Home Blog Page 27

রামপালে দেশের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে

বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতে নির্মাণ করা হবে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটিই হবে দেশের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে তা দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতায় বড় সংযোজন হবে। ভূমিকা রাখবে জ্বালানি নিরাপত্তায়। এই প্রকল্পে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ১৮ টাকা। এই ব্যয় সম্প্রতি অনুমোদন হওয়া ফেনীর সোনাগাজী সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ কম। সোনাগাজীর প্রকল্পে বিদ্যুতে ইউনিটপ্রতি দর ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ৮৭ টাকা। নতুন প্রকল্পটি সে তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

‘কনস্ট্রাকশন অব ৪৪২ মেগাওয়াট সোলার ফটোভোল্টাইক গ্রিড কানেক্টেড পাওয়ার প্লান্ট অ্যাট ব্লক-বি রামপাল’ নামে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। আজ বুধবার অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন একনেক সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কম দামে বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হলে গড় উৎপাদন ব্যয়ের ওপর চাপ কমবে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে গ্রাহকের বিল সহনীয় রাখা সহজ হতে পারে। প্রকল্পটির নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যায়ে বাগেরহাট, খুলনা ও আশপাশের এলাকায় কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত এই কেন্দ্র সমপরিমাণ কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের তুলনায় কার্বন নিঃসরণ কমাবে, ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে বায়ুর মান ভালো থাকতে সহায়তা করবে। তবে সৌরবিদ্যুৎ কেবল দিনের বেলা পাওয়া যায়, আর রামপালের ক্যাপাসিটি ইউটিলাইজেশন ফ্যাক্টর ১৭ শতাংশ। তাই সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদা মেটাতে অন্যান্য উৎস বা ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবি)। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৫০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে দুই হাজার ১২৭ কোটি টাকা আসবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন তহবিল (পিডিএফ) থেকে। বাকি ৩৭৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বিউবো তার নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে।
জানা গেছে, শুরুতে আন্তর্জাতিক যৌথ উদ্যোগে (জেভি) প্রকল্পটি করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বিদ্যুতের বিশেষ বিধান আইন ২০১০ (সংশোধিত ২০২১) বাতিল হওয়ার পর সরকার সেই পথ থেকে সরে আসে। এরপর গত বছরের মে মাসে সরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানির (আইআইএফসি) সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ গ্রিড-সংযুক্ত হবে এবং বিউবো একাই উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করবে।

কয়লার জন্য নেওয়া জমিতেই সৌরবিদ্যুৎ
২০১২ সালে রামপালে কয়লাভিত্তিক ও অন্যান্য বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য এক হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এর ‘ব্লক-বি’ অংশেই হবে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই ব্লকের আয়তন ৯১৮ দশমিক ৫০ একর। গ্রিন বেল্ট, বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ, লেক ও নিচু জমি বাদ দিয়ে ব্যবহারযোগ্য ৬৮৫ একর চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা ব্লকের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ। জমি আগে থেকেই বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দখলে থাকায় নতুন অধিগ্রহণ বা বড় ভূমি উন্নয়নের প্রয়োজন হবে না।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এতে অবকাঠামো ব্যয় কমেছে এবং বিদ্যুতের দাম কম রাখা সম্ভব হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বিশাল জমি লাগে বলে এ সুবিধা ব্যয়ের হিসাবে বড় ভূমিকা রাখছে।
ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টারপ্ল্যান (আইইপিএমপি) ২০২৩ অনুযায়ী, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ায় দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ২০৩০ সালে ২৯ হাজার ২৫৭ মেগাওয়াট এবং ২০৫০ সালে প্রায় ৯৬ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে। এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট।
ফলে চাহিদা ও সরবরাহের এই ব্যবধান মেটানো জ্বালানি নিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জ। এ চাহিদা মেটাতে এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ প্রণয়ন করেছে। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

ধর্ষণে তরুণীর মৃত্যু, তরুণ গ্রেপ্তার

ধর্ষণে তরুণীর মৃত্যুর অভিযোগে শান্ত পাল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুর আহাম্মদনগর চৌরাস্তা এলাকায় রোববার ওই ঘটনা ঘটে। গতকাল মঙ্গলবার কালিয়াকৈর থানায় এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

গত বোরবার সকালে নিজ বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে কালিয়াকৈর সফিপুর এলাকায় প্রেমিক শান্ত পালের সঙ্গে দেখা করতে যান ওই তরুণী। শান্ত তাঁকে ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে পড়লে সফিপুর বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান শান্ত। সেখানকার চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে শান্ত মরদেহ নিয়ে ভালুকায় যান। সেখানে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় শান্তকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

সিরাজদীখানে নারীর মরদেহ উদ্ধার
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে নিখোঁজের এক দিন পর শামসুন্নাহার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত সোমবার দুপুরে বাজারে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। গতকাল সকালে স্থানীয়রা রাস্তার পাশের খাদে মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেন। নিহতের ছেলে হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের সঙ্গে কারও বিরোধ বা শত্রুতা নেই। মায়ের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ছিল বলে জানান তিনি। সিরাজদীখান থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনের কাছে দেওয়া হয়েছে।

মানিকগঞ্জে নিহত ৩ জন
মানিকগঞ্জের ঘিওরে ঘরের টিনের বেড়ায় হাত লাগার পর বিদ্যুৎস্পর্শে পূর্ণিমা নামে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে চর কোশুণ্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত পূর্ণিমা ওই গ্রামের মৃত জামাল শেখের মেয়ে। ঘিওরের ফুলহারা গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকায় রাসেল মিয়া নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাসেলের নেশার টাকা জোগাড় করা নিয়ে পরিবারে প্রায়ই অশান্তি হতো। গতকাল সকালে একটি গাছে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। এ ছাড়া ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গাড়ির ধাক্কায় সোনাই বেগম নামে এক পথচারী নারী নিহত হয়েছেন। গতকাল সদর উপজেলার জাগীর এলাকায় এসিআই মোটরসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ট্রাম্প কোণঠাসা করলেও নতি স্বীকারের লক্ষণ নেই ইরানের

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। বিক্রির জন্য দেশটির অবশিষ্ট তেলের মজুত প্রায় শেষের পথে। অপরিশোধিত তেল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সরকারের প্রধান রাজস্বের উৎস কমছে। মুদ্রাস্ফীতিতে অর্থনীতি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। তবু ইরানের এখনও নতি স্বীকারের কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় দেশটির সরকার।

গত সেপ্টেম্বর মাসে ইরানের বন্দরগুলো থেকে এক ফোঁটাও তেল রপ্তানি হয়নি। সামুদ্রিক বাণিজ্যের তথ্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার ২০১৩ সাল থেকে ইরানের তেল রপ্তানি পর্যবেক্ষণ শুরু করার পর এটাই ছিল প্রথম মাস, যখন দেশটি কোনো অপরিশোধিত তেল ট্যাঙ্কারে তুলতে পারেনি। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এলাকার বাইরে থাকা ইরানের তেলের মজুত জুলাইয়ের ১০ কোটি ব্যারেল থেকে কমে মাত্র এক কোটি ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সংকট বলে স্বীকার করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই। তার পরও ইরান নতি স্বীকার করতে চাচ্ছে না। এর একটি কারণ, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং বিক্ষোভ দমনে সরকারের নির্মম পদক্ষেপ অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ থেকে সরকারকে কিছুটা সুরক্ষা দিয়েছে। মোহসেন রেজাই বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ সহ্য করার ক্ষেত্রে ইরান সরকারের ধৈর্য ও সহনশীলতা অসাধারণ। আর নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ইরানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।’

কেপলারের নীতি ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিবিষয়ক প্রধান মিশেল ব্রুহার্ড বলেছেন, দেশটির অনমনীয় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে, নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কার্যক্রম এখনও চলছে।

এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী নতুন করে তৈরি করা আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের বিপুল মজুত গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের যে উচ্চমাত্রার উৎপাদন শুরু হয়েছিল, তা এখন আরও দ্রুতগতিতে চলছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার এমটি অন পিসে হামলায় ১২ নাবিক আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ট্যাঙ্কারটিতে ১৯ নাবিক ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন ভারতীয়। আহত ১২ জনের মধ্যে ১১ জনই ভারতের নাগরিক।

হুমকির কারণে যুদ্ধবিমান সরানো হয়েছে: ট্রাম্প

কিছু হুমকির কারণে যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে নিজেদের বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নেব্রাস্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র একটি হুমকি সম্পর্কে জানত, যা তাদের বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নিতে তৎপর করেছে।’ এদিকে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম দুই শহর লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগোতে ইরানকে হামলা চালানোর সুযোগ দেওয়া উচিত বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকে অর্থহীন বললেন পেজেশকিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটন প্রকৃতপক্ষে সংলাপ চায় না। গত সোমবার আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা যখনই আলোচনার টেবিলে বসি, তখনই আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া প্রমাণ করে, তারা সংলাপ চায় না।’

পাকিস্তান সফরে জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। গতকাল মঙ্গলবার ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন। খবর সিএনএন, বিবিসি, এএফপি, আনাদোলু এজেন্সি, মিডল ইস্ট মনিটর ও ডনের।

দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যুদণ্ড ব্যর্থ, ছয় দিন পর জ্ঞান ফিরল ক্রিস্টা পাইকের

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর জ্ঞান ফিরেছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের। তিনি এখন সচেতন এবং কথা বলছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

৫০ বছর বয়সী পাইক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তার আইনজীবীরা জানান, তাকে হাতকড়া পরানো অবস্থায় হাসপাতালে গুরুতর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আইনজীবীদের ধারণা, সুস্থ হতে তার দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

গত বুধবার টেনেসিতে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। তাকে প্রাণঘাতী ওষুধ পেন্টোবারবিটাল দেওয়ার জন্য দুইবার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দুবারই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েক দিন তিনি অচেতন ছিলেন। চিকিৎসকেরা তার শরীর থেকে ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া রাসায়নিক বের করার চেষ্টা করেন।

পাইকের আইনজীবীরা তার বর্তমান অবস্থাকে ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নজিরবিহীন’ বলে বর্ণনা করেছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পর বেঁচে যাওয়ার ঘটনা আগে ঘটেছে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও বিস্ময় তৈরি হয়েছে।

ফোর্ডহাম ল স্কুলের অধ্যাপক ও অপরাধবিজ্ঞানী ডেবোরা ডেন্নো বিবিসিকে বলেন, পাইক এখন সচেতন হয়ে কথা বলতে পারছেন-এটি দেখে তিনি ‘চরমভাবে বিস্মিত’। তার মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্ধারিত আরও সাতটি ঘটনায় বন্দীরা বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে সেসব ক্ষেত্রে বন্দীদের শিরায় প্রাণঘাতী ওষুধ প্রবেশ করানোই সম্ভব হয়নি।

ডেন্নো বলেন, পাইকই একমাত্র ব্যক্তি, যার শরীরে কোনো ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক প্রবেশ করানোর পরও তিনি বেঁচে আছেন। তার ভাষায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় যা যা করার কথা, তা করা হয়েছিল; কিন্তু সেটি কাজ করেনি। এমন ঘটনা আগে ঘটেনি।

তবে পাইকের সুস্থ হয়ে ওঠার পথ এখনো অনিশ্চিত। তার আইনজীবীদের পরামর্শক অ্যানেসথেসিওলজিস্ট জোয়েল জিভট বলেন, প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম। তার মতে, সাধারণ পরিস্থিতিতে পেন্টোবারবিটালের যে পরিমাণ পাইককে দেওয়া হয়েছিল, তা রক্তপ্রবাহে স্বাভাবিকভাবে পৌঁছালে তার মৃত্যু নিশ্চিত ছিল।

জিভটের ধারণা, ওষুধটি সম্ভবত পাইকের রক্তনালিতে প্রবেশ না করে ত্বকের নিচের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে তার মস্তিষ্কে কোনো ধরনের ক্ষতি হয়েছে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাকে পুনরুজ্জীবিত করতে দেরি হওয়ায় মস্তিষ্কে ক্ষতির আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছিলেন তিনি।

পাইকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তার দুই হাতে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তারা সতর্ক করেছিলেন, পাইকের শারীরিক অবস্থা-বিশেষ করে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা (থ্রম্বোসাইটোসিস) এবং ছোট শিরা-প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার সময় অতিরিক্ত ব্যথা ও কষ্টের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

১৯৯৫ সালে কলিন স্লেমার নামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে হত্যা করার দায়ে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সে সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। তিনি তার তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে স্লেমারকে মারধর ও নির্যাতনের পর হত্যা করেন বলে মামলায় প্রমাণিত হয়।

ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের পর টেনেসি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত জানায়নি, পাইকের মৃত্যুদণ্ড আবার কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে কি না। কী কারণে প্রাণঘাতী ইনজেকশন কাজ করেনি, সে বিষয়েও কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি তারা।

টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। এদিকে অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধানও পদত্যাগ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। বুধবার ন্যাশভিলের একটি আদালতে পাইকের আইনজীবীদের হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। পরে আদালতের বাইরে তারা সংবাদ সম্মেলন করবেন।

ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু

কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট-সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সীমা আক্তার কুমিল্লার দেবিদ্বার এলাকার ফাতেমা তুজ জোহরা মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি স্বজনের সঙ্গে বেড়াতে এসেছিলেন।
সৈকতে জেলা প্রশাসন থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচকর্মী মাহবুব আলম জানান, সীমা আক্তারের ওড়না গাড়ির চাকায় পেঁচিয়ে যাওয়ায় তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সীমা আক্তার দেবিদ্বার পৌর এলাকার বড় আলমপুর গ্রামের মাহাবুব আলমের মেয়ে। মাহাবুব আলম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন ছিল মেয়েকে আরবি শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত করব। কিন্তু বড় মেয়ের এমন মৃত্যু আশা করিনি, বুকটা ফেটে যাচ্ছে। মেয়ের মরদেহ নিয়ে তার মা, মামা কুমিল্লায় আসছেন।’ দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সীমা সবার বড়। গতকাল সন্ধ্যায় মাহাবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, সীমা তার ফুপাতো ভাইয়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মা, মামা, নতুন বউসহ ১৫ জনকে নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় কক্সবাজার রওনা হয়েছিল। সোমবার ভোর ৬টার দিকে তারা কক্সবাজারে পৌঁছে। গতকাল সকালে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে সৈকতে ঘুরতে গিয়েছিল। সেই সময় দুর্ঘটনা ঘটে।

এই মাঠ ছাড়তে চাই না, শান্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি: মেসি

০

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০ বছরের মহাকাব্যিক অধ্যায়ের শেষ মুহুর্তে নিজের আবেগ আর সামলাতে পারলেন না কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে ম্যাচ শেষে জাতীয় দল থেকে বিদায়ের লগ্নে মাইক্রোফোন হাতে লিওনেল মেসির বক্তব্য হৃদয় ছুয়েছে ভক্তদের। বিদায়ী ম‍্যাচে মেসি বলেন, আমি শপথ করে বলছি, সারাজীবন এখানে ফিরে আসতে চাইব। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলা একজন মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে সুন্দর বিষয়। আমি সারাজীবন এখানে থাকতে চাই।’

পরক্ষণেই বলেছেন, ‘কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, এটাই সঠিক সময়। শেষ বিশ্বকাপটা আমার জন্য অনেক বেশি কঠিন ছিল। আমরা আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম, খুব কাছেও গিয়েছিলাম। সত্যি বলতে, অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনি। আমরা আমাদের সবটুকু দিয়েছিলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা শারীরিক ও মানসিক, দুই দিক থেকেই আমাদের জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। সত্যি বলতে, আমরা কোনোমতে টিকে ছিলাম।’

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমার ভেতর দিয়ে আবেগের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। আমি নিশ্চিতভাবেই এমন অনেক কিছু ভুলে যাচ্ছি যা আমি বলতে চেয়েছিলাম, কারণ এটা আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন এক মুহূর্ত। সবার আগে যার কথা আমার মনে আসছে, তিনি হলেন আমার বাবা। এখানে খেলতে না পারাটা আমি খুব মিস করব। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি এবং আমি একজন আর্জেন্টাইন হতে পেরে গর্বিত। আমি কৃতজ্ঞতা, গর্ব ও শান্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।

আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সির প্রতি ভালোবাসা জাতিয়ে বলেন, ‘এই জার্সিকে ধন্যবাদ। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে, এমনকি সবচেয়ে খারাপ মুহূর্তগুলোতেও আমি কখনও লড়াই করা থামাইনি। সামনে এগিয়ে যাওয়া বন্ধ করিনি, আমার যা কিছু ছিল তার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি এবং সবসময় এখানে থাকতে চেয়েছি। এখানে আর আসা এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে না খেলতে পারাটা আমাকে অনেক বেশি কষ্ট দেবে। যদি আমার হাতে থাকত, তাহলে আমি আমার সারা জীবন এখানে খেলে যেতে চাইতাম। কারণ আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ব‍্যাপার।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আজ আমি অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি কথা বলছি, কারণ আমি স্রেফ চাই না যে এই মুহূর্তটি শেষ হয়ে যাক। কিন্তু আমার মনে হয়, এবার আমার অবসর নেওয়ার সময় চলে এসেছে। গত বিশ্বকাপে আমরা যা কিছুর মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তা আমাদের থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে। আমরা আমাদের শেষ শক্তিটুকু নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিলাম কিন্তু আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি, ঠিক যেভাবে আমরা সবসময় করে এসেছি। আমরা আবারও জেতার খুব কাছাকাছি ছিলাম এবং আমাদের নিয়ে যা কিছু বলা হয়েছিল, আসলে তেমন অদ্ভুত কিছুই ঘটেনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের অনেক শক্তি ক্ষয় করেছিল, কারণ আমরা সেখানে আমাদের একেবারে সবটুকু ঢেলে দিয়েছিলাম।

মেসি বলেন, ‘২০২২ সালে, আমাদের কেবল আমার নিজের স্বপ্নই নয়, বরং পুরো একটি দেশের স্বপ্ন পূরণ করার আকাঙ্ক্ষা ছিল- আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আর আমরা তা করে দেখিয়েছিলাম। আমরা বিশ্বকাপ জিতেছি, কোপা আমেরিকা জিতেছি, ফিনালিস্সিমা জিতেছি… এই জাতীয় দলের সঙ্গে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, এর সবকিছুর জন্য আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ। তবে এই যাত্রাটা কেবল ২০২২ বা এই শেষ বিশ্বকাপকে নিয়ে নয়। আমরা শেষ পর্যন্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনেক আগে থেকে অসংখ্য সতীর্থ এই জার্সির জন্য আমার পাশাপাশি লড়াই করেছে। তাদের প্রত্যেকে আর্জেন্টিনার জন্য কতটা লড়াই করেছে এবং নিজেদের কতটা উজাড় করে দিয়েছে, তা নিয়ে কখনো কোনো সন্দেহ করিনি ‘

মহাতারকা এই ফুটবলার বলেন, ‘আমার সব সতীর্থর সঙ্গে মাঠ ভাগাভাগি করতে পারা এবং ফুটবলের বাইরে আমাদের জীবনের এত বড় একটি অংশ এক সঙ্গে কাটাতে পারাটা ছিল একটি সৌভাগ‍্য ও সম্মানের। প্রতিবার যখন আমরা মাঠে পা রেখেছি, আমি জানতাম আমরা যে কোনো দলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারি। কারণ, আমার পাশে এমন সব যোদ্ধা ছিল যারা মাঠে তাদের সবটুকু দিতে প্রস্তুত ছিল। সবচেয়ে বড় অর্জনগুলো লুফে নিতে হলে আপনার একটি শক্তিশালী দলের প্রয়োজন। আর সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোতেই আপনি সত্যিই আবিষ্কার করতে পারবেন যে, আপনার দলটি কেমন। এটাই অন্যতম বড় কারণ, যার জন্য আমরা যা কিছু অর্জন করেছি, তা করতে পেরেছিলাম। বিশেষ করে এই দলকে ধন্যবাদ। তারা আমাকে ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করেছে। তারা আমাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করেছে। আমি জনগণকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। আর্জেন্টিনার অনেক শহরে খেলার সৌভাগ্য আমার হয়েছে এবং আমি যেখানেই গিয়েছি, অবিশ্বাস্য রকমের ভালোবাসা পেয়েছি ‘

লড়াকু এই ফুটবলার আরও বলেন, এই এত বছর ধরে, পৃথিবীর যেখানেই আমরা খেলি, স্টেডিয়ামগুলো সবসময় আর্জেন্টাইনদের দিয়ে পরিপূর্ণ ছিল। ম্যাচ যেমনই হোক কিংবা দূরত্ব যতই হোক না কেন, মানুষ সেখানে যাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। আমরা জানি সেটা কতটা কঠিন। পৃথিবীর যেখানেই আমরা গিয়েছি, মনে হয়েছে আমরা নিজেদের ঘরের মাঠেই খেলছি, কারণ আমরা সবসময় আপনাদের সমর্থন অনুভব করতে পেরেছি। এই সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে। কঠিন মুহূর্ত আসবে, আর সেই মুহূর্তগুলোতেই দলকে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সমর্থন করতে হবে। আপনাদের শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ দলের প্রয়োজন, কারণ সবসময় এমন কিছু মানুষ থাকবে, যারা জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চায় এবং আমরা তাদের সেই আত্মতৃপ্তির সুযোগ দিতে পারি না। এখানে, এই স্টেডিয়ামে, আমি আমার জীবনের অন্যতম আনন্দের একটি দিন পার করেছি–বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ঘরের মাঠে খেলা আমাদের প্রথম ম্যাচটি। সেটি ছিল খুব সুন্দর। আর আজকের দিনটি হয়ত সবচেয়ে দুঃখের দিনগুলোর একটি, কারণ আমি এখানে দাঁড়িয়ে বিদায় নিচ্ছি। আমি আপনাদের সবাইকে খুব মিস করব, কিন্তু আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকব। আমি এই ছেলেদের এবং এরপর যারা আসবে, তাদের সবাইকে সমর্থন করে যাব।

কেমন হবে মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার নতুন দল

০

বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি। এর মাধ্যমে শেষ হবে তাঁর ২১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। লিওনেল মেসির বিকল্প খুঁজে পাওয়া কি সম্ভব? আপাতত সে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। মেসি ছাড়া কেমন হবে নতুন আর্জেন্টিনা?

বেনিনের বিপক্ষে মেসির বিদায়ী ম্যাচ খেলার জন্য রদ্রিগো ডি পল, নিকোলাস ওতামেন্দি, জিয়োভান্নি লে সোলেসোকেও ডাকা হয়েছে। তাদের জন্যও হয়তো জাতীয় দলে এটা শেষ ম্যাচ। যার মানে, মেসির সঙ্গে একটা প্রজন্মও বিদায় নিচ্ছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন মেসির ১০ নম্বর জার্সিটা কে পরবেন? বলিভিয়া ও বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে গত দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে এর খানিকটা আঁচ পাওয়া গেছে। নিকো পাজ ও জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি– এ দুজনের মধ্য থেকে একজন মেসির জায়গায় খেলবেন।

এর মধ্যে বলিভিয়ার বিপক্ষে একটি থ্রু পাস ধরে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে আলতো করে জালে পাঠানো নিকো পাজের গোলটি দেখে মেসি বলে ভ্রমও হয়েছিল। ২২ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রাইট উইঙ্গার হিসেবেও খেলতে অভ্যস্ত। প্রেস্তিয়ানির মধ্যে রয়েছে মেসির মতো বল দখলে রাখার দক্ষতা। ওয়ান টু ওয়ান পজিশনেও প্রেস্তিয়ানি অসাধারণ। ২০ বছর বয়সী এ তারকা বাঁ প্রান্ত দিয়ে কিংবা মাঝমাঠে ফলস নাইন হিসেবে খেলতে পারেন।

গোলরক্ষক পজিশনে মেসির দীর্ঘদিনের সঙ্গী এমিলিয়ানো মার্তিনেজ থাকছেন। সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে নতুন নেতৃত্ব পাওয়া ক্রিশ্চিয়ানো রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ নিশ্চিত। তবে দুই ফুল-ব্যাক পজিশনে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বেশ ভালো বিকল্পও দেখা যাচ্ছে এ দুটি পজিশনে। চোটাক্রান্ত লেফট-ব্যাক নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর জায়গায় বলিভিয়ার বিপক্ষে রোমান ভেগা ভালোই খেলেছেন। পরের ম্যাচে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে পরীক্ষিত সৈনিক ফাকুন্দো মেদিনাও খারাপ করেননি।

মাঝমাঠে অ্যালেক্সিস ম্যাক-এলিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজ আরও অনেক দিন নির্ভরতা দিয়ে যাবেন। তাদের সঙ্গে এজিকুয়েল প্যালাসিওস ভালোই মানিয়ে নেবেন বলে প্রত্যাশা। মিডফিল্ডার ভ্যালেন্তিনো বারকোর মাঝেও অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। চেলসিতে অভিষেকেই নজর কেড়েছেন বোকা জুনিয়র্সের সাবেক এ তারকা। দুই স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজও প্রতিষ্ঠিত। মেসির অনুপস্থিতিতে তাদের দুজনকেই খেলিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। রাইট উইংয়ে আরেকটি সম্ভাবনা হলো লিওনেল ফ্লোরিস।

বোকা জুনিয়র্সের ১৯ বছরের এই তারকা গত দুটি ম্যাচে প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন। তাঁর রয়েছে দুর্দান্ত গতি ও অসাধারণ ড্রিবলিং ক্ষমতা। এই ফ্লোরিসকে নিয়ে আর্জেন্টাইনরা ভীষণ আশাবাদী। মাঝমাঠে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানোও ভীষণ সম্ভাবনাময়। নিকো পাজ ও মাস্তানতুয়ানোর জুটি ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে সম্পদ হবে বলেই অনেকের প্রত্যাশা। রিভার প্লেটের আরও একজনের মধ্যে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তিনি হলেন ২৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড মাতিয়াস সুলে। ফরোয়ার্ড লাইনে রয়েছেন অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের গিলিয়ানো সিমোনে। আর্জেন্টিনা দলে প্রতিভার কমতি নেই। শুধু নেই মেসির মতো জাদুকর।

২০২৭ সালের হজে ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজ চালু সৌদির, কী আছে এতে

বিদেশ থেকে হজে আসা মুসল্লিদের জন্য ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজ চালু করেছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। নতুন এই ব্যবস্থায় হজ এজেন্সিগুলো একটি মাত্র চুক্তির মাধ্যমে হাজিদের আবাসন, যাতায়াত, খাবার এবং পবিত্র স্থানগুলোর প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে পারবে।

সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন এই প্যাকেজের ফলে বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাদা আলাদা চুক্তি করার প্রয়োজন হবে না। বিদেশি হজ এজেন্সি ও হাজিদের বিষয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো একটি মাত্র ইলেকট্রনিক আবেদনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব সেবা নিতে পারবে। হাজিদের সৌদি আরবে পৌঁছানো থেকে শুরু করে দেশে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন সেবা এই চুক্তির আওতায় থাকবে।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, নতুন ব্যবস্থায় হজের আনুষ্ঠানিকতা আরও সহজ হবে, স্বচ্ছতা বাড়বে এবং হজ এজেন্সি, হাজিদের বিষয় দেখভালকারী দপ্তর ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক আরও স্পষ্ট হবে।

‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে চারটি প্রধান সেবা রাখা হয়েছে। এগুলো হলো—পবিত্র স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় সেবা, মক্কা ও মদিনায় আবাসন, পরিবহন এবং খাবার। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের হাজিদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী অতিরিক্ত কিছু সেবা যুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

এর আগে হজের আয়োজকদের প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা আলাদা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় পুরো হজযাত্রার প্রয়োজনীয় সেবাগুলো একটি আবেদনের মাধ্যমে একত্রে নেওয়া যাবে। এতে প্রতিটি চুক্তির আওতায় কোন কোন সেবা থাকবে এবং সেগুলো কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

২০২৭ সালের হজ মৌসুমের আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নতুন এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ এবং ‘পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নেও এটি ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।

নতুন ব্যবস্থাটি ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে চালু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হাজি, হজের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন দেশের হাজিদের বিষয় দেখভালকারী দপ্তরগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। প্ল্যাটফর্মটিতে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ তৈরি এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে চুক্তি সম্পন্ন করতে পারে। এর ফলে আগে পৃথক পৃথক মাধ্যমে পরিচালিত অনেক কার্যক্রম একটি ব্যবস্থার আওতায় এসেছে।

হজে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের বড় অংশই সৌদি আরবের বাইরে থেকে যান। সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি ফর স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হজ মৌসুমে মোট ১৭ লাখ ৭ হাজার ৩০১ জন হজ পালন করেন। এর মধ্যে ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫৫ জনই ছিলেন বিদেশি। সৌদি আরবের অভ্যন্তর থেকে হজ পালন করেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৬ জন।

সৌদি আরবের ‘পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর অন্যতম লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৩ কোটি ওমরাহ পালনকারীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন এবং ওই বছর হাজি ও ওমরাহ পালনকারীদের সন্তুষ্টির হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করা। হাজিদের সৌদি আরবে পৌঁছানোর আগের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে দেশটিতে অবস্থানকালীন অভিজ্ঞতা উন্নত করার বিষয়টিকে এ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর আগে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় চলতি বছরের ওমরাহ মৌসুমের সময়সূচি ঘোষণা করে এবং ‘নুসুক মাসার’-এর মাধ্যমে হজ ও ওমরাহ এজেন্টদের যোগ্যতা যাচাই ও চূড়ান্ত চুক্তির কার্যক্রম শুরু করে। সাধারণত সৌদি কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে হজের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার তথ্য প্রকাশ করে। প্রথম দিকে চুক্তি ও এজেন্টদের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত জানানো হয়। এরপর হজের সময় ঘনিয়ে এলে পবিত্র স্থানগুলোতে সেবা ও অন্যান্য কার্যক্রমের বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ইসরায়েলের আগ্রাসনে তিন বছরে গাজায় ৮০০ শিক্ষক নিহত

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের পর থেকে ৮০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

গতকাল সোমবার পালিত বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, আগ্রাসন ও পদ্ধতিগত লক্ষ্যবস্তুকরণের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি শিক্ষকরা শিক্ষার অধিকার রক্ষায় প্রকৃত সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। ১৭০ জনের বেশি শিক্ষক এখনও কঠোর পরিস্থিতিতে আটক রয়েছেন।

এ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের ক্লিয়ারেন্স রাজস্ব ইসরায়েল অব্যাহতভাবে আটকে রাখায় গুরুতর অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, যা শিক্ষকদের আর্থিক ও মানসিক সুস্থতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলেও জানায় মন্ত্রণালয়।

ধ্বংস করা হয়েছে ২ লাখের বেশি ভবন
ইসরায়েলের হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞে গাজা উপত্যকার প্রায় ৮২ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (পিসিবিএস)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ২ লাখ ১ হাজার ২৯০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

ফিলিস্তিনি সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসনের কারণে গাজা উপত্যকার প্রায় ৮২ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গাজায় প্রায় ২ লাখ ১ হাজার ২৯০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি উপত্যকার মোট ভবনের প্রায় ৮২ শতাংশ।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এর মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪২২টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। আরও ১৩ হাজার ৮৪৮টি ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬২৭টি আবাসিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।

পিসিবিএস জানিয়েছে, এই ধ্বংসযজ্ঞ পানি ও বর্জ্যপানি ব্যবস্থার অবকাঠামোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত পানি ও বর্জ্যপানি অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, গাজার ৮২ শতাংশ পরিবার পানির নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন মাথাপিছু মাত্র প্রায় ৬ লিটার বা ১.৬ গ্যালন পানি পাচ্ছেন।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৪৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৭২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

‘মক্কা চুক্তি’ সক্রিয়, সৌদিতে সেনা মোতায়েন করতে সম্মত তুরস্ক ও পাকিস্তান

ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের পাল্টা অভিযান শুরুর মধ্যেই দেশটির পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। নতুন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোট ‘মক্কা চুক্তি’র আওতায় সৌদি আরবে দ্রুত সেনা মোতায়েন করবে দেশ দুটি।

সোমবার সৌদি রাজধানী রিয়াদে তিন দেশের প্রতিনিধিদের জরুরি বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানানো হয়। তবে যৌথ বিবৃতিতে হুতিদের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন দেশ ‘সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা বা হুমকির সুস্পষ্ট বিরোধিতা’ করে। পাশাপাশি সম্মিলিত প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের বিষয়ে একমত হয়েছে তারা।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন হুতিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর দাবি, ১২ বছরের যুদ্ধে হুতিরা যে বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে, সেগুলো পুনরুদ্ধার করাই এ অভিযানের লক্ষ্য।

তবে সৌদি আরবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সেনা মোতায়েন হুতিদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কী ধরনের সামরিক প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পাকিস্তানের সেনারা আগে থেকেই সৌদি আরবে রয়েছে। দেশটিতে পাকিস্তানের কয়েক হাজার সেনা অবস্থান করছে। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের পাশে দাঁড়াতে পাকিস্তান চারটি উড়োজাহাজে করে অস্ত্র ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে পাঠিয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের এক পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানি সদস্যরা ইতিমধ্যে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলেও মোতায়েন রয়েছেন। তবে তারা সৌদি সামরিক বাহিনীর হয়ে চুক্তিভিত্তিক কাজ করছেন, নাকি সরাসরি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সদস্য-তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে সোমবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস মারফির সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। ইয়েমেন যুদ্ধের অন্যতম কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন মারফি। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে তিনি ইয়েমেনে যুদ্ধের সমালোচনা করেছিলেন।

তবে ওই যুদ্ধবিরতি গত জুলাইয়ে ভেঙে যায়। এরপর হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলা শুরু করে। দুই মাস পর লোহিত সাগরের উপকূল ধরে নতুন করে অভিযান চালায় তারা।

সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী সোমবার দাবি করেছে, হুতিদের দখলে থাকা উপকূলীয় এলাকার বেশির ভাগই তারা পুনর্দখল করেছে।