Home Blog Page 277

বঙ্গোপসাগরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে পারে

বঙ্গোপসাগরে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি দুর্বল নিম্নচাপ তীব্রতর হয়ে ‘সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলে’ রূপ নিয়েছে। যা আগামীকাল আরও শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে বলে প্রাথমিক বিশ্লেষণে জানা গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ওড়িশাটিভি রোববার (২৩ নভেম্বর) জানিয়েছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিমদিকে সরে গিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
বর্তমানে এটি দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগরের দিকে আসছে। যদিও ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এটি কোনদিকে যাবে এবং কোথায় আঘাত হানবে সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
দুর্বল নিম্নচাপটি ২৫শে নভেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ আন্দামান সাগরের কাছাকাছি ঘনীভূত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ সন্দীপ পট্টনায়ক জানিয়েছেন, মালাক্কা প্রণালী এবং দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের অনুকূল পরিস্থিতির কারণে দুর্বল নিম্নচাপটি ম্যাডেন-জুলিয়ান অসিলেশন পর্যায় অতিক্রম করে আরও শক্তি অর্জন করতে পারে।
তিনি বলেন, “সমুদ্রের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল বড় হওয়ায় এবং প্রশান্ত মহাসাগর থেকে শক্তিশালী বাতাসের স্রোত আসায় আবহাওয়া অনুকূল রয়েছে, যার ফলে দুর্বল নিম্নচাপটি তীব্র হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যেহেতু শীতল বাতাসের প্রভাব কেটে গেছে, তাই এটির আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।”
এ আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন, প্রশান্ত মহাসাগর থেকে শক্তিশালী বাতাস প্রবেশ, সমুদ্রের বিস্তৃত জলরাশি এবং শীতল বাতাসের অনুপ্রবেশ না থাকার কারণে এটি আরও তীব্র হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আবহাওয়ার এই সিস্টেমটি ২১শে নভেম্বর থেকে আগামী ২ বা ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে, বিশেষ করে ২৬ থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এর তীব্রতা বৃদ্ধির সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে (বর্তমানে) দুর্বল নিম্নচাপটি দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে, অন্ধ্র প্রদেশ এবং ওড়িশা উপকূলের কাছাকাছি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
এটির প্রভাবে আগামী ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে। ২৬ নভেম্বর বাতাসের গতিবেগ বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ এমনকি ৮০ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে। আর ২৭ নভেম্বর বাতাসের গতিবেগ ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

ভূমিকম্পে ঢাকার চেয়েও বেশি বিপদে দেশের যেসব অঞ্চল!

মাত্রই দুদিন আগে যে প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল, তার আতঙ্ক থেকে এখনও বের হতে পারেনি দেশবাসী। শুক্রবারের সেই ভূমিকম্পের প্রভাবে এরই মধ্যে তিনবার আঘাত এনেছে আফটার শক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শঙ্কা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। চলতি মাসে আঘাত হানতে পারে আরও বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামনে বড় মাত্রার ভূমিকম্পেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে ছোট ও মাঝারি এই ভূমিকম্পগুলো। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে তেমন ঝুঁকিতেই রয়েছে বাংলাদেশ। তবে, নতুন উদ্ভূত এ আতঙ্কের মধ্যেও অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অবস্থানে আছে দেশের কিছু অঞ্চল।
ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানচিত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশকে মূলত তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো জোন-১ (উচ্চঝুঁকি), জোন-২ (মাঝারি ঝুঁকি) এবং জোন-৩ (নিম্ন ঝুঁকি)।
এর মধ্যে সাম্প্রতিক গবেষণা এবং ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সম্ভাব্য ভূমিকম্পগুলোতে ঢাকার চেয়েও উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চল। আর এই উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জোন-১ এ অবস্থানরত অঞ্চলগুলো হলো সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, এবং চট্টগ্রাম ও পার্বত্য এলাকার কিছু অংশ (রাঙামাটি, বান্দরবান)।
এরপরই মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ বা জোন-২ এ অবস্থান করছে ঢাকা, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, নোয়াখালী, বগুড়া এবং রাজশাহী বিভাগের অধিকাংশ এলাকা।
সে তুলনায় ভূপ্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল।
নিম্ন ঝুঁকিপ্রবণ (জোন-৩) এলাকার জেলাসমূহ:
খুলনা বিভাগ: খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর।
বরিশাল বিভাগ: বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠি।
রাজশাহী বিভাগের পশ্চিমাংশ: (কিছু অংশ জোন-২-এর হলেও পশ্চিমাংশ অপেক্ষাকৃত নিরাপদ)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলগুলো মূল টেকটোনিক প্লেট বাউন্ডারি (যেমন: ডাউকি ফল্ট, মধুপুর ফল্ট বা মিয়ানমার ফল্ট লাইন) থেকে অপেক্ষাকৃত দূরে থাকায় সরাসরি বড় ধরনের কম্পন সৃষ্টির উৎস হিসেবে বিবেচিত হয় না।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের চারপাশে ভূমিকম্পের প্রধান পাঁচটি উৎপত্তিস্থল চিহ্নিত করা আছে। এর একটিকে বলা হয় প্লেট বাউন্ডারি-১, যেটা মিয়ানমার থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত। এছাড়া প্লেট বাউন্ডারি-২ নোয়াখালী থেকে সিলেট এবং প্লেট বাউন্ডারি-৩ সিলেট থেকে ভারতের দিকে চলে গেছে। অন্যদিকে, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এলাকায় ডাউকি ফল্ট এবং মধুপুর ফল্ট রয়েছে।
যদিও নিম্ন ঝুঁকিপ্রবণ অঞ্চলের জেলাগুলো বড় ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ; তবুও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, দুর্বল অবকাঠামো বা নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হলে রিখটার স্কেলে কম মাত্রার কম্পনেও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়।

 

হাসিনা-কামালকে ফেরাতে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পতিত স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফেরাতে ভারতের কাছে আবারও চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
রবিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কয়েকজন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত পরশু (শুক্রবার) দিল্লির বাংলাদেশ মিশন থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এর আগেও ভারতে আশ্রিত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে নয়াদিল্লিকে চিঠি দিয়েছিল সরকার। সেই বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, হাসিনাকে ফেরাতে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, সেই চিঠির জবাব এখনো আসেনি। তবে এখন তো পরিস্থিতি আরেক রকম। এখন শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের (ভারত) সঙ্গে আমাদের চুক্তিও আছে। তাকে ফেরত আনতে অফিসিয়ালি  আমরা চিঠি দেব।
গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল ভারতে পালিয়ে যান। তাদের বিরুদ্ধে জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে গত ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

চমকে দিলেন মাধুরী

০

নাগেশ কুকুনুর পরিচালিত ‘মিসেস দেশপান্ডে’ সিরিজ নিয়ে দীর্ঘদিন পর ওটিটি’র পর্দায় ফিরছেন মাধুরী দীক্ষিত। নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে সিরিজটির ২০ সেকেন্ডের টিজার শেয়ার করে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন অভিনেত্রী। আর সেই টিজারে এমন এক টুইস্টের দেখা মিলেছে, যা ছিল সবার কল্পনার বাইরে। টিজার দেখে বোঝা যায়, এই সিরিজে তিনি এক ভয়ংকর সিরিয়াল কিলারের চরিত্রে অভিনয় করবেন। কারণ প্রথমে তাকে দেখা যায়, তিনি ধীরে ধীরে গহনা ও মেকআপ খুলছেন। ঠিক তখনই আবার দৃশ্যটি কাট হয়ে কারাগারের পোশাকে দেখা যায় তাকে। আর তখন তার মুখে ছিল রহস্যময় চাহনি ও হালকা হাসি। বেশ কিছুদিন আগে একদিন সকালে ইনস্টাগ্রামে একটি রহস্যময় পোস্ট দেন মাধুরী। আর সেই পোস্টে তার জনপ্রিয় গানগুলোর কথা সাজানো ছিল নতুনভাবে। কামিং সুন ক্যাপশনের সঙ্গে ছিল- ‘এক দো তিন চার পাঁচ ছয় সাত আট’, ‘ভোলি সি সুরত, আখো মে মাস্তি’। আর এগুলো দেখে ভক্তদের মাঝে প্রবল আগ্রহও শুরু হয়। আইফা অ্যাওয়ার্ডসে এসে মাধুরী বলেন, ইচ্ছা করে আলাদা কিছু করার, চেষ্টা ছিল না। তবে, এই চরিত্রটি এমন কিছু, যা আমি করতে চাই। এটি আমার এক ভিন্ন দিককে স্পর্শ করে। প্রসঙ্গত, ‘মিসেস দেশপান্ডে’ ফরাসি থ্রিলার ‘লা মান্তে’র অফিসিয়াল রিমেক হিসেবে নির্মিত হয়েছে। তবে, সিরিজটি মুক্তির তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি।

সাকিবের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেললেন তাইজুল

০

শেষ ব্যাটার ম্যাথিউ হামফ্রেসের উইকেটের পতনের সঙ্গে সঙ্গে লাঞ্চের ৮২ মিনিট পর শেষ হলো আয়ারল্যান্ডের প্রথম ইনিংস। এরই সাথে বাংলাদেশ বাঁহাতি স্পিনার তাইজুলের ঝুলিতে জমা পড়ল ৪ উইকেট।

এই ৪ উইকেট পাওয়ার মধ্য দিয়ে সাকিব আল হাসানকে ছুঁয়ে ফেললেন তাইজুল। দুই বাঁহাতি সাকিব ও তাইজুলেরই এখন টেস্ট উইকেট সংখ্যা দাঁড়াল ২৪৬ করে।

তবে একটা বড় পার্থক্য আছে। সাকিবের ২৪৬ উইকেট পেতে খেলতে হয়েছে ৭১ টেস্ট। আর তাইজুল সমান উইকেট শিকারি হলেন ১৪ ম্যাচ কম খেলে ৫৭ টেস্টে।

টেস্টে সাকিবের ৪ উইকেট আছে ১১ বার। তাইজুল তার চেয়ে ১ বার এগিয়ে ছিলেন আগেই। ৪ উইকেটসহ এখন তাইজুল ৪ উইকেটের পতন ঘটালেন ১৩ বার।

তার মানে টেস্টে সাকিব আল হাসানকে টপকে বাংলাদেশের সর্বাধিক উইকেট শিকারি হতে তাইজুলের দরকার আর একটি উইকেট। হয়তো দ্বিতীয় ইনিংসেই বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল টপকে যাবেন সাকিবকে।

৫৬ টেস্টে ২০৯ উইকেট নিয়ে এই তালিকায় তিন নম্বরে মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩৩ টেস্টে ১০০ উইকেট শিকারি মোহাম্মদ রফিক চার নম্বরে। ৩৬ টেস্টে ৭৮ উইকেট নিয়ে সেরা পাঁচে এখনো মাশরাফি বিন মর্তুজা।

জামাল ভূইয়াঁকে স্বাক্ষরিত জার্সি পাঠিয়েছেন নেইমার

০

ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার তার জার্সি উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূইয়াঁকে। গত বৃহস্পতিবার বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে জার্সি তুলে দেওয়া হয়েছে জামালের হাতে। জাপানি মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হোন্ডা বাংলাদেশ ফুটসাল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে। ৩২টা দল খেলবে দ্বিতীয় আসরে।

টুর্নামেন্ট নিয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রফি উন্মোচণ করা হয়, সব দলের লোগো প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে মোটো হোন্ডা দ্য অ্যামোজেনিয়া ব্রাজিলের পক্ষ থেকে নেইমার স্বাক্ষরিত ব্রাজিলের জার্সি পাঠানো হয়েছে। সেটি কাল অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জামালের হাতে তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশ হোন্ডা লিমিটেডের এমডি ও সুসুমু মরিসাওয়া এবং চিফ মার্কেটিং অফিসার শাহ মোহাম্মদ আশিকুর রহমান।

জার্সিতে ব্রাজিলের ভাষায় নেইমার লিখেছেন ‘টু ডিয়ার জামাল ভূইয়াঁ।’ একটি ভিডিওতে ব্রাজিলের হোন্ডা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জানিয়েছেন বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সি স্বাক্ষর করেছেন নেইমার। তিনিও হোন্ডা কোম্পানির দূত হয়ে কাজ করছেন, বাংলাদেশে কাজ করছেন জামাল ভূইয়াঁ। জামাল গত বছরও হোন্ডা কোম্পানি আয়োজিত ফুটসালে গিয়েছিলেন। তার মতে, প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের চেয়েও হোন্ডার ফুটসালে ভালো লড়াই হয়।

চট্টগ্রামে তৈরি আরও তিন জাহাজ গেল আমিরাতে

০

জাহাজ রপ্তানিতে আবার গতি ফিরেছে। চট্টগ্রামভিত্তিক জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড সংযুক্ত আরব আমিরাতে একসঙ্গে তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট জাহাজ রপ্তানি করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মারওয়ান শিপিং লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চট্টগ্রামের পটিয়ায় জাহাজ নির্মাণ কারখানাটির সামনে কর্ণফুলী নদীর তীরে ‘মায়ায়’আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই তিনটি জাহাজ হস্তান্তর করা হয়। জাহাজ তিনটির নাম মায়া, এমি ও মুনা। তিনটি জাহাজই ল্যান্ডিং ক্রাফট। তিনটিরই দৈর্ঘ্য ৬৯ মিটার, প্রস্থ ১৬ মিটার এবং ড্রাফট ৩ মিটার। আন্তর্জাতিক ক্ল্যাসিফিকেশন সোসাইটি বুরো ভেরিতাসের মানদণ্ড অনুযায়ী নির্মিত এবং ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। প্রায় ৭০০ বর্গমিটার ক্লিয়ার ডেক স্পেস থাকায় ভারি যন্ত্রপাতি ও বাল্ক কার্গো পরিবহনে উপযোগী।

জাহাজগুলোতে রয়েছে দুটি ইয়ানমার মূল ইঞ্জিন, ইলেকট্রো-হাইড্রোলিক র‌্যাম্প উইঞ্চ, ২৪ মিলিমিটার স্টিল ওয়্যার রোপ, উন্নত অ্যাঙ্করিং ও হাইড্রোলিক স্টিয়ারিং ব্যবস্থা। নেভিগেশনের জন্য ইনস্টল করা হয়েছে সিমরাড এস৩০০৯ ইকো সাউন্ডার, ফুরুনো জিপি-৩৯ জিপিএস, নেভিট্রন এনটি-৮৮৮৬ অটোপাইলট, রাডার ও আন্তর্জাতিক মানের কমিউনিকেশন সরঞ্জাম। এ নিয়ে চলতি বছর ছয়টি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি করছে ওয়েস্টার্ন মেরিন। বছরের শুরুতে ‘রায়ান’নামে একটি ল্যান্ডিং ক্রাফট এবং জুলাই মাসে ‘খালিদ’ ও ‘ঘায়া’ নামে দুটি টাগবোট রপ্তানি করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর এবার ৩৯তম জাহাজ রপ্তানি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ওয়েস্টার্ন মেরিন সূত্র জানায়, মারওয়ানের সঙ্গে করা চুক্তিতে মোট আটটি জাহাজ রয়েছে- দুটি টাগবোট, চারটি ল্যান্ডিং ক্রাফট এবং দুটি অয়েল ট্যাংকার। এর মধ্যে চারটি ল্যান্ডিং ক্রাফট ও দুটি টাগবোট চলতি বছরই রফতানি করা হচ্ছে। বাকি দুটি অয়েল ট্যাংকার ২০২৬ সালের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। জাহাজ নির্মাণযাত্রা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১১টি দেশে বিভিন্ন ধরনের ৩৬টি জাহাজ রপ্তানি করেছে ওয়েস্টার্ন মেরিন। যার বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক মারওয়ান শিপিংয়ের কাছে প্রথম জাহাজ রপ্তানি করা হয় ২০১৭ সালে।

জাহাজ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হমোদি বলেন, দুই দেশের দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক আমাদের মধ্যকার বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে। আশা করি, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে আরও জাহাজ আরব আমিরাতে রপ্তানি হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক আবদুর রহিম খান ও ওয়েস্টার্ন মেরিনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওয়েস্টার্ন মেরিনের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, জাহাজ নির্মাণ একটি শ্রমঘন ও উচ্চ প্রযুক্তির ভারি শিল্প। জাহাজ রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা সম্ভব।

ওয়েস্টার্ন মেরিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেল হাসান বলেন, দেশে এই শিল্পের বিকাশের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি বরাদ্দ। পুঁজি পেলে বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং দেশের রপ্তানি বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবে জাহাজনির্মাণ শিল্প খাত।

এই রায় নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষার বিজয়: বিএনপি

০

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই রায়কে দলটি নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষার বিজয় এবং ভবিষ্যতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে একটি অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকারই অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে।

আমীর খসরু বলেন, অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। এই ব্যবস্থায় কোনো কাঠামোগত দুর্বলতা থাকলে তা সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

আমীর খসরু আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্ব নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকলে তা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দস কাজল বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে এই রায়টি সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায়। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই সরকারব্যবস্থা আনয়ন করে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। ২০১১ সালে আপিল বিভাগ সেই সরকারব্যবস্থা বাতিল করে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। আজকের রায়ের ফলে, সংবিধানে এই সরকার ব্যবস্থা অটোমেটিক্যালি পুনরুজ্জীবিত হলো, মানুষের ভোটের অধিকার আবারও প্রতিষ্ঠিত হলো।

রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, এই রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহাল হলো। জনগণ এখন নির্দ্বিধায় ভোট দিতে পারবে।

ফরিদপুরে ডিক্রিরচরে বিএনপির মতবিনিময় সভা

০

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফরিদপুরের ডিক্রিরচরে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর সদর উপজেলা ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে শহরের মুন্সি ডাংগী শুকুর সরদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর সদর ৩ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি মো. ইসমাইল মুন্সির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ফরিদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিল্পপতি চৌধুরী ফারিয়ান ইউসুফ, ডিক্রিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান মাতুব্বর, আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের সভাপতি আসাদুজ্জামান খান জলিল মেম্বার, ডিক্রিরচর কৃষক দলের সভাপতি মো. আলম শেখ, সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন শেখ শামু সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন বেপারীসহ বিএনপি সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, আমি আল্লাহর কাছে সব সময় শুকরিয়া করি, আমার পিতা মরহুম চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের পাশে যারা ছিলেন তারা সবাই আমার সঙ্গে আছেন এবং আমাকে ও আমার প্রতীক ধানের শীর্ষকে বিজয় করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের আর কয়েকটা দিন কষ্ট করতে হবে, ভোটের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইতে হবে। আপনাদের মনে জোর রাখতে হবে, সাহস রাখতে হবে ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদেরই হবে।

ফরিদপুরে ডিক্রিরচরে বিএনপির মতবিনিময় সভা

মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফরিদপুরের ডিক্রিরচরে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর সদর উপজেলা ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে শহরের মুন্সি ডাংগী শুকুর সরদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর সদর ৩ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি মো. ইসমাইল মুন্সির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ফরিদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিল্পপতি চৌধুরী ফারিয়ান ইউসুফ, ডিক্রিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান মাতুব্বর, আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের সভাপতি আসাদুজ্জামান খান জলিল মেম্বার, ডিক্রিরচর কৃষক দলের সভাপতি মো. আলম শেখ, সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন শেখ শামু সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন বেপারীসহ বিএনপি সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, আমি আল্লাহর কাছে সব সময় শুকরিয়া করি, আমার পিতা মরহুম চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের পাশে যারা ছিলেন তারা সবাই আমার সঙ্গে আছেন এবং আমাকে ও আমার প্রতীক ধানের শীর্ষকে বিজয় করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের আর কয়েকটা দিন কষ্ট করতে হবে, ভোটের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইতে হবে। আপনাদের মনে জোর রাখতে হবে, সাহস রাখতে হবে ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদেরই হবে।

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় কাজ করতে প্রস্তুত জেলেনস্কি

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে তিনি প্রস্তুত আছেন। তবে ইউরোপের বেশ কিছু মিত্রদেশ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত এ পরিকল্পনাটি রাশিয়ার স্বার্থেই বেশি কাজ করবে।

বৃহস্পতিবার জেলেনস্কির কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে প্রেসিডেন্ট ওই পরিকল্পনার একটি খসড়া হাতে পেয়েছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলবেন।

তবে অপ্রকাশিত এই পরিকল্পনার বিষয়ে জেলেনস্কির কার্যালয় থেকে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে জেলেনস্কির কার্যালয় বলছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আশা করছেন কূটনৈতিক সুযোগ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় মূল দিকগুলো নিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা হবে।

বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের খবর বলছে, ২৮ দফার এই পরিকল্পনায় ইউক্রেনকে কিছু ভূখণ্ড ও অস্ত্র ছাড় দিতে হবে। এই পরিকল্পনা–সংশ্লিষ্ট এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরিকল্পনা অনুসারে, রাশিয়ার কাছে পূর্ব ইউক্রেনের কিছু অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া হবে। এর বদলে ইউক্রেন ও ইউরোপকে ভবিষ্যতে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা থেকে নিরাপত্তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

এই পরিকল্পনা নিয়ে এক মাস ধরে কাজ করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ইউক্রেনীয় ও রুশ দুই পক্ষের জনগণের কাছ থেকে গ্রহণযোগ্য শর্তগুলো নিয়ে মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। তিনি উদীয়মান এই প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, ট্রাম্প এ বিষয়ে তাকে ব্রিফ করেছেন এবং তিনি প্রস্তাবটি সমর্থন করেছেন।

লেভিট বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই পক্ষের জন্য এটি একটি ভালো পরিকল্পনা। এটি দুই পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত এবং তারা এটি নিয়ে কাজ করছেন বলেও জানান লেভিট।

পরে জেলেনস্কি বলেন, তিনি এই পরিকল্পনা নিয়ে কিয়েভে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি ড্যানিয়েল ড্রিসকলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

তবে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নতুন উদ্যোগকে গুরুত্ব দেবে না বলেই মনে হচ্ছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, এই মুহূর্তে কোনো আলোচনা চলছে না। অবশ্যই কিছু তথ্য বিনিময় হচ্ছে। তবে এমন কোনো প্রক্রিয়া চলছে না, যাকে যোগাযোগ বলা যায়।

জেলেনস্কি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি নিয়ে কাজ করার ইঙ্গিত দিলেও ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা এ ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছে।

ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো বলেন, ‘ইউক্রেনের মানুষ শান্তি চায়, যা সব দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবে। এমন টেকসই শান্তি চায়, যা ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আগ্রাসনের আশঙ্কা জাগাবে না। তবে শান্তি মানে আত্মসমর্পণ করা নয়।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা ক্যালাস বলেন, যেকোনো শান্তি প্রস্তাব কার্যকরের জন্য ইউরোপ ও ইউক্রেনের সমর্থন প্রয়োজন। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাউ সিকোরস্কি বলেন, যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে বলে ইউরোপ প্রত্যাশা করছে।

রাশিয়ার হামলার মুখে ইউক্রেনীয় সেনারা দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত কূটনৈতিক উদ্যোগে যোগ দিতে জেলেনস্কি চাপের মুখে পড়ছেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত অক্টোবরে দাবি করেছিলেন, রুশ সেনারা চলতি বছর ইউক্রেনের প্রায় পাঁচ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছেন। তবে গত ২৫ অক্টোবর ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার বলেছে, প্রকৃতপক্ষে ৩ হাজার ৪৩৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল হয়েছে।