Home Blog Page 254

স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ইঁদুর আখ্যায়িত করে ধানের শীষের পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট কাটার ঘোষণা বিএনপি নেতার

০

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ৯ নম্বর মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম মিন্টু বলেছেন, ‘যে ইউনিয়নের সভাপতি হতে পারে, সে ২৮-২৯ হাজার ভোট কাটারও ক্ষমতা রাখে, যে ব্যক্তি চেয়ারে বসতে পারে, সে তার যোগ্যতাই চেয়ারে আসে। আমরা মজিদপুরে ধানের শীষে ১০০ থেকে ১০০ পাশ করামু, ইনশাআল্লাহ।’
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার দুধঘাটা সরকার বাজারে মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের সামনে মরহুমা খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের প্রস্তুতি সভায় দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। প্রায় ৩ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে এসব কথা বলতে শোনা যায় তাকে।
মিন্টু বলেন, ‘অগোচোরে বলে চেয়ারে বইয়া যে মজিদপুর ইউনিয়নে যে সভাপতি হইছে ১০০ ভোট দেওয়ার ক্ষমতা নাই, যে বেডায় সভাপতি হইতে পারে হেই বেডায় ২৮-২৯ হাজার ভোট কাটার শক্তিও রাখে। যে বেডায় চেয়ারে বইতারে তার যোগ্যতাই চেয়ার আসে। আমি চাই এ ধানের শীষ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়ার না, এই ধানের শীষ হলো খালেদা জিয়ার এবং তারেক জিয়ার, এই ধানের শীষ আমরা মজিদপুর ইউনিয়নে ১০০ থেকে ১০০ পাশ করমু, আপনারা নিশ্চিত থকেন ইনশাআল্লাহ।’
ভিডিওতে মিন্টু আরও বলেন, ‘ইঁদুর যদি এখন বাইরে মাঠে দেখবেন, ২০/২২ তারিখের পর থেকে দেখবেন ইঁদুর কই যায়। আপনারা নিশ্চিত থাকেন এই ইঁদুর মাঠে নামতে পারবে না, মাঠে নামতে পারলেতো আওয়ামী লীগই নামতে পারে। আরে আমরা স্বতন্ত্র কিয়ের মাঠে নামলে মানে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ যদি এখনো নামতারে তইলে আমরা বাইত ঘুমাই কেনতে। তারা বাইত ঘুমানের টাইমও নাই, নামার টাইমও নাই, আমি ক্লিয়ার বলতে চাই এখনো সাবধান আমরা ধানের শীষ লইয়া মাঠে আছি, যদি আমগো লগে প্রমাণ করতে হয় ২২ তারিখের পরে আমার মজিদপুর ইউনিয়নে জবাব দেওয়ার শক্তি রাখি।’
আরও বলেন, ‘আমরা যে ধানের শীষ লইয়া বাইরছি, আমরা ধানের শীষ আনমু ইনশাআল্লাহ, দোয়া করবেন। আমরা কোনো স্বতন্ত্র না, আওয়ামী লীগ না, বাটপারি না। আমি মজিদপুর ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে ইন্টেক ক্লিয়ারভাবে বলতে চাই যেতো রংয়ের যেতো মুস্তানই আসে সামনে আইলে সব শেষ।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আক্তার বেপারী, মো. আশরাফুল আলম, ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জসিম, উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হেলাল ভূঁইয়া, মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইদুল ইসলাম সরকার বিজয় ও সাধারণ সম্পাদক তন্ময় হাসান কাজলসহ অনেকেই। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

টিসিবি স্মার্ট কার্ডে পণ্যপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা: সরিষাবাড়ীতে খুশি সাড়ে ১২ হাজার পরিবার

০

সারাদেশব্যাপী স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। পূর্বে টিসিবির পণ্য বিতরণে ডিলার ও কিছু অসাধু ব্যক্তির তৎপরতায় অনেক উপকারভোগীর পণ্য না পাওয়ার অভিযোগ থাকলেও ২০২৫ সাল থেকে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিতরণ শুরু হওয়ায় তেমন কোনো অভিযোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ডিলার ও সচেতন মহল। এতে একদিকে যেমন বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরেছে, অন্যদিকে উপকারভোগীরা পেয়েছেন পণ্যপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা। ফলে সঠিকভাবে পণ্য পেয়ে খুশি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ১২ হাজার ৪১৯টি পরিবার।

জানা যায়, টিসিবির পণ্য বিতরণ কার্যক্রম ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে হাতে লেখা ফ্যামিলি কার্ড থেকে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডে স্থানান্তরের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে নতুন স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিতরণ শুরু হয়। বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৫০–৫৫ লাখ পরিবার এ সুবিধার আওতায় রয়েছে, যা আগের প্রায় এক কোটি কার্ডধারীর তুলনায় কম। এর ফলে হাতে লেখা ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মধ্যে প্রায় ৪৩ লাখ কার্ডধারী এই সুবিধা থেকে বাদ পড়ে যান এবং বর্তমানে শুধুমাত্র স্মার্ট কার্ডধারীরাই পণ্য পাচ্ছেন।

সরিষাবাড়ী উপজেলায় পূর্বে ২৮ হাজার ৬০৩ জন উপকারভোগী এ সুবিধার আওতায় থাকলেও স্মার্ট কার্ড কার্যক্রম চালু হওয়ার পর সিংহভাগ উপকারভোগী বাদ পড়ে যান। বর্তমানে উপজেলায় ১২ হাজার ৪১৯ জন উপকারভোগী স্মার্ট কার্ডের আওতায় থাকলেও এখনো ১৬ হাজার ১৮৪ জন উপকারভোগী এর আওতার বাইরে রয়ে গেছেন। এ অবস্থায় সকল প্রকৃত উপকারভোগীকে দ্রুত স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে উপকারভোগীরা জানান, আগে হাতে লেখা কার্ডে কখনো পণ্য পাওয়া যেত, কখনো পাওয়া যেত না—অনেক সময় অন্য কেউ তাদের পণ্য তুলে নিত। বর্তমানে সে সমস্যা আর নেই। কার্ডধারী ছাড়া অন্য কেউ পণ্য তুলতে পারে না। কোনো উপকারভোগী যদি কোনো মাসে পণ্য তুলতে না পারেন, তবে তিনি পরবর্তী মাসে তা তুলতে পারেন—অন্য কেউ তা আত্মসাৎ করতে পারে না।

এ বিষয়ে ডিলার মো. রেদোয়ান আহম্মেদ সুমন, খাইরুল ইসলাম পরান, মঞ্জুরুল হাসান মিন্টু, সেলিম রেজা মিলন ও আল আমিন মিলু জানান, স্মার্ট কার্ড উপকারভোগীদের পণ্যপ্রাপ্তির শতভাগ নিশ্চয়তা নিশ্চিত করেছে। স্মার্ট কার্ড ছাড়া কেউ পণ্য তুলতে পারে না। ডিজিটাল সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করে ভেরিফিকেশনের পর পণ্য বিক্রয় সম্পন্ন হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে বিক্রয় হিসাব অনুযায়ী তালিকা প্রস্তুত হয়।

তারা আরও জানান, কোনো মাসে যদি ১০ জন উপকারভোগী কোনো কারণে পণ্য উত্তোলন করতে না পারেন, তবে ওই ১০ জনের পণ্য উত্তোলন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী মাসে নতুন বরাদ্দ আসে না। ফলে কোনো কার্ডধারীর পণ্য সংশ্লিষ্ট ডিলার বা অন্য কারও আত্মসাৎ করার কোনো সুযোগ নেই।

জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছেন তারেক রহমান!

০

জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়াতে সুদূরপ্রসারী এক পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ খোলা হবে।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন আর ২০২৪-এর ছাত্র-জনতা সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপিই প্রথম মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল। ঠিক একইভাবে চব্বিশের বিপ্লবীদের আত্মত্যাগকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে তাঁর দল অঙ্গীকারবদ্ধ। এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের নয়, বরং অধিকারহারা সাধারণ মানুষের আন্দোলন ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জুলাই গণহত্যায় শহীদ হওয়া ১৪০০-এর বেশি মানুষ এবং আহত ৩০ হাজার যোদ্ধার জন্য দুটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির কথা জানান তারেক রহমান। প্রথমত, রাষ্ট্রীয় খরচে আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং দ্বিতীয়ত, শহীদ পরিবার ও শারীরিক সক্ষমতা হারানো ব্যক্তিদের যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের অধিকার নিশ্চিত করা। তিনি বিশেষভাবে ৫০০ জন যোদ্ধার কথা উল্লেখ করেন যারা অন্ধত্ব বরণ করেছেন এবং তাদের প্রতি রাষ্ট্রের ঋণের কথা মনে করিয়ে দেন।

বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেড় দশকের ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা না যায়, তবে সাধারণ মানুষকে এমন নির্মম শোকগাথা বারবার বয়ে বেড়াতে হবে। তাই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে এবং সব শহীদের রক্তঋণ শোধ করতে আগামী নির্বাচনে গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

আজ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক

০

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সাক্ষাৎ করবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকটি হবে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যুমনায়।
জামায়াতের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত থাকবেন আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে আরও চার সদস্য। দলের অন্য সদস্যরা হলেন: নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতের শেষ বৈঠক হয়েছিল গত বছরের অক্টোবর মাসে। এই বৈঠকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজকের এই বৈঠককে রাজনৈতিক মহল এবং সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা নজর রাখছেন, কারণ এটি দলের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের দিক নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শীতার্ত মানুষের পাশে চার ব্যান্ড

০

শীতার্ত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণের তহবিল সংগ্রহে আয়োজন করা হয়েছে একটি বিশেষ চ্যারিটি কনসার্ট। ‘কুয়াশার গান’ শিরোনামের এই আউটডোর কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। কনসার্টটির আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও স্পিরিটস অব জুলাই। এই কনসার্টে পারফর্ম করবে দেশের জনপ্রিয় চারটি ব্যান্ড।
এগুলো হচ্ছে চিরকুট, আভাস, অ্যাশেজ ও কৃষ্ণপক্ষ। এদিন সন্ধ্যা ৬টায় মঞ্চে উঠবে কৃষ্ণপক্ষ। সন্ধ্যা ৭টায় আভাস, রাত ৮টায় চিরকুট এবং রাত সাড়ে ৯টা থেকে অ্যাশেজের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে কনসার্টের সমাপ্তি ঘটবে।
আয়োজকরা জানান, এটি একটি সম্পূর্ণ মানবিক ও দাতব্য আয়োজন, যার মূল উদ্দেশ্য শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কনসার্ট থেকে সংগৃহীত অর্থ শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণে ব্যয় করা হবে।
এর আগেও শীতার্ত মানুষের সহায়তায় সংগীতের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ১১ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘সুরে বোনা সোয়েটার’ শীর্ষক আরেকটি চ্যারিটি কনসার্ট।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি ব্যান্ড সোসাইটি আয়োজিত ওই কনসার্টে আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি নতুন ও পুরোনো কাপড় এবং কম্বল সংগ্রহ করা হয়।

এই ৫টি লক্ষণ জানাবে আপনার শরীরে বাড়ছে ইউরিক অ্যাসিড!

০

শরীরে ইউরিক অ্যাসিড অতিরিক্ত জমে গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে গেঁটে বাত, জয়েন্টে ব্যথা, কিডনির সমস্যা এমনকি হার্টের রোগের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি নীরবে বাড়তে থাকে, তাই প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেই টের পান না। তবে কিছু প্রাথমিক লক্ষণ রয়েছে, যেগুলি দেখে সতর্ক হওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকেতগুলোকে অবহেলা করলে ভবিষ্যতে গুরুতর রোগের আশঙ্কা থাকে।

প্রথমত, হঠাৎ পায়ের আঙুল বা গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা ও ফোলা দেখা দিলে তা গেঁটে বাতের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। ইউরিক অ্যাসিড জমে জয়েন্টে প্রদাহ ও স্ফীতি তৈরি করে, যার ফলে তীব্র যন্ত্রণা হয়। দ্বিতীয়ত, ঘন ঘন প্রস্রাবের অনুভূতি এবং প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া দেখা দিলে এটি কিডনিতে ইউরিক অ্যাসিড স্ফটিক জমার ইঙ্গিত হতে পারে, যা কিডনির পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়। তৃতীয়ত, ত্বকে চুলকানি বা ফুসকুড়ি দেখা দেওয়াও ইউরিক অ্যাসিডের কারণে হতে পারে। অনেক সময় মানুষ একে সাধারণ অ্যালার্জি মনে করে এড়িয়ে যান, যা বিপজ্জনক হতে পারে। চতুর্থত, সারাদিন ক্লান্তি ও হালকা ব্যথা অনুভব করাও ইউরিক অ্যাসিডের নীরব সংকেত হতে পারে, কারণ এটি কোষে প্রদাহ তৈরি করে শরীরকে দুর্বল করে। পঞ্চমত, রাতে ঘুমের সময় জয়েন্টে টান বা ব্যথা, বিশেষ করে পায়ের অংশে, ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার প্রাথমিক চিহ্ন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে রক্ত পরীক্ষা করে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সঠিক ডায়েট মেনে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং কিছু খাবার এড়িয়ে চলার মাধ্যমে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ঘরোয়া উপায়ে বাড়ান ত্বকের উজ্জ্বলতা

০

উজ্জ্বল, দাগহীন, কোমল ও মসৃণ ত্বক আমাদের কার না ভালো লাগে? ধুলাবালি, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য আমাদের ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যায়। দৈনন্দিন জীবনে কাজের চাপে অথবা সময়ের অভাবে বেশির ভাগ সময় আমরা পার্লারে যেতে পারিনা তাই আজকে জেনে নেওয়া যাক ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করা যায়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ত্বকের যত্নে বিভিন্ন ঘরোয়া ফেসপ্যাকের কার্যকারিতা-

মধু ও লেবুর ফেসপ্যাক

এক চা চামচ মধুর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বক পরিষ্কার করে ও দাগ হালকা করতে সাহায্য করে।

বেসন ও হলুদের ফেসপ্যাক

দুই চা চামচ বেসনের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ ও প্রয়োজনমতো দুধ বা পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং ব্রণ কমে।

শসা ও অ্যালোভেরা ফেসপ্যাক

শসার রস ও অ্যালোভেরা জেল সমপরিমাণে মিশিয়ে মুখে লাগান। এটি ত্বক ঠান্ডা রাখে এবং শুষ্কতা দূর করে। শসা ও অ্যালোভেরার ফেসপ্যাক ত্বকের পোড়া দাগ কমিয়ে ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল করে।

কলা ও দইয়ের ফেসপ্যাক

পাকা কলা চটকে এক চা চামচ দই মিশিয়ে নিন। ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে ত্বক হয় নরম ও মসৃণ। ত্বক উজ্জ্বলতা বাড়াতে কলা ও দইয়ের ফেসপ্যাক কার্যকর ভূমিকা রাখে।

শীতকালেও সবজির বাজার ঊর্ধ্বমুখী, বাজারে ভোগান্তিতে ক্রেতারা

০

কয়েক দিন ধরেই চুয়াডাঙ্গায় শীতকালীন সবজির বাজার ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। ক্রেতারা বাধ্য হয়েই বেশি দামে সবজি ক্রয় করছেন।

শনিবার সকালে চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার পাইকারি সবজির বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

প্রায় ২ সপ্তাহ ধরে চুয়াডাঙ্গায় শীতকালীন সবজির বাজার বাড়তি। যার কারণে ক্রেতারা তাদের প্রয়োজনীয় সবজি ক্রয় করতে পারছেন না। বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১শ টাকা, উস্তে ৭০ টাকা, আলু ২২ টাকা, সিম ৩৫ টাকা, ফুলকপি ৩৫ টাকা, পাতাকপি ১৮ টাকা, মুলা ৩৫ টাকা, আদা ১৬০ টাকা, রসুন ৭০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, শসা ১০০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এ সকল সবজি ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

মাংসের বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। শীতকালে মাছ কম আমদানি হওয়ায় বাজারদর কিছুটা বাড়তি। প্রতি কেজি বয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৪০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০টাকা ও খাসির মাংস ১১০০ টাকা দরে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে বাজারে। মাছের আকার ভেদে ১২০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে দেশি মাছ।

চুয়াডাঙ্গা পোষ্ট অফিস পাড়ার আহসান খান জানান, বাজারে সবজির দাম অনেক বেশি। কয়েক দিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচ কেজিতে ৬০ টাকা বেড়েছে। অন্য সবজির গায়ে হাত দেওয়া বেশ কঠিন। তাই অল্প অল্প করে সবজি কিনলাম।

চুয়াডাঙ্গা পলাশপাড়ার হারুন বলেন, এ সময় পাতাকপি-ফুলকপি বাজারে বিক্রি হয়না, কৃষকরা গরু-ছাগল দিয়ে খাওয়ায়। এখন ফুলকপি খুচরা বাজারে ৪০ টাকা কেজি ও পাতাকপি ২৫ টাকা কেজিতে নিতে হচ্ছে। বাজার করতে গিয়ে আমাদের মত অল্প আয়ের মানুষদের অবস্থা নাজেহাল।

চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারের আড়তদার বাতেন মিয়া জানান, বাজারে সবজির চাহিদা থাকলেও আমদানি তুলনামূলক কম। যার কারণে দাম কিছুটা বাড়তি। মাঠে সবজি নেই বললেই চলে। আমদানি বাড়লে বাজার স্বাভাবিক হবে।

দেশে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড!

০

বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দর বাড়ার প্রভাব দেশের বাজারেও দেখা দিয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ হাজার ৬২৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে। এই নতুন দাম শনিবার (১৭ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে ২২ ক্যারেটের (পিওর গোল্ড) স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম এখন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। যা বুধবার ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা (আগের দিন ২ লাখ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকা), ১৮ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা (আগের দিন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকা), এবং সনাতন পদ্ধতিতে স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা (আগের দিন ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকা)।

বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

পরবর্তী সিদ্ধান্ত না জানানো পর্যন্ত এই দাম সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর থাকবে।

সমুদ্রগামী ট্রলার নির্মাণে ঘাম ঝরাচ্ছেন রাঙ্গাবালীর কারিগররা

০

ভোরের আলো ফোটার আগেই আগুনমুখা নদীর তীরে শুরু হয় কাঠে কাঠুরের আঘাত। দূর থেকে চোখে পড়ে উঁচু মাস্তুল, কাছে আসতেই কানে বাজে টুকুর-টাকুর শব্দ। নতুন কাঠের গায়ে নিপুণ হাতে গড়ে উঠছে বঙ্গোপসাগরগামী মাছ ধরার ট্রলার। শীতের মিষ্টি রোদ মাথায় নিয়েও থেমে নেই কারিগরদের কর্মব্যস্ততা। ঘামে ভেজা শরীর, ক্লান্ত চোখ—তবুও কাজে কোনো ফাঁকি নেই। এই নদীর তীর যেন হয়ে উঠেছে শ্রম, অভিজ্ঞতা আর জীবনের ঝুঁকির এক নীরব কর্মশালা।

এখানকার ট্রলার নির্মাণ কোনো কারখানাভিত্তিক শিল্প নয়। এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে গড়ে ওঠা দেশীয় কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ফল। প্রতি বছর মহাজনদের চাহিদা অনুযায়ী আগুনমুখা নদীর তীরে তৈরি হয় একের পর এক সমুদ্রগামী মাছ ধরার ট্রলার। আকার, নকশা, সক্ষমতা—সবই নির্ধারিত হয় মহাজনের ইচ্ছা ও সাগরের বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে।

চার দশকের বেশি সময় ধরে এই শিল্পে যুক্ত হেড মিস্ত্রি রাখাল মণ্ডল বলেন, একটি ট্রলার বানানোর আগে কাগজে নকশা আঁকতে হয়, গ্রাফ করে নিতে হয় পুরো কাঠামো। তবে অনেক কিছুই অভিজ্ঞতার কারণে মাথার ভেতরেই আঁকা থাকে। তিনি জানান, বড় আকারের একটি সমুদ্রগামী ট্রলার তৈরি করতে ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয় এবং সময় লাগে তিন থেকে সাড়ে তিন মাস। ট্রলার তৈরি শেষ হলেও দায়িত্ব শেষ হয় না। সাগরে ভাসিয়ে একদিন চালিয়ে পরীক্ষা করার পর কোনো সমস্যা না থাকলেই মিস্ত্রির কাজ সম্পন্ন হয়।

এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের জীবনও কম সংগ্রামের নয়। ট্রলার নির্মাণে কর্মরত সুজিৎ জানান, কখনো চুক্তিভিত্তিক আবার কখনো দৈনিক মজুরিতে কাজ করতে হয়। দক্ষতার ওপর নির্ভর করে দৈনিক ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি পাওয়া যায়। পারিবারিকভাবে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত না হলেও এক ওস্তাদের হাত ধরে এই কাজে আসেন তিনি। এখন এই কাজই তার জীবিকার একমাত্র ভরসা।

নির্মাণাধীন আরেকটি ট্রলারের হেড মিস্ত্রি ফারুক জানান, তার ট্রলারটির দৈর্ঘ্য ৫৪ ফুট, উচ্চতা ১০ ফুট এবং পেছনের প্রস্থ ১০ ফুট। মাস্তুলের দিকে প্রস্থ ধাপে ধাপে কমে আসে। একটি আস্ত গাছ দিয়ে তৈরি মাস্তুলের ব্যাস ন্যূনতম ১০ ফুট হতে হয়। ট্রলারের কাঠামোতে দুই থেকে পাঁচ ইঞ্চি পর্যন্ত লোহার ব্যবহার রয়েছে। নির্মাণে ব্যবহৃত হয় রেন্ট্রি, মেহগনি, কড়ই ও চাম্বল কাঠ।

তবে এই ট্রলার শুধু কাঠ আর লোহার সমাহার নয়, এটি মহাজনদের জন্য ভাগ্যের পরীক্ষাও বটে। ট্রলার মালিক মাছুম মল্লিক জানান, তার ট্রলার নির্মাণে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। সাধারণত একটি ট্রলার সর্বোচ্চ ১০ বছর ভালো থাকে। সমুদ্রে মাছ ধরার ক্ষেত্রে ভাগ্য ভালো হলে এক ট্রিপেই অর্ধকোটি টাকা লাভ করা সম্ভব, আবার খারাপ হলে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লোকসানও গুনতে হয়। আগে এক মৌসুমেই ট্রলারের খরচ উঠে যেত, এখন তিন বছরেও তা সম্ভব হয় না। এই ব্যবসায় লাভের চেয়ে লোকসানের ঝুঁকিই বেশি—কেউ এখানে লাখপতি হন, আবার কেউ নিঃস্ব হয়ে যান।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জহিরুন্নবী বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক সময় হতাশ হয়ে জেলেরা সাগর থেকে তীরে ফিরে আসেন। তবুও তারা ভেঙে পড়েন না। নতুন ট্রলার নির্মাণে আবারও সাহস জোগান। এই ট্রলার নির্মাণ শিল্পে পরিকল্পিত পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা বাড়ানো গেলে জেলেরা দেশের অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। নৌপথ ভরাট হয়ে গেলেও সমুদ্রে মাছ আহরণের প্রয়োজন থাকায় এই শিল্পের চাহিদা ভবিষ্যতেও বাড়বে।

কাঠের গায়ে কাঠুরের আঘাতে যেমন তৈরি হয় একটি ট্রলার, তেমনি ঘাম, অভিজ্ঞতা আর ঝুঁকির সমন্বয়ে তৈরি হয় উপকূলের মানুষের জীবনসংগ্রামের এক শক্ত ভিত। আগুনমুখা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি ট্রলার তাই শুধু মাছ ধরার নৌযান নয়—এগুলো উপকূলবাসীর স্বপ্ন, সাহস আর টিকে থাকার গল্প।