Home Blog Page 276

মেসি-নেইমারদের অঞ্চলেও ক্রিকেট ছড়িয়ে দিতে বিশাল পদক্ষেপ আইসিসির

এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, ওশেনিয়া- এই চার মহাদেশের কিছু দেশেই ক্রিকেট আবদ্ধ ছিল বহুদিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হিসেবে রাখলে আমেরিকাতেও ছিল, তবে মহাদেশটির মূল ভূখণ্ডে ক্রিকেট ছড়িয়ে পড়ছে বেশি দিন হয়নি।

তবে এতকিছুর ভিড়ে দক্ষিণ আমেরিকায় ক্রিকেটের চর্চা হলেও কোনো বড় টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়নি এতদিন। এবার সেখানেও ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়ার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি।

যদিও সে সিদ্ধান্ত শুধু দক্ষিণ আমেরিকাকে কেন্দ্র করে নয়। দুই আমেরিকাকে নিয়ে হওয়া অ্যামেরিকান গেমসে এবার প্রথমবারের মতো যুক্ত হবে ক্রিকেট। যার ফলে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা আর নেইমারের ব্রাজিলেও ক্রিকেট আরও ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রকল্প বহু আগে থেকেই শুরু হয়েছে। এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট হয়েছে, আফ্রিকান গেমসেও যোগ হয়েছে ২০২৩ সালে। লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক দিয়ে প্রায় ১২৮ বছর পর ক্রিকেট ফিরেছে বৈশ্বিক ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় আসরে। এবার লাতিন আমেরিকায় প্যান অ্যাম গেমসেও নাম লেখাতে চলেছে ক্রিকেট। আগামী ২০২৭ সালের আসরে প্রথমবারের মতো এই গেমসে যোগ দেবে ক্রিকেট।

সবশেষ আইসিসি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এই সভায় আরও কিছু সিদ্ধান্ত এসেছে মাল্টি স্পোর্টস গ্লোবাল ইভেন্টে খেলা নিয়ে।

২০২৮ সালের অলিম্পিকে পুরুষ ও নারী- দুই বিভাগেই অনুষ্ঠিত হবে ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। আইসিসি জানিয়েছে, মোট ২৮টি ম্যাচ হবে এই আসরে। প্রতিটি বিভাগে থাকবে ছয়টি দল।

ছয় দলের মধ্যে পাঁচটি দল আসবে পাঁচটি অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় দল থেক-আফ্রিকা, আমেরিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও ওশেনিয়া। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেবে। ষষ্ঠ দলটি নির্ধারিত হবে বাছাইপর্বের মাধ্যমে। তবে সেই বাছাই টুর্নামেন্টের বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি।

ক্রিকেটের এই ঐতিহাসিক ইভেন্ট শুরু হবে ২০২৮ সালের ১২ জুলাই। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেস শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিশেষভাবে তৈরি ফেয়ারগ্রাউন্ডস স্টেডিয়ামে।

এর আগে ২০২৬ সালে জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে, ২০২৭ সালে মিসরের কায়রোয় আফ্রিকান গেমসে এবং একই বছরে পেরুর লিমায় পান-আম গেমসেও দেখা যাবে ক্রিকেটকে। এখানেই শেষ নয়। ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিক গেমসেও ক্রিকেটকে যোগ করার আলোচনা চলছে। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তা জানিয়েছেন, ২০৩২ সালের ব্রিসবেন অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ব্রিসবেন ২০৩২ আয়োজকদের সঙ্গে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অর্থবহ আলোচনা করেছি।’ আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ ও সঞ্জোগ গুপ্তা সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের লুজান শহরে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি), এলএ-২০২৮ এবং ব্রিসবেন-২০৩২ আয়োজকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে ইভেন্ট আয়োজন, খেলার ফরম্যাট এবং যোগ্যতা নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়।

বিদেশেও খ্যাতি ছড়িয়েছে বগুড়ার ‘কটকটি’

খাওয়ার সময় কটকট শব্দ হওয়ায় খাবারটির নাম কটকটি বলে ধারণা স্থানীয়দের। বগুড়ার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সুমিষ্ট খাবার কটকটি। অনেকে চেনেন মহাস্থানের কটকটি বলে। সুস্বাদু এই খাবারের সুনাম দেশের গণ্ডি ছাপিয়ে এখন ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে। শুকনো মিষ্টি এই খাবার আজ বগুড়ার গর্ব।

বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তরে ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ের অবস্থান। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য বিশ্বব্যাপী মহাস্থানগড়ের পরিচিতি আছে। তবে মহাস্থানগড়ের সুখ্যাতি রয়েছে সুস্বাদু কটকটির জন্য। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এই খাবারটি মহাস্থানগড়ে তৈরি ও বিক্রি হয়ে আসছে।

উনিশ শতকের গোড়ার দিকে স্থানীয়দের হাতে এই মিষ্টি খাবারের যাত্রা শুরু হয়। চালের বা গমের আটার সঙ্গে গুড় মিশিয়ে তৈরি হতো এই শুকনো মজাদার খাবার। শুরুর দিকে কটকটি বেশ শক্ত ছিল এবং খেতে কটকট শব্দ হতো। তবে সময়ের সঙ্গে এখন নরম ও সুস্বাদু কটকটি তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় প্রবীণদের মুখে শোনা যায়, প্রায় দেড়শত বর্ষ আগে বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল ইউনিয়নের পলাশবাড়ী উত্তরপাড়ার জয়নাল আলী মণ্ডল, ভোলা মণ্ডল আর গেদা মণ্ডল প্রথম কটকটি বানানো শুরু করেন। গ্রামের মেলা কিংবা বিয়ের আসরে তখন পরিবেশন করা হতো এই নতুন ধরনের খাবার। মচমচে স্বাদ আর সহজলভ্য উপকরণের কারণে দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে জনপ্রিয়তা।

মহাস্থানগড় এলাকায় প্রায় শতাধিক কটকটির দোকান রয়েছে। দোকানগুলোতে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে শত শত কেজি কটকটি। দামও ভিন্ন ভিন্ন। ডালডায় ভাজা কটকটি কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা, ঘি স্প্রে করা ২২০ টাকা, আর পোলার চালের কটকটি ২৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবারে অর্থ্যাৎ হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহঃ) এর বিজয় দিবসে ১ থেকে ২ হাজার মণ বিভিন্ন প্রকার কটকটি ব্যবসায়ীরা বিক্রি করে থাকেন।

এছাড়াও দর্শনার্থীরা মহাস্থানগড়ে ঘুরে ফেরার পথে তবারক হিসেবে কটকটি নিয়ে যান। দেশ ছাড়িয়ে আজ তা পৌঁছে গেছে বিশ্বের শতাধিক দেশে।

কটকটি ব্যবসায়ীরা জানান, বগুড়ার কটকটি এখন শুধু একটি খাবার নয়, এটি বগুড়ার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গর্বের প্রতীক। শুধু ঐতিহ্য নয়, এই খাবারকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর প্রায় ৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয় মহাস্থানগড় এলাকায়।

কটকটি ব্যবসায়ী শাহ আলম জানান, আমাদের পরিবার ছয় পুরুষ ধরে এই কটকটি ব্যবসা করে আসছে। এখন আমাদের দেখে আরও অনেকে এই পেশায় যুক্ত হয়েছে। মহাস্থান মাজারকে ঘিরে সারা বছরই এই ব্যবসা চলে।

কটকটি তৈরির কারিগর মজনু জানান, তারা ছোটবেলা থেকেই এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। কটকটি তৈরি করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করেন।

নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের বগুড়ার কর্মকর্তা মো. রাসেল জানিয়েছেন, মহাস্থানগড় মাজার এলাকায় কটকটি প্রস্তুত ও বিক্রয়ের উপর নিয়মিত তদারকি করা হয়। যেন কোনো ভেজাল রঙ বা স্যাকারিন ব্যবহার করা না হয়। দোকানি ও কারিগরদের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে কটকটি প্রস্তুতের পরামর্শ দেওয়া হয়।

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে: গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে। রাজনীতি স্থিতিশীল থাকলে অর্থনীতি সামনে আরও ভালোভাবে চলবে।

শনিবার টাঙ্গাইলের বাসাইলে ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্টের হলরুমে এমএফআই-ব্যাংক লিংকেজ বিষয়ে আঞ্চলিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির উদ্যোগে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকের অর্থ সহজে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

এ সময় গভর্নর পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার অগ্রগতি নিয়ে বলেন, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ইংল্যান্ডে আইনজীবী পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন গ্রুপ অব কোম্পানিগুলোর ক্লেইমটা এসটাবলিস্ট করার চেষ্টা করছে। যদি সাকসেসফুল হয়, তাহলে দ্রুত পজিটিভ রেজাল্ট আসবে।

গভর্নর তার বক্তব্যে বলেন যে, বর্তমানে আমরা এমন এক সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যেখানে ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, এজেন্ট ব্যাংকিং আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে দ্রুত রূপান্তরিত করছে।

ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন ডিজিটাল যুগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে—ডেটা-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অনলাইন সেবা, এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম আধুনিকায়ন করতে হবে। তবে তিনি বলেন খাতটির বিকাশে কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা আমাদের সবাইকে সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। ক্ষুদ্রঋণ খাতে ঋণ বিতরণে এভার গ্রীনিং একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সিআইবি বাস্তায়ন করা হলে এ সমস্যা অনেকাংশে দুর হবে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের হিসাবায়নে একটি ফায়ারওয়্যাাল তৈরি করতে হবে যেখানে সামাজিক কার্যক্রম ও ঋণ কার্যক্রম পৃথকভাবে প্রদর্শিত হবে। মডার্ণ ক্যাশলেস সিস্টেমের সাথে ইন্টিগ্রেটেড করা যায় এমনভাবে এমএফআই এর মূল একাউন্ট সংরক্ষণ করতে হবে। একসময় ব্যাংক এমএফআই এর কাছে যেত না, এখন যাচ্ছে। বর্তমানে ফরমাল ব্যাংক এজেন্ট বাংকের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সার্ভিস দিচ্ছে। আগামীতে ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদন পেলে আরো দ্রুত গ্রমীণ জনগোষ্ঠী সহজে ঋণ পাবে বলে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, আগামীতে ৫টি কোম্পানি ক্রেডিট স্কোরিং করার অনুমোদন পাচ্ছে, ফলে দ্রুততম সময়ে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ক্রেডিট স্কোর পাওয়া সম্ভব হবে। ব্যাংক থেকে এমএফআইতে কৃষি ঋণ বিতরণের হার বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি ইতিবাচক মতামত প্রদান করেন যাতে গ্রামীণ কৃষিতে অধিকমাত্রায় ঋণের প্রবাহ সৃষ্টি হয়।

ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের অধিক হারে আমানত গ্রহণের বিষয়ে গভর্ণর মহোদয় বলেন প্রতিষ্ঠানের গভার্নেন্স ইস্যুতে কোয়ালিটেটিভ জাজমেন্ট করার পর সন্তোষজনক হলে এই হার বাড়ানো যেতে পারে । অন্যদিকে ব্যাংক হতে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত ব্যাংক-এমএফআই ফ্রেমওয়ার্ক করা জন্য এমআরএ উদ্যোগ নিতে পারে মর্মে তিনি মত প্রকাশ করেন।

সেমিনারে সভাপতি হিসেবে অথরিটি’র এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধিতে ব্যাংক–এমএফআই সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ক্ষুদ্রঋণ খাতের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন এখন ব্যাংকগুলো এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে চড় অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্টির আমানত নিয়ে শহরে বিনিয়োগ করছে। কিন্তু সেসব এলাকায় ঋণ বিতরণ না করা হলে অর্থনৈতিক অসমতা সৃষ্টি হয়। সে বিষয়টিতে খেয়াল রাখার আহবান জানান। বর্তমানে এমএফআই গুলোর ক্ষুদ্রউদ্যোগ ঋণ বিতরণে অধিক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মিশন থেকে সরে যাচ্ছে কিনা সে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়ার অনুরোধ করেন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, অথরিটি নিয়মিতভাবে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের অর্থ প্রবাহ সুনিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। অথরিটি থেকে বৈদেশিক ঋণ, বন্ড ইস্যু, কৃষি ঋণ, উদ্যোগ ঋণ ও গৃহায়ন ঋণের বিষয়ে ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গুলোকে প্রত্যয়নপত্র প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে যা ক্ষুদ্রঋণ খাতে অর্থ প্রবাহ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করছে।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান বলেন অন্যান্য খাতে বিতরণকৃত ঋণের খেলাপীর হার অধিক হলেও ক্ষুদ্রঋণখাতে সোনালী ব্যাংকের ঋণ খেলাপীর হার ১ শতাংশেরও কম। অন্যদিকে ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত মহাব্যাবস্থাপক বলেন ক্ষুদ্রঋণ খাতের জন্য বরাদ্দকৃত ৫০০০ কোটি টাকা মধ্যে ইতিমধ্যে নির্র্দিস্ট ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় ৩৫০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং এখাতে আদায়ের হারও সন্তোষজনক।

শাপলা কলি’ পাওয়ায় দেবিদ্বারে আনন্দ শোভাযাত্রায় এনসিপি

নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন লাভ ও নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা কলি’ পাওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর নিজ এলাকা কুমিল্লার দেবিদ্বারে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ক‌রে‌ছে দল‌টির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

শনিবার দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ এলাকা থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে কু‌মিল্লা-‌সি‌লেট মহাসড়কের প্রায় আট কি‌লো‌মিটার এলাকা প্রদ‌ক্ষিণ ক‌রে দেবিদ্বার হাইস্কুল মাঠে এসে শেষ হয়। এতে মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও পিকআপসহ নানা বাহ‌নে ক‌রে শত শত নেতা-কর্মী বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ও ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত হয়ে অংশ নেন। মিছিলে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের পাশাপাশি দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন শোভা পায়।

এ সময় ‘এনসিপির মার্কা শাপলা কলি,’ ‘দিল্লি না ঢাকা-ঢাকা ঢাকা, ইনকিলাব জিন্দাবাদ,’ ‘গ্রাম-শহর অলিগলি, জিতবে এবার শাপলা কলি’ শ্লোগা‌নে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

এনসিপির দেবিদ্বার উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন লাভ আমাদের দলের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এটি প্রমাণ করে, জাতীয় নাগরিক পার্টি জনগণের স্বার্থে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই আগামী নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ হবে পরিবর্তনের প্রতীক।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির নেতা মো. শামীম কাউসার, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক নাজমুল হাসান নাহিদ, কাজী নাছির উদ্দীন, আরিফুল ইসলাম, ফয়সাল হোসেন, এমরান হোসেন, ফয়সাল মির্জা, জামাল হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্র সংসদের নেতা রাকিবুল হাসান হৃদয়, সাজেদুল রাফসান, শাহাদাত হোসেন শ্যামল ও মো. হাসানসহ আরও অনেকে।

দেশের সমস্ত সংকট তৈরি করা নাটক, মানুষ ভোট দিতে চায়- মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করে বলেছেন, দেশের সমস্ত সংকট তৈরি করা আর নাটক, মানুষ আসলে নিজের ভোটটা দিতে চায়।

রোববার(৯ নভেম্বর) বেলা ১ টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে ইউনিয়ন বাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন ।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের কয়েকটি রাজনীতিক দল সনদ ও গণভোটের কথা বলছে। আমরা বলছি গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই সময়ে হবে। উপস্থিত ইউনিয়ন বাসীর উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা সত্যি করে বলেন তো, সনদ ও গণভট নিয়ে আপনারা কি বুঝেন? বুঝেননা, আমিও বুঝিনা। সাধারণ মানুষ সনদ, গণভোট বুঝেনা, এসব বুঝে উচ্চ শিক্ষিত মানুষজন। সাধারণ মানুষ ভোট দিতে চায়।

নিজের সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণা করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি ১৯৯১ সাল থেকে নির্বাচন করছি। কখনো হেরেছি কখনো জিতেছি। আপনাদের ছেড়ে কখনো যাইনি। গত ১৫ বছর কোন নির্বাচন করতে পারিনি। যে সরকারটা ছিলো তারা আমাদের নির্বাচন করতে দেয়নাই। সামনে নির্বাচন আসতেছে এবারে আপনারা আপনাদের লোককে ভোট দিবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, হাসিনার মনে দরদ নাই, দরদ থাকলে দলের কর্মী ছেলে পালাতোনা। দলের কর্মীদের নেতাদের অসহায় করে ছেড়ে পালাতোনা।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিরা আমাদের উপর গণহত্যা চালিয়েছে। ২০২৪ আন্দোলনেও গণ হত্যা হয়েছে। দুটোই গণহত্যা। এবার ২৪ এ শেখ হাসিনার নির্দেশে ছাত্র জনতার উপর গুলি চালানো হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলোন, খোঁজ নেন কারা পাকিস্তানিদের সাথে সহযোগিতা করে দেশের মানুষ মেরেছে। কারা গণহত্যাতে সহযোগিতা করেছে।

পরিশেষে বিএনপর এই শীর্ষনেতা ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের দলের মনোনিত সংসদ সদস্য প্রার্থী সবার কাছে শেষ বারের মতো ভোট চান এবং শেষ নির্বাচন করে আমৃত্যু মানুষের সাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

এ সময় জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে দৌলতপুর বালিকা বিদ্যালয় মাঠে একই মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ছাড়াল ৬৯ হাজার

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক মাস পরও ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও মৃতদেহ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলেছে নিহতের সংখ্যা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৬৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে পশ্চিম তীরজুড়ে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা আরও তীব্র আকার নিয়েছে। রোববার (৯ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

শনিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৬৯ জনে। নতুনভাবে উদ্ধার ও শনাক্ত হওয়া লাশের কারণে এই সংখ্যা বেড়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, গত মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৪০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এদিকে শনিবারও নতুন করে হত্যার খবর এসেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, উত্তর গাজায় তাদের অবস্থানরত সেনাদের দিকে অগ্রসর হওয়া এক ফিলিস্তিনিকে তারা গুলি করে হত্যা করেছে। ওই ব্যক্তি ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত সীমারেখা অতিক্রম করেছিলেন।

এই ‘ইয়েলো লাইন’ হলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বাহিনী যে সীমারেখা পর্যন্ত পিছু হটার কথা, সেই এলাকা। ইসরায়েলি সেনারা জানায়, দক্ষিণ গাজাতেও একইভাবে সীমারেখা অতিক্রম করা আরেক ফিলিস্তিনিকে তারা হত্যা করেছে। তিনি নাকি সৈন্যদের জন্য “তাৎক্ষণিক হুমকি” সৃষ্টি করেছিলেন।

এমনকি ওই সীমারেখার কাছে আসা পরিবারগুলোর ওপরও ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর ফেলে যাওয়া বিস্ফোরকের কারণে এক ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নাসের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এমন অবস্থায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য গাজা ও মিসরের মধ্যে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ফিলিস্তিনি রোগী রাফাহ সীমান্ত দিয়ে মিসর ও অন্য দেশে চিকিৎসার জন্য গেছেন। তবে আরও ১৬ হাজার ৫০০ জন বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

অন্যদিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে। এসব হামলা ফিলিস্তিনিদের নিজেদের জমি থেকে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনার অংশ বলেও অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার দক্ষিণ নাবলুসের বেইতা শহরে জলপাই সংগ্রহে ব্যস্ত ফিলিস্তিনি গ্রামবাসী, কর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা।

ইসরায়েলি মানবাধিকারকর্মী জোনাথন পোলাক আল জাজিরাকে বলেন, মুখোশধারী ডজনখানেক বসতি স্থাপনকারী লাঠি ও বড় পাথর নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা পাহাড় থেকে নেমে আমাদের দিকে বিশাল পাথর ছুড়তে শুরু করে, আমাদের পালাতে হয়।

এই হামলায় অন্তত ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছেন এবং তাদের অনেককে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন সাংবাদিক এবং এক ৭০ বছর বয়সী কর্মী রয়েছেন বলেও জানা গেছে।

প্যালেস্টাইন জার্নালিস্টস সিন্ডিকেট জানিয়েছে, হামলায় তাদের পাঁচ সাংবাদিক — রানিন সাওয়াফতে, মোহাম্মদ আল-আত্রাশ, লুয়াই সাঈদ, নাসের ইশতাইয়েহ ও নাঈল বুয়াইতেল — আহত হয়েছেন। তারা এ ঘটনাকে “সাংবাদিক হত্যার উদ্দেশ্যে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ” বলে নিন্দা জানায়।

রয়টার্সও নিশ্চিত করেছে, তাদের দুই কর্মী — এক সাংবাদিক ও তার নিরাপত্তা পরামর্শক — হামলায় আহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর থেকে অন্তত ৭০টি শহর ও গ্রামে ১২৬টি হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ৪ হাজারেরও বেশি জলপাই গাছ ধ্বংস বা উপড়ে ফেলা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় পাচারকালে নৌকাডুবি, বাংলাদেশিসহ ৬ জন উদ্ধার

মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে ৯০ জন অবৈধ অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে গেছে। সমুদ্রে ভাসতে থাকা এক রোহিঙ্গা নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আরো ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। শনিবার রাতে নৌকা ডুবির এ ঘটনা ঘটে। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের।

কেদাহ পুলিশ প্রধান আবু শাহ জানিয়েছে, অভিবাসীরা প্রায় ৩০০ জনের একটি বড় দলের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিন দিন আগে যখন তারা মালয়েশিয়ার জলসীমার কাছে আসছিল, তখন সিন্ডিকেট তাদের তিনটি ছোট নৌকায় ভাগ করে দেয়, প্রতিটি নৌকায় প্রায় ৯০ জন করে ছিলেন।

তিনি জানান, ‘৯০ জন যাত্রী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্য দুটি নৌকা এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

তিনি আরো বলেন, উদ্ধারকৃত ছয়জন মিয়ানমারের নাগরিক, যাদের মধ্যে রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশিরাও রয়েছেন।

আবু শাহ জানান, ‘নৌকা ডুবির শিকার অন্যদের এবং বাকী দুটি নৌকা খুঁজে বের করার জন্য মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি এবং মেরিন পুলিশের সহায়তায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।’

ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হচ্ছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনের ভোটার হচ্ছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

রোববার সকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, আজ বিকেলে ঢাকা-১০ আসনের ধানমন্ডি থানার নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে ভোটার হওয়ার আবেদন করবেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই সমন্বয়ক।

এতে আরও বলা হয়, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বেলা তিনটায় ধানমন্ডি থানা নির্বাচন কার্যালয়ে উপস্থিত থাকবেন। তিনি ধানমন্ডি থানার ভোটার হবেন।

ঢাকা-১০ নির্বাচনী আসনটি ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও হাজারীবাগ থানা নিয়ে গঠিত। বিএনপি এই আসনে এখনও প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে জামায়াতে ইসলামী এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জামায়াতের প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জসীম উদ্দিন সরকার।

এর আগে মুরাদনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৩ আসনের ভোটার ছিলেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। এই আসন থেকে তিনি নির্বাচন করতে পারেন, এমন আলোচনাও শোনা গিয়েছিল। সম্প্রতি গুঞ্জন তৈরি হয়, বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা হলে সরকার থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন করতে পারেন আসিফ মাহমুদ। বিএনপি এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা না করায় গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। এখন আসিফ মাহমুদের এই আসনের ভোটার হতে যাওয়ার মধ্য দিয়ে গুঞ্জনটি আরও পাকাপোক্ত হচ্ছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির সংলাপ শুরু ১৩ নভেম্বর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগ মুহূর্তের প্রস্তুতিমূলক কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ বসছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৩ নভেম্বর থেকে শুরু হবে এ সংলাপ। রোববার সকালে এ তথ্য জানা গেছে।

ইসি সচিবালয় থেকে জানা গেছে, নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ, আইন সংশোধন, ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ মৌলিক প্রস্তুতির সবকিছুই নভেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে। ডিসেম্বরের শুরুতে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগেই সব প্রস্তুতি শেষ করবে ইসি।

ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৩৮২ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩০ জন। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দুই মাসে ভোটার বেড়েছে ১৩ লাখ ৪ হাজার ৮৮০ জন।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আগামী ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এর আগে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত দাবি-আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে।

 

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারত-শ্রীলঙ্কার ৮ ভেন্যুতে

ছেলেদের ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর জন্য আহমেদাবাদ, দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বাইকে ভেন্যু হিসেবে চূড়ান্ত করেছে আইসিসি। শ্রীলঙ্কায় খেলা হবে তিনটি ভেন্যুতে। এর মধ্যে দুটি কলম্বো ও পাল্লেকেল্লে।

আগামী বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ৮ মার্চ আহমেদাবাদের ফাইনাল দিয়ে শেষ হবে এই টুর্নামেন্ট। ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ করতে পারে আইসিসি। ক্রিকেটবিষয়ক পোর্টাল ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, অংশগ্রহণকারী বেশির ভাগ দল আইসিসির কাছ থেকে বিশ্বকাপের গ্রুপিং ও সূচি হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এই টুর্নামেন্টের টিকিট বণ্টন নিয়েও এখনো কিছু জানায়নি।

পূর্বের সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কায়। এই চুক্তি হয়েছে বিসিসিআই ও পিসিবির মধ্যে- যাতে দুদেশ একে অপরের আয়োজিত বহুজাতিক টুর্নামেন্টে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলে। পাকিস্তান যদি আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে, তাহলে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কায়।

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফরম্যাট ২০২৪ সালের সংস্করণের মতোই হবে। ২০টি দলকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হবে, প্রতিটি গ্রুপে পাঁচটি করে দল। প্রতিটি দল একবার করে অন্য দলের সঙ্গে খেলবে।

প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল উঠবে সুপার এইটে। সেখানে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হবে চারটি করে দল। সুপার এইটে দুটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল খেলবে সেমিফাইনালে।

আয়োজক দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কার বাইরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শীর্ষ সাত দল- আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে আগামী বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা তিনটি দল- নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ড।

আমেরিকাস অঞ্চলের বাছাইপর্ব থেকে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে কানাডা। ইউরোপিয়ান বাছাইপর্ব থেকে এই বিশ্বকাপে খেলার টিকিট কেটেছে নেদারল্যান্ডস ও ইতালি। এবারই প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে ইতালি।

আফ্রিকান অঞ্চলের বাছাই থেকে বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পেয়েছে জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বাছাই পেরিয়ে নেপাল, ওমান ও আরব আমিরাত আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট কেটেছে।