Home Blog Page 258

কিংবদন্তির অপেক্ষায় রোমাঞ্চিত তাসকিন

০

রাজধানীর হাতিরঝিল থানাধীন ওয়ারলেস মোড় এলাকার একটি বাসা থেকে দুই শিশুর (ভাইবোন) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের নাম আফরিদা চৌধুরী (১০) ও তার ছোট ভাই এক বছর বয়সী ইলহাম চৌধুরী। ফুডপয়জনিংয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করছে পুলিশের।

শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে হাতিরঝিল থানা পুলিশ ওয়ারলেস মোড় ৯১ নং এসএইচএস টাওয়ার এর নিচে গ্যারেজে ফ্রিজিং এ্যাম্বুলেন্স থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সুমন মিয়া জানান, খবর পেয়ে শনিবার রাতে ওই বাসার নিচে ফ্রিজিং এ্যাম্বুলেন্সে রাখা শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। তবে তাদের শরীরে কোন রকমের জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, শিশুদের বাবা মোসলে উদ্দিন চৌধুরী গার্মেন্টসের জিএম আর মা সাইদা জাকাওয়াত আরা গৃহিণী। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার কোতোয়ালি থানায়। বর্তমানে ওয়ারলেস মোড়ের ওই বাসায় থাকেন। প্রাথমিক তদন্তে স্থানীয়দের এবং পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় ২ শিশু সন্তানসহ তাদের বাবা মা খাবার খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। শনিবার সকালে মেয়ে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় রাসমুন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শনিবার ৭টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে পরিবার যখন তার মরদেহ বাসায় নিয়ে আসে এরপর ছেলেটিও বমি করা শুরু করে। অসুস্থ হয়ে পড়া দেখে পরবর্তীতে তাকে মগবাজার কমিউনিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ছেলে শিশুটি।

শিশুদের চাচা তৌহিদ আলম চৌধুরী বলেন, আফরিদা বেইলি রোডের ভিকারুন্নেসা স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৬ ডিসেম্বর আফরিদার জন্মদিন ছিল। বাবা মা দুই বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে কোন এক রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়েছিল। ৪ দিন পরে তারা অসুস্থ হয়। ওই খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হযেছিল! নাকি অন্য কোন খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছে তা আমরা নিজেরাও বুঝতে পারছি না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে জানতে পারব।

এসআই বলেন, একই খাবার খেয়ে তাদের বাবা মাও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে তারা চিকিৎসা শেষে সুস্থ আছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফুড পয়জনিংয়ের কারণে শিশু দুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।তবে ওই খাবার তারা বাসায় রান্না করেছিলেন নাকি বাইরে থেকে কিনে এনেছিলেন তা এখনো জানতে পারিনি। বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

চশমা ছাড়াই দৃষ্টি তীক্ষ্ণ রাখতে চান? চোখের শক্তি বাড়াতে কাজে দেবে এই ১০টি প্রাকৃতিক ব্যায়াম

দিনের বেশিরভাগ সময় কম্পিউটার, স্মার্টফোন কিংবা টিভির পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে এটাই এখন আধুনিক জীবনের বাস্তবতা। কিন্তু এই অভ্যাসের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে আমাদের চোখ। চোখ জ্বালা, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা কিংবা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া এসব সমস্যাকে আমরা অনেক সময় স্বাভাবিক ভেবে এড়িয়ে যাই। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিলেই কিছু সহজ ব্যায়ামের মাধ্যমে চোখের দৃষ্টিশক্তি ও ফোকাস ক্ষমতা অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব।
চোখের পেশি সক্রিয় রাখা, রক্তসঞ্চালন বাড়ানো এবং মানসিক চাপ কমাতে প্রাকৃতিক চোখের ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর। নিয়মিত চর্চায় চোখ দীর্ঘদিন সুস্থ ও সতেজ থাকে। জেনে নিন এমনই ১০টি সহজ কিন্তু শক্তিশালী চোখের ব্যায়াম, যেগুলো আপনি ঘরে বসেই করতে পারবেন।
১. আই পালমিং
চোখ বন্ধ করে উষ্ণ হাতের তালু দিয়ে আলতোভাবে ঢেকে রাখুন। গভীর শ্বাস নিতে নিতে কয়েক মিনিট এভাবে থাকুন। এতে চোখ ও মস্তিষ্ক দুটোই আরাম পায়, কমে ক্লান্তি।
২. নিকট-দূর ফোকাস অনুশীলন
চোখের সামনে একটি বস্তুতে তাকান, তারপর দৃষ্টি সরান দূরের কোনো স্থানে। বারবার দৃষ্টি পরিবর্তন চোখের ফোকাস ক্ষমতা ও পেশির নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করে।
৩. ঘড়ির কাটার মতো চোখ ঘোরানো
চোখের মণি দিয়ে ঘড়ির কাঁটার মতো ধীরে ধীরে বৃত্ত আঁকুন, তারপর উল্টো দিকে। এতে চোখের নমনীয়তা বাড়ে এবং পেশির জড়তা কমে।
৪. পেনসিল পুশ-আপ
একটি পেনসিল চোখের সামনে ধরে ধীরে ধীরে নাকের দিকে আনুন এবং ফোকাস বজায় রাখার চেষ্টা করুন। দৃষ্টি ঝাপসা হলে আবার দূরে সরান। এটি চোখের কনভারজেন্স শক্তিশালী করে।
৫. সচেতনভাবে পলক ফেলা
দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখ শুকিয়ে যায়। প্রতি ২০ মিনিট পরপর কয়েক সেকেন্ড দ্রুত পলক ফেললে চোখ আর্দ্র থাকে ও জ্বালা কমে।
৬. চোখ চেপে ধরা ও ছেড়ে দেওয়া
চোখ শক্ত করে বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড রাখুন, তারপর হঠাৎ খুলে দিন। এতে চোখের পেশিতে রক্ত চলাচল বাড়ে।
৭. ফিগার ‘৮’ অনুশীলন
কল্পনায় চোখের সামনে একটি বড় ‘৮’ অঙ্ক আঁকুন। একদিকে ও অন্যদিকে ঘোরান। এটি চোখের সমন্বয় ও ফোকাস উন্নত করে।
৮. ঠান্ডা চামচ থেরাপি
ফ্রিজে রাখা স্টিলের চামচ চোখের নিচে হালকা করে ঘোরান। চোখের ফোলাভাব ও ক্লান্ত ভাব দ্রুত কমে।
৯. শ্বাসের সঙ্গে দৃষ্টি বদলানো
শ্বাস নিতে নিতে দৃষ্টি একদিকে নিন, শ্বাস ছাড়ার সময় অন্যদিকে সরান। এতে চোখের সঙ্গে মানসিক প্রশান্তিও বাড়ে।
১০. মোমবাতির শিখায় দৃষ্টি স্থির রাখা
একটি মোমবাতির শিখার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকুন, এরপর চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিন। যোগশাস্ত্রে এটি ‘ত্রাটক’ নামে পরিচিত, যা মনোযোগ ও দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সহায়ক।
চোখের যত্ন মানেই শুধু চশমা বা ওষুধের ওপর নির্ভর করা নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসই পারে চোখকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে। নিয়মিত এই ব্যায়ামগুলো করলে চোখের ক্লান্তি কমবে, দৃষ্টি হবে পরিষ্কার এবং ফোকাস ক্ষমতা বাড়বে। তাই এখন থেকেই সময় বের করে চোখের যত্ন নিন কারণ সুস্থ চোখ মানেই সুস্থ জীবন।

এক মাস আদা খেলে আপনার শরীরে যা ঘটে তা জানলে অবাক হবেন!

আমরা প্রায়ই ফল ও সবজির উপকারিতা নিয়ে শুনে থাকি, কিন্তু রান্নার স্বাদ বাড়ানো একটি সাধারণ মসলা আদা ওয়াকিবহাল স্বাস্থ্য উপকারের দুনিয়া লুকিয়ে রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন এক মাস আদা খেলে শরীরে ঘটে এমন পরিবর্তন যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।

আদা: প্রাকৃতিক ঔষধের শক্তিশালী উৎস

আদা শুধু ঝাঁঝালো স্বাদের জন্য নয়, বরং এটি দেহের জন্য এক ধরনের প্রাকৃতিক ওষুধ। আদায় থাকে জিঞ্জেরল, শোগাওল, জিঞ্জিবারিনের মতো শক্তিশালী বায়ো-অ্যাকটিভ যৌগ, যা হজম শক্তি বৃদ্ধি, প্রদাহ কমানো, ব্যথা উপশম এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ভিটামিন ও খনিজ উপাদানগুলোও শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
প্রতিদিন আদা খাওয়ার চমকপ্রদ উপকারিতা
বমি ও ক্লান্তি দূর করে: জিঞ্জেরল বমিভাব কমাতে কার্যকর।
শারীরিক ব্যথা ও জোড়া সমস্যা কমায়: শোগাওল প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে।
হজম শক্তি বৃদ্ধি: জিঞ্জিবারিন হজমে সাহায্য করে এবং গ্যাস্ট্রিক সমস্যা কমায়।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে: নিয়মিত আদা রক্তে সুগারের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
মানসিক কর্মক্ষমতা বাড়ায়: মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে: ঠান্ডা, সর্দি ও সংক্রমণ থেকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
এক মাসে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন
যারা এক মাস নিয়মিত আদা খেয়েছেন, তারা জানিয়েছে হজমের উন্নতি, শক্তি বৃদ্ধি, মনোযোগ বাড়া এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধির মতো ফল। এটি প্রমাণ করে যে, একটি সাধারণ মসলাও আমাদের দৈনন্দিন স্বাস্থ্যের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

পরামর্শ:

যদিও আদা একটি প্রাকৃতিক উপাদান, তবে নিয়মিত ব্যবহারের আগে নিজের স্বাস্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন বছরে স্বর্ণ আর তেলের দামে কোনটা উঠবে, কোনটা নামবে?

০

২০২০ সালের পর থেকে বৈশ্বিক পণ্যবাজারে একের পর এক অস্থিরতা দেখা গেছে। করোনা–পরবর্তী সরবরাহ সংকট, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে গত কয়েক বছর চাহিদা ও সরবরাহে বড় ওঠানামা তৈরি করেছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৬ সালে এই উত্তেজনা কিছুটা কমে এসে বাজারে তুলনামূলক স্থিতি ফিরতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালে পণ্যবাজার মূলত তিনটি ভাগে ভাগ হয়ে যাবে। প্রথম ভাগে থাকবে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্য। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক আরোপে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চাপের মুখে পড়তে পারে, পাশাপাশি চীনের ধীরগতির অর্থনীতি চাহিদা সীমিত রাখবে। বিপরীতে সরবরাহ থাকবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশে নতুন প্রকল্প চালু হওয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে তীব্র শীতের আশঙ্কাও কম। একই সঙ্গে ২০২৫ সালে গম, ভুট্টা ও সয়াবিনের ভালো ফলনে বৈশ্বিক খাদ্যশস্যের মজুত বেড়েছে।

এই শ্রেণির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হলো অপরিশোধিত তেল। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ অবরোধ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। কারণ, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইবেন। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো উৎপাদন বাড়ালে বাজারে তেলের সরবরাহ আরও বাড়তে পারে। তবে দাম কতটা কমলে আবার চাহিদা বাড়বে—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্য, যার শীর্ষে সোনা। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক সংকট, বাণিজ্যিক ঝুঁকি এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকে টানছে। ২০২৫ সালে সোনার দাম আউন্সপ্রতি চার হাজার ডলার ছাড়ালেও, ২০২৬ সালে তা সাড়ে চার হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অস্থিরতা এই প্রবণতাকে আরও জোরালো করতে পারে। ফলে খুচরা বিনিয়োগকারী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক—উভয়ই সোনা কেনা অব্যাহত রাখতে পারে। একই সঙ্গে রুপার চাহিদাও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তৃতীয় ভাগে রয়েছে শিল্পধাতু, যাদের গতিপথ পুরো পণ্যবাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাতু হলো তামা, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বাস্থ্যের সূচক হিসেবে বিবেচিত। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তামা আমদানিতে ৫০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণার পর দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছিল। পরে শুল্ক কেবল তামাজাত পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে—এ ঘোষণায় দাম কিছুটা কমলেও অনিশ্চয়তার কারণে আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ২০২৬ সালেও তামার বাজার অস্থির থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুল্কনীতি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে চাপে রাখবে। একই সঙ্গে অনিশ্চয়তা বাড়লে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হতে পারে, যা অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেনকারী শিল্পকারখানার ক্রয়ক্ষমতা কমাবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি সুদের হার কমায়, তাহলে বাজারে ভিন্ন প্রভাবও দেখা যেতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়ির বৈশ্বিক বিক্রি দ্রুত বাড়লে ব্যাটারি, তার ও মোটরে ব্যবহৃত তামার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি সরবরাহ বিঘ্ন, নতুন খনি প্রকল্পে বিলম্ব কিংবা চীনের কারখানাগুলো প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ালে বাজারে নতুন গতি আসতে পারে।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মত, ২০২৬ সালে পণ্যবাজারে বড় ধরনের উত্তেজনার চেয়ে বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে—তামাসহ শিল্পধাতু বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে পারে নাকি আবার দরপতনের দিকে ঠেলে দেয়, সেদিকেই।

উস্কানিমূলক কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ

০

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা উসকে দিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়া কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মেটাকে চিঠি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি শুক্রবার মেটাকে এ চিঠি দেয়। একই সঙ্গে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ সংক্রান্ত কনটেন্টগুলোর ওপর বিশেষ নজরদারি জারি রাখতে মেটাকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে থাকা বাংলাদেশে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোকে সহিংসতা উসকে দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বাস্তব জীবনের সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। এর ফলে উত্তেজনা ভয়াবহভাবে বেড়েছে।
এতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ফেসবুকে প্রকাশ্যে ওসমান হাদির মৃত্যুকে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যরা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানিয়েছেন। এসব বক্তব্য ছড়ানোর পর প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর মারাত্মক হুমকি তৈরি হয়। সরকার ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও সহিংসতা উসকে দেওয়া অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করতে মেটা সহযোগিতা করেনি বলেও চিঠিতে অভিযোগ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ফেসবুকের মাধ্যমে উসকে দেওয়া সহিংসতার সঙ্গে নাগরিকদের জীবন, গণতান্ত্রিক অধিকার, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা গভীরভাবে যুক্ত। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কয়েকটি বিষয়ে মেটাকে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে চিঠিতে। সেসবের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সংক্রান্ত কনটেন্টের ক্ষেত্রে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড আরও কঠোর, দ্রুত ও প্রেক্ষাপট সংবেদনশীলভাবে প্রয়োগ করা, বাংলা ভাষাভিত্তিক কনটেন্ট মডারেশন করা, অনুভূতি বিশ্লেষণ ও প্রাসঙ্গিক পর্যালোচনা জোরদার করা এবং সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা ক্ষতির আহ্বান জানানো কনটেন্টের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি শনিবার থেকে সন্ত্রাস ও সহিংসতার আহ্বান সংবলিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বিষয়ে সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইলে রিপোর্ট করার আহ্বান জানিয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপে ও ইমেইলে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর বিটিআরসির মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মগুলোতে রিপোর্ট করবে।
তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানায়, সরকার সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো পোস্ট ডাউন করতে পারে না। শুধু যৌক্তিক কারণ তুলে ধরে সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত পোস্টগুলো সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কাছে রিপোর্ট করতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হেট স্পিচ, যা সরাসরি সহিংসতা ঘটায় কিংবা সহিংসতার ডাক দেয় সেটা জাতীয় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ মতে দ-নীয় অপরাধ।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি সোশ্যাল মিডিয়াকে সহিংসতা কিংবা ভায়োলেন্স তৈরির টুল হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি দেশ, নাগরিকের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেতন হতে জনসাধারণকে আহ্বান জানাচ্ছে।
ইলিয়াস হোসেনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ ॥ সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইলিয়াস হোসেনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দিয়েছে মেটা। শুক্রবার রাত থেকে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দেখা যাচ্ছে না।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার রাতে ইলিয়াসের ফেসবুক থেকে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা চালাতে উসকানিমূলক একাধিক পোস্ট দেওয়া হয়। পরে ওই প্রতিষ্ঠান দুটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ইলিয়াসের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ খুঁজে না পাওয়া নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ হয়েছে। একটি টেলিভেশন চ্যানেলের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, ইলিয়াস হোসেনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডাউন করে দিয়েছে মেটা। অ্যাকাউন্টটিতে ২ মিলিয়ন ফলোয়ার ছিল। অপর একটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইলিয়াসের প্রায় ২২ লাখ অনুসারীর ফেসবুক পেজটিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলা জাতির জন্য লজ্জার

০

দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে হামলা জাতির জন্য লজ্জার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ দৃশ্য সারাবিশ্ব দেখেছে। সেটা আমাদের জন্য লজ্জার। এটা কোনোভাবে আমরা শুধুমাত্র দুঃখ প্রকাশ, ক্ষমা প্রার্থনা করে সমাপ্ত করতে পারবো না।

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক রেডিও, টেলিভিশনের বার্তা প্রধান এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বিএনপি।

সালাহউদ্দিন বলেন, এখানে সরকারের দায়িত্ব ছিল সবচাইতে বেশি। আমরা জেনেছি হামলার বিষয়ে ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট ছিল। কিন্তু সেটা আমলে নেওয়া হলো না কেন— এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সালাহউদ্দিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলার পরও শুনেছি এক দুই ঘণ্টা পরে তারা সাড়া দিয়েছে। সেটা কেন? কাদের হাতে আমরা এই রাষ্ট্রব্যবস্থা দেবো? নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যারা দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের ভূমিকাটা প্রশ্নবিদ্ধ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, কিছুদিন যাবত গণমাধ্যমকে চিহ্নিত করে, টার্গেট করে হামলা করতে দেখছি। কিছু স্থাপনায়, ঠিকানায় মবকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকারের দুর্বলতাকেই ইঙ্গিত করছি। এগুলো আরও কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, দেশ নিয়ে গণপ্রত্যাশা, গণ-আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি। পূর্ণগণতন্ত্রণ চায় বাংলাদেশের সব মানুষ। গণতন্ত্রকে সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানিকীকরণ করতে চায়। গণতন্ত্র বিনির্মাণের জন্য সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের শক্তিশালী করতে হবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে দাঁড় করাতে হবে যাতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসেবে কাজ করে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ বলে। সাংবাদিকদের মধ্যে অনেকেরই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট থাকবে, আছে কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থের বিবেচনায় সবসময় আমরা যেন দেশের পক্ষেই থাকি। নিরপেক্ষ না থাকি। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যদি জনগণ বিএনপিকে দেয় তাহলে আমাদের সহযোগিতা থাকবে সর্বোচ্চ। আমরা অতীত ভুলে যেতে চাই, তবে ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী কী করেছে সেটা স্মরণে রাখতে চাই।

তারেক রহমানের ফ্লাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো দুই কেবিন ক্রু

০

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যেই ফ্লাইটে ঢাকা আসবেন সেটির দায়িত্বে থাকা দুই কেবিন ক্রুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন—জুনিয়র পার্সার মো. সওগাতুল আলম সওগাত ও ফ্লাইট স্টুয়ার্ডেস জিনিয়া ইসলাম।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দায়িত্বশীল একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, তারেক রহমানের লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরার প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের নিরাপত্তা ও ভিআইপি ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিমান সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লিখিত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতেই ওই দুই কেবিন ক্রুকে ফ্লাইটের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, তারা নিয়মিতভাবে সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সেলিমের ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।

এদিকে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি–২০২ ফ্লাইটটি বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই ফ্লাইটে তারেক রহমানের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতাও থাকার কথা।

বিমান সূত্র আরও জানায়, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ওই দুই কেবিন ক্রুর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছাড়াও ভিআইপি যাত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এসব বিবেচনায় তাদের ফ্লাইট দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই ফ্লাইটে জুনিয়র পার্সার মোস্তফা এবং ফ্লাইট স্টুয়ার্ডেস আয়াতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানের ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগ।

এর আগে একই ধরনের সিদ্ধান্তের নজির রয়েছে। গত ২ মে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটি ফ্লাইট থেকেও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আল কুবরুন নাহার কসমিক ও মো. কামরুল ইসলাম রিপন নামের দুই কেবিন ক্রুকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সে সময়ও ভিআইপি যাত্রীর নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

আগুনে পুড়িয়ে মারা ও প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দেয়া বরদাস্ত করবে না সরকার

০

আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা ও প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দেয়ার মতো কাজকে সরকার বরদাস্ত করবে না বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যুতে করা সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা এবং প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দেয়া গর্হিত কাজ। সরকার এসব বরদাস্ত করবে না।’

সব স্থাপনায় সরকারের নিরাপত্তা দেয়া কঠিন কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

ময়মনসিংহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয় উল্লেখ করে খালিদ হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এসব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মবকারীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হবে।’

ময়মনসিংহের ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান ধর্ম উপদেষ্টা।

আবরার–আবু সাঈদের কাতারে ওসমান হাদি: মিজানুর রহমান আজহারি

০

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি আর নেই। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইসলামী চিন্তাবিদ ও বক্তা মিজানুর রহমান আজহারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ওসমান হাদির শাহাদাতকে স্মরণ করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে আজহারি লেখেন, “ওসমান হাদি এখন আবরার ফাহাদ ও আবু সাঈদের কাতারে শামিল হয়েছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর কুরবানি কবুল করুন, তাঁকে শহীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং জান্নাতে তাঁর মেহমানি কবুল করুন।”

উল্লেখ্য, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকার ডিএমপি-৮ আসনে সংসদীয় প্রচারণা চালানোর সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে গুলি চালালে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, গুলিটি তাঁর মাথার ডান পাশ দিয়ে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তবে মস্তিষ্কে গুলির কিছু অংশ রয়ে যায়—যা তাঁর অবস্থাকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন করে তোলে।

পরিবারের অনুরোধে তাঁকে পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। কিন্তু সব চিকিৎসা প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সারাদেশে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সরকার তাঁর মৃত্যুর দিনে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। ভারতীয় আধিপত্যের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ওসমান হাদির শাহাদাত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ওসমান হাদির এই অকাল প্রস্থান জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি—এমনটাই মনে করছেন তাঁর অনুসারী ও শুভানুধ্যায়ীরা।

০

কিছুদিন আগেই ক্লাবের হয়ে ‘এত কিছু করার পরও’ প্রাপ্য সম্মান না পাওয়া ও তাকে বলির পাঁঠা বানানোর অভিযোগ করেছিলেন মোহামেদ সালাহ। বিস্ফোরক সেই মন্তব্যের জন্য সতীর্থদের কাছে সালাহ ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানালেন কার্টিস জোন্স। লিভারপুলের এই মিডফিল্ডারের দাবি, ওই ঘটনার কোনো প্রভাব লিভারপুলের ড্রেসিং রুমে পড়েনি এবং ফুটবলারদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও বন্ধন বরাবরের মতোই অটুট।

সালাহর সেই মন্তব্যের পর আলোচনা-সমালোচনার তীব্র স্রোত বয়ে গেছে। মাঠের ফুটবলে ধুঁকতে থাকা দলটি জেরবার আরও বিতর্কে। গত মৌসুমে অসধারণ পারফর্ম করা সালাহ এবার কয়েকটি ম্যাচের বাজে পারফরম্যান্সের পর জায়গা হারান একাদশে।

গত ৬ ডিসেম্বর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্রয়ের ম্যাচের পর মিক্সড জোনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি।

ক্লাবের হয়ে ‘এত কিছু করার পরও’ প্রাপ্য সম্মান না পাওয়া ও তাকে বলির পাঁঠা বানানোর অভিযোগ করেন তিনি। কোচের সঙ্গে যোগাযোগ ভেঙে পড়ার কথাও জানান তিনি, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দায়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করান ক্লাব কর্তৃপক্ষকে।
সেটির জবাবে তিন দিন পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ম্যাচের স্কোয়াডেই রাখা হয়নি সালাহকে। কোচ আর্না স্লট জবাব দেন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে। সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকদের অনেকে স্রেফ ধুয়ে দেন লিভারপুলের তারকা ফরোয়ার্ডকে।

তবে বাইরের এসব ঘটনার আঁচ ড্রেসিং রুমে লাগেনি বলে জোন্স জানালেন স্কাই স্পোর্টসের একটি সাক্ষাৎকারে, যেটি প্রকাশিত হয়েছে শুক্রবার।

“মো নিজে আলাদা একটি সত্তা ও নিজের ভাবনার কথা সে বলতেই পারে। আমাদের কাছে সে ক্ষমা চেয়েছে এবং ব্যাপারটি এমন ছিল, ‘যদি আমার ঘটনায় কেউ প্রভাবিত হয়ে থাকে বা কারও সেই ধরনের কিছু মনে হয়, তাহলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’ সে এমনই একজন মানুষ।”

উত্তাল কয়েকটি দিনের পর পরিস্থিতি অবশ্য শান্ত হয়ে আসে ক্রমে। গত শনিবার ব্রাইটন অ‍্যান্ড হোভ অ‍্যালবিয়নের বিপক্ষে ম্যাচের স্কোয়াডে সালাহকে রাখা হয়। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দলকে সহায়তা করেন তিনি গোল ও জয় পেতে। ম্যাচের পর তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসাও করেন কোচ স্লট।

সালাহ পরে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের মিশর দলে যোগ দিতে চলে যান। প্রিমিয়ার লিগে শনিবার লিভারপুল লড়বে টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে। ১৬ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।