Home Blog Page 255

সূচকের উত্থানে পুঁজিবাজারে স্বস্তি: ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ল ১ হাজার ৭ কোটি টাকা

০

সূচকের ঊর্ধ্বগতির মধ্য দিয়ে চলতি সপ্তাহে লেনদেন শেষ করেছে দেশের পুঁজিবাজার। সপ্তাহ ব্যবধানে এতে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ৭ কোটি টাকা, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ। চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকায়। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এই অঙ্ক ছিল ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা।

চলতি সপ্তাহে ডিএসইর সবকটি সূচকেই উত্থান দেখা গেছে। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৫২ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ০৮ শতাংশ। পাশাপাশি ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসই-৩০ বেড়েছে ২২ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২২ শতাংশ। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস বেড়েছে ৭ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ।
তবে সূচকের এই ইতিবাচক প্রবণতার মাঝেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৩৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৪৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে লেনদেন কমেছে ১১৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

এদিকে দৈনিক গড় লেনদেনও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। চলতি সপ্তাহে প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড় লেনদেন হয়েছে ৩৫৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছিল ৩৮৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৪১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৪৪টির দাম কমেছে এবং ১০১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সূচকের উত্থান বাজারে আস্থার ইঙ্গিত দিলেও লেনদেন কমে যাওয়া বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রতিফলন। আগামী সপ্তাহে লেনদেনের গতি বাড়ে কি না, সেদিকেই এখন নজর বাজার সংশ্লিষ্টদের।

জামায়াত-এনসিপি মিলিত হচ্ছে আসন সমঝোতায়: যা জানা গেলো ৮ দলীয় জোটের চূড়ান্ত পরিকল্পনায়

০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ইসলামী আট দলীয় জোটের কলেবর বড় হতে যাচ্ছে। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ এই জোটের আসন সমঝোতায় এবার এনসিপি যুক্ত হতে পারে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন জোটের নেতারা। তবে চূড়ান্ত ঘোষণা পেতে দু-একদিন অপেক্ষা করতে হবে।  তারা জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র উত্তোলনের শেষ দিন পর্যন্ত সমঝোতা না হলে প্রত্যাহারের আগেই আসন বণ্টন চূড়ান্ত হবে।

গত সেপ্টেম্বর থেকে রাজপথে সরব এই আট দল ইসলামী আন্দোলন, জামায়াত, খেলাফত মজলিসসহ নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিচারের দাবি এবং নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

নির্বাচনী মাঠে আন্দোলনের ঐক্য কাজে লাগাতে আসন ভিত্তিক সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। দু-একদিনের মধ্যে ঘোষণা আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।
৮ দলের নেতারা জানিয়েছেন, এনসিপিসহ আরও কিছু দল সমঝোতায় যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে জোটের মধ্যে আলোচনা চলছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “অনেক দলের সঙ্গে আলাপ চলছে এবং এনসিপির সঙ্গেও যোগাযোগ আছে। আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছি।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, “এনসিপিসহ আরও দুটি পার্টি যুক্ত হলে আমরা এটাকে পজিটিভলি দেখি। এতে আমাদের প্ল্যাটফর্ম বড় হবে এবং নির্বাচনে ভালো ফলাফল সম্ভব।”

নতুন দলগুলোর জন্য কোনো ছাড় দিতে জোট প্রস্তুত। জোটের নেতারা বলেন, ইসলামী ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার মাধ্যমে আগামী সংসদে পাঠাবে ইসলামপ্রিয় মানুষ। জালালুদ্দীন আরও বলেন, “যদি আসন কমও হয়, আমরা অসন্তুষ্ট নই। বরং প্ল্যাটফর্ম বড় হলে নির্বাচনে আমাদের সুযোগ বাড়বে।”

জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক ইসলামি শক্তি। সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে আসন বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন ও দেশ গড়ার লক্ষ্য পূরণ করব, ইনশাআল্লাহ।” নতুন জোটের চূড়ান্ত ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে দু-একদিনের মধ্যেই আসার কথা জানানো হয়েছে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন তারেক রহমান, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার

০

আজ শুক্রবার, মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের স্মরন করে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদীদে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমনকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও তার আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। নেওয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বাদ জুমা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতির বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তারেক রহমান।

এদিকে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে স্মৃতিসৌধ অনেকটাই সাজিয়ে-গুছিয়ে রেখেছে স্মৃতিসৌধ কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া স্মৃতিসৌধ এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আশপাশের এলাকায় জনসাধারণের চলাচল থাকবে সীমিত। এছাড়া দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং শুক্রবার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে সাভার-আশুলিয়ার বিএনপির নেতাকর্মীরাও ব্যাপক প্রস্ততি নিয়েছেন। আমিনবাজার থেকে শুরু করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দলীয় ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। স্মৃতিসৌধে যাওয়া এবং ফেরার পথে প্রতিটি পয়েন্টেই দলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মীরা অবস্থান করবেন এবং ফুল দিয়ে প্রিয়া নেতাকে শুভেচ্ছা জানাবেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা-১৯ থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর শুক্রবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জাতীয় স্মৃতিসৌধে আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা আনন্দিত। আমার নির্বাচনী এলাকা সাভারের ব্যাংকটাউন থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দলীয় ব্যানার, ফেস্টুন এবং বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার নেতাকর্মী ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয়পাশে অবস্থান করবেন। এছাড়াও জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং আশপাশের এলাকায় সব মিলিয়ে লক্ষাধিক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটবে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ ও সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৗশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু বলেন, আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এজন্য স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নসহ ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। পুরো কমপ্লেক্স পরিস্কার করার পাশাপাশি লেকও পরিষ্কার করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য জন সাধারনের প্রবেশ সীমিত করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক, ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষ্যে তার নিরাপত্তার জন্য সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিতরে এবং বাহিরে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে সূরা ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেবেন তারেক রহমান। এসময় তার সঙ্গে থাকবেন দলের নেতাকর্মীরা। পরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তারেক রহমান।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে তারেক রহমান, তার স্ত্রী জোবায়দা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে বহনকারী বিমান বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাটি স্পর্শ করে। এসময় বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিমানবন্দর থেকে বের হন তিনি। এরপর বিমানবন্দরের সামনে জুতা খুলে খালি পায়ে মাটি স্পর্শ করেন তারেক রহমান।

শনিবার ভোটার হবেন তারেক রহমান

০

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি জটিলতা থাকবে না। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা বিবেচনায় ভোটার নিবন্ধনের পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) জানিয়েছেন, “নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত, প্রয়োজনীয় অ্যারেঞ্জমেন্ট করা হয়েছে। ভোটার হওয়ার পর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো জটিলতা দেখছি না।” তিনি আরও বলেন, “এখানে দুইটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ তারেক রহমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং কেপিআই হিসেবে নির্বাচন কমিশন ভবনের নিরাপত্তা। দুই দিকেই সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে তারেক রহমান কোথায় ভোটার হবেন গুলশানের বাসায় নাকি নির্বাচন অফিসে এ বিষয় এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ইসি জানায়, “পরিস্থিতি অনুযায়ী যে কোনো একটি পদ্ধতি বেছে নেওয়া হতে পারে। যথাসময়ে বিষয়টি জানানো হবে।”
এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তারেক রহমান ২৭ ডিসেম্বর ভোটার হবেন। তবে তফসিল ঘোষণার পর সাধারণ নিয়মে মাঠপর্যায়ে ভোটার হওয়ার সুযোগ না থাকায় বিষয়টি পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে থাকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছে ১১ ডিসেম্বর। ঢাকার বাসিন্দা হওয়ায় তারেক রহমানের ভোটার কার্যক্রম ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ইসি সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া শেষ সময়ে ক্যান্টনমেন্টের বাসায় ভোটার হয়েছিলেন। সেই নজির অনুযায়ী সবকিছু ঠিক থাকলে তারেক রহমানও বাসা থেকেই ভোটার হতে পারেন।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনের পর দেশে ফিরে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ঢাকার তিনশ ফুট এলাকায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা মঞ্চে তিনি বলেন, “আই হ্যাভ আ প্ল্যান।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক। দেশের যে কোনো নির্বাচনি এলাকার ভোটার হলে তা চলবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমার শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। ইতোমধ্যে বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দাখিল করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

০

কুয়াশার চাদরে ঢেকে পড়েছে প্রকৃতি, জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত। বিকাল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত বইছে হিমেল হাওয়া। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০ ডিগ্রির ঘরে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কাল থেকে কিছুটা তাপমাত্রা বেড়ে আবার মাসের শেষের দিকে কমতে পারে। একইসাথে তখন শৈত্যপ্রবাহের আভাস আছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য যদি ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে আসে, সেখানে শীতের অনুভূতি বাড়তে থাকে। কিন্তু পার্থক্য যদি পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসে তবে শীতের অনুভূতি প্রকট থেকে প্রকটতর হয়। অর্থাৎ হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হয়। তখনই কেবল আমরা শৈত্যপ্রবাহ বলে থাকি।

তিনি বলেন, এ মাসের শেষের দিকে অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সময়ের মধ্যে একটি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। তখন শীতের দাপট আরও বাড়বে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। রাতের তাপমাত্রা আরও ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমারও আশঙ্কা রয়েছে। দিনের বেলায় আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের একটি বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। একই সময়ে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এ পরিস্থিতির প্রভাবেই দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় কুয়াশা ও শীতের অনুভূতি বাড়ছে।

শরীর থেকে বদ কোলেস্টেরল কমাবে এই মশলা! দিনে আধা চা-চামচই যথেষ্ট

কালোজিরে শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ায়ই না, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও আশ্চর্যজনক উপকারী। ঋতু পরিবর্তনের সময় শ্বাসনালীর সমস্যা, হজমের অস্বস্তি কিংবা একজিমা–সব ধরনের সমস্যায় বহুদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে কালোজিরে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কালোজিরে নিয়মিত সেবন কোলেস্টেরল কমাতে এবং স্থূলতার ঝুঁকি হ্রাস করতেও কার্যকর হতে পারে। গবেষণায় ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৪২ জন অংশগ্রহণ করেন। আট সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন প্রায় ৫ গ্রাম কালোজিরের গুঁড়ো খাওয়া হলে, তাঁদের মোট কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

গবেষকরা আরও জানান, কালোজিরে খেলে ভাল কোলেস্টেরল (HDL) বাড়ে, যা হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। এতে থাকা থাইমোকুইনোন উপাদান দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং চর্বি কোষ গঠনের প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়।

দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কালোজিরে সহজেই রাখা যায়। ডাল, তরকারি, সবজি, রুটি কিংবা আচারে আধা চা-চামচ ব্যবহারই যথেষ্ট। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি ওজন নিয়ন্ত্রণ, রক্তে শর্করা এবং হৃদস্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে এটি কখনও সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা বা চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।

পায়ের পেশীতে টান ধরলে যা করবেন

গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন অবস্থায় কিংবা জেগে থাকা অবস্থায়ই হঠাৎ পায়ের ডিম বা কাফ মাসলে তীব্র যন্ত্রণায় ঘুম ভেঙে যাওয়া—এই অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। তখন পা সোজা বা ভাঁজ, কিছুই করা যায় না। মনে হয় শিরা বা রগ এক জায়গায় দলা পাকিয়ে গেছে।শিশু থেকে বৃদ্ধ—প্রায় সব বয়সের মানুষই কমবেশি এই সমস্যায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ সমস্যাকে বলা হয় নকচারনাল লেগ ক্র্যাম্পস।

চিকিৎসকরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন ও কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় মেনে চললেই এই যন্ত্রণা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

কেন হয় এই সমস্যা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে পানির ঘাটতি (ডিহাইড্রেশন) অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়া ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের অভাব, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করা, অতিরিক্ত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম, গর্ভাবস্থা ও বার্ধক্য; এসব কারণে পেশিতে হঠাৎ টান ধরতে পারে।

ঘুমের মধ্যে পায়ে টান ধরলে ভয় না পেয়ে নিচের উপায়গুলো অনুসরণ করুন—

স্ট্রেচিং: আক্রান্ত পা সোজা করে পায়ের পাতাটি নিজের দিকে টানুন। হাত দিয়ে আঙুল ধরে টানলে কাফ মাসল প্রসারিত হয় এবং ব্যথা কমে।

হাঁটাচলা: বিছানা থেকে নেমে ধীরে ধীরে কিছুক্ষণ হাঁটুন।

গরম সেঁক: টান ধরা জায়গায় হট ওয়াটার ব্যাগ দিয়ে সেঁক দিন বা গরম পানিতে গোসল করুন।

ম্যাসাজ: অল্প তেল দিয়ে হালকা হাতে মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং আরাম মেলে।

এই সমস্যা যেন বারবার না হয়, সেজন্য কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি—

পর্যাপ্ত পানি পান: দিনে অন্তত ৩–৪ লিটার পানি পান করুন।

পুষ্টিকর খাবার: কলা, ডাবের পানি, পালং শাক, বাদামসহ পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান।

ঘুমানোর ভঙ্গি: উপুড় হয়ে না ঘুমিয়ে চিত হয়ে বা কাত হয়ে ঘুমান।

হালকা ব্যায়াম: ঘুমানোর আগে পায়ের হালকা স্ট্রেচিং বা কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি উপকারী।

 

রিয়াজের মৃত্যুর খবরে যা বলছে শিল্পী সমিতি

০

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চিত্রনায়ক রিয়াজ আহমেদের মৃত্যুর খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। মঙ্গলবার ২৩ ডিসেম্বর হঠাৎ করে এ ধরনের খবর ভাইরাল হলেও এ বিষয়ে কোনো ধরনের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী বুধবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, রিয়াজ আহমেদের মৃত্যুর বিষয়ে সমিতির কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি বলেন, রিয়াজের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের যোগাযোগ না থাকলেও এমন কোনো ঘটনা ঘটলে শিল্পী সমিতি তা না জেনে থাকা অসম্ভব। তাঁর ভাষায়, এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি গুজব।

জয় চৌধুরী বলেন, শিল্পীদের মৃত্যুর ভুয়া খবর ছড়ানোর ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও নায়ক রাজ্জাক, এ টি এম শামসুজ্জামান, মিশা সওদাগর, ডিপজল ও রুবেলের মৃত্যুর খবর একইভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছিল। এসব গুজবে শিল্পীরা যেমন বিব্রত হন, তেমনি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও ভয় ও মানসিক চাপ তৈরি হয়।
এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। জয় চৌধুরী জানান, কদিন পরপর শিল্পীদের নিয়ে মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যা আর মেনে নেওয়া যায় না। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বেশ কিছু ডকুমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শিল্পী সমিতির এই নেতা মনে করেন, কিছু ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল শুধুমাত্র ভিউ ও প্রচারের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এমন গুজব ছড়িয়ে থাকে। এতে শিল্পী সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং পরিবারগুলো অযথা আতঙ্কের মধ্যে পড়ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে টানা দুই দশক ধরে ঢালিউডের জনপ্রিয় মুখ ছিলেন রিয়াজ আহমেদ। ‘বাংলার নায়ক’ সিনেমার মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয়। এরপর উপহার দিয়েছেন অসংখ্য সুপারহিট চলচ্চিত্র। ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়া ‘অপারেশন সুন্দরবন’ ছিল তাঁর অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা। এরপর থেকে নতুন কোনো কাজে তাঁকে দেখা যায়নি।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও এক সময় সক্রিয় ছিলেন রিয়াজ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা গেছে এবং কয়েকবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবেও ছিলেন তিনি। তবে গত ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আড়ালে রয়েছেন বলে জানা যায়।

শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে আবারও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, রিয়াজ আহমেদের মৃত্যুর খবর সম্পূর্ণ গুজব এবং বিভ্রান্তিকর। এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

তারেক রহমানকে নিয়ে ন্যান্সির নতুন গান

০

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজনীতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও আলাদা অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে।

এই আবেগ থেকেই প্রকাশ পেয়েছে নতুন গান ‘নেতা আসছে’। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি ও সালমান রাজ। গানের কথায় ফুটে উঠেছে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা, আশা ও উচ্ছ্বাস—যেখানে নেতার ফিরে আসাকে ঘিরে মা, মাটি ও মানুষের কথা বলা হয়েছে।

গানটির কথা লিখেছেন মিজানুর রহমান। পলক হাসান সুমনের সুরে সংগীতায়োজন করেছেন এ এন ফরহাদ। পুরো প্রকল্পের গ্রন্থনা, পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধান করেছেন চিত্রনায়ক হেলাল খান।

‘নেতা আসছে’ গানটি বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশের পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে মন্তব্যের মাধ্যমে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাচ্ছেন এবং গানটির প্রশংসা করছেন।

সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিসরেও এই গান নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাস্তবমুখী পদক্ষেপ প্রয়োজন

০

নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি। কয়েক বছর ধরেই স্মরণকালের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যহীনতা, ডলার সংকট, রিজার্ভের ক্ষয়, বিনিয়োগ খরা, রাজস্ব ঘাটতি, ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও অনিয়ম-দুর্নীতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের লুটপাট ও অব্যবস্থাপনাসহ অর্থনীতি বিভিন্ন সংকটে নিমজ্জমান। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের চূড়ান্ত স্বীকৃতি মিলবে আগামীবছরের নভেম্বরে।

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে তেমনি সুযোগও তৈরি হবে। তখন আগে যে সুবিধাগুলো বিদ্যমান ছিল, তা আর পাওয়া যাবে না এবং বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতা করতে হবে আরও শক্তিশালী দেশের সঙ্গে। এ অবস্থায় শুধু পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে রেমিটেন্স বাড়াতে হলে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। দেশের ব্যাপক তরুণ জনগোষ্ঠী, রপ্তানি খাতের সম্ভাবনা, প্রবাসী আয় এবং ডিজিটাল রূপান্তরের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে।

এজন্য উৎপাদন ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ করতে হবে। সুশাসন ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি করতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ, সংকট, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও করণীয় সম্পর্কে সম্প্রতি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহদী আমিন, ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক সাকিফ শামীম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। তাদের মতে, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যথাযথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও নির্ধারিত সময়ে তা বাস্তবায়ন একান্ত অপরিহার্য।

এক্ষেত্রে নীতি সহায়তা ও সংস্কার, অর্থায়ন, লজিস্টিক খাতের উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি এবং আর্থিক খাত চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ যত সহায়ক হবে রপ্তানি খাতে তত বেশি সাফল্য আসবে। সেই সঙ্গে শুল্কহার বেশি থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ব্যাহত হয়, তাই সহায়ক রাজস্ব নীতিমালার কোনো বিকল্প নেই। রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য স্বল্প সুদে অর্থায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ে একটি সহায়ক বিনিময় হার নির্ধারণ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

একইসঙ্গে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বেশকিছু চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সুযোগও তৈরি হবে। তবে সেগুলো মোকাবিলার জন্য আমাদের দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। ড. মাহদী আমিনের মতে, বিএনপির ঘোষিত ৩১-দফা সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে অর্থনৈতিক উদারীকরণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা রয়েছে। এর মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব।

অর্থনৈতিক অপরাধ এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি রোধে আইনি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ওপর তিনি জোর দিয়েছেন- যাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে আমাদের ডিজিটাল ডিভাইড কমাতে হবে এবং বিনিয়োগের জন্য একটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
ড. মাহদী আমিনের মতে, ৩১ দফার লক্ষ্য হলো, তরুণদের জন্য কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করা। কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণরা যেন উদ্যোক্তা হতে পারে, সেজন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো প্রয়োজন। ড. সায়মা হক বিদিশা মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক সন্ধিক্ষণে রয়েছে। স্থিতিশীলতা ফেরাতে হলে কেবল সাময়িক ব্যবস্থা না নিয়ে ব্যাংকিং খাত, রাজস্ব নীতি এবং কর্মসংস্থান এই তিনটি ক্ষেত্রে গভীর ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, উচ্চ মূল্যস্ফীতি।

তিনি মনে করেন, কেবল মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, এর জন্য বাজার তদারকি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি বন্ধ করা জরুরি হয়ে পড়ছে। তার মতে, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অনেক সময় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। অর্থনীতিবিদ সাকিফ শামীম বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের মহাকাব্য আজ এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে গতানুগতিক সাফল্যের পরিসংখ্যান আর আগামীর রূঢ় বাস্তবতার মধ্যে এক বিস্তর ব্যবধান দৃশ্যমান হচ্ছে।

গত এক দশকে আমাদের অবকাঠামোগত দৃশ্যপট আমূল বদলে গেলেও অর্থনৈতিক কাঠামোর গভীরে সঞ্চিত সংকটের মেঘগুলো এখন আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ২০২৫ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা যখন বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি, তখন উন্নয়নকে কেবল ইট-পাথরের সংজ্ঞায় সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবনযাত্রার মান ও নিরাপত্তার নিরিখে বিচার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।