থার্টি ফার্স্ট নাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কক্সবাজারজুড়ে কঠোর অবস্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। শহরের বিভিন্ন মোড়ে, বিশেষ করে-পর্যটন জোনে অবস্থান করছে আইন -শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে একাধিক বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এক বার্তায় কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষে কক্সবাজার শহর এলাকাসহ সৈকতে আতশবাজী, পটকা ও ফানুস উড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে দূর্ঘটনা এড়াতে আতশবাজী ও ফটকা বিক্রি-বিপনন কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষে কক্সবাজার জেলার উন্মুক্ত স্থানে ও রাস্তায় প্রকাশ্যে কোন কনসার্ট, নাচ ও গানের অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না।
৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত জেলার সব বার ও মদের দোকান বন্ধ থাকবে বলেও জানানো হয়। পুলিশ আরও জানায়, থার্টি ফাস্ট নাইট উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা নাশকতা, সহিংসতা, বোমা হামলাসহ যে কোন ধরনের ধ্বংসাত্বক কর্মকাণ্ডে জড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
একই সঙ্গে উচ্চ শব্দে গাড়ির হর্ণ বাজানো, প্রতিযোগিতা, জয় রাইড ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। থার্টি ফার্স্ট নাইটে আগত নারী পর্যটকদের কোনে ধরণের ইভটিজিং বা উত্ত্যক্ত করা যাবে না বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হোটেল ও মোটেল কর্তৃপক্ষকে ইনডোরে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের তথ্য এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে জেলা বিশেষ শাখা (ডিএসবি) কে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।
এদিকে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের প্রধান ও অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, উন্মুক্ত স্থানে আয়োজন না থাকলেও গভীর রাত পর্যন্ত পর্যটকদের নিরাপত্তায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভসহ বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি থাকবে।
থার্টি ফার্স্ট নাইটে কক্সবাজারে কঠোর বিধিনিষেধ জারি
ল্যাপটপ নয়, শুধু একটি ফোন থাকলেই আয়! ঘরে বসে অনলাইনে রোজগারের ১০ উপায়
ডিজিটাল যুগে আয় করার জন্য আর ল্যাপটপ বা বড় সেটআপের দরকার নেই। এখন শুধু একটি স্মার্টফোন থাকলেই ঘরে বসে অনলাইনে নিয়মিত রোজগার করা সম্ভব। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, গৃহিণী কিংবা চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের খোঁজে থাকা মানুষের জন্য মোবাইলভিত্তিক আয়ের সুযোগ দিন দিন বাড়ছে। জেনে নিন ফোন ব্যবহার করেই অনলাইনে আয় করার ১০টি কার্যকর উপায়।
১. ফেসবুক পেজ বা অনলাইন ব্যবসা
নিজের পণ্য বা অন্যের পণ্য রিসেল করে ফেসবুক পেজ বা গ্রুপের মাধ্যমে আয় করা যায়। জামাকাপড়, কসমেটিকস, হোমমেড খাবার—সবই বিক্রি সম্ভব শুধুমাত্র ফোন ব্যবহার করেই।
২. ইউটিউব ভিডিও তৈরি
ভিডিও বানানোর জন্য এখন আর দামি ক্যামেরা প্রয়োজন নেই। স্মার্টফোন দিয়েই রান্না, ভ্লগ, শিক্ষামূলক কিংবা রিভিউ ভিডিও বানিয়ে ইউটিউব থেকে আয় করা যায়।
ডেটা এন্ট্রি, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, কনটেন্ট রাইটিংয়ের মতো কাজ Fiverr, Freelancer, Upwork-এর মোবাইল অ্যাপ দিয়েই করা সম্ভব।
৪. অনলাইন টিউশন বা কোচিং
Zoom, Google Meet কিংবা Facebook Live ব্যবহার করে ঘরে বসেই পড়াতে পারেন। বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান থাকলেই আয় শুরু করা সম্ভব।
৫. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
Daraz, Amazon বা অন্যান্য অ্যাফিলিয়েট প্ল্যাটফর্মের লিংক শেয়ার করে পণ্য বিক্রি হলে কমিশন পাওয়া যায়। শুধু ফোন ও ইন্টারনেটই যথেষ্ট।
৬. টিকটক ও শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম
টিকটক, Likee, SnackVideo-তে নিয়মিত কনটেন্ট বানিয়ে গিফট, স্পন্সরশিপ ও ফান্ড থেকে আয় করা যায়।
৭. অনলাইন সার্ভে ও মাইক্রো টাস্ক
কিছু বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট ও অ্যাপে সার্ভে পূরণ, অ্যাপ টেস্টিং বা ছোট কাজ করে আয় করা সম্ভব।
৮. কনটেন্ট রাইটিং (মোবাইল দিয়ে লেখা)
বাংলা বা ইংরেজি লিখতে পারলে মোবাইল দিয়েই আর্টিকেল, ক্যাপশন বা ব্লগ লিখে আয় করা যায়।
৯. ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি
নিজের তৈরি নোট, ই-বুক, ডিজাইন টেমপ্লেট বা প্রেজেন্টেশন অনলাইনে বিক্রি করা যায় শুধু ফোন ব্যবহার করেই।
১০. ফেসবুক গ্রুপ মডারেশন ও পেজ ম্যানেজমেন্ট
অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী তাদের পেজ বা গ্রুপ পরিচালনার জন্য লোক খোঁজেন। নিয়মিত পোস্ট ও ইনবক্স রিপ্লাই করেই আয় করা সম্ভব।
সতর্কতা জরুরি
অনলাইনে আয়ের নামে প্রতারণা থেকেও সতর্ক থাকতে হবে। কোনো কাজ শুরু করার আগে ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
একটি স্মার্টফোনই এখন হয়ে উঠতে পারে আপনার আয়ের প্রধান হাতিয়ার। ধৈর্য, সময় ও সঠিক প্ল্যাটফর্ম বেছে নিলেই ঘরে বসে অনলাইনে নিয়মিত রোজগার সম্ভব।
খালেদা জিয়ার সময়েই অর্থনীতি বিকাশের পথ উন্মুক্ত হয়
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশের পথ উন্মুক্ত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত দেশের অগ্রযাত্রা নতুন গতি পায় এই মহীয়সী নারীর শাসনামলে। বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে, বিশেষ করে ১৯৯১-৯৫ সময়ে বাংলাদেশে বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালু করা হয়, যা বর্তমানে রাজস্ব আদায়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
স্বাধীনতার পর উত্তরাধিকার সূত্রে বাংলাদেশ অনেকগুলো ব্যাংক পেয়েছিল, যেগুলো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছিল। নব্বইয়ের দশকে বিশ্বায়নের যুগে প্রবেশের প্রেক্ষাপটে তিনি বেসরকারিকরণ শুরু করার পাশাপাশি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেন। বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই এ প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছিল। তার শাসনামলে ১৯৯৩ সালে ব্যাংক কোম্পানি আইন প্রণীত হয়, যা আজও দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কার্যকর রয়েছে।
১৯৯৩ সালে একটি বেসরকারিকরণ বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়, যা রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের বেসরকারিকরণের পথ প্রশস্ত করে এবং মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বাংলাদেশের প্রবেশকে ত্বরান্বিত করে। এর ফলে বেসরকারি খাত ও রপ্তানি-ভিত্তিক শিল্পে প্রবৃদ্ধি ঘটে এবং দেশের অর্থনীতি বিকশিত হতে শুরু করে। দেশের তৈরি পোশাক শিল্প ধীরে ধীরে প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত হয়। রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান, আর্থিক খাতসহ অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে। এই তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশের সূচনা হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে, বিশেষ করে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে। তার সময়ে তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশে সর্বোচ্চ নীতিগত সহায়তা দেওয়া হয়।
তৎকালীন সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য ‘ইউডি’ বা ইউনিট ডিক্লারেশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় ছিল, যা আবেদন করে উদ্যোক্তাদের সংগ্রহ করতে হতো। এই ব্যবস্থার কারণে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতো। পরবর্তীতে ইউডি সরাসরি বেসরকারি খাতের তৈরি পোশাক উদ্যোক্তাদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর হাতে ন্যস্ত করা হয়। এর ফলে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাগুলো দূর হয়। শিল্পটি অগ্রসর হয় দুর্দান্ত গতিতে এবং পরিণত হয় বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। এক পর্যায়ে তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারাই দেশের শিল্পায়নের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হন। এই সাফল্য সম্ভব হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী ও সাহসী নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত। ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি অর্থনীতিকে বাজারমুখী করতে নীতিগত সংস্কার গ্রহণ করেন। বিশেষ করে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, বিমা খাত, শেয়ারবাজার ও তৈরি পোশাকশিল্পে তার সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ব্যাংকিং খাতে সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় উৎসাহ দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার শাসনামলে বিমা খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ে।
পুলিশের বিশেষ অভিযানে টাঙ্গাইলে ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জন গ্রেফতার
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত জেলার ১০টি থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারের গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শাহজাহান মিয়া, সুজন আহমদ, এস কে আলম, সাব্বির হোসেন তালুকদার, মঞ্জু মিয়া, সেলিম রেজা, আব্দুল্লাহ, সোহেল আমির, রকিবুল ইসলাম, সাগর মিয়া, খোকন, মোস্তফা কামাল, ফেরদৌস আলম এবং লিমন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিরা টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর, বাসাইল, মির্জাপুর, সখীপুর, কালিহাতী, ঘাটাইল, মধুপুর, গোপালপুর এবং ভুঞাপুর থানার বিভিন্ন মামলার এজাহারনামীয় ও সন্দিগ্ধ আসামি। মামলাগুলোতে সংঘবদ্ধ সহিংসতা, হামলা, মারধর, গুরুতর আহত, হত্যাচেষ্টা, ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি, বিস্ফোরক দ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধ বিভিন্ন উল্লেখ রয়েছে।
যেদিন আওয়ামী লীগের মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া
সবাইকে কাঁদিয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। জাতীয়তাবাদের আদর্শের এই মহীয়সী নারী দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে গণতন্ত্র ও দেশ গঠনে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। তার মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু ছবি নতুন করে ভেসে বেড়াচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো আওয়ামী লীগের মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে বিএনপির আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান।
ছবিটি যুক্ত করে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, এই ছবির ইতিহাস নিশ্চয়ই সবাই ভুলে গেছেন।
এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান আরও লিখেছেন, এরশাদের স্বৈরশাসনকালে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন সরকারি হিসেবে ৯ জন, বেসরকারি হিসেবে ২৪ জন আর আওয়ামী লীগের ওয়েব পেজের হিসেবে ৮০ জন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই হামলাকে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই চালানো হয়েছিলো বলে বর্ণনা করা হয়।
তিনি লিখেছেন, এই হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় শহীদ মিনারে আওয়ামী লীগ ও তৎকালীন ৮ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ২৬ জানুয়ারি একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিলো। রহস্যজনকভাবে সেই সমাবেশে শেখ হাসিনা যোগ দেন নাই, কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই সমাবেশে যোগ দেন। তিনি স্বৈরাচারী এরশাদ কর্তৃক শেখ হাসিনার গাড়িবহরে পুলিশের গুলি এবং গণহত্যার প্রতিবাদে ওই সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলেরও নেতৃত্বও দিয়েছিলেন।
সবশেষে বিএনপির আইসিটি বিষয়ক এই সম্পাদক লিখেছেন, এটি সেই মিছিলের ছবি।
মায়ের কোনো ব্যবহার-কথায় কেউ আঘাত পেলে আমি ক্ষমা প্রার্থী: তারেক রহমান
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার ঠিক আগে সমবেত লাখো মানুষের উদ্দেশে আবেগঘন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়েছেন তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত জানাজা অনুষ্ঠানে তিনি দেশবাসীর কাছে তাঁর মায়ের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।
বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, “আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় পুত্র তারেক রহমান। আজ অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি।”
মায়ের পক্ষ থেকে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, “তিনি (খালেদা জিয়া) দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যদি তাঁর কোনো ব্যবহারে বা কথায় কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তবে আমি তাঁর সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা তাঁকে ক্ষমা করে দেবেন।”
লেনদেনের বিষয়ে দায়বদ্ধতা প্রকাশ করে তারেক রহমান আরও বলেন, “তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় যদি কারো কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, তবে দয়া করে আমাকে জানাবেন। আমি তাঁর সন্তান হিসেবে সেই ঋণ পরিশোধ করে দেব।”
সবশেষে কান্নজড়িত কণ্ঠে তিনি দেশবাসীর কাছে বিশেষ আরজি জানিয়ে বলেন, “আপনারা আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন, মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন।”
তারেক রহমানের এই বক্তব্যের সময় উপস্থিত জনসমুদ্রে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। এই বক্তব্যের পরপরই জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আব্দুল মালেকের ইমামতিতে জানাজা শুরু হয়।
ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা দেখলো বাংলাদেশ!
আপসহীন নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় রাঙিয়ে দিল লাখো মানুষের ভালোবাসা। আজ বুধবার বাদ জোহর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জুড়ে অনুষ্ঠিত তাঁর জানাজা পরিণত হয়েছিল এক বিশাল জনসমুদ্রে। যে দেশের মানুষের অধিকারের জন্য তিনি আজীবন লড়াই করেছেন, সেই মানুষেরাই আজ প্রিয় নেত্রীকে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় জানাতে সমবেত হয়েছিলেন।
দুপুর হওয়ার আগেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ছাড়িয়ে জনস্রোত বিজয় সরণি, ফার্মগেট, শাহবাগ ও কারওয়ান বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। যতদূর চোখ যায়, শুধু মানুষের মাথা আর শোকার্ত মুখ। অসুস্থ শরীর নিয়ে কেউ স্ক্র্যাচে ভর দিয়ে, আবার কেউ দেশের দূর-দূরান্ত থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন তাঁদের প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখতে। জানাজাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল শোকের মাতম; অনেককেই অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে।
গত কয়েকদিনের হাড়কাঁপানো শীত কাটিয়ে আজ যেন প্রকৃতিও এই নেত্রীকে বিদায় জানাতে শান্ত রূপ ধারণ করেছে। কনকনে ঠান্ডার বদলে নগরীতে আজ ছিল মিষ্টি রোদের আনাগোনা, যা দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।
স্মরণকালের রেকর্ড মানুষের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হল খালেদা জিয়ার জানাজা
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এতে অংশগ্রহণ করেছেন স্মরণকালের সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ। দুপুর ২টায় শুরু হওয়া জানাজা শেষ হয় বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে। জানাজার ইমামতি করেছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা। এছাড়া বন্ধুপ্রতিম বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন।
জানাজার আগে ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ মানিক মিয়া এভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। জনস্রোত আশেপাশের বিজয় সরণি, খামারবাড়ি মোড়, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, শেরে বাংলা নগর, কলেজগেট, আসাদগেট ও শাহবাগসহ শহরের অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের ছাদ, ওভার ব্রিজসহ যেখানে যেখানে সুযোগ পেয়েছেন, সেখানে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকেন। অনেকেই চাপ ও ভিড়ের কারণে জানাজায় সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি।
জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে গুলশান কার্যালয়ে তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে গুলশানের কার্যালয়ে পৌঁছেছেন তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু পর তিনি গুলশানে অবস্থিত চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান। খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দলের করণীয়, জানাজার সময়সূচি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠক শেষ হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনসহ আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি সম্পর্কে দলীয়ভাবে ঘোষণা আসবে বলেও জানা গেছে।
এর আগে, ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর ৬টায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বিএনপি দলের পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক নির্যাতনের মুখে পড়েন। তিনি কারাবরণ করেন এবং সে সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হলেও তাকে গুলশানের ভাড়া বাসভবন ‘ফিরোজা’য় কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তার শরীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি জটিলতাসহ একাধিক জটিল রোগ দেখা দেয়।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হওয়া গণআন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। এর পরদিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তিনি লন্ডনে যান। সেখানে ১১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৬ মে দেশে ফেরেন। যদিও তার স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি হয়েছিল, তবে বয়সজনিত দুর্বলতা ও দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা তাকে ক্রমেই দুর্বল করে তোলে।
সবশেষ গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক মাসের বেশি সময় সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি ইন্তেকাল করেন।
খালেদা জিয়ার অবদান, ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে
জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশের রাজনীতির আপোষহীন এক প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুসংবাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশমাতৃকার প্রতিটি প্রান্তে।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরেও বিষাদের ছোঁয়া। দলীয় নেতা-কর্মীদের চোখে জল, কণ্ঠে কেবলই প্রিয় নেত্রীকে হারানোর ব্যথা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেগম জিয়া ছিলেন দৃঢ়চেতা, সাহসী ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, ভোটাধিকারের সংগ্রাম কিংবা স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইবাংলাদেশের রাজনীতির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে রয়েছে তাঁর দৃপ্ত পদচিহ্ন। ইতিহাসের পাতায় তাঁর অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এমনটাই বলছেন তাঁর দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।
মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছালাম খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন রাজপথের লড়াকু নেত্রী। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন আদর্শিক অভিভাবককে হারালাম। তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা ছিলেন, চিরকাল থাকবেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম রাজু স্মরণ করেন নেত্রীর সংগ্রামী জীবনকে, তিনি কারাবরণ করেছেন, জীবন বাজি রেখে রাজনীতি করেছেন, কিন্তু কোনোদিন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তাঁর মতো নেত্রীর অভাব অপূরণীয়।
যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা মাহামুদুল হাসান বাপ্পী জানান, বেগম খালেদা জিয়া শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, ছিলেন মমতাময়ী অভিভাবকের মতো। দলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে তিনি পরিবারের সদস্যের মতো আগলে রাখতেন। তাঁর ত্যাগ, আদর্শ ও দেশপ্রেম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শিক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
নেত্রীর মৃত্যুতে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দোয়া মাহফিল, শোকসভা ও কোরআনখানি। সর্বত্রই বইছে শোকধারা। গ্রামের প্রবীণ, তরুণ-তরুণী, নারী সবাই বলছেন, তিনি ছিলেন আমাদের আস্থা আর ভরসার জায়গা।
জাতি হারালো এক আপোষহীন দেশপ্রেমিক নেত্রীকে। যিনি গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে আজীবন আপসহীন ছিলেন। তাঁর নাম জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়ের সঙ্গে।
যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন বেগম খালেদা জিয়ার নাম উচ্চারিত হবে শ্রদ্ধা, সংগ্রাম ও সাহসিকতার বাতিঘর হয়ে। তাঁর প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।


