Home Blog Page 281

জানুন কখন, কীভাবে, কোন ফল খাবেন!

ফল শরীরের অন্যতম প্রাকৃতিক পুষ্টির উৎস। এতে থাকে ভিটামিন, মিনারেলস, কার্বোহাইড্রেট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট— যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বকের যত্নে সাহায্য করে এবং হজমের সমস্যাও কমায়। তবে সব কিছুরই যেমন নিয়ম আছে, ফল খাওয়ারও আছে সঠিক সময় ও উপায়। তা না মানলে উপকারের বদলে হতে পারে উল্টো ক্ষতি।

কখন এবং কীভাবে ফল খাবেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল একটি সম্পূর্ণ খাবার। তাই এটি মূল খাবারের সঙ্গে খাওয়া ঠিক নয়।
খাবার খাওয়ার কমপক্ষে আধ ঘণ্টা আগে বা এক ঘণ্টা পরে ফল খাওয়া সবচেয়ে ভালো।
খাবারের সঙ্গে ফল খেলে এতে থাকা শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট একত্রে হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

দিনের কোন সময় ফল খাওয়া সবচেয়ে উপকারী

ফল খাওয়ার আদর্শ সময় হলো সকাল।
ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুয়ে, পানি খাওয়ার কিছুক্ষণ পর ফল খেলে এটি সহজে হজম হয়। এসময় ফলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও এনজাইম শরীরে ভালোভাবে কাজ করে।

এছাড়া সকাল ও দুপুরের মাঝামাঝি সময়ে যখন হালকা ক্ষুধা লাগে, তখন ফল খাওয়া খুব উপকারী। এই সময় ফলের সঙ্গে সামান্য বাদাম বা দানাশস্য নিলে তা হালকা নাশতা হিসেবেও চমৎকার।

শরীরচর্চা করার আগে বা পরে ফল খাওয়াও উপকারী, কারণ এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি দ্রুত শক্তি যোগায়।

কোন ফল কখন খাবেন

রাতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে পরদিন সকালে পেঁপে খান। এতে থাকা পাপাইন এনজাইম প্রোটিন হজমে সাহায্য করে।

বেশি লবণ খেলে পরদিন সকালে তরমুজ খান— এটি শরীরের সোডিয়াম ভারসাম্য ঠিক রাখে।

বেশি কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার পরদিন সকালে আপেল খেলে শরীর হালকা থাকে ও ফোলাভাব কমে।

কখন ফল খাওয়া ক্ষতিকর

ঘুমানোর আগে ফল খাওয়া রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

মূল খাবারের সঙ্গে ফল খাওয়া হজমে সমস্যা তৈরি করে।

বিকেলে চা বা নাশতার সঙ্গে ফল খাওয়া অনেক সময় বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে।

যেসব ফল একসঙ্গে খাওয়া বিপজ্জনক

কমলালেবু ও গাজর একসঙ্গে খাওয়া গ্যাস ও কিডনির সমস্যা বাড়াতে পারে।

আঙুর ও খেজুর একসঙ্গে খেলে অম্বল হয়।

পেয়ারা ও কলা একসঙ্গে খেলে গ্যাস, বদহজম, মাথা ঘোরা হতে পারে।

পেঁপে ও লেবু একসঙ্গে খেলে রক্তাল্পতা ও হিমোগ্লোবিন ভারসাম্য নষ্ট হয়।

টক ফল (যেমন আঙুর, আপেল) ও মিষ্টি ফল (যেমন কলা, কিশমিশ) একসঙ্গে খাওয়া ঠিক নয়।

তরমুজের সঙ্গে অন্য ফল খেলে হজমে ব্যাঘাত ঘটে।

ফল খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী, তবে সময়, পরিমাণ ও সঠিক সমন্বয় জানা জরুরি।
ঠিক সময়ে ও সঠিকভাবে ফল খেলে শরীর পায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি, বাড়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, কমে ক্লান্তি ও হজমজনিত সমস্যা।
পুষ্টিবিদদের মতে, “খালি পেটে পানি, ভরা পেটে ফল”— এই ধারণা বদলে সময় মেনে ফল খাওয়ার অভ্যাসই রাখবে আপনাকে আরও সুস্থ ও সতেজ।

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হলো ‘এআই পার্টি ফোন’ রিয়েলমি ১৫ সিরিজ

বাংলাদেশে বহুল প্রতীক্ষিত রিয়েলমি ১৫ সিরিজ উন্মোচনের ঘোষণা দিয়েছে তরুণদের পছন্দের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি। বাজারের সবধরনের সেগমেন্টের প্রয়োজন মেটাতে সিরিজটিতে থাকছে তিনটি মডেল – রিয়েলমি ১৫ ফাইভজি, রিয়েলমি ১৫ প্রো ফাইভজি ও রিয়েলমি ১৫টি ফাইভজি। আগামী প্রজন্মের ডিজিটাল ক্রিয়েটর ও এআই-প্রেমিদের জন্য ডিজাইন করা এই ডিভাইসটিতে সর্বাধুনিক পারফরম্যান্স, উদ্ভাবনী এআই ফিচার ও সর্বাধুনিক ক্যামেরা রয়েছে, যা মোবাইল ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

ক্রেতারা তাদের পছন্দের মডেল ১২-১৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রি-বুক করতে পারবেন। প্রি-অর্ডার করা ক্রেতাদের জন্য থাকছে এক্সক্লুসিভ গিফট বক্স, রিয়েলমি বাডস টি২০০ লাইট, এক্সক্লুসিভ গোল্ড সার্ভিস কার্ড, রিয়েলমি এক্সক্লুসিভ ওয়াটার বোতল ও কার্ড ছাড়াই ইজি টপপে ক্যাশ ইএমআই সুবিধা। প্রি-অর্ডারের এই অফারটি সীমিত সময়ের জন্য প্রযোজ্য এবং এক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্তাবলী প্রযোজ্য হবে। বিশেষভাবে, প্রথম সেল পিরিয়ডে রিয়েলমি ১৫ প্রো ফাইভজি বা ১৫ ফাইভজি প্রি-অর্ডারের ক্রেতাদের জন্য এক্সক্লুসিভ গিফট বক্স থাকছে।

রিয়েলমি ১৫ সিরিজে রয়েছে একদম নতুন এআই এডিট জিনি ও এআই-সক্ষম ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপের মতো অনন্য ফিচার। বেস ১৫ মডেলে আলট্রা-স্মুথ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে ১৪৪ হার্জ রিফ্রেশ রেট সহ ৬.৭৭ ইঞ্চির অ্যামোলেড ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের ৪কে ভিডিও, প্রাণবন্ত পোর্ট্রেইট ও ঝকঝকে ছবি অনায়াসে তোলার সুযোগ করে দিবে। আরও বেশি প্রিমিয়াম ফিল দিতে রিয়েলমি ১৫ প্রো ফাইভজিতে ৬.৮ ইঞ্চির ১৪৪ হার্জ হাইপারগ্লো ৪ডি কার্ভ+ ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। ফ্রন্ট ও রেয়ার দুইটি ক্যামেরাতেই ৬০ এফপিএস (ফ্রেম পার সেকেন্ড) ৪কে ভিডিও রেকর্ডিং করার সুবিধা রয়েছে, যা ক্রিয়েটর ও ভ্লগারদের জন্য সিনেমাটিক মানের ভিজ্যুয়াল নিশ্চিত করবে। এছাড়াও, ১৫ সিরিজে আইপি৬৯ রেটিং ব্যবহার করা হয়েছে, যা পানি ও ধুলাবালি প্রতিরোধে এই খাতের সর্বোচ্চ মানদণ্ড। একইসাথে, ১৫ প্রো ডিভাইসটিকে আরও বেশি ডিউরেবল করে তুলতে এতে কর্নিং গরিলা গ্লাস স্ক্রিন প্রোটেকটর ব্যবহার করা হয়েছে।

রিয়েলমি ১৫ প্রো’তে শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেন ৪ চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে রিয়েলমি ১৫-তে ডাইমেনসিটি ৭৩০০+ ফাইভজি চিপসেট রয়েছে; যা সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স ও একইসাথে, ব্যবহারকারীদের জন্য সমৃদ্ধ ও নিরবচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে। ডিভাইসগুলোতে ৭০০০ বর্গমিলিমিটার ভিসি কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা হেভি গেমিং ও মাল্টিটাস্কিংয়ের সময়েও তাপনিঃসরণকে কার্যকর রাখে। ব্যবহারকারীদের জন্য আরও বেশি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে রিয়েলমি ১৫টি ডিভাইসে ডাইমেনসিটি ৬৪০০ ম্যাক্স ফাইভজি চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে।

৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার টাইটান ব্যাটারি, ৮০ ওয়াট সুপার-ফাস্ট চার্জিং ও স্লিক-এরগোনমিক ডিজাইন সহ আসা রিয়েলমি ১৫ ফাইভজি ও ১৫ প্রো ফাইভজি ডিভাইস নিরবচ্ছিন্ন পারফরম্যান্স, দীর্ঘস্থায়ী কর্মক্ষমতা ও অনবদ্য বিনোদন নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, ১৫টি ফাইভজিতে ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার টাইটান ব্যাটারি ও ৬০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সুবিধা রয়েছে।

বেশকিছু অনন্য কালার ভ্যারিয়েন্টে এসেছে রিয়েলমি ১৫ প্রো ফাইভজি, রিয়েলমি ১৫ ফাইভজি ও রিয়েলমি ১৫টি ফাইভজি। ফ্লোয়িং সিলভার ও ভেলভেট গ্রিনের মতো দুইটি অনন্য রঙে পাওয়া যাবে ১৫ প্রো, যেখানে ভেলভেট গ্রিন ভ্যারিয়েন্টটি লেদার ব্যাকে পাওয়া যাবে। সিল্ক পিঙ্ক ও স্যুট টাইটানিয়াম, এই দুইটি কালার ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে রিয়েলমি ১৫। স্যুট টাইটানিয়াম ও ফ্লোয়িং সিলভারের মতো আরও দুইটি অনন্য রঙে পাওয়া যাবে রিয়েলমি ১৫টি। রিয়েলমি ১৫ প্রো ফাইভজির (১২ জিবি/২৫৬ জিবি) দাম ধরা হয়েছে মাত্র ৫৯,৯৯৯ টাকা, রিয়েলমি ১৫ ফাইভজির (১২ জিবি/২৫৬ জিবি) মাত্র ৪৪,৯৯৯ টাকা ও রিয়েলমি ১৫টি ফাইভজির (৮ জিবি/২৫৬ জিবি) মাত্র ৩২,৯৯৯ টাকা। এআই-সক্ষম মোবাইল ফটোগ্রাফি ও পারফরম্যান্সের নতুন যুগে প্রবেশ করতে এখনই প্রি-অর্ডার করুন রিয়েলমি ১৫ সিরিজ।

নিষিদ্ধ ক্রিয়েটররা ফিরছে ইউটিউবে

যারা নিষিদ্ধ হয়েছিল এমন কিছু ব্যবহারকারীকে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে ভিডিও পোস্ট করার খুব শিগগিরই অনুমতি দিচ্ছে ইউটিউব। ফলে এমন কিছু ভিডিও আবার ফিরে আসতে পারে। যা একসময় ইউটিউবের পুরনো নীতিমালা ভঙ্গ করেছিল।

গত মাসে ইউটিউব ঘোষণা করে, নির্দিষ্ট শর্তে আগের নিষিদ্ধ ব্যবহারকারী এবং তাদের কিছু কনটেন্টকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হবে। এই পদক্ষেপ আসে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের এক তদন্তের পর। যেখানে অভিযোগ করা হয়েছিল যে বাইডেন প্রশাসন নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্ট সরাতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিল।

ইউটিউব জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে তারা কোভিড ১৯ সংক্রান্ত বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ও ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচন ফলাফল নিয়ে ভুল তথ্য প্রচার সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নিয়েছে। ফলে যেসব চ্যানেল এই কারণে বন্ধ হয়েছিল তারা এখন পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ পাচ্ছে।

কোম্পানির ব্লগ পোস্টে বলা হয়েছে, “আমরা জানি অনেক ক্রিয়েটর দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। ইউটিউব ২০ বছরে যেমন বদলেছে, আমাদের কমিউনিটির সঙ্গেও আমরা নতুনভাবে ভারসাম্য তৈরি করতে চাই।”

কীভাবে কাজ করবে নতুন নীতি

আগের নিষিদ্ধ কিছু ব্যবহারকারী এখন তাদের পুরনো অ্যাকাউন্টে লগইন করলে “নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরির অনুরোধ” করার সুযোগ পাবেন। তবে এটি সবাই একসাথে পাবেন না। ইউটিউব ধীরে ধীরে আবেদন গ্রহণ করবে যাতে রিভিউ প্রক্রিয়ায় দেরি না হয়। নিষিদ্ধ হওয়ার কমপক্ষে এক বছর পর ব্যবহারকারীরা এই সুযোগ পাবেন।

ইউটিউব বলেছে, আবেদনগুলো যাচাই করা হবে ব্যবহারকারীর পূর্ববর্তী আচরণ, নিয়মভঙ্গের মাত্রা এবং তৃতীয় পক্ষের প্ল্যাটফর্মে তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে। তবে কপিরাইট লঙ্ঘন, ক্রিয়েটর রেসপনসিবিলিটি নীতি ভঙ্গ বা নিজে থেকে চ্যানেল মুছে ফেলা ব্যবহারকারীরা এই প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

নতুন করে শুরু, পুরনো ভিডিওর ছাড়

যাদের আবেদন অনুমোদিত হবে তারা তাদের পুরনো চ্যানেল বা সাবস্ক্রাইবার ফিরে পাবেন না। সম্পূর্ণ নতুনভাবে শুরু করতে হবে। তবে তারা চাইলে আগের ভিডিওগুলো পুনরায় আপলোড করতে পারবেন। যদি সেগুলো ইউটিউবের বর্তমান কমিউনিটি গাইডলাইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। অর্থাৎ আগে নিষিদ্ধ হওয়া কিছু ভিডিও এখন আর নিয়মভঙ্গ হিসেবে গণ্য নাও হতে পারে।

এই নতুন অ্যাকাউন্টগুলো ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যোগ দিতে পারবে। যদি তারা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে। তাদের জন্যও প্রযোজ্য থাকবে তিন–স্ট্রাইক নীতি।

ইউটিউব বলছে, এই পরিবর্তন তাদের “স্বাধীন মতপ্রকাশের প্রতিশ্রুতি”র অংশ। সংস্থার এক মুখপাত্র জানান, “আমরা চাই ব্যবহারকারীরা স্পষ্টভাবে বুঝুক কোন নিয়ম ভঙ্গ করলে তারা নিষিদ্ধ হতে পারে।”

মেটা সিইও মার্ক জুকারবার্গও জানিয়েছেন, তার কোম্পানি “স্বাধীন মতপ্রকাশে” ফিরে যাচ্ছে এবং আর তৃতীয় পক্ষের ফ্যাক্টচেকারদের ওপর নির্ভর করবে না।

সরকার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায়নি : বাণিজ্য উপদেষ্টা

সরকার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায়নি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। মঙ্গলবার রাজধানীর পূর্বাচলে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ানোর কোনো অধিকার নেই। তিনি সতর্ক করেছেন, যদি মূল্য পরিবর্তন ঘটানো হয়, সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এর আগে, গত সোমবার বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ১৪ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।

তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৭৭ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া, পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৯৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতি লিটার খোলা পাম তেলের দাম ১৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন অন্য এক অনুষ্ঠানে বলেছেন বলেছেন, আসবাবপত্র শিল্পের বিকাশ এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের আসবাবপত্র শিল্পে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এ শিল্পের উন্নয়নে বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হবে। দেশের সম্পদ ও সুযোগকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে দ্রুততম সময়ে বৈশ্বিক আসবাবপত্র বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার ২০তম জাতীয় ফার্নিচার মেলা ২০২৫-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকার অর্থনীতিতে ‘বুদবুদ’ তৈরি করেছিল, যা কর্মসংস্থান না করলেও ব্যাংকের শাখা ও কিছু অফিস বাড়িয়েছিল। সঙ্গত কারণেই বর্তমান সরকারকে সংকোচনমূলক অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করতে হয়েছে। না হলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াত না।

তিনি বলেন, ফার্নিচারের কার্যকরী ও নান্দনিক বৈশিষ্ট্য (ফাংশনাল ও এসথেটিক অ্যাট্রিবিউট) নেই, প্রয়োজনীয় উদ্ভাবনও হচ্ছে না। সরকার নীতিগতভাবে যতটা আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার, তা করছে। ব্যবসায়ীদের উচিত উদ্ভাবন বাড়ানো। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ফার্নিচার শিল্পের জন্য নতুন নতুন বাজার খুঁজতে কাজ করছে। এই শিল্পে নান্দনিকতা ও রুচির বহিঃপ্রকাশ রয়েছে- তা নিয়ে আরও কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ফার্নিচারের দামের কারণে নয়, উদ্ভাবনের অভাবে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। আমাদের উচিত ফার্নিচার শিল্পে উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়ানো। আমরা কিছু দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, যা এই শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

বিএফআইওএর চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)’র ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. কে এম আখতারুজ্জামান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এবারের মেলায় ৪৮টি শীর্ষস্থানীয় ফার্নিচার কোম্পানি অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা সর্বাধুনিক নকশা ও পণ্যের প্রদর্শনী করবে ২৭৮টি স্টলে।

বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের গুলনকশা (হল-১), পুষ্পগুচ্ছ (হল-২) এবং রাজদর্শন (হল-৩) হলে পাঁচ দিনের এই মেলা সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ‘আমার দেশ, আমার আশা—দেশীয় ফার্নিচারে সাজাবো বাসা’ স্লোগানে আয়োজিত এই মেলা দেশের ফার্নিচার শিল্পের সবচেয়ে বড় আয়োজন।

বিডা ও সুইসকন্টাক্টের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সুইসকন্টাক্ট-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। যার লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরো শক্তিশালী করা এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিডা সম্মেলন কক্ষে ওই সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে বলা হয়, চুক্তির আওতায় তিনটি মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো- প্রমাণনির্ভর বিনিয়োগ পরিবেশ বিশ্লেষণ ও সমন্বয় জোরদার, বিডাকে একটি বিশ্বমানের বিনিয়োগ প্রচার সংস্থা হিসেবে শক্তিশালী করা ও খাতভিত্তিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ উন্নয়ন।
অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয়, বিডা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগ নীতিমালা সংস্কার, সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারে কাজ করছে। সুইসকন্টাক্ট ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি প্রকল্পের আওতায় বিডার সহযোগিতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন পৌরসভায় ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করেছে।
বিডার জনসংযোগ দপ্তর জানায়, আগের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিডা ও সুইসকন্টাক্ট এখন নতুন একটি উদ্যোগ গ্রহণে সম্মত হয়েছে, যা বিডার ‘হিট ম্যাপ’ অনুযায়ী বিভিন্ন খাতভিত্তিক বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে সহায়ক হবে।
বিডা চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী) চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠনে সরকার নানামুখী সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সুইসকন্টাক্টের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব আমাদের ‘ইনভেস্টর-ফার্স্ট’ মডেল বাস্তবায়নের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমাদের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগকারীরা যেন বাংলাদেশকে দক্ষ, সেবাবান্ধব ও সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে অনুভব করেন।
বিডা জানায়, সুইসকন্টাক্ট দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের টেকসই উন্নয়ন, বাণিজ্য প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালীকরণে কাজ করে আসছে। সংস্থাটি বিশ্বাস করে, এই সহযোগিতা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের জন্য।
বিডা ও সুইসকন্টাক্ট উভয় প্রতিষ্ঠানই আশা প্রকাশ করেছে, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত হবে, মানসম্পন্ন বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং টেকসই শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়া ছাড়া উপায় নেই: রুহুল কবির রিজভী

জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট একসঙ্গে করার বিষয়ে আবারও জোরালো মত দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
গতকাল বুধবার নয়াপল্টনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। কারণ গণভোট আগে হলে জাতীয় নির্বাচনে বিলম্ব হবে। আর জনগণের নির্বাচিত সরকার দ্রুত না এলে সংকট আরো ঘনীভূত হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা।
তিনি বলেন, আমি মনে করি যে যারা গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন, তারা সবাই এমন এক জায়গায় উপনীত হবেন যাতে আমাদের পরবর্তী গণতন্ত্রের অভিযাত্রার পথে আমাদের যেন বিঘ্ন না ঘটে। তা না হলে কালো ঘোড়া প্রবেশ করতে পারে, কালো ঘোড়া ঢুকে যেতে পারে।
রিজভী বলেন, উন্নত দেশ দীর্ঘদিনের গণতন্ত্র চর্চার দেশেও এখন কথা উঠেছে, এই পদ্ধতিতে (পিআর) জনমতের ট্রু রিফ্লেকশন হয় না। এ নিয়ে সেইসব দেশে আলাপ-আলোচনা, বির্তক চলছে। আপনি জানেন যে, জাপান গণতন্ত্রের দিক থেকে অতি উন্নত একটি দেশ এবং সেখানেও ৩৭ শতাংশ পিআর পদ্ধতি চালু আছে। যেখানে সারাবিশ্বেই পিআর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, কোথাও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হয়নি, সেখানে হঠাৎ করে আমাদের এখানে কেনো চালু করতে চাইবেন?
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আপনি হঠাৎ করে পিআরের কথা বলেন, এতে জনমনে বিভ্রান্ত তৈরি করবে। আমি এ পর্যন্ত যত জরিপ দেখেছি, বিশেষ করে গণমাধ্যমে- সেখানে অধিকাংশ মানুষের আনুপাতিক হারে ভোট পদ্ধতি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। অনেকেই কনফিউজড অবস্থায় আছেন।
বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক দেশ যেগুলো অতি উন্নত গণতান্ত্রিক দেশ যেমন ব্রিটেন, আমেরিকা যদি আমরা বলি বা আরও অন্য দেশে প্রতিনিধি নির্বাচনের যে পদ্ধতিটা চালু আছে- সরাসরি প্রার্থীকে ভোট দেওয়া। আমাদের এখানে কী এমন ঘটনা ঘটলো যে পিআর উৎকৃষ্ট গণতন্ত্রের মডেল? এটা আমার মনে হয়, অবান্তর কথা তারা (জামায়াতে ইসলামী) বলছেন। এটা বলে একটা বিভ্রান্তি তৈরি করছেন অথবা তাদের অন্য কোনো মাস্টার প্ল্যান আছে কি না আমি জানি না।

ডাকসু-জাকসু-চাকসুর প্রতিচ্ছবি আগামীতেও জাতি দেখবে: জামায়াত আমির

যুব ও নারী সমাজ ইসলামকে দারুণভাবে ধারণ করছে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ঢাকসু, জাকসু ও চাকসুতে যুব সমাজ ছাত্রশিবিরের ওপর আস্থা রেখেছে। সব জায়গায় একই চিত্র। মেয়েদের ও তরুণদের আস্থা ছাত্রশিবিরের ওপর। আজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হচ্ছে। এর প্রতিচ্ছবি জাতি আগামীতে দেখবে ইনশাআল্লাহ।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ঢাকা-১৫ নির্বাচনী আসনের এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি ইসলামের ইতিহাসে নারীদের ভূমিকা ও অবদানের কথা তুলে ধরেন বক্তব্যজুড়ে।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা অভিভূত হয়ে লক্ষ্য করছি, দুটো সমাজ ইসলামকে দারুণভাবে ধারণ করছে—একটি আমাদের যুবসমাজ, আরেকটি আমাদের মায়েদের সমাজ। আজ পর্যন্ত তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন হয়ে গেছে। সব জায়গায় একই চিত্র—মেয়েদের আস্থা ছাত্রশিবিরের ওপর; তরুণদের আস্থা ছাত্রশিবিরের ওপর। এরই প্রতিচ্ছবি আগামীতে বাংলাদেশ দেখবে।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘৯১ শতাংশ মুসলমানের দেশে আমাদের মায়েদের সম্মান ঘরে-বাইরে কোথাও নেই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আল্লাহর কোরআন এবং রাসূলের জীবনী থেকে সেই শিক্ষা নিয়েছে যে আমাদের মায়ের জাতিকে মায়ের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে হবে। এই রাষ্ট্রে বাস্তব প্রয়োজনে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও রাষ্ট্র গঠনে অবদান রাখবেন।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইমান, ধর্মবিশ্বাস—এসবের হিসাব নেওয়ার দায়িত্ব আমাদের নয়। আমরা এই রাষ্ট্রের মানুষকে সম্মান করব। তারা এ দেশের নাগরিক। আমরা দেখব না সে কোন ধর্মের, কোন দলের, তার গায়ের রং কী, মুখের ভাষা কী, সে পাহাড়ে থাকে নাকি সমতলে থাকে। সে আমার ভাই, সে আমার বোন, সে এই দেশের নাগরিক—সেই হিসেবে আমরা তাদেরকে পরিচালনা করব।’

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের অনেকগুলো প্রাধান্য আছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আছে। এ দেশের অর্থনীতি ভাঙাচোরা, উল্টে পড়া, ধসে যাওয়া। দুর্নীতিগ্রস্ত লোকদের হাত থেকে দেশকে উদ্ধার করে প্রকৃত সেবকদের হাতে তুলে দিতে হবে। সেই লোকটা আমাদের দলের হতে পারে, না-ও হতে পারে। সেই লোকটা মুসলমান হতে পারে, অন্য ধর্মেরও হতে পারে। যে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত, তার হাতে এই দায়িত্বের চাবি তুলে দেওয়া হবে। এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ আমরা গড়ে তুলতে চাই।’

জামায়াতের আমির বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ চাইছি, যেখানে শাসকেরা জনগণের কাছে তাদের ত্রুটি ও ঘাটতির জন্য মাফ চাইবে। তারা কারও কাছ থেকে প্রশংসা চাইবে না, বাহবা চাইবে না, কোনো স্লোগান চাইবে না, যেমন “অমুক ভাই, তমুক ভাই জিন্দাবাদ”—এটা চাইবে না। তাদের অন্তর ভয়ে কাঁপবে, জনগণের এই বোঝা “আমার কাঁধে যেটা দেওয়া হয়েছে, আমি তা বহন করতে পারছি কি না”—এই ভেবে।

তিনি বলেন, যে সমাজে যুব সমাজ সিদ্ধান্ত নেয় এবং নারীরা এগিয়ে আসে, সেই সমাজ ও জাতি কখনো পরিবর্তন না হয়ে পারে না।

তিনি জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গীকার তুলে ধরে বলেন, আমাদের প্রথম অঙ্গীকার, একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবো। শিক্ষা ভালো না হলে জাতি কখনো ভালো হতে পারে না। শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড।

দ্বিতীয়ত, সমাজের প্রত্যেকটি স্তরে দুর্নীতি বাসা গেঁড়ে বসে আছে। এই দুর্নীতি থাকবে না। এজন্য যত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, করবো ইনশাআল্লাহ। লড়াই করবো, হিমালয়ের মতো পর্বত সমান বাধা আসলেও দুর্নীতির অস্তিত্ব যেন আসমান থেকে মাটিতে নামিয়ে আনতে পারি।

তৃতীয়ত, প্রত্যেকটি মানুষ যেন তার প্রাপ্ত হক বা ন্যায়বিচার পান, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এজন্য যেন আবাল-বৃদ্ধ, বনিতা, নারী ও শিশু কাউকে চেষ্টা করতে না হয়।

খুলনা ও রংপুরের ফাইনাল আজ

আগামীকাল (রোববার) এনসিএল টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় আসরের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হবে রংপুর এবং খুলনা বিভাগ। তার আগে সিলেটে গতকাল (শনিবার) আনুষ্ঠানিক ফটোসেশন করেছেন দুই দলের অধিনায়ক আকবর আলি এবং মোহাম্মদ মিঠুন। রংপুরের অধিনায়ক আকবর বলেন, ‘ফাইনাল ম্যাচ যদিও, তারপরেও আমি বলবো এটা একটা অন্য আট-দশটা ম্যাচের মতোই একটা ম্যাচ। কিন্তু এটার হয়তো বা সিগনিফিকেন্সটা একটু বেশি। আমরা যেরকম গেম প্ল্যান করে নামি, হয়তোবা ওই গেম প্ল্যানগুলো নিয়েই আসব। আর চেষ্টা থাকবে অবশ্যই ম্যাচ জেতার।’
আরও যোগ করেন, ‘সঠিক সময়ে আমরা মোমেন্টামটা পেয়েছি এবং ওটা কাজে লাগছে আমাদের। তো সেইম চেষ্টাটাই থাকবে যে একটা জাস্ট একটা নরমাল ম্যাচের মতো প্ল্যান করা এবং ওইভাবে করে এক্সিকিউট করার ট্রাই করা।’
গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নাসির ফর্মে ফেরায় আনন্দিত আকবর বলেন, ‘নাসির ভাই আসলে প্রত্যেকটা টিমের জন্যই আমার মনে হয় একটা অ্যাসেট। আর বোলিংয়ের কথা যদি বলেন, টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দেখবেন যে উনি নতুন বলেই বল করছিলেন, পাওয়ার প্লেতে বোলিং করছিলেন। আর শেষের, টুর্নামেন্টের শেষ ভাগে এসে উনি টপ অর্ডারে ব্যাটিং করেছেন।’
প্রসঙ্গত, সিলেটে প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে চট্টগ্রাম বিভাগকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে খুলনা বিভাগ। শনিবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারেও হেরেছে চট্টগ্রাম। চট্টলার দলটিকে ৪ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে রংপুর বিভাগ।
এদিকে, অনেক দিন ধরে ট্রফি না পাওয়া খুলনাকে এই ট্রফি উপহার দিতে চান অধিনায়ক মিঠুন, ‘অনেক লম্বা সময় খুলনায় ট্রফি যায়নি। টুর্নামেন্টের প্রথম থেকেই আমাদের খেলোয়াড়রা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম যে এই ট্রফিটা আমরা নিতে চাই। নতুন একটা ম্যাচ (ফাইনাল), চেষ্টা থাকবে সেরাটা দেওয়ার। ডে ওয়ান থেকেই আমাদের প্রতিটি খেলোয়াড়ের মোটিভেশন এটাই ছিল যে আমরা খুলনাকে ট্রফিটা উপহার দিতে চাই।’

এক দিনেই তিন লিগ নিশ্চিত করলেন সাকিব

বয়স ৩৮ পেরিয়েছে। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে এখনও কদর পাচ্ছেন সাকিব আল হাসান। কদিন আগেই বাংলাদেশি এই অলরাউন্ডার খেলেছেন কানাডা সুপার সিক্সটি টুর্নামেন্টে। সেটি শেষ করতে না করতেই তিনি নাম লেখালেন আরও তিনটি লিগে, একই দিনে। আবুধাবি টি-টেন লিগে সাকিব খেলবেন টুর্নামেন্টের নতুন দল রয়্যাল চ্যাম্পসে। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এই খবর নিশ্চিত করেছে রয়্যাল চ্যাম্পস। রয়্যাল চ্যাম্পস তাদের পোস্টে লিখেছে, ‘গ্লোবাল লিজেন্ড অ্যালার্ট! সাকিব আল হাসান এখন রয়্যাল চ্যাম্পস পরিবারে যোগ দিয়েছেন। একজন সত্যিকারের অলরাউন্ডার, ম্যাচ উইনার, এখন তিনি টি-টেন লিগের সদস্য।’ এছাড়া সাকিব খেলবেন যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল লিগ ও ইন্ডিয়ান হ্যাভেন লিগেও। এই দুটি টুর্নামেন্ট হয় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। গ্লোবাল লিগে সাকিব খেলবেন হিউস্টন রাইডার্সের হয়ে। প্রথমবার হতে যাওয়া ইন্ডিয়ান হ্যাভেন লিগে বাংলাদেশি অলরাউন্ডার কোন দলে খেলবেন, সেটি এখনও জানা যায়নি। এক ভিডিও বার্তায় সাকিব এই টুর্নামেন্টে খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কী কী চমক নিয়ে আসছে বাহুবলী থ্রি?

জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘বাহুবলী’র ভক্তদের জন্য আসছে নতুন চমক। তৃতীয় কিস্তি হিসেবে আবারও বড় পর্দায় ফিরছে এই ব্লকবাস্টার! তবে এটি সম্পূর্ণ নতুন ছবি নয়। পরিচালক এস. এস. রাজামৌলি এবার ‘বাহুবলী: দ্য বিগিনিং’ (প্রথম কিস্তি) ও ‘বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন’ (দ্বিতীয় কিস্তি) এই দুই চলচ্চিত্রকে একত্রিত করে একটি নতুন সংস্করণে উপস্থাপন করছেন। এই ব্লকবাস্টার সিরিজের ১০ বছর পূর্তি উদযাপনেই এমন সিদ্ধান্ত নির্মাতাদের। প্রযোজক শোবু ইয়ারালাগাড্ডা জানিয়েছেন, নতুন সংস্করণটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। শুরুতে দেখানো হবে প্রথম ছবির গল্প, বিরতির পর চলবে দ্বিতীয় পর্বের কাহিনি। তার ভাষায়, দুই ছবিকে একত্রে দেখার সুযোগ মিলবে, তবে গল্পের প্রবাহ আগের মতোই থাকবে। এই নতুন সংস্করণে এমন কিছু দৃশ্য যুক্ত হতে পারে, যা আগে সিনেমা হলে দেখানো হয়নি। মূলত রাজামৌলি শুটিংয়ের সময় ১১ ঘণ্টারও বেশি ফুটেজ ধারণ করেছিলেন, যার অনেক অংশ বাদ যায় এডিটিং প্যানেলেই। এবার দর্শক দেখতে পাবেন সেই অদেখা কিছু মুহূর্তও।
তবে ‘বাহুবলী থ্রি’ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও নেই। প্রযোজক শোবু বলেন, ‘এই ছবিতে তৃতীয় পর্বের ইঙ্গিত নেই। কিন্তু ভবিষ্যতে এই জগত নিয়ে আরও গল্প বলা হতে পারে। এই পুনঃমুক্তি শুধু শুরু।’ ২০১৫ সালে ‘বাহুবলী: দ্য বিগিনিং’ মুক্তি পায় এবং ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেয়। সিক্যুয়েল ‘বাহুবলী টু: দ্য কনক্লুশন’ ২০১৭ সালে মুক্তি পেয়ে বিশ্বজুড়ে ১,৮০০ কোটি রুপি আয় করেছিল। এতে অভিনয় করেছেন প্রভাস, রানা দাগগুবাতি, আনুশকা শেঠি ও তামান্না ভাটিয়া; গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন রম্যা কৃষ্ণন, সত্যরাজ ও নাসির। এদিকে মুক্তির আগে নেটফ্লিক্স প্ল্যাটফর্ম থেকে আগের দুই পর্ব সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাতে দর্শক আবার হলে গিয়ে এই মহাকাব্যিক গল্পের অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। আগামী ৩১ অক্টোবর ভারতের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এই ছবি।