আমার খুব কান্না আসছে: মিথিলা
বাংলাদেশিদের সুখবর দিল ভারত
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালে জনগণ ভোটাধিকার ফিরে পাবে: জামায়াত
ঢাকার যে আসন থেকে লড়বেন সেই রিকশাচালক সুজন
মামদানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
নির্বাচন উৎসবমুখর করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা দরকার: প্রধান উপদেষ্টা
সারাদেশে ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত
‘সিদ্ধার্থ’ নিয়ে টানা ৩ দিন দর্শকের সামনে নওশাবা
নাটক ও সিনেমায় কাজের পাশাপাশি মঞ্চেও নিয়মিত অভিনয় করেন অভিনেত্রী ও মডেল কাজী নওশাবা আহমেদ। এবার টানা তিন দিন দর্শকের সামনে উপস্থিত হচ্ছেন তিনি মঞ্চনাটক ‘সিদ্ধার্থ’ নিয়ে। শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হয়েছে নাটকটি। শেষ হবে ২১ নভেম্বর।
বিশ্বখ্যাত লেখক হেরমান হেসের উপন্যাস ‘সিদ্ধার্থ’কে নাট্যরূপ দিয়েছেন রেজা আরিফ। একই সঙ্গে নাটকটির নির্দেশনাও তার। নাট্যদল আরশিনগরের ব্যানারে প্রযোজিত এই নাটকটি এবার নতুনভাবে মঞ্চে উঠছে।
সূচি অনুযায়ী, ১৯ নভেম্বর ও ২০ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে নাটকটির প্রদর্শনী হবে। আর ২১ নভেম্বর বিকেল ৪টা এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে দুটি শো দেখতে পাবেন দর্শক।
উপন্যাসটি মূলত মানুষের আত্মঅন্বেষণ, বোধ, জীবনদর্শন এবং মুক্তির পথ খোঁজার গল্প। কাহিনিতে দেখা যায়, ব্রাহ্মণকুমার সিদ্ধার্থ গৃহত্যাগী হয়ে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। দীর্ঘ সাধনার পরও মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্ন ও অস্থিরতা তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। অবশেষে তিনি গৌতম বুদ্ধের সান্নিধ্যে যান, তবে সেখানেও খুঁজে পান না তার কাঙ্ক্ষিত উত্তর। এরপর তিনি পৃথিবীর মোহ, ভোগবিলাস ও প্রেমের টানে এগিয়ে যান এবং নগরের শ্রেষ্ঠ বারবনিতার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। জীবন তাকে ভেঙে দেয় এবং পুনরায় নদীর কাছে ফিরে এসে উপলব্ধি করেন। সমস্ত প্রশ্নের উত্তর প্রকৃতির ভেতরেই রয়েছে।
নাটকটি সম্পর্কে কাজী নওশাবা বলেন, ‘সিদ্ধার্থ অসাধারণ একটি উপন্যাস। আত্মোপলব্ধির গল্প। যতবার পড়েছি, ততবারই মনে হয়েছে, এটি নিয়ে কাজ হয় না কেন? অবশেষে তা হলো এবং সেটির অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেকেই সিদ্ধার্থ নামটি শুনলেই গৌতম বুদ্ধকে ভাবেন। তবে এই নাটকে হেরমান হেসের সিদ্ধার্থ বুদ্ধ নন; বরং বুদ্ধের ছায়ার আড়ালে থাকা একটি ব্যক্তিগত মানসিক জগতের গল্প। নির্দেশক রেজা আরিফ সেই অনাবিষ্কৃত সিদ্ধার্থকেই সামনে আনছেন।’
মঞ্চনাটকের প্রতি নিজের টান প্রসঙ্গে নওশাবা বলেন, ‘একজন শিল্পীর কাজ করার অনেক মাধ্যম থাকলেও মঞ্চের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে হয়তো অর্থ পাওয়া যায় না, কিন্তু শেখার সুযোগ সবচেয়ে বেশি। মঞ্চ আমাকে আমার ভেতরের অভিনেতাকে চিনতে সাহায্য করেছে।’
‘সিদ্ধার্থ’ নাটকে নওশাবা ছাড়াও অভিনয়ে থাকছেন পার্থপ্রতিম, জিনাত জাহান নিশা, ওয়াহিদ খান সংকেত, নাজমুল সরকার নিহাত, মাঈন হাসান, শাহাদাত নোমান, প্রিন্স সিদ্দিকীসহ আরও অনেকে।
শুধু মঞ্চেই নয়, চলতি বছর চলচ্চিত্রেও ব্যস্ত সময় পার করছেন নওশাবা। কলকাতায় মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’, আর ঢাকায় মুক্তি পেয়েছে তার আরেক চলচ্চিত্র ‘সাত ভাই চম্পা’।
দুই সিনেমাতেই তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ বিরতির পর ছোটপর্দায়ও ফিরেছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি অভিনয় করেছেন চয়নিকা চৌধুরীর পরিচালনায় নির্মিত ‘দ্বিতীয় বিয়ের পর’ নাটকে।
ভারতকে হারিয়ে ফিরে গেলেন হামজা, শামিত যাবেন শুক্রবার
দীর্ঘ ২২ বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভারতকে হারানোর প্রধান নায়ক হামজা দেওয়ান চৌধুরী। অসাধারণ নৈপুণ্য দেখানো এই সুপারস্টার তার ক্লাব লেস্টার সিটিতে যোগ দিতে বুধবার সকালে ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন।
আরেক প্রবাসী তারকা ফুটবলার শামিত সোম ফিরে যাবেন ২১ নভেম্বর। শামিত পরিবার-পরিজনের সাথে দুইদিন সময় কাটাতে সিলেটে থাকবেন। তারপর এই মিডফিল্ডার তার কানাডার প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবে যোগ দেবেন।
গত মঙ্গলবার ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ফুটবলামোদীদের উৎসবমুখর রাত উপহার দিয়েছেন হামজারা। ২০০৩ সালের পর ভারতকে হারিয়ে উদযাপন করেছেন লাল সবুজ জার্সিধারী ফুটবলাররা।
আগামী মার্চে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর। ওই ম্যাচটি খেলার জন্য আবার আসবেন হামজা চৌধুরী। ম্যাচের পর হামজা সংবাদ সম্মেলন বলছিলেন, ‘আবার দেখা হবে মার্চে।’
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচটি সিঙ্গাপুরের মাটিতে। তাই হামজা কবে নাগাদ ঢাকায় এসে অনুশীলনে যোগ দিতে পারবেন, তা নির্ভর করবে লেস্টার সিটির ম্যাচ শিডিউলের ওপর।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে হামজা দেওয়ান চৌধুরীর অভিষেক হয়েছিল এ বছর ২৫ মার্চ শিলংয়ে ভারতের বিপক্ষে। মঙ্গলবার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল জাতীয় দলে তার সপ্তম।
অন্যদিকে শামিত সোমের ১০ জুন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল। এ পর্যন্ত জাতীয় দলে হামজা দেওয়ান চৌধুরী সাতটি ম্যাচ খেলে ৪ গোল করেছেন। শামিত সোম পাঁচ ম্যাচে গোল করেছেন ১টি।
আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলায় যে রায় হয়েছে, তাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই বিচার অপরাধের তুলনায় যথেষ্ট নয়, কিন্তু এটি সামনের দিনের জন্য একটি উদাহরণ এবং ভবিষ্যতে কেউ যাতে এই রাষ্ট্রে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে না পারে, কেউ নিজে ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠতে না পারে, একনায়কতন্ত্র যাতে কায়েম না হয়। এটা ভবিষ্যতের জন্য একটি শিক্ষা। শুধু অতীতের জন্য বিচার নয়, এটা আমাদের মনে রাখতে হবে।’
সোমবার রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আজকের এই আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে কয়েকটি জিনিস প্রমাণিত- ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার যত শক্তিশালী হোক, যত দীর্ঘদিন এই রাষ্ট্রক্ষমতা অবৈধভাবে পরিচালনা করুক, ক্ষমতা ভোগ করুক, তাদের একদিন না একদিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশে গুম, খুন, অপশাসন এবং বৈষম্যের যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করে শেখ হাসিনা একদলীয় রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে বাসনা চরিতার্থ করতে চেয়েছিল তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু দীর্ঘদিনের অপশাসন এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের যাতাকলে এদেশের মানুষ পিষ্ট হয়েছে আমরা ভুক্তভোগী হয়েছি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই দেশ, এদেশের উন্নতি, অগ্রগতি বহু বছর পিছিয়ে গেছে। আমরা আর পেছনের দিকে তাকাতে চাই না। দেশে সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং এর মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ হবে। এটাই হবে আগামী দিনের বাংলাদেশ। আমরা অবশ্যই এই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আমরা সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব, একটি ভারসাম্যমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও শাসন ব্যবস্থা কায়েম করব। এদেশের মানুষ ভবিষ্যতে যাতে ন্যায়বিচার পায় সে রকম রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করব। এজন্য আমরা অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আজকে এর একটি মাইল ফলক প্রতিষ্ঠিত হলো।’
‘দেশের মানুষ ভোটের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গত ১৫/১৬ বছর বিএনপি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করেছে। দেশের মানুষ এখন ভোটের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী ভবনে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ঢাবি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষার রূপান্তর: একটি কৌশলগত রোডম্যাপ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটি জাতি ও দেশ তৈরি করতে হবে যাতে কোনো ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারের উত্থান না ঘটে। স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। তবে স্বৈরাচারের দোসরদের বহাল রেখে স্বাধীন বিচার বিভাগ সম্ভব নয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী, লেখক ও মিডিয়াকর্মী ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভিনদেশি রাষ্ট্রের প্রতি অন্ধ আনুগত্য থেকে বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বৃত্তায়ন’ ঘটেছে।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ্য নেতা বলেন, ‘অতীতে রাষ্ট্রীয় অন্যায়, নাগরিক নিপীড়ন বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যেসব বুদ্ধিজীবীর কথা বলা উচিত ছিল, তারাই ভারতপন্থি রাজনৈতিক বয়ানের সুবিধাভোগী হয়ে নীরব থেকেছেন।’
দেশের বর্তমান শিক্ষা ও বুদ্ধিজীবী পরিস্থিতির সঙ্গে ব্রিটিশ আমলের তুলনা করে সালাহউদ্দিন বলেন, ব্রিটিশরা তাদের শাসন দীর্ঘায়িত করতে যেমন শিক্ষিত সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করত, তেমনি বিগত সময়েও কিছু বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়া রাষ্ট্রের হেজিমনি (আধিপত্য) বজায় রাখতে বুদ্ধিভিত্তিক চর্চা সীমিত করেছিল। ফলে গণতান্ত্রিক ও সৃজনশীল চেতনার বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য আধুনিক যুগের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলা। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবোটিকস, ডেটা সায়েন্স ও বায়োটেকনোলজির মতো ক্ষেত্রে মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্র হবে।’
তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ভোকেশনাল শিক্ষা এবং পরবর্তী ধাপে জ্ঞানভিত্তিক ও গবেষণামূলক শিক্ষা নিশ্চিতের ওপরও জোর দেন।
জুলাই সনদ ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যমত্যের নামে অনৈক্য তৈরির চেষ্টা হয়েছে। তবে আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিষয়টিকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। জাতীয় সার্বভৌমত্বকে কখনো কোনো আদেশ দিয়ে তো বাধ্য করা যায় না।


