জাতিসংঘকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে: ড. ইউনূস
ঘূর্ণিঝড় নিয়ে সতর্কবার্তা জারি, আঘাত হানতে পারে যেসব স্থানে
আমেরিকান বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘এ্যসেন্ড’-এর উদ্বোধন | প্রবাসী বাংলাদেশি
ডেস্ক রিপোর্ট: নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হচ্ছে প্রতিদিনই। বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা নিউইয়র্ক সিটিতে সুনামের সাথে ব্যবসা করছেন। তারা আমেরিকার মূলধারার সাথেও সম্পৃক্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশী আমেরিকান নতুন প্রজন্ম ব্যবসা-বাণিজ্যে সফলতার সাথে এগিয়ে আসছে। নতুন প্রজন্মের আমেরিকান বাংলাদেশীরা মেধাবী এবং দেশপ্রেমিক। তারা আমেরিকায় জন্ম নিয়েও বাঙালি ভাষা-সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেয়।
বাংলাদেশী-আমেরিকান পরিচালিত আরও একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন হলো কুইন্সের কিউগার্ডেন এলাকায়। এটি মেডিকেল থেরাপি, স্পা সহ যাবতীয় স্কিন কেয়ারের অত্যাধুনিক প্রতিষ্ঠান। সূর্য তালুকদারের মালিকানা ও পরিচালনায় এই প্রতিষ্ঠানের নাম এ্যাসেন্ড। গত ৩০ সেপ্টেম্বর এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে এই এ্যাসেন্ড ওয়েলনেস এন্ড মেডিকেল স্পা’র উদ্বোধন করা হয়।
ফিতা কাটেন এই প্রতিষ্ঠানের সিইও সূর্য তালুকদার। এই সময় সূর্য তালুকদারের সাথে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট এসেম্বলিম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন, এসেম্বলির্যনা জেনিফার রাজকুমার সহ নিউইয়র্ক সিটির স্মল বিজনেস সার্ভিস ও অন্যন্য অফিসের প্রতিনিধিবৃন্দ। তারা এই প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশীরা যে দক্ষতার সাথে তাদের ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তার জন্য ধন্যবাদ জানান। ডেভিড ওয়েপ্রিন ও জেনিফার রাজকুমার সূর্য তালুকদারের হাতে সাইটেশন তুলে দেন। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদারও উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, সূর্য তালুকদার, রতন তালুকদারের একমাত্র পুত্র।




ছোটবেলা থেকেই মানুষ আমায় ‘লালনকন্যা’ বলে ডাকে: সালমা
বিনোদন জগতের সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সালমা দীর্ঘ ৯ বছর পর কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের আখড়াবাড়ির মূলমঞ্চে গান গাইলেন। লালন শাহের তিরোধান দিবসের আয়োজনে গত শনিবার রাতে তিনি পরিবেশন করেন ‘মিলন হবে কত দিনে’সহ লালনের চারটি গান। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে লালন শাহের আখড়া মঞ্চে গান গাওয়া প্রসঙ্গে কথা বললেন সালমা। অনেক দিন পর আখড়াবাড়িতে গান গাওয়া প্রসঙ্গে সালমা বলেন, দীর্ঘ ৯ বছর পর গান করলাম। অনেক ভালো লেগেছে। মনে হচ্ছে— বাড়ির মেয়ে ঘরে ফিরেছি। সবাই জানত আমি আসছি, লালন একাডেমি আগেই জানিয়েছিল। এবার দর্শকদের ভিড় ছিল অসাধারণ। নিজের এলাকার মানুষ যখন এভাবে ভালোবাসা দেখায়, সেটি অন্য রকম এক অনুভূতি।
গুরু বা সহশিল্পী—পুরোনো কারও সঙ্গে দেখা হলো কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ, গুরুভাইদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। গুরুজি বাউল শফি মণ্ডলের দুই শিষ্য তফি ভাই আর শাহাবুদ্দীন ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছে। এ সংগীতশিল্পী বলেন, তাদের সঙ্গে প্রায় ২৫ বছর আগে থেকে কাজ করছি। তাদের দেখে মনে হচ্ছিল, যেন আবার সেই ছোটবেলায় ফিরে গেছি। কত স্মৃতি আমাদের। যেখানেই গান করেন, মৌলিক গানের পাশাপাশি লালনের গান করেন, কিন্তু কেন? এর জবাবে সালমা বলেন, আমি কুষ্টিয়ার মেয়ে, তাই এটা আমার দায়বদ্ধতা। ছোটবেলা থেকেই মানুষ আমাকে ‘লালনকন্যা’ বলে ডাকে। আমি নিজে বলি না, মানুষই বলে। জানি না লালন সাঁইজির ‘নাতিপুতি’ হওয়ার যোগ্য কিনা। এ সংগীতশিল্পী বলেন, আমি মনে করি, ফরিদা পারভীনই ছিলেন লালন ফকিরের আসল কন্যা। তিনি সাঁইজির বাণীকে এক জীবনের সাধনায় ধারণ করেছেন। তার অবদান অপরিসীম। যত দিন লালনের বাণী থাকবে, ফরিদা পারভীন ম্যাডামও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।
আগামীতে ছেঁউড়িয়ার আয়োজনে আপনাকে দেখা যাবে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে সালমা বলেন, অবশ্যই। শুধু লালন উৎসব নয়, কুষ্টিয়াবাসীর যে কোনো অনুষ্ঠানে ডাক পেলে আসতে চাই। তবে আমি চাই, আয়োজকরা যেন সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অনেক সময় বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়, তখন বাজেট নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়। তিনি বলেন, এলাকার বাইরে একজন প্রফেশনাল আর্টিস্ট হিসেবে অনুষ্ঠান করে যে টাকাটা ইনকাম করি, তৃতীয় পক্ষ কিন্তু সেই বাজেটটা বলেন। তখন কিন্তু রাগ–অভিমান করে এলাকার আয়োজকরা আমাকে ফোন করা বন্ধ করে দেন। আমি চাই, তারা সরাসরি আমার সঙ্গে কথা বলুন, জানুন আমি কেমন আছি, কী ভাবছি।
দেশের মাটিতেই অবসর নেওয়ার আশা সাকিবের
রাজনীতির ঝড়, নিজেকে বাণিজ্যিকীকরণসহ নানাকিছু নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়ে না সাকিব আল হাসানের। তবে সবকিছু সত্ত্বেও তিনি নিজের মতোই খেলে চলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মাইনর লিগ ক্রিকেটে (এমআইএলসি) আটলান্টা ফায়ারের প্রথম শিরোপা জয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।
সম্প্রতি ক্রিকেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজের সঙ্গে সামগ্রিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সাকিব। তিনি বলেন, জুলাইয়ের সময় কিছু ঘটনা আমার বিরুদ্ধে চলে গেছে। হয়তো দেশের মানুষ আমার থেকে ভিন্ন কিছু আশা করছিল, আর আমি ওই পরিস্থিতিতে তা করতে পারিনি।
অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন অবসর নিয়েও। প্রত্যাশা করেছেন, দেশে খেলে বিদায় নেওয়ার। যদিও ২০২৪ সালে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন সাকিব। ভারতের বিপক্ষে কানপুরে টেস্টে মাঠে নামার আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তবে সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এখনো কোনো ফরম্যাট থেকে অবসর নেননি। শেরই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে শেষবারের মতো বিদায় নিতে চান।
দেশে খেলে বিদায় নেওয়ার সম্পর্কে সাকিব বলেন, ‘হ্যাঁ, শতভাগ প্রত্যাশা করি। এটা আমার চেয়ে বেশি চাই আমার ভক্তদের জন্য। যদি সেটা সম্ভব হয়, তাহলে সেটিই হবে আমার আর আমার সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত।’
শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, ডিএসইতে দাম বেড়েছে ২৪৯ কোম্পানির
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বৃহস্পতিবার লেনদেন ছিল ঊর্ধ্বমুখী ধারা। দিনের শেষে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি করেছে।
ডিএসইতে আজ মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৬টি লেনদেন সম্পন্ন হয়। এ সময় ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৫২ হাজারের বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়, যার মোট আর্থিক মূল্য ছিল ৪৬৮ কোটি ৬০ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯২ টাকা।
ডিএসইতে আজ ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের চেয়ে সূচক ৫৫.২০ পয়েন্ট বেড়ে ৫,১৪৯.৮৯ পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে। ডিএসইএস সূচক ১০.৭৫ পয়েন্ট বেড়ে ১,০৮৮.৫৪ পয়েন্টে এবং ডিএস-৩০ সূচক ২৩.৯২ পয়েন্ট বেড়ে ১,৯৯৮.১০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসইতে আজ মোট ৩৯৩টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৯টির দর বেড়েছে, ৮০টির দর কমেছে, এবং ৬৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
লেনদেন শেষে ডিএসইর মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন দাঁড়ায় ৭ লাখ ৫ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইক্যুইটি ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৬ কোটি ৯ লাখ ১৯ হাজার ৯৫৯ টাকা, মিউচুয়াল ফান্ড ২ হাজার ৫৭৭ কোটি ৪৯ লাখ ১৪ হাজার ৪৬৫ টাকা এবং ডেবট সিকিউরিটিজ ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৩৯ কোটি ৪৪ লাখ ৮৭ হাজার ৯৩৩ টাকা।
ক্যাটাগরি অনুযায়ী দেখা যায়, ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ২১৯টি কোম্পানির মধ্যে ১৪২টির দর বেড়েছে, ৫১টির কমেছে এবং ২৬টি অপরিবর্তিত ছিল।
‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৭৯টি কোম্পানির মধ্যে ৫৭টি বেড়েছে, ১৩টি কমেছে ও ৯টি অপরিবর্তিত ছিল। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ৯৫টির মধ্যে ৫০টির দর বেড়েছে, ১৬টির কমেছে ও ২৯টি অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘এন’ ক্যাটাগরিতে আজ কোনো কোম্পানির লেনদেন হয়নি।
মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩৪টির মধ্যে ১৬টির দর বেড়েছে, ৪টির কমেছে ও ১৪টি অপরিবর্তিত ছিল। করপোরেট বন্ডের (সিবি) ৩টি ইস্যুই দরপতনের মুখে পড়ে। অন্যদিকে, সরকারি সিকিউরিটিজ খাতে একমাত্র লেনদেন হওয়া ইস্যুটির দর বেড়েছে।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১২৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৮টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা নিয়ে সৌদির গোপন পরিকল্পনা ফাঁস
ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে নেতৃত্ব দিতে চায় সৌদি আরব। হামাসকে নিরস্ত্র ও প্রভাবহীন করার পাশাপাশি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (পিএ) আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে পুনরায় শক্তিশালী করতে চায় রিয়াদ। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক গোপন প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের হাতে এসেছে। সেখানেই এই পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব গাজায় একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের উদ্যোগকে সমর্থন করবে। এমন একটি বাহিনীতে সৌদি আরবসহ অন্য আরব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ অংশ নিতে পারে।
এতে বলা হয়, গাজা উপত্যকা ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থিতিশীলতা বাড়াতে সৌদি আরব নিজের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতে চায়। এটি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গাজার শাসনব্যবস্থায় হামাসের ভূমিকা কমানো এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে এমনভাবে সংস্কার করা হবে, যাতে ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়।
সৌদি আরব মনে করে, হামাস শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং বিভাজনকে আরো গভীর করছে, তাই গোষ্ঠীটির প্রভাব কমানো জরুরি। হামাসকে নিরস্ত্র করার কাজটি হবে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চুক্তির মাধ্যমে ধাপে ধাপে, যা নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করবে।
ধীরে ধীরে গাজায় প্রশাসনিক দায়িত্ব ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিলে হামাসের প্রভাব কমবে। এই প্রক্রিয়াকে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সঙ্গে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো উদ্যোগটি মিসর, জর্ডান ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা মানাল বিনতে হাসান রাদওয়ান।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ২০০৭ সালের পর থেকে গাজায় কোনো উপস্থিতি বজায় রাখতে পারেনি। সে সময় হামাসের নির্বাচনী বিজয়কে কেন্দ্র করে ফাতাহ ও হামাসের সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি মোকাবিলা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সব ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে সৌদি আরব ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কার আনতে চায়। সৌদি ফিলিস্তিনি জনগণের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তাও দেবে। এ ছাড়া ‘ফিলিস্তিনি জাতীয় সংলাপের’ আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বিভিন্ন গোষ্ঠী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ছাতার নিচে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। সৌদি আরব এই সংলাপকে সহায়তা করতে আঞ্চলিক কর্মশালা ও সম্মেলনের আয়োজন করবে।
তবে হামাসকে এই সংলাপে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। পুরো প্রতিবেদনে ইসরাইলের নাম একবারও আসেনি।
কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
প্রতিবেদনটিতে যে তারিখ উল্লেখ ছিল, এর আগের দিনই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা বন্ধে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
গ্রীষ্মকালে সৌদি আরব ও ফ্রান্স যৌথভাবে গাজার জন্য একটি শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করে, যা চলমান গণহত্যা বন্ধ, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংলাপ পুনরায় চালুর আহ্বান জানায়।
তবে অক্টোবরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করেন, যেখানে কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্র সহযোগিতা করে। ওই চুক্তিতে সৌদি-ফরাসি প্রস্তাবের অনেক অংশই অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বন্দি বিনিময় ও আংশিক ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ঘটে। হামাস নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয় চুক্তিতে। তবে হামাস নেতারা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ইসরাইলি দখল শেষ হয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত নিরস্ত্রীকরণ সম্ভব নয়।
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার ও মিসরসহ বিভিন্ন আরব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনী গঠনে এসব দেশের সেনা পাঠানোর আহ্বান জানান।
পরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে মিসরের শারম আল শেখে গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক শীর্ষ বৈঠক ডাকা হয়। তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বৈঠকে অংশ নেননি।
মিসর, সৌদি ও আমিরাতি সূত্রগুলো মিডল ইস্ট আইকে জানায়, তাদের অনুপস্থিতির কারণ ছিল চুক্তিতে প্রত্যাশিত প্রভাব ও ভূমিকা না পাওয়া নিয়ে অসন্তুষ্টি।
অঞ্চলের সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্র হিসেবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকেই গাজার মানবিক ত্রাণ ও পুনর্গঠনের মূল ব্যয় বহন করতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া
এদিকে বৃহস্পতিবার ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ বলেছেন, সৌদি আরব যদি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিনিময়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায়, তবে ইসরাইল তা প্রত্যাখ্যান করবে।
ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে এনসিপি
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি প্রতিনিধি দল। শনিবার সকাল ১০টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ঐকমত্য কমিশনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এনসিপির প্রতিনিধি দলে থাকবেন—দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাবেদ রাসিন, খালেদ সাইফুল্লাহ ও যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা।
বৈঠকে এনসিপির প্রতিনিধি দল জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আদেশ, আইনি ভিত্তিসহ সনদের নানা বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
হ্যাকার গ্রুপ ‘মিস্টিরিয়াস এলিফ্যান্টের’ টার্গেটে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ দলে সব সিদ্ধান্ত কি সালাউদ্দিন নেন? জানালেন মিরাজ


