Home Blog

যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানে বাড়ছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ ছয় মাস পার হওয়ার পর তিন দেশেই সরকারকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে জনসমর্থন কমছে এবং ইরানে বাড়ছে অর্থনৈতিক সংকট।

ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও দেশটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক পদক্ষেপ চেয়ে আসছিলেন। তবে যুদ্ধের পরও ইরানের সরকার ক্ষমতায় রয়েছে এবং দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির দামের ক্ষেত্রে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে পেট্রোলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বা অ্যাপ্রুভাল রেটিংও সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও তাঁর সমালোচনা বাড়ছে।

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিষয়ক অধ্যাপক শিবলি তেলহামি বলেন, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বোঝা অনেক মার্কিন নাগরিকের কাছে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এক ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, প্রতি তিনজন আমেরিকানের মধ্যে একজনেরও কম ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে সমর্থন করেন।

তেলহামির মতে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে টেনে এনেছে—এমন ধারণাও মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে ইসরায়েল-সংক্রান্ত বিষয়টি এখন শুধু পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্ন নয়, বরং মানুষের আর্থিক অবস্থা ও মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে উঠেছে।

ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গত সপ্তাহে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও সুবিধাজনক একটি চুক্তিতে তেহরানকে রাজি করানোর লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প এ উদ্যোগকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ইরান সরকারের পতন ঘটাতে পারেনি। মার্কিন লেখক ও কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, ইরানের কাছে এখনও অত্যন্ত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে এবং তা আরও সমৃদ্ধ করার সক্ষমতাও রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে ইরান তার প্রতিরোধ সক্ষমতা ধরে রেখেছে। হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো দুর্বল হলেও এখনও সক্রিয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের জনবিক্ষোভ বা অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ আশা করেছিল, তাও দেখা যায়নি।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক উদ্যোগের ব্যর্থতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন মিলার। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের কোনো মার্কিন প্রশাসন এমন সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়ে আরও সতর্ক হবে।

ইসরায়েলেও নেতানিয়াহুর ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও কিংস কলেজ লন্ডনের সিনিয়র টিচিং ফেলো আহরন ব্রেগম্যান বলেন, গাজা, লেবানন এবং ইরানের ক্ষেত্রেও নেতানিয়াহুকে ব্যর্থ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর মতে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার পরিবর্তে নেতানিয়াহু শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেই উদ্যোগ সফল হয়নি এবং ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির আগের চেয়ে আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে।

ইরানকে বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতার উদ্যোগও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের তাঁকে আক্রমণের সুযোগ দিয়েছে। ইসরায়েলি সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড্যানিয়েল লেভির মতে, নেতানিয়াহু আশা করেছিলেন যুদ্ধটি তাঁর নির্বাচনী অবস্থান শক্তিশালী করবে। কিন্তু প্রত্যাশিত ফল না আসায় তা রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারেনি।

ইরানের অর্থনীতিতেও যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে। ইরানের নিজস্ব হিসাবে, এপ্রিল নাগাদ যুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে। গত মাসে দেশটির বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে। শুধু মার্কিন অবরোধের কারণে প্রতিদিন প্রায় ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে বলে হিসাব করা হয়েছে।

তবে এসব চাপের মধ্যেও ইরানের অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। ইরান বিষয়ক গবেষক ও লেখক শেরভিন মালেকজাদে বলেন, অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতির সংকট গুরুতর হলেও তা এখনও সামাল দেওয়ার মতো পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর মতে, বিশ্বের বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষার ধারণাকে কেন্দ্র করেই ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো গড়ে উঠেছে, যা অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে ইরানের সরকারের অভ্যন্তরেও মতপার্থক্য রয়েছে। কট্টরপন্থী ও মধ্যপন্থীদের মধ্যে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দিয়েছে। তবে যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও কোনো পক্ষই পরাজয় স্বীকার করতে রাজি নয়।

ইরানের জন্য সংঘাতটি এখন শুধু সামরিক প্রতিরোধের বিষয় নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য এবং ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত ও চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে ব্যর্থতা আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও ইরানকে এখনও গভীর ও অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আগামী সপ্তাহ থেকে টাকা তোলা যাবে

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য ঘোষিত স্কিমের বাইরেও বিশেষ প্রয়োজনে জমানো টাকা তুলতে পারবেন আমানতকারীরা। তবে যারা টাকা তুলতে চান তাদেরকে ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর শাখাগুলোতে আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই শেষে আগামী সপ্তাহ থেকে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেবে ব্যাংক। দুর্দশাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক মিলে গঠিত এ ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় লেনদেন স্বাভাবিক করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, আজকের বৈঠকে টাকা ফেরতসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। মূলত ব্যাংকটির খেলাপিদের থেকে আদায় পরিস্থিতি, গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় বিশৃঙ্খলমুক্তভাবে টাকা ফেরতসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য মুনাফার একটি অংশ কাটছাঁট বা ‘হেয়ারকাট’ উদ্যোগ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। এতে করে মেয়াদি আমানতে ঘোষিত মুনাফার পুরোটা পাবেন আমানতকারীরা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সব ধরনের সঞ্চয়ী হিসাবের লেনদেন স্বাভাবিক করা হবে। এর বাইরে অধিকতর প্রয়োজনে যেসব গ্রাহক মেয়াদি আমানত বন্ধ করে ‘এক্সিট’ নিতে চান তারাও পুরো টাকা তুলতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে কেবল মূল টাকা ফেরত দেওয়া হবে। আর আবগারি শুল্ক হিসেবে সরকারকে যে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে তা ব্যাংক বহন করবে। অবশ্য কেউ মেয়াদি আমানতের আংশিক তুললে বাকি টাকার ওপর পুরো মুনাফা পাবেন।

বিভিন্ন অনিয়ম জালিয়াতির কারণে দীর্ঘদিন আমানত ফেরত দিতে না পারায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্দশাগ্রস্ত এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক মিলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন হয়। ব্যাংকগুলোতে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা আছে। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীর সঞ্চয়ী হিসাবে রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। পাঁচ ব্যাংকের মোট এক লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা ঋণের ৮৬ শতাংশ এখন খেলাপি। আর মূলধন ঘাটতি রয়েছে দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি। সরকারি মালিকানার ব্যাংক হিসেবে গত বছরের নভেম্বরে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। ব্যাংকটির লেনদেন স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা কীভাবে টাকা তুলতে পারবেন সে বিষয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে একটি স্কিম ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই স্কিমের আওতায় সব ধরনের মেয়াদি আমানতের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর চলতি বা সঞ্চয়ী হিসাবে যত টাকা জমা থাকুক– আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিলের আওতায় প্রথমে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হয়েছে। এর বেশি অঙ্কের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে প্রতি তিন মাস পর এক লাখ টাকা করে তোলা যাবে। এখন এই স্কিমের বাইরেও টাকা তোলা যাবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩, নিখোঁজ ৪২০০

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। এখনো ৪ হাজার ২০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, অন্তত ৪৩ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক নিখোঁজ। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, নেপালে ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও ১২৮ জনও নিখোঁজ রয়েছেন।

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও উদ্ধার তৎপরতা চলছে। তবে বড় সংকট দেখা দিয়েছে মরদেহ নিয়ে। পানিতে ভেসে আসা শত শত মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ায় অনেকের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর অশনাক্ত মরদেহ গণকবর দেওয়া শুরু করেছে নেপাল কর্তৃপক্ষ।

নেপালের দুর্যোগকবলিত পাহাড়ি এলাকা রাসুয়া থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে চিতওয়ানের দেবঘাট বনাঞ্চলে শত শত মরদেহের জন্য গণকবর খোঁড়া হয়েছে। সেখানে গতকাল শতাধিক মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এর আগের দিন শনিবার ৯৬টি মরদেহ কবর দেওয়া হয়।

চিতওয়ানের ভরতপুরের প্রধান জেলা কর্মকর্তা গণেশ আর্য বলেন, বন্যার স্রোতে ভেসে আসা মরদেহগুলো দ্রুত পচে যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত সেগুলো দাফন করতে হচ্ছে।

এদিকে নতুন করে বন্যার ঝুঁকিও কাটেনি। উজানে ভূমিধসের কারণে প্রাকৃতিকভাবে নতুন একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে চীন। এই হ্রদ থেকে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

গত বুধবার হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহধসে বরফ, পাথর ও কাদার স্রোতে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। এতে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। তিব্বতেও প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং মরদেহ শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

মক্কা চুক্তি কৌশল ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠক আজ, আলোচনায় যা থাকবে

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় কৌশলগত, রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সেই কমিটির প্রথম বৈঠক হতে যাচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠাকালীন তিন সদস্য তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানরা উপস্থিত থাকবেন।

বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়া প্রতিনিধিদের নিয়েই মূলত এই কমিটি। এর লক্ষ্য যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়া। সোমবার প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। একইসঙ্গে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ এবং সশস্ত্র বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে আলোচনার আশা করা হচ্ছে।

অংশগ্রহণকারীরা যৌথ উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়নসহ প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা গভীর করা, পাশাপাশি যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতা নিয়েও আলোচনা করতে পারেন। কমিটির কাজ পরিচালনার জন্য একটি সচিবালয় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কাঠামোও বৈঠকে নির্ধারণ করা হতে পারে।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা একটি বার্তা পুনর্ব্যক্ত করতে পারেন। সেটি হলো- যারা অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং সহযোগিতামূলক নিরাপত্তা কাঠামোর মাধ্যমে সমস্যা মোকাবিলা করতে চায়, তাদের জন্য চুক্তিটি সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে কাজ করবে।

সৌদি আরবের মক্কায় ৭ আগস্ট যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়েছে, যেকোনো একটি পক্ষের ওপর হামলাকে সব পক্ষের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে চুক্তিতে অন্য দেশের অংশগ্রহণেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। ১২ আগস্ট লন্ডনভিত্তিক গণমাধ্যম আশার্ক আল-আওসাতকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেন, পরিসর বাড়ানোর আশা করা হচ্ছে। আগামীতে হয়তো এমন পরিবেশ তৈরি হবে, যখন এই অঞ্চলের সব দেশ এক ছাতার নিচে আসবে।

সৌদি মালিকানাধীন গণমাধ্যমটিকে এরদোয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভার নিজেদের কাঁধে নেওয়ার তাগিদ থেকে চুক্তিটির উদ্ভব। এখানকার শক্তিগুলোকেই আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান করতে হবে। চুক্তিটি সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রথম ধাপ।

এরদোয়ান বলেন, বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সমীকরণ এড়িয়ে আঞ্চলিক বিষয়ের সমাধান করতে হবে। বিদেশিদের দেওয়া সমাধান কেবলই বিপর্যয় ডেকে আনে। বিষয়টি সবার ভালো করে জানা হয়ে গেছে।

চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের আধিপত্যকে প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তিন মিত্রকে একটি বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে এরদোয়ান বলেন, এটি নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ প্রকল্প গড়ে তোলার পথও উন্মুক্ত করবে।

এরদোয়ানের আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ৮ আগস্ট বলেছিলেন, পরবর্তী ধাপে মিসর এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারে। এজন্য কারিগরি কিছু বিষয়ে সমাধান বাকি। তবে কায়রো এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ঢাকার পর এবার নিউইয়র্কের মঞ্চে বন্যা মির্জা

মঞ্চের আলো, দর্শকের মুখোমুখি অভিনয় আর চরিত্র হয়ে ওঠার সেই বিশেষ মুহূর্ত– বন্যা মির্জার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দের জায়গাগুলোর একটি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ঢাকার মঞ্চে যেমন নিজের অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন, তেমনি টেলিভিশন নাটকেও পেয়েছেন দর্শকের ভালোবাসা ও প্রশংসা। এবার দেশের সীমানা পেরিয়ে সেই মঞ্চের অভিজ্ঞতাই নতুন করে নিতে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী।

এবার মঞ্চটি নিউইয়র্কের। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বন্যা মির্জা প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কের মঞ্চে অভিনয় করতে যাচ্ছেন। তাঁর অভিনীত নতুন নাটক ‘নেমেসিস’ মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে নিউইয়র্কের জ্যামাইকায়। নাটকটি লিখেছেন মাসুম রেজা। নির্দেশনা দিচ্ছেন খায়রুল ইসলাম পাখি। দীর্ঘদিন তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নাটকটির প্রযোজনা করছে থিয়েটার ৭১।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ‘নেমেসিস’-এর প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে নাটকটির দুটি শো থাকবে। প্রথম প্রদর্শনী বিকেল ৫টায় এবং দ্বিতীয়টি সন্ধ্যা ৭টায়। নিউইয়র্কের মঞ্চে প্রথমবার অভিনয় করতে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত বন্যা মির্জা। তাঁর কাছে বিষয়টি শুধু নতুন একটি মঞ্চে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নয়; বরং বাংলা ভাষার নাটককে প্রবাসের মাটিতে দর্শকের সামনে তুলে ধরারও একটি সুযোগ। বন্যা মির্জা বলেন, ‘প্রথমত ভালো লাগছে এজন্য যে, আমরা একটি নাটক নিয়ে দর্শকদের সামনে আসতে যাচ্ছি। এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের। অনেক বেশি ভালো লাগার। কেননা, এটি মঞ্চনাটক। মঞ্চে অভিনয়ের অন্যরকম আনন্দ কাজ করে।’

নিউইয়র্কের মতো বহুজাতিক শহরে বাংলাদেশের বাংলা ভাষার একটি নাটক মঞ্চস্থ হওয়াকেও বিশেষভাবে দেখছেন এই অভিনেত্রী। তাঁর ভাষায়, ‘নিউইয়র্কের মতো জায়গায় বাংলাদেশের বাংলা ভাষার নাটক নেমেসিস মঞ্চস্থ হচ্ছে। এই জন্যও অনেক ভালো লাগা কাজ করছে।’

‘নেমেসিস’ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে মহড়া। নতুন মঞ্চ, নতুন দর্শক। সব মিলিয়ে প্রস্তুতিতেও কোনো ঘাটতি রাখতে চান না দলের সদস্যরা। নিজেদের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বন্যা বলেন, ‘নাটকটির মহড়া চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। কতটুকু করতে পেরেছি, তা দর্শকরা দেখার পর বলতে পারবেন। আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই। আমরা চেষ্টা করছি।’

অভিনয়ের পাশাপাশি নিউইয়র্কে বাংলা নাটকের চর্চা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও বন্যা মির্জাকে আনন্দিত করছে। প্রবাসে বাংলা ভাষার নাটক নিয়মিত মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ আরও দৃঢ় হবে বলেই মনে করেন তিনি।

অভিনয়ের দীর্ঘ পথচলায় মঞ্চকে বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বন্যা মির্জা। কারণ, মঞ্চে অভিনয়ের ক্ষেত্রে অভিনয়শিল্পীকে দর্শকের একেবারে সরাসরি প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। সেই অভিজ্ঞতার আনন্দও আলাদা। এবার সেই আনন্দই নতুন করে ছড়িয়ে দিতে যাচ্ছেন নিউইয়র্কের দর্শকদের মধ্যে।’

ছাড়ের তুলনায় বিদেশি ঋণ পরিশোধ আড়াই গুণ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বিদেশি ঋণ বাবদ যে অর্থ পাওয়া গেছে, তার প্রায় আড়াইগুণ পরিশোধ করতে হয়েছে পুরোনো ঋণ বাবদ। মাসটিতে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশের কাছ থেকে প্রায় ১৮ কোটি ডলার পাওয়া গেছে। অথচ এ সময় ঋণের সুদ এবং আসল বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৪৫ কোটি ডলারেরও বেশি।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) গতকাল রোববার বিদেশি ঋণ প্রাপ্তি ও পরিশোধের হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, গত জুলাই মাসে বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রকল্প সহায়তা বাবদ ঋণ পাওয়া গেছে প্রায় ১৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। এ সময় অনুদান পাওয়া গেছে প্রায় পাঁচ লাখ ডলারের কিছু বেশি। এই ঋণ ও অনুদান মিলে মাসটিতে মোট ১৮ কোটি দুই লাখ ডলারের মতো পাওয়া গেছে।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে ছাড় হয়েছিল এর চেয়ে বেশি। ওই মাসে প্রায় ২০ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের ঋণ ও তিন লাখ ডলারের অনুদান পাওয়া যায়। দুই খাতে মোট অর্থ পাওয়া যায় ২০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় কমেছে তিন কোটি ডলারের মতো।

অন্যদিকে গত জুলাই মাসে পুরোনো ঋণের আসল পরিশোধ করা হয়েছে ৩৪ কোটি ডলারের বেশি। আর ঋণের সুদ বাবদ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ডলারের কিছু বেশি। এই দুই খাতে মোট পরিশোধ করা হয়েছে ৪৫ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের প্রথম মাসে মোট পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৪৪ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের মতো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এক মাসে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৬৬ লাখ ডলার। দেশীয় মুদ্রায় গত মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল পাঁচ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই মাসে ছিল পাঁচ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা।
ইআরডির প্রতিবেদনে দেখা যায়, গেল জুলাই মাসে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতিও কমেছে বেশ।  উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলো মাত্র এক কোটি ৪১ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে মাসটিতে, যা গত অর্থবছরের প্রথম মাসে ছিল আট কোটি ৩৫ লাখ ডলার ঋণ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ প্রতিশ্রুতি কমেছে সাত কোটি ডলারের মতো। অর্থাৎ এক দিকে ঋণের অর্থছাড় কমেছে। অন্যদিকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিও কমলো। অথচ ঋণ পরিশোধ বেড়েছে। সব মিলিয়ে বিদেশি ঋণ পরিস্থিতি অনুকূল নয়।

ঋণ প্রাপ্তির চেয়ে পরিশোধ দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইআরডির-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, অনেক প্রকল্পে রেয়াতকাল শেষ হয়েছে। পরিশোধের সময় শুরু হয়েছে। সেই চাপ আছে। আবার গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বড় অঙ্কের বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে। এগুলোর কোনো কোনোটির পরিশোধের মেয়াদ ছিল কম, অথচ সুদের হার বেশি। এসব মিলিয়ে গত দুই অর্থবছর থেকেই ঋণ পরিশোধে চাপ তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছর বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল বাবদ ৪৪৯ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। দেশের মুদ্রায় পরিশোধের এই পরিমাণ ৫৪ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছর ছিল ৪০৮ কোটি ডলার বা ৪৯ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৪১ কোটি ডলার বা ছয় হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা।

গত অর্থবছর ঋণের অর্থছাড় ও প্রতিশ্রুতি অনেক কমে গেছে। গত অর্থবছরে দেশে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড়ের পরিমাণ কমে ৮০৭ কোটি ডলারে নেমেছে। আগের অর্থবছরে বৈদেশিক অর্থছাড়ের পরিমাণ ছিল ৮৫৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ অর্থছাড় কমেছে ৪৯ কোটি ডলার। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ প্রতিশ্রুতি কমে ৫২৪ কোটি ডলারে নেমেছে। আগের অর্থবছরে প্রতিশ্রুতি ছিল ৮৩২ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছর প্রতিশ্রুতি কমেছে ৩০৮ কোটি ডলার।

বরযাত্রীর গাড়ি আটকে নববধূকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে এক নববধূকে মাইক্রোবাস থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বরের পক্ষ থেকে হোসেনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কনে পক্ষও মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার রাতে হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজীপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় রোববার। বিয়ের পর রাত নয়টার দিকে বরপক্ষ একটি মাইক্রোবাসে করে তামান্নাকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়।

পথে হাজীপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে চর হাজীপুর গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে মিয়াদ মিয়া ২০ থেকে ২৫ জন যুবক নিয়ে মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় মাইক্রোবাসে ভাঙচুর চালানো হয় এবং বরকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তামান্নাকে জোর করে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে নিয়ে মিয়াদ ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে তামান্নাকে নিয়ে মিয়াদ পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে আটক এবং নববধূকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

জিনারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম রহিদ বলেন, তামান্না বিয়েতে রাজি ছিলেন এবং বিয়েতে তার কোনো আপত্তি ছিল না। এ কারণে মিয়াদের সঙ্গে তার পুরোনো প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তবে তামান্নার পরিবারের বরাত দিয়ে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, মিয়াদের সঙ্গে তামান্নার কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং মিয়াদ বিভিন্ন সময় তামান্নাকে উত্ত্যক্ত করতেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ওসি বলেন, খবর পেয়ে তিনি রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় বরপক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। কনে পক্ষও মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নববধূকে উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত মিয়াদ ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে: বিএনপির সংসদ সদস্য

আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম।

গতকাল রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে মানুষের ভোগান্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমার স্পষ্ট মনে হচ্ছে, প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ এই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এখনই যদি এই দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়,তবে সামনে আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার অপরাধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

গত শুক্রবার রাত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর পর্যন্ত টানা ৩২ ঘণ্টা তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। দীর্ঘ যানজটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে এক রোগীর মৃত্যু এবং সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পেরে কয়েকজন প্রবাসীর নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করার ঘটনাও ঘটে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম।

দুর্ভোগের কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের নিয়ে জুমে এ বৈঠক হয়।

 

%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A8%E0%A7%AD%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%20%E0%A6%AA%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A6%BE%20%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%AE%20(11) 1788165436

শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, তিনি হুইপের পাশে বসে পুরো বৈঠকটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এত বড় জনদুর্ভোগের পরও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুশোচনা বা দায়বদ্ধতা দেখতে পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, সেতু সংস্কারকাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার কিংবা কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে আগাম কোনো তথ্য ছিল না। কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতার অভাব উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শাহাদাত হোসেন সেলিমের দাবি, পরিস্থিতি দেখে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন। সেতু সংস্কারের আগে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা প্রয়োজন ছিল। সংবাদপত্র, টেলিভিশনের স্ক্রল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগাম প্রচার চালানো হলে যাত্রীরা বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারতেন এবং এমন দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব হতো বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরে হুইপ সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেন। সেখানেও দায়িত্বশীলতার ইতিবাচক মনোভাব দেখা যায়নি বলে পোস্টে দাবি করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম।

শেষে তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

পরে সাংবাদিকদের কাছে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ দেখে তিনি মর্মাহত। সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। কিন্তু তাতেও কোনো সুফল না পাওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পোস্ট দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ দেখে আমি কষ্ট পাচ্ছি। কাজটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছি। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত মনের কষ্ট থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই স্ট্যাটাস দিয়েছি।’

শাহাদাত হোসেন সেলিম বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।

সন্তান বিক্রি করে ফোন কেনার অভিযোগ, বাবা আটক

পটুয়াখালীর দশমিনায় এক বছর বয়সী সন্তানকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে আইফোন কেনার অভিযোগ উঠেছে বাবা মারুফ মুন্সির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড়গোপালদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে শিশুটির বাবাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, উপজেলার বড়গোপালদী গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে মারুফের সঙ্গে তার স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। পারিবারিক বিরোধের কারণে তাদের এক বছরের ছেলে মুসাকে তার দাদা মফিজ মুন্সি ও দাদি মাহফুজা বেগম লালন-পালন করে আসছিলেন।

শনিবার মারুফ ঢাকা থেকে বাড়ি এসে ছেলে মুসাকে সঙ্গে করে নিয়ে যান। এরপর শিশুটিকে নিয়ে তিনি আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে স্বজনরা জানতে পারেন, উপজেলার গয়নাঘাট গ্রামের ইমরান হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে বিক্রি করে দিয়েছেন মারুফ। স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া টাকা দিয়ে আইফোন কিনেছেন মারুফ মুন্সী।

শিশুটিকে নিজের কাছে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ইমরান বলেন, মারুফ আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে এক লাখ টাকা নিয়েছে। মারুফের স্ত্রীর সঙ্গে তার ডিভোর্স হওয়ায় সন্তান পালন সম্ভব নয় বলে শিশুটিকে আমাকে লালন-পালনের জন্য দিয়েছে। শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে তার স্ত্রীর ঝামেলা থাকায় মুসাকে আমি লালন-পালন করতাম। দুই দিন আগে আমার ছেলে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে মুসাকে নিয়ে যায়। পরে আর বাড়িতে ফিরে না এলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আমার নাতিকে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে সে। সেই টাকায় নাকি মোবাইল কিনেছে। আমি আমার নাতিকে ফেরত চাই এবং আমার ছেলের বিচার চাই।

শিশুটির দাদা মফিজ মুন্সি বলেন, নাতিকে ফেরত চাই। আমার সন্তান মারুফ ও ইমরানের বিচার চাই।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার শত শত মানুষ মারুফ মুন্সীর বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন ঘটনা শুনে। এক বছরের শিশুকে কীভাবে, কোন পরিস্থিতিতে এবং কী উদ্দেশ্যে অন্যের কাছে দেওয়া হয়েছে; তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, শিশুটির বাবা মারুফ মুন্সিকে আজ সন্ধ্যায় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে আইফোন কেনার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলছেন, শিশুটিতে বিক্রি না করে ইমরান হোসেনের কাছে লালন পালন করতে দিয়েছেন। ওসি আরও বলেন, শিশুটিকে উদ্ধার ও ইমরানকে আটক করে একত্রে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আসল রহস্য বের হয়ে আসবে। শিশুকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

মাগুরায় শিশু ধর্ষণ-হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল

মাগুরায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। আসামির আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি নিয়ে আজ সোমবার এ রায় দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ।

গত ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য থাকলেও তা পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। গত ২৪ আগস্ট হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়। আদালতে হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

রায়ে বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীব শেখের ছোট ভাই রাতুল শেখ এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে প্রেরণ করতে হয়। সে অনুসারে এ মামলার নথিও গত বছরের ২১ মে হাইকোর্টে আসে। পরে সব যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। প্রস্তুতের পর পেপারবুক ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকাভুক্ত হয়।