Home Blog Page 256

১২০০ কোটি টাকা পাচারে সালমানসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে ১৭ মামলা

রপ্তানির আড়ালে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা (৯৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিদেশে পাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান এএসএফ রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৭টি মানিলন্ডারিং মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার বিকেলে রাজধানীর মালিবাগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ছিগবাত উল্লাহ।

তিনি বলেন, সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের তদন্তে প্রমাণ মিলেছে ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত ১৭টি করপোরেট প্রতিষ্ঠান বৈদেশিক বাণিজ্যের নামে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছে।

তদন্তে জানা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে-অ্যাডভান্স গার্মেন্টস, অ্যাপোলো এপারেলস, অটোম্যান লুপ অ্যাপারেলস, বিক্সটেক্স গার্মেন্টস, কসমোপলিটান অ্যাপারেলস, কজি অ্যাপারেলস, ইসেস ফ্যাশন ইন্টারন্যাশনাল, কাঁচপুর অ্যাপারেলস, মিড ওয়েস্ট গার্মেন্টস, পিয়ারলেস গার্মেন্টস, পিঙ্ক মেকার গার্মেন্টস, প্লাটিউর গার্মেন্টস, স্কাইনেট অ্যাপারেলস, স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস, আরবান ফ্যাশন ও উইন্ট্রা ইস্প্রিন্ট গার্মেন্টস লিমিটেড।

এসব প্রতিষ্ঠান জনতা ব্যাংকের মতিঝিল শাখা থেকে এলসি খুলে রপ্তানি দেখালেও বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে ফেরত আনেনি। বরং সেই অর্থ দুবাইভিত্তিক আর আর গ্লোবাল ট্রেডিং লিমিটেডের মাধ্যমে আমিরাত, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও আয়ারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে।

আর আর গ্লোবাল ট্রেডিং লিমিটেডের মালিকানা রয়েছে সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান এবং চেয়ারম্যান এএসএফ রহমানের ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের নামে।

২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ৯৬ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮০ মার্কিন ডলার রপ্তানি দেখানো হলেও, এর বিপরীতে কোনো অর্থ দেশে ফেরত আসেনি। যা সরাসরি মানিলন্ডারিংয়ের শামিল বলে সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে।

২০২৪ সালের ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর মতিঝিল থানায় ১৭টি মামলা দায়ের করে সিআইডি। পরবর্তী তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন চাওয়া হলে তা সম্প্রতি অনুমোদন পায়।

সম্পদ ক্রোক ও নিষেধাজ্ঞা

আদালতের নির্দেশে আসামিদের ঢাকার দোহার উপজেলার প্রায় ২ হাজার শতক জমি ও স্থাপনা, গুলশানের দ্য এনভয় বিল্ডিংয়ের ৬ হাজার ১৮৯.৫৪ বর্গফুট ফ্ল্যাট এবং গুলশান ৬৮/এ, রোড ৩১’এর ২ হাজার ৭১৩ বর্গফুট ট্রিপ্লেক্স ফ্ল্যাট ক্রোক করেছে সিআইডি। এছাড়া আসামিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে এবং বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ক্রোককৃত সম্পত্তির বাজারমূল্য আনুমানিক ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা।

মামলাগুলোয় বেক্সিমকো চেয়ারম্যান এএসএফ রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, আহমেদ শাহরিয়ার রহমানসহ মোট ২৮ জন ব্যক্তি ও ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে আসামি করা হয়েছে।

এ বছরের জানুয়ারিতে অটোম্যান লুপ অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াসিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। বর্তমানে কারাগারে থাকা সালমান এফ রহমানকেও এ মামলাগুলোয় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট জানায়, ট্রেড-বেইজড মানিলন্ডারিংয়ের এই জটিল তদন্ত দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করে রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি।

রাজধানীতে ১ লাখ গ্যাস বেলুন ওড়ানোর পরিকল্পনা ছিল আ.লীগের

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ২৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- নওপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি রূপচান বেপারী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক আবরার খান তাহমিদ ওরফে তাহমিদ আশরাফ (২২), নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রায়হান খান আজাদ (২৭), শের-ই-বাংলা নগর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ এ বি এম নুরুল হক ওরফে ছোটন চৌধুরী (৬৯), শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাবলু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিন খোকন (৭০), মিরপুর মডেল থানা আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান ভূইয়া, ভাষানটেক থানা যুবলীগের সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম ওরফে আহমাদ আলী (৪০), মোহাম্মদপুর থানা শ্রমিক লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. জসিম ওরফে বিল্লাল।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে আরও রয়েছেন- গেন্ডারিয়া থানা মৎস্যজীবী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুব রহমান (৫৫), শ্যামপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪০), কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম (৪০), আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. শাহজালাল (৩৮), রায়েরবাগ ইউনিট যুবলীগের সেক্রেটারি মো. দেলোয়ার হোসেন ওরফে পলাশ, শরীয়তপুরের নড়িয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউনুস সরদার (৪৫), পল্টন থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আকবর হোসেন (৫২), পল্টন থানা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. আবু সাঈদ (৫৬), নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. সামছুদ্দিন আহমেদ সেলিম (৬২), হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন রেহান (৫১), আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির সহ-সম্পাদক মো. মেজবাহ উদ্দিন প্রিন্স (৪৩), সিলেট মহানগর যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক মরিয়ম পারভীন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির সরকার ওরফে গলাকাটা নাছির (৫৪), নেত্রকোনা শ্রমিক লীগের সদস্য আলী হোসেন (৩১), কুমিল্লার ৬নং নিকলি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মানিক খন্দকার (৫২) এবং বরগুনার তালতলী উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান কামাল (৪২)।

রোববার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন বিভাগে অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ডিবি মিরপুর বিভাগ তিনজন, রমনা বিভাগ তিনজন, সাইবার বিভাগ দুজন, মতিঝিল বিভাগ চারজন, ওয়ারী বিভাগ পাঁচজন, উত্তরা বিভাগ দুজন, তেজগাঁও বিভাগ দুজন, লালবাগ বিভাগ তিনজন এবং গুলশান বিভাগ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা ঢাকা শহরে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। পাশাপাশি তারা আগামী ১০-১২ নভেম্বর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের স্লোগান সংবলিত এক লাখ গ্যাস বেলুন ওড়ানোর পরিকল্পনা করছিলেন।

ডিসি তালেবুর রহমান জানান, রাজধানীর শাহবাগ, মিরপুর, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল, ওয়ারী, উত্তরা, লালবাগ ও গুলশান এলাকায় পৃথক সময় ও স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ও নাশকতা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফের বড় পর্দায় দেখা যাবে আনুশকাকে

দীর্ঘ বিরতির পর অভিনেত্রী আনুশকা শর্মাকে দেখা যাবে ফের পর্দায়। মুক্তির অপেক্ষায় ‘চাকদা এক্সপ্রেস’।এটি ভারতীয় নারী ক্রিকেটার ঝুলন গোস্বামীর জীবন ভিত্তিক বায়োপিক।

২০১৮ সালের ‘জিরো’ ছবির পর আনুশকা শর্মাকে আর বড় পর্দায় দেখা যায়নি। ২০২২ সালে তিনি তার বহু আলোচিত ছবি ‘চাকদা এক্সপ্রেস’-এর শুটিং শেষ করেন। শুরুতে ছবিটি ২০২৩ সালে নেটফ্লিক্সে মুক্তির কথা থাকলেও, তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

সম্প্রতি ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় লাভ করার পর ‘চাকদা এক্সপ্রেস’ টিম ছবিটি দ্রুত মুক্তি দিতে নেটফ্লিক্সের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। জানা গেছে, নির্মাতারা ব্যক্তিগতভাবে নেটফ্লিক্স ভারতের শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে চিঠি লিখে ছবিটি দ্রুত মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

নির্মাতারা চিঠিতে লিখেছেন, ‘আমরা ব্যক্তিগতভাবে নেটফ্লিক্স ভারতের শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে চিঠি লিখে জানতে চেয়েছি যে, আমরা কি বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে ছবিটি মুক্তি দিতে পারি? ঝুলনদির মতো কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বের উপর নির্মিত একটি বায়োপিক দর্শকদের কাছে পৌঁছানো দরকার।’

বর্তমানে ছবিটি স্বত্ব পুরোপুরি নেটফ্লিক্সের হাতেই রয়েছে। যদিও, ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক জয়ের পর এই বায়োপিকটি নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তাই অনেকেই আশা করছেন, এই মাসেই ছবিটি মুক্তি পেতে পারে। ছবিতে ঝুলন গোস্বামীর চরিত্রে মুখ্য ভূমিকায় দেখা যাবে আনুশকা শর্মাকে।

মেসি-নেইমারদের অঞ্চলেও ক্রিকেট ছড়িয়ে দিতে বিশাল পদক্ষেপ আইসিসির

এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, ওশেনিয়া- এই চার মহাদেশের কিছু দেশেই ক্রিকেট আবদ্ধ ছিল বহুদিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হিসেবে রাখলে আমেরিকাতেও ছিল, তবে মহাদেশটির মূল ভূখণ্ডে ক্রিকেট ছড়িয়ে পড়ছে বেশি দিন হয়নি।

তবে এতকিছুর ভিড়ে দক্ষিণ আমেরিকায় ক্রিকেটের চর্চা হলেও কোনো বড় টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়নি এতদিন। এবার সেখানেও ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়ার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি।

যদিও সে সিদ্ধান্ত শুধু দক্ষিণ আমেরিকাকে কেন্দ্র করে নয়। দুই আমেরিকাকে নিয়ে হওয়া অ্যামেরিকান গেমসে এবার প্রথমবারের মতো যুক্ত হবে ক্রিকেট। যার ফলে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা আর নেইমারের ব্রাজিলেও ক্রিকেট আরও ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রকল্প বহু আগে থেকেই শুরু হয়েছে। এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট হয়েছে, আফ্রিকান গেমসেও যোগ হয়েছে ২০২৩ সালে। লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক দিয়ে প্রায় ১২৮ বছর পর ক্রিকেট ফিরেছে বৈশ্বিক ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় আসরে। এবার লাতিন আমেরিকায় প্যান অ্যাম গেমসেও নাম লেখাতে চলেছে ক্রিকেট। আগামী ২০২৭ সালের আসরে প্রথমবারের মতো এই গেমসে যোগ দেবে ক্রিকেট।

সবশেষ আইসিসি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এই সভায় আরও কিছু সিদ্ধান্ত এসেছে মাল্টি স্পোর্টস গ্লোবাল ইভেন্টে খেলা নিয়ে।

২০২৮ সালের অলিম্পিকে পুরুষ ও নারী- দুই বিভাগেই অনুষ্ঠিত হবে ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। আইসিসি জানিয়েছে, মোট ২৮টি ম্যাচ হবে এই আসরে। প্রতিটি বিভাগে থাকবে ছয়টি দল।

ছয় দলের মধ্যে পাঁচটি দল আসবে পাঁচটি অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় দল থেক-আফ্রিকা, আমেরিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও ওশেনিয়া। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেবে। ষষ্ঠ দলটি নির্ধারিত হবে বাছাইপর্বের মাধ্যমে। তবে সেই বাছাই টুর্নামেন্টের বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি।

ক্রিকেটের এই ঐতিহাসিক ইভেন্ট শুরু হবে ২০২৮ সালের ১২ জুলাই। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেস শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিশেষভাবে তৈরি ফেয়ারগ্রাউন্ডস স্টেডিয়ামে।

এর আগে ২০২৬ সালে জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে, ২০২৭ সালে মিসরের কায়রোয় আফ্রিকান গেমসে এবং একই বছরে পেরুর লিমায় পান-আম গেমসেও দেখা যাবে ক্রিকেটকে। এখানেই শেষ নয়। ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিক গেমসেও ক্রিকেটকে যোগ করার আলোচনা চলছে। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তা জানিয়েছেন, ২০৩২ সালের ব্রিসবেন অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ব্রিসবেন ২০৩২ আয়োজকদের সঙ্গে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অর্থবহ আলোচনা করেছি।’ আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ ও সঞ্জোগ গুপ্তা সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের লুজান শহরে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি), এলএ-২০২৮ এবং ব্রিসবেন-২০৩২ আয়োজকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে ইভেন্ট আয়োজন, খেলার ফরম্যাট এবং যোগ্যতা নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়।

বিদেশেও খ্যাতি ছড়িয়েছে বগুড়ার ‘কটকটি’

খাওয়ার সময় কটকট শব্দ হওয়ায় খাবারটির নাম কটকটি বলে ধারণা স্থানীয়দের। বগুড়ার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সুমিষ্ট খাবার কটকটি। অনেকে চেনেন মহাস্থানের কটকটি বলে। সুস্বাদু এই খাবারের সুনাম দেশের গণ্ডি ছাপিয়ে এখন ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে। শুকনো মিষ্টি এই খাবার আজ বগুড়ার গর্ব।

বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তরে ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ের অবস্থান। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য বিশ্বব্যাপী মহাস্থানগড়ের পরিচিতি আছে। তবে মহাস্থানগড়ের সুখ্যাতি রয়েছে সুস্বাদু কটকটির জন্য। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এই খাবারটি মহাস্থানগড়ে তৈরি ও বিক্রি হয়ে আসছে।

উনিশ শতকের গোড়ার দিকে স্থানীয়দের হাতে এই মিষ্টি খাবারের যাত্রা শুরু হয়। চালের বা গমের আটার সঙ্গে গুড় মিশিয়ে তৈরি হতো এই শুকনো মজাদার খাবার। শুরুর দিকে কটকটি বেশ শক্ত ছিল এবং খেতে কটকট শব্দ হতো। তবে সময়ের সঙ্গে এখন নরম ও সুস্বাদু কটকটি তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় প্রবীণদের মুখে শোনা যায়, প্রায় দেড়শত বর্ষ আগে বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল ইউনিয়নের পলাশবাড়ী উত্তরপাড়ার জয়নাল আলী মণ্ডল, ভোলা মণ্ডল আর গেদা মণ্ডল প্রথম কটকটি বানানো শুরু করেন। গ্রামের মেলা কিংবা বিয়ের আসরে তখন পরিবেশন করা হতো এই নতুন ধরনের খাবার। মচমচে স্বাদ আর সহজলভ্য উপকরণের কারণে দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে জনপ্রিয়তা।

মহাস্থানগড় এলাকায় প্রায় শতাধিক কটকটির দোকান রয়েছে। দোকানগুলোতে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে শত শত কেজি কটকটি। দামও ভিন্ন ভিন্ন। ডালডায় ভাজা কটকটি কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা, ঘি স্প্রে করা ২২০ টাকা, আর পোলার চালের কটকটি ২৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবারে অর্থ্যাৎ হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহঃ) এর বিজয় দিবসে ১ থেকে ২ হাজার মণ বিভিন্ন প্রকার কটকটি ব্যবসায়ীরা বিক্রি করে থাকেন।

এছাড়াও দর্শনার্থীরা মহাস্থানগড়ে ঘুরে ফেরার পথে তবারক হিসেবে কটকটি নিয়ে যান। দেশ ছাড়িয়ে আজ তা পৌঁছে গেছে বিশ্বের শতাধিক দেশে।

কটকটি ব্যবসায়ীরা জানান, বগুড়ার কটকটি এখন শুধু একটি খাবার নয়, এটি বগুড়ার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গর্বের প্রতীক। শুধু ঐতিহ্য নয়, এই খাবারকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর প্রায় ৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয় মহাস্থানগড় এলাকায়।

কটকটি ব্যবসায়ী শাহ আলম জানান, আমাদের পরিবার ছয় পুরুষ ধরে এই কটকটি ব্যবসা করে আসছে। এখন আমাদের দেখে আরও অনেকে এই পেশায় যুক্ত হয়েছে। মহাস্থান মাজারকে ঘিরে সারা বছরই এই ব্যবসা চলে।

কটকটি তৈরির কারিগর মজনু জানান, তারা ছোটবেলা থেকেই এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। কটকটি তৈরি করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করেন।

নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের বগুড়ার কর্মকর্তা মো. রাসেল জানিয়েছেন, মহাস্থানগড় মাজার এলাকায় কটকটি প্রস্তুত ও বিক্রয়ের উপর নিয়মিত তদারকি করা হয়। যেন কোনো ভেজাল রঙ বা স্যাকারিন ব্যবহার করা না হয়। দোকানি ও কারিগরদের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে কটকটি প্রস্তুতের পরামর্শ দেওয়া হয়।

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে: গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে। রাজনীতি স্থিতিশীল থাকলে অর্থনীতি সামনে আরও ভালোভাবে চলবে।

শনিবার টাঙ্গাইলের বাসাইলে ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্টের হলরুমে এমএফআই-ব্যাংক লিংকেজ বিষয়ে আঞ্চলিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির উদ্যোগে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকের অর্থ সহজে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

এ সময় গভর্নর পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার অগ্রগতি নিয়ে বলেন, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ইংল্যান্ডে আইনজীবী পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন গ্রুপ অব কোম্পানিগুলোর ক্লেইমটা এসটাবলিস্ট করার চেষ্টা করছে। যদি সাকসেসফুল হয়, তাহলে দ্রুত পজিটিভ রেজাল্ট আসবে।

গভর্নর তার বক্তব্যে বলেন যে, বর্তমানে আমরা এমন এক সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যেখানে ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, এজেন্ট ব্যাংকিং আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে দ্রুত রূপান্তরিত করছে।

ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন ডিজিটাল যুগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে—ডেটা-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অনলাইন সেবা, এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম আধুনিকায়ন করতে হবে। তবে তিনি বলেন খাতটির বিকাশে কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা আমাদের সবাইকে সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। ক্ষুদ্রঋণ খাতে ঋণ বিতরণে এভার গ্রীনিং একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সিআইবি বাস্তায়ন করা হলে এ সমস্যা অনেকাংশে দুর হবে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের হিসাবায়নে একটি ফায়ারওয়্যাাল তৈরি করতে হবে যেখানে সামাজিক কার্যক্রম ও ঋণ কার্যক্রম পৃথকভাবে প্রদর্শিত হবে। মডার্ণ ক্যাশলেস সিস্টেমের সাথে ইন্টিগ্রেটেড করা যায় এমনভাবে এমএফআই এর মূল একাউন্ট সংরক্ষণ করতে হবে। একসময় ব্যাংক এমএফআই এর কাছে যেত না, এখন যাচ্ছে। বর্তমানে ফরমাল ব্যাংক এজেন্ট বাংকের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সার্ভিস দিচ্ছে। আগামীতে ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদন পেলে আরো দ্রুত গ্রমীণ জনগোষ্ঠী সহজে ঋণ পাবে বলে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, আগামীতে ৫টি কোম্পানি ক্রেডিট স্কোরিং করার অনুমোদন পাচ্ছে, ফলে দ্রুততম সময়ে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ক্রেডিট স্কোর পাওয়া সম্ভব হবে। ব্যাংক থেকে এমএফআইতে কৃষি ঋণ বিতরণের হার বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি ইতিবাচক মতামত প্রদান করেন যাতে গ্রামীণ কৃষিতে অধিকমাত্রায় ঋণের প্রবাহ সৃষ্টি হয়।

ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের অধিক হারে আমানত গ্রহণের বিষয়ে গভর্ণর মহোদয় বলেন প্রতিষ্ঠানের গভার্নেন্স ইস্যুতে কোয়ালিটেটিভ জাজমেন্ট করার পর সন্তোষজনক হলে এই হার বাড়ানো যেতে পারে । অন্যদিকে ব্যাংক হতে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত ব্যাংক-এমএফআই ফ্রেমওয়ার্ক করা জন্য এমআরএ উদ্যোগ নিতে পারে মর্মে তিনি মত প্রকাশ করেন।

সেমিনারে সভাপতি হিসেবে অথরিটি’র এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধিতে ব্যাংক–এমএফআই সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ক্ষুদ্রঋণ খাতের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন এখন ব্যাংকগুলো এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে চড় অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্টির আমানত নিয়ে শহরে বিনিয়োগ করছে। কিন্তু সেসব এলাকায় ঋণ বিতরণ না করা হলে অর্থনৈতিক অসমতা সৃষ্টি হয়। সে বিষয়টিতে খেয়াল রাখার আহবান জানান। বর্তমানে এমএফআই গুলোর ক্ষুদ্রউদ্যোগ ঋণ বিতরণে অধিক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মিশন থেকে সরে যাচ্ছে কিনা সে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়ার অনুরোধ করেন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, অথরিটি নিয়মিতভাবে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের অর্থ প্রবাহ সুনিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। অথরিটি থেকে বৈদেশিক ঋণ, বন্ড ইস্যু, কৃষি ঋণ, উদ্যোগ ঋণ ও গৃহায়ন ঋণের বিষয়ে ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গুলোকে প্রত্যয়নপত্র প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে যা ক্ষুদ্রঋণ খাতে অর্থ প্রবাহ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করছে।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান বলেন অন্যান্য খাতে বিতরণকৃত ঋণের খেলাপীর হার অধিক হলেও ক্ষুদ্রঋণখাতে সোনালী ব্যাংকের ঋণ খেলাপীর হার ১ শতাংশেরও কম। অন্যদিকে ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত মহাব্যাবস্থাপক বলেন ক্ষুদ্রঋণ খাতের জন্য বরাদ্দকৃত ৫০০০ কোটি টাকা মধ্যে ইতিমধ্যে নির্র্দিস্ট ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় ৩৫০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং এখাতে আদায়ের হারও সন্তোষজনক।

শাপলা কলি’ পাওয়ায় দেবিদ্বারে আনন্দ শোভাযাত্রায় এনসিপি

নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন লাভ ও নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা কলি’ পাওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর নিজ এলাকা কুমিল্লার দেবিদ্বারে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ক‌রে‌ছে দল‌টির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

শনিবার দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ এলাকা থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে কু‌মিল্লা-‌সি‌লেট মহাসড়কের প্রায় আট কি‌লো‌মিটার এলাকা প্রদ‌ক্ষিণ ক‌রে দেবিদ্বার হাইস্কুল মাঠে এসে শেষ হয়। এতে মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও পিকআপসহ নানা বাহ‌নে ক‌রে শত শত নেতা-কর্মী বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ও ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত হয়ে অংশ নেন। মিছিলে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের পাশাপাশি দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন শোভা পায়।

এ সময় ‘এনসিপির মার্কা শাপলা কলি,’ ‘দিল্লি না ঢাকা-ঢাকা ঢাকা, ইনকিলাব জিন্দাবাদ,’ ‘গ্রাম-শহর অলিগলি, জিতবে এবার শাপলা কলি’ শ্লোগা‌নে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

এনসিপির দেবিদ্বার উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন লাভ আমাদের দলের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এটি প্রমাণ করে, জাতীয় নাগরিক পার্টি জনগণের স্বার্থে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই আগামী নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ হবে পরিবর্তনের প্রতীক।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির নেতা মো. শামীম কাউসার, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক নাজমুল হাসান নাহিদ, কাজী নাছির উদ্দীন, আরিফুল ইসলাম, ফয়সাল হোসেন, এমরান হোসেন, ফয়সাল মির্জা, জামাল হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্র সংসদের নেতা রাকিবুল হাসান হৃদয়, সাজেদুল রাফসান, শাহাদাত হোসেন শ্যামল ও মো. হাসানসহ আরও অনেকে।

দেশের সমস্ত সংকট তৈরি করা নাটক, মানুষ ভোট দিতে চায়- মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করে বলেছেন, দেশের সমস্ত সংকট তৈরি করা আর নাটক, মানুষ আসলে নিজের ভোটটা দিতে চায়।

রোববার(৯ নভেম্বর) বেলা ১ টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে ইউনিয়ন বাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন ।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের কয়েকটি রাজনীতিক দল সনদ ও গণভোটের কথা বলছে। আমরা বলছি গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই সময়ে হবে। উপস্থিত ইউনিয়ন বাসীর উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা সত্যি করে বলেন তো, সনদ ও গণভট নিয়ে আপনারা কি বুঝেন? বুঝেননা, আমিও বুঝিনা। সাধারণ মানুষ সনদ, গণভোট বুঝেনা, এসব বুঝে উচ্চ শিক্ষিত মানুষজন। সাধারণ মানুষ ভোট দিতে চায়।

নিজের সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণা করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি ১৯৯১ সাল থেকে নির্বাচন করছি। কখনো হেরেছি কখনো জিতেছি। আপনাদের ছেড়ে কখনো যাইনি। গত ১৫ বছর কোন নির্বাচন করতে পারিনি। যে সরকারটা ছিলো তারা আমাদের নির্বাচন করতে দেয়নাই। সামনে নির্বাচন আসতেছে এবারে আপনারা আপনাদের লোককে ভোট দিবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, হাসিনার মনে দরদ নাই, দরদ থাকলে দলের কর্মী ছেলে পালাতোনা। দলের কর্মীদের নেতাদের অসহায় করে ছেড়ে পালাতোনা।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিরা আমাদের উপর গণহত্যা চালিয়েছে। ২০২৪ আন্দোলনেও গণ হত্যা হয়েছে। দুটোই গণহত্যা। এবার ২৪ এ শেখ হাসিনার নির্দেশে ছাত্র জনতার উপর গুলি চালানো হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলোন, খোঁজ নেন কারা পাকিস্তানিদের সাথে সহযোগিতা করে দেশের মানুষ মেরেছে। কারা গণহত্যাতে সহযোগিতা করেছে।

পরিশেষে বিএনপর এই শীর্ষনেতা ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের দলের মনোনিত সংসদ সদস্য প্রার্থী সবার কাছে শেষ বারের মতো ভোট চান এবং শেষ নির্বাচন করে আমৃত্যু মানুষের সাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

এ সময় জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে দৌলতপুর বালিকা বিদ্যালয় মাঠে একই মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ছাড়াল ৬৯ হাজার

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক মাস পরও ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও মৃতদেহ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলেছে নিহতের সংখ্যা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৬৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে পশ্চিম তীরজুড়ে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা আরও তীব্র আকার নিয়েছে। রোববার (৯ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

শনিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৬৯ জনে। নতুনভাবে উদ্ধার ও শনাক্ত হওয়া লাশের কারণে এই সংখ্যা বেড়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, গত মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৪০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এদিকে শনিবারও নতুন করে হত্যার খবর এসেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, উত্তর গাজায় তাদের অবস্থানরত সেনাদের দিকে অগ্রসর হওয়া এক ফিলিস্তিনিকে তারা গুলি করে হত্যা করেছে। ওই ব্যক্তি ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত সীমারেখা অতিক্রম করেছিলেন।

এই ‘ইয়েলো লাইন’ হলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বাহিনী যে সীমারেখা পর্যন্ত পিছু হটার কথা, সেই এলাকা। ইসরায়েলি সেনারা জানায়, দক্ষিণ গাজাতেও একইভাবে সীমারেখা অতিক্রম করা আরেক ফিলিস্তিনিকে তারা হত্যা করেছে। তিনি নাকি সৈন্যদের জন্য “তাৎক্ষণিক হুমকি” সৃষ্টি করেছিলেন।

এমনকি ওই সীমারেখার কাছে আসা পরিবারগুলোর ওপরও ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর ফেলে যাওয়া বিস্ফোরকের কারণে এক ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নাসের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এমন অবস্থায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য গাজা ও মিসরের মধ্যে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ফিলিস্তিনি রোগী রাফাহ সীমান্ত দিয়ে মিসর ও অন্য দেশে চিকিৎসার জন্য গেছেন। তবে আরও ১৬ হাজার ৫০০ জন বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

অন্যদিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে। এসব হামলা ফিলিস্তিনিদের নিজেদের জমি থেকে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনার অংশ বলেও অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার দক্ষিণ নাবলুসের বেইতা শহরে জলপাই সংগ্রহে ব্যস্ত ফিলিস্তিনি গ্রামবাসী, কর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা।

ইসরায়েলি মানবাধিকারকর্মী জোনাথন পোলাক আল জাজিরাকে বলেন, মুখোশধারী ডজনখানেক বসতি স্থাপনকারী লাঠি ও বড় পাথর নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা পাহাড় থেকে নেমে আমাদের দিকে বিশাল পাথর ছুড়তে শুরু করে, আমাদের পালাতে হয়।

এই হামলায় অন্তত ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছেন এবং তাদের অনেককে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন সাংবাদিক এবং এক ৭০ বছর বয়সী কর্মী রয়েছেন বলেও জানা গেছে।

প্যালেস্টাইন জার্নালিস্টস সিন্ডিকেট জানিয়েছে, হামলায় তাদের পাঁচ সাংবাদিক — রানিন সাওয়াফতে, মোহাম্মদ আল-আত্রাশ, লুয়াই সাঈদ, নাসের ইশতাইয়েহ ও নাঈল বুয়াইতেল — আহত হয়েছেন। তারা এ ঘটনাকে “সাংবাদিক হত্যার উদ্দেশ্যে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ” বলে নিন্দা জানায়।

রয়টার্সও নিশ্চিত করেছে, তাদের দুই কর্মী — এক সাংবাদিক ও তার নিরাপত্তা পরামর্শক — হামলায় আহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর থেকে অন্তত ৭০টি শহর ও গ্রামে ১২৬টি হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ৪ হাজারেরও বেশি জলপাই গাছ ধ্বংস বা উপড়ে ফেলা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় পাচারকালে নৌকাডুবি, বাংলাদেশিসহ ৬ জন উদ্ধার

মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে ৯০ জন অবৈধ অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে গেছে। সমুদ্রে ভাসতে থাকা এক রোহিঙ্গা নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আরো ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। শনিবার রাতে নৌকা ডুবির এ ঘটনা ঘটে। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের।

কেদাহ পুলিশ প্রধান আবু শাহ জানিয়েছে, অভিবাসীরা প্রায় ৩০০ জনের একটি বড় দলের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিন দিন আগে যখন তারা মালয়েশিয়ার জলসীমার কাছে আসছিল, তখন সিন্ডিকেট তাদের তিনটি ছোট নৌকায় ভাগ করে দেয়, প্রতিটি নৌকায় প্রায় ৯০ জন করে ছিলেন।

তিনি জানান, ‘৯০ জন যাত্রী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্য দুটি নৌকা এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

তিনি আরো বলেন, উদ্ধারকৃত ছয়জন মিয়ানমারের নাগরিক, যাদের মধ্যে রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশিরাও রয়েছেন।

আবু শাহ জানান, ‘নৌকা ডুবির শিকার অন্যদের এবং বাকী দুটি নৌকা খুঁজে বের করার জন্য মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি এবং মেরিন পুলিশের সহায়তায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।’