Home Blog Page 281

প্রধান উপদেষ্টা জুলাই সনদ লঙ্ঘন করেছেন: সালাহউদ্দিন

০
জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভাষণের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ভাষণের মাধ্যমে নিজের সই করা জুলাই সনদ লঙ্ঘন করেছেন।’
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকালে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কারণ জাতীয় সনদে তিনি স্বাক্ষর করেছেন এবং এ ভাষণের মাধ্যমে তা তিনি লঙ্ঘন করেছেন। আপাতত এটুকুই আমার প্রতিক্রিয়া।
তবে জুলাই সনদ লঙ্ঘন কীভাবে হয়েছে- এই বক্তব্যের কোনো ব্যাখ্যা দেননি এই বিএনপি নেতা।
দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপের পর সন্ধ্যা নাগাদ বিএনপির দলীয় প্রতিক্রিয়া জানা যাবে বলে জানান সালাহউদ্দিন।
তবে বিএনপি বলছে, সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা নেই, তিনি শুধু অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।
দুপুর আড়াইটায় জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা ভাষণ দিয়ে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে এক সঙ্গে আয়োজনের ঘোষণা দেন।
এদিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন, সেখানে গণভোট কী প্রশ্ন থাকবেন তা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে মিলিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে কোনোভাবেই সংস্কারের লক্ষ্য ব্যাহত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোটের আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় আইন উপযুক্ত সময়ে প্রণয়ন করা হবে।
তিনি বলেন, গত ৯ মাস ধরে রাষ্ট্র গঠনের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছে। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি বিষয়ে একমত হয়েছে দলগুলো। এটি ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক। এজন্য কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
ড. ইউনূস আরও বলেন, জুলাই সনদের আলোকে আমরা গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও নির্ধারণ করেছি। আমি প্রশ্নটি এখন আপনাদের সামনে পাঠ করে শোনাচ্ছি। প্রশ্নটি হবে এরকম : আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?
ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে। গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত জানাবেন।
এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি এই আদেশে স্বাক্ষর করেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। সন্ধ্যা ৭টায় এই বৈঠক হবে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে।
বৈঠকের বিষয়ে তথ্য দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেন বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। পরে দলের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

চুক্তি হলো না, ভেস্তে গেল পাকিস্তান-আফগানিস্তান শান্তি সংলাপ

ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের শান্তি সংলাপ ভেস্তে গেছে। কোনোপ্রকার চুক্তি বা লিখিত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়ে গেছে সংলাপ।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন। পুরো ব্যাপারটিকে ‘অচলাবস্থা’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
“একটা পরিপূর্ণ অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আমাদের সংলাপ অনির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই”, সাক্ষাৎকারে বলেছেন খাজা মুহম্মদ আসিফ।
গত বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে তৃতীয় দফা সংলাপে বসেন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সরকারি প্রতিনিধিরা। এই সংলাপের পর শান্তি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল দুই দেশের মধ্যে। কিন্তু আকাঙিক্ষত সেই চুক্তি হয়নি, সংলাপও প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলেছে।
পাকিস্তান-আফগানিস্তানকে সংলাপের টেবিলে আনতে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে কাতার এবং তুরস্ক। সাক্ষাৎকারে দুই দেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে আসিফ বলেছেন, “আমরা সন্ত্রাসের মূলোৎপাটনের জন্য আফগানিস্তানের সহযোগিতা চেয়েছিলাম এবং কাতার-তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরা আমাদের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। এজন্য তাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ। এমনকি আফগান প্রতিনিধিরাও আমাদের অবস্থানের সঙ্গে সম্মত হয়েছিলেন।”
“কিন্তু যখনই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রসঙ্গ এলো, তখন তারা পিছিয়ে গেলেন। তারা চান, তাদের মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে যেন আমরা আস্থা রাখি। এটা কীভাবে সম্ভব? কোনো আন্তর্জাতিক আলোচনা কী সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়া হয়?”
প্রতিবেশী এবং একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র আফগানিস্তানের সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে তিক্ততা চলছে পাকিস্তানে। বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। ২০২১ সালে তালেবান বাহিনী কাবুল দখল এবং সরকার প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে শুরু হয়েছে এ অবস্থা।

 

যুদ্ধবিরতির পর গাজায় দেড় হাজারের বেশি ভবন ধ্বংস করেছে ইসরায়েল

১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতির পর গত এক মাসে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার ১ হাজার ৫শতাধিক ভবন ধ্বংস করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এ সংক্রান্ত একাধিক স্যাটেলাইট ইমেজ যাচাইয়ের পর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
অনেক আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকের মতে, হামলা চালিয়ে ভবন ধ্বংসের মাধ্যমে শান্তি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন করছে ইসরায়েল। তবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আইডিএফ দাবি করেছে, চুক্তির আওতার মধ্যে থেকেই ভবনগুলো ধ্বংস করেছে তারা এবং নিকট ভবিষ্যতে আরও ভবন ও অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।
গত ৮ নভেম্বর স্যাটেলাইট থেকে তোলা কিছু ছবি বিবিসির হাতে আসে। সেসব ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গাজার অনেক এলাকায় এমনকি ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতির সময়ও যতগুলো ভবন মোটামুটি অক্ষত অবস্থায় ছিল, সেগুলোর অধিকাংশই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত নতুন যে প্রস্তাবনা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েল এবং হামাস তাতে সম্মতি জানানোর পর ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয় উপত্যকায়। এই যুদ্ধবিরতির আগে টানা দু’বছর যুদ্ধ হয়েছে হামাস এবং আইডিএফের মধ্যে। সেই যুদ্ধে গাজার ৭৫ শতাংশ ভবনের কোনোটি আংশিক, কোনোটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় ২০টি পয়েন্ট আছে। সেগুলোর মধ্যে একটি পয়েন্টে বলা হয়েছে, “যুদ্ধবিরতির পর গাজায় বোমাবর্ষণ ও গোলাগুলিসহ সব রকমের সামরিক অপারেশন স্থগিত থাকবে।”
তবে বিবিসির হাতে থাকা স্যাটেলাইট ইমেজগুলো বলছে, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত পুরো দমে হামলা চালিয়ে ভবন ও অকাঠামো ধ্বংস করা অব্যাহত রেখেছে আইডিএফ।
যুদ্ধবিরতির সময় একটি হলুদ সীমরেখা টেনে গাজায় উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব অংশ বরাবর সীমারেখা টেনেছিল ইসরায়েল। এই সীমারেখার নাম ইয়েলো লাইন। যেসব ভবন ধ্বংস হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই ইয়েলো লাইনের অপর পাশে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে।
খান ইউনিসের আবাসান আল কাবিরা এলাকার বাসিন্দা লানা খলিল বলেন, তিনি যে বাড়িতে থাকতেন— সেটি গত ২ বছর যুদ্ধের সময়ও অক্ষত ছিল। কিন্তু বিরতির পর গত এক মাসে তার বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন আবাসান আল কাবিরার নিকটবর্তী আল মাওয়াসি এলাকায় তাঁবুতে থাকছেন তিনি।
“ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী কিছু বাকি রাখেনি আমাদের জন্য। সব ধ্বংস করে দিয়ে গেছে”, বিবিসিকে বলেছেন লানা খলিল।
একই অবস্থা গাজার আরেক দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফার আল বায়েউক এলাকাতেও। সেখানেও যুদ্ধবিরতির পর বেশ কয়েকটি ভবন ধ্বংস করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে আইডিএফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বিবিসি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক মুখপাত্র এ প্রসঙ্গে বিবিসিকে বলেন, “আমরা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন করছি না। চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে যে গাজায় সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সম্পর্কিত সব ভবন, সুড়ঙ্গ ও অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে। আমরা সেই কাজটিই করছি।”
এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বলেছিলেন, “সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পর্কি সুরঙ্গ ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে গাজাকে অসামরিকীকরণ করা ইসরায়েলের নিরাপত্তানীতির অংশ।”
তবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিষয়ক থিংকট্যাঙ্ক সংস্থা রুসি’র সহযোগী গবেষক ড. এইজ এ হেলইয়ার বিবিসিকে বলেছেন, “ইসরায়েল নিশ্চিতভাবেই যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্‌ঘন করছে। কারণ প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে গাজায় একটি নতুন বেসামরিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত ভবন-অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করা হবে। গাজায় এখনও কোনো নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।”
ইউরোপভিত্তিক থিংকট্যাংক সংস্থা হিউ লোভ্যাট বিবিসিকে, “একটি নতুন বেসামরিক সরকার গঠন হওয়ার আগ পর্যন্ত ইসরায়েল গাজায় যতবেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে, যুদ্ধবিরতিও সেই হারে ঝুঁকিতে পড়বে।”

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করলেন রাষ্ট্রপতি

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুমোদন করা হয়। এরপর জাতির উদ্দেশে ভাষণে আদেশের বিষয়বস্তু ও বাস্তবায়ন পদ্ধতির তথ্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। চারটি বিষয়ে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। গণভোটের দিন এই চার বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে জনগণ মতামত জানাবেন।
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা সব বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

 

শীত-ঘূর্ণিঝড়-বৃষ্টিপাত নিয়ে যে নতুন বার্তা দিল বিডব্লিউওটি!

চলতি নভেম্বরের শেষ দিকে দেশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে সাগর উত্তাল হয়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছে দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিডব্লিউওটি জানায়, সারা দেশে বৃষ্টি বিরতি চলছিল। এবার নভেম্বরের শেষে আবারও বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে আবারো বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতি বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, মাসের শেষ সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূল পরিবেশ আসতে পারে।
এর প্রভাবেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিডব্লিউওটি।
বর্তমানে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলেও শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) থেকে কিছু উষ্ণ বায়ুর প্রবাহের কারণে শীতের মাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে। আশা করা হচ্ছে আগামী এক সপ্তাহ সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মান সামান্য বৃদ্ধি এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় স্থিতিশীল থাকতে পারে।
তবে মাসের শেষ সপ্তাহে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ উভয় তাপমাত্রাই কিছুটা বাড়তে পারে। সুতরাং এ মাসের বাকি সময়ে উল্লেখযোগ্য ভাবে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার মতো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বরং ডিসেম্বরেই আসতে পারে প্রকৃত শীত।

মেয়েদের নিয়ে নোংরামি ছড়ানো মানসিক অসুস্থতা: স্পর্শিয়া

০

অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া। ইতোমধ্যেই দক্ষ অভিনয় দিয়ে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। তবে বিয়ের পর বেশ কিছুদিন থেকে তাকে অভিনয়ে দেখা যায় না।

যদিও স্যোশাল মিডিয়ায় বেশ সরব থাকেন অর্চিতা স্পর্শিয়া। নিজের ভালো লাগার বিষয়গুলো সবসময়ই ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে শেয়ার করে থাকেন।

সম্প্রতি ফেসবুকে এক পোস্ট দিয়ে অর্চিতা স্পর্শিয়া লিখেছেন, ‘যাকে নিয়ে যা ইচ্ছা তা বানিয়ে বলে দিলেই কিছু প্রমান হয়না। না তোহ যাকে ছোট করার চেষ্টা করেন সে ছোট হয়, না তোহ কাউকে ছোট করে আপনি বড় হন। অযথা শুধু নোংরামি ছড়ানো হয়। আর কোনও মেয়েকে বা মেয়েকে নিয়ে বাজে কথা বলা পারিবারিক মানুষিক অসুস্থতা। দেশ, সমাজ এবং আমাদের জীবন চলা উচিত সুস্থ রাজনীতি, সুস্থ মন মানুষিকতা, এবং সুশিক্ষার ওপর।’ এয়ারটেল পরিচালিত ‘ইম্পসিবল ৫’ এ অভিনয় করে ২০১৩ সালে অভিনেত্রী হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেন স্পর্শিয়া।

চ্যাট শোতে খোলামেলা কথা বললেন ভিকি কৌশল

০

বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ ও অভিনেতা ভিকি কৌশল দম্পতি সদ্য বাবা-মা হয়েছেন। পুত্রসন্তানের জন্ম দেন ক্যাটরিনা। মা ও ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন। হাসপাতাল থেকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরেছেন অভিনেত্রী। এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে রাজকীয় আয়োজনে বিয়ের মধ্য দিয়ে দাম্পত্যজীবন শুরু করেন ভিকি কৌশল ও ক্যাটরিনা কাইফ।

এদিকে অভিনেতা ভিকি কৌশল এবার হাজির হচ্ছেন কাজল ও টুইঙ্কেল খান্নার চ্যাট শো ‘টু মাচ’র আসন্ন পর্বে। সেই এপিসোডের একটি ক্লিপ এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিনেতা ভিকির সঙ্গে অতিথি হিসেবে থাকছেন অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া শোর টিজারে দেখা গেছে চারজনের দারুণ হাসি-ঠাট্টা ও মজার কথোপকথন।

হ্যান্ডসাম অভিনেতা ভিকি কৌশলের নারী ভক্তের সংখ্যা অগণিত। তবে ক্যাটরিনাতেই তিনি নিবেদিতপ্রাণ। সদ্য পুত্রসন্তানের বাবা-মা হওয়ায় নতুন অতিথিকে নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় কাটছেন এ তারকা দম্পতি।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, চ্যাট শো ‘টু মাচ’-এর অনুষ্ঠানে কাজল প্রশ্ন করছেন- সঙ্গীর সঙ্গে ভালো কথোপকথন নাকি ভালো সেক্স- কোনটি বেশি জরুরি? এমন প্রশ্নের উত্তরে ভিকি কৌশল বলেন, বাকি সবকিছু তো হতেই থাকবে। তবে…। অভিনেতার ওই মন্তব্যে উপস্থিত সবাই হেসে ওঠেন।

টিজারের সেই মুহূর্তের পর ভিকিকে কাজল শেখান ‘তওবা তওবা’ গানের স্টেপ। হাস্যরসে ভরা এই কথোপকথনের একপর্যায়ে ভিকি বলেন, আমি তোমাদের দুজনকেই ভয় পাই। তখন মজা করে অভিনেত্রী টুইঙ্কেল বলেন, আমরা শুধু তোমাকে কাঁচা চিবিয়ে খাব।

ভিকি টুইঙ্কেলকে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা জানাতেই রসিকতা করে অক্ষয়পত্নী বলেন, ঠিক আছে, আমাদের হ্যালো আর অল্পবয়সি মেয়েদের হাতে হাত। সঙ্গে সঙ্গেই ভিকি বলেন, আমি অল্পবয়সি মেয়েদের পা ছুঁই। এ সময় মজা করে কৃতি বলেন, পা ছুঁলে কিন্তু মার খেতে হবে।

কৃতির ক্রাশ নিয়ে প্রশ্ন করা হহলে তিনি বলেন, ইন্ডাস্ট্রির কেউ নন। টুইঙ্কেল বলেন, আমি নামটা জানি, কিন্তু কৃতি বলছে না, তাই আমিও চুপ।

বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

০

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জাপানকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় বিশ্বস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার আখ্যায়িত করে বলেন, ইপিএর সফল আলোচনা এবং বিমানবন্দর অবকাঠামো খাতে জাপানি কনসোর্টিয়াম (সুমিটোমো)-এর আগ্রহ আমাদের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল ও মজবুত করবে।

জাপানের সঙ্গে ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) মধ্যস্থতা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাণিজ্য উপদেষ্টা তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ইপিএ চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত ও কোটা-মুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।

জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, জাপানি কনসোর্টিয়াম (সুমিটোমো) বাংলাদেশের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের অপারেশনস ও মেইনটেনেন্স কাজ করতে আগ্রহী।

দ্রুততম সময়ে তারা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, জাপান বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রেখে আসছে। ইপিএ চুক্তি স্বাক্ষর, বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে জাপানের অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা, মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা- এ সবই দুদেশের মধ্যে গতিশীল অংশীদারিত্বের নিদর্শন।

এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান, জাপান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও হেড অব ইকোনমিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাফেয়ার্স কারাসাওয়া শিনজু এবং জাপানের সুমিটোমো করপোরেশনের বাংলাদেশ কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার হিরোনরি ইয়ামানাকা উপস্থিত ছিলেন।

সরকার ৮০ হাজার টন সার, ১.২০ কোটি লিটার সয়াবিন তেল ক্রয় করবে

০

দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সরকার বুধবার পৃথক প্রস্তাবের মাধ্যমে মোট ৮০ হাজার মেট্রিক টন সার, ১ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল, ৫০ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চিনি ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির এক সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, পবিত্র রমজান মাস সামনে আসায় সরকার চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সয়াবিন তেল আমদানিরও অনুমোদন দিয়েছি, যদিও বাজারে এখন তেলের ঘাটতি নেই বাজার বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।

বৈঠকে কৃষি, বাণিজ্য, শিল্প, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নয়টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। সভায় সার, খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো কিছু প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এবং অনুমোদন করা হয়।

প্রধান সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপসের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির মাধ্যমে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন।

এই সারের মোট ক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যেখানে প্রতি টনের দাম ৭০৯.৩৩ মার্কিন ডলার।

এছাড়া কমিটি সৌদি আরবের এসএবিআইসি এগ্রি-নিউট্রিয়েন্ট কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে, যার মোট মূল্য প্রায় ১৯৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং প্রতি টনের দাম ৩৯৯.১৬ মার্কিন ডলার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় খাদ্যপণ্য আমদানির দুটি বড় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়- ইস্তাম্বুলভিত্তিক বেগালতা ড্যানিসমানলিক হিজমেটলেরি এ.এস. থেকে ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পরিশোধিত চিনি ক্রয় করা হবে, যার মোট মূল্য ৭৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা (প্রতি কেজি ৯৪ টাকা ৯৪ পয়সা)।

দুবাইভিত্তিক ক্রেডেন্টোন এফজেডসিও থেকে ১ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ক্রয় করা হবে ১৫৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় (প্রতি লিটার ১৬৪ টাকা ২১ পয়সা)।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় মেসার্স অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড, সিঙ্গাপুর থেকে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০ হাজার মেট্রিক টন (+৫ শতাংশ) সিদ্ধ চাল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এর মোট খরচ হবে ২১৭ কোটি ৯ টাকা, যেখানে প্রতি টনের দাম ৩৫৫.৫৯ মার্কিন ডলার।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় সিলেট বিভাগের কিছু হাওর এলাকায় সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।

হাওর অঞ্চলের উঁচু সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে সুনামগঞ্জ জেলার দুটি প্যাকেজ অনুমোদন করা হয়। এগুলো হলো- তাহিরপুর উপজেলায় ১৮০ কোটি ৬৪ লাখ টাকার কাজ ও ধর্মপাশা উপজেলায় ১৯০ কোটি ৯০ লাখ টাকার কাজ।

এছাড়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ কর্তৃক চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের আওতায় চাতুরী (চৌমুহনী)-সিইউএফএল-কর্ণফুলী ড্রাই ডক-ফকিরনিহাট (এন-১২১) সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ৭৮ কোটি ৬১ লাখ টাকার কাজের প্যাকেজ অনুমোদিত হয়েছে, যেখানে তাহের ব্রাদার্স লি. প্রতিযোগিতামূলক দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

সবশেষে, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) বে টার্মিনাল প্রকল্পের জন্য পরামর্শক সেবা ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এতে পূর্বে অনুমোদিত ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে সংশোধিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা (ভ্যাট ও করসহ)।

গণভোটের আড়ালে স্বৈরাচারকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে

০

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি দল ফ্যাসিবাদের নিষ্ঠুরতা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে গিয়ে ফ্যাসিবাদের ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়েছিল। বর্তমান পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে সেই দলের ছাতার নিচে পরাজিত পলাতক স্বৈরাচার আশ্রয় নিয়েছে কি না, এটি ভাবার সময় এসেছে। গণভোটের আড়ালে পতিত, পরাজিত ও পলাতক অপশক্তিকে রাষ্ট্র রাজনীতিতে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। সভার সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তারেক রহমান বলেন, ‘কয়েকটি রাজনৈতিক দল বর্তমানে বিভিন্ন শর্ত দিয়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। নির্বাচনের জটিলতা সৃষ্টি মানে একদিকে রাষ্ট্রের খবরদারির সুযোগ নেওয়া, অন্যদিকে পতিত স্বৈরাচারের পুনরাগমনের পথ সুগম করা। এই স্বৈরাচারীর সহযোগিতায় আমরা সম্প্রতি রাজধানীতে আগুন-সন্ত্রাস দেখেছি।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গণতান্ত্রিক জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলোকে হুমকিধমকি না দিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জনগণের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানান।’

তারেক রহমান বলেন, ‘জুলাই সনদে যা অঙ্গীকার করা হয়েছে, বিএনপি সেই অঙ্গীকার রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কিন্তু কেউ যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দুর্বল ভেবে অপকৌশলের আশ্রয় নেয় বা বিএনপির বিজয় ঠেকাতে ষড়যন্ত্র করে, তবে সেটিই শেষ পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ হবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের বলছি—অযথা পরিস্থিতি ঘোলাটে করবেন না।’

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান বলেন, ‘এ বছর আলু চাষিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রতি কেজি আলুর খরচ যেখানে ২৫-২৭ টাকা, সেখানে তারা অর্ধেক দামে বিক্রি করতে পারছে না। ফলে কৃষকরা প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কায় আছেন। গণভোটে এই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করার চেয়ে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এখন অনেক বেশি জরুরি।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যায় বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে। অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে শতাধিক আলোচনার পরও সড়ক নিরাপত্তা ইস্যুটি গুরুত্ব পায়নি।’

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া রহমানের সংস্কার শুরু করেছিল; কিন্তু তিনি সম্পন্ন করতে পারে নাই। তারেক রহমানকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনার আব্বা-আম্মা যেখানে শেষ করেছেন, আপনি সেখান থেকে শুরু করে সামনের দিকে এগিয়ে যান। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সাহায্য করব।’

আলোচনা সভায় সভাপত্বিতের বক্তব্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশের একটা সংকট তৈরি হয়েছে, সেটা অপ্রয়োজনীয় সংকট । এটার কোনো প্রয়োজন ছিল না । অতএব সংকটটা তৈরি করা হয়েছে আমি মনে করি- অত্যন্ত উদ্দেশ্যমূলকভাবে।

জাতীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই যে একটা সংকট তৈরি হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় সংকট। এটার কোনো প্রয়োজন ছিল না। অতএব সংকটটা তৈরি করা হয়েছে আমি মনে করি- অত্যন্ত উদ্দেশ্যমূলকভাবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের যে গণতান্ত্রিক উত্তরণ; সে পথকে বাধাগ্রস্ত করা বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে সংস্কারের জন্য যে নির্বাচন হওয়া দরকার সে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা জনগণের ভবিষ্যৎকে একটা অনিশ্চিত অবস্থায় ফেলা।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। সঞ্চালনা করেন বিএনপি প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সাত্তার পাটোয়ারী। এছাড়া বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, এবি পার্টি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণ-অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এবং লেবার পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।