Home Blog Page 256

প্রতি রাতে কেন কাঁচা রসুন খাবেন, খেলে কী ঘটে শরীরে

সাধারণত রসুনকে মশলা হিসেবেই জানেন সবাই। বাসা-বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয় উপাদানটি। খাবারের পদে এটি যোগ করার ফলে স্বাদ বৃদ্ধি পায়। এ কারণে মাছ-মাংস রান্নার সময় কেউ কেউ আলাদাভাবে গোটা রসুনই দিয়ে থাকেন তরকারিতে।

রসন মশলা ছাড়াও ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে সেই প্রাচীনকাল থেকে। বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসায় ব্যবহার হয় এটি। তীব্র গন্ধ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা মূলত একটি সালফারভিত্তিক যৌগ অ্যালিসিনের জন্য পাওয়া যায়। এ কারণে প্রতিদিন রাতে এক কোয়া কাঁচা রসুন খেলে শরীরে এর শক্তিশালী প্রভাব পড়ে। আর প্রতিদিন রাতে কাঁচা রসুন খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম। তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-

➤ রাতে এক কোয়া রসুন খাওয়ার উপকারিতা:
রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: রসুন অ্যান্টি-ভাইরাল, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যের জন্য বেশ পরিচিত। সাধারণত ঠান্ডা লাগা, ফ্লু ও বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করতে কাজ করে থাকে রসুনের এসব উপাদান। প্রতিদিন রাতে এক কোয়া রসুন খাওয়া হলে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা রাতভর ধরে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকে।

হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা: উচ্চ রক্তচাপ ও খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে রসুন। ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। অ্যালিসিন রক্তনালীকে শিথিল করতে সহায়তা করে, রক্ত প্রবাহকে উন্নত করে থাকে।

প্রদাহ ও ডিটক্সিকেশন: রসুনে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা আপনার শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ রোধে সহায়তা করে। যকৃতের এনজাইমগুলো সক্রিয় করে শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে সহায়তা করে থাকে।

হজম প্র্রক্রিয়া ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য: সকালে খালি পেটে রসুন খাওয়ার দীর্ঘদিনের প্রচলন থাকলেও, এটি নিয়মিত রাতে খাওয়া হলে হজম প্রক্রিয়া উদ্দীপিত হতে পারে এবং অন্ত্রের খারাপ ব্যাকটেরিয়াগুলোর বিরুদ্ধে লড়তে ভূমিকা রাখে।

➤ কেন রাতে কাঁচা রসুন খাওয়া উচিত:
এমন অনেকেই আছেন, যারা রাতে ঘুমানোর আগে কাঁচা রসুন খেতে পছন্দ করেন। তাদের বিশ্বাস―রাতে শরীর বিশ্রাম নেয়, এ সময় রসুনের উপাদানগুলো শরীরকে মেরামত ও নিরাময় করতে দীর্ঘ সময় পায়। এটি ঘুমানোর সময় রক্তচাপকেও স্থিতিশীল করতে অবদান রাখে।

➤ কারা রসুন এড়িয়ে যাবেন বা সীমিত করবেন:
হজমের সমস্যা: রসুন প্রাকৃতিকভাবে অম্লীয়। গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্সি ডিজিজ (GERD), বুকজ্বালা (Heartburn) বা ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রোম (IBS) থাকা ব্যক্তিদের কাঁচা রসুন খাওয়া ঠিক নয়। তারা কাঁচা রসুন খেলে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

রক্ত পাতলা করার ওষুধ: রসুন হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক রক্ত পাতলাকারী ওষুধ। অ্যাসপিরিন, ওয়ারফারিন বা অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করলে তাদের অতিরিক্ত রসুন খাওয়া রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সার্জারির আগে: কোনো ধরনের অস্ত্রোপচারের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে রসুন খাওয়া বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। কেননা, রসুন রক্তপাত বাড়াতে পারে।

ওষুধের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া: এমন কিছু ওষুধ রয়েছে (HIV বা এইডসের ওষুধ), যার সঙ্গে রসুন খাওয়া হলে প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। আর হ্যাঁ, রসুন খাওয়া উপকারী হলেও, কারও যদি সমস্যা হয়, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জয়েন্ট-ব্যথা? যেভাবে মিলবে সমাধান

দেশজুড়ে এখন পুরোদমে শীত। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে অনেক মানুষ হাত–পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, জয়েন্টে ব্যথা, পেশিতে টান বা শক্তভাবের সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উপসর্গ শীতের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া; তবে যাদের আগে থেকেই আর্থ্রাইটিস, গেঁটেবাত বা স্নায়ুর সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যথা আরও তীব্র হতে পারে।

কেন বাড়ে শীতে ব্যথা?

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, শীতকালে শরীর তাপ ধরে রাখতে রক্তনালী সংকুচিত হয়। এতে হাত–পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। ফলে পেশি শক্ত হয়ে ব্যথা বাড়ে। জয়েন্টের ভেতরে থাকা সিনোভিয়াল ফ্লুইড বা লুব্রিকেন্টও ঠান্ডায় ঘন হয়ে যায়, যা জয়েন্টের নড়াচড়া কমিয়ে দেয়। এ কারণে হাঁটু, কোমর, আঙুল বা কাঁধে ব্যথা অনুভূত হয়।

শুধু তাই নয়, ঠান্ডায় পেশিতে চাপ বাড়ে এবং স্নায়ুগুলো ব্যথার সিগন্যাল বেশি তীব্রভাবে পাঠায়। তাই আগে থেকেই যাদের আর্থ্রাইটিস বা নিউরোলজিক্যাল সমস্যা আছে, তাদের ব্যথা দ্বিগুণ বেড়ে যেতে পারে।

সমাধান কী? চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শরীর গরম রাখা। মোজা, গ্লাভস, থার্মাল পোশাক ও মাথা ঢেকে রাখলে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং ব্যথা কমে। ঘরে নিরাপদ দূরত্বে হিটার ব্যবহার বা গরম পানি দিয়ে হাত–পায়ে সেক দেওয়া বেশ কার্যকর।

প্রতিদিন ১০–২০ মিনিট হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করাও উপকারী। এতে রক্তপ্রবাহ বাড়ে এবং জয়েন্টের লুব্রিকেন্ট স্বাভাবিক হয়। পাশাপাশি শরীর পর্যাপ্ত পানি না পেলে পেশি শক্ত হয়ে ব্যথা বাড়ে—তাই শীতেও পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

খাদ্যাভ্যাসেও চোখ রাখতে পরামর্শ দেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। মাছ, ডিম, কলা, বাদাম, ফ্ল্যাক্সসিড ও রোদে অল্প সময় থাকা—এসব উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং জয়েন্টকে নমনীয় রাখে।

ওষুধ কখন প্রয়োজন?

ব্যথা বেশি হলে প্যারাসিটামল বা চিকিৎসকের পরামর্শে ইবুপ্রোফেন ও ন্যাপ্রক্সেন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন—নিজে থেকে অতিরিক্ত ব্যথানাশক খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—

ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে

জয়েন্ট ফুলে যাওয়া বা লাল হয়ে গেলে

জ্বরের সঙ্গে ব্যথা হলে

হাত–পা অসাড় বা দুর্বল হয়ে গেলে

আগে থেকে আর্থ্রাইটিস বা ডায়াবেটিস আছে এমন রোগীদের ব্যথা বেড়ে গেলে

গুজব নয়, দরকার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান

চিকিৎসকেরা মনে করিয়ে দেন—শীতে ব্যথা বাড়লেও এটা “ঠান্ডা লাগার কারণে বাত হয়”—এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল। একইভাবে ভেষজ তেল, ঝাড়ফুঁক অথবা অ্যান্টিবায়োটিক–—কোনোটিই এই সমস্যার সমাধান নয়।

শীত যতই বাড়ুক, সঠিক সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে চললে হাত–পা ও জয়েন্টের ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

রামগতিতে ধরা পড়ল ২৪০ কেজির শাপলা পাতা মাছ, নিলামে বিক্রি ৭৫ হাজার টাকা

০

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় জেলেদের জালে ধরা পড়েছে প্রায় ২৪০ কেজি ওজনের বিরল ও বিশাল আকৃতির শাপলা পাতা মাছ, যা স্থানীয়ভাবে ‘হাউস মাছ’ নামে পরিচিত। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে বড়খেরী মাছঘাট বাজারে নিলামে মাছটি ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কীর্তন মাঝি ও তাঁর সহযোদ্ধা জেলেরা প্রতিদিনের মতো রামগতির দক্ষিণে মেঘনা নদীর মোহনার কাছে মাছ ধরছিলেন। সোমবার ভোরে জাল তুলতে গিয়ে তাঁরা অস্বাভাবিক ভার অনুভব করেন। পরে নিজেদের ট্রলারের ১২ জন জেলে এবং পাশে থাকা আরেকটি ট্রলারের জেলেদের সহায়তায় দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে বিশাল আকৃতির শাপলা পাতা মাছটি ট্রলারে তুলতে সক্ষম হন।

বাঁশ ও দড়ির সাহায্যে প্রায় ছয়জন জেলে বৃত্তাকারে প্রায় সাড়ে ১১ ফুট এবং লেজসহ প্রায় ১৩ ফুট দৈর্ঘ্যের মাছটি ডাঙায় তোলেন। পরে মাছটি রামগতির বড়খেরী মাছঘাটে নিয়ে আসা হয়। বিকেলে মোতালেব বেপারীর আড়তে নিলামে তোলা হলে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী কৃষ্ণ বেপারি মাছটি কিনে নেন।

মাছ বিক্রেতা কীর্তন মাঝি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরা ব্যবসায় লোকসান গুনছি। ধার–দেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। এত বড় মাছ পেয়ে আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করছি। তবে ভালো ক্রেতার অভাবে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে।”

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মুসা আহমেদ হিমু ও শাকিল জানান, “এ ধরনের শাপলা পাতা মাছ এখন খুবই বিরল। এমন মাছ দেখলে জেলেদের মতো আমরাও আনন্দিত হই। প্রকৃতিতে এখন এসব মাছ খুব কম দেখা যায়।”

এদিকে বিশাল আকৃতির এই মাছ দেখতে মাছঘাটে স্থানীয়দের ভিড় জমে। অনেকেই মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

হাদি হত্যা, সামনে এলো শুটার ফয়সালের নতুন পরিচয়

০

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। সর্বশেষ জানা গেছে, এই শুটার একসময় শোবিজ অঙ্গনেও কাজ করেছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, একটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন ফয়সাল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সালে নির্মিত ‘কিলার’ শিরোনামের একটি নাটকে অভিনয় করেন তিনি।

এদিকে, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণ করে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব। তিনি জানান, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এই অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী ফয়সাল করিম মাসুদসহ তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার সংক্রান্ত পৃথক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে সিআইডি।

সিআইডি জানায়, ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল এখনও গ্রেপ্তার না হলেও মামলার আলামত গোপন ও তাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তার পরিবারের সদস্যসহ একাধিক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই উদ্ধার করা হয়। যা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন না হওয়া এসব চেকের মোট মূল্য প্রায় ২১৮ কোটি টাকা।

প্রাথমিক বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, অভিযুক্ত ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেন সংঘটিত হয়েছে। যা মানিলন্ডারিং, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে।

অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব জানান, অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার জন্য আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি এসব অর্থের উৎস ও সরবরাহকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শনাক্তে সিআইডির একাধিক টিম কাজ করছে।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহে কোনো সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল কি না তা খতিয়ে দেখছে সিআইডি।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

পরে মরদেহ দেশে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়।

আগামী বছর সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমতে যাচ্ছে! নতুন হার জানাল অর্থ বিভাগ

০

ছয় মাসের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনরায় কমানো হতে পারে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য নতুন হার নির্ধারণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে। প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ ইতিমধ্যেই অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের অনুমোদনের জন্য তার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

অনুমোদন মিলে গেলে অর্থ বিভাগ প্রস্তাবটি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে (আইআরডি) পাঠাবে। এরপর আইআরডি একটি পরিপত্র জারি করবে। গত রবিবার (২১ ডিসেম্বর) অর্থ বিভাগ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাব এখনও তার কাছে আসেনি। তবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির স্বার্থে ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর দাবি রয়েছে। সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১.৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন হার ৯.৭২ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে গড়ে প্রায় ০.৫ শতাংশ হার কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। তবে ছোট অঙ্কের বিনিয়োগে মুনাফা তুলনামূলক বেশি রাখা হবে, আর বড় অঙ্কের বিনিয়োগে হার কম নির্ধারণ করা হবে। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা তার কম বিনিয়োগে বেশি মুনাফা, এর বেশি বিনিয়োগে কম মুনাফা দেওয়া হবে।

সরকার গত ৩০ জুন আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নিয়মিত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ছয় মাস পর পুনর্নির্ধারণ করা হবে। ৩১ ডিসেম্বর সেই ছয় মাসের মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে।

আইআরডি সচিব মো. আবদুর রহমান খান জানান, মুনাফা বাড়ছে না কমছে, তা এখন বলা সম্ভব নয়। পুরো বিষয়টি এখন অর্থ বিভাগ দেখছে। তাদের সুপারিশ এলে পরিপত্র জারি করা হবে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে পরিবার সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে জনপ্রিয়। বর্তমানে এতে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর মেয়াদে মুনাফা ১১.৯৩ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। ১ জুলাইয়ের আগে এই হার ছিল ১২ শতাংশের বেশি।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফা ১১.৯৮ শতাংশ, বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে কম বিনিয়োগে ১১.৮৩ শতাংশ, বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে কম বিনিয়োগে ১১.৮২ শতাংশ, বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭ শতাংশ।

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের তিন বছর মেয়াদে কম বিনিয়োগে ১১.৮২ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭ শতাংশ মুনাফা রয়েছে। তবে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবের মুনাফার হার অপরিবর্তিত থাকবে।

বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বেশি থাকলে সাধারণত সঞ্চয় চলে যায় সরকারি তহবিলে। যদি হার কমানো হয়, তবে ব্যাংকে ঋণ প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। তবে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের ঋণের চাহিদাই কম, তাই বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ দেওয়াও সীমিত।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই–অক্টোবর) সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সরকার নিট ২,৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর আগের অর্থবছরে (২০২৪–২৫) নিট ঋণ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণাত্মক ছিল। অক্টোবর শেষে সরকারের মোট সঞ্চয়পত্র ঋণ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকায়।

নির্বাচন হবে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা

০

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে টেলিফোন আলাপে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী এই আলাপে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনা, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং তরুণ রাজনৈতিক কর্মী শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা হয়।

ফোনালাপে সাম্প্রতিক শুল্ক আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রফেসর ইউনূসকে অভিনন্দন জানান সার্জিও গোর। আলোচনার ফলে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, যা স্বৈরাচারী শাসনামলে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসনের সমর্থকেরা নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে এবং তাদের পলাতক নেতা সহিংসতা উস্কে দিচ্ছেন। তবে, অন্তর্বর্তী সরকার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচনের আর প্রায় ৫০ দিন বাকি। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে চাই। এটি যেন স্মরণীয় হয়, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।

ফোনালাপের সময় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

বেগম জিয়া ও বাংলাদেশ নিয়ে আবেগঘন পোস্ট জাইমা রহমানের

০

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরছেন আগামী । দেশে ফেরার আগে দাদি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও বাংলাদেশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন জাইমা রহমান।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে নিজের ফেসবুক পেজে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে শৈশবের একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। পোস্টটি বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজসহ দলটির অনেক নেতাকর্মী শেয়ার করেছেন।

পোস্টে জাইমা রহমান লিখেন,  দাদুকে নিয়ে আমার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি হলো, পরিবারকে আগলে রাখা একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি কতটা মমতাময়ী ছিলেন! আমার বয়স তখন এগারো। আমাদের স্কুলের ফুটবল টিম একটা টুর্নামেন্ট জিতেছিল, আর আমি মেডেল পেয়েছিলাম। আম্মু আমাকে সরাসরি দাদু’র অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন, আমি যেন নিজেই দাদুকে আমার বিজয়ের গল্পটা বলতে পারি; তাঁকে আমার বিজয়ের মেডেলটা দেখতে পারি। আমি খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে গোলকিপার হিসেবে কী-কী করেছি, সেটা বলছিলাম; আর স্পষ্ট টের পাচ্ছিলাম, দাদু প্রচন্ড মনোযোগ নিয়ে আমাকে শুনছেন। তিনি এতটাই গর্বিত হয়েছিলেন যে, পরে সেই গল্পটা তিনি অন্যদের কাছেও বলতেন।

তিনি আরও লিখেন, আমি সব সময়ই জানতাম, আমার দাদু’র কাঁধে একটা দেশের দায়িত্ব। তবুও আমার স্মৃতিতে দাদু হলেন পরিবারকে আগলে রাখা একজন মমতাময়ী অভিভাবক। লাখো মানুষের কাছে তিনি ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আমার আর আমার কাজিনদের কাছে তিনি ছিলেন ‘দাদু’। আমাদের ‘দাদু’। তিনি সব সময় আমাদের খেয়াল রাখতেন, আমাদের জন্য সময় বের করতেন, আর যেসব মুহূর্ত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেগুলোতে আমাদের সাহস দিতেন, উজ্জীবিত করতেন। এই ছোট-ছোট মুহূর্তগুলো থেকেই আমি নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা পাই। সেটি হলো, নম্রতা, আন্তরিকতা আর মন দিয়ে শোনার মানসিকতা।

জাইমা আরও বলেন, ‘ বাংলাদেশের বাইরে কাটানো সতেরোটা বছর আমার জীবন অনেকভাবে বদলে দিয়েছে। কিন্তু আমি কখনোই আমার শিকড় ভুলে যাইনি। কারণ, আমাদের সত্তার যে ভিত্তি, আমাদের যে সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ; সেটিই আমাদেরকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে, পরিচয় বহন করে। প্রবাসে থাকা দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের অনেক বাংলাদেশির মতো আমিও নিজ দেশের বাইরে, ভিন্ন দেশে অনেকগুলো বছর কাটিয়েছি। লন্ডনের দিনগুলো আমাকে বাস্তববাদী করেছে, একটা বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। যদিও আমার হৃদয়-মন সব সময় বাংলাদেশেই ছিল।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমাকে শৃঙ্খলা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান শিখিয়েছে। তবে মানুষের সঙ্গে কাজ করা আমাকে শিখিয়েছে আরও অনেক বেশি; শিখিয়েছে দায়িত্বশীল হতে, বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়াতে। আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। প্রত্যেক ক্লায়েন্ট, প্রতিটি মামলা, প্রতিটি মানুষের সমস্যা, কারও না কারও জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অবহেলার শিকার হয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সেই বিশ্বাস দিতে হয় যে, তাঁদের বিষয়টি দেখা হচ্ছে, শোনা হচ্ছে, সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কারও জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা যে শিক্ষাটা দেয়, সেটা কোনো ক্লাসরুম দিতে পারে না। এই প্রতিটা ধাপ আমাকে ভাবতে শিখিয়েছে, মানুষ হিসেবে কেমন হতে চাই।

আমি আমার ‘দাদা’কে কখনো দেখিনি। কিন্তু তাঁর সততা আর দেশপ্রেমের কথা সব সময় শুনে এসেছি। ‘দাদু’ আর ‘আব্বু’ সেই আদর্শটাই বয়ে নিয়ে চলেছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ আগস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। অধিকাংশ সময় বলেছি কম, বরং শুনেছি বেশি। ছোট-ছোট কাজের মাধ্যমে তাঁদের বোঝা একটু হালকা করার চেষ্টা করেছি।

অনেকগুলো বছর পর দেশে ফিরছি। দেশে ফেরা মানে আবেগ আর অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি ‘দাদু’র পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। নিজের চোখে, নিজের অভিজ্ঞতায় প্রিয় বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে চাই; মানুষের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলতে চাই। যেভাবে এগুনো দরকার, আমি চাই বাংলাদেশ আবারো সেভাবে সামনে এগিয়ে যাক, গর্জে উঠুক।

আমি জানি, আমার পরিবারকে ঘিরে দেশের জনগণের কৌতূহল রয়েছে, প্রত্যাশা রয়েছে। সেটি কখনো আশার, কখনো প্রশ্নের। সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়ভারও রয়েছে। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণের চাপ আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে অনুভব করি; পরিবারে, বন্ধুত্বে, সমাজে।

সংক্ষেপে, আমার নিজের ভাষায়, এই হলো আমার গল্প। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে একটা নিজস্ব গল্প আছে। এই গল্পগুলোকে ধারণ করে, আমরা সবাই হয়তো একসঙ্গে বাকি পথটা হাঁটতে পারি।’

একীভূত পাঁচ ইসলামি ব্যাংকের জন্য নতুন নির্দেশ

০

একীভূত হয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’তে অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার মূল্য আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য (জিরো) ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ঋণাত্মক হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের কাছে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্স, ২০২৫-এর আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূল্যায়নে দেখা গেছে, পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারের নিট সম্পদমূল্য শেয়ারপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা পর্যন্ত ঋণাত্মক, ফলে শেয়ারগুলো লিখে শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে।’

৭ ঘন্টায় যত টাকা পেলেন তাসনিম জারা

০

জনগণের কাছে নির্বাচনের খরচ চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারার একাউন্টে বহু মানুষ টাকা পাঠাচ্ছেন। সবশেষ তার একাউন্টে কত টাকা এসেছে সেই তথ্য জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে দেওয়া পোস্টে তাসনিম জারা লিখেছেন, মাত্র ৭ ঘণ্টায় আপনারা ১২ লাখ টাকারও বেশি পাঠিয়েছেন। এতটা অভূতপূর্বভাবে আপনারা পাশে দাঁড়াবেন, তা সত্যিই আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

তিনি আরও লেখেন, আমাদের মোট লক্ষ্যমাত্রা ৪৬,৯৩,৫৮০ টাকা। আর ৩৪ লাখ টাকা সংগ্রহ সম্পন্ন হলেই আমরা ফান্ডরেইজিং বন্ধ করে দেব। আমরা অবগত আছি যে রাত ২টার পর থেকে নির্ধারিত লিমিট অতিক্রম করার কারণে বিকাশে আর টাকা পাঠানো যাচ্ছে না। আপাতত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ডোনেশন গ্রহণ করা যাচ্ছে।

এর আগে, দেওয়া পোস্টে এনসিপির এই নেত্রী লিখেছিলেন, আপনাদের কাছে আমি হাত বাড়িয়েছিলাম। বলেছিলাম আমরা যদি কালো টাকার ঊর্ধ্বে উঠে একটি নতুন ধারার রাজনীতি করতে চাই, তবে সেই শক্তির উৎস হতে হবে আপনাদের মতো সাধারণ মানুষকে।

‘আপনাদের পাঠানো টাকার অঙ্কের চেয়েও বড় যে বিষয়টা আমাকে নাড়া দিয়েছে সেটা হলো এ টাকার ধরণ। অধিকাংশ অনুদান এসেছে খুব ছোট অঙ্কে (৫ টাকা, ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৫০ টাকা, ১০০ টাকা)। অনেকে সঙ্গে ছোট ছোট বার্তা দিয়েছেন। একজন লিখেছেন, ‘আমি স্টুডেন্ট। সামর্থ্য অনুযায়ী দিলাম।’

তিনি আরও লিখেন, আপনাদের আগেই বলেছি আমরা স্বচ্ছভাবে টাকা উত্তোলন ও খরচ করবো। আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আপনাদেরকে সম্পূর্ণ হিসাব দেওয়া হবে।

নাবিলা যখন ‘বনলতা সেন’

০

আগামী ঈদের সিনেমার লড়াইয়ে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও একটি সিনেমা ‘বনলতা সেন’। কবি জীবনানন্দ দাশের কাল্পনিক এই নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে এটি নির্মাণ করেছেন নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। সিনেমাটি মুক্তির কথা ছিল গতবছরেই কিন্তু তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন সময়ে মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অবশেষে সরকারি অনুদানের এই সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে আসছে ঈদেই।
সিনেমাটিতে নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা। তবে বনলতা সেন হয়ে ওঠা নাবিলার জন্য সহজ ছিল না। জানা গেছে, শুরুতে তাকে অন্য একটি চরিত্রের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু নাবিলা সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। তিনি নির্মাতাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বনলতা সেন চরিত্রটিই তিনি করতে চান। এরপর তিন দফা চ্যালেঞ্জিং অডিশনের মধ্য দিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে চরিত্রটি বাগিয়ে নেন এই অভিনেত্রী।
বনলতা সেন সিনেমায় জীবনানন্দ দাশ চরিত্রে দেখা যাবে খায়রুল বাসারকে। আরও অভিনয় করেছেন সোহেল ম-ল, নাজিবা বাশার, প্রিয়ন্তী উর্বী, রুপন্তী আকীদ, শরিফ সিরাজ, সুমাইয়া খুশি প্রমুখ।
সিনেমাটি নির্মাণে সময় বেশি লাগলেও এর গুণগত মানের বিষয়ে কোনো আপোস করেননি নির্মাতা উজ্জ্বল। জানান, জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে কাজ করা অনেক বেশি দায়বদ্ধতার বিষয়। গবেষণা, প্রস্তুতি এবং উপযুক্ত অভিনয়শিল্পী খোঁজা, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল চ্যালেঞ্জিং।
সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরকে লক্ষ্য রেখেই তারা মুক্তির চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঈদের সিনেমার ভিড়ে ‘প্রিন্স’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘পিনিক’-এর সঙ্গে নাবিলার ‘বনলতা সেন’ কেমন সাড়া ফেলে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

প্যানেল হু