Home Blog Page 263

মোংলা বন্দরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা গম খালাস শুরু

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ৬০ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন গমের খালাস গাতকলা রোববার মোংলা বন্দরে শুরু হয়েছে। পরীক্ষাগারে গুণগত মান যাচাই শেষে খালাস কার্যক্রম শুরু হয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মোংলার সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান সরদার জানান, জাহাজটি গত শুক্রবার বিকেলে মোংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় নোঙর করে। চালান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় এবং মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর গম খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, মোট আমদানি করা গমের মধ্যে ৩৫ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন মোংলা খাদ্য গুদামে সংরক্ষণ করা হবে। বাকি অংশ খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহীতে পাঠানো হবে।

তিনি আরও জানান, জাহাজটি আকারে বড় এবং গভীর ড্রাফট থাকায় ফেয়ারওয়ে থেকেই খালাস কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এই কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে নগদ ক্রয় চুক্তির আওতায় গমের এ চালান এসেছে।

মোংলা বন্দরে এ ধরনের বৃহৎ গমের চালান এই প্রথমবার সরাসরি এসেছে। এর আগে গমের চালান চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে মোংলায় পৌঁছাত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র জি-টু-জি ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশ মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি করবে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে তিনটি চালানে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৩৬ মেট্রিক টন গম বাংলাদেশে পৌঁছেছে।

ক্ষমতায় গেলে ভারতের দাদাগিরি বন্ধে গুরুত্ব দেবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

ভারত ১৭ বছরে আমাদের কিছু দেয়নি, বরং নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, ন্যায্য পানির হিস্যা ও আমাদের ওপর পার্শ্ববর্তী দেশের দাদাগিরি বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে সহায়তা করেছিল ভারত। এ হিসেবে এ দেশকে তাদের ভালো কিছু দেওয়ার কথা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য গত ১৭ বছরে তারা কিছু দেয়নি, বরং নিয়ে গেছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত রাবার ড্যাম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা চাই, প্রতিবেশী দেশ ইচ্ছে করলেই আমাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে পারে এবং আমি মনে করি, যেহেতু ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তারা আমাদের সহায়তা করেছেন, তাই আরও বেশি করে আপনাদের বাংলাদেশকে সহায়তা করা দরকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা গত সরকার ও মোদি সরকারের সময় দেখেছি, উল্টো তারা বাংলাদেশির চাপে ফেলেছেন, সব নিয়ে গেছেন, কিন্তু বিনিময়ে আমাদের কিছু দেননি। এটা ছিল আওয়ামী লীগ ও হাসিনা সরকারের ব্যর্থতা- যে তারা কিছু নিতে পারেনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এটা আমাদের রাজনীতি। আমরা বাংলাদেশ নামে যে ভূ-অঞ্চলে বাস করি, এখানকার পুরো পানির হিস্যা, আমাদের সীমান্তে হত্যা, আমাদের ব্যালেন্স অব ট্রেডের সব কিছু ঠিক করা, এই জিনিসগুলোকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।
এ সময় বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিল্প-বাণিজ্যবিষয়ক সহ-সম্পাদক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আমিনুল ইসলামসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এদিকে, বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে এক গণসমাবেশে জামায়াতের উদ্দশে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা খুব পরিষ্কার করে বলছি- আপনারা ভালো হয়ে যান। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতিতো অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছে। কেন মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন। আপনাদের যত বিলবোর্ড দেখলাম, অন্য কোনো দলের তো এত দেখলাম না। যত পোস্টার দেখলাম, অন্য কোনো দলের এতো দেখলাম না। তাহলে কেন মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন। আপনারাতো নির্বাচন করবেন। নির্বাচন না করলে আপনাদের অস্তিত্ব থাকবে না। নির্বাচন করলে আপনারা পরাজিত হবেন, তাই নির্বাচন পেছাতে চান।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টা যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে, এই নির্বাচন হতে হবে। এই নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। এই নির্বাচন দিতে যত দেরি হচ্ছে বাংলাদেশ তত দুর্বল হচ্ছে। জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো সরকার সফলতার সঙ্গে দেশ চালাতে পারে না।

একই দিনে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সংলাপে বসছে ইসি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ আয়োজন করে আসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সংলাপের অংশ হিসেবে ১৯ নভেম্বর (বুধবার) সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বিকালে বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসবে কমিশন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ১৯ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ মাইনোরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), ইনসানিয়াত বিল্পব, এনসিপি, গণসংহতি আন্দোলন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি।

এদিন দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সঙ্গে (বাসদ মার্কসবাদী) সংলাপে বসবে ইসি।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন দমন অভিযান

মার্কিন ফেডারেল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে নর্থ ক্যারোলাইনার সবচেয়ে বড় শহর শার্লটে অভিবাসন দমন অভিযান চলছে। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেককেই গ্রেপ্তার করতে দেখা গেছে। গত শনিবার এক বিবৃতিতে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সহকারী সচিব ট্রিশিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন নথিহীন অভিবাসীদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শার্লটে কর্মকর্তাদের মোতায়েন করছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা যেন সহিংস অপরাধী, অবৈধ বিদেশিদের কারণে নিজেদের, তাদের পরিবার বা তাদের প্রতিবেশীদের ক্ষতির ভয়ে না থাকে।’

‘আমরা শার্লটে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠাচ্ছি, যাতে আমেরিকানরা নিরাপদ থাকে এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন ব্যক্তিদের অপসারণ করা যায়।’

শার্লটে এই অভিযানটি ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন শহরগুলোতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সর্বশেষ অভিবাসন দমন কার্যক্রম।

শার্লটের মেয়র ভি লাইয়েলস ও অন্যান্য কর্মকর্তারা এই অভিযানের নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপগুলো অপ্রয়োজনীয় ভয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।

কাউন্টি কমিশনার মার্ক জেরেল এবং শার্লট-মেকলেনবুর্গ শিক্ষা বোর্ডের সদস্য স্টেফানি স্নিডসহ সই করা ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা চাই শার্লট ও মেকলেনবুর্গ কাউন্টির মানুষ জানুক—আমরা সব বাসিন্দার পাশে আছি, যারা শুধু তাদের দৈনন্দিন জীবন চালিয়ে যেতে চায়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওয়াশিংটন ডিসি-র মতো শহরগুলোতে বড় অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, শার্লট একটি বর্ণগতভাবে বৈচিত্র্যময় শহর, যেখানে ৯ লাখের বেশি মানুষ বাস করে—এদের মধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি বিদেশে জন্মগ্রহণকারী।

২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় এ বছর আগস্ট পর্যন্ত শহরে অপরাধের হার কমেছে। কিন্তু আগস্টে শার্লটের লাইট-রেল ট্রেনে ইউক্রেনীয় শরণার্থী ইরিনা জারুত্সকার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে যে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত শহরগুলো বাসিন্দাদের সুরক্ষায় ব্যর্থ।

বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তাদের টহল ও গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, লস অ্যাঞ্জেলেস ও শিকাগোর মতো শহরে ফেডারেল অভিযান অপরাধ মোকাবিলা ও অভিবাসন আইন প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয়। তবে লাখো অভিবাসীকে বহিষ্কারের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে ও একাধিক মামলা হয়েছে।

নর্থ ক্যারোলাইনার গভর্নর জশ স্টাইন—একজন ডেমোক্র্যাট। তবে তার রাজ্য আইনসভায় রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা। শুক্রবার তিনি বলেন, এই অভিযানে আটক অধিকাংশ ব্যক্তির কখনো কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই, এমনকি কেউ কেউ মার্কিন নাগরিকও।

শার্লটের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের ভয়ে কিছু ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ শার্লটইস্ট-এর নির্বাহী পরিচালক গ্রেগ আসিয়ুট্টো এপিকে ইমেইলে জানান যে, তাদের এলাকার অনেক ব্যবসা বন্ধ ছিল এবং আমরা ভাবছি কীভাবে তাদের টিকিয়ে রাখা যায়, কারণ কতদিন এই পরিস্থিতি চলবে আমরা জানি না।

শার্লটের পূর্বাংশে সিটি কাউন্সিল সদস্য জেডি মাজুয়েরা আরিয়াস বলেন, এটি শুধু অভিবাসীদেরই নয়, মার্কিন নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারের বড় ধরনের লঙ্ঘন।

 

ওমরাহ করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২ ভারতীয় নিহত

সৌদি আরবে ওমরাহ করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪২ জন ভারতীয় নাগরিক। মদিনার কাছে তাদের বহনকারী বাসের সঙ্গে একটি ডিজেল ট্যাঙ্কারের সংঘর্ষে নিহত হন তারা। নিহতদের বেশিরভাগই হায়দরাবাদের বাসিন্দা। খবর গাল্ফ নিউজের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মক্কা থেকে মদিনায় যাওয়ার পথে মুফরিহাটের কাছে ভারতীয় সময় রোববার রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে বাসটির সঙ্গে ডিজেল ট্যাঙ্কারের সংঘর্ষ হয়। সঙ্গে সঙ্গে বাসটিতে আগুন ধরে যায়। নিহত যাত্রীদের মধ্যে হায়দরাবাদের ১১ জন নারী ১০ জন শিশু রয়েছে।

তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকার জানিয়েছে, তারা রিয়াদে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি রিয়াদ দূতাবাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করার নির্দেশ দিয়েছেন।

হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়াইসি বলেন, আগুন লাগার সময় বাসটিতে ৪২ জন ওমরাহ যাত্রী ছিলেন। তিনি রিয়াদে ভারতীয় দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন (ডিসিএম) আবু মাথেন জর্জের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

ওয়াইসি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে লাশ ভারতে ফিরিয়ে আনা এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা প্রদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজধানীতে আ.লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৪ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৪ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক ক্ষুদেবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অংশগ্রহণকারী কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরও ৩৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ধানমন্ডি ৩২ প্রাঙ্গণে বুলডোজার, জনতার ভিড়

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে দুটি বুলডোজার আনা হয়েছে। এ সময় উৎসুক জনতাকে সেখানে ভিড় করতে দেখা গেছে।

সোমবার একদল তরুণ বুলডোজার দুটির সঙ্গে হেঁটে যান। তাদের মধ্যে উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। পরিচয় জানতে চাইলে তারা জানান, তারা বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মী।

এ সময় ‘লীগ ধর জেলে ভর’, ‘আওয়ামী লীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘৩২-এর আস্তানা এই বাংলায় হবে না’—এমন নানা স্লোগানে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। উত্তেজনাকর পরিবেশের কারণে ধানমন্ডি এলাকায় জনসাধারণের চলাচল সীমিত হয়ে গেছে।

এর আগে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে একটি বুলডোজার এসে গুঁড়িয়ে দেয় ৩২ নম্বরের বাড়ি। সেদিন একটি এক্সকাভেটরও আসে সেখানে। তারও আগে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৩২ নম্বরের বাড়িটি আগুনে পুড়িয়ে দেয় ছাত্র-জনতা।

ভালোবাসা এখনো চিঠিতে বসবাস করে: দীঘি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আন্তর্জাতিক আয়োজনে গত ১০ অক্টোবর ষষ্ঠবারের মতো শুরু হওয়া সংগীতানুষ্ঠান ‘রিয়াদ সিজন’-এ অংশ নিচ্ছে বিশ্বের ১৪ দেশ। প্রতিটি দেশের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে বিশেষ কিছু দিন, যেখানে তারা নিজস্ব সংগীত, নৃত্য, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও খাবার উপস্থাপন করবেন।

সেই আসরে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। গত ১১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ পর্ব, যা চলছে ‘বাংলাদেশ কালচার’ শিরোনামে গত শুক্রবার পর্যন্ত। আর সেখানেই মঞ্চ মাতাতে গেছেন দেশের জনপ্রিয় সংগীত ও অভিনয় তারকারা। এর মধ্যে রয়েছেন ঢালিউড অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি।

জানা গেছে, অভিনেত্রী দীঘি ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী শিল্পীর মধ্যে রয়েছেন- সংগীতের যুবরাজ কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর, জনপ্রিয় গায়ক মনির খান, বেলাল খান, আকাশ মাহমুদ, মুহাম্মদ ইমরান, ইশরাত জাহান জুঁই, পুষ্পিতা মিত্র, হুমায়রা ইশিকা ও ডিজে তুরিন এমএনআর।

আজ বাংলাদেশের শেষ পর্বে চমক হিসেবে মঞ্চে থাকছেন সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুই মাসব্যাপী সংগীত সফর শেষ করে দেশে ফিরে আবার সৌদি আরবে মুগ্ধতা ছড়াবেন এ তারকা। এছাড়া শেষ দিনের আয়োজনে আরও গান গাইবেন আকাশ মাহমুদ, ডিজে তুরিন এমএনআর, পুষ্পিতা মিত্র ও ইশরাত জাহান জুঁই।

আর এ আয়োজনে বিশেষ পারফর্মে অংশ নেবেন অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। সেখানে হোটেলের রুমে দীঘির অনুপস্থিতিতে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী একটি চিঠি লিখে রেখে যান। প্রিয় তারকার সঙ্গে দেখা করার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে লেখা সেই চিঠিটি দেখে রীতিমতো আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অভিনেত্রী।

সামাজিক মাধ্যমে চিঠিটি প্রকাশ করে দীঘি তার অনুভূতি প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘সকালে হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় রিসেপশনে বলে গিয়েছিলাম আমার রুমটা পরিষ্কার করে রাখতে। অনেক কেনাকাটা করে রুমে ঢুকে দেখি আমার টেবিলে একটি ছোট চিরকুট রাখা। সম্ভবত যিনি রুম ক্লিন করেছিলেন, তিনি বাঙালি। এই ডিজিটাল আর সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কেউ এভাবে একটু দেখা করতে চাচ্ছে, ব্যাপারটি খুব মিষ্টি লাগল।’

অভিনেত্রী আরও বলেন, এই নোটের মাধ্যমে আবারো নতুন করে উপলব্ধি করলাম- ভালোবাসা এখনো চিঠিতে বসবাস করে। আর আমার এমন ভক্তের জন্য এখনো নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আছি। তাদের এই ভালোবাসাটা আজীবন চলমান থাকুক।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে দীঘির পোস্টে কমেন্টবক্সে মডেল ও অভিনেত্রী বারিশা হক লিখেছেন- অবশ্যই দেখা করা উচিত। এছাড়া অগণিত ভক্ত-অনুরাগী তাদের ভালোবাসা ও শুভকামনা জানিয়ে মন্তব্য করেছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে নিশ্চিত হয়েছে যে ৩০ দলের জায়গা

২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশের মোট ৩০টি দল। ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ওশেনিয়া মিলিয়ে ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে টুর্নামেন্টের দলসংখ্যা।

ইউরোপ (৩ দল)

ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া নিজেদের গ্রুপের প্রতিযোগিতায় শীর্ষে থেকে জায়গা করে নিয়েছে ফুটবলের মহামঞ্চে।

দক্ষিণ আমেরিকা (৬ দল)

আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, উরুগুয়ে, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও প্যারাগুয়ে- দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে ছয়টি দলই বাছাইপর্বে দাপট দেখিয়ে নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের টিকিট।

উত্তর ও মধ্য আমেরিকা (২ দল)

আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বাছাইপর্ব পেরিয়ে জায়গা করে নিয়েছে মেক্সিকো।

আফ্রিকা (৯ দল)

বিশ্বমঞ্চে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করবে আলজেরিয়া, মরক্কো, আইভরি কোস্ট, ঘানা, মিসর, সেনেগাল, তিউনিসিয়া, কেপ ভার্দে ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

এশিয়া (৭ দল)

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, সৌদি আরব, জর্ডান, কাতার ও উজবেকিস্তান এর মধ্যেই নিশ্চিত করেছে মূল পর্বের টিকিট।

ওশেনিয়া (১ দল)

ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে জায়গা নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ড।

টুর্নামেন্টে মোট ৪৮ দল অংশ নিলেও এখনো বেশ কিছু জায়গা খালি রয়েছে। বাকি দলগুলো প্লে-অফ ও শেষ দিকের বাছাইপর্বের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

চীনা বিনিয়োগে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ার বড় সুযোগ দেখছেন সিইএএবি সভাপতি

চীনা বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও শিল্প সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দ্রুতই রপ্তানিমুখী শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন চীনা এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (সিইএএবি)-এর সভাপতি হান কুন। বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ এবং তৈরি পোশাকসহ মূল খাতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ বাংলাদেশের আর্থিক উন্নয়নকে শক্তিশালী করেছে।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৮ হাজার মেগাওয়াট বেসরকারি বিনিয়োগ হয়েছে, যার ৫৪ শতাংশ চীনা কোম্পানির। ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭–২৮ গিগাওয়াটে, যা শিল্পায়ন ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

হান কুন বলেন, প্রতিযোগিতামূলক শ্রমব্যয়, উন্নত অবকাঠামো এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এখন রপ্তানিমুখী শিল্পকেন্দ্র হওয়ার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তিনি প্রস্তাবিত চীন–বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে (এফটিএ) এই রূপান্তরের জন্য জরুরি বলে উল্লেখ করেন।

তার মতে, ট্যারিফ ও নীতি কাঠামো সমন্বিত হলে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন খাত বাংলাদেশে স্থানান্তর করে বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানি করতে পারবে। চীনের বিশ্বব্যাপী মোট উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ৩০ শতাংশ, যার একটি অংশ বাংলাদেশে আসলে দেশের রপ্তানি সক্ষমতা আরও বাড়বে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নীতিগত স্থিতিশীলতা ও অনুমানযোগ্যতা বিনিয়োগকারীদের জন্য অন্যতম প্রধান শর্ত। নীতি হঠাৎ পরিবর্তন হলে বড় প্রকল্পগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়ে, যা বিনিয়োগ পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

হান জানান, বর্তমানে সিইএএবির প্রায় ২৫০টি সদস্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের অর্ধেক অবকাঠামো এবং প্রায় ৩০ শতাংশ আরএমজি ও টেক্সটাইল খাতে। এসব প্রতিষ্ঠান বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং রপ্তানিমুখী সাপ্লাই চেইন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

ভবিষ্যতের সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাত ছাড়াও নতুন শক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, লজিস্টিকস ও উৎপাদন খাতে চীনা কোম্পানিগুলো বিনিয়োগে আগ্রহী

তিনি বলেন, “সঠিক নীতিগত সহায়তা পেলে বাংলাদেশ এশিয়ার অন্যতম রপ্তানি ও শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সব উপাদানই ধারণ করে।”