মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্তের তদন্ত প্রতিবদনে যা জানা গেল!
নির্বাচন হলে দেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে: সেনাসদর
দাসদের খাবার থেকে রাজকীয় পাতে রসুনের যাত্রা — কতটা গুণ আছে এই রসুনে?
হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে রসুন মানুষের খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শুধু স্বাদের জন্য নয়, বরং এর ঔষধি গুণাগুণের কারণেও এটি জনপ্রিয়। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল (জীবাণুনাশক) ও অ্যান্টিভাইরাল (ভাইরাস প্রতিরোধী) হিসেবে রসুনকে প্রাচীনকাল থেকেই রান্না ও চিকিৎসায় অপরিহার্য উপাদান ধরা হয়।
এর উৎপত্তি মূলত এশিয়ায় হলেও অভিবাসনের মাধ্যমে রসুন ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপ ও আমেরিকায়। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রসুন উৎপাদক দেশ হলো চীন।
রান্নাঘরের অপরিহার্য উপাদান
বিশ্বের প্রায় সব রান্নাতেই রসুন একটি অপরিহার্য উপাদান। ড্যানিশ শেফ পল এরিক জেনসেন জানান, তিনি কখনো এমন কোনো শিক্ষার্থী দেখেননি যে রসুন চেনে না। তার মতে, রসুন খাবারের স্বাদ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করে এবং ফরাসি রান্না রসুন ছাড়া কল্পনাই করা যায় না।
তবে ১৯৭০-এর দশকের আগে ডেনমার্কে রসুন ছিল অনেকটাই অপরিচিত। তুর্কি শ্রমিকদের মাধ্যমে রসুনের ব্যবহার বাড়ে। বর্তমানে শেফ জেনসেন রসুনকে প্রাকৃতিক প্রতিষেধক হিসেবেও ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিদিন সকালে এক কাপ স্যুপ খাই, তাতে থাকে পিষে দেওয়া এক কোয়া রসুন। আমাদের সর্দি-কাশি বা ফ্লু হয় না—রসুনই এর কারণ।”
দাসদের পাতে থেকে রাজকীয় থালায়
রসুনের ইতিহাস শুধু রান্নার নয়, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বেও সমৃদ্ধ। প্রাচীন গ্রীসে দেবী হেকাটির উদ্দেশ্যে রাস্তাচৌরায় রসুন উৎসর্গ করা হতো। মিশরের ফারাও তুতেনখামুনের সমাধিতেও রসুন পাওয়া গেছে—যা তাকে পরকালে রক্ষা করবে বলে বিশ্বাস করা হতো।
‘গার্লিক: অ্যান এডিবল বায়োগ্রাফি’ বইয়ের লেখক রবিন চেরির মতে, বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো রেসিপি—মেসোপটেমীয় এক স্ট্যু (৩,৫০০ বছর পুরোনো)—তাতেও ছিল রসুন। এমনকি প্রাচীন চিকিৎসাগ্রন্থ এবার্স প্যাপিরাস-এও রসুনের চিকিৎসা ব্যবহার বর্ণিত আছে, যা হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট ও পরজীবী সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতো।
গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটাস, দার্শনিক অ্যারিস্টটল ও লেখক অ্যারিস্টোফেনিসও রসুনের গুণাগুণের কথা উল্লেখ করেছেন। রোমান সৈন্যরা বিশ্বাস করতেন, রসুন তাদের শক্তি ও সাহস বাড়ায়—তাই যুদ্ধের সময় এটি খেতেন। এর মাধ্যমেই রসুন ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে রসুনকে “গরিবদের খাবার” বলা হতো। মিশরের পিরামিড নির্মাণে নিযুক্ত দাসেরা বা রোমান নাবিকরা রসুন খেতেন শক্তি বাড়ানোর জন্য। রসুন ছিল সস্তা এবং দুর্গন্ধ ঢাকতে পারত বলে দরিদ্রদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয় ছিল।
নবজাগরণে ভাবমূর্তি বদল
রেনেসাঁ যুগে (১৪-১৬ শতক) রসুনের ভাবমূর্তি বদলাতে শুরু করে। ফ্রান্সের রাজা চতুর্থ হেনরিকে রসুন দিয়ে ব্যাপটাইজ করা হয়েছিল—এরপর থেকেই এটি রাজপরিবারের খাবারেও জায়গা পায়। উনবিংশ শতকে ভিক্টোরিয়ান ইংল্যান্ডে এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে রসুন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
রবিন চেরির ভাষায়, “একসময় ‘রসুনখেকো’ শব্দটি ইহুদি, ইতালীয় ও কোরিয়ানদের অবমাননা করতে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু আজ সেই রসুনই বিশ্বজুড়ে স্বাদ ও স্বাস্থ্যের প্রতীক।”
গুণাগুণ
আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, রসুন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, কোলেস্টেরল কমায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর।
একসময় দাসদের শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত এই রসুন এখন রাজকীয় পাতে এবং আধুনিক চিকিৎসার আলোচনায় সমানভাবে স্থান দখল করে আছে।
বোয়ালখালী ৫০ শয্যার হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা
হঠাৎ করে চট্টগ্রাম বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়োজিত ৯ জন নার্স-মিডওয়াইফকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে প্রতিভূ ব্যতীত এ আদেশে অন্তর্বিভাগের (ইনডোর) স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়া আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত ২৮ অক্টোবর থেকে পৃথক কয়েকটি পত্রে এ বদলি এবং সংযুক্তির অফিস আদেশ দিয়েছেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোসাম্মৎ মঞ্জু আখতার। এর বিপরীতে মাত্র একজন নার্সকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে।
এ আদেশের ফলে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্তর্বিভাগে (ইনডোর) স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সাথে প্রসূতি সেবা ও অপারেশন থিয়েটারের সেবা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসবে।
জানা যায়, বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে সিনিয়র স্টাফ নার্স ২৯টি ও মিডওয়াইফ (ধাত্রী) পদ রয়েছে ১০টি। এ পদে কর্মরত রয়েছেন নার্স ২৪ জন ও মিডওয়াইফ ৪ জন। এর মধ্যে ৫ জনকে বদলি ও ৪ জনকে সংযুক্তি করে আদেশ দেওয়া হয়ছে। ২ জন কোর্সে ও ১ মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করছেন।
জানা গেছে, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে শিশু, মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ড রয়েছে। প্রায় সময় নির্ধারিত বেডের চেয়ে অধিক রোগী ভর্তি হন। নরমাল ডেলিভারি, সিজারিয়ান ডেলিভারি, নাক-কান-গলা ও অর্থোপেডিক্স সার্জারি হয়ে থাকে নিয়মিত। নার্স ও মিডওয়াইফ সংকটের কারণে এসব সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, ৩৯টি নার্স ও মিডওয়াইফ পদের বিপরীতে ২৮ জন নিয়োজিত ছিলেন। এই স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে তিনটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন সকাল, বিকেল ও রাত—এই তিন পালায় স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হতো। তিনজনের কাজ একজনকে করতে হয়। তার ওপর প্রতিভূ ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত অবিবেচনাবশত।
হঠাৎ উপজেলা থেকে গণহারে নার্স ও মিডওয়াইফদের সরিয়ে নেওয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো চিকিৎসাসেবায় স্থবিরতা নেমে আসবে বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাফরিন জাহেদ জিতি বলেন, ‘৫০ জন রোগীর জায়গায় হাসপাতালে ৮০-১০০ জন ভর্তি থাকে। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী থাকলেও নার্সের সংখ্যা অপ্রতুল। এর মধ্যে বদলি ও সংযুক্তির ফলে হাসপাতালের অন্তর্বিভাগীয় সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে।
এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগের তুলনায় ৪-৫ গুন ডেলিভারি, মাইনর, মেজর সার্জারি চলমান রয়েছে জানিয়ে ডা.জাফরিন জাহেদ জিতি বলেন, ‘হঠাৎ এ বদলি আদেশ বিপাকে ফেলে দিয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে বদলি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। কিন্তু নার্সদের গণহারে যে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে তাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়া হয়নি। নার্সগণ অনলাইনে বদলীর আবেদন করেছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় না করে এভাবে নার্সিং ও মিডওয়াইফারী অধিদপ্তরের বদলি ও সংযুক্তি আদেশ করা অত্যন্ত অবিবেচনাপ্রসূত হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জন মহোদয়সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারী অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। জনস্বার্থে নার্স প্রতিভূ ছাড়া ছাড়পত্র দিলে হাসপাতালের সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
১৯তম বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো শুরু কাল
দেশের ডেনিম শিল্পের বিকাশে নিবেদিত বৃহত্তম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর ১৯তম আসর শুরু হচ্ছে কাল বুধবার। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন শেষ হবে বৃহস্পতিবার।
এ বছর প্রদর্শনীতে ১০টি দেশ থেকে ৪৫টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম, জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রতিষ্ঠানগুলো ডেনিম ও নন-ডেনিম ফ্যাব্রিক, গার্মেন্টস, সুতা, ওয়াশিং ও লন্ড্রি, অ্যাকসেসরিজ, রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি এবং লজিস্টিকস ক্যাটাগরিতে তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করবে।
প্রদর্শনীতে ডেনিম উৎপাদনের সর্বশেষ উদ্ভাবন, টেকসই প্রযুক্তি ও বৈচিত্র্যময় পণ্যের প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও বৈশ্বিক বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরা হবে। বিশ্বজুড়ে ডেনিম শিল্পের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব, উদ্ভাবক ও বিশেষজ্ঞরা এ আয়োজনে একত্রিত হবেন, যেখানে ডেনিম উৎপাদন, টেকসইতা ও প্রযুক্তির পরিবর্তনশীল ধারা নিয়ে আলোচনা হবে।
এ আয়োজনে তিনটি প্যানেল আলোচনা ও দুটি সেমিনারের মাধ্যমে বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও বৈশ্বিক প্রভাব উপস্থাপন করা হবে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) বেবি রানি কর্মকার ‘ডেনিম রাইজিং: বাংলাদেশস জার্নি টু গ্লোবাল লিডারশিপ’ শীর্ষক আলোচনায় প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেবেন।
বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজ উদ্দিন জানান, দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো তার উদ্ভাবনী ও অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রস্তুতকারক, ব্র্যান্ড ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। এটি এখন শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ডেনিম প্রস্তুতকারক ও ক্রেতারা সংযুক্ত হন।
মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এক্সপোকে এমন এক মঞ্চে পরিণত করেছি, যেখানে টেকসইতা, বৈচিত্র্যময় ডিজাইন ও বৈশ্বিক শিল্পের পরিবর্তনশীল রূপ একসঙ্গে প্রতিফলিত হয়। এ বছর এক্সপোতে থাকবে আরও নতুনত্ব, যা দর্শনার্থীদের বৈশ্বিক ডেনিম শিল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে সহায়তা করবে।’
সমন্বিত ঋণ ব্যবস্থাপনা অফিস প্রতিষ্ঠার সুপারিশ আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের
সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে এবং রাজস্ব ও পরিচালন ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশে একটি সমন্বিত ঋণ ব্যবস্থাপনা অফিস (ডিএমও) প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের একটি যৌথ কারিগরি সহায়তা মিশন।
‘ঋণ ব্যবস্থাপনা অফিস প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক কর্মশালায় এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
কর্মশালাটি গত সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
অর্থ বিভাগের ‘ট্রেজারি ও ঋণ ব্যবস্থাপনা শাখার সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প’-এর আওতায় সার্বজনিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ ও সেবা প্রদান সক্ষমতা বৃদ্ধি (এসপিএফএমএস) কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
মিশনটি পর্যবেক্ষণ করেছে যে বাংলাদেশের ঋণ ব্যবস্থাপনার কাজগুলো বর্তমানে একাধিক সংস্থার মধ্যে বিভক্ত। ফলে সমন্বয়ের ঘাটতি, অসঙ্গত ঋণের তথ্য এবং একটি বিস্তৃত কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে অসুবিধা দেখা দিচ্ছে।
এছাড়া একটি কেন্দ্রীয় ও নিরীক্ষিত ঋণ ডাটাবেইসের অনুপস্থিতি এবং আনুষ্ঠানিক নগদ প্রবাহ পূর্বাভাস ব্যবস্থার অভাবকেও তারা চিহ্নিত করেছে। এগুলো কার্যকর ও সাশ্রয়ী সরকারি ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন, পরিকল্পনা ও টিডিএম) মো. হাসানুল মতিন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত সচিব (বাজেট-১) ও এসপিএফএমএস-এর জাতীয় কর্মসূচি পরিচালক ড. জিয়াউল আবেদীন এবং অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (ম্যাক্রোইকনমিকস-১) হাসান খালেদ ফয়সাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ট্রেজারি ও ঋণ ব্যবস্থাপনা শাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রাশেদুল আমিন।
আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক মিশনের নেতৃত্ব দেন সিনিয়র ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর এক্সপার্ট অরিন্দম রায়। তার সঙ্গে ছিলেন ড. জেন্স ক্লাউসেন, ফিলিপ আর. ডি. অ্যান্ডারসন ও পার জনসন।
বিশেষজ্ঞ মতামত উপস্থাপন করেন অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব (ব্যয় ব্যবস্থাপনা) মো. মনজরুল হক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম সচিব আবু দাইয়ান মোহাম্মদ আহসানউল্লাহ।
প্রেজেন্টেশনে মিশনটি প্রস্তাব করে যে সরকার ও সরকার-গ্যারান্টিযুক্ত সব ঋণ-সম্পর্কিত কার্যক্রম অর্থ বিভাগের অধীনে একীভূত করা হোক। এর প্রথম ধাপ হিসেবে ট্রেজারি ও ঋণ ব্যবস্থাপনা শাখা পুনর্গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবিত ডিএমও দেশীয় ঋণ ইস্যু তত্ত্বাবধান করবে, বার্ষিক ঋণগ্রহণ পরিকল্পনা তৈরি করবে, নিলাম ক্যালেন্ডার সমন্বয় করবে, ঋণ পোর্টফোলিও ঝুঁকি মূল্যায়ন করবে এবং বিদ্যমান সিস্টেম ও ডাটাবেইস একত্রিত করে একটি ঐক্যবদ্ধ ঋণ ডাটাবেইস গড়ে তুলবে।
মিশনটি ঋণ গ্রহণের কর্তৃত্ব, জবাবদিহিতা, প্রতিবেদন দায়বদ্ধতা এবং স্বচ্ছতার মান নির্ধারণের জন্য একটি স্পষ্ট আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার জন্য, মিশনটি ডিএমও-তে পুঁজিবাজার, মূল্য নির্ধারণ, নিষ্পত্তি কার্যক্রম এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ কর্মীদের নিয়োগের সুপারিশ করেছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ধরনের দক্ষতা বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে। তবে দক্ষ পেশাদারদের ধরে রাখতে, সরকারকে প্রতিযোগিতামূলক ক্ষতিপূরণ এবং ক্যারিয়ার উন্নয়নের পথ চালু করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, মধ্যমেয়াদে, ডিএমও আরও স্বায়ত্তশাসিত সত্তায় পরিণত হতে পারে যার সম্প্রসারিত কার্যাবলী থাকবে, যার মধ্যে থাকবে আকস্মিক দায়বদ্ধতা তদারকি এবং বিনিয়োগকারী সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা।
কর্মশালায় উপস্থাপিত আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, ১৯৮০-এর দশক থেকে অনেক দেশ কেন্দ্রীভূত ডিএমও পদ্ধতিতে রূপান্তরিত হয়েছে, যা ঋণ গ্রহণের খরচ ও ঝুঁকি হ্রাস, রাজস্ব স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা ও মুদ্রানীতির কার্যক্রমের মধ্যে স্পষ্ট পৃথকীকরণে সহায়তা করেছে।
মিশনটি আরও জানায়, সফল ডিএমও সাধারণত তিনটি মূল ইউনিটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এগুলো হল-ফ্রন্ট অফিস (ঋণ গ্রহণ ও বাজার লেনদেন), মিডল অফিস (ঝুঁকি ও কৌশল) এবং ব্যাক অফিস (নিষ্পত্তি, তথ্য প্রশাসন, হিসাব ও প্রতিবেদন)।
মিশনটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে একটি ডিএমও প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, পর্যায়ক্রমে পুনর্গঠন, আধুনিক আইটি সিস্টেমে বিনিয়োগ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে টেকসই সমন্বয় প্রয়োজন।
একবার কার্যকর হলে একীভূত ডিএমও বাজারের আস্থা বৃদ্ধি করবে, অর্থায়ন খরচ এবং ঝুঁকি কমাবে এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতাকে শক্তিশালী করবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
যে দুই আসন থেকে এমপি নির্বাচন করবেন হিরো আলম
দেশের আলোচিত কন্টেন্ট নির্মাতা আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম আবারও জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি এবার ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে এখানেই থেমে নেই তিনি—বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকেও প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
হিরো আলম বলেন, ‘এর আগেও দুই আসন থেকে আমি নির্বাচন করেছি। এই আসনগুলোর মানুষের সঙ্গে আমার আলাদা সম্পর্ক আছে। কাল যখন ঢাকায় নির্বাচনের ঘোষণা দিলাম সেটা দেখে অনেকেই আমাকে কল দিয়েছেন। তারা আমাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। তখন চিন্তা করলাম, জনগণ তো চায় আমি নির্বাচন করি। তাহলে আমি কেন দুই জায়গা থেকে করব না? তাই রাতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি-আমি দুই আসন থেকেই নির্বাচন করবো।’
ঢাকা-১৭ আসনে হিরো আলমের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বেশ কিছু শক্ত প্রার্থীর সঙ্গে। এ আসনের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী আন্দালিব রহমান পার্থ, যিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, এনসিপিসহ আরও কয়েকটি দলের প্রার্থীরাও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
অন্যদিকে, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বিএনপি থেকে মোশারফ হোসেনকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এখানেও একাধিক দলের প্রার্থী থাকার কথা জানা গেছে। হিরো আলম সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।
হিরো আলম বলেন, ‘নির্বাচনে অংশ নেওয়া আমার কাছে শুধু জয়ের বিষয় নয়, এটা একটি প্রতিবাদের মাধ্যমও। দেশে এখন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, এটাই সবার প্রত্যাশা। আমি ১০০ ভোট পেলেও কোনো সমস্যা নেই। মানুষ আসুক, ভোট দিন, উৎসব করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক দলের প্রধানের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আমি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি। দলগুলো যেসব প্রস্তাব দিচ্ছে সেগুলো আমি মানতে পারব কি না সেটা ভেবে দেখছি। ব্যাটে-বলে মিললে কোনো দলে যাব। নইলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হব।’
এই নির্বাচন হয়তো আমার শেষ নির্বাচন: মির্জা ফখরুল
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩৭টি আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিএনপি। তালিকা ঘোষণা অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলীয় প্রার্থী মনোনীত হওয়ার পরে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুর ১টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বিএনপি মহাসচিব লিখেন, এই নির্বাচন হয়তো আমার শেষ নির্বাচন।
পোস্টে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও লিখেছেন, মহান আল্লাহর রহমতে বিএনপি আমাকে ঠাকুরগাঁও ১ আসনে মনোনীত করেছে! আমি বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ সকল নেতা ও নেত্রীকে আমার কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানাই। দলের সকল কর্মীকে জানাই আমার আন্তরিক ধন্যবাদ আজীবন আমার সঙ্গে থাকার জন্য!
তিনি লিখেন, আমরা যারা সারাজীবন রাজনীতি করেছি, জেলে গেছি, আমাদের নিজেদের একটা গল্প থাকে! অনেকেই তা জানে না! আমি যখন ১৯৮৭ তে সিদ্ধান্ত নেই, আবার রাজনীতিতে ফিরব, আমার মেয়ে দুটি একদমই ছোট ছিল! ঢাকায় পড়ত। আমার স্ত্রীর বয়স অনেক কম ছিল! সে প্রথমে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল! বুঝতে পারছিল কী ভয়াবহ অনিশ্চিত জীবনে পা দিতে যাচ্ছে!
পোস্টে মির্জা ফখরুল আরো লিখেন, আমার মেয়ে দুটির হাত ধরে সেই নিয়ে গেছে স্কুলে, ডাক্তারের কাছে! মনে পড়ে আমার বড় মেয়ের একটা অপারেশন হবে, আমি সারারাত গাড়িতে ছিলাম, ঢাকার পথে! যাতে মেয়ের পাশে থাকতে পারি! গল্পগুলো অন্য কোনও দিন বলব যদি আল্লাহ চান! এ রকম গল্প আমাদের হাজার-হাজার নেতাকর্মীর আছে!
পরিশেষে তিনি লিখেন, আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, আমাদের দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর জন্য দোয়া করবেন! আমরা সবাই মিলে আপনাদের পাশে থাকব এবং কাজ করব ইনশাআল্লাহ! বিএনপির সেই যোগ্যতা আছে দেশকে মর্যাদার সঙ্গে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার! ইনশাআল্লাহ! আপনারা পাশে থাকেন।
গাজার শাসনক্ষমতা চায় যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা
যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা অন্তত দুই বছরের জন্য গাজা শাসনের দায়িত্ব নিতে চায়। একই সঙ্গে গাজায় কোনো শান্তিরক্ষী বাহিনী নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক বলপ্রয়োগকারী বাহিনী মোতায়েন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। এ বিষয়ে দেশটি এর মধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি সদস্য দেশের কাছে একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মার্কিন প্রশাসনের এক ক্ল্যাসিফায়েড বা গোপন নথির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্রকে গাজায় অন্তত দুই বছরের জন্য একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের খসড়া প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
ওই খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে গাজা শাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত ম্যান্ডেট দেওয়া হবে। প্রয়োজনে এই সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, এই খসড়ার ভিত্তিতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের আলোচনা চলবে। লক্ষ্য হলো—আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবটি গৃহীত করা এবং জানুয়ারির মধ্যে গাজায় প্রথম সেনা মোতায়েন করা।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী বা আইএসএফ (International Security Force) একটি ‘বলপ্রয়োগকারী বাহিনী’, শান্তিরক্ষী বাহিনী নয়। এ বাহিনীতে বিভিন্ন দেশের সৈন্য থাকবে এবং তা গঠিত হবে গাজার ‘বোর্ড অব পিস বা শান্তি পরিষদের’ পরামর্শে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনিই দায়িত্ব নেবেন।
খসড়ায় বলা হয়েছে, বোর্ড অব পিস অন্তত ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। খসড়ার তথ্য অনুযায়ী, আইএসএফের দায়িত্ব থাকবে ইসরায়েল ও মিসরের সঙ্গে গাজার সীমান্ত নিরাপদ রাখা, সাধারণ মানুষের সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তার করিডর রক্ষা করা এবং নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। এই নতুন পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে তারা কাজ করবে।
এ ছাড়া আইএসএফের দায়িত্ব থাকবে গাজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা। অর্থাৎ গাজা উপত্যকার নিরস্ত্রীকরণপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। এর মধ্যে সামরিক, সন্ত্রাসী ও আক্রমণাত্মক অবকাঠামো ধ্বংস ও তা পুনর্গঠন রোধ করা এবং অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্র স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করা।
এর মানে দাঁড়ায়, হামাস যদি স্বেচ্ছায় নিরস্ত্রীকরণে রাজি না হয়, তাহলে বাহিনী জোরপূর্বক তাদের নিরস্ত্রীকরণের দায়িত্ব নেবে। খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে গাজা চুক্তি বাস্তবায়নে আইএসএফ অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবে। এ বাহিনী গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এমন এক অন্তর্বর্তী সময়ে, যখন ইসরায়েল ধীরে ধীরে গাজার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরে আসবে এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নিজেদের সংস্কার সম্পন্ন করে দীর্ঘ মেয়াদে গাজার প্রশাসন গ্রহণের প্রস্তুতি নেবে।
অ্যাক্সিওসের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়া, আজারবাইজান, মিসর ও তুরস্ক এই বাহিনীতে সৈন্য পাঠাতে আগ্রহ দেখিয়েছে। খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আইএসএফ বোর্ড অব পিসের কাছে গ্রহণযোগ্য একীভূত কমান্ড কাঠামোর অধীনে গাজায় মোতায়েন হবে। এতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, বাহিনী গঠন ও এর কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে ‘মিসর ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ পরামর্শ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে’।
বাহিনীকে ‘আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আওতায় তাদের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা’ দেওয়া হবে। খসড়া প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বোর্ড অব পিসকে একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে ক্ষমতায়িত করা হবে। এ প্রশাসন গাজার পুনর্গঠনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে এবং অর্থ সংগ্রহ করবে। এ দায়িত্ব তারা পালন করবে যতক্ষণ না ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নিজেদের সংস্কার কর্মসূচি সন্তোষজনকভাবে শেষ করে এবং বোর্ড অব পিস তার অনুমোদন দেয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বোর্ড অব পিসকে গাজার স্থানীয় যোগ্য, অরাজনৈতিক ও টেকনোক্র্যাট ফিলিস্তিনি নাগরিকদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটি তদারক করবে ও সহায়তা দেবে। এই কমিটি গাজার বেসামরিক প্রশাসনের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই কমিটি গঠনের আগেই বোর্ড অব পিস কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, মানবিক সহায়তা বিতরণ করবে সেসব সংস্থা, যারা বোর্ড অব পিসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে—জাতিসংঘ, রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট। কোনো সংস্থা যদি সাহায্য অপব্যবহার করে বা অন্যদিকে সরিয়ে নেয়, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
গাজা যুদ্ধবিরতির ‘অব্যাহত লঙ্ঘন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ জাতিসংঘ মহাসচিবের
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মঙ্গলবার গাজায় যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সব পক্ষকে শান্তি চুক্তির প্রথম পর্যায়ের সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
দোহায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক দ্বিতীয় সম্মেলনের ফাঁকে গুতেরেস সাংবাদিকদের বলেন, ‘গাজায় যুদ্ধবিরতির অব্যাহত লঙ্ঘন নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এটি বন্ধ করতে হবে এবং সব পক্ষকে শান্তি চুক্তির প্রথম পর্যায়ের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে।’
নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হলেন মামদানি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন জোহরান মামদানি। স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুওমোকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েন ডেমোক্র্যাট পার্টি সমর্থিত এই রাজনীতিক।
নির্বাচনি ফলাফলে দেখা গেছে, ৩৪ বছর বয়সী মামদানি পেয়েছেন ১০ লাখ ১৮ হাজার ১৯০ ভোট, যা মোট ভোটের ৫০.৩ শতাংশ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুওমো পেয়েছেন ৮ লাখ ৪১ হাজার ৪৭৬ ভোট, যা মোট ভোটের ৪১.৬ শতাংশ। অন্যদিকে রিপাবলিকান পার্টি সমর্থিত কার্টিস স্লিওয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪ ভোট, যা মোট ভোটের ৭.১ শতাংশ।
স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শেষ হয় রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৮টা)। পুরো বিশ্বের নজর ছিল এই ভোটের দিকে। ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পরপরই বার্তা সংস্থা এপি মামদানির বিজয়ের খবর নিশ্চিত করে। উত্তেজনাপূর্ণ এ নির্বাচনে মামদানির জয় ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করেছে।
নিউ ইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশন জানিয়েছে, ১৯৮৯ সালের পর এবারই প্রথম শহরটিতে ভোটার উপস্থিতি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগে বোর্ড এক বিবৃতিতে জানায়, এবার ভোটার উপস্থিতির হার ঐতিহাসিক মাত্রায় পৌঁছেছে।
৮৪ লাখের বেশি মানুষের এই শহর অর্থনীতি ও সংস্কৃতির বৈশ্বিক শক্তিকেন্দ্র। সেই শহরের প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং প্রথম আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া নেতা হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখালেন মামদানি।
বহুধর্মী ও বহুজাতির এই মহানগরের ভোটাররা মামদানির জয়কে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। তবে তার নিবেদিত সমর্থকরা বলছেন, এটি কেবল ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের জয় নয়, এটি জীবনের ব্যয় সামাল দেওয়ার বাস্তব সমস্যায় তার তীক্ষ্ণ ও স্পষ্ট অবস্থানের প্রতিফলন।
এই নির্বাচন ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো অনেকের কাছে পুরোনো ধনবান দাতানির্ভর রাজনীতির প্রতীক। আর নিজেকে ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া মামদানি দলটির জন্য নতুন এক পথের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন।
এনবিসি নিউজের এক্সিট পোল অনুযায়ী, মামদানি নিউ ইয়র্কের প্রায় সব জাতিগত গোষ্ঠীর ভোট পেয়েছেন—শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ, লাতিনো, এশীয় ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর ভোটারদের বড় অংশই তাকে বেছে নিয়েছেন। ৪৫ বছরের নিচের ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা ছিল বিপুল; কুওমোর চেয়ে ৪৩ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন তিনি। অন্যদিকে ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে ভোটারদের মধ্যে কুওমো ১০ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন।
শিক্ষাগত পার্থক্যও ভোটের ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে এক্সিট পোল জানায়। এ ছাড়া গত ১০ বছরে নিউ ইয়র্কে বসতি স্থাপন করা নতুন বাসিন্দা ও জন্মসূত্রে নিউ ইয়র্কে থাকা ভোটারদের মধ্যেও স্পষ্ট বিভাজন দেখা গেছে।
তবে মামদানির ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান নির্বাচনজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তার মুসলিম পরিচয় ও ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নিয়ে বিরূপ প্রচারণা চললেও শেষ পর্যন্ত ভোটাররা তাকেই সমর্থন দেন। এক্সিট পোল অনুযায়ী, ইহুদি ভোটারদের মধ্যে কুওমো এগিয়ে ছিলেন ৬০ শতাংশ ভোটে, যেখানে মামদানি পান ৩১ শতাংশ ভোট। সূত্র : আলজাজিরা, এনবিসি নিউজ


