Home Blog Page 276

মামদানির টিমে ফরহাদ মজহারের মেয়েসহ ১০ বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম এবার স্বার্থক হয়েছে। নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সদ্যঘোষিত ট্রানজিশন টিমে একসঙ্গে ১০ জন বাংলাদেশি অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

তাদের মধ্যে বাংলাদেশি কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহারের কন্যা সমতলী হকও রয়েছেন। সমতলী সিটি ইউনিভিারসিটি অব নিউইয়র্কে অধ্যাপনা করেন। তিনি একজন মানবাধিকারকর্মী।

অধ্যাপনা শুরুর আগে লেবার অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করেছেন। মামদানির মেয়র প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই তিনি নির্বাচনি প্রচারণায় ছিলেন। মামদানির সঙ্গে রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

টিমে স্থান পাওয়া অপর বাংলাদেশিরা হলেন—নাগরিক আন্দোলনের নেত্রী কাজী ফৌজিয়া, জনসংগঠক আব্দুল আজিজ ভূঁইয়া, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শামসুল হক, শ্রম অধিকার সংগঠক মোহাম্মদ করিম চৌধুরী, অভিবাসন অধিকারকর্মী ফারিহাহ আখতার, ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতের সংগঠক ও মুসলিম কমিউনিটির নেতা আরমান চৌধুরী, সামাজিক সংগঠন ভালো ও ম্যাসভোটের সংগঠক শাহরিয়ার রহমান, শিক্ষা-যুব খাতে পরিচিত সংগঠক তাজিন আজাদ, আইন ও ন্যায়বিষয়ক ক্ষেত্রের প্রতিনিধি এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ইসলামিক সেন্টারের প্রতিনিধিত্বকারী কমিউনিটি সংগঠক ইমরান পাশা।

চার শতাধিক বিশেষজ্ঞ, কর্মী ও কমিউনিটি নেতার সমন্বয়ে এ বৃহৎ ট্রানজিশন টিম গঠিত হয়েছে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও দীর্ঘদিনের কাজের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি কমিটির বিভিন্ন দায়িত্বে মনোনীত হয়েছেন।

৪০০ জনের দীর্ঘ তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এবারের ট্রানজিশন টিমে ১১ জন পাকিস্তানি এবং ১৬ জন ভারতীয়সহ দক্ষিণ এশিয়ার নানা কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব থাকলেও, বাংলাদেশিদের এত বড় সম্মিলিত উপস্থিতি এবারই প্রথম, যা প্রবাসী কমিউনিটির অবস্থানকে আরো শক্তিশালীভাবে তুলে ধরেছে।

কালাইয়ে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রদর্শনী উদযাপন

“দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি: প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রদর্শনী-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, আধুনিক সেবা এবং খামারিদের সফলতা তুলে ধরতেই এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। মেলায় আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে ব্রাহামা জাতের গরু ও দুম্বা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহান। এসময় উপস্থিত ছিলেন কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নাহিদা নাজনীন ডেইজি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন।

মেলায় অংশগ্রহণকারী উপজেলার মাদাই গ্রামের সৌখিন খামারি আবু তালেব বলেন, আমি মেলায় একটি ছাগল নিয়ে আসছি। ছাগলের ওজন ১১০ কেজি।

আরেক খামারি উপজেলার মহেশপুর গ্রামের দুলালি বেগম বলেন, আমি তিনটি দুম্বা লালন-পালন করছি। তারমধ্যে একটি দুম্বা মেলায় নিয়ে আসছি।

জানা যায়, জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রদর্শনী মেলায় গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী, মহিষ, সৌখিন খামারি ও আধুনিক প্রযুক্তি এই ৭টি ক্যাটাগরীতে ৩০টি স্টল রয়েছে।

এনা পরিবহনের এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে ১০৭ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এনা ট্রান্সপোর্টের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে ১০৭ কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এই অর্থ তিনি চাঁদাবাজি করে উপার্জন করেছিলেন বলে অভিযোগ।

সিআইডি জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার প্রমাণ পাওয়ার পর মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রমনা থানায় মামলা দায়ের করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান খন্দকার এনায়েত উল্লাহ আশির দশকের পর পরিবহন সেক্টরে যাত্রা শুরু করেন। পার্টনারশিপে একটি পুরাতন বাস কেনার মাধ্যমে তার ব্যবসার সূচনা হলেও কয়েক বছরের মধ্যে তিনি প্রায় ২০টি বাসের মালিক হয়ে ওঠেন। অল্প সময়েই তিনি পরিবহন মালিকদের সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। এরপর তার আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব বাড়িয়ে নেন। প্রথমে বিএনপির রাজনীতি, পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদও লাভ করেন।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, এই রাজনৈতিক পরিচয় খন্দকার এনায়েত উল্লাহকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছিল। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতন পর্যন্ত টানা ১৬ বছর তিনি ধারাবাহিকভাবে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি সংগঠনের সব গুরুত্বপূর্ণ পদ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং পরিবহন সেক্টরে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। বিভিন্ন সময়ে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতাল ও অবরোধে পরিবহন সচল রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি সংবাদ শিরোনামে থাকলেও নিজের কোম্পানির বাসগুলো রাস্তায় নামাতেন না, যা তার কৌশলের অংশ ছিল।

জসীম উদ্দিন খান বলেন, চাঁদাবাজি কার্যক্রমগুলো ছিল অত্যন্ত সংগঠিত ও ভয়ভীতি-ভিত্তিক। এনায়েত উল্লাহ ও তার সহযোগীরা সিন্ডিকেট গড়ে বিভিন্ন অজুহাতে বাস মালিকদের কাছ থেকে প্রকাশ্য চাঁদা আদায় করতেন। দৈনিক চাঁদার পাশাপাশি মাসিক চাঁদাও নেওয়া হতো এবং নতুন বাস কোনো রুটে নামাতে হলে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা দিতে হতো। নতুন বাস কেনার সময় মালিকদের সেই বাসের একটি ভাগও এনায়েতকে দিতে বাধ্য করা হতো, না হলে বাসটি সড়কে চলতে পারত না। এর ফলে অনেক কোম্পানি বিক্রির সময় মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে চাঁদা পরিশোধ করত।

সিআইডির মুখপাত্র বলেন, ঢাকার প্রতিটি বাস টার্মিনাল তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশের বাস, মিনিবাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতিগুলো থেকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হতো। সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী ব্যবহার করে তিনি পরিবহন সেক্টরে ত্রাসের রাজত্ব চালাতেন। বিএফআইইউ, বিভিন্ন ব্যাংক, ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, বাংলাদেশ মালিক পরিবহন সমিতি এবং মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদসহ অন্যান্য বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্রের ওপর ভিত্তি করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে। অনুসন্ধানকালে ধানমন্ডির ২টি ফ্ল্যাট এবং রূপগঞ্জের ২টি প্লট সিনিয়র স্পেশাল মহানগর জজ আদালত, ঢাকার আদেশে ক্রোক করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। একই আদালতের আদেশে তাদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়। যার মোট স্থিতি প্রায় ১১০ কোটি টাকা। এই দুটি আদেশ গত ৩ জুলাই কার্যকর করা হয়।

সিআইডির বিশ্লেষণে দেখা যায়, খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও তার পরিবারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ১৯৯টি ব্যাংক হিসাবে মোট জমা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে উত্তোলন হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭ কোটি টাকা। তার মধ্যে এনা ট্রান্সপোর্ট প্রা. লি. এর ৪৩টি হিসাবে জমা ৯৩৪.০৪ কোটি টাকা, উত্তোলন ৯০৬.৯৬ কোটি টাকা, এনা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লি. এর ৮টি হিসাবে জমা ৪১০.৩৮ কোটি টাকা, উত্তোলন ৪০৮.২৫ কোটি টাকা ও খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ব্যক্তিগত ৭৪টি হিসাবে জমা ৪৫৯.০৮ কোটি টাকা, উত্তোলন ৪০২.৭৩ কোটি টাকার তথ্য জানা যায়। সিআইডির বিস্তারিত অনুসন্ধান ফলাফলে দেখা যায়, ‘স্ট্রাকচারিং’ বা ‘স্মার্ট লেয়ারিং’ কৌশল ব্যবহার করে চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল অবৈধ অর্থ নানা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে মোট ১০৭ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৭৪ টাকা মানিলন্ডারিং করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া প্রাথমিক সত্যতা বিবেচনায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খন্দকার এনায়েত উল্লাহসহ পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে রমনা থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

ভূমিকম্প হলে যে দোয়া পড়বেন

০
ভূমিকম্প হয়— মৃদু গতিতে অথবা থরথর করে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে। কোথাও তীব্রতা বেশি। কোথাও খানিক কম। কোথাও ধ্বংসলীলা চালায়, কোথাও শুধু আতঙ্ক তৈরি করে যায়। ভূমিকম্পের ধরন যেমনই হোক— তা আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য সতর্কবার্তা। যেন মানুষ আল্লাহর কাছে ফিরে আসে। তাওবা করে মহান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
ভূমিকম্প মানুষকে আরও বার্তা দেয়— মানুষ যেন নিজেদের আচার-আচরণ শুধরে নেয়। কারো উপর জুলমু-অত্যাচার না করে এবং গুনাহ ও পাপ থেকে দূরে থাকে। আর সার্বিক নিরাপত্তার জন্য দোয়া করে। আল্লাহকে অনেক বেশি স্মরণ করে ও তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।
যে কারণে ভূমিকম্প হয়
বিভিন্ন গবেষণাপত্র দেখে জানা যায়— ভূতত্ত্ববিজ্ঞান বলে, ভূ-অভ্যন্তরে শিলায় পীড়নের জন্য যে শক্তির সঞ্চয় ঘটে, সেই শক্তির হঠাৎ মুক্তি ঘটলে ভূপৃষ্ঠ ক্ষণিকের জন্য কেঁপে ওঠে এবং ভূত্বকের কিছু অংশ আন্দোলিত হয়। এমন আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী কম্পনকে ভূমিকম্প (Earthquake) বলে।
সাধারণত তিনটি কারণে ভূমিকম্পের উত্পত্তি হয়ে থাকে— ভূপৃষ্ঠজনিত, আগ্নেয়গিরিজনিত ও শিলাচ্যুতিজনিত কারণে ভূমিকম্প হয়।
ইসলামের দৃষ্টিতে ভূমিকম্প
মূলত প্রাকৃতিক নানা বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ মানুষের অপকর্ম। দিন দিন মানুষের পাপ ও অপকর্ম বেড়েই চলছে। বিপদ-আপদ এলে, সাময়িক হয়তো কেউ কেউ পাপ ছেড়ে দেয়। কিন্তু কিছুদিন গেলে আবারও পাপে জড়িয়ে পড়ে। বস্তুত  এগুলোর পথ ধরেই মানুষ কিয়ামতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সতর্ক করে প্রিয়নবী (সা.) বলেন—
‘যখন অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জিত হবে। কাউকে বিশ্বাস করে সম্পদ গচ্ছিত রাখা হবে, কিন্তু তা আত্মসাত করা হবে (অর্থাৎ যার সম্পদ সে আর ফেরত পাবে না)। জাকাতকে দেখা হবে জরিমানা হিসেবে। ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া বিদ্যা অর্জন করা হবে, একজন পুরুষ তার স্ত্রীর বাধ্যগত হয়ে মায়ের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করবে। বন্ধুকে কাছে টেনে নেবে আর পিতাকে দূরে সরিয়ে দেবে। মসজিদে উচ্চস্বরে শোরগোল (কথাবার্ত) হবে। যখন সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তিটি সমাজের শাসক রূপে আবির্ভূত হবে। সে সময় তোমরা অপেক্ষা করো— রক্তিম বর্ণের ঝড়ের (এসিড বৃষ্টি), ভূকম্পনের, ভূমিধসের, রূপ বিকৃতির (লিঙ্গ পরিবর্তন), পাথর বৃষ্টির এবং সুতো ছেঁড়া (তাসবিহ) দানার ন্যায় একটির পর একটি নিদর্শনগুলোর জন্য।’
(তিরমিজি, হাদিস : ১৪৪৭)
আল্লামা ইবনু কাইয়িম (রহ.) বলেন, মহান আল্লাহ মাঝে মাঝে পৃথিবীকে জীবন্ত হয়ে ওঠার অনুমতি দেন। ফলে বড় ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তখন এই ভূমিকম্প মানুষকে ভীত করে। তারা মহান আল্লাহর নিকট তাওবা করে, পাপ কর্ম ছেড়ে দেয়, আল্লাহর প্রতি ধাবিত হয় এবং তাদের কৃত পাপ কর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে মোনাজাত করে। আগেকার যুগে যখন ভূমিকম্প হতো, তখন সঠিক পথে পরিচালিত সৎকর্মশীল লোকেরা বলতো, ‘মহান আল্লাহ আমাদেরকে সতর্ক করেছেন। ’
ভূমিকম্পের ব্যাপারে কোরআনের ভাষ্য
ভূমিকম্প বিষয়ে পবিত্র কোরআনের ‘যিলযাল’ নামে স্বতন্ত্র একটি সুরা অবতীর্ণ করা হয়েছে। মানুষ শুধু কোনো ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয় এবং ভূতত্ত্ববিজ্ঞানও এই কার্যকারণ সম্পর্কেই আলোচনা করে থাকে।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি ভয় দেখানোর জন্যই (তাদের কাছে আজাবের) নিদর্শনগুলো পাঠাই। ’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত  : ৫৯)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, “বলে দাও, ‘আল্লাহ তোমাদের ওপর থেকে অথবা তোমাদের পায়ের নিচ থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম। ’ (সুরা আনআম, আয়াত : ৬৫)
বুখারি শরিফে আছে, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যখন তোমাদের পায়ের নিচ থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম’ আয়াতটি নাজিল হলো, তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ’ ”(বুখারি)
শায়খ ইস্পাহানি (রহ.) এই আয়াতের তাফসির করে বলেন, ‘এর ব্যাখ্যা হলো, ভূমিকম্প ও ভূমিধসের মাধ্যমে পৃথিবীর অভ্যন্তরে ঢুকে যাওয়া (পৃথিবীতে ভূমিকম্প হওয়া)। ’
ভূমিকম্প কেয়ামতের আলামত
রাসুল (সা.) বলেছেন, যে পর্যন্ত না ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, অধিক পরিমাণে ভূমিকম্প হবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং খুনখারাবি বাড়বে, তোমাদের সম্পদ এতো বাড়বে যে, উপচে পড়বে। (বুখারি, হাদিস : ৯৭৯)
বর্তমানে যেসব ভূমিকম্প ঘটছে, তা মহান আল্লাহর প্রেরিত সতর্ককারী নিদর্শনগুলোর একটি। এগুলো দিয়ে তিনি তার বান্দাদের সাবধান করে থাকেন। কার্যত এগুলো মানুষের পাপ ও অপরাধের ফল। আল্লাহ বলেন, ‘যে বিপদ-আপদই তোমাদের ওপর আসুক না কেন, তা হচ্ছে তোমাদের নিজেদের হাতের কামাই। আর আল্লাহ তোমাদের অনেক (অপরাধ) ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা শুরা, আয়াত : ৩০)
ভূমিকম্পের সময় যে দোয়া পড়বেন
মুসলিমদের জন্য যেকোনো বিপদে দোয়া ইউনুস বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো সংকট ও অস্থিতিশীল সময়ে এই দোয়া পড়া সুন্নত। আল্লাহর নবী ইউনুস (আ.) বিপদে পড়ে বারবার এই দোয়া পড়েছিলেন। তখন আল্লাহ তার দোয়া কবুল করে তাকে সংকট থেকে মুক্তি দিয়েছেন।
আরবি:
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ، إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জ-লিমিন।
অর্থ : তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তুমি পবিত্র সুমহান। আমি নিশ্চয়ই জালিমদের দলভুক্ত।
ভূমিকম্প হলে যে আমল করবেন
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে মুক্তির জন্য দরিদ্র ও মিসকিনদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা এবং তাদের দান করাও উচিত। কেননা রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দয়া প্রদর্শন করো, তোমার প্রতি দয়া প্রদর্শন করা হবে।’ (মুসনাদে আহমদ)
ইতিহাসে আছে, ভূমিকম্প হলে উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) তার গভর্নরদের দান-সদকা করার প্রতি জোর দিয়ে চিঠি লিখতেন। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, যা মানুষকে বিপর্যয় (আজাব) থেকে নিরাপদ রাখে। আর তা হলো, যথাসাধ্য সমাজে প্রচলিত জিনা-ব্যভিচার, অন্যায়-অবিচার রোধ করা। হাদিস শরিফে এসেছে, সমাজে ব্যভিচার বেড়ে গেলে ভূমিকম্প হয়।
প্রত্যেক মুসলমানের খুবই আন্তরিকভাবে মহান আল্লাহর কাছে তাওবা করা উচিত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি জনপদের মানুষগুলো ঈমান আনতো এবং (আল্লাহকে) ভয় করতো, তাহলে আমি তাদের ওপর আসমান-জমিনের যাবতীয় বরকতের দুয়ার খুলে দিতাম, কিন্তু তারা (আমার নবীকেই) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। সুতরাং তাদের কৃতকর্মের জন্য আমি তাদের পাকড়াও করলাম। ’ (সুরা আরাফ : ৯৬)
তাই যখন কোথাও ভূমিকম্প হয় অথবা সূর্যগ্রহণ কিংবা ঝড়ো বাতাস বা বন্যা হয়, তখন সবার উচিত মহান আল্লাহর কাছে অতি দ্রুত তাওবা করা। তার কাছে নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা। মহান আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা।

 

হজরত ওমরের (রা.) শাসনকালে ‍ভূমিকম্প নিয়ে ভাষণে যা বলেছিলেন!

০
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাবের (রা.) শাসনামলে মদিনায় একবার ভূমিকম্প হয়েছিল বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ওমরের (রা.) স্ত্রী সাফিয়্যা বিনতে আবি ওবায়েদ সাকাফী। তিনি জানান, ভূমিকম্পের পর হজরত ওমর (রা.) মদিনাবাসীর উদ্দেশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন।
তিনি বলেন, ওমর (রা.) বলেছিলেন, লোকসকল! কী হলো এটা! কত দ্রুত তোমরা নতুন কিছু নিয়ে এলে? এ রকম কিছু যদি আবার হয়, তাহলে আমাকে আর মদিনায় পাবে না; আমি মদিনা ছেড়ে চলে যাবো। (মুসনাদে আহমদ)
বিবরণে উল্লেখ রয়েছে, নবীজির (সা.) ও আবু বকরের (রা.) শাসনামলে ভূমিকম্প হয়নি। তাই ভূমিকম্পকে তিনি ‘নতুন ঘটনা’ ও সম্ভাব্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখেন। তিনি ধারণা করেন, মদিনাবাসীর কোনো গুনাহ কিংবা অবহেলার কারণেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য তিনি নিজেও সতর্ক হন এবং মুসলমানদেরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেন।
বিদ্বানদের মতে, তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগকে একজন মুমিন আল্লাহ তাআলার সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করবে এবং আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নেক আমল বাড়ানোর চেষ্টা করবে।
হজরত ওমর (রা.) ছিলেন আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও সম্মানিত সাহাবিদের একজন। আবু বকর (রা.)-এর পর সাহাবিদের মধ্যে তার মর্যাদা সর্বোচ্চ বলে বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। ওহব আস-সুয়াই থেকে বর্ণিত একটি ঘটনায় আলী (রা.) বলেন,নবীজির (সা.) পর এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আবু বকর, তারপর ওমর। (মুসনাদে আহমদ)
৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে নবীজির (সা.) ইন্তেকালের পর সাহাবিদের সর্বসম্মতিক্রমে হজরত আবু বকর (রা.) প্রথম খলিফা নিযুক্ত হন। মাত্র দুই বছরের খেলাফতের পর ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি মৃত্যুশয্যায় হজরত ওমর (রা.)-কে তার উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করেন। পরে ওমর (রা.) ইসলামের প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্রনীতি এবং ব্যাপক সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে ইতিহাসে এক অনন্য শাসকে পরিণত হন।

সাকিবকে নিয়ে একাদশ ঘোষণা

০
আবুধাবি টি-টেন লিগে রয়্যাল চ্যাম্পসের হয়ে খেলছেন সাকিব আল হাসান। আসরের শুরু থেকেই স্কোয়াডের সঙ্গে থাকলেও নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাননি তিনি। তবে আজ আজমান টাইটান্সের বিপক্ষে সাকিবকে নিয়ে মাঠে নামছে রয়্যাল।
টস জিতে শুরুতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজমান টাইটান্স। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫ টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি।
এর আগে তিন ম্যাচে খেলে সবকটিতে হেরেছে সাকিবের দল। নামের পাশে কোনো পয়েন্ট না থাকায় টেবিলের তলানিতে আছে তারা।
রয়্যাল চ্যাম্পস একাদশ-
জেসন রয়, নিরোসান ডিকভেলা, ব্রেন্ডন ম্যাকমুলেন, সাকিব আল হাসান, অ্যারন জোন্স, ড্যানিয়েল শামস, কুইন্টন স্যাম্পসন, ঋষি ধাওয়ান, ক্রিস জর্ডান, সঞ্জয় পাহাল, হায়দার রাজ্জাক।

সবজিতে ভরপুর বাজার তবু কমছে না দাম

০
শীতকালীন সবজিতে ভরপুর রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো। বর্তমানে সরবরাহ বাড়লেও দাম এখনো চড়া। অধিকাংশ সবজির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। কারণ জানেন না কেহ।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
খিলক্ষেতের ব্যবসায়ীরা জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় আজ সবজির দাম তেমনটা বাড়েনি। কিছুটা কমেছে। শীতকালীন সবজি বাজারের দাম বাড়ার কারণ হচ্ছে সিন্ডিকেট। আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়। ফলে কি করব আমরা।
বাজারে মানভেদে ফুলকপি প্রতিপিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, প্রতি কেজি বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, লতি ৮০ টাকা, ধুন্দুল ৫০ থেকে ৬০ টাকা ও পটোল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আর প্রতি কেজি পেঁপে ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকা, শিম ১০০ থেকে ১২০ টাকা, শালগম ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা ও শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। একই সঙ্গে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা গুণতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
বাজারে লালশাকের আঁটি ১০ টাকা, পুঁইশাক ২০-৩০ টাকা, মুলাশাক ১০ টাকা, ডাঁটাশাক ১০, কলমি শাক ১০ টাকা ও পালংশাক বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।
এ ছাড়া প্রতিপিচ লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লেবু ৬০ টাকা ডজন, আলু ২০ থোকে ২৫ টাকা কেজি, ধনে পাতা ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
সকালে সবজি বিক্রেতা ফিরোজ বলেন, সবজীর দাম কিছুটা কমেছে। তবে ক্রেতাদের নাগালে আসেনি। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, গ্রাম থেকে যে দামে কাঁচামাল আসছে তার কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রয় হয়ে বাজারে। সিন্ডিকের হাতে আবারও বন্দি হয়ে গেছে রাজধানীর কাঁচা বাজারগুলো। কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা প্রতিটি সবজির দাম। ফুলকপি, বাঁধাকপি বাজারে আসার কারণে কিছুটা সবজির দাম কমেছে। বিভিন্ন শাকের দামও কম আছে। আগে ২০ থেকে ৩০ টাকা প্রতি আঁটি বিক্রি হলেও, এখন ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর প্রতিটি বাজারে পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ৯০ থেকে ১০০ টাকা পাইকারি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তারা বলছেন, বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ থাকার পরও পাইকারি দাম কমছে না। আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
মুহাম্মদপুর টাউন হলের সবজি ক্রেতা জেসমিন বলেন, শীতকালীন সব সবজিই আছে। দামটা এখনও কমেনি। অনেক সবজির দাম হয়তো কমেছে। তবে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আরও কমলে ভালো হয়।

ক্ষমতায় গেলে অসচ্ছল ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেবে বিএনপি: তারেক রহমান

০
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা সেই পরিকল্পনা নিয়েছি। কর্মজীবনে যিনি যে পেশায় নিয়োজিত হতে চান, কিংবা যে চাকরি করেন এর জন্য দরকার দক্ষতা, সততা। দেশের লক্ষ লক্ষ মসজিদকে কেন্দ্র করে আরও কি ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যায় এ বিষয়ে বিএনপি সবার পরামর্শ চায়।
রোববার (২৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মিলিত ইমাম-খতিব পরিষদ আয়োজিত জাতীয় সম্মেলন-২০২৫ এ লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, অনেক মসজিদে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের চাকরি মসজিদ কমিটির ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে। আমি মনে করি এটা হওয়া উচিত নয়। এটা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিরুদ্ধে অন্যায্য আচরণ। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় সার্ভিস রুল প্রণয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। কারণ ইমাম- মুয়াজ্জিনগণ সমাজসংস্কারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ।
তারেক রহমান বলেন, রাজনীতি নিয়ে ইসলামি স্কলারদের মধ্যে বিরোধ দেখা যায়। হীন রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মীয় ব্যাখ্যা, সমাজে বিশৃঙ্খলা নিয়ে আসে। সমাজে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে আলেমদের সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি বরাবরই ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থবিরোধী তৎপরতা রোধে সোচ্চার। এ সময়, ‘শাপলা চত্বরে হানাদার বাহিমীর মতো ক্র্যাকডাউন চালানো হয়েছিল’ বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের তাবেদারি শাসন প্রমাণ করেছে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যের বিকল্প নেই। ইনসাফভিত্তিক দেশ গড়তে আগামী নির্বাচন ইমাম-খতিব ও মুয়াজ্জিনদের দোয়া ও সমর্থন চান তিনি।
ইমাম-খতিবদের রাষ্ট্র সংস্কার কাজের বাইরে রেখে অগ্রগতি সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মসজিদ কমিটির ওপর ইমাম মুয়াজ্জিনদের চাকরি নির্ভর থাকা উচিত নয়। বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে পারলে ইমাম মুয়াজ্জিনদের সার্ভিস রুলস বাস্তবায়নের বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করবে।

 

খালেদা জিয়ার হার্ট ও ফুসফুসে ইনফেকশন হয়েছে

০
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চেস্টে (বুকে) ইনফেকশন, হার্ট এবং ফুসফুস আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড সদস্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
রোববার (২৩ নভেম্বর) রাতে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সবশেষ তথ্য জানানোর সময় তিনি এ কথা বলেন।
ডা. এফ এম সিদ্দিকী জানান, খালেদা জিয়ার চেস্টে ইনফেকশন হয়েছে। হার্ট এবং ফুসফুস আক্রান্ত হয়েছে। আগামী ১২ ঘণ্টা মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে।
আর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, বেগম জিয়া ঠিক কতদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকবেন, তা এখনি বলা যাচ্ছে নাহ। শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করছে।
এর আগে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফিরোজা থেকে এভারকেয়ারের উদ্দেশ্যে রওনা হন খালেদা জিয়া। পরে স্বাস্থ্যবিষয়ক পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক আল মামুন সে সময় বলেন, বেশকিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে।
সর্বশেষ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিএনপির চেয়ারপারসন। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নেন বলে জানান তার প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।
খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। চিকিৎসার জন্য ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে দেশে ফেরেন। এরপর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয় বিএনপি চেয়ারপারসনকে।

 

দুবাই এয়ার শোতে ভারতের যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত (ভিডিও)

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে এয়ার শোতে কসরত দেখানোর সময় ভারতের একটি তেজস যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিন আল মাখতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রদর্শনীতে ভারতীয় পাইলট তেজস যুদ্ধবিমান নিয়ে প্রদর্শন দেখাচ্ছিলেন। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর সেখান থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি বের হতে দেখা গেছে।
এক আসনের হালকা এই যুদ্ধবিমানটি তৈরি করেছে ভারতের হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড। তাদের তৈরি এ যুদ্ধবিমানটি দুবাইয়ের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে বিধ্বস্ত হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানের পাইলট বের হয়ে যেতে পেরেছিলেন কি না সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বিমানবাহিনী এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানাবে।
এর আগে, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে রাজস্থানের জয়সলমেরে একটি তেজস যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল। ২০০১ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর থেকে ২৩ বছরের ইতিহাসে সেটাই ছিল তেজস বিমানের প্রথম দুর্ঘটনা। সেই ক্ষেত্রে পাইলট নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন।
তেজস হলো একটি ৪.৫-প্রজন্মের মাল্টি-রোল কমব্যাট বিমান, যা বিমান প্রতিরক্ষা, আক্রমণাত্মক আকাশ সহায়তা এবং নিকটবর্তী যুদ্ধ অভিযানের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটিকে এর শ্রেণির মধ্যে সবচেয়ে হালকা এবং ছোট যুদ্ধবিমানগুলির মধ্যে অন্যতম বলে মনে করা হয়।
এক দর্শকের ক্যামেরায় বিমান বিধ্বস্তের পুরো ঘটনা ধরা পড়েছে। দেখা যাচ্ছে, বিমানটি প্রচণ্ড বেগে এগিয়ে আসছে। হঠাৎ করে এটি মাটির দিকে নেমে যেতে থাকে। এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এটি আছড়ে পড়ে। তখন পুরো বিমানটিতে আগুন ধরে যায়।