৫ ব্যাংক একীভূতের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট
শেখ হাসিনা ও কামালের মোট সম্পদ কত?
হাসিনা গণহত্যা চালিয়ে কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল: মেজর হাফিজ
হাসিনাকে হস্তান্তর করবে ভারত?
ট্রুডোর প্রেম নিয়ে এবার নীরবতা ভাঙলেন সাবেক স্ত্রী সোফি
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ড
দেশে মোট ভোটারের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করল ইসি
অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলে কোনো অনিয়ম হয়নি: বিসিবি
গেল সেপ্টেম্বরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) তরফ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। যেখানে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলে অনিয়মের আশঙ্কা করেছে এনএসসি এবং বোর্ডকে এই বিষয়ে তদন্ত করার জন্য বলা হয়েছে।
এনএসসির চিঠির প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত শনিবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিবৃতিতে বিসিবির তরফ থেকে জানানো হয়, এনএসসির অভিযোগগুলোর বিস্তারিত পর্যালোচনা করেও কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিসিবি জানিয়েছে, চিঠিটি এমন সময়ে পাওয়া যায় যখন বোর্ড সাধারণ পরিষদ গঠন ও নতুন পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত ছিল। সে সময় অধিকাংশ বিভাগ নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করায় দৈনন্দিন কার্যক্রম সীমিত ছিল। সাধারণ পরিষদ গঠন, পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন ও কমিটির সভাপতি নিয়োগের পর সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচন-সংক্রান্ত সব নথিপত্র খতিয়ে দেখে বিসিবি। পর্যালোচনায় অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের স্কোয়াড বাছাইয়ে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করে বোর্ড।
এছাড়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক অলরাউন্ডার রিয়া আক্তার শিখা কর্তৃক এনএসসিকে পাঠানো চিঠির অতিরিক্ত বিষয় এবং সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশ নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের সাক্ষাৎকারে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিসিবি জানায়, স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও জবাবদিহিতার প্রতি বোর্ড সদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ফারিণ এবার শাকিবের নায়িকা
একসঙ্গে দুটি সুখবর। একটি তাসনিয়া ফারিণ নিজেই জানিয়েছেন, অন্যটি একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পোস্টের সূত্রে জানা গেছে।
হঠাৎই গত শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে তাসনিয়া ফারিণ জানান, তার নামের আগে এবার যোগ হচ্ছে নতুন পরিচয়। তিনি এখন আর শুধু অভিনেত্রীই নন, প্রযোজনায়ও নাম লেখাচ্ছেন। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ফড়িং ফিল্মস’। ভক্তদের সুখবরটা জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফারিণ লিখেছেন, ‘নতুন অধ্যায়ের শুরু। ‘ফড়িং ফিল্মস’ আমার প্রোডাকশন হাউস। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’ প্রযোজক হিসেবে ফারিণকে শুভকামনা জানিয়েছেন সহকর্মীরা।
এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরুতে কী নির্মাণ করতে যাচ্ছেন, ফোনে জানতে চাইলে আপাতত কিছুই বলতে চাইলেন না অভিনেত্রী। তবে ফড়িং ফিল্মসের ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, ‘তাসনিয়া ফারিণের নতুন যাত্রা। সীমানা ছাড়িয়ে ওড়ার গল্প। এই মাসে প্রথম প্রযোজিত কাজ প্রকাশ পাবে।’ একটি সূত্র জানায়, একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার প্রযোজক হয়েছেন ফারিণ। ছোট থেকেই শুরু করতে চান। এদিকে বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, ‘প্রিন্স’ সিনেমায় শাকিব খানের সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছেন ফারিণ। চুক্তিবদ্ধও হয়েছেন তারা। তবে এই নিয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কখনোই নিশ্চিত কিছু জানায়নি। অবশেষে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দিয়েছে, ‘প্রিন্স’ সিনেমার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ফারিণ। চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন এমন হাসিমুখের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে ফারিণ লিখেছেন, ‘আমার নতুন যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। হৃদয় ভরা ভালোবাসা। তৈরি হচ্ছি ‘প্রিন্স’–এর জন্য।’
আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে সিনেমার শুটিং শুরু হবে। শুরু থেকেই সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নেবেন ফারিণ। সিনেমার পরিচালক আবু হায়াত বলেন, ‘সিনেমার একদম শুরু থেকেই শাকিব খান ও ফারিণের অংশ দিয়ে দৃশ্য ধারণ হবে। আমরা সিনেমার প্রিপ্রোডাকশনের কাজ প্রায় সব শেষ করেছি। আগামী সপ্তাহ থেকে আমরা টানা শুটিংয়ের আগপর্যন্ত রিহার্সাল করে যাব।’ ‘প্রিন্স’ আগামী ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ‘ইনসাফ’ সিনেমায় শরীফুল রাজের বিপরীতে সর্বশেষ ফারিণকে দেখা যায়।
ইসলামী ব্যাংকিং খাত শক্তিশালীভাবে গড়তে ভালো নিরীক্ষা প্রয়োজন: গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাত শক্তিশালীভাবে গড়ে তুলতে ভালো হিসাবরক্ষণ, সুশাসন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম প্রয়োজন।
তিনি বলেন, উচ্চমানের নিরীক্ষা মানদণ্ড অনুসরণ করা প্রচলিত ও ইসলামী-উভয় ধরনের ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ইসলামী অর্থনীতির জন্য ভালো হিসাবরক্ষণ, সুশাসন এবং নিরীক্ষা প্রয়োজন।
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইসলামিক ফিন্যান্স সামিট-২০২৫’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি ইসলামী ব্যাংকিং আইন প্রণয়নে কাজ করছে এবং তারা সর্বোত্তম আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে চায়।
তিনি বলেন, ‘দেশে ইসলামী ব্যাংকিংকে শক্তিশালী করতে ভালো হিসাবরক্ষণ, সুশাসন ও প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি ইসলামী ব্যাংকিং আইন প্রণয়নে কাজ করছে এবং আমরা সর্বোত্তম আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে চাই।’
গভর্নর আরও বলেন, ‘ভালো নিরীক্ষা বাংলাদেশের ইসলামী অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে।’
তিনি স্বীকার করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংকিং খাত একটি অস্থির সময় পার করেছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, খাতটি কাঠামোগতভাবে শক্তিশালী এবং এখনো বাজারে অনেক খাতের তুলনায় ভালো করছে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ইসলামী অর্থনীতি ভালো করছে। বাংলাদেশে আমরা আরও ভালো অবস্থানে থাকতে পারতাম যদি অস্থির সময় না আসত। তবুও আমরা খাতটির প্রতি আস্থা রাখি এবং আমানতকারীরাও ধীরে ধীরে আস্থা ফিরে পাচ্ছেন।’
আহসান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকগুলো পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাসে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল) প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ব্যাংকটি ভালোভাবে চলছে এবং সবচেয়ে বড় গ্রাহকভিত্তিক রয়েছে, তবে অনিয়ম এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়।
তিনি উল্লেখ করেন, একটি একক পরিবারের মাধ্যমে আইবিবিএল থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছিল, যা ব্যাংকটির সম্পদের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।
‘এই উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়ার পরও মানুষ আইবিবিএলের ওপর আস্থা রেখেছে’- উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, আইবিবিএল তীব্র তারল্য সংকটের সম্মুখীন হয়েছিল। কিন্তু এখন তা কাটিয়ে উঠেছে। এমনকি এ বছর ইসলামী ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ আমানত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা এই শিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত।
তিনি আরও বলেন, ‘তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর জন্য একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমাদের এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।’
‘আমরা আশা করি পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা দায়িত্বশীল ও প্রতিনিধিত্বমূলক হবেন।’
খাতটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে গভর্নর বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং একটি সুশৃঙ্খল, সুশাসিত ও টেকসই পথে এগিয়ে যাক।


