Home Blog Page 259

ডায়াবেটিস আজকের আধুনিক জীবনের একটি সাধারণ স্বাস্থ্যঝুঁকি। জীবনযাপন, খাবারের অভ্যাস এবং স্ট্রেসের কারণে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিটি বয়সেই। তবে সঠিক অভ্যাস এবং সচেতন জীবনধারা অনুসরণ করলে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার ১০টি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো।

১. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন

রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত মনিটরিং রোগের প্রাথমিক স্তরে শনাক্তকরণে সহায়ক এবং চিকিৎসা প্রয়োগে সহায়ক।
২. স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচন করুন
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য উচ্চ ফাইবার, কম কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেছে নিন। সবজি, শাকসবজি, বাদাম, বাদামজাতীয় এবং পূর্ণ শস্য খাদ্য তালিকায় রাখুন।
৩. চিনির পরিমাণ কমান
মিষ্টি, কেক, চকোলেট, সোডা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বৃদ্ধি করে। তাই চিনির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করুন।
৪. নিয়মিত ব্যায়াম করুন
দৈনিক ৩০ মিনিট হাঁটা, জগিং, সাঁতার বা যোগব্যায়াম রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং শরীরের ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৫. ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন
অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
৬. পর্যাপ্ত জল পান করুন
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন। এটি রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমায়।
৭. মানসিক চাপ কমান
চিন্তা, স্ট্রেস এবং উদ্বেগ ডায়াবেটিসকে বাড়িয়ে দিতে পারে। মেডিটেশন, প্রার্থনা, হালকা ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
৮. নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস
প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টার ঘুম নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অনিয়মিত ঘুম শরীরের হরমোন ব্যালান্সে প্রভাব ফেলে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
৯. ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন
ধূমপান এবং অতিরিক্ত মদ্যপান ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
১০. চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে নিয়মিত ওষুধ এবং ইনসুলিন ব্যবহার করা জরুরি। নিজেই ওষুধের ডোজ পরিবর্তন করা ঝুঁকিপূর্ণ।

ডায়াবেটিস শুধুমাত্র জীবনধারার পরিবর্তনেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখাই দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নিশ্চিত করে।

উপকারী হলেও কুমড়ার বীজ কাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?

স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় কুমড়ার বীজ এখন বেশ জনপ্রিয়। বিকেলের নাশতা, সকালের ওটস কিংবা অফিসের স্ন্যাকস—সব জায়গাতেই জায়গা করে নিয়েছে এই বীজ। পুষ্টিগুণে ভরপুর কুমড়ার বীজে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান, যা শরীরের জন্য উপকারী।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকারী হলেও কুমড়ার বীজ সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়। কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এটি খেলে উপকারের বদলে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দৈনিক সর্বোচ্চ ২৮ থেকে ৩০ গ্রাম কুমড়ার বীজ খেতে পারেন। এর বেশি খেলে হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে যাদের কিডনি বা লিভারের জটিলতা রয়েছে, তাদের জন্য কুমড়ার বীজ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এসব রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের বীজ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অতিরিক্ত কুমড়ার বীজ খেলে গ্যাস, পেট ভারী লাগা কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ এতে উচ্চমাত্রার ফাইবার রয়েছে। একই সঙ্গে এতে থাকা ফ্যাটি এসিড ও তেল অনেকের জন্য হজমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কুমড়ার বীজে ক্যালরি তুলনামূলক বেশি থাকায় অতিরিক্ত খেলে ওজন কমার বদলে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ ছাড়া কুমড়ার বীজ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক। তাই যাদের আগে থেকেই লো ব্লাড প্রেসার রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত নয়।

কিছু মানুষের কুমড়ার বীজে অ্যালার্জিও দেখা যায়। সেক্ষেত্রে পেটব্যথা, মাথাব্যথা, ত্বকে চুলকানি বা র‍্যাশের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, শিশুদের কুমড়ার বীজ খাওয়ানো উচিত নয়। এতে থাকা ফাইবার ও ফ্যাটি এসিড শিশুদের পেটে ব্যথা বা হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, কুমড়ার বীজ উপকারী হলেও পরিমিত ও সঠিকভাবে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। যেকোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর এটি খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

বিচার যেন প্রকাশ্যে দেখতে পারি: ওসমান হাদির বড় ভাই

০

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রকাশ্যে করার দাবি জানিয়েছেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজায় ইমামতি করার আগে এই দাবি জানান তিনি।

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘আজ লক্ষ লক্ষ তৌহিদি জনতা হাজির হয়েছেন ওসমান হাদির জানাজার নামাজে অংশ নিতে। তিনি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি বার্তা দিয়ে গেছেন। হাদির একটি সন্তান রয়েছে, যার বয়স মাত্র আট মাস। সন্তান জন্মের পর সে আমাকে বলেছিল, এমন একটি নাম রাখতে, যার মধ্যে বিপ্লবী চেতনা ও সাহসিকতার পরিচয় থাকবে। অনেক যাচাই-বাছাই করে আমি তার সন্তানের নাম রাখি ‘‘ফিরনাস’, একটি বিপ্লবী ও সাহসী নাম।

তিনি বলেন, ‘আজ তার সন্তানের চেহারার দিকে তাকানো যায় না। আজ আমার মা পাগলপ্রায়। আমরা ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল শরিফ ওসমান হাদি। আজ তার লাশ আমার কাঁধে।’

হাদির বড় ভাই বলেন, ‘আজ আপনাদের কাছে আমার একটাই দাবি। রাজধানী ঢাকায় প্রকাশ্যে জুমার নামাজের পর খুনিরা গুলি করে পালিয়ে যায়-সাত থেকে আট দিন পেরিয়ে গেলেও যদি তারা পার পেয়ে যায়, এর চেয়ে লজ্জার কিছু জাতির জন্য আর হতে পারে না। যদি তারা পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টার মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে যেতে পারে, তাহলে তারা কীভাবে গেল-এই প্রশ্ন জাতির কাছে রেখে গেলাম। আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমার ভাই ওসমান হাদি শহিদ হয়েছে। শহিদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা সে সব সময়ই প্রকাশ করত। আপনারা তার বক্তব্য শুনেছেন। হয়তো আল্লাহ তাআলা তাকে সেই শহিদি মর্যাদা দান করেছেন। কিন্তু এই ঋণ আমি কখনো ছাড়ব না। আমার ভাই শরিফ ওসমান হাদির বিচার যেন প্রকাশ্যে এই বাংলার জমিনে আমরা দেখতে পারি। সাত দিন হয়ে গেল, এখনো আমরা কিছুই করতে পারিনি-এই দুঃখে কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে।’

হাদির বড় ভাই বলেন, ‘আমরা ওসমান হাদির জন্য দোয়া করি, তার স্ত্রী ও সন্তানের জন্য দোয়া করি। তার সন্তান যখন বাবাকে দেখার জন্য কোলে আনা হয়, তখন মনে হয়-সে আর কোনো দিন জানবে না তার বাবা কেমন ছিলেন। ওসমান হাদি আর ফিরে আসবে না। ওসমান, তুমি দেখে যাও-লক্ষ লক্ষ জনতা আজ তোমার জন্য পাগল। তুমি আমাদের সবাইকে পাগল বানিয়ে দিয়ে গেছ।’

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি-আল্লাহ যেন আমার ভাই শহিদ ওসমান হাদিকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করেন। আমরা যারা বেঁচে আছি, তারা যেন ঈমান, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে তৌহিদের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি-সেই তৌফিক আল্লাহ তাআলা আমাদের দান করুন।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের সবার কাছে দোয়া চাই। আমার মেজ ভাই ওমর ফারুক ঘটনাস্থলে ছিল-তার জন্য দোয়া করবেন। আমার ছোট বোন মাসুমা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে, চিকিৎসকরা বলেছেন অবস্থা গুরুতর। আমাদের পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। আমাদের আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। শরিফ ওসমান হাদি, তুমি বেঁচে থাকো মানুষের হৃদয়ে। আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম নসিব করুন।’

২০২৬ সালে আর্থিক সচ্ছলতা চাই? শুরু করুন এই সহজ বাজেট ও বিনিয়োগ কৌশল দিয়ে

০

২০২৬ সালে ব্যক্তিগত জীবনে আর্থিক সফলতা ও সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে শুধু আয় বাড়ালেই চলবে না—প্রয়োজন সুপরিকল্পিত বাজেট, সঠিক বিনিয়োগ কৌশল এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক শৃঙ্খলা। নতুন বছরের শুরুতেই যদি সঠিক আর্থিক রূপরেখা তৈরি করা যায়, তবে সারা বছর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, সুদের হারের ওঠানামা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি সতর্কতা প্রয়োজন।

 

আয়-ব্যয়ের খাতা: আর্থিক সাফল্যের প্রথম ধাপ

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক আঞ্চলিক প্রধান ও ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ফকির আকতারুল আলম বলেন, আর্থিক সচ্ছলতার জন্য সবার আগে প্রয়োজন একটি নিখুঁত আয়-ব্যয়ের হিসাব। মাসিক বাজেট তৈরি করে নিয়মিত খরচ ট্র্যাক করলে কোথায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হচ্ছে—তা সহজেই চিহ্নিত করা যায়। বিশেষ করে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা বা অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন ফি বন্ধ করলে সঞ্চয় বাড়ানো সম্ভব।

জরুরি তহবিল ছাড়া নয়

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইমার্জেন্সি ফান্ড গঠন এখন সময়ের দাবি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত তিন থেকে ছয় মাসের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সমপরিমাণ অর্থ নগদ বা লিকুইড ফান্ডে রাখা উচিত। এতে চাকরি হারানো, অসুস্থতা বা হঠাৎ বড় কোনো বিপদে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।

ঋণের বোঝা কমানোই বুদ্ধিমানের কাজ

উচ্চ সুদের ব্যক্তিগত ঋণ বা ক্রেডিট কার্ডের দেনা অনেক সময় সঞ্চয়কে গ্রাস করে ফেলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ঋণের হার বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী। তাই যত দ্রুত সম্ভব এসব ঋণ পরিশোধ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিনিয়োগ ও কর পরিকল্পনায় সচেতনতা

দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য—যেমন বাড়ি কেনা, সন্তানের শিক্ষা বা অবসরকালীন জীবন—এসবের জন্য আলাদা আলাদা তহবিল গঠন করা জরুরি। স্থায়ী আমানত, সঞ্চয়পত্র কিংবা এনবিআর অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করলে কর রেয়াতের পাশাপাশি বাড়তি মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকে।

মূল্যস্ফীতির কথা মাথায় রেখে বাজেট

উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ২০২৬ সালে মাসিক বাজেটে অন্তত ৮ থেকে ১০ শতাংশ বাড়তি বরাদ্দ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থ বিশেষজ্ঞরা। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও জীবনযাত্রার মান ধরে রাখা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য ও জীবনবীমা অত্যন্ত জরুরি

হঠাৎ বড় অঙ্কের চিকিৎসা ব্যয় অনেক সময় বছরের সঞ্চয় শেষ করে দেয়। তাই স্বাস্থ্য ও জীবনবীমা করে রাখা মূল সঞ্চয়কে সুরক্ষিত রাখার কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডিজিটাল টুল ব্যবহারে সহজ অর্থ ব্যবস্থাপনা

ব্যাংক অ্যাপ, বিকাশ, নগদ বা ইউনেটের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিয়মিত বিল পরিশোধ ও খরচ পর্যবেক্ষণ করলে সময় বাঁচে এবং ভুল হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়।

মাসে অন্তত একদিন আর্থিক রিভিউ

সবশেষে ফকির আকতারুল আলমের পরামর্শ—প্রতি মাসে অন্তত একদিন নিজের আর্থিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ রিভিউ করা উচিত। বাজার পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনলেই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব।

বয়স ৫০ পার করেছেন?এই বয়সে কতটা সঞ্চয় থাকা উচিত?

০

অবসর যত কাছে আসে, ততই মানুষ চিন্তিত হয় “আমার সঞ্চয় কি যথেষ্ট?”। বিশেষ করে পঞ্চাশের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকলে এই প্রশ্ন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা ও পরিবারের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা স্বাভাবিক।

এক সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, ৪৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী অধিকাংশ মানুষ এখনও অবসর জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সঞ্চয় করতে পারেননি। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬৫ বছর বয়সে নিরাপদভাবে অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা করলে পঞ্চাশে আপনার মাসিক আয়ের অন্তত ৫–৬ বছরের সমপরিমাণ সঞ্চয় থাকা উচিত।
তবে, এটি সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। যেসব পরিবার তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যয় করে, তাদের সঞ্চয় আরও বেশি হতে হবে। অর্থনৈতিক পরিকল্পকরা বলেন, “আপনার জীবনধারা, পরিবারের দায়িত্ব, স্বাস্থ্য ও অবসরকালীন সময়ের ব্যয়—এসব হিসাব মিলিয়ে সঞ্চয় নির্ধারণ করতে হবে।”

কিভাবে যাচাই করবেন আপনার সঞ্চয় যথেষ্ট কি না?
প্রথমে নির্ধারণ করুন অবসরে বছরে কত টাকা ব্যয় হবে। এরপর সেটি গুণ করে দেখুন কত বছর ধরে সেই ব্যয় চলবে। মুদ্রাস্ফীতি, বাড়িভাড়া এবং চিকিৎসার খরচও মাথায় রাখুন। এইভাবে সহজেই হিসাব করা সম্ভব, প্রতি বছর কত টাকা সঞ্চয় করতে হবে এবং বিনিয়োগ কিভাবে বাড়াতে হবে।

যদি পিছিয়ে থাকেন, এই ৩টি পদক্ষেপ নিন
১. সরকারি পেনশন বা প্রভিডেন্ট ফান্ড সুবিধা কাজে লাগান
সরকারি বা বেসরকারি চাকরির প্রভিডেন্ট ফান্ড ও পেনশন সুবিধা অবহেলা করবেন না। সরকারি চাকরিতে সাধারণত সঞ্চয়ের সঙ্গে মাসিক অবসরভাতা যুক্ত থাকে। বেসরকারি ক্ষেত্রে ৫০–৬০ বছর বয়সের আগে অতিরিক্ত অবদান রাখার সুযোগ থাকলে সেটি কাজে লাগান।
২. বাড়তি সঞ্চয়ের সুযোগ ব্যবহার করুন
পঞ্চাশের পর অবসর পরিকল্পনায় ‘ক্যাচ-আপ’ সুবিধা নেওয়া সম্ভব। যেমন: নির্দিষ্ট ব্যাংক বা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় মাসিক ১০,০০০–২০,০০০ টাকা অতিরিক্ত জমা রাখলে ভবিষ্যতে লাভজনক রিটার্ন পাওয়া যায়। এটি শুধু সঞ্চয় নয়, কর সুবিধাও দিতে পারে।
৩. জীবনযাত্রা সামঞ্জস্য করুন
যদি সঞ্চয়ের ঘাটতি থাকে, জীবনযাত্রার মান কিছুটা সরল করা প্রয়োজন। কম বিলাসিতা, ঋণ পরিশোধ, কম ভাড়া বা সাশ্রয়ী থাকার মাধ্যমে সহজভাবে অবসর কাটানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলেন, “সব স্বপ্নের জীবন হবে না, তবে পরিকল্পনা ও সঞ্চয় থাকলে নিরাপদভাবে অবসর কাটানো যায়।”
সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে, অবসর নেওয়ার পরও আংশিক কাজ চালিয়ে যাওয়া একটি বাস্তব উপায় হতে পারে।

অবসর মানে পাহাড়সম লক্ষ্য নয়। এটি একটি দীর্ঘযাত্রা, যেখানে নিজেকে বুঝে, পরিকল্পনা অনুযায়ী চলা জরুরি। পঞ্চাশে যদি মনে হয় সঞ্চয় কম, দুশ্চিন্তা নেই। এখনই শুরু করুন। ছোট ছোট পদক্ষেপে গড়ে তোলা সম্ভব একটি নিরাপদ আর্থিক ভবিষ্যৎ।

হঠাৎ অসুস্থ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল

০

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি বর্তমানে নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শুক্রবার গভীর রাতে মির্জা ফখরুল ভাইরাসজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হন এবং জ্বরে ভোগেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন।

শায়রুল কবির খান আরও বলেন, বিএনপি মহাসচিবের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধপত্র দেওয়া হচ্ছে। আপাতত চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না।

এর আগে শুক্রবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বৈঠকে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরেন।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তিনি বিশ্রামে থাকবেন।

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত সালাহউদ্দিন আহমেদের

০

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডকে একটি গভীর ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে যারা গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করতে চায়, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড তাদেরই কাজ। তাঁর মতে, নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে বাধাগ্রস্ত করতে ‘পতিত শক্তি’র সাথে দেশি-বিদেশি দোসররা জড়িত থাকতে পারে। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচনের পথকে দীর্ঘায়িত বা নস্যাৎ করা।

তিনি জানান, আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মহাসমাবেশ থেকে দেশের জনগণকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হবে। “কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র আর দানা বাঁধতে পারবে না—আগামী ২৫ ডিসেম্বরের সমাবেশের মাধ্যমে আমরা সেই মেসেজটিই পৌঁছে দেব।”

দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপির বাকি আসনগুলোর মনোনয়নের বিষয়ে খুব দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ মনে করেন, শহীদ ওসমান হাদির আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায়, তারা সফল হবে না। শহীদ হাদির জানাজা ও দাফন চলাকালেই রাজনৈতিক মহলের এই বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্ববহ করে তুলেছে।

হাদি তুমি হারিয়ে যাবে না, কোনদিন কেউ তোমাকে ভুলতে পারবে না

০

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ওসমান শরীফ হাদিকে বিদায় দিতে আসি নাই। তুমি আমাদের বুকের মধ্যে আছো। বাংলাদেশ যত দিন টিকে থাকবে, তুমি আমাদের মধ্যে থাকবে।

শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ ওসমান শরীফ হাদির জানাজায় এসে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজকে এখানে হাজির হয়েছে, পথে ঢেউয়ের মত লোক আসছে, সারা বাংলাদেশ জুড়ে কোটি কোটি মানুষ আজকে এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছে, তারা তাকিয়ে আছে, হাদির কথা শোনার জন্য।  আজকে বিদেশে যারা আছে, বাংলাদেশি এই মুহূর্তে তারাও হাদির কথা জানতে চায়। প্রিয় ওসমান হাদি তোমাকে আমরা বিদায় দিতে আসি নাই। এখানে তুমি আমাদের বুকের ভেতরে আছো এবং বাংলাদেশ যতদিন আছে তুমি সব বাংলাদেশির বুকের মধ্যে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আজকে তোমাকে, প্রিয় হাদিকে বিদায় দিতে আসিনি। আমরা তোমার কাছে আমরা ওয়াদা করতে এসেছি। তুমি যা বলে গেছো সেটা যেন আমরা পূরণ করতে পারি, সেই ওয়াদা করার জন্য আমরা একত্র হয়েছি। সেই ওয়াদা শুধু আমরা নয়, পুরুষানুক্রমে বাংলাদেশের সব মানুষ পূরণ করবে। সেই ওয়াদা করার জন্যই আমরা তোমার কাছে আজকে এসেছি। সবাই মিলে যে যেখানেই আছি, তোমার যে মানব প্রেম, তোমার যে ভঙ্গি, মানুষের সঙ্গে উঠাবসা, তোমার যে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, সবাই প্রশংসা করছে। সেটা আমরা প্রাণে গ্রহণ করছি। যেটা যেন আমাদের মনে সব সময় জাগ্রত থাকে। আমরা সেটা অনুসরণ করতে পারি।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, তুমি আমাদের এমন এক মন্ত্র কানে দিয়ে গেছো সেই মন্ত্র বাংলাদেশের কেউ কোনদিন ভুলতে পারবে না। এই মন্ত্র চিরদিন আমাদের কানে বাজবে। সে মন্ত্র বাংলাদেশের বড় মন্ত্র হয়ে আমাদের জাতির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। তোমার মন্ত্র ছিল, চল বলবীর চির উন্নত মম শীর, এই উন্নত মম শীরের যে মন্ত্র তুমি দিয়ে গেছো, সেটা সন্তানের বাংলাদেশি সন্তানের জন্মলগ্ন থেকে যতদিন সে বেঁচে থাকবে। আমাদের শির কখনো নত হবে না। সেই মন্ত্র তুমি আমাদের দিয়ে গেছো। আমাদের সব কাজে প্রমাণ করব আমরা দুনিয়ার সামনে মাথা উঁচু করে চলবো, কারো কাছে মাথা নত করব না। সেই মন্ত্র তুমি আমাদের দিয়ে গেছো আমরা সেটা পূরণ করে যাবো।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হাদি তুমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিলে এবং সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে নির্বাচন কীভাবে করতে হয় তারও একটা প্রক্রিয়া জানিয়ে গেছে আমাদের। সেই প্রক্রিয়া যেন আমরা সবাই মিলে গ্রহণ করি। কীভাবে প্রচার প্রচারণা কার্য চালাতে হয়, কীভাবে মানুষের কাছে যেতে হয়, কীভাবে মানুষকে কষ্ট না দিয়ে তার বক্তব্য প্রকাশ করতে হয়, কীভাবে বিনীতভাবে মানুষের কাছে আসতে হয়, সবকিছু তুমি শিক্ষা দিয়ে গেছো। আমরা এই শিক্ষা গ্রহণ করলাম, আমরা এই শিক্ষা চালু করতে চাই।

তিনি বলেন, আমরা সবাই আমাদের জীবনে আমাদের রাজনীতিকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে চাই, যাতে হাদি আমাদের জীবনে স্পষ্টভাবে জাগ্রত থাকে। হাদি তুমি হারিয়ে যাবে না। কোনদিন কেউ তোমাকে ভুলতে পারবে না। তুমি যুগ যুগ ধরে আমাদের সঙ্গে থাকবে। আমাদের তোমার মন্ত্র পুরোপুর মনে করিয়ে দেবে। আমরা সেই মন্ত্র নিয়ে আজকে সামনের পথে এগিয়ে যাব। তোমাকে আমাদের সবার পক্ষ থেকে তোমার সঙ্গে ওয়াদা করলাম আজকে তোমাকে আল্লাহর হাতে দিলাম, আমানত রেখে গেলাম, আমরা সব সময় তোমার কথা স্মরণ রেখে জাতির অগ্রগতির পথে চলতে থাকবো।

জাতীয় কবির পাশে সমাহিত হলেন ওসমান হাদি

০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে সমাহিত করা হয়েছে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে তাকে সমাহিত করা হয় ।

এর আগে, দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজা সম্পন্ন হয়। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাসহ লাখো জনতা অংশ নেন।

জানাজার নামাজ পড়ান হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। এ সময় পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জানাজা শেষে বিকেলে হাদির মরদেহ বহনকারী গাড়ি ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকায় নিয়ে আসা হয়।

জানা গেছে, ওসমান হাদিকে দাফনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে কবর প্রস্তুত করা হয়। আজ বেলা সাড়ে ১১টা থেকে কবর খননের কাজ শুরু হয়।

ওসমান হাদির দাফনের সময় ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, প্রক্টর ড. সাইফুদ্দিন আহমদ, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ওসমান হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম প্রমুখ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

শরিফ ওসমান হাদি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের একজন সম্মুখ সারির নেতা ছিলেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চ নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্র ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণাকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

এরপর পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সবশেষ গত ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় ওসমান হাদিকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরে শুক্রবার তার মরদেহ ঢাকায় আনা হয় ও আজ বাদ জোহর জানাজা শেষে তাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়েছে।

বিশ্বকাপে ‘অবৈধ’ খেলোয়াড় নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে নাইজেরিয়া

০

আগামী বছরের ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)। অভিযোগে বলা হয়েছে, আফ্রিকা অঞ্চলের প্লে-অফ ফাইনালে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) একাধিক অযোগ্য খেলোয়াড় মাঠে নামিয়েছে।

গত মাসে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের পর টাইব্রেকারে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্লে-অফে জায়গা করে নেয় ডিআর কঙ্গো। আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই প্লে-অফ থেকে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের শেষ দুটি টিকিট নির্ধারিত হবে।

তবে এনএফএফের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পরিচয় বদলানো কয়েকজন খেলোয়াড়। নাইজেরিয়ার দাবি, ওই ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর হয়ে খেলা অ্যারন ওয়ান-বিসাকা ও অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে আইনগতভাবে খেলার জন্য বৈধ নন। কারণ, কঙ্গোর আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমতি নেই, অথচ এই খেলোয়াড়দের ইউরোপীয় ও ফরাসি পাসপোর্ট রয়েছে।

নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানুসি বলেন, ‘আমাদের দাবি, ফিফাকে ভুল তথ্য দিয়ে তাদের খেলার অনুমতি নেওয়া হয়েছে।

কঙ্গোর আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ নেই, কিন্তু তাদের কয়েকজন খেলোয়াড় একাধিক দেশের পাসপোর্টধারী। আমরা এটিকে ফিফার নিয়ম ভঙ্গ এবং প্রতারণা বলেই মনে করি।’

এনএফএফ জানিয়েছে, তারা অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি ও আইনি যুক্তি ফিফার কাছে জমা দিয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি, তবে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ডিআর কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশন (ফেকোফা) অভিযোগটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। লেপার্ডসের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আইনের ফাঁক খুঁজে জেতার চেষ্টা করছে নাইজেরিয়া। বিশ্বকাপ খেলতে হয় মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে, আইনজীবীদের কৌশলে নয়।’

সেখানে নাইজেরিয়াকে ‘খারাপ পরাজিত’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগটিকে অখেলোয়াড়সুলভ বলেও উল্লেখ করা হয়।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় একবারই জাতীয় দল পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন এবং সেটি লিখিতভাবে ফিফার প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষ।

ফিফা একটি দেশের হয়ে খেলতে সংশ্লিষ্ট দেশের পাসপোর্ট থাকার শর্ত দিলেও, একাধিক পাসপোর্ট রাখার বিষয়ে বাধা নেই। তবে কঙ্গোর জাতীয় আইনে দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদিত নয়, এটিকেই মূল যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছে নাইজেরিয়া।

ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পৌঁছালে কয়েকটি সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

প্রথমত, প্রমাণ অপর্যাপ্ত মনে হলে অভিযোগ খারিজ করে ডিআর কঙ্গোর যোগ্যতা বহাল রাখা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, তদন্ত করে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি পেলে ফেডারেশনকে জরিমানা বা সতর্কবার্তা দেওয়া হতে পারে, যদিও ম্যাচের ফল অপরিবর্তিত থাকবে। সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রে খেলাধুলাভিত্তিক শাস্তি—ম্যাচ বাতিল, প্রতিপক্ষকে জয় দেওয়া বা পয়েন্ট কর্তনের মতো সিদ্ধান্তও আসতে পারে।

এর আগে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অযোগ্য খেলোয়াড় খেলানোর দায়ে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির ছয় পয়েন্ট কেটে নেয় ফিফা। যদিও সেই সিদ্ধান্ত পরে প্রত্যাহার করা হয়, তবে পয়েন্ট আর ফেরত পায়নি তারা। একইভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাও স্থগিত খেলোয়াড় নামানোর কারণে লেসোথোর বিপক্ষে জয় হারিয়ে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত হিসেবে গণ্য হয়েছিল।