Home Blog Page 270

ঘূর্ণিঝড় ‘মেলিসা’র ২৫০ কিমি বেগে তাণ্ডব, ক্যারিবীয় অঞ্চলে নিহত ৭

আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘মেলিসা’ ভয়াবহ শক্তি সঞ্চয় করে এখন পর্যন্ত অন্যতম শক্তিশালী ঝড়ে পরিণত হয়েছে। ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে এসে এটি ক্যারিবীয় অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

মার্কিন ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানিয়েছে, মেলিসা বর্তমানে ক্যাটাগরি–৫ মাত্রার একটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ঝড়টি সাগর উপকূলে প্রবল জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঝড়ের তাণ্ডবে এ পর্যন্ত ৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে—জ্যামাইকায় তিনজন, হাইতিতে তিনজন এবং ডোমিনিকান রিপাবলিকে একজন। এছাড়া আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

রেড ক্রসের হিসাব অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্তত ১৫ লাখ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জ্যামাইকা। দেশটির সরকার জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য একটি অনলাইন সহায়তা পোর্টাল খোলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, আগামী ২৪ ঘণ্টায় জ্যামাইকার পার্বত্য এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে, যা বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব প্রতিবেশী কিউবায়ও পড়তে শুরু করেছে। দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলগুলো থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, বুধবার ভোর নাগাদ ‘মেলিসা’ কিউবার দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মেলিসা অতিরিক্ত শক্তি অর্জন করেছে। তাদের মতে, এই ঘূর্ণিঝড় কেবল জ্যামাইকা নয়, বরং পুরো ক্যারিবীয় অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ মানবিক সংকটের বার্তা বহন করছে।

অ্যাটর্নি অফিসে ‘ফ্যাসিস্টের দোসরদের’ নিয়োগ বাতিল চেয়ে বিক্ষোভ

সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কর্মরত ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে পরিচিত আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী সমাজ নামে একটি সংগঠন।

বিক্ষোভের সময়ে তারা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।

বুধবার (২৯ অক্টোবর ) সকালে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সামনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে অংশ নেন।

নেতারা বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এখনও ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিত অনেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজ করে যাচ্ছেন। এটা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের জন্য হয়নি। অবিলম্বে ফ্যাসিবাদের দোসরদের নিয়োগ বাতিল করতে হবে।

বক্তারা বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি নতুন নিয়োগের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে আরেকটি তালিকা করা হয়েছে। যেখানে ফ্যাসিবাদের দোসরদের রাখা হয়েছে। আমরা এই নিয়োগ কার্যকর হতে দেবো না।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দীন, ব্যারিস্টার আশরাফ রহমান, মিনারা খাতুন লাকী প্রমুখ।

শর্ত মিললে শাকিবের সঙ্গে অভিনয় করবেন মিষ্টি জান্নাত

ঢালিউড অভিনেতা শাকিব খানের সঙ্গে দুই নায়িকার সিনেমায় কাজ না করার ব্যাপারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী মিষ্টি জান্নাত। যে সিনেমায় দুই বা তার অধিকসংখ্যক নায়িকা থাকবে, সেই সিনেমায় অভিনয় করতে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন মিষ্টি জান্নাত। অভিনেত্রী বলেন, শাকিব খানের সঙ্গে তার কাজের গুঞ্জন যেহেতু উঠেছে, তাই কিছু একটা অবশ্যই দর্শকদের দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে তিনি শর্তজুড়ে দিয়েছেন যে, তিনি কোনোভাবেই একাধিক নায়িকা নিয়ে নির্মিত সিনেমায় কাজ করবেন না। তিনি বলেন, আমি কোনো দুই নায়িকার সিনেমায় কাজ করতে চাই না। এটি আমি বরাবরই না করেছি। অনেক সিনেমা আমি ক্যানসেল করেছি, আমার পছন্দ না।

মিষ্টি জান্নাত বলেন, এখানে আসলে ঝামেলা হয়। আর অফকোর্স সুপারস্টার, ওনার সঙ্গে তো আমি দুই নায়িকার সঙ্গে সিনেমা করব না। এটা মানুষ খারাপ বলুক, ভালো বলুক, তাদের ব্যাপার। বাট আমি করব না। এটা শাকিবকে আমিও না করেছি। আই অ্যাম সো সরি অ্যাবাউট দিস।

অভিনেত্রী বলেন, আমি শাকিব খানকে অলওয়েজ বলে দিয়েছি। আমি সিঙ্গেল ওর সঙ্গে কাজ করব। কারণ আমার ওই যে লাইক দুই নায়িকা, এক নায়িকা ও রকম ছবি আমি করতে চাই না। আর গুঞ্জন যেহেতু উঠেছে, সেহেতু তো অবশ্যই দেখতে পাবেন।

মিষ্টি জান্নাত বলেন, আমি তো কখনো বলিনি যে ধামাকা মানেই শাকিব খান আসবে। আপনারা বানিয়েছেন। ধামাকা মানে যে শাকিব খানের সঙ্গে আমার সিনেমা আসবে, এ রকম তো বিষয় নয়।

তবে কাজের ক্ষেত্রে তিনি যে কোনো প্রযোজকের কাছে অনুরোধ করে সুযোগ নিতে চান না, সে বিষয়টি স্পষ্ট করে অভিনেত্রী বলেন, আমি রিকোয়েস্ট করে কোনো সিনেমা করব, ওই লেভেল আমার সঙ্গে যায় না। আমি ওরকম মানুষ না। আমার এতটুকু সেলফ রেসপেক্ট আছে।

প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৯৫০ গোল ছুঁলেন রোনালদো

কদিন আগেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বলেছিলেন, ১০০০ গোল না করে তিনি থামবেন না। সেই লক্ষ্যে এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন পর্তুগিজ মহাতারকা। গত শনিবার রাতে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে স্পর্শ করেছেন ৯৫০ গোলের মাইলফলক। অর্থাৎ হাজার গোল করতে ৪০ পেরোনো রোনালদোর প্রয়োজন আর মাত্র ৫০ গোল।

ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের উদযাপনের ছবি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন রোনালদো। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘দলকে সাহায্য করতে পেরে এবং ৯৫০ গোল করতে পেরে আনন্দিত। সব সময় আরও বেশি কিছুর জন্য ক্ষুধার্ত।’

রোনালদোর মাইলফলক ছোঁয়ার রাতে সৌদি প্রো লিগের ম্যাচে আল-হাজমের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে আল নাসর। প্রতিপক্ষের মাঠে জয়ের পথে ম্যাচের ৮৮ মিনিটে লক্ষ্যভেদ করেন রোনালদো। এর আগে ম্যাচের ২৫ মিনিটে দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন রোনালদোর পর্তুগিজ সতীর্থ জোয়াও ফেলিক্স।

এটি চলতি প্রো লিগে ফেলিক্সের ৬ ম্যাচে নবম গোল। ফেলিক্স-রোনালদোর গোলে পাওয়া এ জয়ে চলতি মৌসুমের দুর্দান্ত শুরুটাও ধরে রাখল শীর্ষে থাকা আল নাসর। ৬ ম্যাচের প্রতিটিতে জেতা দলটির পয়েন্ট এখন ১৮।

দারুণ ছন্দে থাকা রোনালদো এই মৌসুমে ৮ ম্যাচে করেছেন ৭ গোল। যেখানে সৌদি লিগে ৬ ম্যাচে মাঠে নেমে তার গোল ৬টি। অন্য গোলটি এসেছে সৌদি সুপার কাপে।

আর ২০২৫ সালে রোনালদো সব মিলিয়ে গোল করেছেন ৩৮ ম্যাচে ৩৪টি। যেখানে ক্লাবের হয়ে ৩০ ম্যাচে ২৬ গোল এবং জাতীয় দলের হয়ে রোনালদো করেছেন ৮ ম্যাচে ৮ গোল। সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ ও হাজার গোলের মাইলফলক সামনে রেখে দুর্দান্ত এক বছরই পার করছেন রোনালদো।

রাউজানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিএনপি নেতা নিহত

চট্টগ্রামের রাউজানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আলমগীর আলম (৫৫) নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বিকেল ৫টার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কায়কোবাদ আহম্মদ জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় রিয়াজ ও আকিব নামে দুইজন যুবদল নেতাও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া।
স্থানীয়রা জানান, নিহত আলমগীর আলম বিএনপি নেতা। তিনি রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পূর্ব রাউজানের সিদ্দিক চৌধুরী বাড়ির আবদুস সত্তারের ছেলে।
আলমগীরের ছেলে আসফায়েত হোসেন বলেন, শনিবার দুপুরে পরিবারের সবাই মিলে পূর্ব রাউজান রশিদ পাড়ায় ফুফুর বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়েছিলাম। বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে কায়কোবাদ আহম্মদ জামে মসজিদের সামনে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি করে আমার বাবাকে হত্যা করে।
রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আলমগীর নামে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মরদেহ সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কে বা কারা গুলি করে পালিয়ে গেছে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
এদিকে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার। তিনি বলেন, আলমগীর আওয়ামী শাসনামলে দীর্ঘ ১২ বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি কারামুক্ত হয়েছিল। তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে যারা হত্যা করেছে- তাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
গত ৭ অক্টোবর উপজেলার বিএনপি কর্মী মুহাম্মদ আবদুল হাকিমকে (৫২) রাউজানের খামার বাড়ি থেকে ফেরার পথে হাটহাজারীর মদুনাঘাটে চলন্ত গাড়িতে গুলি করে হত্যা করে অস্ত্রধারীরা। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই উপজেলায় আরও একটি হত্যার ঘটনা ঘটল।
উল্লেখ্য, রাউজানে গত ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১২টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে জানা যায়।

দুদকের রিমান্ডে আরামিট পিএলসির ৩ কর্মকর্তা

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় আরামিট পিএলসির তিন কর্মকর্তা- মো. আব্দুল আজিজ, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও উৎপল পালকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম।

তিনি জানান, ঢাকা-১ এর উপসহকারী পরিচালক মো. সজীব আহমেদের তদন্তাধীন মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গতকাল রোববার কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে রিমান্ড কার্যকরের জন্য দুদক প্রধান কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার দুদক আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত তাদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দুদক জানায়, আসামি মো. আব্দুল আজিজ, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও উৎপল পাল সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার এবং সেখানে সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তারা সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে যোগসাজশে নিজেদের নামে নামসর্বস্ব কাগুজে প্রতিষ্ঠান খুলে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসিসহ একাধিক ব্যাংক থেকে ভুয়া ঋণ গ্রহণ করে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতে সহায়তা করেন।

দুদক আরও জানায়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঋণের নামে আত্মসাতকৃত বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের বিস্তারিত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

লালমনিরহাটে খড়ের দামে কৃষকের মুখে হাসি, খামারিরা বিপাকে

লালমনিরহাটে সম্প্রতি ধানের খড়ের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। এতে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেও গবাদিপশু খামারিরা পড়েছেন বিপাকে। মৌসুম শেষে ধান ও খড় ঘরে তোলার পর অবশিষ্ট খড় সংরক্ষণ করে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে ভালো লাভ করছেন কৃষকরা।
তবে খামারিদের অভিযোগ, খড়ের এই অস্বাভাবিক দামের কারণে গবাদিপশুর খাবার জোগাড়ে এখন অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
জানা গেছে, বর্তমানে ১০০ আঁটি খড় বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়, আর ১ হাজার আঁটির দাম দাঁড়িয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। কিছুদিন আগেও প্রতি আঁটির দাম ছিল মাত্র ৩ থেকে ৪ টাকা। খামারিদের আশঙ্কা, কয়েক দিনের মধ্যেই প্রতি আঁটির দাম ৯–১০ টাকায় পৌঁছাতে পারে। শুধু খড় নয়, ভুসি, চালের গুঁড়া ও অন্যান্য পশুখাদ্যের দামও বেড়ে গেছে, ফলে গবাদিপশু পালন ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ধানের খড় গরুর অন্যতম প্রধান খাদ্য উপাদান। সাধারণত খড় কেটে ভুসি ও চালের গুঁড়ার সঙ্গে মিশিয়ে গরুকে খাওয়ানো হয়, যা তাদের পুষ্টি ও বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। তাই খামারিরা সারা বছর খড় সংরক্ষণ করে রাখেন। কিন্তু সাম্প্রতিক খড়ের সংকট ও দাম বৃদ্ধিতে খাদ্য জোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের কৃষক আবু সালাম আলী বলেন, “আমার গোয়ালে দুটি বাছুর ও একটি গরু আছে। আগে প্রতি আঁটি খড় ২–৩ টাকায় পেতাম, এখন বাজারে ৮ টাকায় কিনতে হচ্ছে। খড়ের এমন দামে গরু পালন করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে, বিক্রিও করতে পারছি না।”
তিস্তা পাড়ের কৃষক আব্দুল ইসলাম বলেন, “গত দুই–তিন মৌসুমে খড়ের সংকট বেড়েছে। আগে হাতে ধান মাড়াই হতো, তাই খড় অক্ষত থাকত। এখন আধুনিক যন্ত্রে ধান মাড়াই ও আকস্মিক বন্যার কারণে অনেক খড় নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে মাংস ও দুধ উৎপাদনেও প্রভাব পড়বে।”
পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, তিন বিঘা জমি থেকে তিনি ৩ হাজার ৬০০ আঁটি খড় সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করেছেন।
“প্রতি আঁটি ৬ টাকায় বিক্রি করেছি, মোট পেয়েছি প্রায় ২১ হাজার ৬০০ টাকা। ধানের পাশাপাশি খড়ের ভালো দাম পেয়ে বেশ সন্তুষ্ট,” বলেন তিনি।
বড়বাড়ী বাজারের খুচরা খড় বিক্রেতা ইব্রাহিম আলী জানান, “মৌসুমে গ্রামের কৃষকের কাছ থেকে প্রতি আঁটি খড় ২–৩ টাকায় কিনি। এখন বাজারে দাম বেড়ে বিক্রি করে ভালো লাভ হচ্ছে। এই ব্যবসায় এখন সন্তোষজনক আয় করছি।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “খড়ের দাম বেড়ে কৃষকরা লাভবান হলেও খামারিরা সমস্যায় পড়েছেন। উন্নতমানের ঘাস চাষ ও খড় সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করলে খামারিরা খরচ কমাতে পারবেন। এতে গবাদিপশুর পুষ্টি নিশ্চিতের পাশাপাশি দুধ ও মাংস উৎপাদনও বাড়বে।

আ. লীগের প্রত্যাবর্তনের সব দরজা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন বলেছেন, ‘আদর্শ ও মতের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও গণতন্ত্রের স্বার্থে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে এক হতে হবে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের সব দরজা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
গতকাল শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের বিভেদের কারণে ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন ঘটলে জাতি ক্ষমা করবে না।’
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দেশ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন ঠেকাবো।’
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘দুই-চার কলাম লেখার জন্য আমাকে প্রায় সাড়ে নয় বছর নির্বাসনে থাকতে হয়েছে, আয়নাঘরে থাকতে হয়েছে, নির্যাতনে কারাগারে থাকতে হয়েছে। কিন্তু কখনো সংগ্রামের পথ থেকে পিছিয়ে যাইনি।’
সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ‘এক সময় আমি ও আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান পিজি হাসপাতালের প্রিজন সেলে ছিলাম। করোনারি কেয়ার ইউনিটের একটি সেলে আমাদের রাখা হয়। তিনি অনশন শুরু করলে তাকে বলেছিলাম, আপনি মারা গেলে শেখ হাসিনা খুশি হবে, দয়া করে অনশন ভঙ্গ করুন। ছয়-সাত দিন পর মুরুব্বিরা দেখা করে তার অনশন ভাঙ্গান।’
ছাত্রদের অভ্যুত্থানের গৌরবময় ইতিহাস বুকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা।
তিনি বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের রক্তঝরা দিনগুলো স্মৃতিতে ধরে রেখে, তার ভিত্তিতেই আমাদের আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হবে। সন্তানদের জন্য একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হবে আমাদের দায়িত্ব।’
আমাদের সন্তানদের রক্তের অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে বলে সকলের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

হামাসকে নিশ্চিহ্নে অর্থ-অস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে ইসরায়েল

গাজা উপত্যকায় হামাসকে নিশ্চিহ্ন করতে অন্তত চারটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে বিভিন্নভাবে সমর্থন ও সহায়তা দিচ্ছে ইসরায়েল। শনিবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গাজায় সর্বশেষ গঠিত একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা হুসাম আল-আস্তাল স্কাই নিউজে বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

আস্তাল জানান, ‘প্রজেক্ট নিউ গাজা’ নামে একটি পরিকল্পনার আওতায় চারটি বিদ্রোহী গ্রুপ একযোগে কাজ করছে। এসব গ্রুপের লক্ষ্য গাজা থেকে হামাসের শাসন অপসারণ। তিনি আরও দাবি করেন, এই উদ্যোগে অন্য নেতাদের মধ্যে ইয়াসের আবু শাবাব ও আশরাফ আল-মানসিও যুক্ত হয়েছেন।

স্কাই নিউজের তথ্যমতে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ)-এর পোস্ট থেকে মাত্র ৭০০ মিটার দূরে গাজা সীমান্তের ইয়েলো লাইন এলাকায় আস্তালের সদরদপ্তর অবস্থিত। আইডিএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ে একটি ‘গ্রিন জোন’ চুক্তি হয়েছে। গ্রিন জোন এলাকায় কোনো গোলাগুলি বা বিমান হামলা চালানো হবে না বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে আইডিএফ।

প্রচারিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, আস্তালের ব্যবহৃত কিছু গাড়িতে হিব্রু লেখা ছিল যা পরে মুছে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব যানবাহন গাজার বাইরে থেকে আনা হয়েছে এবং তারা কালোবাজার থেকে হামাসের কিছু অস্ত্রও কিনেছে।

স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবু শাবাব বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এক সদস্য দাবি করেছেন, ইসরায়েল তাদের অস্ত্র, নগদ অর্থ ও যানবাহন গোপনে গাজায় আনতে সহায়তা করেছে। অন্য দুটি গোষ্ঠীও নাকি একই ধরনের সহায়তা পেয়েছে।

তবে আল-মানসি সংগঠনের নেতারা আইডিএফের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কথা অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তারা শুধু জেলা অফিসের মাধ্যমে সমন্বয় করে থাকে যা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হয়।

গাজায় নতুন বেসামরিক প্রধান নিয়োগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও টেকসইভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এক অভিজ্ঞ কূটনীতিককে নতুন বেসামরিক প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেসামরিক প্রধান হিসেবে স্টিভ ফ্যাগিন এই দায়িত্ব পালন করবেন।

ফ্যাগিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল প্যাট্রিক ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে কাজ করবেন। প্যাট্রিক ইতোমধ্যেই ‘সিভিল-মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন সেন্টারের’ সামরিক প্রধান হিসেবে দায়িত্বে আছেন। অক্টোবরের ১০ তারিখে যুদ্ধবিরতির হওয়ার পর ১৭ অক্টোবর ইসরায়েলে এই কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে। এ কেন্দ্রটির কাজ হলো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণ এবং গাজায় ত্রাণ সরবরাহসহ অন্যান্য লজিস্টিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা।

জানা গেছে, প্রায় ২০০ মার্কিন সেনা বর্তমানে কেন্দ্রটিতে কাজ করছেন। সেখানে ইসরায়েল, ইউরোপীয় দেশগুলো, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, জাতিসংঘ ও বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একযোগে কাজ করছেন মার্কিন সেনারা।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত শুক্রবার কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি এ পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক উদ্যোগ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় উত্থান-পতন থাকবে। তবে এখন পর্যন্ত অগ্রগতি নিয়ে আমাদের যথেষ্ট আশাবাদী।

স্টিভ ফ্যাগিন দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করছেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্প্রতি ফ্যাগিন একই সঙ্গে ইয়েমেনের রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি ইরাকের বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক হিসেবেও তিন মাস দায়িত্ব পালন করেছেন।

নিরপেক্ষ প্রশাসনের হাতে ক্ষমতা দিতে একমত হামাস-ফাতাহ

যুদ্ধবিরতির পর গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে ফিলিস্তিনের প্রধান রাজনৈতিক সংগঠনগুলো। নিরপেক্ষ এ প্রশাসনের হাতে গাজা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে হামাস, ফাতাহসহ অন্যান্য মুক্তিকামী সংগঠন।

গত শুক্রবার কায়রোতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে হামাসের ওয়েবসাইটে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকা পরিচালনার দায়িত্ব একটি অস্থায়ী নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ প্রশাসনিক কমিটি আরব দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় গাজায় মৌলিক সেবা পরিচালনা করবে।

এছাড়া যৌথ বিবৃতিতে জাতীয় লক্ষ্যকে সামনে রেখে সকল দলের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। দলগুলো ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও) পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে তার ভূমিকা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে পিএলও- ফাতাহ। এ সংগঠনের সঙ্গে আদর্শ ছাড়াও রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে হামাসের। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কায়রোতে হামাস ও ফাতাহ প্রতিনিধিদলের মধ্যে মার্কিন সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতেও বৈঠক চালিয়ে যাওয়ার এবং ইসরায়েলি সরকারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফিলিস্তিনি অভ্যন্তরীণ ঐক্য জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

এই বিষয়ে হামাসের মিত্র ইসলামিক জিহাদসহ পিএলও-ভুক্ত গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ও পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব ফিলিস্তিনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন মিসরের গোয়েন্দা প্রধান হাসান রাশাদ।

২০০৬ সালের নির্বাচনের পর হামাস ও ফাতাহর রাজনৈতিক বিরোধ একসময় সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সংঘর্ষ দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি ঐক্যের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাড়িয়েছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে উভয় দল যুদ্ধ পরবর্তী গাজা প্রশাসনের জন্য একটি যৌথ কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে।

২০০৭ সালে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হামাস আগেই জানিয়েছে যে, তারা যুদ্ধোত্তর গাজার প্রশাসন চালাতে আগ্রহী নয়। তবে সংগঠনের যোদ্ধাদের নিরস্ত্র করার বিরোধিতা করছে হামাস।

দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

দক্ষিণ চীন সাগরে আধ ঘন্টার ব্যবধানে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ও একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন সকল ক্রু সদস্য। রোববার এ দুর্ঘটনা ঘটে। উভয় ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে বিস্তর অনুসন্ধান শুরু করেছে দেশটির নৌবাহিনী। খবর সিএনএনের।

রোববার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া বার্তায় মার্কিন নৌবাহিনী জানায়, মেরিটাইম স্ট্রাইক স্কোয়াড্রন (এইচএসএম) ‘ব্যাটল ক্যাটস’র জন্য নিযুক্ত একটি এমএইচ-৬০আর সিহক হেলিকপ্টার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস নিমিৎজ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করার সময় বিধ্বস্ত হয়।

ঘটনার পর, বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে স্ট্রাইক ফাইটার স্কোয়াড্রন (ভিএফএ) ২২-এর ‘ফাইটিং রেডককস’র জন্য নিযুক্ত একটি এফ/এ-১৮এফ সুপার হর্নেট ফাইটারও নিমিৎজ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করার সময় বিধ্বস্ত হয়। নৌবাহিনী জানিয়েছে, উভয় আকাশযানের ক্রু সদস্যরা সফলভাবে বেরিয়ে আসেন এবং তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

এই বসন্তে লোহিত সাগরে নৌবাহিনীর দুটি সুপার হর্নেট জেট হারিয়ে যাওয়ার পর একই সিরিজের যুদ্ধবিমান হারানোর এটি তৃতীয় কোনো দুর্ঘটনা। নৌবাহিনীর মতে, একটি পৃথক এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমানের দাম ৬ কোটি ডলারেরও বেশি।

চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় বেশ কয়েকটি দেশ দ্বারা বেষ্টিত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন অংশের মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আদালতের রায় অমান্য করে বেইজিং প্রায়ই সমস্ত কৌশলগত জলপথের মালিকানা দাবি করে।