নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড়ের আভাস
দেশ গঠনে কোর অব সিগন্যালসের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে: সেনাবাহিনী প্রধান
শুধু হিট নয়, সিনেমাটি হয়ে উঠেছিল সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি
পঁচিশ বছর আগের কথা। সেই সময় মুক্তিপ্রাপ্ত হিন্দি সিনেমাগুলো ছিল নানা ঘরানার। পুরনো তারকা, পুরনো গল্প এবং পরিচিত ধারা। কিন্তু হঠাৎ সেই ধারা যেন পুরো চিত্রটাই পাল্টে দেয় একটি সিনেমা। নাম ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’।
রাকেশ রোশনের পরিচালনায় তার ছেলে হৃতিক রোশনকে নিয়ে নির্মিত রোমান্টিক সিনেমাটি শুধু হিটই হয়নি, হয়ে উঠেছিল এক সাংস্কৃতিক ঘটনা। এর মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল এক নতুন ‘সুপারস্টার’। নাচে, গানে, প্রেমে ভরা এই সিনেমায় হৃতিক হয়ে উঠলেন নতুন প্রজন্মের এক জনপ্রিয় নায়ক। দুই দশক ধরে একই উজ্জ্বলতায় আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন এই তারকা।
হৃতিকই সেই একমাত্র ‘স্টার সন’, যিনি প্রথম সিনেমায় এমন সাড়া ফেলেছিলেন। তার নাচের ভঙ্গি ছিল সম্পূর্ণ আধুনিক- মিঠুন বা গোবিন্দর প্রচলিত ব্রেকডান্সি ছন্দের বদলে এলো স্মার্ট, কুল, কালো নেট সিঙ্গলেট আর সানগ্লাসে মোড়া এক নতুন প্রজন্মের হিরো।
‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ ছবিতে হৃতিকের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন আমিশা পাটেল। অভিনয় করেন অনুপম খের, মোহনিশ বেহল, দালীপ তাহিল, আশিস বিদ্যার্থী, সতীস সাহাসহ আরও অনেকে।
এর আগে একটি সাক্ষাৎকারে হৃতিক নিজেই জানিয়েছেন, ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ সিনেমার মুক্তি পাওয়ার পর ৩০ হাজারের বেশি বিয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি।
‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের কারণে সেরা অভিনেতা এবং সেরা নবাগত অভিনেতা হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছিলেন হৃতিক। এ ছাড়া ২০০৩ সালে লিমকা বুক অব রেকর্ডসে ঠাঁই পায় ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ ছবির নাম। সবচেয়ে বেশিসংখ্যক পুরস্কার ঝুলিতে ভরে রেকর্ড গড়েছিল হৃতিক অভিনীত সিনেমাটি। বিভিন্ন পুরস্কার প্রদান আসর থেকে সব মিলিয়ে ১০২টি পুরস্কার পেয়েছিল ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’।
এছাড়া ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’ বিশাল সাফল্যের পর হৃতিক হয়ে উঠেছিলেন নব্বইয়ের দশকের তিন খান- শাহরুখ, সালমান ও আমিরের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। যদিও পরবর্তীতে ‘কোই মিল গেয়া’ বা ‘কৃষ’ সিরিজের সাফল্য সত্ত্বেও তিনি আর সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেননি।
২০২৫ সালে এসে দেখা যায় তিন খান এখনও বলিউডে রাজত্ব করছেন। হৃতিক যদিও জনপ্রিয়তার সেই সমান্তরাল পর্যায়ে আর নেই। সর্বশেষ তাকে দেখা গেছে দর্শকদের ‘ওয়ার ২’ দেখতে আহ্বান জানাতে-যে ছবিটি সিনেমা হলে ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে। বিদ্রূপের বিষয়, যিনি বড় পর্দার জন্য তৈরি এক নায়ক তিনিই এখন দর্শককে আহ্বান করছেন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার ছবি দেখার জন্য!
শাকিবের প্রতি মিনিটের দাম পৌনে দুই লাখ টাকা!
চিত্রনায়ক শাকিব খান রাজধানীর বনানীতে এক আন্তর্জাতিক এক্সেসরিজ ব্র্যান্ডের নতুন শোরুম উদ্বোধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অল্প কিছুক্ষণের জন্য তার উপস্থিতির ব্যাপারটা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। এই আয়োজনে শাকিব খান নাকি মাত্র ২০ মিনিটে ৩৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। তাঁর মানে প্রতি মিনিটে শাকিব নিয়েছেন পৌনে দুই লাখ টাকা?
বিষয়টি নিয়ে জনপ্রিয় উপস্থাপক ও রেডিও জকি গোলাম কিবরিয়া নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, বাংলাদেশের সুপারস্টার সময় দিয়েছে ২০ মিনিট । পেমেন্ট নিয়েছে ৩৫ লাখ। কাজ ছিলো একটা ব্র্যান্ড প্রোমোটের! কোথাও সেই ব্র্যান্ডের নাম নাই ফেসবুকে। এমন কি সুপারস্টারের কোথাও ব্র্যান্ড ট্যাগ দেখিনি। সবাই আছে তার গোঁফ আর লুক নিয়ে। ইন্টারেস্টিং। কোন এজেন্সি করেছে এই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট?
এদিকে শাকিব খান আজ দুপুরে নিজের ফেসবুকে বনানীর আলোচিত ইভেন্টের কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন। তবে শাকিব খান যে প্রতি মিনিটে পৌনে দুই লাখ টাকা নিয়েছেন বা ২০ মিনিটে তা শাকিব সংশ্লিষ্ট কেউ বা তাঁর তরফ থেকে জানানো হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছেই। এদিকে শাকিব খান এখন ব্যস্ত রয়েছেন সাকিব ফাহাদ পরিচালিত ‘সোলজার’ নিয়ে। এতে তার বিপরীতে রয়েছেন তানজিন তিশা। সিনেমাটি আগামী বছর মুক্তির কথা রয়েছে।
এশিয়ান আর্চারির শীর্ষ পদে বাংলাদেশের কাজী রাজীব উদ্দীন
বড় জয় পেয়ে ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ। ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে সংস্থাটির কংগ্রেস ও নির্বাচন। সেখানেই ইতিহাস গড়লেন কাজী রাজীব- এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি বসলেন ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার শীর্ষ আসনে। সভাপতি পদে কাজী রাজীব ২৯-৯ ভোটে হারিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার থমাস হানকে।
কাজী রাজীব উদ্দীন বিদায়ী কমিটির সহসভাপতিও ছিলেন। তার হাত ধরে দুই যুগ আগে বাংলাদেশে আর্চারি খেলার যাত্রা শুরু হয়। ধীরে ধীরে বাংলাদেশের আর্চারি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জায়গা করে নেয়। তার উদ্যোগেই এবার তৃতীয়বারের মতো ঢাকায় বসেছে এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপের আসর। টুর্নামেন্টটির স্থানীয় আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যানও তিনি।
লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে “উপজেলা প্রশাসন কাপ আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫”-এর শুভ উদ্বোধন। শনিবার বিকেলে উপজেলার ড. কর্ণেল অলি আহমেদ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার মং এছেন, লোহাগাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা মিনহাজ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সহ হাজারো দর্শক ও ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ।
উদ্বোধনী খেলায় মুখোমুখি হয় বড়হাতিয়া ইউনিয়ন বনাম চরম্বা ইউনিয়ন ফুটবল দল। খেলার শুরু থেকেই দুই দলই দর্শকদের মাতিয়ে রাখে চমৎকার পাস বিনিময় ও গোলের সুযোগ তৈরি করে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ৩-২ গোলে বড়হাতিয়া ইউনিয়ন জয় লাভ করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “ক্রীড়া শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অসামান্য ভূমিকা রাখে। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম নিজেদের শৃঙ্খলাবোধ, দলগত চেতনা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, ক্রীড়া তরুণ সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নতুন প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী ও ইতিবাচক মনোভাবসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। এ ধরনের টুর্নামেন্ট শুধু খেলোয়াড়দের প্রতিভা বিকাশের সুযোগই তৈরি করে না, বরং পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্য বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।”
ইউএনও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে খেলা উপভোগ করার জন্য উপস্থিত দর্শক, খেলোয়াড়, আয়োজক কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরো বলেন, “আজকের খেলায় যে শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ বজায় ছিল, তা লোহাগাড়াবাসীর ক্রীড়াপ্রেম ও সচেতনতার প্রতিফলন। এ ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশাবাদী।”
৫ দিন পর অনশন ভাঙলেন তারেক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিনের আশ্বাসে অনশন ভেঙেছেন আমজনতার দলের সদস্য সচিব তারেক রহমান। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নির্বাচন ভবনের মূল ফটকে এসে তিনি এ অনশন ভাঙান।
এ সময় তিনি তারেককে আপিল আবেদন করতে বলেন। আর কয়েকটি অফিস এর মধ্যে সংস্কার করবে। এখন তোমার অনশন ভাঙা উচিত।
অনশন ভেঙে তারেককে পুনর্বিবেচনার আবেদন দিতে বলল ইসি
নিবন্ধনের দাবিতে অনশনরত আম জনতার দলের সদস্য সচিব তারেক রহমানকে পুনর্বিবেচনার আবেদন দিতে বলেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, ইসি সচিব বরাবর আবেদন দিতে হবে।
রোববার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।
ইসি সচিব বলেন, তারেক সাহেব আম জনতার দলের রেজিস্ট্রেশনের বিষয় আপনারা জানতে চেয়েছেন। আইনগতভাবে আমরা যেটুকু আমাদের দিক থেকে বলার আমরা সেটা বলেছি চিঠির মাধ্যমে। এখন তারা আপিল করতে পারেন এবং ঘাটতি যেগুলো আছে সেগুলো পূরণ করে দিতে পারেন। আপিল বা সংশোধনী বা পরিমার্জন পরিবর্ধন সময়বর্ধন এগুলো তো একটা প্রচলিত প্রথা। তো সেটা নিশ্চয়ই ওনারা সুবিবেচনায় নেবেন।
ইসি সচিব বলেন, এ অনশন আমি আন্তরিকভাবে আবেদন করব, যেন এ অনশন ভেঙে আইনগতভাবে জিনিসটা সুরাহার দিকে নিয়ে যাবেন।
আপিল কোথায় করবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আপিল করবে কমিশনে, সচিব বরাবর। কেননা, চিঠিপত্র তো সচিবালয় থেকে যায়। সিনিয়র সচিব বা কমিশনের সচিবের বরাবর আপিলটা করবেন, যদি ওরা করতে চান।
কতদিনের মধ্যে আপিল করতে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, আপিলের জন্য তো কোনো সময় আমি বলছি না। আপনি এখনো করতে পারেন। আজও করতে পারেন। আপনি করবেন কিনা এটা তো আপনার সিদ্ধান্ত। ব্যাপারটা তো পরবর্তীতে কমিশন দেখবে। আপিল করতে তো কোনো অসুবিধা নেই। এখন কোনো কিছু করার নেই। একটা না মঞ্জুর করা হয়েছে কিছু শর্তের আওতায় এবং কিছু কিছু জায়গায় উনারা বলছেন যে আমরা এটার সঙ্গে একমত নই। ঠিক হতেই পারে, সেটা পুনর্বিবেচনা, সংশোধন ইত্যাদির জন্যে আবেদন করতেই পারেন। আবেদন করলে কমিশন সেটা বিবেচনায় নেবে, কি নেবে না সেটা হলো পরের ব্যাপার।
গত ৪ নভেম্বর বিকেল থেকে তারেক রহমান ইসির মূল ফটকের সামনে অনশন করছেন। এরই মধ্যে বিএনপিসহ বিভিন্ন দল তারেকের অনশনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
বর্তমান সংবিধানে গণভোট করার সুযোগ নেই: আমীর খসরু
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বর্তমান সংবিধানে গণভোট করার সুযোগ নেই।
রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ভবনের ক্রাইম রিপোর্টার্স মিলনায়তনে লেখক মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিনের ‘আগামীর উন্নত জাতি গঠনের দিক-নির্দেশনামূলক সুপারিশ’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে একটি সংবিধান আছে, যে সংবিধানে অধীনে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। এই সংবিধানে গণভোটের কোনো প্রভিশন নাই, কোনো অপশন নাই। এখন গণভোট নির্বাচনে আগে কেন, নির্বাচনের দিনও গণভোট করা এ সংবিধান গ্রহণ করবে না। সুতরাং আমাকে সংবিধান মানতে হবে।’
তিনি বলেন, গণভোট নির্বাচনের দিনে আয়োজন করার সিদ্ধান্তে বিএনপি একমত হয়ে উদারতার পরিচয় দিয়েছে, যাতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সহনশীল পরিস্থিতি বজায় থাকে। দেশে পরস্পরের মধ্যে সম্মানবোধ থাকে, বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় যেসব প্রস্তাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আছে, সেগুলোতে ঐকমত্য হয়নি বলে উল্লেখ করেন আমীর খসরু। তিনি বলেন, নোট অব ডিসেন্ট যেখানে, সেখানে দ্বিমত পোষণ করা হয়েছে। দ্বিমত পোষণ করার অর্থ হচ্ছে ঐকমত্য হয়নি। যে বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, সেটাও গণভোটে যেতে পারে না। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় যতটুকু ঐকমত্য হয়েছে, তার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এখন ঐকমত্য হয়নি, এমন অনেক দাবিও উত্থাপন করা হচ্ছে।
আমীর খসরু বলেন, ‘মানুষ এখন নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তি চায়। আর দেশের মানুষের সব সিদ্ধান্ত এখন স্থগিত। কেন স্থগিত? বলে, আমরা নির্বাচনের পরে করব। এটা বিনিয়োগ হোক, ব্যবসা-বাণিজ্য হোক, মানুষের পারিবারিক সিদ্ধান্ত পর্যন্ত আমি জানি। ভাই, নির্বাচনটা হয়ে যাক, তারপর আমরা এগুলো করব। সবকিছু স্থগিত, স্থবির।’
শাহীন আবদুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, যুবদল দক্ষিণের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
গাজায় আরও ফিলিস্তিনি নিহত, লেবাননেও ইসরায়েলি হামলা
ইসরায়েল গাজা উপত্যকা ও দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এতে আরও বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
দক্ষিণ লেবাননের টুরা গ্রামে ইসরায়েলি বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে লেবাননের সেনা ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হামলা যুদ্ধবিরতির বড় ধরনের লঙ্ঘন এবং নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
গাজায় প্রতিদিন মাত্র ১০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার মানুষের জন্য একেবারেই অপ্রতুল বলে জানিয়েছে একাধিক মানবিক সংস্থা। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েল কার্যত এনজিওগুলোর ত্রাণ বিতরণে বাধা দিচ্ছে।
এদিকে আলজাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে। এতে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন ও গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব রয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৮ হাজার ৮৭৫ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত ও প্রায় ২০০ জনকে আটক করা হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির পর থেকে হামাস ২০ জন ইসরায়েলিকে জীবিত মুক্তি দিয়েছে এবং আরও ২২ জনের মরদেহ হস্তান্তর করেছে।
গাজায় সাহায্যপণ্য সরবরাহে ইসরায়েলের বিধিনিষেধ
ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজা এখন ক্ষুধায় জর্জরিত। সম্প্রতি খাদ্যপণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি হলেও ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জাতিসংঘ বলেছে, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সরবরাহ পৌঁছাতে হবে কেননা এখন যে হারে সরবরাহ হচ্ছে তা প্রয়োজনের চেয়ে অপ্রতুল। খবর আলজাজিরার।
গত শুক্রবার জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক সাংবাদিকদের বলেন, জাতিসংঘ ও তার সহযোগী সংস্থাগুলো ১০ অক্টোবরের পর থেকে ৩৭ হাজার মেট্রিক টন সাহায্যপণ্য সংগ্রহ করেছে যার মধ্যে বেশিরভাগই খাদ্যপণ্য। তবে এই পরিমাণ প্রয়োজনের চেয়ে কম এবং জরুরি ভিত্তিতে আরও পণ্য সরবরাহ করা প্রয়োজন।
জাতিসংঘের মানবিক সেবা সংস্থা ওসিএইচএর প্রতিবেদন তুলে ধরে ফারহান হক বলেন, ‘মানবিক সাহায্য সরবরাহে কিছুটা উন্নতি হলেও যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি বিধিনিষেধগুলো থেকে যাওয়ায় জনগণের বিশাল চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।’
ইসরায়েলের সমালোচনা করে ফারহান হক জানান, আল-কারারা (কিসুফিম) এবং কারেম আবু সালেম (কেরেম সালোম) ক্রসিং দিয়ে এখনো সীমিত আকারে মানবিক সাহায্যপণ্য প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।
ইসরায়েল থেকে উত্তর গাজায় অথবা মিশর থেকে দক্ষিণ গাজায় সরাসরি প্রবেশে কোনো পথ এখন খোলা নেই এবং বেসরকারি সাহায্য সংস্থাগুলোকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে না।
এ সপ্তাহের শুরুতে জাতিসংঘ জানিয়েছিল, হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পর তারা গাজায় ১০ লাখ মানুষের জন্য খাবারের পার্সেল বিতরণ করেছে। তবে সেখানকার সব মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য সাহায্যের এই পরিমাণ নিতান্তই কম।
জাতিসংঘের সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি গাজায় প্রবেশের জন্য সব সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছে, ভূখণ্ডটির উত্তরের ক্রসিং কেন বন্ধ রেখেছে ইসরায়েল তার কোনো কারণ জানা যায়নি।
ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে গাজার ফিলিস্তিনি নাগরিকরা এখনো খাবার, পানি, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি পণ্যের সঙ্কটে ভুগছে। বেশিরভাগ মানুষেরই থাকার মতো কোনো ঘর নেই। গত দুই বছর ধরে ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমাগত বোমাবর্ষণে গাজার বসতভিটাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
দোয়া-মোনাজাত ও তাকবির ধ্বনিতে মুখর ফিলিস্তিনের মসজিদগুলো
যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ধ্বংসস্তূপ ও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদে দাঁড়িয়ে চতুর্থ জুমার নামাজ আদায় করেছেন ফিলিস্তিনিরা।
৯ অক্টোবর যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর এ নিয়ে চতুর্থ জুমা পালিত হলো। মধ্য গাজার নুসাইরাত, দেইর আল-বালাহ, উত্তর গাজার শহরাঞ্চল এবং দক্ষিণের খান ইউনুস থেকে আল-জাজিরা মুবাশিরের ক্যামেরা গাজার জুমা আদায়ের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করেছে। প্রত্যেক মসজিদেই মুসল্লিরা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং দোয়ায় আবেগভরে চোখের পানি ফেলেছেন।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল এখন পর্যন্ত ৮৩৫টি মসজিদ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে। আরও ১৮০টির বেশি মসজিদ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ইসরায়েলি বোমা হামলা থেকে গাজার কোনো এলাকা, এমনকি মসজিদ ও উপাসনালয়ও রক্ষা পায়নি।
দুই বছরব্যাপী চালানো হত্যাযজ্ঞে ধ্বংসস্তুপে পরিণত গাজা এখনো শোকার্ত, তবে শুক্রবারের জুমায় সেই ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েই তাকবির ধ্বনিতে নতুন আশা দেখছেন গাজাবাসী।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করল তুরস্ক
গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সরকারের ঊর্ধ্বতনদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কথা জানিয়েছে তুরস্ক।
যে ৩৭ সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি হয়েছে তাদের মধ্যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির, সেনাপ্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল ইআয়াল জামিরও আছে। ইস্তাম্বুলের কৌঁসুলির কার্যালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে আল-জাজিরা।
তবে পরোয়ানাভুক্ত সবার নাম প্রকাশ করেনি তারা। তুরস্ক এ ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে’ গাজায় ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ’ চালানোর অভিযোগ এনেছে।
মার্চে গাজা ভূখণ্ডে ‘তুর্কি-ফিলিস্তিনি মৈত্রী হাসপাতালে’ বোমাবর্ষণসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি, চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি, অবরোধ ও গাজাবাসীর জন্য মানবিক সহায়তা আটকে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডকে অভিযগের পক্ষে যুক্তি হিসেবে হাজির করেছে আঙ্কারা।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) যে মামলা করেছে তুরস্ক গত বছর তাতেও শামিল হয়েছে।
জাপানে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামির আঘাত
জাপানের ইওয়াতের উপকূলীয় এলাকার কাছাকাছি স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় ৬ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তরে জাপানের উপকূলীয় এলাকায় হালকা মাত্রার সুনামি আঘাত হেনেছে। জাপানের স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যার দিকে ভূমিকম্পের পর ওই সুনামি আঘাত হেনেছে। খবর এনএইচকে ও ইউরো নিউজের।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) বলেছে, জাপানের ইওয়াতে প্রদেশের মিয়াকোতে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে প্রথম সুনামি আঘাত হেনেছে।
তবে সুনামির ঢেউ অনেক ছোট হওয়ায় এর উচ্চতা পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
জেএমএ বলেছে, প্রথম সুনামি আঘাত হানার দুই মিনিট পর দেশটির ওফুনাতো উপকূলে ১০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানে।
ইওয়াতে উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় রোববার বিকেল ৫টা ৩ মিনিটের দিকে ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পরপরই ১ মিটার উচ্চতার সুনামি আঘাত হানতে পারে বলে সতর্কতা জারি করে জেএমএ।
তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জাপানের ইওয়াতে উপকূলে আঘাত হানা ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ৮ ছিল বলে জানিয়েছে।
জেএমএ বলেছে, ইওয়াতে উপকূলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যে যেকোনো মুহূর্তে ঢেউ উপকূলে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাষ দিয়েছে সংস্থাটি।
জেএমএ বলেছে, প্রথম ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ৫ দশমিক ৩ থেকে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার কয়েকটি পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়েছে। জাপানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারে সমুদ্রের শান্ত দৃশ্য দেখা গেছে।
একই অঞ্চলের উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় রোববার সকালের দিকেও অন্তত ছয়টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এসব ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮ থেকে ৫ দশমিক ৮ এর মধ্যে। তবে ভূমিকম্প স্থলে খুব একটা অনুভূত হয়নি এবং সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়নি।
২০১১ সালে জাপানের ওই অঞ্চল সমুদ্রতলের ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির শিকার হয়েছিল। সেই সময় দেশটিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত কিংবা নিখোঁজ হয়।
সুনামিতে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি রিঅ্যাক্টরে গলে যায়। জাপানের যুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে বড় দুর্যোগ এবং চেরনোবিলের পর বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনা ডেকে আনে ওই সুনামি।
জাপান প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে চারটি প্রধান ভূ-তাত্ত্বিক ফলকের সংযোগস্থলে অবস্থিত। বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশও জাপান।
প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই দ্বীপদেশে প্রতিবছর অন্তত দেড় হাজার ভূমিকম্প হয়। এর বেশিরভাগই হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার হয়ে থাকে। যদিও ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করে ভূমিকম্পের অবস্থান ও ভূগর্ভের গভীরতার ওপর।


