Home Blog Page 260

মামদানিকে ‘অল্পস্বল্প’ সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন ট্রাম্প

নিউইয়র্ক সিটির নতুন নির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানিকে ‘অল্পস্বল্প’ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের প্রধান শহর মিয়ামিতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এই আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
তবে মামদানির বিজয়ের জেরে নিউইয়র্কবাসী তাদের সার্বভৌমত্ব হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি তাকে পরোক্ষভাবে ‘কমিউনিস্ট’ আখ্যায়িত করে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে এ ব্যাপারে ‘সতর্ক থাকার’ আহ্বানও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
মিয়ামির অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কের সদ্য সমাপ্ত মেয়র নির্বাচনের প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট বলেন, “নিউইয়র্কের জনগন তাদের সার্বভৌমত্ব হারিয়েছে। আমরা এ ব্যাপারটির যত্ন নেবো। দেখা যাক, মামদানি নিউইয়র্ক কেমন চালায়। সম্ভবত তাকে আমরা অল্পস্বল্প সহযোগিতা করব।”
“তবে আশঙ্কার কথা হলো, আমাদের সবচেয়ে বড় শহরটি হয়তো শিগগিরই কমিউনিস্ট হয়ে যাবে এবং ষেখান থেকে দলে দলে লোকজন ফ্লোরিডায় আসা শুরু করবে। আমাদের সামনে এখন পরিষ্কারভাবে দু’টি বিকল্প উপস্থিত হয়েছে— কমিউনিজম অথবা কাণ্ডজ্ঞান।”
গতকাল বুধবার ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বিশেষ একটি দিন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার এক বছর পূর্তির দিন। এই দিনই নিজের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসকে হারিয়ে নিজের বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।
মিয়ামিতে দেওয়া ভাষণে গত বছরের নির্বাচনের ফলাফলের দিনও স্মরণ করেছে ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “আমরা ইতোমধ্যে আমাদের অর্থনীতিকে উদ্ধার করেছি, আমাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছি এবং সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশকে রক্ষা করেছি। আমাদের এই সাফল্যপূর্ণ অগ্রযাত্রার এক বছর পূর্ণ হলো আজ।”
অভিবাসী অধ্যুষিত নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ডেমোক্রেটিক পার্টির শক্তিশালী ঘাঁটি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং সরকারি দল রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই মামদানির বিরুদ্ধে ছিলেন।
নিউইয়র্কের এবারের মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন মোট ৩ জন—ডেমোক্রেটিক পার্টির জোহরান মামদানি, রিপাবলিকান পার্টির কার্টিস স্লিওয়া এবং নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা অ্যান্ড্রু কুওমো। কুওমো স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।
মেয়র নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মামদানি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুয়োমো পেয়েছেন ৪২ শতাংশ ভোট এবং কার্টিস স্লিওয়া পেয়েছেন ৮ শতাংশ ভোট।

চূড়ান্ত নিবন্ধন পেল ৬৬ দেশি নির্বাচক পর্যবেক্ষক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৬৬টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চূড়ান্ত নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া ১৬টি সংস্থাকে প্রাথমিক নিবন্ধন দিয়েছে। তবে দাবি-আপত্তি জানতে চেয়ে ১৫ কার্যদিবস সময় দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) এসব তথ্য জানিয়েছে ইসি। গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ৭৩টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রাথমিক তালিকা নির্ধারণ করে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইসি। নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ইসি।
নির্বাচন কমিশন জানায়, বিগত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নিবন্ধিত ৯৬টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫-এর ধারা ১৬ মোতাবেক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫ অনুসারে পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধনে আগ্রহী যোগ্যতা সম্পন্ন বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করে।
নিবন্ধনে আগ্রহী সংস্থাগুলোকে আগামী ১০ আগস্ট (রোববার) বিকাল ৫টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব বরাবর স্থানীয় পর্যবেক্ষক নিবন্ধনের আবেদন ফরম (EO-1) এ আবেদন দাখিল করতে হবে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫, নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা নিবন্ধন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি এবং আবেদন ফরম (EO-1) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখায় (কক্ষ নং-১০৫) এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট www.ecs.gov.bd -তে পাওয়া যাবে।
এর আগে নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৩ সালের নীতিমালা বাতিল ও তৎকালীন ৯৬টি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করে নতুন নীতিমালা জারি করে নাসির উদ্দিন কমিশন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৯৬টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দেওয়া হয়। কিন্তু ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর নিবন্ধন বিষয়ে বিদ্যমান নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

যে কারণে স্ত্রীকে ক্ষমা করে দিতে বলেছিলেন মাহমুদউল্লাহ

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর যেন মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখা হয়ে গিয়েছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। দেশে এখন মহামারি ডেঙ্গুতে প্রতিদিনই শোনা যাচ্ছে মৃত্যুর খবর। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতি তুলে ধরেছেন মাহমুদউল্লাহর স্ত্রী জান্নাতুল কাওসার মিষ্টি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের এক স্ট্যাটাসে মিষ্টি কার্ডিওথোরাসিক হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটের (সিএইচডিউ) একটি ছবি লিখেছেন গত সপ্তাহের সেই দুঃসহ সময়ের কথা।
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের স্ত্রী নিজের সেই স্ট্যাটাসে লেখেন, এই দরজার সামনে আল্লাহ আর কখনো দাঁড় না করাক। এটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন আর ভয়ংকর সময় (২৭/১০/২০২৫)। এই দরজার ভেতরে ঢুকার আগে সে যখন আমাকে বললো আমি যেন তাকে ক্ষমা করে দেই, সেটা শুনেও আমি এমন ভান করলাম যেন কিছুই হয়নি, হবেও না ইনশাআল্লাহ। ওই সময় নিজেকে খুব শক্ত করে সামলালাম এখন সেটা ভেবে নিজের কাছেই খুব অবাক লাগছে সেই আমি কিভাবে এতো শক্ত ছিলাম।
মাহমুদউল্লাহর স্ত্রী জান্নাতুল কাওসার মিষ্টি আরও বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী ছিলাম যে আমার আল্লাহ আমাকে সবরের পরীক্ষা করছিলেন, এই পরীক্ষায় আমি উত্তীর্ণ হবোই হব ইনশাআল্লাহ। কিন্তু যতক্ষণ তার পাশে ছিলাম মনে মনে ভয় পাচ্ছিলাম আর ভাবছিলাম তার হায়াত কতটুকু সেটা তো একমাত্র আল্লাহই জানেন। সর্বক্ষণ দোয়া আর জিকিরে কিভাবে যেন সেই কঠিন সময়টুকু পার হয়ে গেল আলহামদুলিল্লাহ, মাশাআল্লাহ। আল্লাহ মহান, পরম দয়ালু। তার দয়ার কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। মানুষের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যা কখনো ভোলা যায় না। সেই কঠিন সময়টুকু এখনো বার বার মনে পড়ছে, হয়তো এই ট্রমা কাটতেও সময় লাগবে।

জাতীয় দলের কোচের পদ ছাড়ছেন সালাউদ্দিন

গেল বছরের শেষ দিকে অর্থাৎ ৫ নভেম্বর জাতীয় ক্রিকেট দলের সহকারী কোচের পদে যোগ দেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। এরপর নতুন করে নিজের প্রথম সিরিজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ব্যাটিং ইউনিটের দেখভালের দায়িত্বটাও পেয়ে যান সিনিয়র এই কোচ।
তবে তার অধীনে খুব একটা ভালো সময় যাচ্ছে না বাংলাদেশ দলের। ব্যাটিংয়ে ক্রিকেটারদের অধারাবাহিকতার ছাপ স্পষ্ট। গেল সোমবার বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে আসন্ন আয়ারল্যান্ড সিরিজে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলকে।
এর একদিন পার না হতেই আবারও আলোচনায় এসেছেন সালাউদ্দিন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পরই সহকারী কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শেষেই দায়িত্ব ছাড়ছেন তিনি। যদিও ঢাকা পোস্টকে বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন এখনো পদত্যাগপত্র পাননি তারা।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ক্রিকেট অপারেশন্সের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, সালাউদ্দিনের সঙ্গে বিসিবির চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। জানা গেছে, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তার আগেই পদত্যাগ করছেন তিনি।
এর আগে গত সোমবার বিসিবির সভা শেষে সালাউদ্দিন প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বিসিবি পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক। তার প্রতি অনাস্থার কারণেই আশরাফুলকে নিয়োগ দেওয়া দেয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে রাজ্জাকের জবাব, ‘সালাউদ্দিন ভাই কিন্তু সিনিয়র সহকারী কোচ। আসলে কারও ব্যর্থতার জন্য না। ওইখান থেকে সরানো হয়নি কাউকে, আশরাফুলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোচিং প্যানেলে আরও একজনকে যুক্ত করা হলো।’

মুখ খুললেন ভাবনা

দেশের জনপ্রিয় আবেদনময়ী অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা, যিনি প্রায়শই তার ব্যক্তিগত জীবন ও সাহসী লাইফস্টাইলের কারণে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। এবার তিনি সমালোচনার মোকাবিলা নিয়ে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, নেটিজেনদের প্রশংসা বা সমালোচনা তাকে কোনোভাবে প্রভাবিত করতে পারে না।
এক সাক্ষাৎকারে নেটিজেনদের সমালোচনামূলক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিনেত্রী ভাবনা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। নামহীন ও ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে আসা সমালোচনার বিষয়ে
ভাবনা বলেন, ‘একজন লুকিয়ে লুকিয়ে লিখছে যার নামহীন একটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, কোনো নামও নাই। প্রোফাইলে ঢুকে আপনি তখন দেখবেন ফেক অ্যাকাউন্ট, রাইট? এখন সে কোথায় বসে কী লিখছে, তাতে আমাদের কী যায় আসে? মানে আমার কিছু যায় আসে না।’
তার কথায়, যারা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে মন্তব্য করে, তাদের মতামত তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।
তিনি জানান, নিজের কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখাই তার মূল নীতি। সমালোচনা বা প্রশংসা, দুটোরই তার জীবনে প্রভাব সীমিত।

শাহরুখ ছাড়াও ‘কিং’-এর রাজসভার সদস্য যারা

বলিউডের বাদশাহ যখন নতুন সিনেমার ঘোষণা দেন, তখন সেটি আর শুধুমাত্র খবর থাকে না; যেন হয়ে ওঠে এক রাজকীয় আয়োজন! বর্তমানে ঠিক এমনটাই ঘটছে শাহরুখ খানের নতুন ছবি ‘কিং’ নিয়ে। সম্প্রতি ছবিটির টিজার প্রকাশ পেতেই ভক্তদের উচ্ছ্বাস তুঙ্গে।
এই সিনেমা নিয়েই বলিউডে এখন রীতিমতো চলছে আলোচনা। সিনেপ্রেমীদের একাংশের মত, পর্দায় শাহরুখ নিজেই যেন এক রাজসভাই গড়ে তুলতে যাচ্ছেন এবার; যেখানে ‘কিং’ অর্থাৎ পর্দায় রাজা হিসেবে থাকবেন শাহরুখ! আর বলিউড বাদশাহর সঙ্গে এই রাজসভায় কারা থাকছেন- অর্থাৎ এই সিনেমার কাস্টিং লিস্ট, তা নিয়েও কিন্তু আলোচনা কম নয়।
ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন শাহরুখ খান নিজে। ‘জওয়ান’ ও ‘পাঠান’-এর পর আবারও তাকে দেখা যাবে অ্যাকশন ও ড্রামার সংমিশ্রণে। আর তার বিপরীতে আছেন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন; যার সঙ্গে শাহরুখের জুটি মানেই হিট!
সবচেয়ে বড় চমক হলো, শাহরুখ কন্যা সুহানা খান এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার বড় পর্দায় পা রাখছেন। ‘দ্য আর্চিস’-এ ডিজিটাল অভিষেকের পর প্রথমবারের মতো প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাবে তাকে, তাও বাবার ছবিতে।
শুধু এই তিনজনই নন, ‘কিং’-এর দরবারে আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় মুখ যুক্ত হচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন অভিষেক বচ্চন, রানি মুখার্জি, অনিল কাপুর, জ্যাকি শ্রফ, আরশাদ ওয়ারসির মতো বলিউডের তাবড় তারকারা।
এছাড়াও রয়েছেন ওটিটিতে বর্তমানে আলোচনায় থাকা জয়দীপ আহলাওয়াত ও সৌরভ শুক্লা। রয়েছেন নতুন প্রজন্মের তারকা রাঘব জুয়েল, অভয় ভার্মা ও কারানভির মালহোত্রাও এই রাজকীয় অভিযানের অংশ হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।
তবে এই নামগুলোই যথেষ্ট ইঙ্গিত দেয়, শাহরুখের এই রাজত্ব হবে মহা আয়োজনে ভরপুর।
উল্লেখ্য, ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছে রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট ও মারফ্লিক্স পিকচার্স। পরিচালনায় আছেন সিদ্ধার্থ আনন্দ, যিনি শাহরুখের ব্লকবাস্টার ‘পাঠান’-এরও পরিচালক ছিলেন। তাই প্রত্যাশা, ‘কিং’ হবে অ্যাকশন, আবেগ ও রাজকীয় জাঁকজমকের এমনই এক দুর্দান্ত মিশ্রণ যা বলিউডে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।

অস্থিতিশীল পেঁয়াজের বাজার, কেজিপ্রতি দাম ছাড়াল ১০০ টাকা

ঢাকার বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ১০০ টাকার ঘর ছাড়িয়েছে। গত দুদিনেই প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত। এখন খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, যা তিনদিন আগেও ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।
পাইকারি বাজারেও একই চিত্র। মানভেদে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ থেকে ১০৫ টাকা কেজিতে, যা গত শুক্র-শনিবারও বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকায়।
রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার শ্যামবাজারের আড়তদাররা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
কুমিল্লা আড়তের আড়তদার আবুল কালাম গণমাধ্যমে বলেন, ‘পাবনা ও ফরিদপুরের আড়তে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সারাদেশের পাইকারি বাজারে। আগের চেয়ে মোকামে দাম প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে যে পরিমাণ পেঁয়াজ আসছে, তা যথেষ্ট নয়।’
চট্টগ্রামেও একই চিত্র
চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারেও তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত। সোমবার (৩ নভেম্বর) দেখা যায়, মানভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৯০ থেকে ১০৫ টাকায়, যা গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিক্রি হয়েছিল ৭২ থেকে ৮৫ টাকায়।
খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া গণমাধ্যমে বলেন, ‘ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।’
মৌসুমি প্রভাব ও আমদানি সংকট
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দেশে রবি মৌসুমের রোপণ শুরু হয়েছে দেরিতে, ফলে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে সময় লাগবে। পাবনা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো রোপণ শেষ হয়নি। সময়মতো আমদানি অনুমোদন না পেলে বাজার আরও অস্থিতিশীল হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
অন্যদিকে কৃষি অধিদপ্তর বলছে, দেশে এখনো পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। কৃষকের হাতে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুত আছে। এ মুহূর্তে আমদানির অনুমতি দিলে কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. মো. জামাল উদ্দীন বলেন, ‘এই মুহূর্তে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। এটি নিঃসন্দেহে একটি ব্যবসায়ী কারসাজি। কৃষকের হাতে এখনো পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ আছে, তাই আগামী দুই মাস কোনো সংকট হবে না।’
তিনি জানান, ‘গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ নভেম্বরেই বাজারে আসবে, আর ডিসেম্বরের মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজও উঠতে শুরু করবে। ফলে দাম আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’
কারসাজি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ
বাজারে হঠাৎ দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কথা বলছেন। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের গণমাধ্যমে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। আমরা এখন ৭৭-৮০ টাকায় কিনে ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি করছি। গত বছরের এই সময়ে দাম ছিল ১৩০-১৫০ টাকা। সে তুলনায় এবার অনেক কম দামেই বিক্রি হচ্ছে।’
ক্যাবের সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, ‘বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আমদানির পাঁয়তারা চলছে। আড়তদার, কমিশন এজেন্ট ও দাদন ব্যবসায়ীদের কারসাজিতেই দাম বাড়ানো হচ্ছে।’
আমদানি অনুমতির জট
কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ৩৫ লাখ টন, আর গত মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ টন। তারপরও ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে আমদানির জন্য মরিয়া।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ে জমা পড়েছে দুই হাজার ৮০০-এর বেশি আমদানি অনুমতির (আইপি) আবেদন। তবে এখনো অনুমতি মেলেনি।
অতিরিক্ত উপপরিচালক (আমদানি) বনি আমিন খান গণমাধ্যমে বলেন, ‘পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় অনুমতি না দিলে আমরা আইপি দিতে পারি না। সব আবেদন ফেরত দেওয়া হয়েছে।’
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুর রহমান গণমাধ্যমে বলেন, ‘গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ নভেম্বরেই বাজারে আসবে। এখন আমদানির অনুমতি দিলে কৃষক বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন। কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার।’
তবে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত মৌসুমে কৃষকরা ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেকে আগেই বিক্রি করে ফেলেছেন। ফলে এখন মজুতদারদের হাতে থাকা পেঁয়াজ নিয়েই বাজার সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে দাম বাড়াচ্ছে।
দেশে এখন চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হলেও আমদানি স্থগিত ও মৌসুমি প্রভাবের কারণে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই নতুন পেঁয়াজ বাজারে এলেও ততদিন পর্যন্ত দামের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজের শেষ নির্বাচন নিয়ে ফখরুলের আবেগঘন পোস্ট

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে তার রাজনৈতিক যাত্রার শেষ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
মির্জা ফখরুল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে বলেন, মহান আল্লাহর রহমতে বিএনপি আমাকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মনোনীত করেছে। আমি বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং দলের সব নেতা ও নেত্রীকে আমার কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানাই। দলের সব কর্মীকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ, আজীবন আমার সঙ্গে থাকার জন্য।
তিনি আরও ব্যক্তিগত কিছু স্মৃতিকথা তুলে ধরে বলেন, আমরা যারা সারাজীবন রাজনীতি করেছি, জেলে গেছি, আমাদের নিজেদের একটা গল্প থাকে, অনেকেই তা জানে না। আমি যখন ১৯৮৭ তে সিদ্ধান্ত নেই, আবার রাজনীতিতে ফিরব, আমার মেয়ে দুটো একদমই ছোট ছিল, ঢাকায় পড়ত। আমার স্ত্রীর বয়স অনেক কম ছিল, সে প্রথমে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল, বুঝতে পারছিল কী ভয়াবহ অনিশ্চিত জীবনে পা দিতে যাচ্ছি। আমার মেয়ে দুটোর হাত ধরে সে নিয়ে গেছে স্কুলে, ডাক্তারের কাছে। মনে পরে আমার বড় মেয়ের একটা অপারেশন হবে, আমি সারা রাত গাড়িতে ছিলাম ঢাকার পথে, যাতে মেয়ের পাশে থাকতে পারি। এত কষ্ট হচ্ছিল, আমি ছিলাম মসজিদে যখন তার অপারেশন হচ্ছিল। গল্পগুলো অন্য কোনো দিন বলব যদি আল্লাহ চান। এরকম গল্প আমাদের হাজার নেতাকর্মীর আছে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন আমার শেষ নির্বাচন। যারা মনোনয়ন পাননি, বিশ্বাস রাখুন, ইনশাআল্লাহ দল আপনাদের যথাযথ দায়িত্ব ও সম্মান দিবে।
আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, আমাদের দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর জন্য দোয়া করবেন। আমরা সবাই মিলে আপনাদের পাশে থাকব এবং কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ নিলেন মীর মুগ্ধর ভাই স্নিগ্ধ

বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ সংগ্রহ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্নিগ্ধর প্রাথমিক সদস্যপদ নেয়ার সময় দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। এছাড়া, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু, নজরুল ইসলাম খান ও স্নিগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
গুঞ্জন রয়েছে, ঢাকা-১৮ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেতে পারেন স্নিগ্ধ। এই আসনটি উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১,১৭,৪৩,৪৪,৪৫, ৪৬, ৪৭,৪৮,৪৯,৫০,৫১,৫২,৫৩,৫৪ ও বিমানবন্দর এলাকা (বৃহত্তর উত্তরা ৬টি থানা) নিয়ে গঠিত।
গতকাল সোমবার ২৩৭টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে বিএনপি। তবে ৬৩টি আসন ফাঁকা রাখে দলটি। এরমধ্যে ঢাকা-১৮ আসনটি রয়েছে।

নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি কে?

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে প্রথম মুসলমান মেয়র হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি। এর মাধ্যমে অনেক দিক থেকেই নিউইয়র্কের নির্বাচনে ‘প্রথমবারের’ ইতিহাস তৈরি করেছেন তিনি।
তিনি এই শহরের প্রথম মুসলমান মেয়র। সেই সাথে প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত, প্রথম আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া মেয়রও। গত ১০০ বছরের মধ্যে তিনি নিউইয়র্কের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র।
কিন্তু যখন তিনি গত বছরের শেষ দিনে এই দৌঁড়ে নিজের নাম লেখান, তখন খুব কম মানুষই তার নাম জানত। তার তেমন অর্থ ছিল না, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমর্থনও ছিল না।
ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়নের দৌড়ে নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোকে হারিয়ে পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিলেন। তৃণমূল পর্যায়ের বড় সমর্থন এবং সাহসী বামপন্থি ধারার মধ্য দিয়ে জোহরান মামদানির এই সাফল্য এসেছে।
সাবেক গভর্নর কুওমোর মতো একসময়ের প্রভাবশালী ব্যক্তির বিপরীতে তার জয় প্রগতিশীলদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং এটি শহরের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে একরকম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিল।
নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ভাষণে মামদানি বলেছেন, নিউইয়র্কের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে।
মামদানি উগান্ডার কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্কে আসেন। সেখানে তিনি ব্রঙ্কস হাই স্কুল অফ সায়েন্সে পড়াশোনা করেন এবং পরে বোওডেন কলেজ থেকে আফ্রিকানা স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। সেখানে তিনি “স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন” এর ক্যাম্পাস শাখার একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
মিলেনিয়াল প্রজন্মের এই প্রগতিশীল নেতা, যিনি শহরের প্রথম মুসলিম এবং দক্ষিণ এশীয় মেয়র হবেন, তিনি তার শেকড়ের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে তার ভিত্তিতে এগিয়েছেন। তিনি তার প্রচারণার একটি ভিডিও পুরোপুরি উর্দু ভাষায় করেছেন এবং তাতে বলিউডের সিনেমার দৃশ্য যুক্ত করেছেন। আরেকটি ভিডিওতে তিনি স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলেছেন।
মামদানির স্ত্রী ২৭ বছর বয়সী ব্রুকলিনের সিরিয়ান শিল্পী রামা দুয়াজি। তার সাথে ডেটিং অ্যাপ “হিঞ্জ” এর মাধ্যমে মামদানির পরিচয় হয়েছিল।
তার মা মীরা নায়ার একজন বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক এবং বাবা অধ্যাপক মাহমুদ মামদানি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তার বাবা-মা দুজনেই হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।
মামদানি নিজেকে গণমানুষের প্রতিনিধি এবং সংগঠক হিসেবে উপস্থাপন করেন।
তার স্টেট অ্যাসেম্বলি প্রোফাইলে লেখা হয়েছে, “জীবন যখন অনিবার্য দিকে মোড় নিচ্ছিলো— সিনেমা, র‍্যাপ আর লেখালেখির বাঁকবদলে, যাই হোক না কেন, সবসময়ই সংগঠন করা তার মাঝে এক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। যে কারণে বিশ্বের ঘটনাপ্রবাহ তাকে হতাশা নয়, বরং কাজের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।”
রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি আবাসন খাতের একজন কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছেন, যার মাধ্যমে কুইন্সে স্বল্প আয়ের বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করতেন।
মামদানি তার মুসলিম পরিচয়কে তার প্রচারণার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি নিয়মিত মসজিদে গিয়েছেন এবং শহরের উচ্চ জীবনযাত্রার খরচের সংকট নিয়ে উর্দু ভাষায় একটি প্রচারণার ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
“আমরা জানি যে, একজন মুসলিম হিসেবে জনসমক্ষে আসার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে বিসর্জন দিতে হয়” — বসন্তের এক সমাবেশে তিনি এই কথা বলেন।
সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ড্রামের রাজনৈতিক পরিচালক জাগপ্রীত সিং বলেন, “মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কারও মধ্যে জোহরানের মতো কাউকে দেখিনি, যিনি সামগ্রিকভাবে আমাদের চিন্তার বিষয়গুলোর প্রতিফলন ঘটান।”
মামদানির সাশ্রয়ী যুদ্ধ
মামদানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের ভোটাররা চায় ডেমোক্র্যাটরা সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দিক। তিনি বলেন, “এটি এমন একটি শহর যেখানে চারজনের মধ্যে একজন দারিদ্র্যের সাথে বসবাস করছে, এমন একটি শহর যেখানে প্রতিরাতে পাঁচ লাখ শিশু ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমায়।”
বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, “এটি এমন একটি শহর যা নিজের সেসব বৈশিষ্ট্য হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে, যেগুলো একসময় এটিকে বিশেষ করে তুলেছিল।”
তার প্রস্তাবনাগুলো হলো:
• শহরজুড়ে বিনামূল্যে বাস পরিষেবা।
• বাড়িভাড়া স্থির রাখা এবং অবহেলা করা বাড়িওয়ালাদের জবাবদিহির ব্যবস্থা করা।
• সাশ্রয়ী মূল্যের ওপর জোর দিয়ে শহরের নিজস্ব মুদি দোকানের চেইন সৃষ্টি করা।
• ছয় সপ্তাহ থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সারা শহরে বিনামূল্যে চাইল্ড কেয়ার প্রতিষ্ঠা।
• সাশ্রয়ী বাসস্থানের সংখ্যা তিন গুণ বাড়ানো, যা ইউনিয়নের মাধ্যমে নির্মাণ করা হবে।
তার পরিকল্পনায় মেয়রের অফিসের ‘পুনর্বিন্যাস’ বা সংস্কারও অন্তর্ভুক্ত, যাতে করে সম্পত্তির মালিকরা দায়বদ্ধ থাকে এবং চিরস্থায়ীভাবে সাশ্রয়ী বাসস্থানের সংখ্যা বাড়ানো যায়। মামদানি তার প্রচারণায় এই নীতিগুলোকে চোখে পড়ার মতো এবং ভাইরাল, অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সামনে এনেছিলেন।
তিনি বাসা ভাড়ার বিষয়টি তুলে ধরতে আটলান্টিক সাগরে ডুব দিয়েছেন এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাকে তুলে ধরার জন্য একটি বারিতো (মেক্সিক্যান খাবার) দিয়ে একটি পাতাল রেল সাবওয়েতে রমজানের ইফতার করে রোজা ভাঙেন।
এছাড়া তিনি ভোটের আগের দিন পুরো ম্যানহাটন হেঁটে গেছেন এবং ভোটারদের সাথে সেলফি তুলেছেন। যদিও তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই শহরকে আরও সাশ্রয়ী করা সম্ভব, তবুও সমালোচকরা মনে করছেন, এই অতি উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা কঠিন।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস মেয়র নির্বাচনে কাউকে সমর্থন না দিয়ে সাধারণভাবে প্রার্থীদের সমালোচনা করে থাকে।
তাদের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, মামদানির পরিকল্পনা “শহরের চ্যালেঞ্জের সাথে খাপ খায় না” এবং এটি “শাসনের অতি জরুরি সমঝোতাগুলোকে অগ্রাহ্য করে”। তার প্রতিশ্রুত বাসা ভাড়ায় কড়াকড়ি করা হলে আবাসন সংকট বাড়তে পারে বলে তারা মনে করছে।