Home Blog Page 273

ফটোগ্রাফারের আবদার শুনে চটে গেলেন সোনম বাজওয়া

বলিউড অভিনেত্রী সোনম বাজওয়া। শুক্রবার সকালে মুম্বাই বিমানবন্দরে দেখা যায় তাকে; তারই কিছু স্থিরচিত্র ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল।
এদিন সকালে করিডোর ধরে বিমানবন্দরের ভেতরের দিকে এগোচ্ছিলেন অভিনেত্রী। ভাইরাল সেই ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে হাঁটা শুরু করতেই অভিনেত্রীকে দেখে শোরগোল শুরু করে ফটোগ্রাফাররা। আর সে সময় অভিনেত্রীকে ‘পোজ’ দেওয়ার আবদার করে বসেন তারা।
এরপরই নিজের প্রতিক্রিয়া দেন সোনম, পেছন ফিরে খানিকটা বিরক্তের দৃষ্টিতে তাকান, এরপর খানিক চটে গিয়ে বলে ওঠেন, ‘সকাল ৭টার সময় আপনাদের কী ছবি দেব আমি?’
যদিও সোনম মাস্ক থাকায় তার মুখের অভিব্যক্তি পুরোপুরি বোঝা যায়নি। তবে কণ্ঠস্বর থেকে বিরক্তি বোঝা যায়। এরপর পরিস্থিতি আর ঘোলাটে করেননি তিনি, হাত নাড়িয়ে ভেতরে চলে যান।
সোনম বাজওয়া বর্তমানে হর্ষবর্ধন রানের সঙ্গে জুটি বেঁধে আলোচনায় রয়েছেন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাদের ছবি ‘দিওয়ানে কি দিওয়ানিয়ত’।

 

ব্রয়লারের কেজি ১৭০, পাঙাশ ১৮০!

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজারে মুরগি ও মাছের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও সাধারণ ক্রেতার জন্য তেমন স্বস্তি আসেনি। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়, আর পাঙাশ মাছ ১৮০ টাকায়।
বিক্রেতারা বলছেন, ব্রয়লারের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় সামান্য কমলেও দেশি মুরগি ও অন্যান্য মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে বাজারে সামগ্রিকভাবে দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
আজ (শুক্রবার) সকাল থেকে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর কাঁচাবাজার এবং মালিবাগ-বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০-১৮০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৮০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ৩২০ এবং দেশি মুরগি ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি পাতিহাঁস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে।
বিক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। পাইকারি পর্যায়ে দাম সামান্য কমেছে, খুচরা বাজারে এর প্রভাবও পড়েছে। তবে দেশি ও সোনালি মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
আজমপুর বাজারের বিক্রেতা সালেক ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে ব্রয়লারের পাইকারি দাম ছিল কেজিপ্রতি ১৮০ টাকার ওপরে। এখন সেটা ১৫৫–১৬০ টাকায় নেমে এসেছে। তাই খুচরায় আমরা ১৭০ টাকায় বিক্রি করছি। তবে খাবার আর পরিবহন খরচ না কমলে দাম আরও নামবে না।
মালিবাগ এলাকার বিক্রেতা সাইদুর রহমান বলেন, দেশি আর সোনালি মুরগির দাম অনেক দিন ধরেই একই জায়গায় আছে। ক্রেতারা এখন ব্রয়লারের দিকেই ঝুঁকছে কারণ সেটা তুলনামূলক সস্তা।
আর ক্রেতারা বলছেন, অতিরিক্ত দামের কারণে এখন ব্রয়লার মুরগিতেই ভরসা রাখতে হচ্ছে। কারণ, ব্রয়লার ছাড়া অন্য সোনালি কিংবা পাকিস্তানি ছোট মুরগির দামও হয়ে যায় দ্বিগুণ।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা আজম খান বলেন, ব্রয়লার ছাড়া অন্য মুরগির দাম তো এখন হাতের নাগালে নেই। একটা ছোট সোনালি মুরগিই নিতে ৩৫০ টাকা লেগে যায়। সাধারণ মানুষ এখন শুধু ব্রয়লারেই ভরসা রাখছে। আবার মাসের শেষ। কোনো রকমে বাকি দিনগুলো চালিয়ে নিতে পারলেই হয়।
অন্যদিকে মাছের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারে কেজিপ্রতি রুই মাছ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, কাতল ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, শিং ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, চাষের মাগুর ৫০০ টাকায়, কৈ ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় এবং তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও পরিবহন খরচ ও খামার পর্যায়ের মূল্য অপরিবর্তিত থাকায় দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
এমন অবস্থায় বিক্রেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই খুচরা বাজারে মাছের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে।
মালিবাগ বাজারে মুরগি ও মাছ কিনতে আসা ক্রেতা সুমন মিয়া বলেন, এখন তো ব্রয়লার আর পাঙাশের দাম প্রায় এক হয়ে গেছে। আগে মুরগি তুলনামূলক সস্তা ছিল, এখন দুটোর দামই ১৭০-১৮০ টাকার মধ্যে। বাজারে গেলে বোঝাই যায়, সব কিছুর দামই এক লেভেলে উঠে গেছে।

 

নভেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান, অংশ নেবেন নির্বাচনে: সালাহউদ্দিন

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই দেশে ফিরবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন সালাহউদ্দিন।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ আছে কি না, জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুব শিগগিরই নির্ধারিত তারিখটি জানতে পারবেন। আশা করি নভেম্বরের মধ্যেই তিনি ফিরবেন।’
জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কোন কোন আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। তিনি সেটা সাক্ষাৎকারে বলেই দিয়েছেন। আসন পরে নির্ধারিত হবে। বাংলাদেশের যে কোনো আসন থেকে তিনি নির্বাচন করতে পারেন।’
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আমরা আশা করছি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নেবেন নির্বাচন করবেন কি না। আমরা চাই তিনি নির্বাচনে অংশ নিন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, চলতি মাসে অন্তত ২০০ আসনে বিএনপির প্রার্থীদের গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হবে।
এনসিপির সঙ্গে জোট হবে কি না এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপির সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা হচ্ছে। তবে বিএনপি আর এনসিপি জোটভুক্ত হবে কি না, সেটা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে। জোটভুক্ত হওয়ার বিষয়ে এনসিপির সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, জোটভুক্ত হলে দলগুলো অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে পারতেন। এটি পরিবর্তনে সম্মতি ছিল অধিকাংশ দলের। আমরা আশ্বস্ত ছিলাম, কিন্তু যেভাবে আরপিও পাস হলো, তাতে আকারে ছোট দলগুলো জোটবদ্ধ হতে উৎসাহিত হবে না।

 

শুল্ক কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, সমঝোতার পথে ট্রাম্প-মোদি?

বহুদিনের জটিল আলোচনার পর অবশেষে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ট্যারিফ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি বড় অগ্রগতি ঘটেছে। দু’দেশের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদিত হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। দু-সপ্তাহ আগে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ব্যাংক জেপি মর্গানের প্রধান নির্বাহী জেমি ডিমন এমন তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মার্কিন প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা তাকে এ বিষয়টি জানিয়েছেন।
বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ও সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি সমঝোতা হলে তা হবে নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। জেপি মর্গানের চেয়ারম্যান সাইমন জ্যাককে জেমি ডিমন আরও কিছু তথ্য জানিয়েছিলেন, তবে সেগুলো ‘অফ দ্য রেকর্ড’ থাকায় প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
এই সাক্ষাৎকারের কিছুদিন পর, গত ২১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে আয়োজিত দীপাবলি উদ্‌যাপনে ভারতীয়–আমেরিকানদের এক সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, সদ্যই তার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির টেলিফোনে কথা হয়েছে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল বাণিজ্য এবং রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ কমিয়ে আনা।
তার কিছুক্ষণ পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে দিওয়ালির শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। মোদি লিখেছেন, তিনি আশা করেন, বিশ্বের দুই মহান গণতন্ত্র একসঙ্গে বিশ্বকে আশায় ও আলোয় আলোকিত করবে। যদিও তিনি সরাসরি বাণিজ্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি, তার বক্তব্যে সহযোগিতার সুর স্পষ্ট ছিল।
পরদিন ২২ অক্টোবর, ভারতের প্রথম সারির অর্থনৈতিক দৈনিক দ্য মিন্ট তাদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়- পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত অন্তত তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৫০ শতাংশ ট্যারিফ খুব শিগগিরই ১৫ থেকে ১৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে।
তাদের মতে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে এ মাসের শেষ দিকে মালয়েশিয়ায় আয়োজিত আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের মঞ্চেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মোদির উপস্থিতিতে দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
তবে ট্রাম্পের উপস্থিতি প্রায় নিশ্চিত হলেও মোদি সেখানে স্বশরীরে যোগ দেবেন কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ধারণা করা হচ্ছে, চুক্তি বিষয়ে ঐকমত্য হলে মোদিকেও মালয়েশিয়ায় দেখা যেতে পারে।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও হোয়াইট হাউস এখনও দ্য মিন্ট-এর প্রতিবেদনে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ট্যারিফের হার কমিয়ে আনার জল্পনা ভারতের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বৃহস্পতিবার সকালে মুম্বাই শেয়ারবাজারের সূচক ৮০০ পয়েন্ট বেড়ে সর্বকালীন রেকর্ডের দিকে এগোচ্ছে।
রাশিয়া থেকে তেল আমদানিই প্রধান ইস্যু
মার্কিন প্রশাসনের আরোপিত ৫০ শতাংশ ট্যারিফের অর্ধেক অংশই রাশিয়া থেকে ভারতের ক্রুড অয়েল আমদানির জন্য ‘জরিমানা’ হিসেবে ধরা হয়েছে। বাকি ২৫ শতাংশ হলো ভারতের পাল্টা শুল্কের জবাবে আরোপিত ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই শর্ত শিথিল করতে হলে ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে। ওয়াশিংটনের সূত্রগুলোও সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির প্রবাহের দিক পরিবর্তন করে সমস্যার সমাধান খোঁজা হচ্ছে। অর্থাৎ রাশিয়া থেকে কম তেল কিনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি তেল আমদানির চেষ্টা চলছে।
দিওয়ালির অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘এইমাত্র প্রধানমন্ত্রীর মোদির সঙ্গে কথা হলো, আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো। তিনি রাশিয়া থেকে এখন খুব বেশি তেল কিনবেন না। আসলে আমিও যেমন চাই যুদ্ধ (রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে) বন্ধ হোক, মোদিও চান তাই।’
আগে যেখানে ট্রাম্প কঠোরভাবে বলেছিলেন ভারতকে রাশিয়ার ক্রুড কেনা বন্ধ করতে হবে, সেখানে তার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে অনেকেই ‘নীতি নরম করার’ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
ভারতের অবস্থান এখনও পরিষ্কার। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুলভ দামে যেখানে তেল পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই আমদানি করা হবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের বাজারে রাশিয়ার তেল আগের মতো সস্তা না থাকায় ভারতের অর্থনৈতিক সাশ্রয়ও কমে গেছে।
দ্য মিন্ট জানিয়েছে, এই প্রেক্ষাপটেই ভারতীয় কর্মকর্তারা সম্প্রতি মস্কো সফরে গিয়ে রাশিয়াকে জানিয়ে এসেছেন– তেল আমদানির পরিমাণ কমাতে তারা বাধ্য হবেন। তবে ঘাটতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কিনতে হলেও আমেরিকা এখনও রাশিয়ার মতো তেলের দামে ছাড় দিতে রাজি হয়নি।
সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে বহুদিন ধরে। একাধিক সময় নির্ধারিত ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে গেছে। প্রধান বাধা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দাবি– ভারতের কৃষি, দুগ্ধ ও জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত (জিএম) খাদ্যপণ্যের বাজারে তাদের প্রবেশাধিকারের সুযোগ দিতে হবে।
ভারত মনে করে, এতে তাদের কৃষিখাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী মোদি একাধিকবার বলেছেন, কৃষকের স্বার্থের সঙ্গে আপস করে কোনো বাণিজ্য চুক্তি হবে না।
তবে সূত্রমতে, ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্রের নন-জিএম কর্ন (ভুট্টা) ও সয়মিল (সয়াবিনজাত পণ্য) আমদানি বাড়াতে সম্মত হয়েছে। বর্তমানে আমেরিকা থেকে নন-জিএম ভুট্টা আমদানির বার্ষিক কোটা পাঁচ লাখ টন–যা অনেক বাড়ানো হতে পারে।
চীনের সাম্প্রতিক আমদানি হ্রাসের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন বাজার খুঁজছে, আর ভারত সেই সুযোগ তৈরি করতে পারে। একইসঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পোলট্রি ফিড, দুগ্ধজাত খাদ্য ও ইথানলের মতো বিকল্প জ্বালানির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে– যা এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে।
তবে মার্কিন দুধ ও চিজজাত পণ্যের ওপর ভারতের উচ্চ শুল্ক কমানো হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
দিল্লি ও ওয়াশিংটন উভয় থেকেই ইঙ্গিত মিলছে– চুক্তির একটি সাধারণ রূপরেখা তৈরি হয়েছে। তবে জ্বালানি ও কৃষিখাতের কয়েকটি সংবেদনশীল ইস্যুতে রাজনৈতিক সম্মতি না এলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সম্ভব নয়।
চীন-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ভারতের জন্য সুযোগ?
গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ অজয় কুমার শ্রীবাস্তব মনে করেন, এই সম্ভাব্য চুক্তির পেছনেও চীনের একটি পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে।
“চীন যেমন ‘রেয়ার আর্থ’ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য যুদ্ধও ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) তৈরির জন্য নতুন অংশীদার খুঁজছে, এবং ভারত এখন তাদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ভারতকে ১৬ থেকে ১৮ শতাংশ ট্যারিফ শ্রেণিতে ফেলতে চাইবে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের ১৫ শতাংশের চেয়ে সামান্য বেশি, কিন্তু ভিয়েতনামের ২০ শতাংশের চেয়ে কম।

 

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই: সুপ্রদীপ চাকমা

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নাই। সরকার পার্বত্য অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষা ও জীবনযাত্রার উন্নয়ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

গতকাল রাজধানীর মিরপুর শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহারে আয়োজিত কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আজ এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, এ বছর নভেম্বরের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের ১০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিজিটালাইজড করা হবে।

ইতোমধ্যে অধিকাংশ স্থানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ডিজিটাল কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ বছরের নভেম্বরের মধ্যে ১০০টি স্কুলে ডিজিটাল কার্যক্রম চালু করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই উন্নয়নের জন্য মানসম্মত শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, আমাদের পার্বত্য অঞ্চলের ছেলে মেয়েরা ভালো করছে, সুযোগ পেলে আরও ভালো করবে।

লাইভলিহুড ডেভেলপমেন্টকে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হিসেবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন অপরিহার্য। পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো মানসম্মত স্কিম গ্রহণ করা হয়নি, তাই সংশ্লিষ্টদের বাস্তবসম্মত ও লাইভলিহুড ভিত্তিক স্কিম গ্রহণের নির্দেশ দেন উপদেষ্টা।

তিনি জানান, আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সঠিক উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল করতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা আরও জানান, লাইভলিহুড ডেভেলপমেন্টে মোট বরাদ্দের ৪০% ব্যয় করা হবে এবং প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের জন্য বরাদ্দকৃত ৫৩০ কোটি টাকা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের মাঝে যথাযথভাবে বণ্টন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভান্তে প্রজ্ঞানন্দ মহাথের, বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভিক্ষুগণ এবং সমাজের সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার শঙ্কা

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট একটি লঘুচাপ ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। এই নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন সমুদ্রের পরিস্থিতি উত্তাল থাকার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) এ তথ্য জানায়।

বিডব্লিউওটি জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপটি আজ (২৫ অক্টোবর) সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে ২৬-২৭ অক্টোবর গভীর নিম্নচাপ এবং পরবর্তী সময়ে একটি ‘সাধারণ মানের ঘূর্ণিঝড়ে’ পরিণত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, লঘুচাপের প্রভাবে এরই মধ্যে দক্ষিণ ও মধ্য বঙ্গোপসাগর উত্তাল হতে শুরু করেছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্য ও দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের অধিকাংশ স্থান উত্তাল থাকতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে এর প্রভাব প্রথম দিকে কিছুটা কম হলেও, ২৭-২৮ তারিখের দিকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং গভীর সাগরও কিছুটা উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। এজন্য সমুদ্রে থাকা সব ধরনের মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাকে সাবধানে চলাচল করতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম আরও জানায়, সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়টি ২৮-২৯ তারিখ নাগাদ ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে আগামীকাল দেশের অধিকাংশ স্থানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম। কেবল বান্দরবান, কক্সবাজার এবং খুলনা-বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় দু-এক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে সামান্য বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে, আবহাওয়ার বড় পরিবর্তন আসতে পারে আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে। এ সময় ‘বৃষ্টি বলয়’ চালু হয়ে ২ নভেম্বর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দেশের অধিকাংশ স্থানে কম-বেশি বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে। এই বৃষ্টি বলয় চলাকালীন দেশের আকাশ অধিকাংশ স্থানে আকাশ মেঘলা থাকতে পারে।

প্রিয় রঙে নুসরাত ফারিয়া

ঢালিউডের অন্যতম দাপুটে নায়িকা নুসরাত ফারিয়া। অভিনয় থেকে শুরু করে গ্ল্যামার, উপস্থাপনা কিংবা আইটেম গানে নাচ; সবখানেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। পর্দার ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও সরব ফারিয়া; প্রায়ই ভক্তদের সঙ্গে নিজের নতুন নতুন লুক ও মুহূর্ত শেয়ার করেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় নতুন সাজে হাজির হলেন নুসরাত ফারিয়া। বুধবার দুপুরে ফেসবুকে শেয়ার করেছেন একগুচ্ছ ছবি, যেখানে তাকে দেখা গেছে হালকা পিস্তাচিও সবুজ শাড়িতে। শাড়ির সঙ্গে মানানসই ব্লাউজ, গলায় ভারী রুপালি চোকার, কানে তার সঙ্গে মিলিয়ে পরা দুল; নরম ওয়েভি হেয়ারস্টাইলে ধরা দিয়েছেন আবেদনময়ী এক লুকে। পোস্টের ক্যাপশনে ফারিয়া লিখেছেন, ‘এই মৌসুমে আমার প্রিয় রঙ।’
পোস্টটিতে ভক্তদের ভালোবাসায় ভরে গেছে মন্তব্য ঘর। কেউ লিখেছেন, ‘অসাধারণ লুক!’, কেউ আবার জানিয়েছেন, ‘আপনি প্রতিনিয়তই ঝলমলিয়ে উঠছেন’। এছাড়াও অনেকেই হৃদয়ের আর আগুনের ইমোজি দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছেন কমেন্ট বক্স।
অনেকদিন ধরেই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন নুসরাত ফারিয়া। এর ফাঁকেই একেকদিন একেক সাজে ভক্তদের সামনে হাজির হচ্ছেন তিনি। কখনো ওয়েস্টার্ন, কখনো ফিউশন লুকে, আবার কখনো একেবারেই ক্যাজুয়াল ভঙ্গিমায়। প্রতিবারের মতো এবারও তার নতুন লুক ভক্তদের মধ্যে আলাদা সাড়া ফেলেছে।

 

রেকর্ডের বন্যা বইয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে দাপুটে এক পারফরম্যান্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসানের জোড়া ফিফটি, এরপর নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেনদের ঘূর্ণিঝড়ে ক্যারিবিয়ানদের ১৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল টাইগাররা।
বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে আবারও হাসির ঝলক। ২০২৪ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পর দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সিরিজ জয়ের মুখ দেখল বাংলাদেশ। মিরপুরের সবুজ গ্যালারি সাক্ষী হয়ে রইল রইল একঘূর্ণি নৈপুণ্যের, যেখানে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে স্বাগতিকরা ১৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এই জয় শুধু সিরিজ জয়ের নয়, মিরাজের অধিনায়কত্বের প্রথম মুকুটও বটে।
দুপুরে টস জিতে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান। প্রথম উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ১৭৬ রানের জুটি—যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় শুরুতেই। সৌম্য ৮৬ বলে ৯১ ও সাইফ ৭২ বলে ৮০ রান করে সাজঘরে ফেরেন। মাঝের সারিতে হৃদয় (২৮) ও শান্ত (৪৪) দলকে ২৯৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন।
প্রতিপক্ষের বোলারদের মধ্যে একমাত্র আকিল হোসেনই কিছুটা সফল ছিলেন; ১০ ওভারে ৪১ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে দলের লজ্জা কিছুটা কমান তিনি।
কিন্তু এরপর যা হলো, তা ছিল একতরফা ঘূর্ণি উৎসব। স্পিনারদের সামনে ক্যারিবীয় ব্যাটারদের অসহায় আত্মসমর্পণ। শুরুটা করেন নাসুম আহমেদ—দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণে ৬ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন তানভির ইসলাম (২/১৬) ও রিশাদ হোসেন (৩/৫৪)। নেতৃত্বে থেকেও নিজের ছাপ রাখেন মিরাজ, নেন ২ উইকেট।
পুরো ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টিকেছিল মাত্র ৩০.১ ওভার। তাদের ইনিংস গুটিয়ে যায় ১১৭ রানে। কেবল আকিল হোসেন কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন—১৫ বলে ২৭ রানের ইনিংস খেলে। বাকিরা কেউই ঘূর্ণি সাম্রাজ্য ভেদ করতে পারেননি।
এ জয় বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয় (১৭৯ রানে) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়।

 

৪৪৬ কোটি টাকায় এক লাখ টন চাল কিনবে সরকার

আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ও জি টু জি ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিয়ানমার থেকে এক লাখ টন চাল আমদানি করবে সরকার। এর মধ্যে ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল ও ৫০ হাজার টন আতপ চাল রয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৪৪৬ কোটি ২৩ লাখ ০৮ হাজার ৫৭০ টাকা।
বুধবার (২২ অক্টোবর) ভার্চুয়ালি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্যাকেজ-০২ এর আওতায় ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মেসার্স ক্রেডেন্টওয়ান এফজেডসিও থেকে এই চাল আনতে ব্যয় হবে ২১৬ কোটি ৯০ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ টাকা। প্রতি টন চালের দাম পড়বে ৩৫৫.৯৯ (তিনশত পঞ্চান্ন দশমিক নয় নয়) মার্কিন ডলার।
এছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমার সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পর্যায়ে ৫০ হাজার টন আতপ চাল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
মিয়ানমার রাইস ফেডারেশন থেকে এই চাল আনতে ব্যয় হবে ২২৯ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি টন চালের দাম পড়বে ৩৭৬.৫০ মার্কিন ডলার।

 

বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৩৬ কারখানা পেল আন্তর্জাতিক ‘সবুজ’ সনদ

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প আবারও বিশ্বকে তাক লাগিয়েছে। টেকসই উৎপাদনে নেতৃত্ব ধরে রেখে ২০২৫ সালে ৩৬টি কারখানা অর্জন করেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত পরিবেশবান্ধব সনদ—যা এক বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অর্জন।
এর আগে ২০২২ সালে ৩০টি কারখানা এ সনদ পেয়েছিল। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে গার্মেন্ট শিল্প।
বিজিএমইএর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ২২টি কারখানা পেয়েছে সর্বোচ্চ ‘প্লাটিনাম’ সনদ, যা পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদনে বাংলাদেশের বৈশ্বিক নেতৃত্বকে আরও দৃঢ় করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) থেকে এ পরিবেশবান্ধব সনদ দেওয়া হয়। এ সনদ পাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছু শর্ত পরিপালন করতে হয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ শর্তের কিছু পরিবর্তনও হয়। পাশাপাশি সনদের আলাদা সংস্করণও থাকে। মোট ১১০ নম্বরের মধ্যে কোনো কারখানা ৮০-এর বেশি পেলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ পেলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০-৫৯ নম্বর পেলে ‘লিড সিলভার’ ও ৪০-৪৯ নম্বর পেলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ সনদ দেওয়া হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ২৬৮টি লিড সার্টিফায়েড কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ১১৪টি প্লাটিনাম ও ১৩৫টি গোল্ড সনদপ্রাপ্ত। অর্থাৎ বাংলাদেশের কারখানাগুলো সর্বোচ্চ মানের পরিবেশবান্ধব কারখানার শর্ত পূরণ করতে পারছে। বাকি ১৯টি কারখানার মধ্যে সিলভার সনদপ্রাপ্ত কারখানা ১৫টি ও সার্টিফায়েড সনদপ্রাপ্ত কারখানা ৪টি।
বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি উচ্চ রেটিং পাওয়া লিড সার্টিফায়েড কারখানার মধ্যে ৬৮টিই বাংলাদেশের। এই অর্জন বাংলাদেশের পোশাক খাতকে টেকসই উৎপাদনে বৈশ্বিক মানদণ্ডে নিয়ে গেছে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, এই অর্জন বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। আমরা এখন বিশ্বের কাছে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
মহিউদ্দিন রুবেল বর্তমানে ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।