুযায়ী শুল্কায়ন এবং তাজা ফলকে পচনশীল পণ্য বিবেচনায় ‘গ্রিন চ্যানেল’-এর মাধ্যমে খালাসের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তৃতীয়ত, এলসি সহজীকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের এলসি সুবিধা দেওয়া এবং কোল্ড স্টোরেজ সুবিধার আওতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

শুল্ক পর্যালোচনার আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর
সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, মাল্টার বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ সরবরাহের ঘাটতি। তাদের হিসাবে, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টা প্রয়োজন হয়।

উচ্চ শুল্ক, পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী মাল্টা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন বলেও জানান। পচনশীল পণ্য হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণ পর্যায়ে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনে মাল্টার শুল্কসংক্রান্ত বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত এলসি খুলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদ দেন।

বাজারে মাল্টা, খেজুরসহ আমদানিনির্ভর ফলের সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানিকারকদের দ্রুত ঋণপত্র খুলে আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, খেজুর আমদানিতে শুল্ক-কর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহেই জানানো হবে।