Home Blog Page 264

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করতে যমুনায় তিন বাহিনী প্রধান

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধানরা যমুনায় গিয়েছেন। তারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে’ বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই বৈঠক শুরু হতে পারে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জানা যায়, এটি প্রধান উপদেষ্টার কল অন কোনো বৈঠক নয়। তিন বাহিনীর প্রধানরা নিজেরা আলোচনা করে প্রধান উপদেষ্টার কাছে যাচ্ছেন।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বেশ আগে থেকেই তিন বাহিনীর প্রধানদের একটি বৈঠকের শিডিউল ঠিক করা ছিল। তবে আজকের বৈঠক কী বিষয়ে এবং কী আলোচনা হবে, সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ১৮ নভেম্বর: ইসি সচিব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বড় ধরনের পরিবর্তন এলো ভোটার তালিকায়। দেশে এখন মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন। দুই মাসের ব্যবধানে নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ১৩ লাখ ৪ হাজার ৮৮০ জন।
রোববার (০২ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, আগামী ১৮ নভেম্বর এই সংশোধিত ভোটার তালিকাটি চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হবে। এই তালিকাকে ভিত্তি করেই অনুষ্ঠিত হবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
নির্বাচন কমিশন এক বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ভোটার তালিকা প্রকাশ করলো। তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন। গত দুই মাসে ভোটার বেড়েছে ১৩ লাখ ৪ হাজার ৮৮০ জন। এই মোট ভোটারের মধ্যে ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৩৮২ পুরুষ, ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৭২ নারী এবং ১ হাজার ২৩০ জন হিজড়া। ভোটার হালনাগাদের এই প্রক্রিয়া কমিশনের নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ। সর্বশেষ হালনাগাদ শেষে এই নতুন সংখ্যা নিয়েই নির্বাচন কমিশন ভোটের আয়োজন করবে ইসি।
একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ নভেম্বরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এ সংক্রান্ত আর কোনো সংশোধনের সুযোগ থাকবে না।

 

ঠাকুরগাঁওয়ে ভ্যাকসিন সংকটে জটিল রোগ সংক্রমণের শঙ্কা

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভ্যাকসিন নিতে এসেছেন বাবা ও কন্যা। কারণ হাসপাতালে আসার একটু আগেই বাসায় শখের বিড়ালকে খাবার খাওয়াতে গিয়ে দুজনকেই কামড় দিয়েছে পোষা টম (বিড়াল)। তাই ভবিষ্যতে জটিল কোনো রোগে আক্রান্তের শঙ্কা থেকে হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে দিগ্বিদিক ছুঁটছেন বাবা ও কন্যা।

সম্প্রতি জেলার সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দেখা মিলে এমন দৃশ্য। রক্তাক্ত আঙুল নিয়ে ব্যথায় কাতরাচ্ছেন বাবা-মেয়ে দুজনেই। সময়মতো ভ্যাকসিন না দিতে পারলে নিজেদের দেহে বাসা বাঁধতে পারে জটিল কোনো মরণঘাতী রোগ। এ সময় মেয়ের ওপর মেজাজ হারাতেও দেখা গেছে এই পিতাকে। কেননা মেয়ের শখের পোষা বিড়ালের কারণেই আজকের এই জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন না থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। তাই মাঝে মধ্যে অবস্থা দেখে অগ্রাধিকার ভেদে ভ্যাকসিনের সেবা দিতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী এ বছরের মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুধু বিড়ালের আচড় ও কামড়ের জন্য ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে ৩ হাজার ৫৯৫ জনকে। যা অসাবধানতা এবং অসচেতনাতার কারণে দশ ও দেশের সম্পদের অপচয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদি এ নিজেদের পোষা প্রাণীকে রোগ প্রতিরোধক ভ্যাকসিন দিয়ে দেওয়া হতো তাহলে এ পরিমাণ ভ্যাকসিন হাসপাতালে মজুত থাকত।

এদিকে এ বছরের মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কুকুর, শিয়ালের আক্রমণে ১ হাজার ১৯২ জনকে ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে বিড়ালের কামড় বা আচড়ের রোগীর সংখ্যা বেশি যার কারণে ভ্যাকসিন সে খাতেই বেশি অপচয় হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে এমনো সময় মোকাবিলা করতে হচ্ছে কোনো পথিক রাস্তায় কুকুরের আক্রমণের শিকার হলেন, অথচ ভ্যাকসিন সেবাটা বিনামূল্যে তিনি পেলেন না। কারণ বিড়ালের আক্রমণের রোগী এত বেশি যে অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণের রোগীদের বাহির থেকে ভ্যাকসিন ক্রয় করতে হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আহ্বান জানান, যারা শখের বসে বিড়াল পালন করছেন তারা যদি একটু সচেতন হয়ে বিড়ালকেই ভ্যাকসিন দেয় তাহলে এত ঝুঁকি থাকে না। শুধু সচেতন না হওয়ার কারণে বিড়ালের ভ্যাকসিন নিজেদের নিতে হচ্ছে। এতে করে দেশ ও দশের ক্ষতি হচ্ছে। একটু সচেতন হলে হাসপাতালে ভ্যাকসিনের সংকট হয় না। আমরা সবাইকে আহ্বান করব যারা বিড়াল পালন করছেন বা কুকুর পালন করছেন তারা যেন ওই প্রাণীকে ভ্যাকসিন দিয়ে দেন।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, বিড়ালের কামড়ে সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন (র্যাবিস টিকা) না নিলে সবচেয়ে মারাত্মক যে রোগটি হতে পারে তা হলো র্যাবিস বা হাইড্রোফোবিয়া। এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে এবং চিকিৎসা না নিলে প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রেই মৃত্যু ঘটে।

বিড়াল, কুকুর, শিয়াল, বাদুড় ইত্যাদি প্রাণীর লালা থেকে র্যাবিস ভাইরাস সংক্রমিত হয়। কামড়, আঁচড় বা খোলা ঘায়ে বিড়ালের লালা লাগলে ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

চিকিৎসা হিসেবে বলা হচ্ছে রোগটি একবার শুরু হলে কার্যকর কোনো চিকিৎসা নেই। তাই কামড়ের পরপরই ভ্যাকসিন নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

ভ্যাকসিন নিতে আসা নিহা আক্তার বলেন, আমি বিড়াল খুবই পছন্দ করি। বিড়ালকে খাবার দিতে গিয়ে আঙুলে কামড়ে দিয়েছে। এখন ভ্যাকসিন নিতে এসেছি। আমার ভুল হয়েছে। বিড়ালকে আগেই ভ্যাকসিন দিলে এমন দিন দেখতে হতো না। আমি ভ্যাকসিন নিয়েছি। আমার মতো যারা বিড়াল পোষেণ তারা যেন অবশ্যয় বিড়ালকে ভ্যাকসিন দেন।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রকিবুল আলম বলেন, অত্র হাসপাতালে জলাতঙ্কের পোস্ট এক্সপোজার ভ্যাকসিন নিতে আসা রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিড়ালের আঁচড়ে আগত রোগীর সংখ্যা কুকুরের আঁচড়, কামড়ে আগত রোগীর সংখ্যার প্রায় তিনগুণ। এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পোষা বিড়াল নাড়াচাড়া করার কারণেই এটি ঘটে। সে ক্ষেত্রে পোষা বিড়াল বা কুকুরের আগে থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া থাকলে এই সংখ্যক ভ্যাকসিন রাস্তার কুকুর, বিড়াল অথবা শিয়ালের কামড়ে ব্যবহার করা সম্ভব। এতে করে এই হাসপাতালে ভ্যাকসিন সংকট ও কেটে যাবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: ইজাহার আহমেদ খান বলেন, জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে আমরা সমস্ত উপজেলা গুলোতে প্রচারণা চালাচ্ছি। সচেতন করছি এবং বিনামূল্যে প্রাণীদের ভ্যাকসিন সেবাও দিচ্ছি।

বিদেশ থেকে কেনা মোবাইল নিবন্ধনে গুরুত্বারোপ ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যবের

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব বিদেশ থেকে আনা মোবাইল নিবন্ধনে গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, এ ধরনের নিবন্ধন বিশ্বব্যাপী একটি আদর্শ চর্চা।

আজ শুক্রবার ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে আনা মোবাইল অবশ্যই নিবন্ধিত হতে হবে এবং এটি সারাবিশ্বে একটি সাধারণ নিয়ম।

তিনি লিখেছেন, এটি বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে রয়েছে ভুল সিম নিবন্ধন, ভুল এমএফএস নিবন্ধন, সিম সম্পর্কিত অপরাধ, মোবাইল অর্থায়ন সম্পর্কিত অপরাধ, অনলাইন জুয়া এবং প্রতারণা, অবৈধ ক্লোন করা মোবাইল সম্পর্কিত অপরাধ, পেটেন্ট এবং প্রযুক্তিগত রয়্যালটি পরিশোধ না করা, ভ্যাট এবং শুল্ক ফাঁকি দেওয়া, ভারত ও চীন থেকে মোবাইল অবৈধভাবে আমদানি প্রতিরোধ, লাগেজ পার্টি এবং সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধ ও স্থানীয় হ্যান্ডসেট উৎপাদন শিল্পের সুরক্ষার বিষয়।

তিনি আরো বলেন, আপনারা বিদেশ থেকে মোবাইল যথাযথ নিয়ম মেনে আনবেন এবং সেই অনুযায়ী নিবন্ধন করবেন।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) দেশব্যাপী মোবাইল ব্যবহারকারীদের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের হ্যান্ডসেটের বৈধতা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে। ওইদিন থেকে সরকার সব অবৈধ এবং ক্লোন করা ডিভাইসগুলোর জাতীয় মোবাইল নেটওয়ার্কে অ্যাক্সেস নিষিদ্ধ করবে।

ফয়েজ লিখেছেন, যদি আপনার (ব্যবহারকারীর) নামে নিবন্ধিত সিমটি এমন কোনো মোবাইলে ব্যবহার করা হয় যা ক্লোন করা হয়নি, তাহলে আপনাকে কখনোই কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না। এজন্য আপনার সিমটি নিজের নামে নিবন্ধিত রাখুন।

তিনি আরো বলেন, আপনার ব্যবহৃত সিমটি যদি আপনার নিজের নামে নিবন্ধিত হয়, তাহলে (হ্যান্ডসেটের) নিবন্ধন প্রক্রিয়া খুবই সহজ।

তৈয়্যব বলেন, আমরা ক্লোন করা, অবৈধভাবে আমদানি করা এবং চোরাচালান মোবাইল বন্ধ করব।

তিনি বলেন, প্রবাসীরা নিয়ম মেনে বিদেশ থেকে এক বা দু’টি মোবাইল বিনা শুল্কে আনতে পারবেন এবং সেই অনুযায়ী নিবন্ধন করতে পারবেন। এতে কোনো জটিলতা থাকবে না। দু’টির বেশি মোবাইলের জন্য এনবিআরের অধীনে পৃথক নিয়ম রয়েছে, যার জন্য ফি প্রয়োজন, এটি বিদ্যমান নিয়ম।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পরামর্শ চেয়ে বলেছেন, সাধারণ নাগরিকদের জন্য নিবন্ধন, নিবন্ধন বাতিল এবং পুনঃনিবন্ধনের প্রক্রিয়াগুলো কীভাবে সহজ করা যায় সে সম্পর্কে যৌক্তিক পরামর্শ দিন।

১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর চালু হচ্ছে, তাই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেট অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কিছু প্রক্রিয়া চালু করেছে।

নতুন হ্যান্ডসেট কেনার আগে যা করবেন : যেকোনো উৎস থেকে খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র, অনলাইন বিক্রয় কেন্দ্র, অথবা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকে মোবাইল হ্যান্ডসেট কেনার আগে আপনাকে নীচে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করে হ্যান্ডসেটের বৈধতা যাচাই করতে হবে এবং ক্রয়ের রসিদটি নিরাপদে রাখতে হবে।

হ্যান্ডসেটটি বৈধ হলে, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআর সিস্টেমে নিবন্ধিত হবে।

ধাপ ১ : আপনার মোবাইল মেসেজ অপশনে যান এবং KYD <space> 15-msL¨vi IMEI নম্বর টাইপ করুন।

উদাহরণস্বরূপ : KYD 123456789012345|

ধাপ ২ : বার্তাটি ১৬০০২ নম্বরে পাঠান।

ধাপ ৩ : হ্যান্ডসেটের বৈধতা সম্পর্কে আপনাকে একটি ফিরতি বার্তা পাঠানো হবে।

বিদেশ থেকে উপহার হিসেবে কেনা বা প্রাপ্ত মোবাইল হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন প্রক্রিয়া :

বিদেশ থেকে বৈধভাবে কেনা বা উপহার হিসেবে প্রাপ্ত হ্যান্ডসেট প্রাথমিকভাবে মোবাইল নেটওয়ার্কে সক্রিয় থাকবে। ব্যবহারকারীকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইনে জমা দেওয়ার জন্য একটি এসএমএস নির্দেশনা দেওয়া হবে। জমা দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের পর কেবল বৈধ হ্যান্ডসেটগুলো নিবন্ধিত হবে এবং নেটওয়ার্কে সক্রিয় থাকার অনুমতি দেওয়া হবে।

বিদেশ থেকে উপহার হিসেবে কেনা বা প্রাপ্ত মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের পদ্ধতি নিম্নরূপ :

ধাপ ১: neir.btrc.gov.bd লিঙ্কটিতে প্রবেশ করুন এবং আপনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।

ধাপ ২: পোর্টালের ‘বিশেষ নিবন্ধন’ বিভাগে যান এবং হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর লিখুন।

ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় নথিপত্রের স্ক্যান কপি বা ছবি আপলোড করুন (যেমন ভিসা/ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্প, ক্রয়ের রসিদ ইত্যাদি দেখানো পাসপোর্ট পৃষ্ঠা) এবং জমা দিন বোতাম টিপুন।

ধাপ ৪: হ্যান্ডসেটটি বৈধ হলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। হ্যান্ডসেটটি অবৈধ হলে গ্রাহককে এসএমএস-এর মাধ্যমে অবহিত করা হবে এবং ডিভাইসটি নেটওয়ার্ক থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

ইন্টারনেট অ্যাক্সেস নেই এমন ব্যবহারকারীদের জন্য বিটিআরসি মোবাইল অপারেটরদের গ্রাহক সেবা কেন্দ্র এবং ইউএসএসডি কোড *১৬১৬১# এর মাধ্যমে যাচাইকরণ এবং নিবন্ধন সহায়তার ব্যবস্থা করেছে।

কর্মকর্তারা জানান, ১৬ ডিসেম্বরের আগে ব্যবহৃত সব হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে এবং বিদ্যমান ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা কোনো প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না।

দেশের জন্য আরো নিরাপদ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম নিশ্চিত করতে, জালিয়াতি, চুরি এবং সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সহায়তার জন্য বিটিআরসি গ্রাহকদের শুধু যাচাইকৃত আইএমইআই নম্বরসহ হ্যান্ডসেট ব্যবহার করার জন্যও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

এর আগে বুধবার বিটিআরসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব ঘোষণা করেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় সরঞ্জাম পরিচয় নিবন্ধন (এনইআইআর) পরিষেবা চালু হতে চলেছে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, এনইআইআর সিস্টেম চালু হলে মোবাইল হ্যান্ডসেট এবং সিম-সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান টেলিকম নেটওয়ার্ক নীতিমালার আলোকে নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের ৩৮ শতাংশ মোবাইল ব্যবহারকারী ফিচার ফোন ব্যবহার করেন উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বাজারে চুরি যাওয়া এবং সংস্কার করা হ্যান্ডসেটের উপস্থিতি মোবাইলের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এনইআইআর সিস্টেম কার্যকর হওয়ার পর দেশের ১৮টি কোম্পানি যারা স্থানীয়ভাবে মোবাইল হ্যান্ডসেট তৈরি করে, তারা আরো প্রতিযোগিতামূলক দামে তাদের পণ্য বিক্রি করতে সক্ষম হবে।

এনইআইআর সিস্টেম চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বিটিআরসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মোবাইল ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (এমআইওবি) সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, স্থানীয় মোবাইল হ্যান্ডসেট নির্মাতারা ভবিষ্যতে কেবল অভ্যন্তরীণ চাহিদাই পূরণ করবে না, বরং বিদেশেও হ্যান্ডসেট রপ্তানি শুরু করবে।

এনইআইআর বাস্তবায়নে মোবাইল অপারেটরদের দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করে অ্যাসোসিয়েশন অফ মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অফ বাংলাদেশের মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, এনইআইআর সিস্টেম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সব স্টেকহোল্ডারদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

এখনই বিয়ে নয়, আরও অনেক দূর যেতে চাই: পূজা চেরি

ঢালিউড অভিনেত্রী পূজা চেরি বেশ কিছু দিন সিনেমা থেকে অনেকটা দূরে ছিলেন। সম্প্রতি ‘চোরাবালি’খ্যাত নির্মাতা রেদওয়ান রনির পরিচালনায় ‘দম’ সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন। এই প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অভিনয় করবেন অভিনেতা আফরান নিশোর সঙ্গে। এ সিনেমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করবেন চঞ্চল চৌধুরীও। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাস্যরসের মধ্যেই নিজের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি শেয়ার করে নেন পূজা চেরি।

‘দম’ সিনেমাটি নিয়ে অনেক দিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জানিয়ে পূজা চেরী বলেন, এটি আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি সিনেমা। কারণ এ কাজটি আমি খুব সহজে পাইনি। অনেক কাঠখড় পুড়িয়েই আমি নির্বাচিত হয়েছি।

এই প্রথমবারের মতো সহশিল্পী হিসাবে আফরান নিশোকে পেয়ে অভিনেত্রী বলেন, নিশো ভাইয়ার সঙ্গে এটি আমার প্রথম কাজ হওয়াতেই আমি ভীষণ এক্সাইটেড। কারণ তিনি অসাধারণ একজন অভিনেতা। তার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা আগে থেকেই ছিল। এছাড়া এ সিনেমায় চঞ্চল ভাইও রয়েছেন। যার সঙ্গে ছোটবেলায় কাজ করেছি।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কথা বলেন পূজা চেরী। বিয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনই এসব ভাবছি না। বিয়ে মানেই জীবনের একটি পার্ট শেষ। এখন আমি ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছি, তারপর বিয়ে। অভিনেত্রী বলেন, আপাতত সিনেমা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চাই। আমার কাছে মনে হয়- আমার এখনো অনেক কাজ করার বাকি রয়েছে। আরও অনেক দূর যেতে চাই। বহুদূর না গিয়ে বিয়েটা করে ফেললে মাঝপথেই তো আটকে গেলাম।

উল্লেখ্য, সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে সিনেমা ‘দম’। এটি পরিচালনা করছেন রেদওয়ান রনি। গত বুধবার রাজধানীর গুলশান শুটিং ক্লাবে এ মহরত অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ঈদুল ফিতরে ‘দম’ সিনেমাটি মুক্তির লক্ষ্যে দ্রুতই শুটিংয়ে শুরু করবেন নির্মাতা। এ সিনেমার গল্পটি সার্ভাইভাল ঘরানার।

উন্নত জীবনের খোঁজে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমানো প্রবাসীদের কঠিন সংগ্রামই এ সিনেমার মূল বিষয়বস্তু। তবে এ সিনেমার জন্য প্রথমে সৌদি আরব ও জর্ডানে শুটিংয়ের পরিকল্পনা থাকলেও নির্মাতারা এখন কাজাখস্তানে দৃশ্যায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ‘দম’ সিনেমায় পূজা চেরী ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, আফরান নিশো প্রমুখ।

৫২-তে সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ৫২-তে পা দিলেন। কিন্তু অনন্য সৌন্দর্যের প্রতীক এ অভিনেত্রীকে দেখে তা বোঝার উপায় নেই যে, তার বয়স নির্দিষ্ট একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে। সৌন্দর্য, মাধুর্য আর আত্মবিশ্বাস মিলিয়ে এখনো যেন নব্বই দশকের সেই হম্বিতম্বি তরুণী ঐশ্বরিয়া রাই। বয়স বাড়ছে, কিন্তু দীপ্তি কমছে না। ঐশ্বরিয়া প্রমাণ করেছেন, সত্যিকারের সৌন্দর্য কখনো ম্লান হয় না, তা থেকে যায় চোখে ও মননে আর অনুপ্রেরণায়।

অভিনেত্রীর ৫১ পেরিয়ে গেলেও সময় যেন তাকে স্পর্শই করতে পারেনি। সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাসে তিনি এখনো নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা- আইকোনিক। সৌন্দর্যের সংজ্ঞা সময়ের সঙ্গে বদলায়, কিন্তু কিছু নাম সময়কেও হার মানিয়ে দেয়। ঠিক তেমনই ‘ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন’। তার জন্মদিনে সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছার বন্যা বইছে, ভক্তরা বলছেন- ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, সময় তোমার কাছে হার মানিয়েছে।

১৯৯৭ সালে তামিল নির্মাতা মনিরত্নমের ‘ইরুভার’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় এ সাবেক বিশ্বসুন্দরীর। একই বছর বলিউডে আত্মপ্রকাশ ‘ওর পেয়ার হো গয়া’ সিনেমায়। শুরুটা ছিল খানিক মৃদু, কিন্তু ১৯৯৯ সালে ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ তাকে পৌঁছে দেয় বলিউডের প্রথম সারিতে। এরপর একে একে ‘তাল’, ‘দেবদাস’, ‘জোধা আকবর’, ‘গুরু’, ‘ধূম ২’, ‘রেইনকোট’ সিনেমায় অভিনয়ের নৈপুণ্যে প্রমাণ করেন, তিনি কেবল রূপের নয়, প্রতিভারও প্রতীক। বিশেষ করে ‘দেবদাস’-এ পারো চরিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় আজও দর্শকদের হৃদয়ে ঝড় ওঠে।

দক্ষিণী-বলিউডের সীমা ছাড়িয়ে একসময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন ঐশ্বরিয়া রাই। ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, ‘দ্য পিঙ্ক প্যান্থার ২’র মতো হলিউড প্রজেক্টে কাজ করেছেন তিনি। কান চলচ্চিত্র উৎসবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভারতের মুখ হয়ে উঠেছেন। তার রেড কার্পেট উপস্থিতি এখন এক ঐতিহ্যের প্রতীক।

এছাড়া ঐশ্বরিয়া লরিয়েল প্যারিসের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও পরিচিত। পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় তিনি। তার প্রতিষ্ঠিত ‘ঐশ্বরিয়া রাই ফাউন্ডেশন’ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও অসহায় শিশুদের নিয়ে কাজ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

উল্লেখ্য, কর্নাটকের মঙ্গলুরুতে জন্ম ঐশ্বরিয়া রাইয়ের। ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল স্থপতি হওয়ার, কিন্তু ভাগ্য লিখেছিল অন্য গল্প। নব্বই দশকের শুরুতে বিজ্ঞাপনচিত্র আর মডেলিং দিয়ে যাত্রা শুরু তার। ১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব জয় করে রাতারাতি আলোচনায় আসেন তিনি। সেই থেকে শুরু হয় তারকাখ্যাতির পথচলা। ২০০৭ সালে ঐশ্বরিয়া বিয়ে করেন বলিউড তারকা অভিষেক বচ্চনকে। কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চনের পুত্রবধূ হিসেবে তিনি যোগ দেন বলিউডের সবচেয়ে সম্মানজনক পরিবারগুলোর একটিতে। ২০১১ সালে জন্ম নেয় তাদের কন্যা আরাধ্যা বচ্চন। সংসার, মাতৃত্ব ও ক্যারিয়ার- সবকিছুই তিনি সামলাচ্ছেন সমান দক্ষতায়।

মাতৃত্বের পর কিছু দিন বিরতি নিলেও ঐশ্বরিয়া ফিরে এসেছেন আরও উজ্জ্বল রূপে। ‘জজবা’, ‘সর্বজিত’, ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’, এবং সাম্প্রতিক ‘পোন্নিয়িন সেলভান’ সিরিজে তার পর্দা-উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। মণিরত্নমের এই দক্ষিণী কাহিনিতে নন্দিনী চরিত্রে তার উজ্জ্বল উপস্থিতি প্রমাণ করেছে- অভিনয়ে তিনি আগের মতোই অনবদ্য।

ঐশ্বরিয়া শুধু সুন্দর মুখ নয়, বরং এক অনুপ্রেরণার নাম। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সৌন্দর্য মানে নিখুঁত হওয়া নয়, বরং নিজের অসম্পূর্ণতাকেও ভালোবাসা। এ দৃষ্টিভঙ্গিই তাকে আলাদা করেছে। তার চোখে মুগ্ধতা, কথায় সংযম, আর আচরণে অনুগ্রহ- সব মিলিয়ে তিনি সৌন্দর্যের এক জীবন্ত প্রতিমূর্তি।

গামিনির সঙ্গে চুক্তি বাতিল বিসিবির

কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার সঙ্গে ১৫ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে বোর্ড। থেকেই তিনি আর দায়িত্বে থাকছেন না বলে জানিয়েছেন। চুক্তি বাতিল করায় নিয়ম অনুযায়ী, তাকে দুই মাসের বেতন দিতে হচ্ছে বিসিবির।

লঙ্কান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার সঙ্গে সর্বশেষ এক বছরের চুক্তি নবায়ন করেছিল বিসিবি। এর মধ্যে টমি হেমিংয়ের সঙ্গে চুক্তি করে বোর্ড। এরপর গামিনিকে রাজশাহী পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনি ঢাকা ফিরে বিসিবির থেকে দেনা-পাওনা বুঝে নিয়ে চলে যাবেন।

বিসিবি বলেছে, ‘গামিনির সঙ্গে চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, যদি আমরা শেষ বছরে এসে তাকে রাখতে না চাই, সেক্ষেত্রে দুই মাসের বেতন দিতে হবে। আমরা তাকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দিয়ে সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

গামিনিকে ২০১০ সালে বিসিবির প্রধান কিউরেটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চাকরির অধিকাংশ সময় তিনি মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে কাজ করেছেন। বিসিবির ইতিহাসে এক মাঠের উইকেট নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা একমাত্র কিউরেটর তিনি।

মিরপুরের উইকেট ধীর ও নিচু হওয়ার কারণে ভালো রান না হওয়ায় তিনি বিগত বছরগুলোতে সমালোচনার শিকার হয়েছেন। উইকেটে উন্নতি আনতে বিসিবি মাঝখানে টমি হেমিংকে নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু গামিনি তাকে ঠিকঠাক সহযোগিতা না করায় এবং সম্পর্কে অবনতি হওয়ায় চাকরি ছেড়ে যান হেমিং।

ওই হেমিংকে নতুন করে নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। জানা গেছে, লঙ্কান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার ছেলে স্পেনে বসবাস করেন। বিসিবির সঙ্গে দায়িত্ব শেষ হওয়ায় তিনি ছুটি কাটাতে ছেলের কাছে স্পেনে যাবেন।

স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলার ছুঁতে পারে

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বগতি এখনো অটুট রয়েছে। যদিও সম্প্রতি ইতিহাসের অন্যতম বড় সাপ্তাহিক পতন ঘটেছে। মালয়েশিয়ার ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংক (ইউওবি) পূর্বাভাস দিয়েছে, নিরাপদ বিনিয়োগ ও বহুমুখীকরণের চাহিদা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে (এক আউন্স ২ দশমিক ৪৩০৫ ভরি)।

ইউওবি জানায়, সাম্প্রতিক বিক্রয়চাপ কোনো বিপদ নয় বরং এটি ‘সঠিক ও প্রয়োজনীয় সংশোধন’, যা অতিরিক্ত জল্পনামূলক বিনিয়োগ ঠাণ্ডা করবে এবং পরবর্তী স্থিতিশীল ঊর্ধ্বগতির পথ তৈরি করবে।

গত ২০ অক্টোবর স্বর্ণের দাম প্রায় আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৪০০ ডলার থেকে এক সপ্তাহে নেমে আসে ৩ হাজার ৯০০ ডলারের নিচে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন। এর আগে আগস্টে দাম ৩ হাজার ৫০০ ডলারের বাধা ভেঙে তিন মাসে প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছিল।

ইউওবি জানায়, এই পতন ‘খুবই প্রয়োজনীয়’ ছিল, কারণ বছরের মাঝামাঝি থেকে অতিরিক্ত ‘লং পজিশন’ তৈরি হয়েছিল, যা বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল।

ব্যাংকের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রমবর্ধমান স্বর্ণসংগ্রহ এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ মাধ্যমে (বুলিয়ন, ফিউচার ও ইটিএফ) টাকার প্রবাহের কারণে স্বর্ণের মৌলিক চাহিদা এখনো শক্তিশালী।

বর্তমানে স্বর্ণের ইটিএফ হোল্ডিং প্রায় ১০ কোটি আউন্স, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চীনের সাংহাই ফিউচার এক্সচেঞ্জে গত জুলাইয়ে মজুদ ছিল ২০ টন, যা এখন বেড়ে ৯০ টন হয়েছে।

ব্যাংকটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘ডি-ডলারাইজেশন’ ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগের চাহিদা আরও বাড়ছে।

ব্যাংক মুয়ামালাত মালয়েশিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহদ আফজানিজাম আবদুল রশিদ বলেছেন, ‘এই পতন বাজারের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর বিরতি। এটি পরবর্তী স্থিতিশীল উত্থানের সুযোগ তৈরি করছে।’

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমহ্রাসমান ক্রেডিট রেটিং ও ডলারের ওপর আস্থা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বিকল্প নিরাপদ সম্পদ খুঁজছেন- আর সেই ক্ষেত্রে স্বর্ণই সেরা বিকল্প।

তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণসংগ্রহ প্রতিবছর গড়ে ২০ শতাংশ হারে বেড়েছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক স্বর্ণচাহিদা ১ হাজার ৩১৩ টনে পৌঁছেছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এ সময়ে ২২০ টন স্বর্ণ কিনেছে, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ২৮ শতাংশ এবং পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি।

ইউওবি সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা থাকতে পারে।

স্ত্রীর ‘ধর্ম পরিবর্তন’ ইস্যুতে সমালোচনার জবাব ভ্যান্সের

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার স্ত্রী উষা ভ্যান্স ক্যাথলিক গির্জার মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে কোনো একদিন খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করবেন বলে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। নিজের এ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিশাল এক পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

জেডি ভ্যান্স বলেন, তার যে মন্তব্য নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটি মূল বক্তব্য থেকে কেটে নেওয়া একটি অংশ। কোন প্রসঙ্গে তিনি ওই মন্তব্য করেছেন, সেটা দেখানো হয়নি।

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে তরুণদের সংগঠন ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’র একটি অনুষ্ঠানে এক তরুণীর প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ভ্যান্স তার স্ত্রী উষা একদিন খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত উষা হিন্দু সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠেছেন।

স্ত্রী একদিন খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করবেন, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করা ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, ভ্যান্সের এ মন্তব্য কি তার স্ত্রীকে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়ার ইঙ্গিত।

জবাব দিতে এক্স পোস্টে ভ্যান্স বলেন, একটি পাবলিক ইভেন্টে তাকে তার আন্তঃধর্মীয় বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি ওই প্রশ্ন এড়িয়ে যেত চাননি, উত্তর দিয়েছেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘প্রথমেই বলি, প্রশ্নটি আসে আমার বাঁ পাশে থাকা একজনের কাছ থেকে, আমার আন্তঃধর্মীয় বিয়ে নিয়ে। আমি একজন পাবলিক ফিগার, লোকজন আমার ব্যাপারে জানতে আগ্রহী এবং আমি প্রশ্নটি এড়িয়ে যেতে চাচ্ছিলাম না।’

নিজের ধর্মবিশ্বাস তার বিশ্ব দেখার দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টে দিয়েছে বলেও জানান ভ্যান্স। তিনি স্ত্রীকে এর কৃতিত্ব দিয়ে বলেন, উষাই বহু বছর আগে তাকে ধর্মের সঙ্গে পুনঃসংযোগ স্থাপন করতে উৎসাহ দিয়েছেন।

ভ্যান্স লেখেন, ‘আমার খ্রিস্টধর্মের প্রতি বিশ্বাস আমাকে বলে যে যিশুখ্রিষ্টের বাণী (গস্পেল) সত্য এবং মানুষের জন্য কল্যাণকর। আমার স্ত্রী আমার জীবনে অসাধারণ আশীর্বাদ, যেমনটি আমি টিপিইউএসএয়ের অনুষ্ঠানে বলেছিলাম। বহু বছর আগে তিনিই আমাকে আমার বিশ্বাসের সঙ্গে পুনঃসংযোগ স্থাপন করতে উৎসাহ দিয়েছিলেন।’

আগের ব্যাখ্যার কথা আবারও উল্লেখ করে জেডি ভ্যান্স আরও বলেন, ‘তিনি (উষা) খ্রিষ্টান নন এবং ধর্ম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনাও নেই। কিন্তু অনেক আন্তধর্মীয় বিয়ে বা যেকোনো আন্তঃধর্মীয় সম্পর্কের মতো আমি আশা করি, একদিন তিনি আমার মতো করে বিষয়গুলো দেখতে পাবেন। সবকিছুর পরও আমি তাকে ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়ে যাব। আমার বিশ্বাস, জীবন ও অন্য সব বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলব। কারণ, তিনি আমার স্ত্রী।’

ওই পোস্টে সমালোচকদের সমালোচনা করে ভ্যান্স লেখেন, ‘এ ধরনের পোস্টগুলো খ্রিষ্টধর্মের বিরুদ্ধে ঘৃণা ফুটিয়ে তোলে। হ্যাঁ, খ্রিষ্টানদের একটি বিশ্বাস রয়েছে এবং হ্যাঁ, সেই বিশ্বাসের কিছু নির্দিষ্ট আচরণও আছে, যার মধ্যে একটি হলো আমরা আমাদের বিশ্বাসকে অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিই। এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বিষয়। যারা এটিকে নিয়ে অন্য রকম বলছেন, তাদের নিশ্চয়ই কোনো উদ্দেশ্য আছে।’

ইয়েল ল স্কুলে লেখাপড়ার সময় ভ্যান্স ও উষার পরিচয় হয়। ২০১৪ সালে তারা বিয়ে করেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত উষার বিয়ের আগের পদবি চুলুকুরি। তিনি প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রে তার সাংস্কৃতিক ও পেশাগত পরিচয়ের সমন্বয় নিয়ে কথা বলেন।

ভ্যান্স ২০১৯ সালে ক্যাথলিক ধর্মে দীক্ষা নেন। উষার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের বিষয়ে তিনি বলেন, তার স্ত্রীর সঙ্গে প্রথম যখন দেখা হয়েছিল, তখন তিনি (ভ্যান্স) নিজেকে সংশয়বাদী (অ্যাগনস্টিক) বা নাস্তিক ভাবতেন। এ দম্পতির তিন সন্তান খ্রিষ্ট ধর্মমতে বেড়ে উঠেছে। তারা খ্রিষ্টান স্কুলে পড়াশোনা করছে।

পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষ তালিকায় মদিনা

সৌদি আরবের মদিনা চেম্বার অব কমার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, অঞ্চলের পর্যটকদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই মদিনাকে প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যটকরা এই শহরকে প্রধান গন্তব্য হিসেবে নির্বাচনের মূল কারণ হলো এর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সাথে গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক। ৭৩.৭ শতাংশ দর্শক মদিনা সফরের জন্য আগ্রহী।
বিশ্বব্যাপী পর্যটন সূচকে মদিনা শীর্ষ ১০০ গন্তব্যের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে এবং মোট পর্যটন কার্যকারিতা সূচকে সপ্তম অবস্থান দখল করেছে। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, মদিনা শুধু আধ্যাত্মিক শহরই নয়, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগত পর্যটকদের ৪৭.২ শতাংশ আল উলা গভর্নরেট সফর করেছেন, যেখানে রয়েছে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান, সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে, দেশীয় পর্যটকদের ১৪.১ শতাংশ ইয়ানবু গভর্নরেট বেছে নিয়েছেন এর সুন্দর সৈকত, সামুদ্রিক বিনোদন এবং পরিবার-বান্ধব পরিবেশের জন্য।
মদিনা চেম্বার অব কমার্স জানিয়েছে, এসব সূচকই মদিনা অঞ্চলের পর্যটন খাতের দ্রুত বৃদ্ধির প্রতিফলন। জাতীয় পর্যটন ব্যবস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গন্তব্য উন্নয়ন এবং সৌদি আরবকে বৈশ্বিক পর্যটন মানচিত্রে আরও দৃঢ় অবস্থানে স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। এটি সৌদি ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রতিবেদনে মদিনা রিজিয়ন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির কার্যক্রমকেও প্রশংসা করা হয়েছে, যারা পর্যটন ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।
তায়েফের বাসিন্দা আহমদ আল-ওতাইবি, যিনি রিয়াদে কর্মরত, আরব নিউজকে বলেন, মদিনা সবসময় আমাদের হৃদয়ের কাছের শহর। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, সবসময় মানুষের আগমন, সব মিলিয়ে মদিনার কোনো তুলনা নেই।
তিনি মদিনা ডেভেলপমেন্ট অথরিটির অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবা বৃদ্ধির কাজের প্রশংসা করেন, যা ধর্মীয় পর্যটন এবং আতিথেয়তা খাতের মান উন্নত করেছে। এর ফলে পর্যটকরা সুবিধা পাচ্ছেন, পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনমানও উন্নত হচ্ছে।
২০২৫ সালের প্রথমার্ধে সৌদি আরবের অন্যান্য শহরের তুলনায় মদিনার হসপিটালিটি সুবিধার হার সর্বোচ্চ ৭৪.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। শহরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত হসপিটালিটি প্রতিষ্ঠানও বৃদ্ধি পেয়েছে। মোট প্রতিষ্ঠান ৫৩৮টি, যার মধ্যে নতুন ৬৯টি। মোট হোটেল কক্ষের সংখ্যা ৬৪,৫৬৯, এর মধ্যে নতুন যোগ হয়েছে ৬,৬২৮ কক্ষ।
এই সব উন্নয়ন কার্যক্রমই মদিনাকে ধর্মীয় পর্যটনের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে এবং শহরের আতিথেয়তা ও সেবা মান বৃদ্ধির মাধ্যমে সৌদি ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হচ্ছে।