Home Blog Page 263

জোটেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট করতে হবে

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত দল জোটগতভাবে ভোটে অংশগ্রহণ করলেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট করার বিধান রেখেই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ২০২৫ (আরপিও) জারি করা হয়েছে।

সোমবার (০৩ নভেম্বর) আইন মন্ত্রণালয়-এ অধ্যাদেশের গেজেট জারি করেছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একগুচ্ছ সংশোধন আনা হয়েছে আরপিও-তে।

গত ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন করা হয়। এরপর জোটের প্রতীকের সংশ্লিষ্ট ২০ অনুচ্ছেদে সংশোধন নিয়ে বিএনপি আপত্তি তুললেও জামায়াত ও এনসিপি সংশোধন বহাল রাখার দাবি তোলে।

অবশেষে জোট করলেও ভোট করতে হবে স্ব স্ব দলের প্রতীকে-এমন বিধান রেখেই অধ্যাদেশ জারি করা হলো। এর মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে একাধিক নিবন্ধিত দল জোট করলেও জোট মনোনীত প্রার্থী বড় দলের বা অন্য দলের প্রতীকে ভোট করতে পারবে না, নিজ দলের প্রতীকে ভোট করতে হবে।

আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশ জারির মধ্যে নির্বাচনী আইনের সব ধরনের সংস্কার কাজ শেষ হলো। এরইমধ্যে ভোটার তালিকা আইন সংশোধন, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান আইন সংশোধন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন সংশোধন, ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষণ নীতিমালা, সাংবাদিক নীতিমালাসহ সব ধরনের আইন-বিধি সংস্কার করেছে ইসি। আরপিও সংশোধন হওয়ায় এর আলোকে দ্রুত দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা জারি করবে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি।

আরপিও-এর অনুচ্ছেদ ২০ (প্রতীক বরাদ্দ) সংশোধন করে একটি বিধান যোগ করা হয়েছে, যা জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর একক প্রতীক বরাদ্দের সুযোগকে আরও স্পষ্ট ও বিস্তৃত করেছে।

জোটবদ্ধ দলের প্রতীক বরাদ্দ প্রসঙ্গে সংশোধিত আরপিও-তে বলা হয়েছে, যদি দুই বা ততোধিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচনে যৌথ প্রার্থী দিতে সম্মত হয়, তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আবেদন সাপেক্ষে সেই প্রার্থী যে দলের অন্তর্ভুক্ত, সেই দলের জন্য সংরক্ষিত প্রতীকটি জোটবদ্ধভাবে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ দিতে পারবে। এই আবেদনটি আর্টিকেল ১১ এর অধীনে তফসিল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে ইসির কাছে করতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোই ঠিক করবে গণভোটের সময়

জাতীয় ঐক্যমত কমিশন কর্তৃক প্রণীত জুলাই সনদ এবং এর বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদের একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জুলাই জাতীয় সনদের গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা শেষে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এ তথ্য জানান।
এ দিন দুপুর ১২টায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের করবী হলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ডাকা সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সভায় সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপনের প্রচেষ্টার জন্য এবং বহু বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ঐকমত্য কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।
উপদেষ্টা পরিষদের সভায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ চূড়ান্তকরণ এবং এতে উল্লেখিত গণভোট আয়োজন ও গণভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে লক্ষ্য করা হয় যে, ঐকমত্য কমিশনে দীর্ঘদিন আলোচনার পরও কয়েকটি সংস্কারের সুপারিশ বিষয়ে ভিন্ন মত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়েছে, গণভোট কবে অনুষ্ঠিত হবে ও এর বিষয়বস্তু কি হবে এসব প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মতভেদ দেখা দিয়েছে সে জন্য সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই প্রেক্ষিতে গণভোটের সময় কখন হবে, গণভোটের বিষয়বস্তু কি হবে, জুলাই সনদে বর্ণিত ভিন্নমতগুলো প্রসঙ্গে কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নিয়ে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবগুলোর আলোকে জরুরিভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে সভা অভিমত ব্যক্ত করে।
এসব ক্ষেত্রে ফ্যসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোকে স্বীয় উদ্যোগে নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করে দ্রুততম সময়ে (সম্ভব হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে) সরকারকে ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা প্রদান করার আহ্বান জানানো হয়। এমন নির্দেশনা পেলে সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক সহজ হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কালক্ষেপণের যে কোনো সুযোগ নেই সেটাও আমাদের সবার বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
সভায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকারের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

‘জায়েদ ভাই সব মেয়েদের ফেভারিট’

ঢাকাই সিনেমার গ্ল্যামারাস চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। তার স্টাইলিশ লুক এবং সাবলীল অভিনয় তাকে এনে দিয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা। গত মাসে কানাডায় অনুষ্ঠিত ৩৯তম ফোবানার সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই গালা নাইটে পারফর্ম করেন।
ওই সফরেরই এক অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সহকর্মী জায়েদ খানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এই অভিনেত্রী।
নুসরাত ফারিয়া বলেন, ‘জায়েদ ভাই মিষ্টি মনের মানুষ। দিন দিন তো অনেক হ্যান্ডসাম হয়ে যাচ্ছেন এখন। অনেক বেশি ওয়ার্কআউট-টর্কআউট করছেন। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের সব মেয়েদেরই এখন ফেভারিট হয়ে গেছেন তিনি।’
তার কথায়, ‘আগে তো ছিলই, এখন অনেক ফিট হয়ে গেছে। জায়েদ ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করা সবসময়ই আনন্দের। তিনি এমন মনখোলা প্রাণবন্ত একটা মানুষ যে, কারো মন খারাপ থাকলেও উনার সাথে কথা বললে মন ভালো হয়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘উনার প্রোগ্রামে যখন উনি বলল, ‘চলো মন্ট্রিয়ালে হাঁটতে হাঁটতে আমরা শুটটা করে ফেলি’। তাই আমি সত্যি গভীর আগ্রহ এবং খুশিও হয়েছিলাম। পাশাপাশি আমি অনেক মজা করেছিলাম। ফান পার্টগুলো না আপনাদেরকে দেখাইনি, ওগুলো এডিট করে দিয়েছে।’

বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলল ভারত

পঞ্চান্ন বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটল ভারতের নারী ক্রিকেটে। রোববার (০২ নভেম্বর) নাভি মুম্বাইয়ের ড. ডি ওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে হারমানপ্রীত কৌরের দল। এর মধ্য দিয়ে তারা ইতিহাসে তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়ল—অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের পরেই ভারত এখন শিরোপাধারীদের তালিকায়।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারতের শুরুটা ছিল দারুণ। দুই ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মা মিলে গড়েন ১০৪ রানের উদ্বোধনী জুটি। মান্ধানা ৪৫ রানে ফিরলেও শেফালি খেলেন ঝড়ো ৭৮ বলে ৮৭ রানের ইনিংস, যার মধ্যে ছিল ৭টি চার ও ২টি ছক্কা। তার সঙ্গে জেমিমা রদ্রিগেজ যোগ করেন ২৪ রান।
মিডল অর্ডারে অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর (২০) ও দীপ্তি শর্মা (৫৮) ইনিংসকে মজবুত করেন। দীপ্তি নিজের ১৮তম অর্ধশতক তুলে নিয়ে শেষ দিকে রিচা ঘোষের (৩৪) সঙ্গে মিলে ভারতের স্কোর দাঁড় করান ২৯৮ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। লরা উলভার্ট (১০১) ও তাজমিন ব্রিটস মিলে দেন ৫১ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ। তবে ব্রিটসের রান আউটেই ভাঙে সেই জুটি, এরপরই ছন্দ হারায় প্রোটিয়া ব্যাটাররা। সুনে লুস (২৫) ও আনরিরি ডেরকসেন (৩৫)-এর ইনিংস সামান্য লড়াই দিলেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দীপ্তি শর্মা। তার ঘূর্ণিতে লুটিয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত ৪৫.৩ ওভারে ২৪৬ রানে গুটিয়ে যায় তারা।
বল হাতে দীপ্তি ছিলেন অনবদ্য। ৯.৩ ওভারে মাত্র ৩৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫টি উইকেট—যা তাকে এনে দেয় ম্যাচ সেরার পুরস্কারও। শেফালি ভার্মা নেন ২টি উইকেট, শ্রি চরানি ১টি।
এই জয়ে ভারতীয় নারী দল শুধু নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপই জিতল না, বরং নারী ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে এই জয় হয়ে থাকবে স্মৃতি মান্ধানা–শেফালি ভার্মা–দীপ্তি শর্মাদের সোনালি প্রজন্মের সেরা স্মারক হিসেবে।

কিছুটা কমেছে মুরগির দাম, গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত

গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। তবে গরু ও খাসির মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়; যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৩১০ টাকায়। এ ছাড়া গত সপ্তাহে ৩২০ টাকায় বিক্রি হওয়া পাকিস্তানি মুরগি চলতি সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায়। এছাড়া দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৬০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬০০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে মুরগির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম কিছুটা কমেছে। বিক্রেতা ফরিদ বলেন, এ সপ্তাহে দাম কমেছে মুরগির, সাপ্লাই ভালো ছিল।
বাজারে আগত ক্রেতা মোস্তফা জামান বলেন, দাম কমলেও শেষপর্যন্ত ব্রয়লারেই ভরসা রাখতে হয়। অন্য মুরগির দাম কমলেও সেটা তো সামর্থ্যের মধ্যে আসেনি। আরেক ক্রেতা কাজী আসাদও বলেন, আপাতত ব্রয়লার কেনা ছাড়া উপায় নেই।
এদিকে মুরগির দাম কমলেও বাজারে গরু-খাসির দাম আগের মতোই রয়েছে। প্রতি কেজি গরু গত সপ্তাহের মতো ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকায়।

এফবিসিসিআই’র প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন অতিরিক্ত সচিব আবদুর রহিম

দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক হিসেব দায়িত্ব গ্রহণ করলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান।
রোববার (০২ নভেম্বর) সকালে সংগঠনটির প্রশাসক হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশে ট্রেড অর্গানাইজেশন অ্যাক্ট, ২০২২ এর ধারা ১৭ এর অধীনে মো. আবদুর রহিম খান এফবিসিসিআই’র প্রশাসক নিযুক্ত হন। ওই আদেশ অনুযায়ী, তিনি ১২০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্নের মাধ্যমে নির্বাচিত বোর্ডের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।
এর আগে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ফেডারেশনের পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগ দাবিতে সদস্যদের একাংশ তৎপর হন। সভাপতির পদ থেকে মাহবুবুল আলম পদত্যাগ করেন। ১১ সেপ্টেম্বর পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য মো. হাফিজুর রহমানকে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তাকে ১২০ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত পর্ষদে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ১৪ মাসেও নির্বাচন বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হন। ফলে আজ নতুন করে আবার প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়োগ করা হয় মো. আবদুর রহিম খানকে।

ফের জামায়াত আমির নির্বাচিত হলেন শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২০২৬–২০২৮ কার্যকালের জন্য আমির হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
রোববার (২ নভেম্বর) জামায়াতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ৯ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশের সদস্য (রুকন)-দের ভোটের মাধ্যমে আমির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শেষে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম ভোট গণনা সম্পন্ন করে। এরপর শনিবার রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬–২০২৮ কার্যকালের জন্য সর্বাধিক ভোট পেয়ে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হন।
ডা. শফিকুর রহমান ২০১৯ সাল থেকে জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি ব্যাপক চাঙা হয়ে ওঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আমির। ডা. শফিকুর রহমানের বিভিন্ন বক্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে তার কোনো কোনো বক্তব্য নিয়ে সমালোচনাও হয়।

ধানের শীষের সঙ্গে লড়াই হবে শাপলা কলির

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, নির্বাচনী প্রতীক নির্ধারণ ও নিবন্ধনের প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে দলীয় স্বার্থ বিবেচনায় ইসির প্রস্তাবিত প্রতীক ‘শাপলা কলি’ গ্রহণ করে দ্রুত নির্বাচনের মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
দলটির নেতারা জানিয়েছেন, তারা এককভাবে ৩০০ আসনে নির্বাচন করবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে শাপলা কলির।
রোববার (২ নভেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক।
নির্বাচন কমিশনকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং কমিশন’ আখ্যা দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রতীক নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইসি স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছে। নির্বাচন কমিশন খুব ধীরগতিতে চলাফেরা করছে। আমরা অনেক আগে আবেদন করেছিলাম, এ পর্যন্ত তারা কোনো সমাধান করতে পারেনি। …নির্বাচন কমিশনকে যদি সংক্ষিপ্ত শব্দে বলতে বলেন, আমরা এটাকে নির্বাচন কমিশন বলতে পারি না বা ইলেকশন কমিশন বলতে পারি না। এটাকে ইঞ্জিনিয়ারিং কমিশন বলতে পারি। ইসি প্রথমে বেশ কিছু ‘অজাতীয়’ প্রতীক (যেমন- বেগুন, খাট) বাদ দিলেও পরে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকটি অন্তর্ভুক্ত করেছে। ইসি এক ধাপ এগিয়ে চিন্তা করে ‘শাপলা’ প্রতীকের সঙ্গে ‘কলি’ যুক্ত করেছে, যা আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি। দ্রুত নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শেষ করে প্রতীক নিয়ে মাঠে নামার কথাও জানান তিনি।
বিএনপির সঙ্গে জোটের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওঠা গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে। আমাদের বিশ্বাস, ‘ধানের শীষ’ ও ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের মধ্যে আগামী নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বড় দলগুলো ছোট দলগুলোকে নিজস্ব প্রতীকের অধীনে কুক্ষিগত করে বাংলাদেশে একদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ভবিষ্যতে বিএনপির সঙ্গে এনসিপি জোটবদ্ধ হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে বিএনপিকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি অবশ্যই ছেড়ে আসতে হবে এবং সংস্কারের পক্ষে থাকতে হবে। একইভাবে জামায়াতে ইসলামী যদি ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ এবং ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি থেকে সরে আসে, তবে সে বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। তবে আমরা আপাতত জোটের কোনো চিন্তা করছি না। আমরা বলেছিলাম যদি বিএনপি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এগুলো ছেড়ে আসে এবং সংস্কারে তারা পক্ষে থাকে, সেটা আমরা ভেবে দেখব।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মাঠ পর্যায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই এবং ইসি তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
অন্য দলের জোট সঙ্গীরা হামলার শিকার হচ্ছে বলে এসময় উল্লেখ করে তিনি।
আইন মন্ত্রণালয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে ‘গোপন প্রেমের কারখানা’ তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, এটি গণতন্ত্রের যাত্রা ব্যাহত করছে।
গণভোট নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতকে মুখোমুখি অবস্থানে না থাকার আহ্বান জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কারণ এতে নির্বাচন পেছানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। গণভোট নির্বাচনের দিন বা আগে হলেও ফলাফল একই হবে।

টানা বর্ষণ-তুষার ঝড়ে এভারেস্টে আটকা কয়েক শ’ পর্যটক

টানা বর্ষণ, তুষারপাত ও ঝড়ো আবহাওয়ার জেরে নেপালের এভারেস্ট অঞ্চলে আটকা পড়েছেন কয়েক শ’ পর্যটক। শনিবার ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট (উচ্চতা ২৯ হাজার ৩১ ফুট) নেপালের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় কোশি প্রদেশেল সোলুখুম্বু জেলার লুকলা অঞ্চলে। সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, টানা তিন দিন ধরে বর্ষণ ও তুষারপাত হচ্ছে লুকলায়। মেঘলা আকাশ ঝড়ো আবহাওয়া ও থেমে থেমে তুষারপাত-বর্ষণের কারণে দৃশ্যমানতা অনেক কমে গেছে। এ কারণে গত তিন দিন ধরে লুকলা বিমানবন্দরে বন্ধ আছ বিমান চলাচল। বহু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে গত ৩ দিনে।
সোলুখুম্বু জেলার সহকারী প্রধান জেলাকর্তা সুরেন্দ্র থাপা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআইকে জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিতে দৃশ্যমানতা কম থাকার কারণে বৃহস্পতিবার থেকে বিমান চলাচল বন্ধ আছে লুকলা বিমানবন্দরে। ফলে তিন দিন আগে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে ট্রেকিং সেরে যে সব ট্রেকার ও পর্যটক লুকলায় ফিরে এসেছিলেন, তারা কাঠমান্ডুতে যাওয়ার কোনও ফ্লাইট পাননি।
পিটিআইকে সুরেন্দ্র বলেন, “পর্যটনের মৌসুমে প্রতি দিন কয়েক ডজন বিমান চলাচল করে। কিন্তু এখন সব ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে লুকলা এবং আশপাশের হোটেলগুলো পর্যটকে ভরে গিয়েছে। অনেকেই হোটেলে জায়গা পাচ্ছেন না।”
নেপালের বিমান পরিষেবা সংস্থা তারা এয়ারলাইন্সের লুকলা বিমানবন্দরের ইনচার্জ অমৃত মাগার জানিয়েছেন, তাঁদের বিমান সংস্থা থেকে টিকিট বুক করেছিলেন অন্তত এক হাজার ৫০০ জন পর্যটক। তারা সবাই লুকলায় আটকে পড়েছেন। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আপাতত ভারী বৃষ্টি এবং তুষারপাত থামার কোনও সম্ভাবনা নেই, বরং আগামী দু’দিন কোশিসহ অন্যান্য কিছু পাহাড়ি এলাকায় আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

 

লেবাননে ব্যাপক হামলা চালানোর হুমকি ইসরায়েলের

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। শক্তিশালী এ সশস্ত্র গোষ্ঠী আবারও নিজেজের সংগঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে লেবাননের হামলা বৃদ্ধির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।
রোববার (২ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে এ দখলদার বলেছেন, “হিজবুল্লাহ আগুন নিয়ে খেলছে এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট এতে জড়িত হচ্ছেন। লেবাননের সরকার কথা দিয়েছিল হিজবুল্লাহকে তারা নিরস্ত্র ও সীমান্ত থেকে সরিয়ে দেবে। তাদের এ কথা অবশ্যই রাখতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমনকি হামলা জোরদার করা হবে। আমরা ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে কোনো হুমকি থাকতে দেব না।”
ইসরায়েলি হামলায় গতকাল শনিবার লেবাননে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর এ হুমকি দিলো দখলদাররা।
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে বিক্ষিপ্ত হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। যা ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে পূর্ণ যুদ্ধে পরিণত হয়। ওই সময় হিজবুল্লাহর সাবেক প্রধান নেতা হাসান নাসরুল্লাহসহ বেশিরভাগ নেতাকে হত্যা করে ইসরায়েল।
তাদের হামলায় অনেক বেসামরিক মানুষও প্রাণ হারান। এরপর হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে গত বছরে নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি হয়। তা সত্ত্বেও লেবাননের বিভিন্ন জায়গায় তারা হামলা অব্যাহত রাখে। যা এখনো চলছে।
এরমধ্যে গত সপ্তাহে লেবাননে অনুপ্রবেশ করে একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে এক সরকারি কর্মচারীকে হত্যা করে দখলদার সেনারা। এরপর লেবাননের প্রেসিডেন্ট সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলি সেনারা যেন কোনোভাবে আর লেবাননে প্রবেশ করতে না পারে।